somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই লেখাটা তোমার জন্য

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৪ শে ডিসেম্বর ২০০৩, তোমার সাথে আমার বন্ধুত্বের শুরু। মাঝখানে কতটা সময় কেটেছে রে? কতটা বড় হয়েছি আমরা দুইজন? হিসেব করতে গিয়ে যুক্তি আর আবেগ মারামারি করে মরে পড়ে থাকে। আর তাদের দিকে হতাশ দৃষ্টিতে আমি তাকিয়ে থাকি।
কাল তোমার ওপর অনেক অভিমান হয়েছিল। কী ঘটেছিল একবার বলে নিই, নাহলে এই লেখা পড়ে আমাকে মারতে আসবা। তোমাকে অনেকবার ফোন করেছিলাম তার আগের দিন, মেসেজও ছেড়েছিলাম গোটা দুই, তুমি লা-পাত্তা। মাঝে অনেক বার ট্রাই করতে গিয়ে মোবাইল বন্ধও পেলাম, কিছু বুঝে উঠছিলাম না। বাজে লাগছিল অনেক। আরেকবন্ধুর বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছিলাম, এজন্য শেষমেষ তোমার সাথে সি.এন.জি-তেই কথা সারতে হলো।
এখন মনে হচ্ছে একটু বেশিই রি-অ্যাক্ট করে ফেলেছিলাম, আমার অর্বাচীন ভাবালুতায় তোমাকে অনেকদিন জ্বালিয়েছি, আজও সেটা বন্ধ করতে পারি নাই। আমার এই বদভ্যাসটা মনে হয় আর ছাড়ানো গেলনা!
আজ একটু আগে তোমার সাথে কথা বলতে বলতে মনে হলো যে একটা লেখা তোমার আমার বন্ধুত্ব নিয়ে লেখা দরকার। ঢাকায় এসে ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে পড়তে আসাতক শুনছি ছেলে আর মেয়েতে বন্ধুত্ব হয় না। একজন না একজনের দূর্বলতা, অতঃপর হয় ভালোবাসা নয়ত বন্ধুত্বের ইতি। প্রথম থেকেই ব্যাপারটা আমার কাছে খুবই কনফিউজিং, কারণ ক্লাস ফোর এর পর থেকে মেয়ে সংসর্গে পড়াশোনা করা হয়নি, ক্লাস সেভেন থেকে তো ক্যাডেট কলেজ। তাই ওখান থেকে বেরিয়ে বাইরের জগৎটাকে একটু রঙিন লাগলো বই কি! নিজের ক্যাম্পাসের "মোহময়ী হাসি"র উপর থেকে আমার বাউন্ডুলে "ক্র্যাশ"টা কাটাতে না কাটাতেই তোমার সাথে পরিচয়! তাও আবার এই সদা-প্রতারক ইন্টারনেট এর মাধ্যমে! শুধু একটা জিনিস একটু সুবিধার ছিল যে তোমার আমার পরিচয়ের মানুষটা আমাদের দু'জনেরই (তৎকালীন) কাছের মানুষ।
তখনকার তুমি আর এখনকার তুমি কত বদলে গেছ! একদিকে আমি ছিলাম ভদ্রগোছের ছা-পোষা, আর অন্যদিকে তুমি একদম একটা ঝড়ের মত! এত উচ্ছলতা আর তার সাবলীল প্রাণবন্ত প্রকাশ দেখে আমি তখন কতটা অবাক হয়েছিলাম তা আজ ঠিকমতো মনেও পড়ছেনা! কী নিয়েই না আমরা কথা বলতাম! মোবাইলের মিনিট তখনো ৭ টাকা। তাকে তুচ্ছ করে চলতো কথা, আর তার কী তোড়! মাঝে মাঝে তোমার আমার কথা ওভারল্যাপ হয়ে যেত। তুমি তোমার সকল কু-(এবং সু)কর্মের ফিরিস্তি দিতে, আর আমি আমার একঘেঁয়ে যান্ত্রিক আটটা-পাঁচটা ক্লাসের ক্লান্তিকর দিন কাটানোর হাপিত্যেশ করতাম। ঝগড়াও লাগতো কতো। একবার তুমি আমার নামের সবগুলো অক্ষর দিয়ে একগাদা গালি লিখে পাঠালে, আমিও তার জবাবে কী কী জানি লিখেছিলাম। কতোদিন কতোরাত কতোকথার কথকতা (ফালতু কাব্য করার ভেজাল স্বপ্রণোদিত অভ্যাসটাও আছে এখনো!)। কোন এক জন্মের স্মৃতি বলে মনে হয়!
ইদানীং মাঝে মাঝে মনে হয়, মানুষ যত দিনদিন বড় হয়,বুড়ো হয় ততই পিছন ফিরে ফেলা দীর্ঘশ্বাসগুলোর মাত্রা লম্বা হতে থাকে। হয়তো আমরা কেউই বর্তমানটাকে ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারি না, যতোদিনে বুঝে উঠি ততোদিনে মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে যায়। মনের পরতে পরতে সময়ের সাথে এক এক পরত ধুলো জমে, আশে পাশের বাস্তবতা পারমানেন্ট মার্কারের মতো কালির পোঁচ বুলিয়ে আমাদের কেমন খোল-নলচে বদলে ফেলছে, তাই না? আজ তোমার একটা কথা আমার খুব কানে বাজে, ক'দিন আগে বলেছো, আমার কাছে "ঐসময়" (তুমি জানো কোন সময়!) ঐ ব্যবহার না পেলে আজ হয়তো তুমি এমন হতে না। কী অবলীলায় বলা কঠিন এক সত্যকথা!

লেখার শুরুতে এটা লিখে বোধহয় ভুল করলাম যে ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব হয় না। হয়, কিন্তু তার মাঝে কিছু একটা ব্যাপার থাকে। কী থাকে এটা বুঝাতে গিয়ে আজ বাঙলা ভাষাটাকে বড়ই অপ্রতুল মনে হচ্ছে। মানুষের সম্পর্কগুলোর এই আটপৌরে নাম দিয়ে তো তোমার আমার সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। তাই সে চেষ্টায় যাবো না আর। শুধু একটা জিনিস আজকাল ভাবছি খুব করে। তোমার আমার জীবন যেন দূরে-দেখা দিগন্তরেখার মতো মনে হয় আমার। দূর থেকে যাকে দেখে মনে হয় ছোঁয়া যাবে, একছুটে দৌড়ে গেলে ছুঁয়ে ফেলবো সেই অপার্থিব তীর! কিন্তু যতই তোমার আমার জীবন কাছে আসে, ততই যেন আমাদের মাঝে যোজন যোজন চর পড়ে, সময়ের চর। এই পথ কীভাবে পাড়ি দিব বলে দাও, বলে দাও কীভাবে ছেঁড়াতার জোড়া লাগে, কীভাবে ঢিল ছুঁড়ে মারা শান্ত পুকুর আবার নিস্তরঙ্গ হয়! হয় না বোধহয়।
আমি তবু নচ্ছাড় আশাবাদী, আজও তোমার মত করে জীবনটাকে বুঝে নিতে পারলাম না, প্র্যাকটিক্যাল হতে পারলাম না। এজন্যই আজ তোমার জন্য এই লেখা--যখন পড়বে, মনে করো সেই বন্ধুটিকে, আজ এত টানাপোড়েনেও যার কাছে তুমি অনেক দামী।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×