পীর একটি ফারসি শব্দ। প্রচলিত অর্থে পীর বলতে আমরা ধর্মগুরু বা ধর্মীয় বিষয়ে আধ্যাত্মিকতার অধিকারী ব্যক্তিকে বুঝি। কোরআন ও হাদীসের কোথাও সরাসরি এই শব্দটি আসেনি। সে যাই হোক আমাদের উপমহাদেশে পীর ও মুরীদ শব্দ দু'টির যথেষ্ট প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। পীরগণ সাধারণত একটা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে চলেন এবং লোকদের বয়াত (তাদের তারিকার শপথ) দিয়ে থাকেন। জীবিত অবস্থায় তাদের থাকে একটি খানকাহ এবং মৃত্যুর পর তাদের কবরের ওপর গড়ে ওঠে মাযার। মাযারে মানতকৃত অর্থ দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক পীর ও মাযারের খাদেমরা। মাযারে যে টাকা পয়সা দান করা হয় তার ফায়দা তো মৃত পীর সাহেব নিতে পারেন না বরং তা দিয়ে জীবিত খাদেমরা রীতিমত টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে দানবাক্সের মাধ্যমে বিভিন্ন মাযারের অর্থ কালেকশন চলে। দেশে আজ এটি বিনা পুঁজিতে সহজ ও দারুণ ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। জ্ঞান বিজ্ঞানের এ যুগেও দলমত এবং ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে অনেক মানুষ অন্ধতা ও অজ্ঞতাবশত মাযার প্রেমিক হয়ে উঠেছেন। কিছু কিছু মাযারে কবরের কোন অস্তিত্বই নেই তথাপি মানুষ সেই মাযারকে রীতিমত ভক্তিশ্রদ্ধা করে আসছে। বাংলাদেশে বেশিরভাগ পীরের প্রতিষ্ঠার পেছনে তাদের বংশানুক্রমিক একটি ধারা এবং একদল মুরিদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এক পীরের তরিকার সাথে নেই আরেক পীরের তরীকার মিল। দেশে বিভিন্ন পীরের মোট কতটি তরিকা রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। সাধারণ মানুষের একটি শ্রেণী তাদের জন্য হাদীয়া তোহফা নিয়ে আসেন এবং পীরের দরগায় সামান্যতেই বিভিন্ন জিনিস মানত করে থাকেন। প্রশাসনের বিভিন্ন ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও ভেজাল পীরদের রিরুদ্ধে কোন ধরনের বিশেষ অভিযান লক্ষ্য করা যায় না। ভেজাল পীরদের প্রাদুর্ভাবে আজ সত্যিকারের আল্লাহর অলীদের প্রতিও মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি কমে যাচ্ছে। পীরের অনেকেই জীবিত থাকতে আল্লাহর ওলী ও জনসেবক ছিলেন। একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার যে, আমরা কখনো সত্যিকার আল্লাহর অলীদের বিরুদ্ধে কথা বলি না বরং আমাদের বক্তব্য হলো মাযার নিয়ে যারা ব্যবসায় করেন তাদের বিরুদ্ধে। প্রকৃত অলীগণ বেঁচে থাকলে হয়তো বর্তমানে মাযারের খাদেমদের সবার আগে শায়েস্তা করতেন। প্রায় সব মাযারের বছরান্তে ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রাতভর চলে উন্মাদনা, উন্মত্ততা, মদ, জুয়া, হাউজির আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপ। উপন্যাস হিসেবে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু সার্থক হলেও মাজার ব্যবসায়ীদের চুলও স্পর্শ করতে পারেনি উপন্যাসটি। কারণ তারা (মাযার ব্যবসায়ীরা) হলেন জ্ঞানপাপী ও ধর্মীয় লেবাসধারী সতর্ক শয়তান। অজ্ঞতাবশত আমাদের দেশের অনেক নিরীহ মানুষ মাযারে মোমবাতি, আগরবাতি, নিয়ত, মানত ও উপাসনার মাধ্যমে প্রকারান্তরে শিরকের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছেন। মাযার ও পীরকে নিয়ে আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে অনেক কাল্পনিক কাহিনী। আবার জীবিত অবস্থায় অনেকে ছিল পাগল-ছাগল কিন্তু মৃত্যুর পর পরিণত হয়েছে বিশাল পীর হিসেবে এবং তাদের কবরকে ঘিরে বেশ শান-শওকতের সাথে গড়ে উঠেছে বিশালাকৃতির মাযার। কিছু কিছু মাযারের নাম শুনেও পীর-মুরীদী তত্ত্বের অসারতার প্রমাণ মেলে। যেমন: টাকশাহ মিয়া (রহঃ) এর মাযার, বদনা শাহর মাযার, গরম বিবির মাযার, ডাল চাল (রহঃ)-এর মাযার, কয়লা শাহ-এর মাযার, মাস্তান শাহ-এর মাযার। প্রশ্ন হলো এসব পীর যদি ইসলামের খেদমতই করে থাকেন তবে তাদের নাম কুরআন হাদীস মোতাবেক না হলে এমন বিকৃত রুচির হলো কেন? পীর, মুরীদ ও খাদেমদের বেশিরভাগই উসকু-খুসকু ও অবিন্যস্ত লম্বা চুল ও দাড়িতে একাকার থাকতে দেখা যায়। অধিকাংশ মাযারই পরিপূর্ণভাবে পাকা এবং রং-বেরং এর কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকতে দেখা যায়। অনেক সময় ভন্ড পীরের খপ্পরে পড়ে অনেক অসহায় মানুষ সর্বশান্ত হচ্ছেন, কুসংস্কারের অতল গহবরে জড়িয়ে পড়ছেন এবং ইজ্জত আব্রু বিকিয়ে দিচ্ছেন। তাই আর যাই হোক প্রশাসকের নিকট আমাদের দাবি হচ্ছে- পেশা হিসেবে পীর-মুরীদীর বিষয়টি খতিয়ে দেখা। সর্বক্ষেত্রে পীরের ছেলে পীর হয় কিভাবে? বুদ্ধিজীবী মহলের উচিত এসব মাযার ব্যবসায়ীর মুখোশ উন্মোচন করে দেশের সর্বসাধারণকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করা এবং এ বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরি করা। আসলে ভেজাল পীর-মুরীদী প্রথা ও প্রকৃত ইসলামের বিরোধিতা একই সূত্রে গাঁথা। পত্র-পত্রিকায় কিছু কিছু ভন্ডপীরের কু-কর্মের কাহিনী প্রকাশ করা হলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। অথচ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ মুসলিম দেশের আল্লাহর অলীদের মাযার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকা উচিত সরকারের হাতে। দেশের প্রতিটি মাযারের দানবাক্সের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে যা দিয়ে সরকার জনসেবামূলক এমন সব সাদকায়ে জারিয়ার কাজ করবে যাতে করে কবরে শায়িত ব্যক্তিদের আত্মা শান্তি পাবে।
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।