somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফেনা
আমি অরণ্য খায়েশ ফেনা (শাহ্ কামাল)। পড়শুনা যদিও ইলেক্ট্রিক্যাল এ কিন্তু পেশাগত দিক থেকে একটা বিদেশী কম্পানীতে এ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ পদে কর্মরত আছি। সেই সুবাদে আমি একজন প্রবাসী। শখের বশে লিখি। লিখতে ভাল লাগে। মনের কথা, কষ্ট, বিভিন্ন অসংগতি যা চোখের সামনে আসে।

ছোট গল্পঃ অসম প্রেম

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠি। আজো লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। কিন্তু অন্য দিন এইভাবে লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠলে শরীরটা হালকা কেপেঁ উঠে। আজ তেমন কিছু হয়নি। কেমন যেন একটা ভাল লাগার মোহ কাজ করছে। অদ্ভুত রকমের ভাল লাগা। যেই বিষয়টায় ভাল লাগার কথা নয়, তাতেই ভাল লাগছে। মনে মনে ভাবতে লাগলাম আমার কি তাহলে মানসিক কোন সমস্যা হচ্ছে!!! না। তা নয়।

ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম যদি প্রেম করি তাহলে আমার থেকে দশ বা পনের বছরের বড় কোন সাথে প্রেম করব। কিন্তু তাদের কাছে ভিড়তে সাহস হত না।
তার পর অনেক বসন্ত কেটে গেছে। এই চিন্তার আর মাথায় আসেনি। কিন্তু জীবনের একটা সময় সাংসারিক জীবনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার পর আবার মাথা উকি দেয় সেই অদ্ভুত আকাংখা। বিষয়টা উকি দেওয়া পর্যন্তই ছিল। কিন্তু আজ হটাৎ করেই আমার দেহ মনে সেই চিন্তার প্রতিফলন।

আজ স্বপ্নে আমি একজনকে প্রপোজ করেছি। সে আমার থেকে দশ বা পনের বছরের বড় হবে। হুম, তাকে আমি চিনি। সরাসরি চিনি না। ফেসবুকের কল্যানে আমাদের পরিচয়। সে লেখালিখি করে, আমিও অল্প বিস্তর করি। সেই সুবাদে যোগাযোগ, কথা বার্তা চলতে থাকে। এইটা কোন ব্যাপার ছিল না। মূল কারণ হল তার কয়েকটা ছবি। যার কারণে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়েছি আমি নিজেই। তার ছবি দেখে আমি কেমন যেন গভীর রকমের স্মোহিত হয়েছি। তার চোখে কামনা, না না শুধু কামনা নয়; একটা মায়াও আছে। যেন কিছু একটা বলতে চায়। ঠোট গুলি বেশ আবেগী। স্থির ঠোট দেখেও মনে হয় আবেগে ঠোট জোড়া কাপঁছে।

চেহারায় যথেষ্ট রকমের বয়সের ছাপ আছে। বলা যায় সে একজন বয়ঃষ্কা যুবতী। যুবতী বলার যথেষ্ট কারণ আছে। এই পয়ঁতাল্লিশ পঞ্চাশে এসেও যার চোখে মুখে যুবতীর মত এত কামনা, মায়া, আবেগ প্রতিফলিত হয় তাকে যুবতী না বলে কোন উপায় আছে!!

আমি তাকে প্রপোজ করার পর তার হ্যাঁ বোদক উত্তর পেয়ে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারিনি। জড়িয়ে ধরে তার চুম্বন্দানীতে চুম্বন করেছি। শিহরীত হয়েছি। এই অসম প্রেমের চুম্বনে আমার সারা শরীর কাপঁছে। এই অবস্থাতেই আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে সমুদ্রের হিমেল হাওয়ার আনন্দ অনুভব করতে থাকি। অনুভব করেছি প্রাপ্তির বিশালতা। মনে হতে থাকে আমার শীর ধারায় একটা শীতল হিমবাহ বয়ে চলেছে।
কি ভাল লাগা। কি রকমের আনন্দ তা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। কারণ কিছু কিছু বিষয় আছে শুধু অনুভবেই উপলব্দি হয়। অংগ বা বাক্য প্রয়োগে নয়।

সকাল দশটা বাজে। আজ অফিস নেই। রুমের বাহিরে একটা ভাংগা বেঞ্চে বসে সিগারেট টানছি। মনের মধ্য একটা ইচ্ছা প্রবল। এখন যদি তার সাথে একটু দেখা করতে পারতাম; খুব ভাল হত। কিন্তু কিছুই করার নাই। আমি এখন তার থেকে পাচঁ হাজার আট শত সাতাশ কিলোমিটার দূরে বসে আছি।
তার চিন্তায় ঢুবে থেকে একের পর এক সিগারেট টানছি আর ভাবছি। হঠাত মনে হল- দেখা করতে পারছি না ত কি হয়েছে। তার মোবাইল নাম্বারে ত একটা কল দেওয়া যায়। যেই চিন্তা সেই কাজ। মোবাইলটা এনে নাম্বারটা ডায়াল করলাম। আমার হাত এখন অল্প বিস্তর কাপঁছে।
ফোনটা কানে ধরতেই বুঝতে পারলাম, তার মোবাইলে রিং বাজছে। নাহ কলটা ধরেনি। আবার কল দিব কি দিব না এই ভাবতে ভাবতে মোবাইলের ইয়েস বাটনে চাপ দিয়েই দিলাম। আবার ফোন কানে ধরলাম। হুম এবার রিং বাজছে। রিং বাজছে ত বাজছেই… হ্যা এবার ধরেছে। অপর পাশ থেকে –
- হ্যালো…
- হ্যালো
- কে আপনি?
- আমি অরণ্য, কেমন আছেন?
- জি …… টু-ট টু-ট টু-ট …… লাইনটা কেটে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:২৬
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্কাইপ বন্ধে সমস্যা কি?

লিখেছেন nahih09, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ২:০৭

স্কাইপ বন্ধে সমস্যা কি? এ বিষয়ে আলোচনার আগে এটা জানতে হবে বাংলাদেশে স্কাইপ ব্যাবহার করে টা কে?



বাংলাদেশে স্কাইপ ব্যবহারকারী খুবই কম। তবে যে কয়জন ব্যবহার করে তাদের প্রায় এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘুঘু পাখির বসত গড়ি!

লিখেছেন নীল আকাশ, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:১৫


ছবিঃ ১ - আমার বারান্দায় ঘুঘু পাখি

আজকাল প্রায় সকাল বেলাই আমার ঘুম ভাঙ্গে বিভিন্ন পাখিদের সুমধুর ডাকে। কি যে ভালো লাগে! সকালে উঠেই মনটা একদম অন্য রকম হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন আছো সামহোয়ার ইন!

লিখেছেন অগ্নি সারথি, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:১৫



দুটো ছোট গল্পঃ

১। পরীবাগে আগুন!
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত্রীতে কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে দপ করে জ্বলে ওঠে উপশহর মাগীপাড়া। বাড়িওলি থেকে শুরু করে সর্দারনী, ছুকরী কেউ রেহাই পায়নি সেদিন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালী, মানুষকে খেতে দেয়, দরিদ্রদের খেতে দেয়!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৩



এই ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার দশম শ্রেণীর শুরুর দিকে: আমার ঘনিষ্ঠ ক্লাশমেট, মেশকাত ইলেকটিভ ম্যাথে একটু কাঁচা ছিলো; সে আমার দলে ফুটবল খেলতো; তাই, তাকে অংকে সাহায্য করতে হতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রামানিক, গুরু তোমায় ছড়াঞ্জলি (গণতন্ত্রের উল্টো কথা)

লিখেছেন কি করি আজ ভেবে না পাই, ২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪০



মূলঃ গণতন্ত্রের উল্টো কথা-ছড়ারাজ প্রামানিক

হলোই না হয় চোর বাটপার
ঠগ বা ওদের দালাল;
দলের টিকেট পেলেই তো ব্যস
সব হয়ে যায় হালাল।

কে দাঁড়ালো সে কেবা চায়
মার্কা বাপু মুখ্য;
সুখ কিবা দুখ মার্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×