গালি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামে শিক্ষিকাকে অশালীন ভাষায় গালি দেয়ার প্রতিবাদে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আরিফ আহমেদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা মহিলা পরিষদ, কেনা, এসভাও, জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, শিক্ষকসহ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ শুক্রবার বিকেল ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা চৌধুরী, শিক্ষক নেতা খন্দকার খায়রুল আনম, নারী নেত্রী লাইলী বেগম, সাইদা ইয়াসমীন, সাংস্কৃতিককর্মী মিজান খন্দকার প্রমূখ। বক্তরা বলেন, আগামী ৩দিনের মধ্যে ঐ শিক্ষা কর্মকর্তাকে অপসারণ করা না হলে লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে মানববন্ধনে আসা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জেলা শিক্ষা অফিসার এম খলিলুর রহমান মোবাইলে তাদের আন্দোলনে অংশ না নেয়ার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একারণে প্রাথমিক শিক্ষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে সভা চলাকালীন দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ মনগড়াভাবে স্কুলে `স্কাট' (শাড়ী ও সেলোয়ার কামিজের পরিবর্তে) পরে আসার নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদ করলে আত্মারাম বিশ্বেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা আরজুমান হককে উদ্দেশ্য করে শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন `তুমি একটা বেয়াদপ। বেশ্যাকে বেশ্যা বললে আকাশ পানে চায়, ভদ্রকে বেশ্যা বললে মাটির দিকে চায়'-এ সময় সমস্ত শিক্ষিক ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং সভাস্থল থেকে চলে আসেন।
অপরদিকে অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে ওই প্রধান শিক্ষিকা সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
অবস্থা বেগতিক দেখে সভায় উপস্থিত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম খলিলুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে নিজের গাড়িতে করে ঐ শিক্ষিকাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পৌছে দেন। বর্তমানে তিনি কার্ডিলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিকাল ৫টায় চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষিকা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, `তিনি ৪ বার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯ বছরের চাকুরী জীবনে তিনি এ রকম অশালীন বক্তব্য শোনেননি'। তিনি আরো জানান, তার স্কুলের ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, একজন হজ্বে যাবেন, একজন ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এরপরও আরো একজনকে পিটিআই ট্রেনিংয়ের জন্য ডেপুটেশন দিয়েছেন। শিক্ষক সল্পতার কথা বুধবার সকালে অফিসে গিয়ে শিক্ষা অফিসার আরিফ আহমেদকে জানালে তিনি অকথ্য ভায়ায় গালিগালাজ করেন এবং সরকারী কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ এনে ওই দিনই তাকে শোকজ করা হয়। এতেও তার রাগ না কমায় বৃহস্পতিবারের সভায় তাকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন।
শিক্ষকরা জানান, উপজেলা শিক্ষকা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত ফেনসিডিল সেবন করেন এবং ফেনসিডিল সেবী একদল তরুণের সাথে সব সময় তার ওঠা বসা। দালাল চক্রের মাধ্যমে বদলী ও পোষ্টিংয়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ শিক্ষিকা সুলতানা আরজুমান হককে গালি দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, `বেয়াদপি করার কারণে তাকে গালি দিয়েছি। আপনারা কত লিখতে পারেন লেখেন'।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম খলিলুর রহমান শিক্ষিকাকে গালি দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন `আমি নিজেই তাকে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছি'। শুক্রবার মানববন্ধনে শিক্ষাকর্মকর্তার পক্ষ থেকে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধাদানের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মকর্তাকে শোকজ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবো।
বি:দ্র: গতকালের রিপোর্টটিতে `স্কার্ফ' লিখেছিলাম। আসলে ওই কথাটি ছিল `স্কাট'।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০০৯ রাত ১২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


