বেনজীর মরেছেন তার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও তার নিজের নির্বুদ্ধিতায়। এভাবে থেমে থাকা গাড়ী থেকে মাথা বের করে থাকলে নিজেকে ইজি টার্গেটে পরিনত করছেন এটা তার বোঝা উচিত ছিল।
বেনজীর যে ফিরেছিলেন পারভেজ মোশারফ এর সাথে আঁতাত করে এটা সবাই জানে। বেনজীর হবেন প্রধানমন্ত্রী পারভেজ প্রেসিডেন্ট থেকে যাবেন। নওয়াজ বাদ হবেন রাজনীতি থেকে । এটাই ছিল দুজনের লক্ষ্য। কারন নওয়াজ জিতলে পারভেজ এর অবস্থা কি হবে সেটা বুঝতে খুব বেশী বুদ্ধি থাকতে হয় না।
তবে বিবিসি এবং বুশ গণতন্ত্র নিয়ে বড় বড় বুলি কপচে তিনি প্রান দিয়েছেন পাকিস্তানে ডেমোক্রেসী আনতে, নিজেকে উৎসর্গ করেছেন জনগণের জন্য, এমন কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছিলেন।
বেনজীর প্রমান করে দিলেন সবকিছু মিথ্যা। রাজনৈতিক দল কি কারো বাবার সম্পত্তি? এটা কি জমি জমা? যা ভাগ বাটোয়ারা করা যায়। এটা কি ওয়াকফ সম্পত্তি যার মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত করা যায়? যেটা নিয়ে উইল করা যায়? যিনি পাকিস্তানের জনগণের জন্য গণতন্ত্র চান, তিনি নিজের দলে সেটা চান না। নইলে কি করে তিনি মাত্র সাবালক হয়েছেন কয়েক বছর হলো সেই পুত্র বিলাওয়ালকে চেয়ারম্যান বানাতে অসিয়ৎ করেন তার উইলে? তার এতো বছরের রাজনৈতিক সহযোগীদের বাদ দিয়ে, রাজনীতির অভিজ্ঞতাহীন তার পুত্র আর দুর্নীতিবাজ স্বামী হলেন পিপিপি র
নেতা?
এবার কি বলবেন বুশ?
বেনজীর যখন ক্ষমতায় তখন বন্দুকধারীরা তার ভাইকে হত্যা করে রাজপথে, গাড়ীতে। তার শাসনে থাকার পরও সেই হত্যার বিচার হয় নি। সাপ্তাহিক বিচিত্রাতে প্রবন্ধ বের হয়েছিল তখন যেখানে লেখা ছিল এই হত্যার পেছনে হাত ছিল আসিফ আলী জারদারীর। মর্তুজা জারদারীর গোঁফ কেটে দিয়ে অপমান করেছিলেন কারন জারদারীর তার সাথে বাড়াবাড়ি বেয়াদবী ও দুর্নীতি করছিলেন। পাকিস্তানে পুরুষকে অপমান করার একটি উপায় হলো তার গোফ একদিকে ছেঁটে দেয়া। সেজন্য জারদারীর ভাড়াটিয়ারা তাকে হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ আছে।
গণতন্ত্রের জন্য নিহত বেনজীরের ভেতরে যে লারকানার জমিদার ভুট্টোর রক্ত সেটা তিনি মরার পর প্রমান করে দিলেন।
এই সেই ভুট্টো যার প্ররোচনায় পাকিস্তান বাহিনী ৭১ এ গণহত্যা করেছিল বাংলাদেশে। এই সেই ভুট্টো আর পিপলস পার্টি যারা বলেছিল পূর্ব পাকিস্তানে অ্যাসেম্বলী বৈঠক বসলে যারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসবেন তাদের ঠ্যাং ভেঙ্গে দেয়া হবে, মেরে ফেলা হবে।(৭ ই মার্চের ভাষন এ একথার রেফারেন্স আছে।)
বেনজীর তার বাবা, ভাই , কারো হত্যার বিচার করেন নি। এখন পার্টি দিয়ে গেলেন স্বামী সন্তানের হাতে। এ যেনো মুঘল রাজত্বের ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো ইতিহাসের পূণরাবৃত্তি।
বেনজীর ভু্ট্টো উইল করে পুত্রের নামে আর স্বামীর নামে পার্টি লিখে দিয়ে করে প্রমান করলেন গণতন্ত্রে তার বিশ্বাস কতটুকু ছিল।
লারকানার জমিদার এর ভেতর থেকে সামন্তবাদ দুর হবে, ফিউডাল পকিস্তানীরা সভ্য হবে এটা ভাবা আর ইবলিস সভ্য হবে, এটা চিন্তা করা একই কথা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



