"...বন্ধুগো আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক' মাথায়, বন্ধু, বড় দু:খে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!..."
আমার কৈফিয়তের শেষ পংক্তিতে লেখা কবির ভাবনা, সোনার শত ছেলেরা এসে দেশকে বদলে দেবে। বড়ই অভাগা আমরা। সময় বয়ে যায়, দেশ তো আর বদলায় না। কবির স্বপ্নকে এখনও লালন করতে হয় কবিতার পংক্তিতে। অবিচারের বিরুদ্ধে ঘৃণা আর অভিশাপ ছাড়া আর কোন সর্বনাশ ডেকে আনতে পারি না।
"প্রার্থনা ক'রো - যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ"।
আমি নিজে একজন পাঠক। ঘটনার বাহক। কস্ট ধারণ করি বুকে। বিদ্রোহী হয়ে উঠা হয় না। নিজস্ব কস্ট ও শব্দের সংঘর্ষে আগুণ জ্বালাতে পারি না। তাই, নিজেই নিজেকে দহন করি একান্ত ভাবনায়। কস্টের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে যখন দেখি কবির এই দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি হলেও মানুষগুলো নয়। এতো কিছুর পরও একটু আশার আলো দেখি যখন আশেপাশে দেখি কিছু সাহসী মানুষের বিচরণ। আশায় বুক বাঁধি যখন দেখি কবি নজরুলকে নিয়ে সরকারী উদ্যোগের চেয়ে একজন ড: মোহাম্মদ ওমর ফারুকের উদ্যোগ নজরুল ডট অর্গ সফল হচ্ছে। যখন ভয়েস অব আমেরিকাতে শুনি একজন প্রবাসী ড: আবু মো: জাকারিয়া জার্মান ভাষায় নজরুলকে পরিচিত করে দিচ্ছেন তখন প্রত্যাশার কয়েকটি ফোঁটা জমতে থাকে হতাশার গহবরে। আজকের সকালে আমার কৈফিয়তের মধ্যে সান্ত্বনা খুঁজে পাই না, পথ যে এখনও অনেক বাকী।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



