মোবাইল ফোনের আবির্ভাব ও ব্যাপক ব্যবহার বাংলাদেশকে কয়েকগুণ দ্রুততর করে দিয়েছে। মোটমুটি সবার হাতে হাতেই এখন মোবাইল দেখা যায়। মোবাইল না থাকলে যেন মানুষের বন্ধুসমাজে কোন দামই নেই। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেনা ক্যাম্পে প্রত্যেকের কাছে একটি করে অস্ত্র না থাকাটা যেমন অস্বাভাবিক বা আশ্চর্যজনক, তেমনি বর্তমানে সবার পকেটে মোবাইল না থাকাটা যেন তেমনই অবাক করা ঘটনা। যে বয়সেরই হোক না কেন, মোবাইল না থাকলে সবাই কেমন যেন একটা দৃষ্টিতে তাকায়। ভাবটা এমন, ও, মোবাইলও নেই। বেচারা কতই না জানি গরীব। ভাত খেতে পায় কি না কে জানে!!!
কিন্তু আসলে মোবাইল কি আমাদের যতটা উপকার করছে, তার চেয়ে বেশি অপকার করছে না? কে জানে!!
একটা সময় ছিল, যখন মোবাইল একটা দুরন্ত আশা ছিল। কারো হাতে মোবাইল দেখলে তাকে মানুষ কোটিপতি ভাবতো। আর যে মোবাইল পেত, হাহ্। তাকে তো মনে হতো আকাশের চাঁদ না, বরং যেন মঙ্গল গ্রহের মাটি হাতে পেয়েছে। এমন একটা ভাব নিয়ে চলাফেরা করত। সমাজে শ্রেণীবিভাগের সৃষ্টি হতো। যাদের মোবাইল আছে, তাদেরকে নেতা নেতা মানা হতো। অবশ্য ঐসময়কার সেটগুলো এখন মানুষকে বিনামূল্যে দিলেও আর নিবে না। কারণটা তো সবারই জানা।
মোবাইলের যখন বৈপ্লবিক বিস্তৃতি পেল দেশব্যাপি, তখন থেকেই শুরু হয় এদেশের মানুষদের মোবাইলপ্রীতি।
মোবাইলের যুগের প্রথম দিক থেকে এদেশের মানুষের একটি মুদ্রাদোষ লক্ষ্য করা যায়। সেটি হচ্ছে কারণে আর অকারণে, চেনা বা অচেনা নাম্বারে মিসকল দেয়া। এটা যে কত বিরক্তিকর, তা শুধু ভুক্তভুগীরাই বোঝে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আগে তেমন একটা মিসকল দিতাম না। যদি দিতামও, পরিচিত নাম্বারেই দিতাম। অপরিচিত নাম্বারে মিসকল দিতে আমার বিবেকে বাঁধে। এছাড়াও ইদানীং একেবারেই মিসকল দেইনা। কিন্তু কেউ যখন মিসকল দেয়, এত বিরক্ত লাগে। মনে হয়ে যে মিসকল দিয়েছে তার মোবাইলটা ভেঙ্গে দিই। কিন্তু কী করব, সম্ভব না!
আপনিও শপথ করুন
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১১ রাত ১২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



