somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড সিমি (পর্ব ৪)

৩০ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(তৃতীয় পর্ব )


সকালে ক্লাসে আসতে একটু দেরি করে ফেলল সাইফ। ও সাধারণত সবার আগে ক্লাসে আসে। আজ বৃষ্টিতে আটকে দেরি হয়ে গেছে। এছাড়াও আরেকটা ঘটনা ঘটেছে। সাইফ বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। কলেজ গেট দিয়ে ঢোকা মাত্রই ক্লাসমেটদের মধ্যে একরকম হৈ-চৈ শুরু হয়ে গেছে যে সাইফ বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। সাইফ সেটা দেখে অবশ্য মজাই পেলো। সবাই ভাবছে অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজেছে। অথচ সে যে প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভেজে কেবল ভেজা কাপড় গায়েই শুকানোর জন্য, তা সে ছাড়া আর কেউ জানে না।

ভেজা চুলে আঙ্গুল চালাতে চালাতে তিনতলায় উঠলো সাইফ। তাকে দেখে ক্লাসের সবাই বেশ মজা পাচ্ছে। রীতিমতো কাকভেজা ভিজেছে সে। চুলগুলো এলোমেলো। বলা বাহুল্য, ওর চুল এলোমেলো থাকতে কেউ দেখেনি আগে। তাই আজ সবাই যেন এক অন্যরকম সাইফকে দেখছে এমনভাবে তাকিয়ে আছে। কেউ একজন সিনথিয়াকে খবরটা জানালো। কিন্তু ও সাইফকে এগিয়ে নিতে আসলো না।

সাইফ ক্লাসরুমে ঢোকা মাত্রই ক্লাসে যারা বসে বা দাঁড়িয়ে গল্প করছিল তারা যেন চুপ হয়ে গেল। সাইফের ভেজা শরীর আর এলোমেলো চুল দেখে সবাই যেন থমকে গেছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো। সাইফও প্রাণহীন একটা হাসি দিয়ে একেবারে পেছনের সিটে গিয়ে বসলো। তার কাপড় শুকাতে সময় লাগবে। নিচে তখন ঘণ্টা বাজছে।

সেদিন বাংলা স্যারের ক্লাস ছিল। স্যার প্রায় পাঁচ-ছ’ পৃষ্ঠার হোমওয়ার্ক করতে দিয়েছিল। কিন্তু সাইফ তা করেনি। আগেরদিনের ঘটনার পর রাতে তার পড়ায় আর মন বসেনি। তাই সারারাত চুপচাপ বসে কাটিয়েছে। ওর গোমড়ামুখ দেখে অনিক এসে জিজ্ঞেস করলো, ‘কী ব্যাপার? বৃষ্টির সঙ্গে হেরে গিয়ে মন খারাপ?’
‘না, হোমওয়ার্ক করিনি তাই টেনশন হচ্ছে।’
এইবার অনিকের চোখেমুখেও টেনশন দেখা গেল। ‘হোমওয়ার্ক কর নাই?’
ক্লাসের আরও কয়েকজন কথাটা শুনে ফেলল। সবাই ফিরে তাকালো। সবাই জানে, হোমওয়ার্ক না করলে বাংলা স্যারের গালি-গালাজ তো শুনতেই হবে সঙ্গে কী শাস্তি দেয় তা আল্লাহই ভালো জানে। ক্লাসে সাইফের খুব কাছের বন্ধু যারা ছিল তারা ব্যাপারটা নিয়ে টেনশনে পড়ে গেল। সাইফ বাংলা স্যারের কাছে শাস্তি পাবে এটা মেনে নেয়া যায় না। কয়েকজন এসে প্রস্তাব দিলো বাংলা ক্লাসের আগে বের হয়ে যেতে। কারণ, স্যার বলে দিয়েছেন কেউ তার ক্লাস করতে না চাইলে বা পড়া রেডি করে না আসলে আগে থেকেই যেন বের হয়ে যায়, তিনি কিছু বলবেন না। তার মতলব হচ্ছে অন্য কোনো স্যার ধরে নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে যাবে, তারপর প্রিন্সিপাল স্যার শাস্তি দিবেন। তবে ক্লাস চলাকালীন তিনি কোনোমতেই বের হতে দিবেন না।

অবশ্য ছাত্ররা এতোই চালাক যে অন্য কোনো স্যার দেখলে একটা না একটা কিছু বলে ঠিকই পার পেয়ে যায়। কিন্তু সাইফের ক্লাস টাইমে বাইরে ঘুরতে ভালো লাগে না। তাই সে এই বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারলো না। এমন সময় স্যার চলে আসলো তাই বন্ধুরা আর কোনো শলা-পরামর্শও করতে পারলো না।

বাংলা ক্লাসে স্যার একজন একজন করে হোমওয়ার্ক দেখা শুরু করলেন। এরই মধ্যে অন্য এক স্যার এসে অফিসিয়াল একটা ব্যাপারে আলোচনা করে প্রায় ২০ মিনিট দেরি করিয়ে দিলেন। এতে সাইফের আশা বাড়লো। সে সবার পেছনে বসেছে। তার কাছে আসতে আসতে হয়তো ঘণ্টা পড়ে যাবে। তাহলে স্যার আর তার খাতা দেখতে চাইবেন না।

কিন্তু বিধি বাম। স্যার নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়টুকু পুষিয়ে নিতেই যেন দ্রুত খাতা দেখা শুরু করলেন। অনিকসহ আরো অনেকেই পেছনে ফিরে প্রমাদ গুণছে। আর দুইটা বেঞ্চ পড়েই সাইফের সিট। স্যার দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টে সই করে যাচ্ছেন। সবার শেষে যখন স্যার খাতা রেখে সাইফের দিকে এগোচ্ছেন, তখনই পেছন থেকে ডাক শোনা গেল, ‘স্যার!’

স্যারসহ সবাই সামনের দিকে তাকালো। সিনথিয়া দাঁড়িয়ে আছে। ‘একটু বাইরে যাবো স্যার।’
ক্লাসে একটা গুঞ্জন উঠলো। এতোদিন হয়ে গেছে বাংলা স্যার একদিনও কাউকে বাইরে যেতে দেননি। সিনথিয়া সেটা বেশ ভালো করেই জানে। একবার একটা ছেলে বাইরে যেতে চেয়েছিল কিন্তু তাকে বেশ খারাপভাবেই অপমান করেছে স্যার। এসব জেনেও সিনথিয়া বাইরে যেতে চাইছে?

স্যার একটা শয়তানী ভরা হাসি দিলেন, ‘সিনথিয়া! তুমি বাইরে যাবে? কেন? তোমার বর এসেছে বুঝি?’
মুখের ভাব অপরিবর্তিত রেখে সিনথিয়া জবাব দিল, ‘আমার একটু দরকার আছে স্যার। আমাকে বাইরে যেতে হবে।’
‘ওহ, তাই নাকি?’ হা হা করে হাসলেন স্যার। ‘তা এখানে কী হবে না হবে তা বুঝি তোমার ইচ্ছায়?’
সিনথিয়া চুপ করে রইলো।
‘আমি কী বলেছিলাম?’ স্যার অন্য ছেলেদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। সবাই উত্তর দিলো, ক্লাস চলাকালীন কোনো কারণেই বাইরে যাওয়া যাবে না। সব রকম কারণ ক্লাসের আগেই শেষ করে আসতে হবে।
‘হ্যাঁ,’ স্যার সিনথিয়ার দিকে ফিরলেন, ‘ঠিক তাই।’
সিনথিয়া চুপ করে রইলো। তার দৃষ্টি সামনের দিকে নিবদ্ধ।
স্যার বললেন, ‘অন্য কোনো স্টুডেন্ট বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবার সাহস পায় না, তোমার এতো সাহস কোত্থেকে এলো সিনথিয়া?’
‘সাহসের কিছু নেই স্যার। আমাকে বাইরে যেতে হবে তাই আমি বাইরে যেতে চাচ্ছি।’

স্যারের চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝড়লো। পেছনে বসে সাইফ অবাক চোখে সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মনে খানিকটা ক্ষোভ, খানিকটা অপরাধবোধ। সে নিশ্চিত, সিনথিয়া তাকে বাঁচানোর জন্যই এ কাজ করেছে। আসলে সে একা না, ক্লাসের আরো অনেকেই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে।

স্যার বললেন, ‘শোনো সিনথিয়া। এই কলেজে পড়তে হলে আর দশটা ছেলেমেয়ের মতোই তোমাকে সব নির্দেশ মেনে চলতে হবে। তোমার বাবার অনেক টাকা-পয়সা আছে বলে তুমি নিজের ইচ্ছেমতো চলতে পারবে এই ধারণা তোমাকে কে দিয়েছে?’
সিনথিয়ার রাগ লাগলো। সে ঝাঁজের সঙ্গে বলল, ‘স্যার দিস ইজ মাই পারসোনাল প্রবলেম অ্যান্ড ইট হ্যাজ নাথিং টু ডু উইথ মাই ফাদার’স প্রপার্টিস।’
স্যার এবার রাগে রীতিমতো কাঁপতে থাকলেন। স্যার কখনো ক্লাসে ইংরেজি বলেন না। শোনা যায়, তিনি ইংরেজি পারেন না ভালো। তাই ছাত্রদেরও তার সামনে ইংরেজি বলতে দেন না। কেউ তার সামনে ইংরেজি বলতে গেলেই তিনি রাগ দেখান। আর যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন ত্রিশ লক্ষ শহীদের জয় করা বাংলা ফেলে ইংরেজি কেন বলতে হবে!

কিন্তু সেদিন সিনথিয়ার ভাগ্য ভালো ছিল। তখনই ঘণ্টা পড়লো। স্যার রাগে আর কিছু বলতে পারলেন না। তিনি ক্লাসরুম থেকে জোরে জোরে হেঁটে বেরিয়ে গেলেন। তারপর সিনথিয়াও বের হতে হতে বলল, ‘ওকে গাইজ, শো ইজ ওভার।’

কেউ কেউ হেসে উঠলো, কেউ সিনথিয়ার সাহসের প্রশংসা করলো, কেউ আবার তর্ক শুরু করলো সিনথিয়ার ইংরেজি শুনে স্যারের চেহারাটা চিড়িয়াখানার কোন প্রাণীর মতো হয়েছিল এই নিয়ে। কিন্তু সবার পেছনে সাইফই একমাত্র ছেলে, যার মাথায় তখন চিন্তার ঝড় হচ্ছিল।


১০
‘দ্যাট ওয়াজ স্টুপিড, সিনথি, মিনিংলেস!’
টিফিন পিরিয়ডে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিনথিয়াকে ঝাড়ছে সাইফ। সিনথিয়া কেয়ারলেস ভাব নিয়ে মাঠের দিকে তাকিয়ে আছে।
‘আমাকে না হয় স্যার দু’চারটা কথা শোনাতেনই। সেটা কোনো ব্যাপার না। তোমার এভাবে অযথা আমাকে বাঁচানোর কী দরকার ছিল?’
সিনথিয়া সাইফের দিকে তাকালো। ‘আমার ইচ্ছে হচ্ছিল, তাই করেছি। তোমার খারাপ লেগে থাকলে সরি।’ এই বলে সোজা হাঁটা দিলো সিনথিয়া। সাইফ আগের জায়গায়ই দাঁড়িয়ে রইলো।



কলেজে নতুন ট্রেন্ড বের হয়েছে। কলেজ ছুটির পর প্রায় সবাই ২০-৩০ মিনিট মাঠে দাঁড়িয়ে গল্প করে। কলেজ প্রাঙ্গণে অনেক গাছপালা থাকায় বৃষ্টির পর সেগুলোর সবুজ আভা যেন আরো আলোক ঝলমলে হয়ে উঠে। তাই সবাই সেখানে কিছুক্ষণ প্রকৃতি উপভোগ করে তারপর বাসায় যায়।

সিনথিয়া আর সাইফ ক্যান্টিন থেকে দু’জনে দু’টো কোকের ক্যান কিনে গাছের ছায়ায় বসে আছে। অবশ্য এখন ভরদুপুর হলেও সর্বত্রই ছায়া। আকাশে তো সূর্যের কোনো খবর নেই। কেবল মেঘের ফাঁক-ফোকর দিয়ে কোনোরকমে আলো পৃথিবীতে পৌঁছে দিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।

সিনথিয়া সাইফকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার বৃষ্টি খুব একটা পছন্দ না তাই না?’
সাইফ বলল, ‘না।’
‘হুম।’
‘এক সময় অনেক পছন্দ ছিল।’
‘তাই?’
‘হ্যাঁ, বৃষ্টি আমার ভয়ানক রকমের পছন্দ ছিল। বিশেষ করে বৃষ্টি হবার আগ মুহুর্তে আকাশ যখন মেঘলা হয়ে ঝিরঝিরে ঠাণ্ডা বাতাস ছাড়ে, ঐ সময়টা আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা সময় ছিল। আমার যে কোনো মন খারাপ দূর হয়ে যেত এমন আবহাওয়ার সময়।’
‘তারপর? এখন সেই ভালো লাগা উধাও হয়ে গেল কেন?’
‘জানি না। সিমির সঙ্গে আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মুহুর্তগুলো কেটেছে। আমার আর সিমির দু’জনেরই বৃষ্টি প্রচণ্ড পছন্দ ছিল। অবশ্য আমি ওকে বৃষ্টিতে ভিজতে দিতাম না খুব একটা। ও বৃষ্টিতে ভেজার সময় কাঁপতে থাকে। দু-একবার এটা দেখার পর থেকে আমি ওকে না করে দিয়েছি বাসায় ছাড়া বাইরে কোথাও কখনো বৃষ্টিতে না ভিজতে। এছাড়াও ওর আর আমার অনেক সুখের স্মৃতি আছে বৃষ্টিকে ঘিরে। তাই এখন বৃষ্টি আমার জন্য মন খারাপের বন্যা নিয়ে আসে।’

দূরের একটা গাছের দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া বলল, ‘তাহলে তো দেখছি সিমি তোমার জীবন থেকে সুখ কেড়ে নিয়েছে।’
সাইফ সরাসরি সিনথিয়ার দিকে তাকালো। বলল, ‘মোটেই নয়। তোমার কাছে তা মনে হতে পারে, কিন্তু মূল কথা হচ্ছে এই যে, সিমিই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আজ আমি যে বেঁচে আছি সেটা সিমির জন্য। পারিবারিক চাপে আমি দূরে কোথাও চলে যেতে চেয়েছিলাম। নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শুধু সিমির জন্য আমি তা পারিনি। আজ বৃষ্টি হয়তো আমার জন্য এক রাশ মন খারাপ নিয়ে আসে, কিন্তু তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। এই মন খারাপের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সুখের সব স্মৃতি। সিমিকে আমি আজও ভালোবাসি। ওকে পাইনি বলে আমার মধ্যে একটা কষ্ট প্রতিমুহুর্তেই জ্বলতে থাকে। কিন্তু তাই বলে আমি কোনোদিনই বলবো না সিমি এর জন্য দায়ী।’

সিনথিয়া চুপ করে রইলো।

সাইফ বলে চলল, ‘আজ আমার জীবনে সিমি নেই। কিন্তু সিমির যে ভালোবাসাগুলো আমার মধ্যে রয়ে গেছে, সিমির যে স্মৃতিগুলো আমার জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে রয়ে গেছে, সেগুলো আমাকে কেবল কষ্টই দেয় না, সুখও দেয়। আমার মনে পড়ে, আমার জীবনে ওর মতো একটা পরী এসেছিল। আমি তখন অবাক হতাম, আমার জীবনে এতো ভালো, এতো সুইট একটা মেয়ে কীভাবে আসলো? এখন অবশ্য অবাক হই না। কারণ, এটা যে ‘আমি’! তাই সেই পরীটা আমাকে ফেলে চলে গেছে।’

সিনথিয়া জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি ওর ব্যাপারে বিস্তারিত আমাকে কখন বলছ?’
‘এখনই বলা যেত। কিন্তু এখন তো সময় নেই। সবাই চলে যাচ্ছে। আমাদেরও উঠতে হবে।’
‘তুমি বিকেলে ফ্রি আছো?’
‘হ্যাঁ, কেন?’
‘আমি ফোন করবো। ফোনেই তোমার কাছ থেকে সব কথা শুনতে হবে।’
‘ফোনে এতো কথা বলা যাবে না। অনেক খরচ হবে।’
‘তা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। আমি ফোন করবো। তুমি আমাকে তোমার আর সিমির ব্যাপারে সব খুলে বলবে।’
সাইফ চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো সিনথিয়ার দিকে। তারপর বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি ফোন দিও।’

সিনথিয়া সাইফের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। সাইফ একা গাছের ছায়ায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। মেঘ গর্জন করছে। এখনই বৃষ্টি নামবে। মনে মনে ভাবলো, আজ সিনথিয়ার জায়গায় সিমি হলে ও জীবনেও ওকে এই আবহাওয়ায় একা যেতে দিতো না। কিন্তু সিমি যে আজ ওর জীবনে নেই। এখন নিশ্চয়ই মেয়েটা যখন-তখন ইচ্ছেমতো ভিজছে। কখন যে তার ঠাণ্ডা লেগে যাবে! দুশ্চিন্তাই সার। সাইফ যে আর সিমিকে বৃষ্টিতে ভিজে শরীরেই ভেজা কাপড় শুকাতে নিষেধ করতে পারে না! সিমি যে আর ওর পরী না।

মাটির দিকে তাকিয়ে থাকলো সাইফ। আজ বৃষ্টি আর চোখের পানি একসঙ্গে নেমেছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় কে জিতবে, তা ঠিক করার মতো সেখানে আর কেউ ছিল না।

(পর্ব ৫ )

প্রথম প্রকাশ
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১১ রাত ৯:৫০
১২টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×