somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিথুয়ানিয়ার লোককথা-৩

১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
লিথুয়ানিয়ার লোককথা-৩
গুঁইসাপ আর কোকিলের গল্প

রূপান্তর: অদ্বিতীয়া সিমু

অনেক অনেক আগের কথা। তখন এখানে বাস করত এক লোভী মহিলা। তার ছিল সুন্দর এক মেয়ে। যে দেখত সেই এই মেয়েকে আরেক নজর দেখার জন্য পাগল হয়ে থাকত। মহিলারও মেয়ের রূপ নিয়ে গর্বের শেষ নেই। মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। যার তার সংগেতো এমন রূপসী মেয়ের বিয়ে দেয়া যায় না! কি করা? আয়োজন করা হলো এক বরসভার। বানানো হলো এক জোড়া জুতো। জুতো কি জন্য? যে বলতে পারবে এ জুতো জোড়া কি দিয়ে তৈরী তার সাথেই বিয়ে হবে মেয়ের।

সবাই তৈরী। এলো জুতো জোড়া। সবার চোখ ঘুরছে জুতোজোড়ার উপর। কি দিয়ে তৈরী? কিসের চামড়া দিয়ে তৈরী? কেউ পারছে না। কি ঘটবে! তবে কি রূপসী মেয়ের যোগ্য কেউ নেই! হঠাৎ মেঝের ফাঁক গলে উঠে এল কার যেন মাথা। কার? -গুঁইসাপ!

-এ জুতো জোড়া রক্তখেঁকো মক্ষিকার চামড়ায় তৈরী.......

হায়! হায়! ঘটল কি। শেষপর্যন্ত এক গুঁইসাপ দিল উত্তর! কি আর করা। এই গুঁইসাপের সংগেই মেয়ের বিয়ে দিতে হলো। মা কাঁদলো ফলাফল দেখে, বাবা কাঁদলো মায়ের লোভের ফল দেখে। বাবাতো মনেমনে পণ করে রাখলো যে করেই হোক মারবে গুঁইসাপকে। মেয়েকে বলেও দিল সে কথা। যাই হোক চোখের জলে বিদায় নিল মেয়ে স্বামীর ঘরের উদ্দেশ্যে। গুঁইসাপ বউকে নিয়ে উঠলো সাগরের ধারে তার প্রাসাদে। এরপর?

এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। তিন তিনটে বাচ্চায় ভরে উঠেছে গুঁইসাপের প্রাসাদ। সুখের সংসার ওদের। হঠাৎ করেই মেয়ের মনে পড়লো মা-বাবাকে। কতদিন দেখা নেই তাদের সাথে! বিয়ের পর সেই যে গুঁইসাপের হাত ধরে আসা, তারপর আর যোগাযোগ নেই।

-হ্যাঁগো, কদিন মার বাড়ি বেড়িয়ে আসবখন। কতদিন বাবা-মাকে দেখি না.......

গুঁইসাপ এ কথা শুনে গম্ভীড় হয়ে গেল। বিয়ের সময় শ্বশুড়ের আচরনই বলে দিয়েছে অনেককিছু। কিন্তু তারাতো বউয়ের বাবা-মা। তাই বলে তাকেতো দেখা করার অধিকার থেকে সে বঞ্চিত করতে পারে না।

-তুমি তোমার বাবা-মার কাছে যাও তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তুমি অনেকদিন প্রাসাদের বাইরে যাওনি...। তাছাড়া জুতো পড়ার অভ্যাসও তুমি ভুলে গেছ...

-তুমি চিন্তা করো না... আমি শিখে নেবো...

তারপর মা-বাবার সংগে দেখা করার জন্য মেয়ে আবার জুতো পড়ার অভ্যাস করলো। এখন মেয়ে লোহার জুতো পড়তে পারে। এবার গুঁইসাপের অনুমতি মিললো। তিন ছেলেমেয়েসহ যাত্রা করলো মা-বাবার উদ্দেশ্যে। যতদিন না আসবে গুঁইসাপ প্রাসাদ ছেড়ে সাগরে লুকিয়ে থাকবে। গুঁইসাপ বলে দিল ফিরে আসার পর কি করে আবার তাদের দেখা হবে।

-যখন তুমি ফিরে আসবে, তখন পাড়ে এস বলবে, “গুঁইসাপ, তুমি যদি বেঁচে থাক সাগরে দুধের ঘূর্ণি ওঠাও। আর যদি বেঁচে না থাক, তবে রক্তের ঘূর্ণি ওঠাও।” আমি তোমার এই আওয়াজ শুনামাত্রই ছুটে আসব তোমার কাছে...

তিন ছেলেমেয়েসহ মা-বাবার বাড়ি পৌঁছল মেয়ে। খুশীতে ভরে উঠলো ঘর। তিন নাতি-নাতনী পেয়ে বড় খুশী মা-বাবা। কিন্তু কোথায় যেন অখুশীর ছাপ! দিন কাটছে আনন্দেই। মেয়ে এবার চাচ্ছে মা-বাবা তাকে বিদায় দিক। কিন্তু তারা বিদায়ের নাম মুখেই আনছে না! বাহানা করে ধরে রাখছে মেয়েকে। মেয়ে অস্থির হযে উঠেছে। মা-বাবাও চুপেচুপে ফিকির করছে। লোক লাগিয়েছে। খবর এল গুঁইসাপ প্রাসাদে নেই। তবে কোথায়? কে জানে! চুপেচুপে বড় নাতিকে শুধালো নানা-নানী। কিছুই বললো না নাতি। মেঝ নাতনীও কিছু বললো না। ছোটটা খুব পটপটি। নানা-নানী ছোটকেই শুধালো এবার। ছোটটি টের পেল না বিপদের কথা। বলে দিল বাবা-মায়ের গোপন কথা। আর যায় কোথায়! মেয়েকে বললো কদিনপর যেতে। এদিকে ঘটালো ভয়ংকর ঘটনা!

মেয়ে তখন স্বামীরঘরে যাবার শেষপ্রস্তুতি নিচ্ছে। মা-বাবা চুপিচুপি পৌঁছলো সাগরপাড়ে। মা মেয়ের গলা নকল করে বললো, “গুঁইসাপ, তুমি যদি বেঁচে থাক সাগরে দুধের ঘূর্ণি ওঠাও। আর যদি বেঁচে না থাক, তবে রক্তের ঘূর্ণি ওঠাও।”
গুঁইসাপতো মহাখুশী। ফিরে এসেছে বউ, ফিরে এসেছে কলিজার ধন ছেলেমেয়ে। দুধের ঘূর্ণি উঠিয়ে মাথা তুললো সাগরপাড়ে। আর যাবে কোথায়! সংগেসংগে বাবা ছুড়লো গুলি। রক্তের ঝড় উঠে হারিয়ে গেল গুঁইসাপ। আবার চুপিচুপিই ঘরে ফিরে গেল মা-বাবা।

এবার বিদাযের পালা মেয়ের। চোখের জলে তিন সন্তানসহ স্বামীরঘরে যাত্রা করলো ময়ে। জানে না কি অনর্থ ঘটে গেছে! পৌঁছল সাগরপাড়ে।

- গুঁইসাপ, তুমি যদি বেঁচে থাক সাগরে দুধের ঘূর্ণি ওঠাও। আর যদি বেঁচে না থাক, তবে রক্তের ঘূর্ণি ওঠাও.....

রক্তের ঘূর্ণি উঠে এল! একি! পাগলের মত বারবার চিৎকার করতে লাগলো মেয়ে। বারবারই রক্তের ঘূর্ণি উঠছে! মনে পড়লো বাবার পণের কথা। বড় ছেলেকে শুধাল মেয়ে, “তুই বলেছিস?” ; “না, মা।” ; মেঝ মেয়েকে শুধাল; “না, মা।”। ছোট মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে অপরাধীর মত। মেয়ে বুঝল কি ঘটেছে। ক্ষোভে দুঃখে পাগলপ্রায় মেয়ে এবার চিৎকার করে উঠলো...



-আজ থেকে বড় হবে ওক গাছ, তোমাকে সবাই শ্রদ্ধা দিবে। মেঝ হবে হলুদ ফুলওয়ালা লাইম গাছ, তোমার ফুল আর শাখাতে সাজবে বালিকারা। আর তুমি... আমার ছোট্ট বাঁচাল শিশু, তুমি হবে বাঁধা সৃষ্টিকারী পাথর, ভেঙে ফেলবে দুইচাকার ঘোড়াগাড়ির শলাকাও...

দুঃখে কাঁদছে মেয়ে।

-আর আমি ... আমি হব কোকিল। যে ডেকে ডেকে খূঁজে ফিরবে তার গুঁইসাপকে.......

বলতে বলতেই কুহু কুহু রবে উড়ে গেল কালো কোকিল, পড়ে রইলো ওক গাছ, লাইম গাছ, আর পাথর। আজো কোকিল করুণ স্বরে ডেকে ফেরে তার গুঁইসাপকে, ..... কুহু ..... কুহু .....

[অনুবাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন....]
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৪৩
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×