somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছুটির দিনের কড়চা: আমার কৈফিয়ত

২৫ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছুটির দিনের কড়চা লিখতে গিয়ে মনে হলো নিজের কথা আর কি লিখব? কি হবে লিখে? মন অশান্ত। ভ্যালেরি টেইলরকে নিয়ে জেবতিক আরিফের লেখাটা মনকে খুব বিদ্রোহী করে দিল। কস্টগুলো বিশেষ শব্দ তৈরী করে না। একান্ত উপলদ্ধিতেই বাড়তে থাকে নিজস্ব ব্যর্থতা আর কস্টের পরিসর। প্রেমিক নজরুলের চেয়ে বিদ্রোহী নজরুলকে স্মরণ করলাম কবির ১০৮তম জন্মদিনে। আজকের লেখার শিরোনাম ধার করলাম কবির লেখা আমার কৈফিয়ত (এমপি৩, সুবর্ণা মুস্তফার কন্ঠে) থেকে। চারদিকের অনাচার, অবিচার, শোষণ-শাসন, দুর্বিচার মনকে অশান্ত করে। মনে হয় হতাশা গ্রাস করে আমার সমগ্র সত্বাকে। বারবার বলতে থাকি,

"...বন্ধুগো আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক' মাথায়, বন্ধু, বড় দু:খে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!..."

আমার কৈফিয়তের শেষ পংক্তিতে লেখা কবির ভাবনা, সোনার শত ছেলেরা এসে দেশকে বদলে দেবে। বড়ই অভাগা আমরা। সময় বয়ে যায়, দেশ তো আর বদলায় না। কবির স্বপ্নকে এখনও লালন করতে হয় কবিতার পংক্তিতে। অবিচারের বিরুদ্ধে ঘৃণা আর অভিশাপ ছাড়া আর কোন সর্বনাশ ডেকে আনতে পারি না।
"প্রার্থনা ক'রো - যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ"।

আমি নিজে একজন পাঠক। ঘটনার বাহক। কস্ট ধারণ করি বুকে। বিদ্রোহী হয়ে উঠা হয় না। নিজস্ব কস্ট ও শব্দের সংঘর্ষে আগুণ জ্বালাতে পারি না। তাই, নিজেই নিজেকে দহন করি একান্ত ভাবনায়। কস্টের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে যখন দেখি কবির এই দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি হলেও মানুষগুলো নয়। এতো কিছুর পরও একটু আশার আলো দেখি যখন আশেপাশে দেখি কিছু সাহসী মানুষের বিচরণ। আশায় বুক বাঁধি যখন দেখি কবি নজরুলকে নিয়ে সরকারী উদ্যোগের চেয়ে একজন ড: মোহাম্মদ ওমর ফারুকের উদ্যোগ নজরুল ডট অর্গ সফল হচ্ছে। যখন ভয়েস অব আমেরিকাতে শুনি একজন প্রবাসী ড: আবু মো: জাকারিয়া জার্মান ভাষায় নজরুলকে পরিচিত করে দিচ্ছেন তখন প্রত্যাশার কয়েকটি ফোঁটা জমতে থাকে হতাশার গহবরে। আজকের সকালে আমার কৈফিয়তের মধ্যে সান্ত্বনা খুঁজে পাই না, পথ যে এখনও অনেক বাকী।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩৭
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×