আমার প্রিয় পোস্ট
- নিজের ওয়েবসাইট বানানো ( অবুঝ প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের উপযোগী টিউটোরিয়াল) সূচীপত্র - ই য়া দ
- ইভটিজিং লইয়া ইহা কোন আলগা আলোচনা না। অপ্রিয় সত্যের আঘাতে আহত হইতে পারেন। (পর্ব-২) - পারভেজ আলম
- দেইল্যা রাজাকার ওরফে দেলোয়ার হোসেন সাইদী - পঙ্খিরাজ
- বিবর্তনের ফলে মানব দেহে রয়ে যাওয়া কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ এবং মাস্ল। - হোরাস্
- বর্ষা-বরণ ও কতিপয় ব্লগারগণ - অন্যমনস্ক শরৎ
- হাইপেশিয়া—আলেকজান্ড্রিয়ার বাতিঘর - ম্যাভেরিক
- বাধ্যতামূলক ধর্মশিক্ষা এবং একজন নাস্তিক পিতার অসহায়ত্ব - সন্যাসী
- মেঘবাজি সমগ্র-১ - মেঘবাজি
- আমরা যা বলতে পারি না, সেখানে নীরবতাই উত্তম কথক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- এ ধরনের যুদ্ধশিশুদের জন্য আমাদের করনীয় কি - শয়তান
- THE P A U S E . - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- আমার রাজ রাজেশ্বরী - ফেরারী পাখি
- গটমট ডায়েরী - অনাহুত আগন্তুক
- আমি তোমাকে উপর থেকে দেখি - অন্যমনস্ক শরৎ
- ~ রুপকথা ২ ~ - ~স্বপ্নজয়~
- অপ্রকাশিত জীবনানন্দ - সুদীপ চৌধুরী
- কোন এক পশ্চিমা শহরের কবিতা বা গল্প - জামাল ভাস্কর
- আমিও লিখলাম - আকাশ_পাগলা
- Wish you were here-'RICK' (1943-2008) - ফয়সালরকস
- অস্পষ্ট শেষ পৃষ্ঠার হাসি - মুক্তি মণ্ডল
- অভিমান: আমার লেখা ব্ল্যাক-এর সেই অভিমানী গান ... - ইমন জুবায়ের
- অলৌকিক ইস্টিমারটা আর ফিরে এলোনা বন্দরে (শ্রদ্ধা হুমায়ুন আজাদ) - অন্যমনস্ক শরৎ
- বন্ধু, তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও - রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত
- একজন অপ্রকৌশলীর বুয়েট প্রেম - সাহোশি৬
- বৃত্ত অতিক্রমণের চেষ্টা (দুটি বেঞ্চিতে মুখোমুখি চারজন) - বৃত্তবন্দী
- অলৌকিক বৃষ্টি - প্রতিধ্বনি, তুমিতো
- ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো.... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- * * ছ .*. ন্ন .* * ত .*. র ** . ঙ্গ . ** * - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
চুয়ান্নের বাইশে অক্টোবরঃ কবি!
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:১১
০.
আর কিছুদিন যাক না এমন আরো একটু আশা
এই পৃথিবীর মানুষগুলো বুঝবে আমার ভাষা।
এমন একটা গান আছে।
১.
মাঝে মাঝে কাকতালীয় ঘটনা ঘটে আমাদের জীবনে। কেন ঘটে সেটা আমরা বুঝতে পারি না বলেই হয়তো সেগুলো কাকতালীয়। আমার বিশ্বাস, সবকিছুই একটা বৃহত্তর নকশার অংশ। এখানে 'বিশ্বাস' কথাটা বলার কারণ এই যে এটা আমি প্রমাণ দেখাতে পারবো না। অসংখ্য ঘটনা তুলে আনতে পারি যেগুলো কাকতালীয় ঘটনার পেছনে কারণটাকে ব্যাখ্যা করবে। এবং এটা বুঝিয়ে দিবে যে এগুলো ঘটেছে একটা বৃহত্তর উদ্দেশ্যসাধনে। তবে তাতে পুরোপুরি বিষয়টা প্রমাণ হয় না। কেবল একটা কুযুক্তির উদাহরণ হয়ে ঠা ঠা করে হাসতে থাকে।
আমি প্রায়ই আজে বাজে উপমা ব্যবহার করি। এটা নিয়ে আমাকে অনেক কথা আর প্রশ্ন শুনতে হয়। এরকম উদ্ভট উপমা কেনো খাপ-না-খাওয়া চেহারা নিয়ে ঝুলতে থাকবে। বেশিরভাগ সময়েই আমি নিজের কাজকর্মের ব্যাখ্যা দিতে পারি না, লেখার তো আরও পারি না। তবে উপমার ব্যাপারে আমরা একজন বেখাপ্পা কবিকে চিনি যিনি অনায়াসেই আমাদের কাছে অনুমতি পেয়ে যান বিদঘুটে উপমা যথেচ্ছা বসিয়ে দেবার...
তার সাথে আমার পরিচয়ের শুরুতে আমি তাকে খুব বেশি পছন্দ করি নি। শৈশবের অভ্যাস মানুষ সহজে ছাড়তে পারে না, সেটা পাঠের অভ্যাসের বেলায় আরো বেশি খাটে। ছড়াটে-ছন্দ আর মাপা মাপা মাত্রা মাথায় কাঁথার মত সেলাই হয়ে গেছে। যখন বৃষ্টি পড়তো তখন 'জল পড়ে, পাতা নড়ে' -এভাবেই ভাবতাম আমি। গ্রামে বেড়াতে গেলে নদীর পাড়ে বসে "আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে" ভুস করে শুশুকের মতো ভেসে উঠতো। তারপরে আমি বাংলা মাস হিসেব করে মেলানোর চেষ্টা করতাম-- এখন আসলে বৈশাখ, তাই নদীতে হাঁটু জল। তারপরে আরেক কবি এসে বললেন, সবাই বেশ সমান, নর এবং নারী। আমি ছোট ছোট কিশোর চোখে বোঝার চেষ্টা করি, কেন আমার পাতে বড়ো মুড়োটা পড়ে আর বোনের পাতে লেজ! এভাবে আমি অভিযোজিত হই, আমার সামাজিকীকরণ ঘটে।
এই পর্যায়ে আমার সাথে সেই বেখাপ্পা কবির পরিচয় হয়। তিনি বেশ মৃদুমন্দ, মোটেও সুরেলা নন। আর নিদারুণ দারুণ কাঠখোট্টা। তার নদীটার নাম ধানসিঁড়ি, তার পাখিটি হলো কালো শালিখ! আর বিদঘুটে উপমায় তার জুড়ি নেই- মাঠের ঘাসের মাঝে তার প্রেমিকার চুল আর ঘাম মিশে থাকে, প্যাঁচার ডাকের ভেতরে জীবন (নাকি মরণ) থরে থরে জমে আছে নাকি! এতোটা বিক্ষুব্ধ রচনায় স্বভাবতই মন বসেনি, হাতে পেতে দুয়েকটা কবিতা যা পড়লাম, ছন্দ মেলে না ঠিকঠাক। তারপরে দেখি মাত্রার নাম সনেট (এ কি বিদেশি গোলোযোগ!)। দূরে সরে গেলেন ম্রিয়মাণ কবি চুপিচুপি। দোর্দণ্ড প্রতাপে ফিরে এলেন ছাড়পত্র নিয়ে অভিযাত্রিক কবিগণ। তার সাথে আমার ফের দেখা আরো অনেক বছর পরে। ... কাকতালীয় নিয়ে বলছিলাম, আসলেই সবকিছু একটা নির্দিষ্ট ছকেই ঘটে বুঝি। তিনি যখন আবার ফিরে এলেন, তার সাথে পরিচয়ের উদ্ভাসে আমিই ভেসে গেলাম। চোখের ওপরে যেন রঙিন কাচ আটকে ছিল, যা দেখছিলাম সব সেপিয়া-পয়েন্টে ঈষৎ বাদামি হয়ে ছিলো। তিনি এসে সেই কাচ ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিলেন।
এই কাজটি তিনি খুব সুচারুভাবেই করেছেন, বেশ "সহজ" উপায়ে। আসলেই এটি সোজাসরল-- আমি বুঝলাম।
"আমার এ গান
কোনোদিন শুনবে না তুমি এসে-
আজ রাত্রে আমার আহবান
ভেসে যাবে পথের বাতাসে-
তবুও হৃদয়ে গান আসে!"
বয়ঃসন্ধি কেটে গেলে যেভাবে ঘুম ভেঙে যায়, দুই বেণি ছেড়ে ক্লাসের শীর্ণ মেয়েটি যখন একটা বেণি করে আসলো প্রথম সেটা আমার নজর এড়ায়নি। চোখ খোলাই ছিল, সেখানে মেয়েটির ওড়নার প্রান্ত হু হু করে মগজে সেঁধিয়ে গেলো। সেসময় কানের পাশে তিনি মৃদুস্বরে বললেন এই মেয়েটি তোমার গান কোনোদিনই শুনবে না। তবু তুমি পৃথিবীর কানে, নক্ষত্রের কানে কানে গান গাইবে। এ যেন এক মহান নিরুপায় শাস্তি-- তোমাকে এই গান গাইতেই হবে। সেদিন রাতে আমার ঘুম হলো না, তিনি বড়ো জ্বালালেন। দু'চোখে মণিমুক্তোর মতো দৃশ্যগুলো ভরে দিতে লাগলেন। দেখলাম পঁচিশ বছর পরে আবার আমাদের দেখা হয়েছে। মেয়েটি মধ্য চল্লিশের ভারি শরীর, পাতলা হয়ে আসা চুল নিয়ে সেদিন সামনে দাঁড়ালো। আমিও বুড়িয়ে গেছি, হাতের উল্টোপিঠের দাগগুলো মুখের ভাঁজে ভাঁজে, চোখের কোনায় কোনায় উঠে এসেছে। আমাদের মাঝে কোনো ভণিতা নেই- কৈশোরের নির্মলতা হারালে মানুষ কেমন অথর্ব আর ক্ষয়াটে হয়ে যায়, সেই চেহারা নিয়ে কবি দাঁড়ালেন সামনে, আমাদের মাঝখানে। হলদে তৃণ আর কুয়াশা ভরা মাঠের মাঝে আমি মেয়েটির মুখোমুখি দাঁড়ালাম। কবির চোখে দিব্যি দেখলাম, ম্রিয়মাণ মুখে কী তীব্র জ্বলজ্বলে আলো!
২.
এই কবির জীবন এবং কবিতা নিয়ে বহু বহু কথা হয়েছে। গত সত্তুর বছরে কবি বুড়িয়ে গেছেন, মরেও গেছেন অন্যমনস্ক হাঁটতে হাঁটতে। তার কবিতাগুলো বার বার বইয়ে বাঁধাই হয়ে সকলের বাসার শেলফে জায়গা করে নিয়েছে। তার কবিতার সবচেয়ে বেশি ব্যবচ্ছেদ হয়েছে, খাতায়, পাতায়, পত্র-পত্রিকায়, আড্ডায়, আলোচনায়, ভাষণে, বক্তৃতায়। কবি বেঁচে থাকলে কী করতেন? অথবা তিনি যখন বেঁচে ছিলেন, তখন কি ভাবতেন তিনি মরে গেলে তাঁকে নিয়ে এমন মেতে উঠবে পুরো একটা জনপদ? তার জন্যে কাতর রাতগুলো নির্ঘুম কাটবে কোনো কিশোরের। মধ্যবয়েসী একজন কেউ প্রবল হতাশ রাতে ঘরের বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরাবে, আর সেই গনগনে ফুলকিতে দেখবে একটা প্যাঁচা তীক্ষ্ণ তাকিয়ে আছে! তখন তার মনে পড়বে একজন কবি ছিলেন যার কাছে এই প্যাঁচা কত অবলীলায় মানুষের উপমা হয়ে গেছে! আমার সাথে তার পরিচয়ের পর থেকে বারবারই আমার মনে হয়েছে এই কথাগুলো তিনি ভাবেন নি। এমন অসীম কল্পনাপ্রবণ মানুষটি হয়তো কখনোই ভাবেন নি যে তিনি কতজনের মনের কান্না আর চোখের হাসির ঝিলিকগুলো হুট করেই বাইরে নিয়ে আসতে পারবেন তার লেখা কবিতাগুলো দিয়ে। কবিতাগুলো নিরীহ এবং আড়ম্বরহীন সাজ নিয়ে অনেকদিন কাউকে নাড়া দেয় নি সেভাবে। অনেকেই বোঝেন নি হয়তো, এরকম নিভৃতে বসে এমন কবিতাও লেখা যায়।
মৃত্যু খুব প্রিয় বিষয় ছিলো কবির। ঘুরে ফিরে বারবার তার লেখায় চলে এসেছে গহীন কালো শীতল মৃত্যু। এবং তিনি কাতর হন নি। তিনি কখনই বলেন নি, 'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভূবনে'। আবার মৃত্যুকে আহ্বানও করেন নি। তারপরেও মৃত্যু তার কাছে প্রিয় ছিলো। এবং প্রিয় জিনিসের ব্যাপারে আমাদের একটা বাই-ডিফল্ট আবেগ কাজ করে। অনেক ভীড়ের মাঝে আমরা যেমন হুট করেই আপনজনের চেহারা খুঁজে পাই, তেমনি তার কবিতায় খুঁজলে তিনি কেবল মৃত্যুর চেহারাই দেখতেন। একটা বিষয় খুব বেশি ঘনঘন আমাদের জীবনে ঘটতে থাকলে সেটার অসাধারণত্ব মিইয়ে যায়। আটপৌরে হয়ে পড়ে বার বার তার আসা-যাওয়া। অতিথিকে আমরা যেভাবে আদর-আপ্যায়ন করি, সে বসার ঘরে খাটিয়া পেতে ঘুমুতে শুরু করলে সেটা অচিরেই ম্যাড়মেড়ে হয়ে যায়। সে কারণেই মৃত্যুর মত বিশাল বিনাশী ব্যাপারটিকে তিনি ভেঙে চুরে কাঁথা-বালিশ বানিয়ে ফেললেন। ঘাস, পাতা, জানালা, দেয়াল, শিশির, জোছনা, এমন হাজারো অসংখ্য উপাদানের মাঝে টুকরো টুকরো করে মৃত্যু মিশিয়ে দিলেন। আমরা পড়ার সময়ে খেয়ালও করি না, সর্সরে ময়াল সাপের মতো মৃত্যুছায়া পুরো পঙ্ক্তিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এভাবে মৃত্যুকে টেবিল-চেয়ার বানিয়ে ফেলার আরেকটা সুবিধা আছে। অপার্থিব অনুভূতিগুলো খুব সহজেই এই সব উপাদানের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। মনে হয় সবাই মিলে একটা স্ট্র দিয়ে মিষ্টি জুসের মতো মৃত্যুকে শুষে খেয়ে ফেলছে! কী অদ্ভুত কল্পনা, তাই না? জীবনের সকল উপাদান যখন তুচ্ছ হয়ে যাবে, আমাদের দপ্দপিয়ে দৌড়ে চলা কণিকা যখন ক্লান্ত হয়ে গতি থামিয়ে দিবে, ধুকপুকে হৃৎপিণ্ড অতি ধীরে স্তব্ধ হবে আর শৈত্যের প্রবল থাবা এগিয়ে আসবে, তখন হুট করেই আমার কবিকে মনে পড়বে। মৃত্যু খুব কঠিন কিছু তো নয়! জন্মানোর পরমুহূর্তেই হেঁচকি তুলে চিৎকার করে কেঁদে ওঠার চাইতেও সহজ শ্লথগতিতে চোখের তারার আলো ফুরিয়ে যাওয়া। এলোমেলো হাঁটতে গিয়ে হুট করেই ট্রামের সাথে ধাক্কা খাওয়া। এভাবেই মৃত্যু আসে। আমাদের স্তব্ধ করে দিতে, আমাদের জীবনের সবটুকু আলো নিভিয়ে দিতে।
কবির সাথে প্রথম পরিচয়ে মনে হয়েছিলো তিনি বেশ ম্রিয়মাণ। এই চিন্তাটা কতটা অপরিপক্ক ছিলো, তা এখন মনে পড়লে হাসি পায়। আমি একটা নতুন তথ্য জেনেছিঃ অনেক সময় খুব মৃদু স্বরে বলা কথাগুলো সবচেয়ে জোরালো শোনায়, আর উচ্চকিত স্লোগানের চাইতেই তীব্র অনুরণন তৈরি করতে পারে। কবিতায় যতো নিয়ম কানুন বানানোর চেষ্টা হয়েছে, এই কবির লেখার পরে সেগুলো মোটামুটি হাস্যকর প্রস্তাবনা হয়ে গেছে। সবারই মনে হয়েছে এভাবেও কবিতা লেখা যায়। চমক কাটতে সময় লাগেনি, তারপরের সময়টুকু কেবল এই কবির জন্যেই স্তবকে স্তবকে ভরে গেছে। পরে জানলাম এই অনুভূতিটার নাম- আধুনিকতা। প্রথা, সংস্কার এবং জোয়ালের মতো চেপে বসা সমাজে আমরা প্রতিনিয়ত যেভাবে ক্ষয়ে যাই, যেভাবে আমাদের ভেতর থেকে মৃত্যুর চেয়েও নিষ্ঠুরভাবে জীবন চুরি হয়ে যায়, সেখানে এই কবিই পথ দেখালেন। তার কথাগুলো আমার কাছে নতুন সত্যের মতো ধরা দিলো। অন্ধকার প্রবল হলেও আমার মনে হয়, সেখানে তিনি পাশেই আছেন। আমার কানের কাছে মৃদুস্বরে বলছেনঃ
"আবার আকাশের অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে :
আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো এই অন্ধকার।
যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে
অথচ যার মুখ আমি কোনদিন দেখিনি,
সেই নারীর মতো
ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়েছে উঠছে।...
...ময়ূরের পেখমের মতো রঙিন পর্দায় পর্দায়
কক্ষ ও কক্ষান্তর থেকে আরো দূর কক্ষ ও কক্ষান্তরের
ক্ষণিক আভাস -
আয়ুহীন স্তব্ধতা ও বিস্ময়।
পর্দায়, গালিচায় রক্তাভ রৌদ্রের বিচ্ছুরিত স্বেদ,
রক্তিম গেলাসে তরমুজ মদ!
তোমার নগ্ন নির্জন হাত;
তোমার নগ্ন নির্জন হাত।"
কবি মারা গেলেন চুয়ান্নের বাইশে অক্টোবর। আজকে থেকে ঠিক পঞ্চান্ন বছর আগে। ট্রামের চাকার সাথে যেই চিত্রকল্পগুলো হারিয়ে গেলো, যে পঙ্ক্তিগুলো নির্বাসনের নির্দেশ পেলো, সেগুলোর জন্যে আমার অনেক রাতেই মন খারাপ হয়ে যায়। তারপরে অন্ধকারেই কল্পনা করি, কবির হাত মৃদু আমার কাঁধে এসে বন্ধুর মতো ছড়িয়ে আছে। তার মুখ অস্পষ্ট এবং ঘোলা। আমার চোখে অশ্রু। আমার মুখে একচিলতে হাসি। কেউ দেখছে না। কারণ ঘর অন্ধকার।
***
২২.১০.৯
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা, শূন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ঝড়কন্যা।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
অসাধারণ মানুষকে নিয়ে অসাধারণ লেখা। দারুন লাগলো ফরম্যাটটা।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ হাসান ভাই। ফরম্যাটটা অনেক ভেবে এভাবে দাঁড়া করালাম। আপনি বলায় মনে হচ্ছে একেবারে খারাপ হয়নি! ![]()
সুদীপ চৌধুরী বলেছেন:
আমি কি আবার সেই নদীটিরে খুঁজি
মধ্যসমুদ্রের কোলে ব'সে
-----------------------------------------------------------------------------
চমৎকার লেখা!
লেখক বলেছেন: ন্বপ্নের ধ্বনিরা এসে বলে যায় : স্থবিরতা সব চেয়ে ভালো;
সব ছেড়ে একদিন আমিও স্থবির
হয়ে যাব; সেদিন শীতের রাতে সোনালি জরির কাজ ফেলে
প্রদীপ নিভায়ে রব বিছানায় শুয়ে;
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা!
আমি আপনার লেখা পড়েছি অফলাইনে। মন্তব্যে বলা হয়নি অবশ্য। আপনার জন্য শুভেচ্ছা!
আপনার নাম নিতে হলে খুব মুশকিলে পড়তে হয় ১৯৭১স্বাধীনতা। যদি অসুবিধা না থাকে, আপনার নিজের নামটি জানাবেন। ![]()
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন:
কি দারুণ একটা লেখা!
লেখক বলেছেন: কী দারুণ একটা কমেন্ট!
চারটা শব্দে মন ভরিয়ে দিলেন। ধন্যবাদ ভেবে ভেবে বলি।
কঁাকন বলেছেন:
অসাধারন
লেখক বলেছেন: এইরে! বিপজ্জনক একটা বিশেষণ। এবারে আমি মহাসমস্যায় পড়ে যাবো যে! ![]()
অনেক ধন্যবাদ, কাঁকন, আপনাকে।
লেখক বলেছেন: শূন্য বলার পর থেকে আপনি আসলেই কিপ্টে হয়ে গেছেন মন্তব্যে (আমি ভদ্রতা করে "মিতব্যয়ী" বললাম না)!
ধন্যবাদ মমমম।
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন:
ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এত সুন্দর করেও কাউকে নিয়ে কিছু লেখা যায়!!!
লেখক বলেছেন: মনে হয় এর চাইতেও সুন্দর করে লেখা যায়, বাঁশিওয়ালা। অনেকেই লেখেন, জানি!
শাওন৩৫০৪ বলেছেন:
সব সময় মুগ্ধতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারিনা...এইবারও পার্লাম্না...অবাক হৈলাম শুধু.....
লেখক বলেছেন: ভাষায় প্রকাশ না করলে আমি বুঝলাম কী করে? ![]()
অনেক ধন্যবাদ শাওন। লেখা আর আমি দু'জনেই খুশি!
পারভেজ বলেছেন:
যারা কবিতা বুঝতে চায়; তার ভেতরে ঢুকতে চায়; তাদের জন্য এর চাইতে ভালো লেখা খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে।প্রিয়তে।
লেখক বলেছেন: বাহ! এটা ভালো বললেন। আমি নিজেই কতো সময় কবিতা বুঝতে চাই। রমণীর চেয়েও দূর্বোধ্য লাগে মাঝে মাঝে লিখিত পঙ্ক্তিগুলো। বিশেষ করে এই কবির লেখা মাঝে মাঝে হায়ারোগ্লিফকেও হার মানায়!
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
চমৎকার ছন্ন....একদম অ-ছাড়া...ছাড়া
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শরৎ। কেমন চলছে দিনকাল??
"এই অ-ছাড়া...ছাড়া" ব্যাপারটা একটু খোলাসা করেন তো। আমি ঠিক ধরতে পারছি না!
দন্ডিত বলেছেন:
এটা ঠিক যে সাধারনত ছড়া জাতীয় কবিতার হতে উত্তরণ তার কবিতা দিয়েই বেশীরভাগ হয়। যদিও আমার এক পিংক ফ্লয়েড শোনা বড় ভাইএর কল্যানে সুধীন দত্তের সাথে আমার একটু আগে পরিচয় হয়ে গেছিলো। জীবনানন্দের প্রভাব যে কি গভীর সেটা আমি প্রথম যখন তার কবিতা ভালো লাগতে শুরু করে তখন বুঝতে পারি। চিন্তায় চেতনায় কেবলই তিনি। নিজে কিছু লিখতে গেলেও ম্বৃত্যুর ওপাশ থেকে হল্লা করে তিনি আমার মস্তিস্কের উপর জাঁকিয়ে বসেন। কলম হাতে একটা পংক্তি লিখতে গেলে মনে হয় লিখিয়ে নিচ্ছেন তিনি। উপমা খুজতে গেলে তার তৈরী উপমাগুলোর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। গত একবছর আমি একটি কবিতাও লিখি নাই। শুধুমাত্র তার প্রভাব এড়ানোর জন্যে। কারন যাই লিখতাম সেখানেই তার সাধাসিধা মুখটা উঁকি দিত। দিনকয়েক আগে একটা কবিতা লেখার চেষ্টা করলাম। অনাবশ্যক রুঢ় হলাম যাতে আঁতিপাতিঁ করেও তাকে খুজে পাওয়া না যায়।
কিছুক্ষণ পর হতাশ হয়ে আবিষ্কার করলাম একটা চিত্রকল্পে তার হালকা ছাপ। মেনে নিলাম কেউ কেউ থাকেন যাদের তৈরী বৃত্তের বাইরে যেতে অতিমানব হতে হয়। আমি ছাপোষা আটপৌরে মানুষ।
লেখক বলেছেন: আমি ছাপোষা আটপৌরে মানুষ।
এই লোকটিও তেমনই ছিলেন মনে হয়। নিভৃতে বসে, এখনকার মতো দলাদলি, গলাবাজি না করে কেবল কবিতাই করেছেন। আর আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আমরা অনুভূতির জগতে কতটা গরীব!
লেখার মাঝে তাঁর ছাপ চলে আসা'টা খুবই সাধারণ ঘটনা মনে হয়। বিশেষ করে, কৈশোরের প্রেম সহজে কি ভোলা যায়? অনেকগুলো প্রেম ও অপ্রেমের সম্পর্ক করেই সেটাকে চাপা দেয়া লাগে। কবিতায় জীবনানন্দের পরে আর কারো সাথে সেই ভালোবাসা গড়ে ওঠে না বলে সেই পথটাও রুদ্ধ!
তবু তুমি লিখতে থাকো। হাঁসের শরীর থেকে এক ঝটকায় সব পানি ঝরে গেলে সেই দৃশ্যটা এমন নয়নাভিরাম হতো না কিন্তু!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রণব'দা।
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
বিচ্ছিরী...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বৃত্ত।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
পড়তেছি...বস।
লেখক বলেছেন: ওকে বস। পড়েন। জানায়েন কেমন হয়েছে লেখাটা, ভালো-মন্দ।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
যথারীতি প্রিয়তে। একটা প্রশ্ন আমাকে খুব জ্বালায়, অনেকেই বলে জীবনানন্দ নাকি সুসইসাইড খাইছে কারন এতো আস্তে চলা ট্রামের নীচে মানুষ পড়ে কিভাবে!তবে অনেক ভক্ত এভাবেই ভাবতে ভালোবাসে, আসলে উনি তখন হয়তো বেশ আনমনে থাকতেন!
কবি আসলেই কি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন?
লেখক বলেছেন: কে জানে কবি হতাশ হয়েছিলেন কী না! এগুলো ব্যাপার সাধারণত নিকটজনেরা ভালো বলতে পারে। আবার সেখানেও কবি ব্যতিক্রম, তার মনের কথাগুলো, ভাবনাগুলো তার আশেপাশের মানুষেরা সেভাবে জানতোও না বোধহয়!
ট্রামের গতি কম হলেও, হাঁটার চাইতে বেশি। আর ধাক্কা লেগে পড়ে গেলে, যদি কেউ আনমনা থাকেন তাহলে চোখের পলকেই চাকার নিচে চলে যাবার কথা। সেটাকে মাথায় রেখে আমার মনে করতে ভালো লাগে এটা নিছকই দূর্ঘটনা ছিলো। আত্মহত্যার আরো সহজ উপায় তো হাতের কাছেই পাওয়া যায়। আর তিনি তো প্রায় সাত দিন মরণাপন্ন অবস্থায় বেঁচে ছিলেন (১৪ অক্টোবর-২২ অক্টোবর)।
নাহ, আমার মনে হয় না এটা আত্মহত্যা।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
মে বি ইউ আর রাইট! আই লাভ টু থিংক দিস ওয়ে!
লেখক বলেছেন: হুমম। আমিও।
কবির মৃত্যু হয়েছে, তারপরেও তিনি বেঁচে আছেন। যতো দিন যাবে, ততোই তিনি ভাস্বর হয়ে উঠবেন। এটাই আমার বিশ্বাস।
লেখক বলেছেন: আমাদের সবারই তো প্রিয় কবি! ![]()
তুমিও তো লিখেছো। মাত্রই সেটা পড়ে এলাম।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছেঅথচ যার মুখ আমি কোনদিন দেখিনি,
সেই নারীর মতো
ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়েছে উঠছে।
+++
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতর খেলা করে
লেখক বলেছেন: আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভেতরে উটের গ্রীবার মত কোনো এক নিস্তব্ধতা কেমন খেলা করে!!...
অনেক ধন্যবাদ নির্ঝর। লেখাটা পড়ার জন্যে।
সাদা কালো এবং ধূসর বলেছেন:
দারুন লাগলো পড়তে সবটাই। প্রতিটা অংশই। মৃত্যুর ব্যাপারটা পড়তে বেশি ভালো লাগলো। আর তার হাতে আমাদের আধুনিকতা। ভালো হয়েছে লেখাটা।তার অবলীলায় প্রথা ভাঙ্গা আর তৈরি করা, যেন এগুলো কোনো ব্যাপারই না, যেন এগুলো কিছু নেইই। সেই যে তাকে জেনেছি তারপর মনেহয় আর কিছুই তেমন জানিনি।
শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: মৃত্যুর ব্যাপারটা আমার অনেক দিনের চিন্তার একটু অংশ। আমি তার লেখা নিয়ে অনেক কথাই ভাবি, বেশিরভাগই আবার ফেলে দেই কারণ মনে হয় সেটা হয়তো হাস্যকর বা ভুল। ...
ধন্যবাদ সাকাধূ! ![]()
লেখক বলেছেন: বেশ...
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
ভালো লাগছে। ছন্ন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শুভ্র। আপনি পড়েছেন জেনে ভালো লাগছে।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
বেশি হাই থট' লেখা, মারাত্বক রকমের ভালো লিখেছেন। ওয়াও।যে গানের দুলাইন দিয়ে শুরু করেছেন সেটা আমার খুব প্রিয়, আমি এই দুলাইন দিয়ে একটা পোষ্ট দিবো ভেবেছিলাম, ব্লগে আসা হয় না তেমন, তাই দেয়া হয়নি। এনিওয়ে কেমন আছেন?
বসের মুড খারাপ নাকি?
(অ.ট. আপনার শেষ লেখার মাথামুন্ডু কিছু বুঝলাম না, কোন ব্যাপারে মেজাজ খারাপ? যদি তাই হয় চিয়ার আপ)
লেখক বলেছেন: গানটা ইদানিং শুনছি। দেখলাম এই পোস্টের বক্তব্যের সাথে খুব যায়!
অ.ট. মন খারাপ! না না! ওটা আমার ২০০তম পোস্ট। ব্লগের একটা মাইলফলক। ব্লগের এক প্রিয় লেখক লেখা বন্ধ করেছে বলে ওটা লিখেছি। মানুষ আসলে এই ছন্নছাড়ার আবেগের দাম দেয় না! ![]()
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
ভাল লিখেছেন ।দশম শ্রেণীতে থাকতে কবি হবার খুব শখ ছিল, শখ জেগেছিল মূলত জীবনানন্দ এর কারণেই ।
এরপর হয়ত আর কবি হতে পারি নি, কিন্তু ভাল লাগা টা যায় নি ।
ভাল থাকুন ছন্নছাড়া ভাই
চলতে থাকুন আপনার সুন্দর পেন্সিলটি ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ হে বোহেমিয়ান। আপনার আর আমার ছদ্মনামে অদ্ভুত মিল আছে কিন্তু! ![]()
কবি হওয়ার শখ বললেন কেন? কবি হয়ে ওঠাটা একজনের চেষ্টা আর সাধনার বিষয়। নিছক শখের বসে কবিতা লিখে কেউ কখনও বড়ো কবি হয় নি! আপনিও লেখা শুরু করেন। সবকিছুই কবিতা হয়ে উঠুক, জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত উপমাসৌন্দর্যে ভরে উঠুক এই কামনা করি!
লেখক বলেছেন: কই? কিছু হয় নাই তো! দুইশ'টা পোস্ট করে ফেলেছি দেখলাম। সেটা করার সময় অনেক অন্যরকম অনুভূতি হলো। ...
আমি তো অনেক কিছুই অর্জন করতে পারি না। এইটা তাই অনেক 'কেমন কেমন' লাগছে...
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
![]()
ভাঙ্গন বলেছেন:
অসাধারণ!
লেখক বলেছেন: বলেন কি! ![]()
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ ভাঙ্গন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নাজমুল।
**অনিন্দিতা রায়** বলেছেন:
আপনার নিকের সাথে লেখাটি তো যায়না !!
লেখক বলেছেন: তাহলে ধরে নেন এটা সম্ভাবনার সূত্রের বরখেলাপ করে লিখে ফেলেছি।
লেখক বলেছেন: ডিসক্লেইমের বেশি তো কিছু বলার নাই। ওটা নিজস্ব বোঝাপড়া, বাকিদের জানানোর জন্যে। ![]()
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
আল মাহমুদ বলেছিলেন কবিতা কবির কাছে জীবন দাবী করে , সেই ভয়েই কবিতাকে খুব বেশি কাছে টানি নি ।দূর থেকে দেখে যাই আপনার মত কবিদের সাথে কবিতার বন্ধুত্ব, কাছে যাওয়ার সাহস হয় না ।
আপনার ছদ্মনাম কি?
লেখক বলেছেন: হাহাহা! শেষ লাইন পড়ে হাসি পেয়ে গেলো। ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আমার নাম অনীক আন্দালিব। ![]()
===
যে কোন শিল্পই মানুষের কাছ থেকে তার পুরো জীবন নিয়ে নেয়। কবিতার ক্ষেত্রে কবির জীবন উচ্ছন্নে যাবে, তিনি কপর্দকশূন্য হয়ে মারা যাবেন-- এইরকম একটা স্টেরিওটাইপ গল্প-সাহিত্য থেকে বাস্তব পর্যন্ত তৈরি হয়ে গেছে। তবে এখন যাঁদের চিনি, যারা একনিষ্ঠভাবে কবিতাচর্চা করেন তাঁরা কেউই তেমন নন। কবিতার সাধনা জীবিকার্জন করতে করতেই করা যায় বলেই হয়তো সেটা আমাদের বাঁচিয়ে দিচ্ছে। ![]()
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
কবিতার সাধনা জীবিকার্জন করতে করতেই করা যায় বলেই হয়তো সেটা আমাদের বাঁচিয়ে দিচ্ছে। আমরাও পাচ্ছি অনেক ভাল কিছু পদ্য ।
ভাল থাকুন কবি ।
লেখক বলেছেন: বোহেমিয়ান, আমি তেমন কবি হয়ে উঠতে পারি নাই। পারবোও না হয়তো। কবিতা এখনও আমার কাছে অনেকটাই অধরা রমণীর মতো, তীব্র কুহক আর নেশা। যাপনের দিনে-রাতে ঢুকে গেছে বলে আমার নিস্তার নেই...।
অদ্রোহ বলেছেন:
কেমন যেন ঘোর লাগানো লেখা !!
লেখক বলেছেন: বেশ। তবে ঘোরমত্ত পাঠ চলুক কবিতার, কবির, জীবনের। কবির সাথে আমার সকল মিথস্ক্রিয়াই অনেকটা হ্যালুসিনেশনের মতো। সেই ছোঁয়া চলে এসেছে বোধহয়...
নুশেরা বলেছেন:
তারপরে আরেক কবি এসে বললেন, সবাই বেশ সমান, নর এবং নারী। আমি ছোট ছোট কিশোর চোখে বোঝার চেষ্টা করি, কেন আমার পাতে বড়ো মুড়োটা পড়ে আর বোনের পাতে লেজ! এভাবে আমি অভিযোজিত হই, আমার সামাজিকীকরণ ঘটে।
কবিতার মধ্য দিয়ে এরকম সামাজিকীকরণের কথা কে কবে ভেবেছে! মুগ্ধ করলো পুরো লেখাটাই। অসামান্য!
[প্রিয় পোস্টে যোগ করার কথা মনেই থাকেনা বেশীরভাগ সময়ে; আজ ছাড়ছি না
লেখক বলেছেন: "মানুষ" এখনও হয়ে উঠি নাই নুশেরা'পা। অনেক কিছুই শিখছি, বুঝছি, বুঝে ওঠার চেষ্টা করছি। আপনার প্রকাশ করা শ্রদ্ধা কেবল তাঁদের জন্যেই যাঁরা আমার ছোট জীবনটায় স্নেহ আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বানিয়েছেন। আমি বরং মৃদু প্রশ্রয়টুকু নিয়ে নিলাম!![]()
কবিতায় সবকিছু এমন আলতো করে শিখিয়ে দেয় যে ঠিকমত বোঝাও যায় না কতকিছু শিখে ফেললাম।
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
ভাই, এই লেখাটা বেশ কিছুদিন আগেই পড়েছি; কিন্তু নাটকটা নিয়ে ঝামেলার কারণে স্থির হয়ে কমেন্ট করা হয়ে উঠেনি।।।যাইহোক, লেখা প্রসঙ্গে: কবিতা বিষয়টা আমি ভাল বুঝিনা, সেভাবে পড়তে ভালও লাগেনা; তবুও মাঝে মাঝে একটু-আধটু নেড়ে চেড়ে দেখা হয়।।। সেজন্য জীবনানন্দ-সুধীন দত্ত-বুদ্ধদেব বসু, কারোও প্রতিই সেভাবে অনুরাগ নেই (বুদ্ধদেব বসুর ক্ষেত্রটা আলাদা; তার গল্প এবং শক্তিশালী প্রবন্ধের ভক্ত আমি).........তবে এই লেখাটা আমি দুর্দান্তভাবে উপভোগ করেছি।।। সত্যি বলতে কি, এটাকে আমার একটা এক্সপেরিমেন্টাল প্লটের অসাধারণ গল্প মনে হয়েছে. যাতে ফোকাসটা ছিল জীবনানন্দের উপরে, এরপর ধীরে ধীরে ফোকাসটার রেঞ্জ বাড়তে বাড়তে পারিপার্শ্বিক অনেক কিছু চলে এসেছে।।।।
লেখক বলেছেন: কবিকে নিয়ে অনেক কথা লেখা হয়ে গেছে বলে এই লেখাটা লেখার সময়ে আমি ভাবছিলাম কীভাবে বললে সেটা কিছুটা নতুনত্ব আনবে পাঠকের কাছে, আমার কাছেও। এভাবে লেখার আগে চিন্তাগুলো এতোটা গোছানো ছিলো না। লিখতে লিখতে মোটামুটি একটা ধারণা পেলাম, সেখান থেকেই বিষয়গুলো দাঁড়িয়ে গেলো।
তাঁর কবিতার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তুলনামূলক আলোচনার চাইতেও পাঠকের সাথে কবির যোগাযোগ আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সবসময়ে। সবার অনুভূতির সমষ্টিই একজন মানুষের পুরো জীবন-- এই কথাটা খুব সত্য মনে হয়!
আকাশ অম্বর বলেছেন:
হাত-পা ছুড়েও যদি শব্দ বের না হয়, এ আমার অপারগতা, ছন্ন। এর বেশী মন্তব্য করার সাধ্য নেই আমার।লেখক বলেছেন: হাত পায়ের এই অভূতপূর্ব আন্দোলন আমাকে মুগ্ধ করলো!
মুনিয়া বলেছেন:
সেই নারী হতে চেয়েছিলাম, কবিকে যে আজীবন ভালবেসেছে...
লেখক বলেছেন: হয়ে ওঠেননি? নাকি হতে পেরেছেন?
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
কী অসাধারণ একটা লেখা! জীবনানন্দকে নিয়ে যতো লেখা পড়েছি, তার একটা তালিকা করলে এই লেখাটিকে নিঃসন্দেহে প্রথমদিকে থাকবে। বিশেষ করে ফরম্যাটটা। এভাবেও তো লেখা যায়! শঙ্খ ঘোষ ছাড়া এমন লেখার ধরন খুব একটা চোখে পড়ে না।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কামাল ভাই। এমন অকুণ্ঠ প্রশংসা পেলে ভালোও লাগে, আবার সংকুচিতও হয়ে যাই। কারণ লেখার পরে মনে হয়েছিলো আমি ঠিক কবির প্রতি সুবিচার করতে পারি নি। ভাষা আর নিজের অক্ষমতার দরুণ যা বলতে চেয়েছি, যেভাবে বলতে চেয়েছি তা বলতে পারি নি।
লেখক বলেছেন: ধূসর পাণ্ডুলিপির কবির জন্যে অশেষ শ্রদ্ধা! কবি আমাদের সাথে টিকে থাকুক চিরকাল!
লেখাটি পাঠের জন্যে ধন্যবাদ তায়েফ। শুভেচ্ছা নিবেন।
এত সুন্দর একটা লেখা!!
এতসুন্দর করেও লেখা যায়! জীবনানন্দকে নিয়ে এ্ই লেখটা আমার ড্রাফট করে ফেলতে ইচ্ছে করছে।
মহাকালের মহাপথিক: জীবনানন্দ
প্রিয়তে ...
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ চতুষ্কোণ...
কবির প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা যতটুকু ধারণ করি, তা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। আমার প্রয়াসটুকু আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমিও খুশি হলাম। আমার শুভেচ্ছা নিবেন।
আপনার লেখাটিও আমি পড়ছি। ভালো লাগছে।
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
অদ্ভুত ব্যাপার। পোষ্টটা আমার প্রিয়তে আছে, অথচ কমেন্ট করা হয় নাই। আসলে কি বলবো সেটাই বোধহয় ভুলে গিয়েছিলাম।
লেখক বলেছেন: ভুলে গিয়ে এতো দিন পরে একটা মন্তব্য পাওয়া গেলো, এই বা কম কী! প্রিয়তে নেবার জন্যে অনেক ধন্যবাদ রাকিব!
সুবিদ্ বলেছেন:
অনেক পরে চোখে পড়লো.......মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
আমিও আপনার মন্তব্য ও পাঠে মুগ্ধতা জানালাম!
সায়েম মুন বলেছেন:
প্রিয় কবিকে নিয়ে বিশ্লেষণ খুব ভাল লাগলো।
আসিফ মুভি পাগলা বলেছেন:
সুন্দর একটা লেখা পড়লাম । আপনি অনিয়মিত কেন?
আহমমক বলেছেন:
আমি আহম্মক আমি কি আর অত কিছু বুঝি।খালি বুঝি মচতকার এক্কান লেখা হইছে ।
রেজওয়ান মাহবুব তানিম বলেছেন:
খুব সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন ভাই । আমার খুব ভাল লাগল । কবির প্রতি সম্মান- Click This Link
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...






















