জাকির নায়েক বাইবেল, বেদ, কোরআন নিয়ে অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। তার এই অবদানের জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। কিন্তু এরপরও তার কিছু কাজ আমার ভাল লাগেনা। যে গুলোর সংশোধন হলে শুধু আমারই ভাল লাগত তাই নয় আমার মত হাজারও মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা আরও অনেক গুণ বেশি বেড়ে যেত:-
১। তিনি টুপি পড়েন কিন্তু পাঞ্জাবী পড়েন না। আমার জানা মতে টুপি পড়া যে ধরণের সুন্নত পাঞ্জাবী পড়াও সেই একই মানের সুন্নত। তাই দাড়ি রাখতে পাড়লে, টুপি পড়তে পারলে পাঞ্জাবী কেন পড়তে পারবেন না? তিনি বলেন আমাকে অনেক দেশে যেতে হয় অনেক লোকের সাথে উঠা বসা করতে হয় তাই আমি কোর্ট আর টাই পড়ি। কিন্তু বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তানের লোকেরা পাঞ্জাবী পড়নেওয়ালাদেরকেই অপেক্ষাকৃত বেশি সম্মান করে থাকেন(কিছু নামধারী মুসলমান বাদে)। তাছাড়া ওনার অনেক ভক্তরা যারা আগে পাঞ্জাবী পড়তেন কিন্তু এখন উনার মত লেবাস পড়েন যারা তার মত দেশ বিদেশ যান না।
২। তারাবীর নামায আট রাকাত সম্পর্কিত তার মন্তব্য কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তিনি বুখারী শরীফের যেই হাদীসের রেফারেন্স দেন তাতে মোটামুটি উল্লেখ আছে-" এক সাহাবী(রা.) আয়েশা (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলেন হুযুর (স.)-এর রমযানে ও রমযানের বাইরের নামায কেমন ছিল। জবাবে আয়েশা (রা.) বলেন তিন রমযানে এবং রমযানের বাইরে ১১ রাকাত নামায পড়তেন।" এই হাদীসের ভিত্তিতে বলা হয় তারাবীর নামায আট রাকাত আর বিতর ৩ রাকাত। কিন্তু হাদীসে ফজর, মাগরিব ও এশার ইত্যাদি সালাতের উল্লেখ নাই। তাহলে হুযুর(স.) কি রমযানে ও রমযানের বাইরে এই নামাযগুলো পড়তেন না। কিন্তু একথা কেউই সমর্থন করবেন না। এই কারনে ইমাম মুসলিম(র.) এই হাদীস তারাবীর অধ্যায়ে উল্লেখ না করে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং রমযান ও রমযানের বাইরে হুযুর(স.) তাহাজ্জুদের নামায ১১ রাকাতই পড়তেন। এই হাদীসে যে এগার রাকাত বলা হয়েছে তা তাহাজ্জুদের নামায তারাবীহের নয়।
তাছাড়া তারাবীহ শব্দটি তারাবীহাহ(বানান ভুল হতে পারে) শব্দের বহু বচন। আর আরবিতে বহুবচন শুরু হয় কমপক্ষে ৩ গুণ থেকে। তারাবীহাহ শব্দের অর্থ চার বা এই সম্পর্কীয়। সেই ক্ষেত্রে তারাবীহ শব্দ দ্বারা কমের পক্ষে ১২ রাকাত নামায বুঝায় আট রাকাত নয় ।
এছাড়াও আরও অনেক কারন আছে। সময় কম হওয়াতে আজ এই পর্যন্তই ।
আমি এখানে আমার নিজের ভাষা ব্যবহার করেছি। তাই মূল রেফারেন্সের সাথে অনেক পার্থক্য থাকতে পারে। তবে মূল বক্তব্য ঠিক আছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথ দেখান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

