আমার প্রিয় পোস্ট

I realized it doesn't really matter whether I exist or not.

ব্যতিক্রমী বিশ্ব রেকর্ড ও হবু বিশ্বরেকর্ড [সচিত্র]

১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩০

শেয়ারঃ
0 0 0



আপনার কাছে হয়তো পৃথিবীতে শুধু সকালে উঠে কাজে যাওয়া বা ক্লাসে যাওয়া আর কাজ থেকে ফিরে ঘরের কাজ করা ছাড়া আর কিছু না। কিন্তু বহির্বিশ্বে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে আশ্চর্যজনক ও অবিশ্বাস্য অনেক ঘটনা। টিভি না দেখার কারণে আমরা অনেকেই হয়তো এসব মিস করি। বিশেষ করে এএক্সএন চ্যানেলের দর্শকরা এজাতীয় অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য সব ঘটনাগুলো দেখে থাকেন। শত শত নয়, বরং হাজার হাজার অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে রহস্যময় এই পৃথিবী। তার কিছুটা মাত্র তুলে ধরছি এই পোস্টে।
===========================================
ওল্ডেস্ট টুইন
একজন মানুষের একাধিক মাথা, অর্থাৎ, একই শরীরে দুইজন মানুষের কথা হয়তো আমরা অনেকই শুনেছি। এদের অধিকাংশই জন্মের কিছুদিন পরই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে অথবা পরবর্তীতে আলাদা করার জন্য অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করা সম্ভব হয়েছে কিংবা মারা গেছে। কিন্তু এই জোড়া পৃথিবীর পুরনোতম ইতিহাস। ১৯৫১ সালে এই টুইনের জন্ম হয়। অর্থাৎ, ৫৭ বছর বয়সী রনি আর ডনি পৃথিবীর পুরনোতম জোড়া যাদের পেটের কাছে এসে শরীর এক হয়ে গিয়েছে। প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করেই জীবনের ৫৭টি বছর পাড়ি দিয়ে মেডিকেল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই দুজন। তাই বিশ্বরেকর্ডের বইয়ে তাদের নাম খুব সহজেই উঠে গেছে।

-
দীর্ঘতম কান
কুকুরটি কান পৃথিবীর মধ্যে দীর্ঘতম বলে বিবেচিত হয়েছে এবং তাই গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পেয়েছে প্রাণীটি। এটি ২০০২ সালের ঘটনা। জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই কুকুরটির কান ত্রিশ হাজার পাউণ্ডের বীমা করা আছে।

-
শক্তিশালী পেশিবহুল বাচ্চা
সাউথ চায়নার গুয়ানজি প্রদেশের কথা। ২০০২ সালে মাত্র ৭ মাস বয়সী এই বাচ্চাটি একটি রশি ধরে ৩৩.৬৭ সেকেন্ড ঝুলে ছিল। তার পেশির এই জোর দেখে সেখানকার সবাই অবাক হয়েছেন। তার মা-বাবা তাদের বাচ্চার এই ক্ষমতাকে বিশ্বরেকর্ড বইয়ের অন্তর্ভূক্ত করার আশা করেন ।

-
শিশুরা মাতৃক্রোড়ে
মা তার বাচ্চাকে দুধ পান করাচ্ছেন, খুবই প্লিজেন্ট একটি দৃশ্য এটি। আর এর মাধ্যমেই গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নিল ৫৩৬জন মা। ২০০১ সালে একটি সিনেমা কমপ্লেক্সে এই ৫৩৬জন মা একসঙ্গে একই সময়ে নিজেদের বাচ্চাকে দুধ পান করিয়ে পূর্বের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

-
লঙ্গেস্ট লেগ
ইংল্যান্ডের অধিবাসী লিসা। বিশ্বের সবচাইতে লম্বা পা-এর অধিকারী।

-
বৃহত্তম রোলার কোস্টার
গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃক স্বীকৃত বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোলার কোস্টারটি অবস্থিত চীনে। ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন এটির টেস্ট রাইড যা সম্পন্ন হয়েছিল ২০০০ সালে। এর নাম "স্টিল ড্রাগন"।

-
পানিতে ডান্স
গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাওয়ার আশায় ১৯৯৮ সালে আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দম্পতিদের কাণ্ড দেখুন।

-
হাত এবার মুখে
প্রায় কব্জি পর্যন্ত হাত মুখের মধ্যে পুরে নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়তে ব্যর্থ হননি স্টিভেনস।

-
চুলের গোছা
চীনের এই ব্যক্তি ৩১ বছর ধরে চুল কাটেননি। শেষবার চুল ধুয়েছেন ৬ বছর আগে। তিনিও গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাবার আশায় রয়েছেন। কারণ, তার রয়েছে ৩১ বছর ধরে না কাটা ২০ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা চুল। বিশ্বরেকর্ড গড়তে যথেষ্ট।

-
বুড়ো বাচ্চা
বাচ্চাদ্বয় হলেন গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের প্রার্থী। এদেরকে পৃথিবীর সবচাইতে ভারি বাচ্চা বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ডান পাশের ১৫ মাস বয়সী বাচ্চাটির ওজন ২৬ কেজি এবং বাম পাশের পাঁচ বছর বয়সী বাচ্চার ওজন ৬২ কেজি। ছবিটি জর্জিয়ার রাজধানীতে তোলা।

-
মায়ানেকড়ে
ভুতের ছবিতে মায়ানেকড়ে হয়তো আমরা সবাই দেখেছি। ঐ যে, মানুষ থাকে, কিন্তু চাঁদের আলোয় বড় বড় নখ গজায়। চেহারাসহ সারা শরীর পশমে ঢেকে যায়। বড় বড় শ্বদন্ত বের হয়। তাড়া করে আসে ঘাড়ের রগে দাঁত বসানোর জন্য। এদেরকে সাধারণত wolfman বলা হয়ে থাকে।
মেক্সিকোর চব্বিশ বছর বয়সী এক ব্যক্তির চেহারায় হাইপার ট্রাইকোসিস নামক এক রোগের কারণে পশম গজিয়েছে। তাকে এখন বাস্তব wolfman বলে মনে হচ্ছে। তার উপাধিও হয়ে গেছে এটা। তিনি এখন গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের স্থান দাবি করছেন।

-
পুরনোতম মোটর সাইকেলিস্ট
মোটর সাইকেল বা মোটর বাইক চালক ছিলেন এই ব্যক্তি যিনি ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৭ সালের গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তার নাম উঠে। কারণ, তিনি ছিলেন তখনকার সবচাইতে পুরনোতম মোটরসাইকেলিস্ট যার কাছে পুরনোতম মোটর বাইক চালানোর লাইসেন্স ছিল।

অফটপিক কমেন্টঃ ইমরান হাশমি আর কী! এই বৃদ্ধ সাহেবের ফাটাফাটি হোন্ডার কাছে ইমরান হাশমি ফেল। ;)
-
দি ইভেন্ট অফ কিস
নকিয়া ফোনের জন্য বিখ্যাত হাঙ্গেরির ঘটনা। ১২ হাজার ৮০০-এরও বেশি সংখ্যক হাঙ্গেরিয়ান বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে হাঙ্গেরিয়ান পার্লামেন্ট বিল্ডিংয়ের সামনে এই মহাসমাবেশে কিস রেকর্ড ভাঙ্গায় অংশ নেন।

-
সাপচর্চা
জীবিত সাপ নাক দিয়ে ঢুকিয়ে মুখ দিয়ে বের করার প্র্যাকটিস চালাচ্ছেন ভারতের চেন্নাইয়ের এই ব্যক্তি। তিনি তার এই দুঃসাহসিক ও অবিশ্বাস্য কাজটি গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তুলে ধরার জন্য স্পন্সর খুঁজছেন। সংবাদ ২০০৬ সালের। এরপর তার এই ক্ষমতা বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল কিনা তা জানা যায়নি।

-
ক্ষুদ্রতম কুকুরছানা
২০০৪ সালে মাত্র ১৯ সেন্টিমিটার লম্বা, ১৩ সেন্টিমিটার উচ্চতা এবং ৭৮০ গ্রাম ওজনের এই কুকুরছানাটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম কুকুর বলে বিবেচিত হয়। ছবিতে ম্যাচের বাক্সের সঙ্গে কুকুরটিকে দাঁড় করানো হয়েছে। বুঝতে নিশ্চয়ই সমস্যা হচ্ছে না কতোটা ক্ষুদ্র এই বাচ্চাটি।

-
চক্ষু ছানাবড়া
ব্রাজিলের এই ব্যক্তি তার দুই চোখ প্রায় ৭ মিলিমিটার পর্যন্ত কোটর থেকে বের করে আনতে পারেন। ব্রাজিলে তিনি জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে বিশ্বরেকর্ডে স্থান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

-
কমোড আর্ট
ঠিক কমোড নয়, কমোডের উপরের ঢাকনাতে প্রায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের নকশা ডিজাইন করে চলেছেন এই ব্যক্তি। তার তৈরি ডিজাইন এতই সুন্দর হয় যে, তার নিজস্ব তৈরি টয়লেট-সিটের আর্ট মিউজিয়াম ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন নামি-দামি ওয়েবসাইটে রিকমেন্ড করা হয়। তিনি এযাবৎ ৮০০ টি কমোডের ঢাকনার উপর বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করেছেন। তার লক্ষ্য এই সংখ্যা ১০০০-এর ঘর ছাড়ানো।

-
সর্বাধিক বিবাহিত ব্যক্তি
ছবিটি ১৯৯০ সালের। তবে এদেরকে বাবা-মেয়ে ভাবলে ভুল করবেন। মেয়েটি বৃদ্ধ (!) লোকটির ২৭তম স্ত্রী। এই ব্যক্তি ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সর্বাধিক বিবাহিত ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত ছিলেন। তিনি ২০০৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তাকে কবর দেয়ার সময় তার ১৯ জন সন্তানের মাত্র একজন উপস্থিত ছিল। তবে তার ২৯ জন স্ত্রীর কেউই তখন উপস্থিত ছিল না তার সৎকারের সময়।

-
দীর্ঘতম নখ
প্রায় ত্রিশ ইঞ্চি লম্বা এই নখ নিয়ে ২০০৬ সালে নিজের নাম গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে উঠাতে সক্ষম হন এই মহিলা।

-
নারিকেল ছিলক [পিলার]
দ্রুততম সময়ে নারিকেল ছিলে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাঁয়তারা করছেন ষাট বছর বয়সী এই ব্যক্তি। তিনি ২০০৮ সালে জনসম্মুখে মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৫০০টি নারিকেল ছিলেছেন শুধুমাত্র মুখ তথা দাঁত ব্যবহার করে।

-
বৃহত্তম বিকিনি প্যারেড
বিশ্বের বৃহত্তম বিকিনি প্যারেডের এন্ট্রান্স। বিকিনি পরিহিত মেয়েদের সর্ববৃহৎ মিলনমেলা এটি। ইভেন্টটি অবশ্যই বিখ্যাত লাস ভেগাসে হয়েছিল। ছবি গত ১৪ই মে ২০০৯ তারিখের। আরও ছবি ছিল তবে সেগুলো দিলে পোস্টে ১৮+ ট্যাগ লাগাতে হতো।


===========================================

গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রায় নিয়মিত প্রদর্শিত হয় এএক্সএন চ্যানেলে। যারা এসব বিষয়ে আগ্রহী, তারা এএক্সএনে চোখ রাখতে পারেন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিশ্বরেকর্ডছবি ব্লগ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ফীচার্‌ড  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১১ রাত ১১:২০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১৫১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
একঘেয়েমি আমাকে তাড়া করছে নাকি আমি একঘেয়েমিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছি, বোঝা দায়।



http://aisjournal.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ