নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে জামাতের আপততি কেন এটা নিয়ে ভেবে দেখার দরকার। বড়ো দলগুলোর আপততি না থাকলেও জামাতের আপততি আছে। কারণ, নতুন এই সংস্কার প্রস্তাবে দলীয় কমিটিতে এক তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। মৌলবাদী দল হিসেবে জামাত মহিলা মজলিশ আর ছাত্রী সংস্থার সাহায্য নিলেও তাদেরকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কোন ভাগ দিতে চায় না। এই প্রেক্ষিতে প্রথম আলোর ২৩শে মে'র প্রতিবদেনটি খুবই তাতপর্যপূর্ণ।
দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী এবং তারা বিশেষভাবে অবহেলিত। মহিলা ভোটাররা তাদের ন্যায্য নাগরিক সুবিধা সচরাচর পায় না আর তার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় বৈষম্য। সেখানে নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণ আগামী দিনের গণতন্ত্র ও সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সেক্ষেত্রে জামাতীদের বিরোধিতা মৌলবাদী রাজনীতির আসল চেহারা তুলে ধরে। জামাতের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবকে উদ্ভট বলে আখ্যায়িত করে। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় কমিটিতে এক তৃতীয়াংশ নারীসদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে নারীদের রাজনীতিতে বাধ্য করা। এথেকেই বোঝা যায়, জামাতীদের সুবিধাবাদী চরিত্র। প্রয়োজনে নিজেদের স্বার্থে তারা নারী নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজী, কিন্তু নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তার সুফল পৌঁছে দিতে তারা অপারগ।
বাংলাদেশের নাগরিকরা বিশেষত: মহিলা ভোটারদেরকে এজন্যই জামাতী মৌলবাদীদের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এমনকি ইসলামী ঐক্যজোট নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে তাদের আপততি জানিয়েছে। ধর্মভিততিক রাজনীতির সুবিধাবাদী চরিত্র রাজনৈতিক সংস্কারের এই নতুন উদ্যোগের কারণে উন্মোচিত হয়েছে। অথচ ধর্মীয় বিধানে কিন্তু নারীকে গৃহবন্দী করে রাখার কথা বলা হয়নি। নবীর যুগে মহিলারাও যোগ দিয়েছিলেন যুদ্ধে। আর আজকের ধর্মব্যবসায়ীরা নারীদের ঘরের বাইরে অংশগ্রহণকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে। কি নিমর্ম পরিহাস!!! তারপরেও মৌলবাদী রাজনীতির প্রতি কিছু মানুষের দরদ কি কমবে?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



