somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃসহ বন্দীত্বের কথা...

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটছে বা ঘটে গেছে। আমি খুবই টেনশনে ছিলাম বাকি সবার মতোই। কী ঘটেছিল, তার নানা টুকরো দৃশ্য আমাদের সামনে আসবে। আমি যেটুকু জেনেছি, তাই তুলে ধরছি।

অনেকেই হয়তো দেখেছেন, কর্ণেল সালাম নামক একজন অফিসার বেরিয়ে এসেছেন আজকে আটকাবস্থা থেকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে চিনি, আমার বাবার বন্ধু। তাঁর মুক্তির খবর পেতেই বাবা দেখা করতে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পরে সেইদিনের কাহিনী শুনলাম।

অনেকের সাথে কর্ণেল সালামও ছিলেন দরবার হলে, সেদিন সকালে। সেখানে দরবারের এক পর্যায়ে ডাল-ভাত কর্মসূচীর টাকা ইত্যাদি নিয়ে কথা ওঠে। তখন কিছু সিপাহী তাদের দাবি জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। এক পর্যায়ে ডিজি শাকিল তাদের থামিয়ে দেন। কর্ণেল সালাম যেখানে বসেছিলেন, সেখান থেকে উনি তার একটু পরেই দুটো গুলির আওয়াজ পান। সেটি দরবার হলের বাইরে থেকে ভেতরের দিকে। সেই শব্দে সবার মাঝে একটা চাঞ্চল্য শুরু হয়। একটু পরেই দেখা যায় পাঁচজন সৈনিক সশস্ত্র অবস্থায় দরবার হলে ঢুকে পড়ে। হুড়োহুড়ির এক পর্যায়ে সকল অফিসারই পেছনের জানালা ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন চারপাশ দিয়ে জনাপঞ্চাশেক সৈনিক সশস্ত্র অবস্থায় ঢুকে পড়ে। পালানোর শুরুতেই কর্ণেল সালাম একদল সৈনিকের সামনে পড়ে যান, তাদের সবার হাতে অস্ত্র ছিল না, তবে লাঠিসোটা ছিল। এক সৈনিক তার বুকে লাঠির আঘাত করলে উনি বলতে থাকেন যে আমি ডাক্তার, আমি তোমাদের কোনদিন পানিশমেন্ট দেই নাই। আমাকে মেরো না। ইত্যাদি। সেসময়ে যে কোনভাবেই হোক বার বার এভাবে বলার কারণে একজন সৈনিক তার কথা বিশ্বাস করে এবং তিনি তার বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হন। সেই সৈনিকই বলেন যে স্যার আপনি এখানে থাকলে ওরা আপনাকে মেরে ফেলবে, আমার সাথে আসেন।

এর পরে তিনি সেই সৈনিকের সাথে রওনা দেন। পথে আরো বেশ কিছু দলের সামনে পড়েন এবং সৈনিকটি তাঁকে বাঁচানোর জন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে একদল বেশ উগ্র সিপাহীদের মধ্যে একজন তাঁর মুখে বাঁট দিয়ে আঘাত করে। তিনি পড়ে যান এবং আবারও বার বার অনেক বুঝানোর পরে তারা তাঁকে ছেড়ে দেয়। সেই সৈনিকের সাথে তিনি সিপাহীদের বিল্ডিঙে আশ্রয় নেন। তবে সৈনিকটিও এই পর্যায়ে তাঁকে বাসায় আশ্রয় দিতে পারেননি। কারণ তাহলে তার নিজের জানের আশঙ্কা দেখা দিত। কর্ণেল সালাম সেখানে সিঁড়িঘরেই বসে থাকেন। পাশের ফ্ল্যাটের এক মহিলা তাকে পানি (সম্ভবত পরে খাবারও) দিয়েছিলেন। দুপুর থেকে পরের সময়টুকু তিনি ওখানেই ছিলেন। সিঁড়িতে আসা যাওয়ার মধ্যে অনেকবার তাঁকে সৈনিকরা ধরেছে, চার্জ করেছে এবং প্রতিবারই তিনি তাঁদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাঝে তিনি শরীরের উর্দিটি খুলে রেখেছিলেন। অন্ধকার ঘনিয়ে এলে সাহায্যকারী সৈনিকটি বাইরে চলে যায়। ঘন্টা দুয়েক পরে ফিরে এলে কর্নেল সালামকে না চেনার ভান করে কারণ তার সাথে আরো সিপাহীরা ছিল।

অন্যান্যরা চলে গেলে সৈনিকটি তাঁকে বলে চলে যেতে নাহলে রাতে তার নিজের জীবনই বিপন্ন হতে পারে। এই সময়ে তিনি একবার দোতলা একবার তিনতলা এভাবে সিঁড়িতেই অবস্থান করেন কারণ বাইরে গেলেই নিশ্চিত মৃত্যু। আশার কথা, অন্ধকারে তাঁকে বসে থাকতে দেখে অনেকেই সিনিয়র সিপাই ভেবেছে। ওস্তাদ বসে আছেন কেন? এমন প্রশ্ন করেছে।

সারারাত নির্ঘুম কাটানোর পরে সকালে তিনি নিজের ইউনিটের তিনজন সৈনিকের দেখা পান। তাদের কাছেই জানতে পারেন যে সেনা অফিসারদেরকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। তখনই জানতে পারেন যে কোয়ার্টার গার্ড-এ বাকি সেনা অফিসার-রা আটক আছেন, ওখানে চলে গেলে উনি দ্রুত মুক্তি পাবেন। তারপরে সেই তিন সৈনিক তাঁকে ঘিরে ধরে সেখানে নিয়ে আসেন। পথে যতবারই মৃত্যুর আশঙ্কা হয়েছে, তারা চিৎকার হুঙ্কার দিয়ে সেগুলো ঠেকিয়েছেন।

অবশেষে সেনা অফিসারদের ছেড়ে দেয়ার সময়ে তিনি আরো অনেকের সাথে বেরিয়ে আসেন। এখন সম্ভবত উনি সিএমএইচে আছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২৫
২৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×