ব্যাপারটা মনে হচ্ছে আমি খুব একটা খারাপ উপভোগ করছিনা।
এমনটা হওয়ার কথা নয়। তারপরও হচ্ছে। তারমানে মনে মনে, অবচেতনে এমন একটা দিনের জন্য কী আমিও অপেক্ষায় ছিলাম?
দিবার প্রেম হয়ে যাওয়ায় আমার কোন উপকার হবার কথা নয়। আমার কোন আপন-কিংবা পরকীয়া প্রেমিকা নেই। তারপরও ভালো লাগার কারনটা কি?
অনেকক্ষন ভাবার চেষ্টা করলাম। হচ্ছে না। সূত্র মিলছে না। সমীকরণ জটিলতর হচ্ছে।
একটাই উত্তর হতে পারে: ৩ বছরের বৈবাহিক জীবনে আমি হাফিয়ে উঠেছি হয়তো। তাই নিজেকে কেমন স্বাধীন স্বাধীন মনে হচ্ছে।
আমিও হয়তো এমন একটা দিনের প্রতীক্ষায় উন্মুখ ছিলাম।
কেন ছিলাম? প্রশ্নটা নিজেকেই করছি? আমরাতো সুখী। ভালো করে একদিন আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে বলোতো মনে পড়ছে না। না, হয় নি। একদিনও হয়নি।
আছ্ছা, এটা কি স্বাভাবিক? স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ঝগড়া কেন হবে না? তার মানে অস্বাভাবিক! তার মানে আমাদের সম্পর্কটা স্বাভাবিক ছিলো না। স্বামী-স্ত্রীর ছিলেনা।
উদ্ভুত সব প্রশ্ন মাথায় কিলবিল করছে। প্রশ্নরা মাথার উঠোনে চড়ুই পাখি হয়ে ঠোকর দিচ্ছে। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। আসলেতো: আমাদের ঝগড়া হয়নি কেন? একটা উত্তর হতে পারে: আমরা মানিয়ে নিতে শিখে গিয়েছিলাম। দিবার অনেক অপছন্দের অভ্যাসে আমি অনভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। তার বেলায়ও একই কথা।
এমনো হতে পারে, মানিয়ে নিতে নিতে আমরা হাফিয়ে উঠেছি। তাই এই হঠাত কুড়িয়ে পাওয়া এই অবসরের সুযোগটাকে মনে হচ্ছে লোভনীয় কিছু।
এটা ঠিক যে ঠিক স্বাভাবিক ছিলাম না আমরা। আমার প্রতি সেই প্রথম দিনের শ্রদ্ধা আজ অবধি তার কমে নি একটুকুও। আর আমিতো এখনো তার সেই প্রথম দিনের প্রেমিক রয়ে গেলাম। এখনো দিবা আমার সামনে এলে আমার হৃদয়ের কম্পন বেড়ে যায়। এখনো যতবার তাকে দেখি প্রতিবারই মনে হয়: এই বুঝি প্রথম দেখলাম। এই বুঝি আমাদের প্রথম পরিচয়। আমাদের ভালোবাসাটাতো নিত্য নতুন রুপে ধরা দিচ্ছিলো।
আমার হাত কাপে, চোখের পাতা কাপে। চোখ তুলে কতবার তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম অপলক, তার হিসেব কে রেখেছে বলো! সেই দিবা, যে কিনা আমার ৩ বছরের বউ, সে আজ বললো: তার প্রেমের কথা।
আমি মনে হয় আচ করতে পারছি, তার প্রেমিকটা কে?
আমার হাত ধরেই, আমার তৈরী করে দেয়া সুযোগেই যে ছেলেটা তার প্রেমিক হয়ে গেল............
চলবে
প্রেম হয়ে যাচ্ছে, (গল্প পর্ব-১)
Click This Link
প্রেম হয়ে যাচ্ছে, (গল্প পর্ব-২)
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



