somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অকস্মাৎ স্বগতঃ সংলাপাদি

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অকস্মাৎ ঝাপটা দেয়া ঢেউয়ের মতো কিছু কিছু ব্যাপার কীভাবে নাড়া দিয়ে যায়? বসে বসে টুকটাক খটখট করছিলাম কী-বোর্ডে। পাশে এক গ্লাস পানি, মনিটরের পাশে ঝুলানো হেডফোন, অন্যপাশে কয়েকটা ডিভিডি, মানিব্যাগ, মোবাইল ইত্যাদি।

ফোন এলো একটা।
"ভাইয়া কি ব্যস্ত?"
"না, বলো।"
"একটু একুশে-তে দেখেন, সুমনের (কবীর সুমন) গান দেখাচ্ছে।"
"আচ্ছা দেখছি।"

একটা গান শুনতে পেলাম শেষ হবার আগে। বব ডিলানের গানের সুর কথা দিয়ে লেখা গানটা। তেমন আহামরি লাগছিলো না, সাধারন একটা গান, একই কথা ইংরেজি থেকে বাংলা করেছে। সাথে গায়কী সুমনীয়, একটু থেমে থেমে কথা বলার মতো করেই। বুড়ো হয়ে গেছেন অনেক! একটা সময় আদি শৈশবে বড়ো নাড়া দিয়েছিলো সুমনের ম্যাগনেটিক টেপের ক্যাসেট দুতিনখান। গানগুলো বারবার শুনতাম। ক্যাসেটের গায়ে ছিল "জীবনবাদী" বা "জীবনমুখী" গান এরকম কিছু লেখা। তখন ব্যাপারটা ঠিক বুঝি নাই। অনেক পশ্চিমবঙ্গীয় শব্দ বুঝতাম না। তবে ধরতে পারতাম মূলসুরটা হয়তো। গুনগুনিয়ে উঠতাম কখনও...

মাঝে কবীর সুমনের ধর্মান্তর আর বিয়ে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ভালো লাগে নাই। আদি শৈশবের নায়ক/ভালো লাগা ব্যক্তিত্বদের একটা আলো থাকে। বয়স বাড়লে তাদের চারপাশের সেই আলোটা কমে যেতে থাকে। ওঁরটা অনেকদিন ছিলো। যখন কমলো তখন সেজন্যেই ভালো লাগে নাই। তবে ধরে নিতে শিখেছি, বিশুদ্ধতা বা "পার্ফেকশন" একটা মিথ-ধরনের কিছু। আছে, থাকবে, কিন্তু সেটাকে ধরাছোঁয়া যাবে না। কেউ কেউ আমির খানের মতো ৩৫ টেকে সেটাকে রপ্ত করার চেষ্টা করবে কিন্তু আসবে না। এটাই- এই খুঁত থেকে যাওয়াটাই হয়তো সৌন্দর্য, হয়তো মানুষ হয়ে ওঠা!

গান শেষ হলে গীটারের সুরটায় শেষ স্ট্রোক পড়লে ফিরে ববডিলানেরটা শুনতে শুরু করলাম। হঠাৎ করে মনে পড়লো আজকে একজন মরে গেছিলো অনেক বছর আগে! কিন্তু তার আত্মাটা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের চারপাশে-দেয়ালে-দেয়ালে-চাদরে-বালিশে-টেবিলে-ক্যালেন্ডারে-টিশার্টে-ক্যাপে সাদা কিংবা রঙিন ছবি হয়ে গেছেন তিনি। খেয়াল করিই না বলতে গেলে যে মানুষটা আর তার আইডিয়াটা কীভাবে অবলীলায় কর্পোরেটের যাঁতায় বিক্রি হতে হতে বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। এখানেও নিখুঁত থাকা যায় না, যায় না!

আমি আপাদমস্তক লোভী, স্বার্থপর মানুষ। সংকীর্ণমনাও হয়তো অনেকখানি। নিজেকে ভালবাসতে ভালবাসতে নার্সিসিস্ট হয়ে গেছি। যারা আমাতে মুগ্ধ হয়, আমাকে পছন্দ করে, তাদের মূল্যবান মনে করি, আর যারা আমাকে ঘৃণা করে নানান কারণে তাদের আমিও কিছুমাত্রায় ত্যাগ করি মনে-মননে। শহর জুড়ে অশ্লীল ভোগবাদ দেখে তাতে আমিও গা ভাসাই। তাবৎ উপকরণ যা কিনে আনি, ব্যবহার করি, মনে একবারও আসেনা তার বদলে আর কী কী কৃচ্ছতা পালন করতে পারতাম!

কথা শুরু করেছিলাম ঝাপটা দেয়া ঢেউয়ের মতো আবেগজড়িত ব্যাপার নিয়ে। তাড়িত হয়েছি মনে হয় (যেরকম আবোলতাবোল বকছি তাতে সেরকমই ধারণা হচ্ছে!)। চে আর বব আর সুমন ঝাপটা দিছে। বসে বসে গীটার ঝঙ্কারে দুকান আর আমার ঘরের দুজানালা ভাসায়ে দিলেও টের পাই এসবই ক্ষণিক তোলপাড়। সমুদ্র তো নই যে অবিরাম বিক্ষুব্ধ হতে পারবো? নেহাতই এভাবে ভাবছি। চে-ও জানতো কেউ কেউ মনে রাখবে তাকে সবসময়, বাকিরা একদিন সবকিছুই মেনে নিবে খুব সহজে।

রবিবাবুর দুইলাইনে শেষ করি। খুব হালছাড়া পথে চলাচল করি, পথের পাশে এই মাতাল বিভ্রান্ত শহরের রাস্তায় কোথাও একফোঁটা শান্তি দেখি না। ঘরে ফিরে একটা শ্বাসে ভিতরে বাতাস টেনে নেয়ার সময়ে টের পাই বেঁচে থাকাটাই একটা আনন্দ-স্বরূপ!

তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা
এ সমুদ্রে আর কভু হবো নাকো পথহারা।



***
৯.১০.৮





সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১১
৩২টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×