আমরা যারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করি তারা অনেকটা বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য মাত্র ২ টা হল। হলে সিট সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে এক্সটেন্শনের কাজ চলছে। তাছাড়া আমরা যারা লোকালে থাকি তাদের জন্য হলে সিট নেওয়া অভদ্রতা। তাছাড়া মেয়ে বলে সেটা রীতিমত অভদ্রতা। কেন বুঝতে হয়তো বাকি নেই কারো। যাই বাড়ি থেকেও হলে যেতে দিতে রাজি হয় না। কারণ আমদের নিয়মিত বাস রয়েছে। এমনকি ছেলে মেয়েদের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা। বাবা মা শুনে বেশ আশ্বস্ত হন। তারা হাজার কষ্ট হলেও মেয়েকে হলে দিতে চান না। ছেলে হলে তার কথা আলাদা।
আমাদের অদৃষ্টের পরিহাসে সকাল সাড়ে সাতটার সময় গাড়িতে উঠতে হয়। আর সবচেয়ে শেষ টিপে ফিরলেও ২ টা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা তাই সাড়ে ৭ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত।
এইতো রমজানের পরের ঘটনা। সবে মাত্র ক্যাম্পাস খুলেছে। প্রথম দিকে সবকিছু সময় মত হয়ে উঠতে চাই না। তাই বাস স্ট্যান্ডে পৌছানোর আগেই আমাদের বাসটা ছেড়ে গেল। বাধ্য হয়ে ছেলেদের বাসে উঠলাম। বাসটা সম্পূর্ণ ফাকা। ৪০ সিটের গাড়িতে বড় জোর ৮ জন উঠেছে। তার মধ্যে ড্রাইভার ও হেল্পার। আমি এসে সামনের সিটে বসলাম। ছেলেদের বাস হলেও অসুবিধা হলো না। আমি যাকে নিজের বলে জানি আমার সেই দাদাটাও সেই গাড়িতেই। পরবর্তী স্ট্যান্ড থেকে আরো ২ জন উঠলো। একজন পেছনের দিকে বসলো আর একজন আসপাশ দেখে নিয়ে আমাকে বললো, সরে বসেন। আমি ভদ্রতার খাতিরে সরে বসলাম। উনি আমার পাশে বসলেন। আমার দাদাটা যেন তাকে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে চোখের ইশারায় স্মরণ করিয়ে দিলাম। 'পাগল সাঁকো ঝাকাবিনা।'
তাকে দেখে মনে হলো সে আনেক কিছু আবিস্কার করেছে। আমার সাথে পরিচিত না হলে তার একবার জন্ম নেওয়া বৃথা হযে যাবে। আমিও তার সাথে যথা সম্ভব জবাব দিয়ে গেলাম। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একটা মেয়ের পাশে একটা ছেলেবসেছে বলে তো আর অসৌচ করা চলে না। আমার সাথে ব্যক্তিগত আলাপ জমানোর চেষ্টা করলে আমি তাকে বুঝিয়ে দিলাম আমি তার প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নই। তাছাড়া আমি শখ করে ছেলেদের গাড়িতে উঠিনি। আমার সাবজেক্ট ও ইয়ার জেনেই তাকে চুপ থাকতে বললাম। তার সসম্পর্কে আমার কোন কৌতুহল ছিলনা। তাই বাধ্য হয়ে চুপ হয়ে গেল। আমি বুঝিনা একটা মেয়েকে দেখলে কেন কিছু মানুষ নিজেকে উপস্থাপন করতে ব্যস্ত হয়ে যায়। মনে হয়ে শিকারীর বিড়ালের সামনে আমরা মৃতপ্রায় ইদৃর। আত্মরক্ষার তাগিদে দৌড় দিলে থাবা হাকায়। আবার মৃত প্রায় হয়ে পড়ে থাকলে হাতা দিয়ে নেড়ে দেখে সত্যিই মারা গিয়েছি কিনা । বাস্তবিকই আজব দুনিয়া।
২১.১১.২০০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

