somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ফল পরিচিতি - কিউই ফ্রুট

কিউই একটি সুস্বাদু ফল। এর বহিরাবরণ আঁশযুক্ত ও বাদামী-সবুজ রংয়ের। অভ্যন্তরভাগে সবুজ মাংস ও কালো বিচি আছে। অত্যন্ত সুমিষ্ট ও পুষ্টিগুণে ভরা এই ফল। এর আঁশ কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে সহয়তা করে। যদিও এলার্জি প্রবণ কেউ কেউ এই ফল খেয়ে এলার্জিতে ভুগতে পারেন।



নিউজিল্যান্ডের কিউই পাখি থেকে এই ফলের নামকরণ করা হয়। কিউই পাখির বহিরাবরণের সাথে এই ফলের চামড়ার কিছুটা মিল আছে। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এই ফল বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল; যেমন - ওয়ান্ডার ফ্রুট, হেয়ারি ব্রাশ ফ্রুট, ভাইন পের, সানি পিচ, উড পের ইত্যাদি। নিউজিল্যান্ড ছাড়াও এটি ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়। এর আদি নিবাস চীন দেশে। চীন থেকে খ্রীষ্টান মিশনারিদের মাধ্যমে এটি নিউজিল্যান্ডে আসে। ১৯৫০ এর দশকে অকল্যান্ডের একটি প্যাকেজিং কোম্পানি মেলন জাতীয় ফলের উচ্চ শুল্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যে, একে কিউই নাম দিয়ে রপ্তানী করে। সেই থেকে এটি কিউই নামে পরিচিত হয়ে আসছে।

কিউই ফ্রুট দিয়ে তৈরি জুস, ফ্রুট সালাদ অত্যন্ত উপাদেয় ও স্বাস্থ্যকর। বিভিন্ন প্রকার কেক, মাফিন, পেস্ট্রি, জ্যাম, স্যান্ডউইচ, সস, দই ইত্যাদি তৈরীতে কিউই ফ্রুট ব্যবহার করা হয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29255096 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29255096 2010-10-14 20:35:09
সমর্থকদের আহাজারি তাহার চাইতে কষ্টদায়ক মানুষের টিটকারী
যতই চাই ভূলতে হারার তিক্ত অভিজ্ঞতা
দুর্মুখেরা ততই মারে নুন মরিচের ছিটা
কারো আবার দিলের মধ্যে লাগছে এমন চোট
খেলার বদলে দেখে খালি সিনেমা আর নাটক
কেউবা আবার ডরের চোটে লুকায় খাটের নিচে
বেফাঁস কথা কইয়া তারা মহাফাপরে আছে
মুসিবতে পড়ছে মোদের আমানুল্লা খান
বলেছিলেন হাইরা গেলে বদলাইয়া ফেলবেন নাম
ধোপদুরস্ত পাঙ্কু আরিফ তিনিও হারছেন বাজি
আদনানরে খাওয়াইতে হইবো দুই ফুলপ্লেট হাজী
জাকির ভাই-ই একমাত্র বাঁচছেন চামে চামে
যদিও কিছু খর্চা হইছে সিগারেট আর পানে
পাশের বাড়ির ভাবী আর বাড়ীওয়ালার গিন্নী
তাদের আর দিতে হইবো না মসজিদে গিয়া শিন্নি
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এমনই এক বরাত
ইহজনমেও মনে হয়না জিতবো বিশ্বকাপ
সমস্বরে দলের কাছে দাবী শুধু একটাই
মরার আগে একবার হইলেও কাপ জিতবার চাই

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29194630 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29194630 2010-07-07 21:08:43
ব্রাজিলকে নিয়ে দু'ছত্র (রিপোস্ট) বিশ্বকাপ নয়কো তোদের বাপ দাদাদের ধন
পাঁচ পাঁচবার জিতে ভাবিস আমি কি হনু রে
ন্যাড়া কয়বার বেলতলা যায় হিসাব করে নে
ফাঁকা মাঠে গোল দিবার জুড়ি তোদের নাই
কঠিন গ্রুপে পড়লে খাইতি আচ্ছারকম ধোলাই
ডাচ, জার্মান, আর্জেন্টাইন নয় সহজ প্রতিপক্ষ
ধূলোর সাথে মিশিয়ে দিবে তোদের আধিপত্য
ভাগ্যদেবীও এইবার আর তোদের সাথে নাই
কসের ধানে কসের চাল হয় মনে রাখা চাই
যতোই বগল বাজাস আর যতোই মহান ভাবিস
খেলেই তোদের জিততে হবে - এইটা মনে রাখিস]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29190630 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29190630 2010-07-02 22:14:14
ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা দলে তাদের নেই যদিও সেরা খেলোয়াড় বালাক
অন্য যারা আছে তারা করবে বাজিমাত
কায়দা করে মেরে দিবে আর্জেন্টিনার ভাত
তারা তো আর জানে না যে চালাকির পরিণাম
দড়ির আগায় ঝুলবে যখন ছুটবে কালোঘাম
ঈশ্বর এই খেলা নিয়া ভীষণ ব্যতিব্যস্ত
নব্বই সালের বাদলা নিতে এবার সিদ্ধহস্ত
৯০ থেকে ২০১০ ফারাক বিশটা বছর
সেই ঘটনা আজও দেয় কইল্জাটারে মোচড়
সেবার ছিলেন খেলোয়াড় আর এবার প্রশিক্ষক
বাটপারদের দেইখ্যা লইবেন যেমন করেই হোক

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29189619 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29189619 2010-07-01 17:54:08
ব্রাজিলকে নিয়ে লেখা দু'ছত্র বিশ্বকাপ নয়কো তোদের বাপ দাদাদের ধন
পাঁচ পাঁচবার জিতে ভাবিস আমি কি হনু রে
ন্যাড়া কয়বার বেলতলা যায় হিসাব করে নে
ফাঁকা মাঠে গোল দিবার জুড়ি তোদের নাই
কঠিন গ্রুপে পড়লে খাইতি আচ্ছারকম ধোলাই
ডাচ, জার্মান, আর্জেন্টাইন নয় সহজ প্রতিপক্ষ
ধূলোর সাথে মিশিয়ে দিবে তোদের আধিপত্য
ভাগ্যদেবীও এইবার আর তোদের সাথে নাই
কসের ধানে কসের চাল হয় মনে রাখা চাই
যতোই বগল বাজাস আর যতোই মহান ভাবিস
খেলেই তোদের জিততে হবে - এইটা মনে রাখিস
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29189018 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29189018 2010-06-30 23:23:20
রিয়েল লাইফ জোক্স - টেকনোলোজি (দুই) ফজলু - মামুন শোনো, তোমার তো স্ক্যানার আছে। আমার এই চিঠিটা একটু স্ক্যান করে দাওতো।
মামুন - ঠিক আছে, দিচ্ছি।

কিছূক্ষণ পর

মামুন - নেন ফজলু ভাই, আপনার চিঠি স্ক্যান হয়ে গেছে। দেখেন ঠিক আছে কিনা।
ফজলু - এটা কি স্ক্যান করলা তুমি, চিঠির লেখার সাথে তো স্ক্যানের কোন মিলই নাই দেখছি। (একটু ভালভাবে পরখ করে) আরে ? তুমি তো দেখি আমার আসল চিঠিটাই বরবাদ করে দিলে।
মামুন - মানে ?
ফজলু - চিঠিতে তারিখ ছিল প্রথম লাইনে, এখন দেখি সেটা তিন নম্বর লাইনে নেমে গেছে। আর বানানওতো দেখছি উল্টা পাল্টা।
মামুন - আপনি আমাকে যে চিঠি দিয়েছেন, আমি তো সেটাই স্ক্যান করেছি। এর বেশী তো কিছু করি নাই। ভূল যদি থাকে তাহলে আপনার চিঠিতেই ছিল।
ফজলু - ভূল আমি করিনি। আমার চিঠি ঠিকই ছিল। মাঝখানে স্ক্যান করে তুমি চিঠিটা নষ্ট করে দিলে।
মামুন - আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন ফজলু ভাই, স্ক্যানার কোনভাবেই কাগজের লেখাকে পরিবর্তন করতে পারে না। এখানে কালির কোন কারবার নাই। এটা অনেকটা ক্যামেরার মত কাজ করে। এটা যদি কাগজের লেখাকেও পরিবর্তন করতে পারতো, তাহলে একটা নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়ে যেত।
ফজলু - আমাকে শিখাতে এসো না। তুমি ছোটভাই, আমার চেয়ে তুমি বেশী জানো না। ভূল করে থাকলে বল, কিছু হবেনা। কিন্তু আমার কাছে মিথ্যা বলোনা।
মামুন - (মনে মনে) তুমি আমার ...... .......। আবাল কোথাকার। আর জীবনেও এইসব গন্ডমূর্খদের কোন উপকার করবো না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29133579 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29133579 2010-04-12 18:27:23
রিয়েল লাইফ জোক্স - টেকনোলোজি (এক)
মামুনের রুমমেট আনোয়ারও কম্পিউটারের সামনে বসে আছে। তবে সে এসাইনমেন্ট করছে না। অনলাইন বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং করছে সে। চ্যাটিং বেশ জমে উঠেছে। এটা তার রুটিন জব। টেকনোলোজিতে খুবই পারদর্শী সে। ফ্লাটমেটদের কম্পিউটারের যেকোন সমস্যা হলে তার ডাক পড়ে। ফ্লাটের সবাই জানে, কম্পিউটার আর ইংরেজি - এই দুইক্ষেত্রে আনোয়ারের দক্ষতা প্রশ্নাতীত।

ওদিকে মামুন এসাইনমেন্ট শেষ করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একনাগাড়ে অনেকক্ষণ খেটে বেশ ক্লান্ত সে। এবার একটু জিরিয়ে নেয়া যাক। ইউটিউব সাইটে গিয়ে একটা ভিডিও দেখছে সে। হঠাৎ আনোয়ার চেঁচামেচি শুরু করলো।

আনোয়ার - এটা কি করলেন মামুন ভাই, আমার নেট কানেকশন কেটে দিলেন কেন ?
মামুন - আমি আবার কখন আপনার নেট কানেকশন কাটলাম। আমি তো এসাইনমেন্ট করছি।
আনোয়ার - কোথায় এসাইনমেন্ট ? আপনি তো ইউটিউব দেখছেন।
মামুন - হ্যা, অনেকক্ষণ কাজ করে একটু টায়ার্ড আমি। তাই রিফ্রেশমেন্টের জন্য ইউটিউবের ভিডিও দেখছি। কিন্তু এর সাথে আপনার নেট কানেকশন কাটার সম্পর্ক কি ?
আনোয়ার - আরে ইউটিউব দেখতে গিয়েই তো সর্বনাশ করে ফেলেছেন। জানেন ইউটিউব কত ব্যান্ডউইথ খায় ? এই ব্যান্ডউইথের চাপে পড়েই তো আমার নেট কানেকশন কেটে গিয়েছে। ইশ, কি দারুন চ্যাটিং হচ্ছিল।
মামুন - এমন অদ্ভুত কথা তো জীবনে শুনিনি ! ব্যান্ডউইথে চাপ বাড়লে নেট কানেকশন স্লো হয়ে যাবার কথা। কিন্তু ডিসকানেক্ট হবে কেন ? আর হলে তো সবারই ডিসকানেক্ট হবার কথা, যেহেতু একটা লাইন থেকেই সবাই কানেকশন নিয়েছে। দেখুন আমার পিসিতে ইন্টারনেট ঠিকমতোই চলছে। হয়তো আপনার কেবল আলগা হয়ে গেছে, অথবা আপনার পিসিতে ভাইরাসজনিত সমস্যা আছে।
আনোয়ার - ভাইরাস না কচু ! সবকিছু নষ্টের গোড়া আপনি। জানেন না বোঝেন না। শুধু কি নিজেরটা দেখলে হয় ? আরেকজনের সুবিধা অসুবিধার কথা একটু ভাবেন না কেন ? আপনার বোকামীর মাশুল দিতে হচ্ছে এখন আমাকে।
মামুন - ( ঠাট্টাচ্ছলে ) জোক করতেসেন নাকি আনোয়ার ভাই ? মাঝেমধ্যে জোক করা ভাল। দেখলেন তো আমার ম্যাজিক। মন্ত্র পড়ে আপনার নেট কানেকশন কেটে দিলাম। এখন আমাকে কি খাওয়াবেন বলেন। নইলে কিন্তু কানেকশন ফেরত পাবেন না।
আনোয়ার - ( কাঁদোকাঁদো স্বরে ) রাখেন আপনার জোক। আপনারা গন্ডমূর্খের দল। কম্পিউটার বোঝেন না, ইংরেজি জানেন না। আমি NIIT থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার। টেকনিকাল ব্যাপারগুলো আমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। আপনার নেট কানেকশন কেটে যাবার পেছনে আপনার ইউটিউব ভিডিও দেখাই দায়ী।

কথা বলতে বলতে হঠাৎ আনোয়ার লক্ষ্য করে তার পিসি রিস্টার্স্ট হওয়া শুরু করেছে। একবার, দুইবার, তারপর লাগাতার। পিসি বন্ধ হয়, আবার চালু হয়, তারপর আবার বন্ধ হয়, আবার চালু। আর থামছে না। আনোয়ার এটা ওটা গুতাগুতি করে কিছুতেই তার পিসিকে সচল করতে পারে না।

মামুন - সুইচ অফ করে প্লাগ থেকে তার খুলে ফেলুন। বলেছিলাম না ভাইরাসের কথা ! আপনে NIIT এর ...... ফালানো ইঞ্জিনিয়ার। আপনার মধ্যে যেটা নাই সেটা হলো কমনসেন্স।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29131966 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29131966 2010-04-09 22:51:20
দেশ পরিচিতি - যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাজ্যে ১৭৮৩ সালে প্যারিস চুক্তির পর য্ক্তুরাষ্টের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়। সকল উপনিভেম ১৭৮৮ সালে একটি ফেডারেল সংবিধান গ্রহণ করে এবং ১৭৮৯ সালে সংবিধানটি কর্যকর হয়। জর্জ ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের পথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে ৩৭ টি নতুন রাজ্য মূল ১৩ টি রাজ্যের সাথে যুক্ত হয়। ফলে দেশটি সারা উত্তর আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে স¤প্রসারিত হয়। সেই সাথে দেশটি সমুদ্রের অপর পাড়ে বেশকিছু স্থানের দখল লাভ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুটি সবচেয়ে পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা হলো গৃহযুদ্ধ (১৮৬১ - ৬৫) এবং ১৯৩০ দশকের ব্যাপক মন্দা।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৯১ সালে ঠান্ডা লড়াই শেষের বিজয়ে উজ্জীবিত যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হয়ে আছে। এদেশের অর্থনীতিেিত বর্তমানে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি, কম বেকারত্ব, ও মুদ্রাস্ফীতি এবং প্রয্ুিক্ততে দ্রুত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

য্ক্তুরাষ্ট্রের সংবিধান অনুমোদনের সংগ্রামকালে পরবর্তীতে যেসব দল আবির্ভূত হবে সেগুলোর ব্যাপারে রাজনৈতিক দল পদ্ধতির রূপরেখা প্রণীত হয়। ১৭৯৭ সালে পেডারেলবাদীরা ক্ষমতায় আসে এবং জন এ্যাডাম্স প্রেসিডেন্ট হন। একটি অধিকতর দুর্বল ফেডারেল সরকারের সমর্থকরা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান পার্টিতে (ডিআরপি) যোগদান করে। এই পার্টি ১৮০০ সালে ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণ গওহণ করে এবং থমাস জেফারসন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্র ক্রমান্বয়ে এলাকা স¤প্রসারন করে এবং ১৮০৩ সালে ফ্রান্সের লুসিয়ানা উপনিবেশ কিনে নেয়। ১৮১২ সাল আমেরিকান বৃটিশ যুদ্ধের পর ১৮১৬ সালে জেমস মনরো প্রেসিডেন্ট বিনর্বাচিত হন। তার আমলে যুক্তরাষ্ট্র ১৮১৯ সালে স্পেনের কাছ থেকে ফেÍারিডা কিবনে নেয়। ১৮২৪ সালে নির্বাচনের পর এ্যান্ড্রিট জ্যাকসন ডেমোক্রেটিক ডিআরপি’র দলছুট নতুন সংগঠন হুইগ পার্টি ১৮৪০ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে। উইলিয়াম হেনরি হ্যারি সন প্রেসিডেন্ট হন, কিন্তু তিনি তার অভিসেকের পরপরই মারা যান। তার স্থলভিষিক্ত হন জন টাইলার। ১৮৪৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি জয়লাভ করে এবং জেমস ক্স পক প্রেসিডেন্ট হন। ১৮৪৫ সালে স্বাধীন টেক্সাস রাষ্ট্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং ১৮৪৮ সালে প্যাসিফিক কোস্টকে কুক্ষিগত করা হয়।

১৮৫০ এর দশকের মাঝামাঝি দেশের প্রথম প্রধান বিভাগীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র রিপাবলিকান পার্টির আবির্ভাব ঘটে। ফলে রাজনীতি এমন এক মঞ্চে পরিণত হয় যেখানে দাস প্রথার স¤প্রসারণ নিয়ে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটে। দলটি মুক্তশ্রম শিল্প পুঁজিবাদ এবং দাসপ্রথা বিরোধী নীতি গ্রহণ করে। ১৮৬১ সালে ১১ টি দিক্ষণাঞ্চলীয় রাজ্য আমেরিকা কনফেডারেট রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছন্ন্ হয়ে যায়। এ নিয়ে ব্যাপক গৃহযুদ্ধ চলতে থাকে এবং ১৮৬৫ সালে কনফেডারেট রাজ্যগুলো আবার একীভূত হয়।

১৮৬৪ সালে লিংকন পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর আততায়ীর গুলীতে নিহত হন। ফলে ডেমোক্রেট দলীয় ভাইস প্রেসিড্নেট এন্ড্রু জনসন প্রেসিডেন্ট হন।

১৯১২ সালে ডেমোক্রেট প্রার্থী উড্রো থমাস উইলসন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং জার্মানীকে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৮২৯ সালে শেয়ার বাজারে বিপর্যয় ঘটলে মহামন্দা শুরু হয় এবং ব্যাপক বেকারত্ব দেকা দেয়। ফ্রাংকলিন ডেলানো রুজভেল্টের আমলে এই সংকট মুকাবিলার ব্যবস্থা করা হয়। পার্ল হারভারে আক্রমণের পর ১৯৪১ সালে রুজভেল্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এবং তার নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র জার্মাানী ও জাপানকে পরাজিত করতে সিদ্ধান্তকারী ভূমিকা পালন করে।

১৯৬০ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে লিবারেল ডেমোক্রেট জন ফেটজেরাল্ড কেনেডী প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ১৯৬৩ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন এবং তার স্থলভিষিক্ত হন লিন্ডন বেইনস জনসন। রক্ষণশীল রিপাবলিকান রিচার্ড মিলহাউস নিক্সন ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট হন এবং ১৯৭৪ সালে অভিশংসন বা ইম্পিচমেন্টের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং রুডলফ ফোর্ড প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৭৬ সালে ডেমোক্রেটরা নির্বাচনে জয়ী হয় এবং জেমস আর্ল কার্টার প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৮১ সালে রক্ষণশীল রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড উইলসন রিগ্যান তার স্থলভিষিক্ত হন। তার দু’মেয়াদের পর প্রেসিডেন্ট হন জর্জ হারবার্ট ওয়াকার বুশ। বুশের পর ১৯৯৩ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলীয় উইলিয়াম জেফারসন ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হন। বর্তমানে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পুত্র।

২০০১ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর দুটি হাইজ্যাককৃত বানিজ্যিক বিমান নিউইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে এবং ভবনটি ধ্বংস হয়। তৃতীয় একটি বিমান পেন্টাগনের একাংশে ধ্বংস করে। চতুর্থ একটি বিমান পেনসিভনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার লোক নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা আল-কায়দা’র কাজ বলে আখ্যায়িত করে ৭ অক্টেবর বৃটেনকে সাথে নিয়ে আফগানিস্তানে হামলা চালায়। ফলে লক্ষ লক্ষ নিরীহ আফগান নিহত হয়। বহু লোককে বন্দী করে হত্যা করা হয়। এছাড়াও কয়েক হাজার বন্দীকে কিউবার গুয়ান্তামো বে’তে অবস্থিত মার্কিন ঘাটিতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নিপীড়ন করা হয়।

২০০৩ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তাথাকথিত কোয়ালিশন বাহিনী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে আগ্রাসন চালায়। ইরাকে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক পারমানবিক অস্ত্র আছে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে এ আগ্রাসন চালানো হয়। ফলে দেশটিতে প্রায় সোয়া লাখ নির্দোষ মানুষ নিহত হয়। ইরাকেও মার্কিন বাহিনী বন্দীদের ওপর পৈশাচিক নিপীড়ন চালায়। ফলে এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তার সামরিক প্রাধান্য, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুবাদে নিজেকে প্রকারান্তরে বিশ্ব নেতা হিসেবে দাবী করে থাকে। এব মেরুর বিশ্ব গড়ার ব্যাপারেও তাদের প্রণান্তকর প্রচষ্টো লক্ষ্যনীয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রচ্ছন্নভাবে সংকীর্ণ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে তাড়িত হয়ে যে ক্রুসেড চালাচ্ছে সেটাও অনেকটা স্পষ্ট। কেননা ইহুদীদের পক্ষ নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর ওপরই দেশটির বেশী খড়গহস্ত হতে দেখা যাচ্ছে। তবে কিচু পর্যবেক্ষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার সাম্রাজ্য বিস্তারের মানসিকতার এবং অপরের সম্পদ বা তেল লুট করার লক্ষ্যে এসব করছে। আর এটা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রে প্রসার ঘটানো, ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রতিশ্র“তিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29094905 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29094905 2010-02-10 21:38:13
টাইম - এর আদ্যোপান্ত
ওই সময় অনেক ম্যাগাজিনই আমেরিকায় ছিল। যেমন লিটারারি ডাইজেস্ট। কিন্তু এসবের আয়তন ছিল বড়, বাগাড়ম্বর ছিল বেশি। হ্যাডেন এবং লুস বিশ্বাস করতেন এই ধরনের কোনো মোটা ম্যাগাজিন পড়ার সময় নেই ব্যস্ত প্রফেশনাল মানুষদের। সুতরাং এমন একটা ম্যাগাজিন দরকার যেখানে সপ্তাহের সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিবরণ থাকবে। তবে তার ভাষা হতে হবে ঝরঝরে। প্রশ্ন হলো, ম্যাগাজিনের মতামতটা কি হবে ? হ্যাডেন ও লুস মনে করেন, কোন বিষয়ে কোন মত হবে, কোন ইসুটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক সেটা বিবেচনা করারও স,য় আমেরিকানদের নেই। সুতরাং সেটাও স্থির করে দেবেন সম্পাদকরাই। তারাই আমেরিকাকে দেবেন খবর এবং খবরের মানেটা যে কি সেটাও তারাই স্থির করে দেবেন।

হেনরি আর লুস এর জন্ম হয়েছিণ চায়নাতে। সেখানে তার পিতামাতা প্রেসবিট্যারিয়ান মিশনারি হযে কৃশ্চিয়ান ধর্ম প্রচারে গিয়েছিলেন। আমেরিকা তার কাছে ছিল সুদূর এক স্বদেশ দেখানে অনেক সুযোগ আছে, সুবিধা আছে, যেখানে সোনার হরিণ ধরা যায়।হেনরি আর লুস কে তার বন্ধুরা হ্যারি নামে ডাকতেন। আমেরিকা সম্পর্কে হ্যারির এ বিশ্বাস আমৃত্যু ছিল এবং তার প্রকাশনা সম্রাজ্য থেকে প্রকাশিত সব কিছুতেই এ বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়।

বৃটন হ্যাডেনকে তার বন্ধুরা বুট নামে ডাকতেন। বুট আর হ্যারি সহপাঠী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হচকিস স্কুুল এবং পরে ইয়েলে তারা তাদের নিজস্ব পত্রিকা ডেইলি নিউজ এর উঁচু পদে ছিলেন। যখন আমেরিকা প্রথম মহাযুদ্ধে যোগ দেয় তখন তারা এই ইউনিভার্সিটির দৈনিক পত্রিকাটিতে আমেরিকার জাতীয়তাবাদ প্রচার করতেন। তাদের এই সাফল্য ও সুনামের ফলে ইয়েলের সব প্রভাবশালী ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন যেটা পরে তাদের পত্রিকা প্রকাশনায় খুব সাহায্যে আসে। ইয়েল এখনো প্রভাবশালী। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ দুজনই ইয়েলের ছাত্র। বুট ও হ্যারি এই দুই বন্ধুর আইডিয়া এবং অ্যমবিশন ছিল বেশি, ডলার ছিল কম। ইয়েন কানেকশন তাদের কাজে আসে।

টাইমের প্রথম সংখ্যাটি বের হয় ৩ মার্চ ১০২৩ এ। এক বছর ধরে দুই বন্ধুপ্রস্তুতি নেন এবং এক লাখ ডলার তোলার চেষ্টা করেন। ডলার সংগ্রহে তারা আংশিকভাবে সফল হন। তাদের কর্মচারীদের মধ্যে ছিলেন পার্টটাইমাররা।

প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যায় ছিল ২৮ পৃষ্টা যার মধ্যে ছয় পৃষ্ঠা ছিল বিজ্ঞাপন। প্রথম সংখ্যায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ছিল রুড উপত্যকায় ফরাশি দখল, রাশিয়াতে দুর্ভিক্ষ এবং আমেরিকায় মদ নিষিদ্ধকরণের ভূলভ্রান্তিগুলো।

ডিসেম্বরের মধ্যেই পত্রিকাটি ব্যবসায়িকভাবে ভালো করতে থাকে। লুস মনে করেন, বিয়ে করে সংসারের খরচ মেটানোর সামর্থ তার হয়েছে। শিকাগোর এক সুন্দরী নারী লিলা রস হটজ কে তিনি বিয়ে করেন।

গোড়ার দিকে সব সম্পাদকীয় দায়িত্ব পড়ে হ্যাডেন এর ওপর। আর্থিক বিষয়ের চার্জে ছিলেন লুস।

বিশ্বখ্যাত টাইম স্টাইল সৃষ্টি করেন হ্যাডেন। তার যুক্তি ছিল, পাঠকের উৎসাহ ধরে রাখার জন্য ফ্যাক্ট দিলেই চলবে না, অলংকৃত ফ্যাক্ট দিতে হবে। তবে সেই অলংকার এমন বেশি যেন না হয় যাতে পাঠক মনে করে ফ্যাক্ট হিয়ে গিয়েছে ফিকশন। অর্থ্যাত, ফ্যাক্ট আর ফিকশন - সত্য এবং কাল্পনিক ঘটনার মাঝামাঝি একটি অবস্থান নিতে হবে।

হ্যাডেন স্থির করে দেন টাইমে যেসব ঘটনার রিপোর্ট হবে তার একটি শুরু থাকবে, মধ্র অংশ থাকবে এবং শেষ থাকবে। যেমন থাকে গল্পে। তিনি আরো চান, যখনই সম্ভব তখনই এর মধ্যে থাকবে কিছু সাসপেন্স। লক্ষনীয় যে, বাংলাদেশ সম্পর্কে টাইমের কভার স্টোরি শুরু হয়েছে নাটকীয়ভাবে এবং শেষটা হয়েছে নাটকীয় লাইনে।

টাইমের ভাষাও হয় ব্যতিত্রমী। যেমন, কোন ব্যক্তি বলেন না, বিড়বিড় কনে, তিনি ফিশফিশ করেন, তিনি কর্কশ চিৎকার করেন। আর কোন ব্যক্তি কথা লেখার সময়ে তার কিছু বর্ণণাও দিতে হবে। যেমন তিনি ছিলেন হালকা পাতলা গড়নের, মোটাসোটা, প্রখর বুদ্ধি সম্পন্ন, তর্কবগীশ। এ রকম কিছু বিশেষণ।

টাইম সেই ব্যক্তিটিকে পছন্দ করলে তার হাটা সম্পর্কে লেখা হবে, তিনি মার্চ করলের অথবা দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেলেন। টাইম তাকে অপছন্দ করলে লেখা হবে, তিনি খুড়িযে চললেন অথবা টলতে টলতে এগোলেন।

এসব স্টাইলে কথনকার বিদগ্ধ আমেরিকানরা ভ্র“ কুঁচকালেও টাইমের সার্কুলেশন বেড়ে যায়।

টাইমের এই ভাষা মেশিন (ল্যাঙ্গুয়েজ মেশিন) আজো কাজ করছে। বলা যায়, টাইমের ভাষা অন্য সব পত্রিকার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

টাইমের এসব ছিল হ্যাডেনের সৃষ্টি। এতে লুসের সমস্যা হচ্ছিল। কারণ তিনও সৃজনশীল তবে অন্যদিকে। লুস মুগ্ধ হয়েছিলন পত্রিকা তথা মিডিয়ার শক্তি দেখে এবং তার আয় করার সম্ভাবনা দেখে।

১৯২০ এর শেষ দিকে লুস আরেকটি ম্যাগাজিন প্রকাশের প্লান করেন যার লক্ষ্য হবে বিজনেস স¤প্রদায়। প্রথকে ছিক হয় এর নাম হবে পাওয়ার। পরে এটি প্রকাশিত হয় ফরচুন নামে। আজো এই ম্যাগাজিনটি ব্যবসা বানিজ্য, শিল্প বিষয়ে সবচেযে বেশি প্রভাবশালী রূপে স্বীকৃত।

ডিসেম্বর ১৯২৮ এ হ্যাডেন এর ইনফ্লুয়েঞ্জা হয় এবং মুদই মাস পরে তিনি মারা যান। জন মার্টিন নামে এক ব্যক্তিকে লুস ম্যনেজিং এডিটর করেন। তবে লুসই যে সার্বিক কন্ট্রোলে ছিলেন সে বলা বাহুল্য।

হ্যাডেনের মৃত্যুর পর টাইমের খবরের ভাষা একই থেকে যায়। তবে টাইমের দুটি বড় পরিবর্তন হয় পলিসিতে। এক. টাইম ব্যবসার দিকে খুব মনোযোগী হয় ক্ষংে সাফল্য অর্জন করে।

দুই. তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে টাইম মনোযোগী হয় এবং খুব আক্রামণাত্মক সব লেখা প্রকাশ করতে থাকে। টাইমের কাছে সোভিয়েট নেতা স্টালিন ছিলেন ইটালির ফ্যাসিস্ট নোত মুসোলিনির চেয়ে অনেক ভয়ংকর।

টাইমের রক্ষণশীলতা এক পর্যায়ে গণ বিচ্ছিন্নতায় পরিণত হয়। ১৯৩০ এর দশকে আমেরিকার মন্দ অবস্থা বা গ্রেট ডিপ্রেশন এর সময়ে টাইম লেখে, মানুষ যদি যথেষ্ট কাজ এবং ঈশ্বরে কাছে প্রার্থনা করে, তাহলে মন্দা অবস্থা কেটে যাবে। যারা না খেয়ে আছে, সেটা তাদেরই দোষ।

টাইমের স্টাইল ও নিউজ পরিবেশনে পক্ষপাতিত্বকে অনেকেই সমালোচনা করেন। কিন্তু টাইমের আকর্ষণীয় প্রেজেন্টশন এবং শ্লেষাত্মক ভাষা পাঠককে নেশাগ্রস্তের মতোই আটকে রাখে। টাইম নতুন নতুন শব্দ আবিষ্কার ও প্রয়োগ করতে থাকে।

যেমন কাউকে বিরাট কিছু বোঝাতে টাইম মোঘল শব্দটা ব্যবহার শুরু করে। স্টিভেন স্পিলবার্গের বর্ণনা হবে শুধু মুভি পরিচালকই নয়, সিনেমামোগুল রূপে। এই উপমহাদেশ থেকে আরো কিছু শব্দ তারা নয় এবং স্থায়ীভাবে ডিকশেনারিতে স্থঅন করে দেয়। যেমন পন্ডিত। একজন বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচকের বর্ণনা তারা দিরত পারে লিটারারি পন্ডিত রূপে। ব্যবসার ক্ষেত্রে টাইকুন শব্দটি টাইমই প্রথম শুরু করে। যেমন বিজনেস টাইকুন বা নেতৃত্বস্থানীয় ব্যবসায়ী।

সেক্স এবং স্ক্যন্ডালও টাইমের পৃষ্ঠায় স্থান পেতে থাকে। ওই সময়ে ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড এবং আমেরিকান নারী ওয়ামিস সিমসনের রোমন্স ও পরবর্তী ঘটনা টাইম বিস্তারিতভাবে কভার করে। কিন্তু লুস যে তখন ্েলয়ার বুল ব্রোকা-র সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়েছিল সেটা চেপে যায়। লুস ডিভোর্স দেন তার স্ত্রীকে।১৯৩৫ এ এসব ঘটনায় লুস জড়িয়ে পড়ায় টাইমকে তখন বেমি সময় দিতে পারেননি। তাতে টাইমের ক্ষতি হয়নি। কারণ ততদিনে টাইম একটি মেশিন হিসেবে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।

টাইমের এ শক্তির ওপবে নির্ভর কের লুস প্রকাশ করেন লাইফ ম্যাগাজিন। লাইফ দীর্ঘকাল ধরে খুব সফল হলেও টিভির আগমনে নি®প্রভ হয় হয়ে যায়। লাইফ ছিল ছবি নির্ভর। টিভির সচল ছবির কাছে লাইফের ছবি অচল হয়ে যায়।

টাইমের সাংবাদিকতাকে লুস বলেন গ্র“প জার্নালিজম। এর ধরণটা ছিল এরকম :
সাপ্তাহিক এডিটোরিয়াল মিটিং এ লেকক সম্পদকরা নিউজ স্টোরির জন্য তাদের আইডিয়া পেশ করবেন। গ্রহণযোগ্য আইডিয়াগুলো পৌছে দেয়া হবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধীমান সব রিসার্চারদের কাছে। তারা ফ্যাক্ট সংগ্রহ করলেন এবং ইন্টারভিউ করবেন। তারপর তাদের লেখা যাবে একজন সম্পাদকের কাছে। তিনি নতুনভাবে সব কিছু লিখবেন এবং টাইমের ভাষা প্রয়োগ করবেন। তারপর সেটা যাবে ম্যানেজিং এডিটরের কাছে ফিনিশিং টাচ দেয়ার জন্য। তারপর আবার সেটা ফিরে যাবে সে ই রিসার্চারের কাছে সব ফ্যাক্ট লাইন বাই লাইন চেক করার জন্য। তরপর সেটা যোবে পৃন্টারের কাছে।

টাইম আরেকভাবে বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠে। তারা প্রতি বছরের সেরা মানুষ বা ম্যান অফ দি ইয়ার নির্বাচিত করে। এখন অবশ্য তার নাম হয়েছে পারসন অফ দি ইয়ার। কারণ একজন নারীও নির্বাচিত হতে পারেন। পারসন অফ দি ইয়ার নির্বঅচনে টাইমের অন্যতম মাপকাঠি হলো, যে ব্যক্তি বছরের সংবাদ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন তিনি হতে পারেন পারসন অফ দি ইয়ার।

টাইমের প্রথম ম্যান অফ দি ইয়ার ছিলেন আমেরিকান পাইলট চার্লস লিন্ডবার্গ যিনি ১৯২৭ এ প্রথম একা প্লেনে নিই ইয়র্ক সিটি থেকে প্যারিস পর্যন্ত ননস্টপ ফ্লাই করেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট তিনবার ম্যান অফ দি ইয়ার হন। হিটলারও হন। ১৯৭৯ এ হন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। প্রতি বছরই এসব মনোনয়ন বিশ্ব জুড়ে বহু তর্কের সূচনা করে।

২০০০ সালের শেষে টাইম শতাব্দীর সেরা ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে। টাইমের মতে, ২০০০ শতাব্দীর সেরা ব্যক্তি ছিলেন বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট ইইনস্টাইন। দ্বিতীয় স্থানে যুগ্নভাবে নির্বাচিত হন মহাত্মা গান্ধী ও রুজভেল্ট।

১৯৬৭ তে ৬৯ বছর বয়সে হ্যারি লুস পরলোক গমন করেন। তার স্ত্রী ক্লেয়ার লুস টাইমের ভার গ্রহণ করন। তিনি রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রূপে আবির্ভুত হন এবং ইটালিতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হন। ক্লেয়ার লুস মারা যান ১৯৮৭ তে ।

১৯৮০ তে টাইমের বিশ্বব্যাপী সার্কুলেশন প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫,৭০০,০০০ এ পৌছে। তারা ১১ টি আঞ্চলিক সংস্করণ, ১১৯ টি মেট্রপলিটান সংস্করণ এবং আমেকিরায় ৫০টি রাজ্য সংস্করণ প্রকাশ করতে থাকে।

নব্বই দশকে টাইমের শক্তি আরো বেড়ে যায়। ইতিমধ্যে তারা ওয়ার্নার ব্রাদার মুভি কোম্পানি ও স্টুডিও কিনে নেয়। তাদের কোম্পানির নাম হয় টাইম - ওয়ার্নার ।

টাইম এখন বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশে যে টাইম পাওয়া যায় সেটা হংকংয়ে সম্পাদিত হয় এবং ছাপা হয় সিঙ্গাপুরে। টাইম এশিয়ার সম্পাদক উইলিয়াম গৃন। মধ্যবয়সী এই এডিটরের জন্ম হয়েছিল ম্যানচেস্টারে। টাইমে প্রকাশিত রচনার একটি বৈশিষ্ট হলো, কভার স্টোরি বাদে অন্য সব লেখাই সাধারণ এক থেকে তিন পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। টাইমের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, পত্রিকা প্রকাশের তারিখ বা ডেটলাইন অ্যাডভান্স থাকে।

সুত্র - যায়যায়দিন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29092823 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29092823 2010-02-07 14:07:39
চে গুয়েভারার ছবির অজানা কাহিনী
আজ থেকে ৪০ বছর আগে আর্জেন্টিনার এই বিপ্লবী নেতা আততায়ীর গলিতে নিহত হন। কিন্তু চে’র সেই ছবি, তাঁর সেই চেতনা আজও মানুষের হৃদয়পটে অম্লান হয়ে আছে। শুধু কি হৃদয়ে ? টিশার্ট, দেয়াল আইসক্রিমের মোড়ক, সিগারেট, কোথায় নেই তাঁর ছবি! চে গুয়েভারা রীতিমতো একটা ব্রান্ড। এবং এই ব্রান্ডের লোগো হচ্ছে চে’র সেই বিখ্যাত ছবি, যার অর্থ পরিবর্তন। ছবিটি যুদ্ধ ও বিশ্বয়ানবিরোধী তথা পরিবেশবাদেও প্রতীক হয়ে উঠেছে। বললেন, চিত্র বিশ্লেষক ত্রিশা জিফ।

চে গুয়েভারার যে ছবি বিশ্ববাসীর কাছে এত সমাদৃত, সেই ছবির নেপথ্যে রয়েছে আরেক কাহিনী। ১৯৬০ সালের ৫ মার্চ ছবিটি তোলেন আলবের্তোর কোর্দা। কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর দপ্তরের আলোকচিত্রী ছিলেন তিনি। সেদিন চে গুয়েভারার হাভানায় একট গণ শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ঠিক তার এক দিন আগেই হাভনা বন্দরে বোমা ও বিস্ফোরণবোঝাই একটি ফরাসি মালবাহী জাহাজ বিস্ফোরিত হয়। ভয়ানক সেই বিস্ফোরণে কিউবার ৮০ জন নাগরিক নিহত হন। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে কোর্দার ক্যামেরার ফ্লাশ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। ফ্রেমবন্দী হয় পৃথিবীর সর্বকালের সেরা আলোকচিত্র।

কোর্দা চে ঘুয়েভারার সেই ছবির ক্যাপশানে লিখেছিলেন, ‘ক্রুব্ধ ও বিষন্ন বীর যোদ্ধা’ সেদিন চে’র অভিব্যাক্তি বর্ণনায় এর চেয়ে বেশি কিছু লেখার প্রয়োজন ছিল না ।

এরপর ছবিটি চলে যায় কোর্দার ব্যক্তিগত স্টুডিওতে। দীর্ঘ এক বছর সেই ছবি কোথাও প্রকাশিত হয়নি। কোর্দার স্টুডিওতে যাঁরা আসা যাওয়া করতেন, তাঁদেও চোখেই পড়েছে দেয়ালে ঝুলে থাকা ক্রুব্ধ, বিষন্ন এক বিপ্লবীর ছবি।

এরই মধ্যে সাতটা বছর কেটে যায়। ইতালীয় বামপন্থী একজন প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবি চে’র ছবিটি দেখে আকৃষ্ট হন। গিয়াংগিয়াকোমো ফেলত্রিনেল্লি ছবিটি নিয়ে আসেন ইতালিতে। প্রথমবারের মতো চে’র পোস্টার ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার কৃতিত্ব তাঁরই। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেদেশ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছাপা হওয়ার পর ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়।

ত্রিশা জিফ বলেন, ‘চে গুয়েভারার তখন অন্তিমশয়নে। তাঁকে হত্যার প্রতিবাদে প্রথম বিক্ষোভ মিছিল হয় ইতালি মিলানে। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলনের গতি সঞ্চার হয়। প্যারাগুয়ে ও ফ্রান্স ছাড়াও চে’র হত্যঅর বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে সমগ্র ইউরোপে। লোকে শোষণ ও বৈষমের অবসান চায়, চায় পরিবর্তন। চে’র ছবিটি সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক। ’ কিন্তু লাতিন আমেরিকার চে গুয়েভারা মুখায়ব মানে হচ্ছে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতীক।

- বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29092818 http://www.somewhereinblog.net/blog/AMM/29092818 2010-02-07 13:54:51