somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্কুলে থাকতেই সাংবাদিক বেশে প্রথম নোয়াখালী ভ্রমণ

১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জার্নালিজমে প্রচুর আগ্রহ থাকার বদৌলতে দৈনিক পত্রিকার আইটি বিভাগে কন্ট্রিবিউটরের কাজ নিয়েছি। স্কুলে পড়ি, তাই শুনতে একটু আশ্চর্যজনক শোনালেও কাজটা পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। সেই আইটির কাজেই কিছুদিন আগে নরসিংদী যেতে হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক (বিটিএন) এর উদ্যোগে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির কাজ সরেজমিন পরিদর্শনে কয়েকজন জার্নালিস্টকে ঢাকা থেকে নরসিংদী নেয়া হয়। ভাগ্যক্রমে সেই ট্যুরে আমিও যাই। প্রথমবারের মতো সাংবাদিকের বেশে কোথাও যাওয়া..সত্যিই অন্যরকম এক অনুভূতি। নরসিংদী ঢাকার কাছেই হলেও সেই অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ছিল মনে রাখার মত। তবে গতকাল একই পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী গেলাম। আগে কখনো নোয়াখালী যাইনি তাই গতকালের অভিজ্ঞতাটা ছিল ভিন্ন।

জাতিসংঘের অফিসের সামনে সকাল পৌনে সাতটায় পৌঁছি। সেখানে ইউএনডিপি'তে কর্মরত এক অফিসারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। সোয়া সাতটার দিকে অর্গানাইজার ও বিটিএন প্রোগ্রাম অফিসার এডওয়ার্ড ভাই আসেন এবং তার কিছুক্ষণ পর এসি মাইক্রোবাসটি আসে। যাত্রীসংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। প্রথম আলোর আরাফাত শাহরিয়ার ভাই ও যায়যায়দিনের আমি। নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ঢাকার আইডিবি'র সামনে থেকে রওনা হই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে। মাঝখানের মেঘনা সেতুতে মেরামত কাজ চলমান থাকায় কুমিল্লা ও ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া ঘুরে যেতে হয়। অবশ্য এতে লাভই হয়েছে। অসাধারণ সব নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করি ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়ার পথগুলোতে। বিশেষ করে দুইধারে উঁচু পাহাড়ী টিলার মধ্য দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পথ অতিক্রমের অভিজ্ঞতা ভোলার মতো না। এক ঘন্টার রাস্তা কয়েকঘন্টা লাগিয়ে তারপর বিকাল তিনটার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জয়াগ ইউনিয়নে অবস্থিত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সহায়তায় চলমান পল্লীতথ্য কেন্দ্রে পৌঁছি। সেখানে দেখি গ্রামবাংলার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা পৌঁছে দেবার প্রশংসনীয় এক উদ্যোগ। সবশ্রেণীর সকল স্তরের মানুষের কাছে প্রযুক্তির সেবা ও তথ্য পৌঁছে দেবার অসাধারণ এ উদ্যোগ দেখে আমরা সবাই অভিভূত হলাম।
অফিস কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করলাম ও বোঝার চেষ্টা করলাম কীভাবে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, কোন সমস্যার সম্মুখীন হন কি না ইত্যাদি। প্রথম প্রথম বলে আমি নিজে প্রশ্ন খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ধন্যবাদ এডওয়ার্ড ভাইকে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে তথ্য আদায় করে নিচ্ছিলেন যা পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরিতে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে। আমি অবশ্য উক্ত পল্লীতথ্য কেন্দ্রে কর্মরত তিনজন তথ্যকর্মীদের ইন্টারভিউ বেশ ভালোভাবেই নিতে পেরেছি। আমার প্রতিবেদনে আবার মেয়েদের ইন্টারভিউ বেশি থাকে কি না B-) । পরে যখন বুঝলাম প্রতিবেদন তৈরির জন্য যথেষ্ট রসদ জোগাড় হয়েছে, তখন বাড়ি ফিরার তাগাদা অনুভব করলাম। কারণ, ঘুরপথে ঢাকায় আসতে ছয় থেকে সাত ঘন্টা সময় লাগে। নোয়াখালী যাবার সময় কোন জ্যামে না পড়েই এতসময় লেগেছে। আর যদি জ্যামে পড়ি, তাহলে তো অবস্থা খারাপ হবে। বাসায় পৌঁছতে পৌঁছতে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়ে যাবে। :D

সাড়ে চারটার দিকে আবার রওনা হলাম। তখন সূর্য ডুবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবারো বি.বাড়ীয়ার পাহাড়ী রাস্তার মধ্য দিয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে যাচ্ছিলাম। আবার চারপাঁচ ঘন্টার টানা ভ্রমণ। মাঝখানে অবশ্য এডওয়ার্ড ভাইয়ের স্ব-উদ্যোগে বেশ ভালই কয়েকবার ভোজনের আয়োজন করা হয়।
ন'টা কিংবা দশটার দিকে বোধহয় ঢাকায় ঢুকলাম। সারা রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের ছিঁটেফোটাও দেখলাম না, যাত্রাবাড়ী এসেই জ্যামে পড়লাম। বিরক্তিকর জ্যাম অতিক্রম করে আমি ঢাকা মেডিক্যালে নামলাম রাত সাড়ে দশটার দিকে। সেখান থেকে ভাইয়ার রুমে চলে গেলাম।

একদিনব্যাপী এই ভ্রমণের কথা অনেকদিন মনে থাকবে। সাংবাদিক বেশে নোয়াখালী গমণ, প্রকৃতির অপরূপ নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ ও এডওয়ার্ড ভাইয়ের আন্তরিক ব্যবহার ও ভোজনায়োজন :D সব মিলিয়ে মনে রাখার মতো একদিন দিন ছিল গতকাল।

সবার কাছে অনুরোধ রইল যায়যায়দিনে প্রকাশিতব্য রিপোর্টটি পড়ার জন্য। কবে প্রকাশ হবে জানিনা। তবে প্রকাশ হলে পোস্টের মাধ্যমে অবশ্যই জানাবো। সামনে পরীক্ষা। বিটিএন এর দেশব্যাপী ট্যুরের ধারাবাহিকতায় আগামী সফর সম্ভবত চট্টগ্রামে হবে। যদি ডিসেম্বর ১ এর আগে হয়, তাহলে মিস করবো। দোয়া করেন যাতে আমার পরীক্ষা শেষ হবার পর অনুষ্ঠিত হয়। আর হ্যাঁ, পরীক্ষা যেন ভাল হয়, সেই দোয়া করতে ভুলবেন না যেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১১ রাত ১০:০০
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×