somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টানা তিন দিন কাজ করে চিরবিদায়

২১ শে আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৪:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুক্তরাজ্যে টানা ৭২ ঘণ্টা, অর্থাৎ তিন দিন কাজ করার পর মরিত্জ এরহার্ডট নামের ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিশ মারা গেছেন। তিনি ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিনচে সাত সপ্তাহের জন্য শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছিলেন। শিক্ষানবিশের শেষ পর্যায়ে তিনি মারা গেলেন।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানা যায়।
গতকাল ভোর ছয়টা পর্যন্ত টানা তিন দিন কাজ করছিলেন। এরপর তিনি নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে যান। পরে একই ফ্ল্যাটের সঙ্গীরা তাঁর লাশ আবিষ্কার করেন।
পীড়নকর কাজের চাপে ওই শিক্ষানবিশের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর নগরের বিনিয়োগকেন্দ্রিক ব্যাংকগুলোতে কর্মঘণ্টা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনীতিবিষয়ক জনপ্রিয় ব্লগ ওয়ালস্ট্রিটওয়াসিস ডটকমে একজন লিখেছেন, ফ্ল্যাটে মরিৎজের সঙ্গে থাকা লোকজন শাওয়ারের নিচ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে।

মরিৎজের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা না গেলেও পুলিশ বিষয়টিতে মরিৎজের ফ্ল্যাটের লোকজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখেনি।

তবে বিভিন্ন খবরে বলা হয়, জার্মানির ফ্রেইবার্গের মরিত্জ মৃগী রোগে ভুগছিলেন। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসাপ্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।

যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মের ছুটিতে সাত থেকে ১০ সপ্তাহের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে শিক্ষানবিশ হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন প্রায় ৩০০ জন।

নাম না প্রকাশের শর্তে একজন শিক্ষানবিশ ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’কে বলেন, ‘আমরা সবাই দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করি। কিন্তু মরিত্জ সব সময়ই রাত তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত কাজ করতেন। বিনিয়োগ শাখায় কর্মরত মরিৎজের মতো সব শিক্ষানবিশকে এমন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। বিপণন শাখার লোকজনেরও ভোর ছয়টা পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও তাঁরা থাকেন না। তাই আসলে অফিস থেকে বের হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর বিভাগের ওপর।’

লন্ডনভিত্তিক হূদরোগবিশেষজ্ঞ অসীম মালহোত্রা শিক্ষানবিশদের অমানুষিক কাজের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদিও এই মৃত্যুর কারণ জানি না। এর পরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত কাজ, বিশেষ করে রাতে কাজ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।’

গত বছর চিকিত্সা সাময়িকী ‘বিএমজে’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যাঁরা রাতে কাজ করেন, তাঁদের হূদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সম্ভবত ঘুমের ঘাটতি ও চাপের কারণে এমন হতে পারে।

ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিনচের পক্ষ থেকে মরিৎজের কর্মঘণ্টা বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ব্যাংকের আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিভাগের প্রধান জন ম্যাইভার বলেন, ‘আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছি।’ তবে ব্যাংকের বিনিয়োগ শাখায় কর্মীরা দীর্ঘ সময় কাজ করেন কি না, জানতে চাইলে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।

ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শক গ্রুপ ফাইন্যান্সইনটারনস দীর্ঘ সময়ের কাজের এই সংস্কৃতির নিন্দা জানান। তরুণেরা গ্রীষ্মকালীন শিক্ষানিবশের কাজ পেয়ে উত্ফুল্ল হয়ে ওঠেন। তাঁরা মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে হয়তো তাঁর স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু পীড়নকর এই কাজের চাপে এই তিন মাস তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বাজে সময় হয়ে দাঁড়ায়।

Click This Link
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘মেঘফুল’ শব্দে শব্দে শিল্প!

লিখেছেন নীলসাধু, ৩০ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:২৯


‘মেঘফুল’
শব্দে শব্দে শিল্প!
শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক ত্রৈমাসিক ‘মেঘফুল’ ৭ম বর্ষ শ্রাবণ সংখ্যায় লেখা পাঠাতে আগ্রহীদের জন্য :: :: ::

# লেখা বিজয় অথবা ইউনিকোডে কম্পোজ করে পাঠানো যাবে।
# লেখার সাথে অবশ্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা আড়ং এর পণ্যে ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারেননা তারা একটু পড়বেন

লিখেছেন শারলিন, ৩০ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:২৭

পবিত্র রমজানে মাসে সোমবার (১৩ জুন) ইফতার সাজিয়ে বসেছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় এক ফার্মাসিটিউকেলসের প্রায় ৬০০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। ইফতারের বিভিন্ন আইটেমের সাথে ছিলো আড়ংয়ের লাবান। কিন্তু সেই লাবানয়ের গায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেইসব নষ্ট পুরুষদের জন্য..

লিখেছেন কাজী ফাতেমা, ৩০ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১:১৭


©কাজী ফাতেমা ছবি

তোরা এতো হিংস্র কেনো?
দৃষ্টি এতো তীক্ষ্ম কেনো?
যেদিক তাকাস অগ্নি যেনো!

তোরা এতো লোভী কেনো?
এদিক ওদিক হাত বাড়িয়ে দিস-বা কেনো?
তোদের বাড়িত্ বউ আছে!
পরের বউ'র দিকে নজর-ই কেনো?

তোরা বউরে ভাবিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

“কেন এই স্বাধীনতা? কার জন্য এই স্বাধীনতা? ”

লিখেছেন অনন্যা নাসরিন অবন্তি, ৩০ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:২৮



অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা।পেয়েছি সার্বভৌম একটি ভুখন্ড।একটি স্বাধীন দেশ।
একটাই স্বপ্ন ছিল আমাদের,নিজেদের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীন প্রকাশ ঘটাব।কেউ আমাদের বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেনা।কেউ আমাদের চলার পথকে রুদ্ধ করে দিয়ে,তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত বিরোধীতা বাড়ছে, তবে বিরোধিতা করছে কারা?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০১ লা জুলাই, ২০১৬ রাত ১:০৯



মনে হয়, বাংগালীরা ভারত বিরোধী হয়ে জন্মে জেনেটিক্যালীই; ভারত বিরোধীতাকে যদি আমরা ১ থেকে ১০ ইউনিট স্কেলে মাপি, তা'হলে একজন বাংগালী শিশু জন্মের সময়, গড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×