স্বচ্ছ গ্লাসে বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে। ভেতরে জমানো আইসক্রিম একটু একটু গলনের সূত্র মাপছে। টুং করে গ্লাসের গায়ে একটা টোকা দিল সুমাইয়া। দুয়েকফোঁটা পানি তার নখাগ্র ছুঁয়ে নেমে আসছিল। আলতো ঝাঁকিতে তারা নিচে রাখা টিস্যুতে আশ্রয় নিল। টিস্যুমাতার কোল ছাপিয়ে বিন্দুদ্বয় ব্যাপিত- অভিস্রবিত! সুমাইয়া নখ ঘষে মুছে নিতে নিতে দু'ঠোঁটে টেনে নিলো স্ট্র! ঘোলাটে স্ট্রয়ের ভেতর দিয়ে চকোলেট উঠছে ক্রমশ!
ঘড়িতে সময় দশটা বেজে পঁয়তাল্লিশ। সুমাইয়ার গায়ে শীতল শীতাতপ একটা পরশ বুলিয়ে দিলে সে একটু কেঁপে ওঠে কি? পাশে রাইয়ান বসে ছিল। আরো গাঢ় করে জড়িয়ে ধরে সে সুমাইয়াকে। তপ্ততার সূত্র তখন খেলতে শুরু করে। ইতস্তত বিক্ষেপ অভিক্ষেপ এপাশ ওপাশে দোলনাক্রান্ত-শৈশব বিস্মৃত হয়। সুমাইয়াও উষ্ণ হতে চায়!
তিনমিনিট পরে আবছা জ্ঞান ফিরলে তূর্যও উষ্ণ রক্তপাত টের পায়। আস্তিন ছাপিয়ে রক্ত ছুটছে ট্রাউজার ছাপিয়ে গরম স্রোত নামছে। সম্বিত ফিরে পেতেই পাশ ফিরে আমাকে দেখল ও। আমার পা দুটো দুমড়ে বেঁকিয়ে উপরের দিকে উঠে এসেছে পেটের কাছাকাছি। মুখ ঈষৎ হা। হাত দুটো সরানো। বুক জুড়ে চাপ চাপ রক্ত। গাড়ির উইন্ডশীল্ডের ফাটলে বিকিরিত হয় দূরান্তগামী হেডলাইট।
রক্তে যেন প্লাবন বইছে সুমাইয়ারাইয়ানের। তারা মিশে যেতে থাকলে সে টের পায় প্লাবন নামছে দুই পা জুড়ে। ঠিক যেমন তূর্যের নামছিল এখনই। আমি দর্শক হয়ে যেতে যেতে টের পাচ্ছি তূর্য ঠা ঠা করে হেসে দিচ্ছে। সুমাইয়ার চাপা শীৎকারের সাথে ওর গোঙানি মিশে যাচ্ছে হাইওয়েতে।
---- ---- ---- ----
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



