somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাগচিহ্ন টিউটোরিয়াল ২: ছাগপালনের সুবিধা অসুবিধা!

০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পোস্টে আপনাদের সাথে একজন ছাগুকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি যিনি একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশিষ্ট রাজাকার ফজলুল কাদের চৌধুরির চরিত্রকে ধুয়ে মুছে সাফ করার চেষ্টা করেছিলেন। অতীতে তার মাঝে আরো ছোটখাট ছাগবৈশিষ্ট্য দেখা গিয়েছে। অধুনা তিনি একাত্তরে যুদ্ধশিশু নিয়ে অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ মতামত রাখেন। সেখানে তিনি দাবি করেন বীরাঙ্গনাদের সন্তান, যাঁরা পাকি-হানাদার, রাজাকারদের নির্যাতন, ধর্ষণের কারণে জন্মেছেন, তাঁরা নষ্টবীজ, খারাপ, হারামি ইত্যাদি।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট এমন ছাগু (খেয়াল করুন, ছাগুর বিশিষ্টার্থে প্রয়োগ। ছাগল ও ছাগু আলাদা প্রাণী বুঝায়)-এর কাজকর্ম অতিশয় নিন্দনীয়। বিরক্তি উদ্রেককারী। হীন। নোংরামিতে পূর্ণ।

যাক। আজকে তিনি সেই নোংরা পোস্টটি ড্রাফট করার কারণ বেশ দম্ভভরে বর্ণনা করছেন। শিরোনামে "কৈফিয়ৎ" লেখা থাকলেও পোস্টের ভেতরে যুদ্ধশিশুদের অবমাননাকারী একবারও ক্ষমা চাননি। বরং ইসলামের দোহাই তুলেছেন কোন তথ্যসূত্র ছাড়াই। আমরা জানি যুগে যুগে, একাত্তরের পর থেকেই হীন ছাগুর দল নিজেকে বাঁচাতে ইসলামের আশ্রয় নেয়। আমরা ছাগুর প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ধর্মভীরু জাতি বলেই বারবার সেই ফাঁদে পা দেই। যুদ্ধশিশুদের প্রতি অবমাননাকারী, বীরাঙ্গনাদের অসম্মানকারী কোন ধর্মের আড়াল নিয়েও রক্ষা পাওয়া উচিত নয়।


এবারে আসি টিউটোরিয়াল নিয়ে। আজকে ভাবছিলাম কী লেখা যায়। মনে হলো ছাগপালনের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে লিখি। জনহিতকর প্রকল্প হাতে নিই। :-B



প্রথমেই অসুবিধাঃ
(যাতে আপনারা ছাগপালনে উৎসাহী না হয়ে উঠেন)
১। ছাগু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গোঁয়ার। গোয়ার্তুমি (Stubborn, গোআ+তুমি নহে) করার কারণে আপনার দেয়া কোনো লজিক, রেফারেন্স সে মানে না। উইকি থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের দলিলও তার কাছে নস্যি!

২। ছাগু সর্বভূক। অন্যান্য বিষয়ে কিমাশ্চর্যম নির্বুদ্ধিতার ভান করলেও খাওনের বেলায় কোন বাছবিচার নাই। তখন সে আপনার ঘর-বাড়ি-দেশপ্রেম-স্বকীয়তা-কথা বলার স্বাধীনতা সবকিছু খেয়ে ফেলবে। এই সকল খাওয়া দাওয়া করার হাতিয়ার করবে ইসলাম ধর্মকে। ধর্মকে পূঁজি করে, ধর্মের সত্যকে টুইস্ট করে নানাবিধ ফতোয়া বানিয়ে আপনাকে ঠকাবে। কর্পোরেট যেমন আমাদের আবেগ নিয়ে খেলে, ছাগু তেমনি আমাদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে খেলে।

৩। ছাগু বর্ণচোরা। তার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন, কী মায়াময় নিরীহ দৃষ্টি! মূলত এই কারণেই আমরা সহানুভূতিশীল হয়ে উঠি। আফটার-অল, পশুপ্রেম মহৎ! তবে এই চাহনি বেশিদিন মায়াময় থাকে না। ভুল করে হলেও আপনি একটা পর্যায়ে ছাগুর সাথে মিশে মিশে নিজের গায়েও তার বোঁটকা গন্ধটি ধারণ করবেন। আপনার কাছে মনে হবে, একাত্তরে অনেক রাজাকার অনেক ভালো কাজ করেছে। মনে হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এখন কী লাভ? মনে হবে শিবিরের সকলেই ভালো মানুষ। মনে হবে গোআ একজন ভাষাসৈনিক, মইত্যা মহান!

এই যে আপনার বদল ঘটে যাবে, আপনি একজন মানুষ থেকে ছাগুবান্ধবে পরিণত হবেন এটা প্রকৃতির ভারসাম্যের প্রতি ঝুঁকি। আপনারা জানেন, বিশ্ব এখন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নিয়ে কতোটা উদ্বিগ্ন! আসুন, আমরা ছাগুমিশামিশি থামাই।


এবারে আসি ছাগপালনের সুবিধাঃ

১। এইটাও জীববৈচিত্র্যের ক্যারিসমা! আসলে সমাজে ভালোর পাশে খারাপ, মানুষের পাশে ছাগু থাকবেই। নিজেরা মানুষ থেকে অপর ছাগুদের দেখে শেখা যায় যে অমনটি হতে নেই! অন্ধকার না থাকলে যেমন আলোর গুরুত্ব বোঝা কঠিন, তেমনি ছাগু আমাদের সামনে "স্যাম্পল-নট-টু-বিকাম" হয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

২। যতোই মুখে অস্বীকার করি, ছাগু না থাকিলে ব্লগিংয়ের মজা কম। সরস কাব্য-গদ্য-প্রবন্ধ আর কাঁহাতক ভালো লাগে। যতোদিন যুদ্ধাপরাধের বিচার না হচ্ছে, ছাগুশিবির-জামাত এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ না হচ্ছে ততোদিন ছাগুরা ম্যাৎকার দিবেই। আশা করি, ততোদিন আমরা এভাবে বিনোদিত হইবো।

৩। ছাগু আমাদের একাত্তরের জামাতের মন-মানসিকতা বুঝতে সাহায্য করে। বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে জন্মেছে। তারা যেন ঠিকমত জানতে পারে, একাত্তরে জামাত কেমন ছিলো, জামাত কীভাবে মুক্তিবাহিনীর দামাল ছেলেগুলোকে পাকিদের হাতে তুলে দিতো হাসিমুখে, ধর্ষণ করতো নিরীহ নারীদের, লুঠ আর অগ্নিসংযোগ করতো গ্রামের পর গ্রাম সেগুলোর জ্বলন্ত নিদর্শন ছাগু। ছাগুরা মাঝে মাঝে এইসব কুৎসিত কাজকে ধুয়ে পরিষ্কার করতে যায়, সাফাই গাইতে যায়। তখনই সেটার মাঝে নারকীয়, অমানবিকতাটি ফুটে ওঠে।

এর বেশি ভালো দিক খুঁজে পেলাম না। (ছাগুদের মতো হইলে অবশ্য আরো কয়েকটা পাইতাম নির্ঘাত!!;))

====

সকলকে ধন্যবাদ!


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১০ রাত ৩:৫২
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×