আমার প্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশ নিয়ে ভাবনা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার সংগ্রহমালা

চেতনায় বাংলাদেশ পূর্বকথা:

২৫ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ১:০৯

শেয়ারঃ
0 0

25শে মার্চের রক্তঝরা রাত। তারপর নয় মাসের যুদ্ধ। তারপর স্বাধীন বাংলাদেশ। 35 বছর পর স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাকে আজ জীর্ন-শীর্ণ করার ঘৃণ্য অপপ্রয়াস ও ষড়যন্ত্র চলছে। ইতিহাস বিকৃত করার চেস্টা চলছে খুবই সযত্নে। হয়তোবা একদিন লেখা হবে দেশ কি স্বাধীন হয়েছিল? মুক্তিযুদ্ধ কি? স্মৃতিসৌধ কি? রাজাকারের কাছ থেকে নিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের সনদ-এর চেয়ে বড়ো ট্রাজেডী আর কি? নিজের পরিচিতি আর অহংকার স্বাধীনতার যে চেতনায় বিরাজ করে তাকে হালকা করার ঠুনকো করার চেস্টা অব্যাহত।

যারা রক্ত দিয়েছে, দেখেছে, হারিয়েছে তারা জানে স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ কি? তারা জানে চেতনা কি? তারা নির্বোধদের মতো ঐক্য খুঁজে বেড়ান না। আজকাল অনেকে আবার জাতীয় ঐক্য খুঁজেন, তাদের ভাষায় -স্বাধীনতা পুরনো দিনের কথা, ফেলে আসা অতীতের কথা আর মিলে মিশে থাকার কথা। না, স্বাধীনতার চেতনা আরও অনেক গভীরে, স্বাধীনতার চেতনায় আপোষ নেই, তার শেকড় অনেক সুদৃঢ় ও সুবিস্তৃত আমাদের মননে। হয়তো শামসুর রহমানের কবিতায় তার অনেকটা ছোঁয়া পাওয়া যায়, যখন উচ্চারিত হয়,

"স্বাধীনতা তুমি,
রবিঠাকুুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরূল, ঝাঁকরা চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরূষ, সৃস্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্ঝল সভা।
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল..."

যারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরবে তাদের জন্য আমাদের অনেক শুভেচ্ছা। দু'জন সতীর্থ ব্ল্লগার অমি রহমান পিয়াল ও দীক্ষক দ্রাবীড় স্বাধীনতা যুদ্ধের ত্যাগ, সংগ্রাম ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস তুলে ধরছেন এখানে। স্বাধীনতার চেতনায় আলোকিত হওয়ার এটা হচ্ছে এক অপূর্ব সুযোগ। ধন্যবাদ দিব না, প্রার্থনা করি তাদের লেখা হোক অগণিত নতুন প্রজন্মের জন্য চেতনার দিশারী। যারা স্বাধীনতার চেতনাকে এগিয়ে নিতে পথ দেখাবে। 71'এর হাতিয়ার আমাদের চেতনায় অন্তত: আরেকবার গর্জে উঠুক।

স্বাধীনতার চেতনাকে উদ্ভাসিত করার খুব প্রয়োজন এখন। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান আর অস্বীকার করার প্রক্রিয়ার চলমান পটভূমিতে এর প্রয়োজন আর বেশী অনুভূত হচ্ছে। অবশ্য বিকৃতির এই প্রক্রিয়া হঠাৎ করে শুরু হয়নি। এর পেছনে ছিল অবৈধ সামরিক ক্ষমতাকে পোশাকী গনতন্ত্রের রূপ দেয়ার চেস্টা। সেজন্য অনেকে মুক্তিযুদ্ধের পোশাক পুড়িয়ে রাজাকারদের সাথে হাত মিলিয়েছে। তাদেরকে লালন-পোষন করেছে। ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছে। সেই ধারা এখনও অব্যাহত। আত্ম-স্বার্থ আর নিছক দলীয় স্বার্থের কাছে বলী হয় স্বাধীনতার চেতনা অতি নির্মমভাবে।

কিন্তু তাই বলে, 71'এর চেতনা কোন বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি বিক্রয়যোগ্য নয়। তাকে কখনো নিভিয়ে দেয়া যাবে না। মুছে দেয়া যাবে না। তাই, আমি আশার আলো দেখি। আমি 71'এর চেতনা দিয়ে 2006-কে দেখি। নরঘাতক মৌলবাদী রাজাকার জামাতী ও তাদের পোষক সহযোগী যারা 2006 সালে এসে বিস্মৃতি ও বিভ্রান্তির নেকাব টেনে স্বাধীনতার উজ্জ্বল চেতনাকে ঢেকে দিতে চান, তারা সবসময়ই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে জায়গা করে নিবে। কারণ, একখন্ড হতচ্ছারা মেঘ চেতনার রক্তিম সূর্যকে কতেক্ষণ ঢেকে রাখতে পারবে?

 

প্রকাশ করা হয়েছে: সমাজ সংসার  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:০৩
অতিথি বলেছেন: বাংলাদেশ নিয়ে ভাল একটা লেখা পেলাম । ভাল লাগল ।
ধন্যবাদ ।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৭৯৭২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ