আমি ভাবার চেষ্টা করছি, প্রথম দিনটার কথা। যেদিন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো। দিবার বয়স তখন ২১। অথচ দেখে মনে হচ্ছিলো ১৮'র বেশী নয়। কচি মুখ। এক চিলতে মুখে সবচে সুন্দর তার চোখ দুটি। তবে তার আগে চোখ কাড়বে তার নাকে জমে থাকা ঘামের বিন্দু।
তাকে দেখার পর আমার প্রথম অনুভূতিটা হলো: একটা মাস্টার পিস। ক্যানভাসে ঠিক এমন একটা মুখ আকাঁর চেষ্টা আমি করে যাচ্ছিলাম গত বেশ কিছুদিন। হচ্ছিলো না। কিন্তু ঐ দিন রাতেই মুখটা এঁকে ফেললাম।
পরদিন দিবা আবার এলো। রুমে ঢুকেই নিজের ছবি দেখে ১২ বছরের কিশোরীর মতো চিৎকার দিয়ে উঠলো। ভোররাত পর্যন্ত কাজ করে আমি তখন ঘুমে। ভাঙ্গলো সেই চিৎকারে। ভোরের প্রথম আলোয় দেখলাম: এক তরুনী অনিঃশেষ মুগ্ধতা নিযে তাকিয়ে আছে তার পোট্রেট এর দিকে।
সেই মুগ্ধতা সময়ের সাথে আরও বাড়তে থাকলো। আমিও তখন নিজের সব কিছু ভুলে সেই তরুণীটিকে মুগ্ধ করার প্রতিযোগিতায় নামলাম। একের পর এক আমার রঙ তুলিতে দিবার নতুন নতুন মুখ তৈরী হতে থাকলো। আমাদের দুজনের সম্পর্কটা আমি ভুলে গেলাম।
আদতে দিবা তখন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ছাত্রী-শিক্ষকের প্রেম নতুন কিছু নয়। আমাদেরটাও নতুন কিছু হলো না। নতুন যেটা হলো: তা হলো, ১ মাসের মাথায় আমরা স্বামী-স্ত্রী হয়ে গেলাম।
আসলে তখন দুজনই একটা মারাত্নক ঘোরের মধ্যে ছিলাম। একটা মুহুত্বের জন্য একজনকে ছাড়া অন্যের যেন চলছিলো না। সেই দায় থেকেই দায়মুক্তি ঘটালাম।
তারপর শুরুর সময়গুলো উড়তে লাগলো। ৪ দেয়ালে বন্ধি আমার স্টুডিওটাই হয়ে গেল পাহাড়, হয়ে গেল সমুদ্র! দিবা সারাদিন আমার সামনে বসা। আমি একের পর এক ক্যানভাসে আচড় দিই। ফুল, পাখী নয়; দিবা ফুটে উঠে। তার বসে থাকার ছবি, শুয়ে থাকার ছবি, ঘুমানোর ছবি। ২ মাসের মাথায় আমি শুধু দিবার ছবি দিয়ে আলাদা একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করলাম।
আমার সেই মুগ্ধতা ৩বছর পর আজো কাটেনি। সেই প্রথম দিনের মতোই মুগ্ধ প্রেমিক আমি আজো। এখনও যতবার তাকে দেখি, প্রতিবারই মনে হয়: নতুন চোখে, নতুন চেহারায় তাকে দেখছি।
তবে হয়তো আমার অজান্তেই সুরটা কেটে গেছে। গত কয়েকদিন ধরেই সন্দেহটা দানা বাধছিলো মনে। আজ দিবার কথায় সত্য হলো। দিবার সত্যি সত্যি প্রেম হয়ে গেছে!
এখনো কানে সকালে শোনা দিবার কথাটা বাজছে। " জানো, আমার না প্রেম হয়ে যাচ্ছে" ।
চলবে...........
প্রেম হয়ে যাচ্ছে, (গল্প পর্ব-১)
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



