গত ক'দিন ধরে ঢাকায় কী রকম অসহনীয় গরম পড়েছে তা নিশ্চয়ই ঢাকায় বসবাসকারীদেরকে বলে দিতে হবে না। ওয়েদার রিপোর্ট দেখিনি তাই সঠিকভাবে বলতে পারছি না তাপমাত্রা কত ডিগ্রী ছিল। তবে, অসহনীয় তাপদাহ যাকে বলে, ঠিক ততোটাই ভয়াবহ গরম পড়েছে ঢাকায়। এই গরমে ঢাকায় জীবনযাত্রা এমনিতেই কঠিনতর হয়ে পড়েছে। এরপর যখন গরমে একমাত্র রক্ষা পানিও না থাকে, তখন কেমন লাগে বলুনতো?
একবার কল্পনা করুন। অসহনীয় গরম। সহ্যের সীমা শেষ হয়ে যায়, তবুও গরম কমে না। একমাত্র উপায় দিনে গোসল করা দুই-একবার আর প্রচুর পানি পান করা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সাপ্লাইয়ে পানি নেই। নেই তো নেই-ই। এমনিতেই প্রতি তিন-চার ঘণ্টা পরপর কারেন্ট চলে যায়। ফ্যান বন্ধ থাকে বিধায় ঘামতে ঘামতে অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে তা একেবারেই অবর্ণনীয়। তারপর আবার যদি পানিও না থাকে, তাহলে মনে হয় যেন নরকে না হলেও নরকের ধারে-কাছে আছি। বিদ্যুৎ আর পানির সমস্যা এখন প্রতিটি মানুষের। গত দু'দিন পর আজ একটু আগে পানি আসলো। দু'দিন ধরে খাবার পানি গোসলের পানি কিছুই নেই। তাই এই গভীর রাতে ঘুমের কথা ভুলে গিয়ে পানির পাম্প চালু করলাম। আমাদের বাসা টিনশেড, পাম্প চালু করা মানে খালি সুইচ টেপা না। পাম্প চালু করে আবার হোস পাইপ দিয়ে বালতি-ড্রাম ইত্যাদি ভরতে হয়। পানি ভরতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম নয়া প্রজাতির পানি। রং কুচকুচে কালো। বিশ্বাস করবেন না, এই পানিতে যদি একশো'টা কেঁচো আর তিনশ'টা জোঁক সাঁতার কাটে, বোঝার কোনো উপায় নেই। কথাটা অবশ্যই কাল্পনিক নয়। ওয়াসার পানিতে কেঁচো-জোঁক এসব পাওয়া এখন আমাদের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই অসহ্য গরমে, ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পেয়ে, দু'দিন পর পানি আসার পর সেই পানির যদি এই দশা হয়, তখন ঠিক সেই মুহুর্তে মেজাজটা কেমন খারাপ হয় একবার কি একটু কল্পনা করে দেখতে পারবেন?
কেন? বাংলাদেশ গরীব দেশ। মানলাম। তাই বলে কি আমরা মানুষ নই? তীব্র গরমে আমাদের বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হবে আর দু'দিন পর পর জোঁকের পানি খেতে হবে আর গোসল করতে হবে? আমরা বিল দিয়েও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। বিল দিতে দু'দিন দেরি হলে লাইন কাটতে চলে আসে ওয়াসা-ডেসকো। অথচ ওনারা যখন পানি-বিদ্যুৎ কিছুই দিতে পারে না, তখন ওনাদের বিরুদ্ধে আমাদের যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়, সেগুলো শোনার মতো কেউ নেই কেন?
সরকার, সরকারী কর্মকর্তা, মন্ত্রী, ভিআইপি, সবাইকে যতদিন পর্যন্ত এসি রুম, এসি গাড়ি, ভিআইপি রোডে চলাচল (যানজটবিহীন) আর বাসভবনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ থেকে দূরে না রাখা হবে, ততদিন পর্যন্ত তারা এই দেশের সাধারণ মানুষের অমানবিক সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান করবেন না। আজ আমি বলে রাখলাম। লিখে রাখুন আপনার খাতায়। আমি নির্দিষ্ট কারো কথা বলছি না। আমি বাংলাদেশ সরকারের কথা বলছি। যে যখনই ক্ষমতায় আসুক, তার জন্যই উপরের কথাগুলো প্রযোজ্য। মন্ত্রী হোক আর যাই হোক, ওনাদেরকেও আমাদের মতোই অবস্থানে রাখা হোক। দিনে দশবার লোডশেডিংয়ের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে উনাদের বাধ্য করা হোক। প্রতিদিন পানির কষ্ট দেয়া হোক। উনারাও মানুষ, উনারাও বাংলাদেশি। উনাদেরকেও আমাদের মতো যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে তারপর বাসায় ফিরে পানি বিদ্যুৎ কোনোটাই না পাওয়ার যন্ত্রণা বুঝতে হবে। বুঝতে না, সেরকমভাবেই থাকতে হবে উনাদের। যদি এসি রুমে থাকা আর ভিআইপি রাস্তায় চলাফেরার সুবিধা কাউকে দিতেই হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হোক। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের। যারা উপহার দিয়েছে এই বাংলাদেশ। যাদের হাতে ক্ষমতা আছে, তাদের বোঝা উচিৎ, ক্ষমতা এক প্রকার দায়িত্ব মাত্র। আর কিছুই না। তাদেরকে বিলাসিতা থেকে টেনে নামানো উচিৎ। নইলে বললামই তো, আমাদের ভাগ্য চিরদিনই অপরিবর্তিত থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


