অলোক কাপালীর ১০০ রান ও আমার মর্মবেদনাজনিত প্রশ্ন
১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৪৭
সমর্থন করেছি ঢাকা ওয়ারিয়র্সকে কারন হাজার হলেও দলটা পুরোপুরি আমাদের। অন্য দলগুলিতে বিদেশী খেলোয়াড় আছে, আছে মিশ্রন। কাপালীর সেঞ্চুরীকে অভিনন্দন।
কিন্তু খেলা শেষে যখন খানিকটা এক্সিবিশনিস্ট উপস্থাপিকা শরীর এবং ভুরু নাচিয়ে হিন্দিতে প্রশ্ন করলো কাপালীকে এবং কাপালীও ততোধিক দক্ষতার সাথে হিন্দিতে উত্তর দিলো..
তখন মনে হলো উর্দুর বিপরীতে সংগ্রাম মানেই কি শুধু ভাষার জন্য সংগ্রাম? হিন্দির বিরুদ্ধে আমরা কি পরাজিত?
কেন কাপালী হিন্দিতে কথা বলবে? কথা বলবে বাংলায় অথবা আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজীতে।
আজান্তা মেন্ডিস ইংরেজী জানে না, সে সিংহলীতেই কথা বলে। দোভাষী সেটা অনুবাদ করে দেয়। সেটাও কতো সুন্দর লাগে।
কাপালী বাংলায় বলতো, বাশার সেটা ইংরেজীতে অনুবাদ করে দিতো?
সবচেয়ে মজার হলো পাকিস্তানী খেলোয়াড় শাহাবুদ্দিনকে মেয়েটি প্রশ্ন করেছে ইংরেজিতে ..অথচ তার জন্য হিন্দি সহজ ছিলো কারন সে উর্দুভাষী।
আর কাপালীকে করেছে হিন্দিতে..
এটা কোন লেখা না, এটা আমার মর্মবেদনার প্রকাশ।
যারা এই লেখা পড়ছেন, তাদের মতামত কি?
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
তানজিল আহমেদ বলেছেন:
বাস্তবতা ।
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
অলক কাপালীর হিন্দিতে কথা বলা ঠিক হয়নি।
বিডি আইডল বলেছেন:
তুষার ভাই...আফতাবও একই কাজ করেছে..শুধু নাফিসকে দেখলাম ইংরেজীতে কথা বলতে...এই স্টুপিড আচরণের জন্য ঘৃণা জানাই
রাজামশাই বলেছেন:
তার কাছ থাইক্যা এইটাই প্রত্যাশিত ।
লংকার রাজা বলেছেন:
এসব জিনিস দেখলে লজ্জায় মাথা কাটা যায়।খেলা কিছুটা পাড়লে কি হবে,ব্যাটারা আসলেতো অশিক্ষিত।
যাযাবর পাখি বলেছেন:
যে যায় লংকায় সে হয় রাবন...।
লেখক বলেছেন: সৌরভ ঢাকাতে এসে একবারও মিডিয়েতে বাংলায় কোন কথা বলে নাই
নিবিড় অভ্র বলেছেন:
আমি হতাশ.....পাকিস্তানে একবার সম্ভবত সাফ গেমসে(আমার ঠিক মনে নেই) একজন বাংলাদেশি উর্ধ্বতন ক্রীড়া কর্মকর্তাকে উর্দুতে প্রশ্ন করা হলে এবং উর্দুতে উত্তর দেওয়ার অনুরোধ করা হলে তিনি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। উনার আচরণ আমার ভাল লেগেছিল।
কিন্তু কাপালি আমার অন্যতম প্রিয় ক্রিকেটার ..... তাঁর কাছ থেকে এটা আমি সত্যিই আশা করিনি।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
আমরা শিক্ষিত জাতি , তাই অন্য ভাষায় আমাদের দখল দেখাই । এই দেশে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত আরবী ভাষা বাধ্যতামূলক সরকারী স্কুলে আর মানারাত -এ । রাষ্ট্র যখন ভাষা নিয়ে ফাজলামো করে , তখন আর অলক কাপালিকে কী বলবেন ?
আমাদের সামাজিক সম্মানের একটা অংশ হয়ে গেছে ভিনদেশী ভাষায় কথা বলা । ইংরেজী দুই চারটা শব্দ কিংবা একটা বাক্যাংশ না বললে এখানে তো কোন জাতই নাই , আর হিন্দী তো আমাদের বিনোদনের সময়টা গিলে খাচ্ছেই ।
একটা জাতির মাঝে যখন হীনমন্যতা ঢুকে যায় , তখন সেটি সবার আচরনেই প্রকাশ পায় । অলক কাপালি সেখানে ব্যতিক্রম নয় ।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
কাপালিকে দেখতে হবে একজন ভাল খেলোয়াড় হিসেবে। কিন্তু তার যে বাঙালি সত্তা আছে সেটা জাগিয়ে রাখবার কোন দায়িত্ব এই জাতি কখনই নেয় নাই। শুনতে হয়ত একটু অবাস্তব মনে হবে, তবুও বলি আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়জনই বা আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানে। তারা জানে শুধুই খেলতে। বিধায় তাদের কাছ থেকে এরচে বেশি কিছু আশা করা অন্যায়। এই ব্লগে আমরা যারা ইতিহাস, সমাজ, দেশ নিয়ে লেখা লেখি করি, সেটা আমাদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আগ্রহের ফলাফল। প্রাতিষ্ঠানিক অবদান সেখানে অতিসামান্য নিশ্চয়ই আমরা স্বীকার করব। দেশ, জাতি, ভাষা সম্পর্কিত চেতনা গুলো এমনি এমনি গড়ে ওঠে না। এগুলো মানুষের মাঝে ঢুকিয়ে দিতে হয়। বাংলাদেশে সেই প্রাকটিস কখনই ছিল না বরং নিজেদের প্রতিনিয়তই আমরা ছোট করে থাকি।
বিধায়, আমি কাপালিকে দোষ না দিয়ে আমাদের দেশে চলমান ব্যবস্থাকেই দোষ দিতে আগ্রহি।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
প্রসঙ্গক্রমে একটা শোনা কাহিনী বলি।ঘটনাটা আমার বাবার কাছ থেকে শোনা। ষাটের দশকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে একটা ক্রিকেট টিম এসেছিল পূর্বপাকিস্তানের সাথে খেলতে। ঐ খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাইকোটের বিচারক মাহবুব মোর্শেদ। তা খেলা শেষে বক্তৃতা দিতে এসে মাহবুব মোর্শেদ ইংরেজীতে বক্তৃতা দিতে শুরু করলেন। পুরো মাঠ না না ইংরেজি না বলে চিৎকার দিতে শুরু করল। বিচারপতি বললেন, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা তো বাংলা বুঝবে না, তারা উর্দূ বুঝে। তখন ক্রাউড চিৎকার দিয়ে বলল তবে উর্দূতেই দিন, কিন্তু ইংরেজীতে না। অতঃপর তিনি উর্দুতেই বক্তৃতা দিলেন।
লেখক বলেছেন: এতে কি প্রমান হয়? তখন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ছিল বাংলা এবং উর্দু।
তিনিও পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন।
কাপালি বাংলাদেশের বাঙ্গালী।
নিশ্চুপ নিরবতা বলেছেন:
হিন্দিতে সাক্ষাৎকার সমর্থন করি না। পূর্ববর্তী পোষ্টটেও নিন্দা জানিয়েছি।
সেকেতুরে বলেছেন:
হিন্দি ও যা বলেছে শুদ্ধ ছিলোনা।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
ব্যাপারটা সত্যিই হতাশাজনক।জাতি হিসেবে আমরা যে এখণো হীনমন্যতায় ভুগি,তার এক নির্লজ্জ উদাহরণ।
বাংলাদেশ আদৌ আত্মসম্মাণবোধসম্পন্ন জাতি হিসেবে দাড়াবে , এই ধরণের কিছু ঘটনায় আমি মাঝে মাঝে ধন্দে পড়ে যায়।
আমার প্রথম ম্যাচটা দেখার সৌভাগ্য কিংবা দূর্ভাগ্য হয়েছিলো।দেখলাম শরীরের বিভিন্ন
স্পট দেখানো স্টুপিড উপস্থাপিকা সাউথ ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়কে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করে আর বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের সাথে হিন্দিতে বাতচিৎ করে।ধীমান ঘোষ'কে যথাসম্ভব ইংরেজীতে প্রতিত্তর দিতে দেখেছি।কিন্তু সাথে এক খেলোয়াড় (নাম জানিনা) ভাংগা-ভাংগা হিন্দিতে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছে।কি লজ্জা!
আমি সন্দেহপ্রবণ ব্যাক্তি। উপস্থাপিকা সরলবিশ্বাসে হিন্দিতে কথা বলেছে।এইটা একেবারেই বিশ্বাস করিনা।এইটা চোখে আংগুল দিয়ে একটা জাতি কতটা সাবমিসিভ বৃহৎ প্রতিবেশির কাছে তা দেখিয়ে দেয়া।
বিবর্তনবাদী সিস্টেমকে দোষারোপ করা ঠিক আছে।কিন্তু কাপালী জাতীয়দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে এইটুকু বুঝবে না,সেটা মেনে নেয়া যায়না।আর যদি সে আদৌ না বুঝে থাকে, তাহলে বলবো বাংলাদেশ টিমে এতোদিন এক নির্বোধ খেলেছে,যার আসলে খেলার কোন অধিকার ছিলোনা।
মনজুরুল হক বলেছেন:
বেশ।আবারো বেশ।ইংরেজি ও বিদেশী ভাষা,হিন্দীও বিদেশী ভাষা। ইংরেজি চললে হিন্দী নয় কেন? ইংরেজি কি কুলিন?আপনারা যখন চোখ বন্ধ করে হিন্দী ছায়াছবি,নাটক,সিরিয়াল,বিজ্ঞাপন,ক্লিপিংস,প্রমো,জিঙ্গেল কাট এন্ড পেষ্ট করেন তখন কি জাতীয়তাবোধ জাগে না? সেটা যেমন আর্ন্তজাতিকতাবাদের দোহাই দিয়ে চালিয়ে দেন, ওরাও(কাপালি প্রমূখেরা) তাই করেছে।
লুক ফার্স্ট ইয়োর এন্ড !
লেখক বলেছেন: লুক ফার্স্ট ইয়োর এন্ড !
আপনার ইংরেজি জ্ঞান দেখেই বোঝা যায়.. কার এন্ড এ প্রবলেম।
আপনারা মানে কি?
আমি কাপালিকে বাংলায় বলতে বলেছি... ভালো করে পড়ুন
আজান্তা মেন্ডিস ইংরেজী জানে না, সে সিংহলীতেই কথা বলে। দোভাষী সেটা অনুবাদ করে দেয়। সেটাও কতো সুন্দর লাগে।
কাপালী বাংলায় বলতো, বাশার সেটা ইংরেজীতে অনুবাদ করে দিতো?
আপনি বাংলাও ভালো বুঝেন না বোধহয়।
যেহেতু ইংরেজী আমাদের সংবিধানে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এর ভাষা এবং সংবিধানেরও একটি ভাষা তাই এটাই হতে পারত কাপালির বিকল্প ভাষা।
আমি কাট এন্ড পেস্ট করি না.. সুতরাং আপনারা বলতে আপনি যাদের বুঝিয়েছেন আমি তাদের দলে না।
আর কাপালি যা করেছে সেটা আপনার মতো লোকদের উৎসাহে সেটা জানতে পেরে ভালো লাগলো।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
@ আহসান হাবিব শিমুল- আপনার শেষ লাইনটিকে আমি একটু অন্যভাবে বলব।বাংলাদেশ এতদিন এক নির্বোধ খেলোয়ার তৈরি করেছে, যাকে নির্বোধ হিসেবে তৈরিকরার কোন অধিকারই বাংলাদেশের চলমান সিস্টেমের ছিল না।
মুকুট বলেছেন:
আমরা পরাজীত বিবেকের কাছে! আর নতজানু ভারতের কাছে! অনেকেই আমরা ভারতের কাছে নতিস্বীকারে মজা পাই ! কিন্তু কেন??? যে একমাত্র জাতি মাত্বভাষার জন্য প্রাণ দিলো তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উৎসর্গীত প্রাণগুলি নিশ্চয় এমনটা আশা করে না! তাহলে টাকাইকি বিবেককে ধ্বংস করে দিলো???? এজন্য হয়ত তৎকালীন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মূখ্যমন্ত্রী বলায় প্রতিবাদ না করে হেসেছেন, কেন আমাদের এমন অকপট নতিস্বীকার?? আমরা কি মেরুদন্ডহীন, আগাছা, পরিচয়হীন??? জাতির বিবকের কাছে প্রশ্ন থাকল!
একজন সৈকত বলেছেন:
কাপালীদের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা থাকে... তবুও তারা বুঝলো না শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, তারা যেবাংলাদেশকেও বিদেশে রিপ্রেজেন্ট করে...
আগে তো মানুষ, তারপরে না খেলোয়াড়...
খেলোয়াড় কাপালীর জন্য সাবাস
আর
বিজাতীয় ভাষার চামচামির কারনে
আত্মসম্মানজ্ঞানহীন মানুষ কাপালীদের জন্য
আফসোস্!!!!!!
লেখকের সাথে সহমত!
সাইফুল আকবর খান বলেছেন:
অবশ্যই নিন্দনীয় ঘটনা এটি। নিন্দা-ই জানাই প্রথমে।
সচেতনভাবে হয়তো করেননি কাপালী। মানে এটিই বলছি যে, ব্যাপারটি মাথায় কাজ করার মতো বোধের ধার তার মাথার ব্যাট-এ নেই, সে বোঝা যাচ্ছে। সিস্টেম আর আমাদের সবার চিন্তা-দূষণ, আমাদের জাতিগতভাবে ভোতা হয়ে যাওয়া, এইসব অনেক কিছুকেই কুশপুত্তলিকা বানিয়ে পোড়ানো যাবে চাইলে, কিন্তু তাতেও হবেটা কী সেটাও জানি না। বুঝি না- এই অনুভূতিগুলো কাজ করে না কের আমাদের মাথায়! দুঃখজনক তো বটেই। হতাশাজনক।
যাক, তুষার ভাই, বাসে যখন কনডাকটর এবং যাত্রীরা 'মহিলা' নামক প্রাণীটিকে ওঠাতে চায় না, সেটা নিয়ে কথা বলে যেমন অন্য অধিকাংশ যাত্রীর উল্টো রোষ-ই শুনতে হয়, 'পাবলিক' আর 'বাঙালী'র স্বভাব কিংবা 'সিস্টেম' এমনই- সেই দোহাই দিয়ে, এবং এই প্রায়-হেজিমনিকেই আরো চাপিয়ে দেয়া হয় আমার ওপর তথা সেই বোকা সোচ্চার প্রটাগনিস্ট-এর ঘাড়ে, তখনও এমন কষ্টই লাগে, যেটি আমি বেশ বুঝতে পারছি আপনারও লাগছে বেশ করেই, এই "মর্মবেদনা'র প্রকাশ" পোস্ট করার পর এরকম একটি বিষয়েও এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়ে।
যাক, সবাই সমসুর না হোক, আর কোনো কাজও না হোক এই নিন্দা, প্রতিবাদ, শাপ কিংবা নিছক উল্লেখ-উত্থাপনে, অন্তত কেউ কেউ তো আপনার এই 'মর্মবেদনা'র ভার উপলব্ধি করে কাঁধ বাড়িয়ে ভাগ নিলাম। এই আকালে 'এই কি বেশি না'?
ভিন্নমতের প্রতি সৌজন্যমূল 'শ্রদ্ধা' রেখেও অনেক ধন্যবাদ দিই তুষার ভাই আপনাকে এবং সব বোকা সমমনাদের।
স্যরি, ইমোশনাল হয়ে যাওয়ার জন্য।
সাইফুল আকবর খান বলেছেন:
অবশ্যই নিন্দনীয় ঘটনা এটি। নিন্দা-ই জানাই প্রথমে।
সচেতনভাবে হয়তো করেননি কাপালী। মানে এটিই বলছি যে, ব্যাপারটি মাথায় কাজ করার মতো বোধের ধার তার মাথার ব্যাট-এ নেই, সে বোঝা যাচ্ছে। সিস্টেম আর আমাদের সবার চিন্তা-দূষণ, আমাদের জাতিগতভাবে ভোতা হয়ে যাওয়া, এইসব অনেক কিছুকেই কুশপুত্তলিকা বানিয়ে পোড়ানো যাবে চাইলে, কিন্তু তাতেও হবেটা কী সেটাও জানি না। বুঝি না- এই অনুভূতিগুলো কাজ করে না কের আমাদের মাথায়! দুঃখজনক তো বটেই। হতাশাজনক।
যাক, তুষার ভাই, বাসে যখন কনডাকটর এবং যাত্রীরা 'মহিলা' নামক প্রাণীটিকে ওঠাতে চায় না, সেটা নিয়ে কথা বলে যেমন অন্য অধিকাংশ যাত্রীর উল্টো রোষ-ই শুনতে হয়, 'পাবলিক' আর 'বাঙালী'র স্বভাব কিংবা 'সিস্টেম' এমনই- সেই দোহাই দিয়ে, এবং এই প্রায়-হেজিমনিকেই আরো চাপিয়ে দেয়া হয় আমার ওপর তথা সেই বোকা সোচ্চার প্রটাগনিস্ট-এর ঘাড়ে, তখনও এমন কষ্টই লাগে, যেটি আমি বেশ বুঝতে পারছি আপনারও লাগছে বেশ করেই, এই "মর্মবেদনা'র প্রকাশ" পোস্ট করার পর এরকম একটি বিষয়েও এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়ে।
যাক, সবাই সমসুর না হোক, আর কোনো কাজও না হোক এই নিন্দা, প্রতিবাদ, শাপ কিংবা নিছক উল্লেখ-উত্থাপনে, অন্তত কেউ কেউ তো আপনার এই 'মর্মবেদনা'র ভার উপলব্ধি করে কাঁধ বাড়িয়ে ভাগ নিলাম। এই আকালে 'এই কি বেশি না'?
ভিন্নমতের প্রতি সৌজন্যমূল 'শ্রদ্ধা' রেখেও অনেক ধন্যবাদ দিই তুষার ভাই আপনাকে এবং সব বোকা সমমনাদের।
স্যরি, ইমোশনাল হয়ে যাওয়ার জন্য।
ধীবর বলেছেন:
হিন্দির প্রতি বিশেষ দুর্বলতা থেকে, কিংবা আমাদের সাংস্কৃতিক দুর্বলতাকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার জন্য মঞ্জুরুল হক কথাগুলি বলেছিলেন কিনা জানি না। তবে সত্যি সত্যি কিছু মানুষ আছেন, যাদের চিন্তা চেতনার দৈন্যতা এত বেশি, যে তারা ইংরেজির সাথে হিন্দির তুলনা করেন। বেশ কিছুদিন এ ব্যাপারে আমি একটি লেখা লিখেছিলাম। প্রাসংগিক জ্ঞান করে লিংকটা দিচ্ছি। আশা করি, তুষার মনক্ষুন্ন হবেন না।
Click This Link
রাজর্ষী বলেছেন:
হিন্দিতে কথা বলা যাবে না। কোন বাংগালী হিন্দিতে কথা বলবে না, এইটাই শেষ কথা। দরকার পড়লে ইংরেজীতে বলবে। স্টুপিডগুলা বুঝেনা কেন বলা যাবে না।
তপন চৌধুরি বলেছেন:
আপনিকি সত্যি তুষার নাকি তার ছদ্দবেশ নিয়েছেন?
নামহীনা বলেছেন:
কাপালী কে পারলে এখনই ফোন করে বলতাম 'ভাই তোমার তো সুযেগ আছে, তুমি তো একেবারে সাধারন কেউ নও....... তুমি কেন তোমার ভাষার অপমান করবে? এটা আমি বা আমার মতো কোন আম-জনতা হলে না হয় ক্ষমা করা যেত।'কিন্তু আমি তো আর বড় কেউ নই যে কাপালীকে চাইলেই ফোন দিতে পারি!!!
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
যদিও পাতার ওপর লিখে রেখেছেন- ''মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,আমি তোমাদেরি লোক'' তারপরও আপনাকে ঠিক 'ব্লগার' মনে হয় না।শুধু লেখেন, মন্তব্য করেন যারপরনাই কম। আপনার সর্বশেষ তিনটি মন্তব্যের তারিখ দেখেন-
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:০০
২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১২:৩১
লেখক বলেছেন: মন্তব্য করা কি বাধ্যতামূলক?
আমার যদি মনে হয় মন্তব্য লিখতে হবে, তাহলেই তো লিখবো।
রাগিব বলেছেন:
একই মনোভাব বিদেশে পড়তে আসা বাংলাদেশী অনেক ছাত্রছাত্রীরও দেখি। ভারতীয়দের সাথে নিজেদের হিন্দি জ্ঞান জাহির করছে। অসহ্য।
ড্রাকুলা বলেছেন:
মতামত আর কি...............শুনতে লজ্জা লাগে।
হলদে ডানা বলেছেন:
আপনার লেখাগুলো বেশ চিন্তামূলক। আমার পড়া আগের কয়েকটি লেখাও বেশ ভালো লেগেছে। এ লেখাটির জন্য প্লাস।
নীল লাল সবুজ বলেছেন:
উপস্থাপিকা সরলবিশ্বাসে হিন্দিতে কথা বলেছে।এইটা একেবারেই বিশ্বাস করিনা।এইটা চোখে আংগুল দিয়ে একটা জাতি কতটা সাবমিসিভ বৃহৎ প্রতিবেশির কাছে তা দেখিয়ে দেয়া।আমরা পরাজীত বিবেকের কাছে! আর নতজানু ভারতের কাছে! অনেকেই আমরা ভারতের কাছে নতিস্বীকারে মজা পাই ! কিন্তু কেন? যে একমাত্র জাতি মাত্বভাষার জন্য প্রাণ দিলো তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উৎসর্গীত প্রাণগুলি নিশ্চয় এমনটা আশা করে না! তাহলে টাকাইকি বিবেককে ধ্বংস করে দিলো?এজন্য হয়ত তৎকালীন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মূখ্যমন্ত্রী বলায় প্রতিবাদ না করে হেসেছেন, কেন আমাদের এমন অকপট নতিস্বীকার?? আমরা কি মেরুদন্ডহীন, আগাছা, পরিচয়হীন?
কিছু মানুষ আছেন, যাদের চিন্তা চেতনার দৈন্যতা এত বেশি, যে তারা ইংরেজির সাথে হিন্দির তুলনা করেন।
যেহেতু ইংরেজী আমাদের সংবিধানে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এর ভাষা এবং সংবিধানেরও একটি ভাষা তাই এটাই হতে পারত কাপালির বিকল্প ভাষা।
ওসমানজি২ বলেছেন:
অনেক দেরীতে পড়লাম। আপনার সাথে সম্পূর্ন সহমত। ভাল লাগল নীল লাল সবুজ -এর মন্তব্য। সকলকে ধন্যবাদ।
মুহিব বলেছেন:
সহমত, যদি এমন হয়ে থাকে।
নির্বাসন বলেছেন:
হিন্দী একটা ফালতু ভাষা...বাংলা আর উর্দু থেকে শব্দ ধার করা ভাষা...
মনিরুল হাসান বলেছেন:
১। একাধিক ভাষা জানা অন্যায় নয়। কাপালী যদি শ্রীলংকায় গিয়ে খেলতো এবং শ্রীলংকার সাংবাদিকের শ্রীলংকার ভাষায় করা প্রশ্নের উত্তর শ্রীলংকার ভাষাতেই দিতো, কাপালী বা বাংলা ভাষা কোনোটারই মান কমতো না। (বরং এতে একটি শ্রীলংকার লোকদের সামনে তাদের ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাও হতো) ২। কাপালী যদি হিন্দি প্রশ্নের উত্তর ইংরেজীতে দেয়ার জন্যে অনুবাদক হিসেবে বাশারকে ব্যবহার করতো, তাহলে নিজেকে কিছুটা অশিক্ষিত বলে প্রমাণ করা হতো এবং তাতে কাপালীর মান কিছুটা কমতো। (নিজের মান কেউ নিজে কমাতে চায় না।)
৩। কাপালী যদি বলতো যে, "আমি হিন্দিতে উত্তর দিতে চাই না বরং ইংরেজীতে উত্তর দিতে চাই" - তাহলে কাপালীকে খানিকটা রূঢ় মনে হতো। সেক্ষেত্রে কাপালী আরেকটি কাজ করতে পারতো, খুব সাবধানে উপস্থাপিকাকে ইংরেজীতে প্রশ্ন করার জন্যে অনুরোধ করা, যেন তাকে রুঢ় বা অভদ্র মনে না হয়।
আমার মতামত: মূল দোষ হচ্ছে উপস্থাপিকার। তার হিন্দিতে প্রশ্ন করাটাই গবেটের মত কাজ হয়েছে।
আমার একটা ছোট কৌতুহল: উপস্থাপিকার প্রথম প্রশ্নের উত্তর যদি কাপালী হিন্দির বদলে সোজাসুজি ইংরেজীতে দিয়ে দিতো, তাহলে উপস্থাপিকা দ্বিতীয় প্রশ্নটি কোন ভাষায় করতো, হিন্দিতে না ইংরেজীতে? আপনার কী মনে হয়?
েকউ একজন বলেছেন:
india থেকে যে সব ছাত্র ছাত্রী বাংলাদেশ এ পড়তে আসে তাদের সাথে বাংলাদেশ এর ছাত্র ছাত্রীরা হিন্দী তে কথা বলে.......।আমরা আবার অনেক অতিথিপরায়ন জাতি তো .....................।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















