বাঁশিবাদক সুর থামিয়ে থমকে দিলে ঘোর কেটে যাওয়া
থতমত আমি দৃষ্টি অনুসরণ করি,
দৃষ্টির শেষরেখায় জ্বলন্ত টিউবের নিচে
সারবাঁধা মানুষের সামনে দিয়ে
এক রূপসী আগুন ছুটে আসে।
আগুনের গায়ে শাদা-শামুক মালা লেগে থাকে,
আগুনের পায়ে সূক্ষ্ণহিল বর্শা গেঁথে থাকে,
আগুনের শরীরে কোমল ধোঁয়ামেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার ভয়ে আটকে থাকে,
আগুনের লম্বা পায়ের ঝুল-বরাবর আমি আমার গলনাঙ্ক লেখা রাখা দেখি।
মুহূর্তেই আমার কাছে আগুন,
দুমড়ে মুচড়ে নীলখাম-প্রেমপত্র হয়ে যায়।
মুহূর্তেই সে সর্সর্ করে ময়াল সাপের মতো,
ইনহেলারে পাফ্ নেয়ার মতো,
চুমুকে ব্ল্যাক কফি জিহ্বায় টানার মতো,
এমনকি আরো অনেক আশ্লেষ-গ্রহণের মতো
আমার চুল-ত্বক-ময়লা শরীর ভেদ করে ঢুকে পড়তে থাকে।
আমি আগুন খুলে খুলে দেখি-
বাদামী শরীরে পোশাক খুলে খুলে নিবিড় হই।
আগুনের আভরণ খসে গেলে বাদাম-ত্বক চর হয়ে জেগে ওঠে।
চরের বালিতে আমি ব্রাস্ট্র্যাপের আইল পাই,
সেখানে দুতিন-বিঘা জমিন কেনা নিয়ে
আমি পান-খাওয়া দালালের সাথে বচসা বাঁধিয়ে দিই!
আগুন আমাকে টেনে টেনে তার ভিতরে নিতে থাকে,
আরো গভীরে
আরো গভীরে
আমি গলে গলে যেতে থাকি।
সেখানে নিমগ্ন চৈতন্যের জল এসে পাড় ভিজানো তাল ঠুকে ঠুকে
চরের জমিন ভিজিয়ে দেয়।
এখানে বাদামে চিরহরিৎ তিল জেগে থাকে
এখানে নৌকায় কালোকাঠে খাঁজ, খাঁজ পলি জমা হয়
এখানে প্লাবিত-উপকূল জুড়ে আমি জমিহারা আর্তনাদ গুনি।
সবশেষে ঘনোচাঁদঘোনোকাশফুলঘনোবাঁশবন প্যান্টিলাইনের চেয়ে গাঢ় হয়ে জেগে থাকে।
***
- অনীক আন্দালিব
২৪.১১.৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

