আমার প্রিয় পোস্ট

চতুর্মাত্রিক.কম (choturmatrik.com)

গোঁফচুরি

২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২২

শেয়ারঃ
0 0 0

হেড্ আফিসের বড় বাবু লোকটি বড় শান্ত,
তার যে এমন মাথায় ব্যামো কেউ কখনো জানত?
দিব্যি ছিলেন খোসমেজাজে চেয়ারখানি চেপে,
একলা ব'সে ঝিমঝিমিয়ে হঠাৎ গেলেন ক্ষেপে!
আৎকে উঠে হাতে পা ছুঁড়ে চোখটি ক'রে গোল
হঠাৎ বলেন, "গেলুম গেলুম, আমায় ধ'রে তোল"!
তাই শুনে কেউ বদ্যি ডাকে , কেউ বা হাঁকে পুলিশ,
কেউবা বলে, "কামড়ে দেবে সাবধানেতে তুলিস।
ব্যস্ত সবাই এদিক ওদিক করছে ঘোরাঘুরি
বাবু হাঁকেন, "ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি"!
গোঁফ্ হারান! আজব কথা ! তাও কি হয় সত্যি?
গোফ জোড়া ত তেমনি আছে, কমেনি এক রত্তি!
সবাই তাঁরে বুঝিয়ে বলে, সামনে ধ'রে আয়না,
মোটেও গোঁফ হয়নি চুরি, কক্ষনো তা হয় না।

রেগে আগুন তেলে বেগুন, তেড়ে বলেন তিনি,
"কারো কথার ধার ধারিনে, সব ব্যাটাকেই চিনি।
নোংরা ছাঁটা খ্যাংরা ঝাঁটা বিচ্ছিরি আর ময়লা,
এমন গোফ ত রাখ্ত জানি শ্যামবাবুদের গয়লা।
এ গোঁফ যদি আমার বলিস করব তোদের জবাই"
এই না ব'লে জরিমানা কল্লেন তিনি সবায়।
ভীষণ রেগে বিষম খেয়ে দিলেন লিখে খাতায়
"কাউকে বেশি লাই দিতে নেই, সবাই চড়ে মাথায়।
আফিসের এই বাঁদরগুলো, মাথায় খালি গোবর
গোঁফ জোড়া যে কোথায় গেলে কেউ রাখে না খবর।
ইচ্ছে করে এই ব্যাটাদের গোঁফ ধরে খুব নাচি,
মুখ্যুগুলোর মুন্ড ধ'রে কোদাল দিয়ে চাঁচি।
গোঁফকে বলে তোমার আমার গোঁফ কি কারো কেনা?
গোঁফের আমি গোফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা।"


- সুকুমার রায়

দ্র. সুকুমার রায় (১৮৮৭ - ১৯২৩) একজন বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও বাংলা সাহিত্যে ননসেন্স্ এর প্রবর্তক। তাঁর লেখা কবিতার বই আবোল তাবোল, গল্প হযবরল, গল্প সংকলন পাগলা দাশু, এবং নাটক চলচিত্তচঞ্চরী বিশ্বসাহিত্যে সর্বযুগের সেরা "ননসেন্স" ধরণের ব্যঙ্গাত্মক শিশুসাহিত্যের অন্যতম বলে মনে করা হয়, কেবল অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড (Alice in Wonderland) ইত্যাদি কয়েকটি মুষ্টিমেয় ক্লাসিক-ই যাদের সমকক্ষ।

বি.দ্র. আজ প্রায় ছিয়াশি বছর পরেও সুকুমার কী তীব্র সমসাময়িক!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সামহোয়্যার ইন ব্লগ ;
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩০
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন: বড় মজা কড়ে পড়তাম আগে।
আবার দেখে ভাল লাগছে।
২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩১
সাদা কালো এবং ধূসর বলেছেন:
"কারো কথার ধার ধারিনে, সব ব্যাটাকেই চিনি।
নোংরা ছাঁটা খ্যাংরা ঝাঁটা বিচ্ছিরি আর ময়লা, :|
এমন গোফ ত রাখ্ত জানি শ্যামবাবুদের গয়লা। :``>>
এ গোঁফ যদি আমার বলিস করব তোদের জবাই" !:#P
৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪
শাফিন বলেছেন: পড়ে খুব মজা পেলাম।
৪. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪
হাসান মাহবুব বলেছেন: এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক হয়েছে ছড়াটা।
৫. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২
নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেন: অসাধারণ ছিল তাঁর ছন্দবোধ। পোষ্টের জন্য +
৭. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৯
সুপ্ত সবুজ বলেছেন: অনেকদিন পর ভাল একটা কবিতা পড়লাম। ধন্যবাদ এন্ড প্লাস +
৯. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৬
সহেলী বলেছেন: তাইতো !
দেখে প্রথমে ভড়কে গিয়েছিলাম !
১০. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৩
পারভেজ বলেছেন: অসাধারণ ছন্দের গাঁথুনি।
টাইমলেস তো অবশ্যই!
১১. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৬
ঊশৃংখল ঝড়কন্যা বলেছেন: আয়রে ভোলা খেয়াল-খোলা
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।
আয় যেখানে খ্যাপার গানে
নাইকো মানে নাইকো সুর।
আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায়
মন ভেসে যায় কোন্‌ সুদূর।
আয় খ্যাপা-মন ঘুচিয়ে বাঁধন
জাগিয়ে নাচন তাধিন্‌ ধিন্‌,
আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া
নিয়মহারা হিসাবহীন।
আজ্‌গুবি চাল্‌ বেঠিক বেতাল
মাত্‌বি মাতাল রঙ্গেতে-
আয়রে তবে ভুলের ভবে
অসম্ভবের ছন্দেতে।

বাবা আমার সাথে আবোল-তাবোলের পরিচয় করিয়ে দেবার পর থেকে এখন পর্যন্ত সুকুমার রায়ের নাম শুনলেই আবোলতাবোলের কাতুকুতু বুড়ো, খিচুড়ি কি বাবুরাম সাপুড়ে স-ও-ব মাথার মধ্য নাচতে থাকে! মানুষটার ননসেন্স সাহিত্যগুলোই বোধহয় মানুষের খামখেয়ালী অস্তিত্বটাকে তীব্র করে দেয়! পড়ার পর অদ্ভুত একটা হিহি-হাহা ঘুরতে থাকে আশেপাশে!

সুকুমার বা সত্যজিৎ রায়েদের জন্যই আমাদের শৈশব-কৈশর এমনকি এখনের সময়টাও আশেপাশের বাস্তবতা ছেড়ে ননসেন্স হতে শেখে!

আসলেই তারা তীব্র সমসাময়িক!

সুকুমার রায়ের সাহিত্যগুলোর বিশাল অংশ নিচের লিংকটায় পাবে। মাঝে মাঝে এখনো পড়ি! :)

http://sukumarray.50webs.com/
১২. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৬
ঊশৃংখল ঝড়কন্যা বলেছেন: কবিতার বাইরে একটা কথা বলেই ফেলি : পোস্টটা চরম সময়-উপযোগী!
১৩. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৪৫
দন্ডিত বলেছেন: সেইরকম সময়োপযোগী লেখা:)
১৪. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫০
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: বিচ্ছিরী রকমের সমসাময়িক...
১৫. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২২
বিষুন বলেছেন: আমি তো এখনো সর্দি হোলে চাঁদের আলোয় পেঁপের ছায়া শুঁকি ।
কবিরাজ মশাইয়ের নাম , সুকুমার রায়।
কত গুলো প্রশ্নের উত্তর তো আজও আমায় খুঁজতে হয় -
তেজপাতে তেজ কেন ? ঝাল কেন লঙ্কায় ? নাক কেন ডাকে আর পিলে কেন চমকায় ?
হায় , কবে যে জানব ?!
তবে মানুষটি খুব পাজী । ট্যাঁশগরু যে গরু নয় ,আসলে পাখি , সে কথাটা সবাইকে না বলে শুধু আমার কানে কানে বললে কি খুব অসুবিধে হোতো ?
১৬. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৭
শান্তির দেবদূত বলেছেন: ব্যাপক মজার কবিতা ..... সুকুমার ইজ গ্রেট
১৭. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০৫
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: ব্লগ থেকে আমার খুব প্রিয় কিছু ব্লগারের নীরব বা সরব চলে যাওয়াতে আমি বেশ নাজেহাল। নিজের একক গণ্ডিতে আটকে থাকতে চাইলে ব্লগস্পটই ভালো জায়গা, সেখানেই লেখাগুলো থাকুক-- এমনটা ভেবেছিলাম। কমিউনিটিতে আরো দশজন মানুষের মাঝে যাদের আমার ভালো লাগে নাই তাদেরকে সহ্য করেও লেখালেখি করার মূল কারণ ছিলো তাদের পাশাপাশি আমি এমন কিছু মানুষ পেয়েছি যাঁদের আমার অসাধারণ লাগতো। তাঁরা তাঁদের অনেক মূল্যবান সময় আমার সাথে, আমার লেখার সাথে কাটিয়েছেন বলে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই।

কালকে মোটামুটি হতাশ হয়েই এই কবিতাটা আরেক সাইট থেকে তুলে আনলাম। মন খারাপ হলে আমি সুকুমার পড়ি। এই কবিতাটা পড়ে মনে হলো হেড্‌ আফিসের বড়োবাবু কি এই কবিতাটা বুঝবে? এমন আকুতি আর প্রবল কামনা কি তার ফোকাসে পড়বে?

আপনাদের সকলকে অজস্র ধন্যবাদ! আমি আসলেই আপ্লুত যে এটা আপনাদের ভালো লেগেছে, আর মনে হয়েছে যে কবিতাটা সময়োপযোগী। আমি খুব খুশি মনেই সেই ভালোবাসাটুকু গ্রহণ করছি। সবাইকে অনন্ত শুভেচ্ছা!!
১৮. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:০৪
আমি ও আমরা বলেছেন:

ছিঃ ছন্ন ছিঃ ছন্ন
করেছিস কি লন্ডভন্ড
হাসি আসলে হাসবো আমি
কান্না আসলে কাদবো
হেড বাবু ছড়ি ঘুরালে
দেখবি এবার কান্ড

ছিঃ ছন্ন ছিঃ
কার পাতে ঢালিস ঘি
গোয়ালিনী গ্যাছেকি বাপের বাড়ী
আয় ডুগডুগি খেলি
১৯. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: দুঃখ করে কি আর হবে
তৈল-ঝোলে

ডুবুক সব শৃগাল
২০. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ!!
কী জানি, মাঝে মাঝেই ব্লগের পরিবেশ কেমন যেন হয়ে উঠে। আমি নিজে নিয়মিত নই। কাজের কারণে। কিন্তু প্রিয় ব্লগাররা চলে গেলে মিস করি, কষ্ট লাগে।
এ রকম একটি মজার ছড়া শেয়ার করার জন্য আবারও ধন্যবাদ।
২২. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৭
সুদীপ চৌধুরী বলেছেন: সমসাময়িকতার প্রসঙ্গ টেনে মনে হয় সুকুমারকেই অপমান করা হলো। এরা এতো হাইক্লাস স্যাটায়ার পাবার দাবি রাখে কিনা, এটা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।
২৩. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১১
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
ফুলফোটে? তাই বল,
আমি ভাবি পটকা...

হযবরল কিন্তু অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড অনুসরণে লেখা। গোপনে একটা কথা জানাই, হযবরল আমার মুখস্থ। সবটুকু। জটিল না! :)
২৪. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৮
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ও আচ্ছা... সবাই ব্লগ নিয়ে কথা বলতেছে?

এইটা হইলো সা.ইন-এর ঋতুবৈচিত্র। প্রতি পনের দিনে একবার এই বৈচিত্র তৈরী হয়। চলে দুই সপ্তাহ। আবার শুরু হয়।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা কমিউনিটি ব্লগ নিয়া অনেক আগেই ইরশাদ করেছেন-

কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা...
২৫. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৯
আগামি বলেছেন: হুম সমসাময়িক ! :-B
২৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২২
শ্রাবনের ফুল বলেছেন: চমৎকার উপস্থাপনা!!! সুকুমার কি জানতেন তার কবিতা গুলি যুগে যুগে চোখে আঙ্গুল তুলে অসামঞ্জস্য এভাবে তুলে ধরবে!! বোধহয় জানতেন
২৮. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৫
শান্তির দেবদূত বলেছেন: কৈ আপনে ? অনেক দিন ব্লগে দেখি না ! "পুরান ব্লগার"-রোগে ধরছে নাকি ?
৩০. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৩
চতুষ্কোণ বলেছেন: চমৎকার লাগল। সময়ের কাছে হার না মানা কবিকে স্যালুট।
৩১. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৩
আকাশ অম্বর বলেছেন:

ব্যস্ত সবাই এদিক ওদিক করছে ঘোরাঘুরি
বাবু হাঁকেন, "ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি"!


ছন্ন ছাড়া ছন্নছাড়া
৩২. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৭
ফারহান দাউদ বলেছেন: সুকুমারের তুলনা নাই।
৩৩. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৪৪
কঁাকন বলেছেন: অনেক দিন দেখিনা আপনাকে

ভালো থাকবেন

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৪৭৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
লেখালেখির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত©লেখক

যোগাযোগঃ shunno.oronno@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই