৬
ভোর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। বরাবরের মতোই এক ফাঁকে না ভিজেই কলেজে ঢুকে গেছে সাইফ। কিন্তু অন্যরা এতো ভাগ্যবান নয়। যারা ছাতা আনেনি, তারা তো ভিজেছেই, যারা ছাতা এনেছে তারাও মোটামুটি না ভিজে পারেনি। সাইফকে দেখে সবাই হেসে উঠলো। ছেলেটা কীভাবে যে বৃষ্টি এড়ায় কে জানে।
বেঞ্চে ব্যাগ রেখে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল সাইফ। বৃষ্টির সঙ্গে তার মনে পড়ার মতো স্মৃতি খুব বেশি নেই। কিন্তু যে কয়েকটি আছে, সেগুলোই সারাজীবনের জন্য যথেষ্ট। তার ভাবতে কষ্ট লাগে, সেসব শুধুই স্মৃতি হয়ে গেল। কখনোই আর সেসব মুহুর্তগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে না।
সাইফ যখন এসব ভাবছে এরই মধ্যে সিনথিয়া এসে হাজির। শরীরের অর্ধেক ভিজে চুপচুপে হয়ে আছে আর বাকি অর্ধেক খটখটে শুকনো। কিম্ভূত লাগছে দেখতে। তার নিজেরই অস্বস্তি হচ্ছে। সবাই হাসছে তাকে দেখে। ইচ্ছে হচ্ছে গিয়ে পুরোটুকু ভিজে আসি। ক্লাস শুরু হতে আরো ৩০ মিনিট বাকি। বাড়তি কাপড় থাকলে ইচ্ছেমতো ভেজা যেতো। কিন্তু কলেজে কি আর বাড়তি কাপড় আনা যায়!
সাইফের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখলো কতক্ষণ সিনথিয়া। দু’জনই চুপচাপ। সিনথিয়া অনুভব করলো, সাইফের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছেটা তার খুব প্রবল হয়ে উঠেছে। সে মনে মনে ঠিক করলো, আজ ছুটির পর যে করেই হোক সাইফকে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেবে। সে দু’দিন আগের ঘটনা সম্পূর্ণ ভুলেই গেল।
কলেজ ছুটির পর সিনথিয়ার মন খারাপ হয়ে গেল। বৃষ্টি থেমে গেছে একেবারেই। আকাশে হালকা হালকা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। তার মাঝে মাঝে সূর্য উঁকি দিচ্ছে। দৃশ্যটা সুন্দর। কিন্তু সিনথিয়ার মেজাজ খারাপ। আজই বৃষ্টি থামার দরকার ছিল?
কলেজ ছুটি হলে একটা শ্রেণীর ছাত্র আছে যারা সঙ্গে সঙ্গে স্পাইডারম্যানের মতো বেঞ্চ-টেঞ্চ যা আছে সব কিছুর উপর দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে যায়। যেন কেউ বিপদে পড়েছে সেখানে গিয়ে হিরোয়িক কর্ম দেখাতে হবে। আরেকটা দল আছে যারা গল্প করতে করতে ধীরেসুস্থে বের হয়। আরেকটা দল আছে যারা বের হয়ে কলেজের মাঠের কোনো এক কোণায় বসে দশ-পনেরো মিনিট গল্প করে তারপর সবার শেষে বের হয়। আরেকটা দল আছে, যারা কথা বার্তাও বলে না, দৌড়-ঝাপও করে না, আবার কারো জন্য অপেক্ষাও করে না, নিজের মতো হেঁটে বেরিয়ে যায়। দূর্ভাগ্যবশতঃ এই দলে একজনই রয়েছে, আর সে হলো সাইফ।
আজ অবশ্য একটু ব্যতিক্রম হলো। ছুটির পর সাইফের সঙ্গে প্রায় জোর করেই দু-একটা কথা বলে সিনথিয়া। আজও দাঁড়িয়ে আছে সাইফ ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার জন্য। সাইফ বের হয়েই সিনথিয়াকে জিজ্ঞেস করলো, বিকেলে ফ্রি আছো?
সিনথিয়া অবাক হয়ে গেল। সাইফের এমন প্রশ্ন করাটা অবশ্য অবাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। সে বলল, ‘হ্যাঁ, কেন বলোতো?’
সাইফ বললো, ‘তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যাবো। যদি বাসা থেকে যেতে পারো আর কি।’
‘বাসা নিয়ে সমস্যা হবে না। আমি সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত বের হতে পারি। কিন্তু কোথায় যেতে যাচ্ছো?’
‘রেস্টুরেন্টে।’
‘হঠাৎ?’
‘এমনি। অনেকদিন রেস্টুরেন্টে খাই না। রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে গেলেই মন খারাপ লাগে। আজ কেন যেন হঠাৎ ইচ্ছে হলো। এনিওয়ে, থাক বাদ দেও। নো বিগ ডিল।’
‘না না না বাদ দেব কেন,’ তাড়াতাড়ি বলল সিনথিয়া। ‘ক’টায় আসবো বলো?’
৭
সিনথিয়া আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে। আসলে সে সাজেইনি। হালকা রঙের থ্রি পিস পড়েছে। হাতে চুড়ি পড়েছে। ওর লিপস্টিক বেশ পছন্দ, কিন্তু লিপস্টিক দেয়নি সে। গত কয়েক মাসে সাইফের সঙ্গে বিভিন্নভাবে অনেক কথাই হয়েছে তার। তার বিশ্বাস, সাইফকে তার চেয়ে ভালো কেউ চেনে না। সেই জ্ঞানের বহর থেকেই যেন সে জানে সাইফের লিপস্টিক একদমই পছন্দ না। অবশ্য কথায় মনে হয়েছে একসময় পছন্দ ছিল। কোনো একটা বিশেষ ঘটনার পর থেকে সে আর লিপস্টিক পছন্দ করে না। কেন? সেটা নিয়ে আর ঘাঁটাতে সাহস পায়নি সিনথিয়া।
সাইফ যে রেস্টুরেন্টে আসতে বলেছে সেটা কলেজ থেকে একটু দূরে। সিনথিয়ার বাসা থেকে রিকশায় আসতে অনেক সময় তো লাগবেই, ভাড়াও যাবে অনেক। তবু সে ঠিক করলো রিকশায়ই যাবে। সাইফের কাছে যেতে যেন তার ভালো লাগছে। যত তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় ততোই ভালো, কিন্তু তবুও তার মন বলছে যত সময় নিয়ে যাওয়া যায় ততোই ভালো। কারণ, এই সময়টা সে অনুভব করতে পারবে যে সে সাইফের কাছে যাচ্ছে।
সিনথিয়া ঠিক করেছে সে আজ তার মনের কথা সাইফকে বলে দিবে। অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো ভাবতো সাইফ তাকে প্রোপোজ করার জন্যই এভাবে ডেকেছে। কিন্তু সিনথিয়া জানে, সাইফের তেমন কোনো উদ্দেশ্যই নেই। ও এমনি বলেছে, তার মানে এমনিই। কোনো কারণই নেই। একটা অজানা আশঙ্কা তাই ওর ফুরফুরে মেজাজের পাশাপাশি স্থান নিয়ে নিয়েছে।
রেস্টুরেন্টের সামনে আসতেই দেখল সাইফ দাঁড়িয়ে আছে। সিনথিয়া তাড়াতাড়ি করে নেমে ভাড়া চুকিয়ে সাইফের কাছে গিয়ে বলল, ‘অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছো? সরি, আমি রিকশা নিয়ে আসছিলাম তাই দেরি হয়ে গেল।’
সাইফ বলল, ‘না আমি এসেছি কিছুক্ষণ হয়েছে। চলো।’
রেস্টুরেন্টটা মেইন রাস্তার ধারে। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় এখানে ওখানে পানি জমে আছে। রেস্টুরেন্টের একটা অংশ পুরো কাঁচের। সেটা বাইরে থেকে দেখা যায়। বড় বড় স্টিকার লাগানো আছে প্রাইভেসি রক্ষার জন্য। তবে মাথা নিচু করলে বাইরের দৃশ্য দেখা যায়। অবশ্য এখানে দৃশ্য বলতে রিকশা আর প্রাইভেট কারের হুড়োহুড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই।
রেস্টুরেন্টে বসে সাইফ আর সিনথিয়া অনেক কথাই বলল। এক সময় উঠে আসলো বৃষ্টিতে ভেজার প্রসঙ্গ। সিনথিয়া বলল, ‘তোমাকে তো সেদিন বৃষ্টিতে ভেজার জন্য কত টানাটানি করলাম। শুনলেই না। ভিজলে অনেক ভালো লাগতো।’ ওর সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টা এড়িয়ে গেল সিনথিয়া।
সাইফ বলল, ‘আমার বৃষ্টিতে ভিজতে আর ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে অবশ্য ভিজি। সেটা অন্য কারণে। পরে বলা যাবে। কিন্তু সেদিন তোমার সঙ্গে ওভাবে আচরণ করা আমার সত্যিই ঠিক হয়নি।’
‘সমস্যা নেই। আমি কিছু মনে করিনি। আমার ইচ্ছে না করলে কেউ টানলে আমিও হয়তো ওরকমই করতাম।’
‘তবুও। আমি একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছি। সরি।’
‘ইট’স ওকে। এখন অন্য কথা বলো।’
সাইফ এবার সরাসরি সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘এরপরও তুমি আমার সঙ্গে আগের মতোই মিশছো কেন?’
সিনথিয়া চুপ করে রইল।
‘সিনথি আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি। এরপরও তো তোমার আমার সঙ্গে এতোটা মেশার কথা না।’
‘এমনি। আমরা ভালো ফ্রেন্ড। তাই....’ তাকে থামিয়ে দিল সাইফ। বলল, ‘ভালো ফ্রেন্ড ওই কথা আর বলবা না। ভালো ফ্রেন্ড অনেক দেখেছি। খারাপ ব্যবহার ভালো ফ্রেন্ডরাও সহ্য করে না।’
সাইফকে হঠাৎ এভাবে কথা বলতে দেখে একটু থমকে গেল সিনথিয়া। চুপ করে রইল। সাইফ তাকে আবার জিজ্ঞেস করলো সত্যি কথাটা তাকে বলার জন্য। সিনথিয়া মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে জবাব দিলো, ‘কারণ, আমি তোমাকে ভালোবাসি, সাইফ।’
৮
সাইফ সোজা সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। তার কোনো সন্দেহ নেই মেয়েটা তাকে পছন্দ করে। সিনথিয় বেশ সুন্দরী একটা মেয়ে। বেশ মিশুক হলেও সবার সঙ্গেই একটু দূরত্ব রেখে চলে। তাই কেউ সহজে তার খুব কাছে ঘেঁষতে পারে না। ক্লাসের হটশট না হলেও অন্য কয়েকটা মেয়ে সিনথিয়ার দিকে বেশ হিংসার চোখেই তাকায়। সেই মেয়েটা তাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে, এটা জেনে তার খুশি তো লাগছেই না, বরং এখন যে সে তাকে মুখের উপর না করে দিতে যাচ্ছে, সে জন্যও তার এতটুকু খারাপ লাগছে না।
‘সিনথি, দেয়ার ইজ সামওয়ান এলস ইন মাই লাইফ।’
সিনথিয়া যেন ঠিক আকাশ থেকে পড়লো। ‘হোয়াট দা হেল আর ইউ টকিং অ্যাবাউট সাইফ?’
সাইফ তার সামনে রাখা পানির গ্লাসের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে মাথা ঝাঁকালো।
সিনথিয়া যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। কথা হারিয়ে ফেলেছে সে। সে প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছে, কিন্তু সাইফের জীবনে অন্য কোনো মেয়ে আছে এমনটা সে কল্পনাও করেনি।
‘সাইফ আর ইউ অল রাইট? আমার মনে হচ্ছে তুমি মিথ্যে বলছো।’
সাইফ তার কথার উত্তর না দিয়ে বলল, ‘ও এখন আর আমার সঙ্গে নেই।’
সিনথিয়া আরেকটু অবাক হয়ে বলল, ‘তাহলে মাত্র যে বলল তোমার জীবনে অন্য কেউ আছে?’
‘হ্যাঁ, আমার জীবনে অন্য কেউ আছে বলেছি, সে আমার সঙ্গে আছে এমনটা তো বলিনি।’
সিনথিয়া চুপ করে সাইফের দিকে তাকিয়ে রইল।
‘অথবা ও এখন আমার সঙ্গে নেই বলেছি, তাই বলে আমি এখনো ওকে ভালোবাসি না এমনটা তো বলিনি।’
সিনথিয়া তবু চুপ করে রইলো। বিস্ময়ের ধাক্কায় সে প্রত্যাখ্যাত হবার দুঃখও যেন ভুলে গেছে।
সাইফ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো। তারপর বলতে শুরু করলো, ‘আমার জীবনে আরেকটা মেয়ে আছে। সেই মেয়েটা আজ আমার সঙ্গে নেই। অন্য কেউ তার জীবনে আছে কি না আমি জানি না। আপাতঃদৃষ্টিতে আমাকে ছাড়া তার দিব্যি চলে যাচ্ছে এটাও মনে হচ্ছে। কিন্তু তবুও আমি তাকে অন্ধের মতো ভীষণ ভালোবাসি। একটা অন্ধ মানুষ একজোড়া চোখকে যতোটা পেতে চাইতে পারে, আমি যেন ওকে তারচেয়েও বেশি আমার জীবনে চাই।’
সিনথিয়া তার হাতের চুড়ির দিকে তাকিয়ে রইল।
‘ও আমার জীবনে এসেছিল অনেক ক্রিটিক্যাল একটা মুহুর্তে। একটা বন্ধু হিসেবে ও আমার জীবনে এসে আমার জীবনের গতিপথই যেন পাল্টে দিয়েছিল। বলতে পারো, আজ আমি বেঁচে এখানে বসে আছি কেবল ওর জন্য। ও সেই সময় বন্ধু হয়ে আমার জীবনে না আসলে অনেক আগেই আমি সুইসাইড করে বসতাম। এর কারণ অবশ্য ফ্যামিলিগত।’
সিনথিয়া তবু চুপ করে বসে রইল। সে সাইফের ফ্যামিলি সম্পর্কে আগেই সাইফের কাছে শুনেছে। তার মা-বাবা থেকেও যেন না থাকার মতো। আরও নানা অশান্তির কথা শুনেছে সিনথিয়া যা শুনে সাইফ এতোকিছুর মাঝেও কীভাবে বেঁচে আছে তা ভেবে অবাক হয়েছিল। আজ তার জবাব পেলো।
‘ওর নাম সিমি। জানো, আমি ঠিক করেছিলাম আমি ওকে নিয়ে ভবিষ্যতে একটা বই লিখবো। বইটার নাম হবে “মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি”। বইটায় অবশ্য আমার আর ওর কথা থাকবে না, থাকবে আমার জীবনের কথা। বইটা লেখা হবে এমনভাবে, যেন সিমি আমার বন্ধু, আর আমি আমাদের জীবনযাত্রায় ওকে আমার জীবনের কথাগুলো জানাচ্ছি। ঠিক এই কায়দায় বইটা লিখবো ঠিক করেছিলাম।’
সিনথিয়া তখনো চুপ। কিন্তু তার পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে সাইফের কথার দিকে।
‘পরবর্তীতে সব বদলে গেল। ওর সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক তৈরি হলো। সেই সম্পর্কের বিবরণ দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ভালোবাসা কতোটা মধুর আর গভীর হতে পারে তা আমরা দু’জনই যেন টের পেয়েছিলাম। তখন একবার ভেবেছিলাম বইটার নাম হবে মাই ওয়াইফ সিমি। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, ও কেবল আমার ভালোবাসার মানুষই ছিল না, সঙ্গে আমার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ডও ছিল। তাই নামটা অপরিবর্তিতই রয়ে গেল।’
‘কিন্তু তখন কি আর জানতাম সবকিছু আবার পেছনের দিকে চলে যাবে! তখন কি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেছিলাম যে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তিটাকে আমি আবার এভাবে হারাবো! কিন্তু আমি ওকে হারিয়েছি। তারপর থেকে এই নামটা আর মনে পড়েনি। আজ হঠাৎই মনে পড়লো। শেষে হয়তো কোনোদিন বইটা লিখবো, কিন্তু আমার জীবনের কাহিনী নিয়ে নয়, আমার আর ওর কথা নিয়ে।’
সিনথিয়া মুখ খুললো, ‘আমি তোমার কাছ থেকে সব কথা শুনতে চাই। সিমির সঙ্গে তোমার বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সব। অবশ্যই যদি তোমার কোনো আপত্তি না থাকে।’
সাইফ বলল, ‘ঠিক আছে। তোমাকে শোনাবো।’
তারপর আবার নীরবতা। বাইরে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। সিনথিয়া তাকিয়ে দেখল, রেস্টুরেন্টের ভেতরে এখন ওরা একা। আর কোনো কাস্টোমার নেই।
সাইফ কিছুক্ষণ পর বলল, ‘আমি সত্যিই ওকে অনেক ভালোবাসি। আজ অনেকদিন হয়ে গেছে ও আমার থেকে দূরে সরে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করাতে পারবো না তোমাকে, প্রতিটা মুহুর্তেই আমি ওর কথা ভাবতে থাকি। আমার জীবনের প্রতিটা মুহুর্তের সঙ্গে ওর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এমনকি এই যে আমি এখানে তোমার সঙ্গে বসে আছি, এখানেও জড়িয়ে আছে ওর স্মৃতি।’
সাইফ কাঁদতে শুরু করলো। সিনথিয়া প্রথমে কিছুক্ষণ বিশ্বাস হতে চাইলো না। ও জানতোই না যে সাইফের মতো কঠিন মনের মানুষ কাঁদতে জানে, কিংবা তার কোনো অনুভূতি শক্তি আছে। ওর মতো মানুষগুলো সাধারণত অনুভূতিহীন হয়। তাই সাইফকে কাঁদতে দেখে ওর খুব অবাক লাগলো। একই সঙ্গে খারাপও লাগলো। সাইফকে ও পছন্দ করে। ওকে কাঁদতে দেখলে ওর খারাপ লাগাই স্বাভাবিক।
সিনথিয়া সাইফকে সান্তনা দেয়ার ভাষা পেল না। কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল সাইফের গাল বেয়ে এক ফোটা পানি গড়াতে না গড়াতেই কীভাবে আরেক ফোটা পানি চোখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। বেশিক্ষণ দেখতে পারলো না সে। সাইফের জন্য তারও খুব কান্না পেলো। সে মাথা নিচু করে বাইরের বৃষ্টির দিকে তাকালো।
রেস্টুরেন্টের ভেতরে তখন কেউ থাকলেও দেখতে পেতো না যে সিনথিয়ার গাল বেয়েও অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। এই অশ্রু সিনথিয়ার নিজের না পাওয়ার কষ্টের, নাকি সাইফের কষ্টের, তা বোধহয় বিধাতাই বুঝলেন।
(চতুর্থ পর্ব )
প্রথম প্রকাশ
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



