somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাবার ডায়েরীতে ১৯৭১ (৫ম পর্ব) Click This Link

এপ্রিল ২০, ১৯৭১
আওয়ামী লীগ এর এম.পি খাজা আহমেদের নেতৃত্বে ফেনীর পুলিশ ও মহকুমার উপর তাদের নিয়ন্ত্রন অক্ষুন্ন রেখেছিলেন। এই সময়ে পাক আর্মি চৌমুহনী, কুমিল্লা ও চট্রগ্রাম সীমান্তের ভুড়ভুড়িয়ার তিন দিক থেকে ফেনী শহর ঘিরে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে সম্মিলিত মুক্তি ফৌজ খাজা আহমদের নেতৃত্বে ভারতে চলে যায়। ফেনী শহর লোক শূণ্য হয়ে যায়। এবং ফেনী পাক সৈন্যদের দখলে চলে যায়। খাজা আহমদ এম.পি ও মুক্তি ফৌজগন উত্তরে ভারতীয় ভূখন্ড চোত্তাখোলায় আশ্রয় লাভ করে।
চট্রগ্রাম থেকে বিপুল টেঞ্চ ও মর্টার শেলিং করে অদ্য পাক বাহিনী মস্তান নগর আক্রমণ করে। মুক্তিফৌজ মেজর রফিকের নেতৃত্বে বহু পাক সেনাকে হত্যা করে হিঙ্গুলীতে অবস্থান নেয়। পরে হিঙ্গুলীরও পতন ঘটে।

এপ্রিল ২১, ১৯৭১
অদ্য সন্ধ্যায় পাক সামরিক বাহিনী ফেনী শহরের তিনটি প্রধান প্রবেশ পথে আগাইয়া আসে। ফাইট লে. আ. রৌফ এতদিন ফেনীতে মুক্তিফৌজর কমান্ডর ছিলেন। তিনিও ভারতে চলে যান।

এপ্রিল ২৩, ১৯৭১
শুক্রবার পাক সৈন্য বাহিনী ফেনী শহরে প্রবেশ করে বিকাল ৪ ঘটিকায়। ইতিপূর্বে বাঙ্গালী ইপিআর জোয়ান ও এমপি খাজা আহমদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতারা শহর ছাড়িয়া উত্তর দিকে ভারত সীমান্ত অভ্যন্তরে চোত্তাখোলা চলে যায়। এবং ছাগলনাইয়ার এমপি ওবায়েদুল্লা মজুমদার সাহেব ও সদলবলে ভারতে চলে যান। ফেনী শহর প্রেতপুরী হয়ে আছে। সব লোক গ্রামাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ১৯৭১
যুক্তরাষ্ট বাঙ্গালী কুটনীতিক পাকিস্তান দূতাবাসের ভাইস কন্সাল জনাব এ. এইচ মাহমুদ আলী অদ্য প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।

এপ্রিল ৩০, ১৯৭১
অদ্য অপরাহ্ন বেলায় হরিপুর আমাদের বাড়ী থেকে দেখতে পাই পাক ফোজের সৈন্যরা ফেনী থেকে মার্চ করে রেজুমিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কারন ইতিপূর্বে বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধারা রেজুমিয়া সেতু ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষিপ্ত হয়ে পাক সৈন্যরা মুহুরী নদীর উপর রেজুমিয়া সেতুর উভয় পার্শ্বস্থ গ্রামগুলি আগুন লাগিয়ে ভস্মিভূত করে দেয়।

মে ২, ১৯৭১
রামগড়ে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত বাহিনী পাকিস্তানী সৈন্যদের সাথে এক ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধে মেজর মীর শওকত আলী মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেন। পাক বাহিনীর প্রচন্ড আক্রমনে বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধারা এই দিন সন্ধ্যার পূর্ব মূহুর্তে ফেনী নদী পার হয়ে ভারতীয় মহকুমা শহর সাব্রুম চলে যায়।

মে ১০, ১৯৭১
পাক বাহিনী ছাগলনাইয়া এসে তাদের অগ্রবর্তী ঘাটি স্থাপন করে। তবে শুভপুর এলাকা এখনো মুক্তিযোব্ধাদের হাতে আছে।

মে ১১, ১৯৭১
পাকবাহিনী শুভপুরের দিকে যাচ্ছে খবর পেলাম।

মে ১২, ১৯৭১
শুভপুর সেতুর দক্ষিনে করেরহাট। চট্রগ্রাম জেলার করেরহাট পাক বাহিনীর বিরাট ঘাঁটি। ঐ এলাকা তারা গত এপ্রিলেই আগুন লাগিয়ে পুঁড়ে দেয়।
শুভপুর সেতুর উত্তর পাড়ে ফেনী নদীর তীরে কয়েকজন বাঙ্গালী ইপিআর ও মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেঞ্চ এ ছিল। করেরহাট ও ছাগলনাইয়া থেকে পাক সৈন্যরা যুগপৎ কামান দাঁগিয়ে শুভপুর সেতুর কাছে আসে এবং এক প্রচন্ড যুদ্ধ বেঁধে যায়। অপরাহ্ন ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রচন্ড গোলা গুলির শব্দ আমাদের গ্রাম থেকে শোনা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর পাক বাহিনী প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি স্বীকার করে শুভপুর সেতু দখল করে নেয়।

মে ১৩, ১৯৭১
এখানে উল্লেখ্য যে গত ২৫শে এপ্রিল করেরহাট পাক বাহিনী দখল করে নিলে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত শুভপুর সেতুর দক্ষিনাংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এবং ঐ পুলের উত্তর প্রান্তে বাংকার তৈরী করে পাহারা দিতে তাকে। এদিকে পাকবাহিনী একেরপর এক হেঁয়াখো, রামগড়, প্রভৃতি দখল করে নিলে মুক্তিবাহিনী শুভপুর ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে এসে জমায়েত হয়। কিন্তু ২০শে এপ্রিলের পর থেকে পাক বাহিনী ফেনী শহর দখল করে ক্রমশ ছাগলনাইয়া পর্যন্ত এসে যায়। অতপর ১২ মে বুধবার পাক বাহিনী ট্রেঞ্চ ও ভারী অস্র নিয়ে করেরহাট থেকে শুভপুর ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে ভিষন ভাবে আক্রমণ চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ভেঙে দেয়। এখানে প্রায় দুই তিনশ ইপিআর মুক্তিবাহিনীতে নিযুক্ত ছিল। তারা ঐদিন সন্ধ্যার পরই শুভপুর ছেড়ে ভারতের সাব্রুম চলে যায়।

মে ১৬, ১৯৭১
পাক বাহিনী রাস্তায়। মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে অদ্য ভোর ৭টার দিকে হরিপুর নিজবাড়ি থেকে পদব্রজে চট্রগ্রাম যাত্রা করি। আমার সাথে ছিল আমাদের উত্তর পার্শ্বের বাড়ির ফয়েজ আহমদ, সে একজন টালী ক্লার্ক-হালি শহর খাদ্য গুদামের। এবং ফোরাক কাকা। ভুড়ভুড়িয়া খেয়াঘাট হয়ে পায়ে হেঁটে দুপুর ১২ টায় জোরারগঞ্জ আসি। সেখান থেকে বাস যোগে বিকাল ৪টায় সিতাকুন্ড আসিয়া পৌঁছি। ফয়েজ চট্রগ্রাম চলিয়া যায়। সিতাকুন্ড ইতিমধ্যেই পাক বাহিনী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ। সন্ধ্যায় কার্ফু চিল। আমার বাসার জিনিষপত্র ঠিক ছিল।

মে ২৪ ১৯৭১
মুক্তিবাহিনীর ক্যাপ্টেন আ. আহমদের নেতৃত্বে পাক বাহিনীকে চাঁদগাজীতে আক্রমণ করে চাঁদগাজী দখল করে নেয়। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন। খবর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।

চলবে..........
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28910689 http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28910689 2009-02-13 18:42:53
বাবার ডায়েরীতে ১৯৭১ ( ৪র্থ পর্ব)
Click This Link

এপ্রিল ২, ১৯৭১

আজ পাক সেনাবাহিনী চট্রগ্রাম শহরের কোর্ট হিলে আশ্রয়রত মুক্তিফৌজের অবস্থান টের পেয়ে প্রবল আক্রমণ শুরু করে। মুক্তিফৌজরা পাক সেনাদের সাথে টিকে উঠতে না পেরে চট্রগ্রাম ছেড়ে যায় এবং আজ সমগ্র চট্রগ্রাম শহর পাক বাহিনীর দখলে চলে যায়।

গত দুদিনে পাক সেনারা হালিশহর এলাকায় ঘাটি গাঁড়ে।

এপ্রিল ৬, ১৯৭১

আজ দিল্লীতে নিযুক্ত পাকিস্তানী দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারী বাঙালী জনাব কে. এম শাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে (প্রবাসী সরকার) যোগ দেন। তার সাথে পাকিস্তানী দূতাবাসের প্রেস এটাসি জনাব আমজাদুল হক ও বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশ করেন। রাত্র ৯টায়।

এপ্রিল ৭, ১৯৭১

জয়দেবপুরে কার্যরত বাঙালী অফিসার লে. কর্নেল মাসুদুল হোসেন খান কে পাক-হানাদর বাহিনী অদ্য ঢাকা থেকে করাচী নিয়ে যায়। তাকে বন্দী অবস্থায় নির্যাতন চালান হয়।
ইতিপূর্বে চট্রগ্রাম এরিয়ার কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে ঢাকা থেকে করাচী নিয়ে যাওয়া হয়।

এপ্রিল ১০, ১৯৭১

স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন। অদ্য স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্ত্র থেকে শুনতে পাই যে, ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশের আগরতলায় 'প্রবাসে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়।'
জেনরেল ওসমানী, এম. পি. কে প্রধাণ সেনাপতি করা হয়। এবং সারা বাংলাদেশকে ৪টি সেক্টরে বিভক্ত করে ৪জন কমান্ডরের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।

১) চট্রগ্রাম সেক্টর-মেজর জিয়াউর রহমান
২) কুমিল্লা সেক্টর-মেজর খালেদ মোশারফ
৩) সিলেট সেক্টর-মেজর মীর শওকত আলী
৪) কুষ্টিয়া সেক্টর- মেজর ওসমান


এপ্রিল ১৪, ১৯৭১

পাকিস্তান বাজার প্রাইমারী স্কুল প্রাঙ্গনে সংগ্রাম কমিটির সভায় আমার পিতা জনাব কাজী ফজলুল হক ভাষণ দেন।

এপ্রিল ১৭, ১৯৭১

অদ্য ১৭ তাং শনিবার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার চুয়াডাঙ্গা থেকে মাত্র ১৮ মাইল দূরে "ভবেরপাড়া" গ্রামের বদ্যনাথতলা আম বাগানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। এই ভবেরপাড়া গ্রামকে মুজিবনগর নাম দেয়া হয়। বেলা ১১টা ৩০ মি: উপস্থিত জনতা ও বিদেশী সাংবাদিকদের সামনে মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নেন। এম.এন.এ জনাব ইউসুফ আলী শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চট্রগ্রামের এম.এন.এ আবদুল মন্নান। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে একটি সুসজ্জিত সেনাদল গার্ড অব অনার দেন। খন্দকার মুশতাক আহমদ-পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, তাজউদ্দিন আহং-প্রধানমন্ত্রী, কামরুজ্জামান-স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং এম. মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী হন। খবর স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র।

এপ্রিল ১৮, ১৯৭১

অদ্য ১৮ তাং রোববার কলিকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার জনাব হোসেন আলী তার সকল কর্মচারী সহ স্বাধীন বাংলা সরকারের আনুগত্য স্বীকার করেন। ঐদিন তিনি ৯ নং সার্কাস এভিনিউস্থ ভবনে বেলা ১২টা ৪১ মি: বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। এতে বাঙ্গালীর সসস্ত্র সংগ্রামের প্রতি অবিমীশ্র সমর্থন প্রমাণিত হয়। পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার জনাব হোসেন আলীর সহকর্মিবৃন্দ যারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন:

১) রফিকুল ইসলাম-প্রথম সচিব
২) আনোয়ারুল করিম-তৃতীয় সচিব
৩) এম মোকসেদ আলী-সহকারী প্রেস এটাচী
৪) সাইদুর রহমান, ৫) এম এ হাকিম ৬) জয়নাল আবেদীন
৭)মতিউর রহমান, ৮) কাজী সেকান্দর আলী, ৯) আমিনুল্লা
১০) ফখরুল ইসলাম, ১১) আবু সুফিয়ান, ১২) আবদুর রব,
১৩) শামসুল আলম, ১৪) মো. গোলামুর রহমান,
১৫) আলীমুজ্জামান, ১৬) মো. আ: বসার।

চলবে...................


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28910281 http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28910281 2009-02-12 19:07:42
বাবার ডায়েরীতে ১৯৭১ ( ৩য় পর্ব)
Click This Link

মার্চ ২৪, ১৯৭১

Brigadier Mojumder (Bengali) of the commander of Chittgong recalled to Dacca this day at 1.30 P.M. Brigadier Ansary posted at chittagong as commander.

As Civil clash took place between army and labors in the chittagong port when army men were un loading some goods & arms from ship SWAT.

All the political leaders of West Pakistan left Dacca for Karachi to day. Failure of talks, Sk. Mujib told presume that they have reached a settlement with president Yahya.

চট্টগ্রামের কমান্ডার বাঙালী বিগ্রেডিয়ার মজুমদারকে অদ্য দুপুর ১.৩০ মি. এ ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয় । তার স্থলে বিগ্রেডিয়ার আনসারিকে চট্টগ্রামের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনী চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে মাল ও অস্র খালাশ করার সময় বন্দরের শ্রমিকদের সাথে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। অদ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঢাকা ছেড়ে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। শেখ মুজিবুর রহমান ধারণা দেন যে তারা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে সমঝোতায় পৌছেছেন।

মার্চ ২৫, ১৯৭১

The opening session of National Assembly was fixed for today by the president A. M. Yahya Khan. But it could not be held.

Military advisors General Hamid, Tikka, Mittha Khan met the President at Dacca Cantonment.

প্রেসিডেন্ট এ. এম ইয়াহিয়া অদ্য জাতীয় অধিবেশনের ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সামরিক বিশেষজ্ঞ জেনারেল হামিদ, টিক্কা এবং মিত্যা খান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেন।

২৬.১৩.১৯৭১

অদ্য ভোর বেলায় পাক সৈন্যরা আগরতলা মামলার ২নং আসামী বীর বাঙালী জনাব লে. কমান্ডার মোয়াজ্জম হোসেনকে তার ঢাকার বাড়ীতে হত্যা করে।

Marshal Law administrator General Tikka Khan delivered radio speech at 10 a.m.

President General Yahya Khan spoke to the nation at 8 p.m in the night.

1. Banned Awami league as a political party.

2. Suspended N. A. session

সেনা প্রশাসক জেনারেল টিক্কা খান সকাল দশটায় বেতার ভাষণ দেন। রাত ৮ টায় প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সেখানে ঘোষণা করা হয়- ১. রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামিলীগ নিষিদ্ধ। ২. জাতীয় অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

মার্চ ২৭, ১৯৭১

সকাল ১০টায় আমার সিতাকুন্ড বাসায় দরজা বন্ধ করে বসে ছিলাম। রাস্তায় গাছ কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখা । সিএন্ডবি রাস্তা দিয়ে ফেনী থেকে হঠাৎ ১০/১৫টি পাক ফৌজ গাড়ি ভর্তি হয়ে চট্রগ্রামের দিকে চলে যায়। পথে কুমিরায় তাদের সাথে ইপিআরদের খন্ড যুদ্ধ হয়েছে বলে খবর পেলাম। সকাল ১০টায় আমার রেডিওতে স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনতে পাই।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট লে. আবদুর রৌফ ঢাকা বিমান বাহিনীতে চলে এসে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। পাক আর্মিও একপ্লাটুন সৈন্য ক্যাপ্টেন ফারুকীর অধীনে ১৬জন বাঙালীকে ধরে সি.ও অফিসে আটক করে রেখেছিল। অদ্য লে. আবদুর রৌফ ফেনী থানার ৩০৩ টি রাইফেল নিয়ে আনসার, পুলিশ সহ ক্যাপ্টেন ফারুকীকে গ্রেফ্তার করেন। এবং পাক সৈন্যদের খতম করে ১৬ জনকে মুক্ত করেন।

মার্চ ২৮, ১৯৭১

সিতাকুন্ডের পশু ডাক্তার আ. হান্নান চৌধুরি এবং সমবায় অফিসার শহিদ সাহেব সহ সিতাকুন্ড থেকে রেল রাস্তা ধরে ফেনী অভিমুখে যাত্রা করি। বাড়বকুন্ড ও কুমিল্লা থেকে বহু বাঙালী শ্রমিকের আহত দেহ সিতাকুন্ড হাসপাতালে আসতে দেখি। বিহারীরা তাদের ওপর হামলা করেছিল। রবিবার সন্ধ্যায় বামনসুন্দর হান্নান সাহেবের বাড়ীতে যাত্রা বিরতি।

মার্চ ৩০, ১৯৭১

বামনসুন্দর হান্নান সাহেবের বাড়ী থেকে আমার কাজের ছেলে কাদির সহ ফেনী নদী পার হয়ে হাঁটাপথে ফেনী যাত্রা করি। সকাল ৮টায় যাত্রা করিয়া মিয়াজানঘাট পার হইয়া সোনাগাজী থানার বিভিন্ন গ্রাম পাড়ি দিয়া অপরাহ্ন ২টায় ফেনী শহরে আসিয়া পৌঁছি। এখানে গত কিছুদিন যাবৎ আওয়ামিলীগ দলীয় নেতারা ফেনী মহকুমার স্বাধিনতা অক্ষুন্ন রাখছিল। এমপি খাজা আহমদ সাহেব খুব দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।

মার্চ ৩১, ১৯৭১

Reached Haripur from Feni in the morning..
সকাল বেলায় ফেনী থেকে হরিপুর এসে পৌঁছাই।

চলবে................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28909784 http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28909784 2009-02-11 20:26:20
বাবার ডায়েরীতে ১৯৭১ ( ২য় পর্ব)
Click This Link

১ মার্চ, ১৯৭১

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বেতার ভাষন দেন দুপুর ১টা-৩০ মি:। তিনি জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনিদৃষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। পূর্বপাক গভর্ণর ভাইস এডমিরাল আহছানকে সরাইয়া খ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক সাহেবজাদা ইয়াকুব খাঁকে অস্থায়ী গভর্ণর করা হয়।

২ মার্চ, ১৯৭১

জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে ঢাকা শহরে পূর্ণ হরতাল।

৩ মার্চ, ১৯৭১

শেখ মুজিবের আহবানে সারাদেশে পূর্ণ হরতাল।

৬ মার্চ, ১৯৭১

প্রেসিডেন্ট ইয়াইয়া খান অদ্য এক বেতার ভাষনে ঘোষণা করেন আগামী ২৫শে মার্চ নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে।

৭ মার্চ, ১৯৭১

অদ্য রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষন দেন অপরাহ্ন ৩.২০মি:।

ইয়াকুব খানের স্থলে লে. জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর করা হয়। এবং লে. জেনারেল এ. এ. কে নিয়াজীকে সামরিক বাহিনীর প্রধাণ নিযুক্ত করা হয়।

৯ মার্চ, ১৯৭১

বিচারপতি বি. এ. সিদ্দিকী অদ্য ঘোষণা করেন যে তিনি গভর্ণর হিসাবে টিক্কা খানকে শপথ করাবেন না।

১০ মার্চ, ১৯৭১

অদ্য নারায়ণগঞ্জ জেলখানা থেকে ৪০ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়।

১১ মার্চ, ১৯৭১

অদ্য বরিশাল জেলখানা থেকে ৪০ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়।

গত ঘূর্ণিঝড়ে পান-বরজ ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে রিলিফের টাকা বিতরণ।

১২ মার্চ, ১৯৭১

The C.S.P & E.P.C.S organization of Dacca declared their sympathy with Non violent, Non co operation movement of Sk. Mujibur Rahman.

(ঢাকাস্থ সি.এস.পি (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) এবং ইপিসিএস (ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) কর্মকর্তাদের সংঘঠন শেখ মুজিবুর রহমানের অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি একাত্বতা ঘোষণা করেন।)

১৫ মার্চ, ১৯৭১

President A. M. Yahya Khan arrived in Dacca from Karachi for talks with this day in the evening. .

(অদ্য সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের জন্যে ঢাকায় পৌঁছান)

১৬ মার্চ, ১৯৭১

শেখ মুজিবের সাথে জাতীয় পরিষদ অধিবেশন ডাকা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকা আসেন। সন্ধ্যায় ঢাকার প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনা আরম্ভ হয়।

২০ মার্চ ১৯৭১

পিপলস পার্টি প্রধাণ জুলফিকার আলী ভুট্রো অদ্য তার দলীয় নেতাদের নিয়ে মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনায় অংশ গ্রহনের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় আসেন। ভুট্রো ও দৌলতানা জানায় যে, তাদের সাথে প্রেসিডেন্টের আলোচনা আশাব্যঞ্জক। ২০শে মার্চ আলোচনা বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের শেখ মুজিব জানান যে প্রেসিডেন্টের সাথে তার আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে।

২২ মার্চ, ১৯৭১

Mujib-Aahya-bhutto tripartite meeting held on today at the president house, Dacca.

(মুজিব-ইয়াহিয়া-ভুট্রো'র ত্রিপক্ষিয় বৈঠক অদ্য ঢাকাস্থ প্রেসিডেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়)

চলবে...............]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28909340 http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28909340 2009-02-10 20:56:10
বাবার ডায়েরীতে ১৯৭১ ( ১ম পর্ব) মুক্তিযুদ্ধের কথ্য ইতিহাস তুলে আনতে চাই ব্লগে। সবাই লিখুন, আসুন ব্লগকে কাজে লাগাই ভিন্ন মাত্রায় লেখায় সবাইকে আহবান জানিয়ে বলেছিলেন-

আমরা ব্লগকে নতুন ভাবে কাজে লাগাতে চাই। নতুন কিছু যুক্ত হোক এখান। দেশেরে জন্য বিশেষ কিছু করতে চাই আমরা ব্লগাররা। যুদ্ধাপরাধীদরে বিচার চাই আমরা সবাই। এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আমরা সবাই এক হয়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হোক মৌলিক কিছু কাজ। কথ্য ইতিহাস ব্লগকে নিয়ে যাক অন্য এক মাত্রায়।

সেই লেখাটিতে আমি মন্তব্যের ঘরে লিখেছিলাম-

আমার বাবার ডায়েরী লেখার অভ্যেস। ১৯৩৯ সালে বাবার জন্ম। ওনার সতের বছর বয়েস অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল থেকে ডায়েরী লেখা শুরু করেন তিনি, এখন পর্যন্ত লিখেই যাচ্ছেন। কত শত ঘটণার স্বাক্ষী ওগুলো ভাবলেই অবাক হয়ে যাই আমি। একাজে তার নিষ্ঠা দেখলে অবাকই হতে হয়। ১৯৭১'র ডায়েরীটা পড়েছি আমি। প্রতিদিনের খুঁটি নাটি সব ঘটণা (যাকে ইতিহাস বলা যায়), সব লিখা আছে এতে। আমার ইচ্ছে সেই ডায়েরীর কয়েকটি পৃষ্ঠা ব্লগে তুলে ধরি। আশাকরি কোন একদিন তা করবো।

মাসুম ভাইও উৎসাহ দিলেন কয়েক পৃষ্ঠা নয়, নয় মাস সময়ের পুরোটাই যেন ব্লগে তুলে দেই।

মাসুম ভাইয়ের উৎসাহে বাবাকে ফোন করি। বাবা থাকেন ফেনীতে। আমার আগ্রহের কথা শুনে বললেন, ঠিক আছে পাঠিয়ে দেবো, কিন্তু তুমি তো জানো এগুলো আমার কাছে কত মূল্যবান, হারিয়ে ফেলবেনাতো? আমি অভয় দিয়েছি, বলেছি পাঠিয়ে দাও।

বাবা ডায়েরীটি পাঠিয়েছেন। সাথে একটি চিঠি। চিঠিটিও ব্লগে তুলে দিলাম। অনেকদিন পর পিতার চিঠি পেয়েছি। আবেগ আমাকে পরাজিত করেছে, তাই ধৈর্যচ্যুতি ঘটাচ্ছি আপনাদের। চিঠিটি নিম্নরুপ-

তাং ৯/২/০৯

লিনা,

তোমার বিশেষ প্রয়োজন হওয়াতে ১৯৭১ সালের ডাইরীটি পাঠাইলাম। অন্য কেউ চাইলে এটা দিতামনা। তবে খুব সাবধানে এটার হেফাজত করবে। আমি ঢাকা আসলে দিয়ে দিবা। কাউকে দিবানা এবং এটি যেন না ছিঁড়ে যায়, সেভাবে হ্যান্ডেল করবে। শ্রেয়ার নিকট দিবেনা।

ইতি তোমার বাবা

আমার বাবা কাজী মোজাম্মেল হকের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। সেই হিসেবে ১৯৭১ সালে বাবার বয়স ছিল ৩২ বছর। বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পোস্টিং ছিল চট্রগামের সীতাকুন্ডে। আমার পিতামহ ফেনী বারে ওকালতী ব্যবসা করতেন, বাবা আম্মা সহ আমার ভাইবোনদের কখনো ফেনী শহরে কখনো ছাগলনাইয়া থানার হরিপুর গ্রামে আমার দাদী বাড়িতে রেখে দিন কাটিয়েছেন।

ডায়েরী শুরু করি-

৩০ জানুয়ারী ১৯৭১

ভারতীয় যাত্রীবাহী একটি বিমান অদ্য দুইজন কাস্মীরি যুবক কর্তৃক লাহোর বিমান ঘাঁটিতে জোর পূর্বক অবতরনে সক্ষম হয়। যুবকদ্বয় তাদেরকে ভারতীয় কাস্মীরের অধিবাসী বলে জানায় (কাস্মীর যুক্তফ্রন্ট সদস্য)। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ পরে বিমানের যাত্রীদের মুক্ত করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু ধৃত ঐ হাইজাকার কাস্মীরি যুবকদ্বয় লাহোর বিমান বন্দরে থেকে যায়।

২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১

অদ্য লাহোর বিমান বন্দরে জোর পূর্বক নিয়ে আসা ভারতীয় বিমানটি হাইজাকার কাস্মীরি যুবকদ্বয় ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়।

৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারীর পাতা গুলোতে লেখা, Eid Holiday

১০ ফেব্রুয়ারীতে লেখা, আমার বড় ফুফা জনাব সামছুল ইসলাম অদ্য ইন্তেকাল করেন।

১৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার মন্ত্রীসভা ভেঙে দেন। এবং তদস্থলে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।

১৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১

President Yahya Khan had a meeting with people's party chairman Mr. Z. A. Bhutto at Rawalpindi.

১৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১

East Pakistan Governor vice Admiral S. M. Ahsan arrived today from Rawalpindi via Lahore. He holds a talk today with Awami League chief Sk. Mujibur Rahman at Dacca. The Governor went direct to the house of Sk. Mujib & had a closed door meeting with him, probably about the N.A session on 3rd March.

চলবে.....................



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28908894 http://www.somewhereinblog.net/blog/321654/28908894 2009-02-09 22:03:42