ইংরেজি মুভির ভক্ত মানুষের অভাব বোধ করি কোনো দেশেই নেই। একসময় ভাবতাম বাংলাদেশে বুঝি ইংরেজি মুভি তেমন একটা চলে না। বলা বাহুল্য, তখন আমি নিজেও ইংরেজি ছবির খুব একটা ভক্ত ছিলাম না। পরে নিজে ভক্ত হলাম এবং ইন্টারনেট ও ব্লগের কল্যাণে জানতে পারলাম বাংলাদেশে মুভি পাগলের অভাব নেই।
যারা নিয়মিত মুভি দেখেন তারা হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন বড় পর্দায় মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিটি ছবিকেই এমপিএএ (Motion Pictures Association of America's film-rating system) বিভিন্ন ধরনের রেটিং দিয়ে থাকে। এসব রেটিং-এর উপর ভিত্তি করে উন্নত রাষ্ট্রে থিয়েটারের টিকেট বিক্রি করা হয়। যেমন, একটি NC-17 মুভি দেখতে সতেরো বছরের কম বয়সী কাউকে থিয়েটারে ঢুকতেই দেবে না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও মুভি রেটিংগুলো কাজে আসে যাতে দর্শকরা পরিবারের সাথে কোন কোন মুভিগুলো দেখা যাবে তা আগে থেকেই জানতে পারেন এবং রেটিং দেখে নিমিষেই ধারণা করে নিতে পারেন মুভিটিতে আপত্তিকর সামগ্রী আছে কি না।
যারা ইন্টারনেট থেকে মুভি ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নিতান্তই নতুন, তাদের উপকার হবে আশা করে এই পোস্টে বিভিন্ন প্রকার রেটিং এবং এর অর্থ সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও কেবল রেটিং নয়, অন্য কী উপায়ে আপনি মুভিতে কী ধরনের দৃশ্য রয়েছে তা মূহুর্তের মধ্যেই জানতে পারবেন তাও আলোচনা করবো এই পোস্টে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
এমপিএএ রেটিং
![]()
জেনারেল অডিয়েন্স
১৯৬৮ থেকে এখনও কার্যকর।
সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী।
এই রেটিং নিয়ে বলতে গেলে মাথায় যেটা আসে তা হলোঃ এই রেটিং-এর ছবি আজকাল খুব একটা বের হয় না।
![]()
প্যারেন্টাল গাইডেন্স
১৯৭৮ থেকে এখনও কার্যকর।
কিছু কিছু বিষয় বাচ্চাদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। এই রেটিং-এর ছবি ১২-১৩ বছর বয়সীদের নিয়ে নিশ্চিন্তে দেখতে পারেন। কেননা, যেসব সামগ্রী বিবেচনা করে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে বলা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশিই অ্যাডভান্সড হয়ে থাকে এই বছরের বাচ্চারা। wink সাধারণত মারামারির দৃশ্য, গোলাগুলি ইত্যাদি স্বাভাবিক ভায়োলেন্সের কারণে এই রেটিং দেয়া হয়।
![]()
প্যারেন্টাল গাইডেন্স ১৩
১৯৮৪ থেকে এখনও কার্যকর।
১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য কিছু সামগ্রী অনুপযুক্ত থাকতে পারে।
পিজি আর পিজি-১৩ এর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তাই নতুন করে কিছু লেখারও প্রয়োজন মনে করছি না।
![]()
রেস্ট্রিক্টেড
১৯৭০ থেকে এখনও কার্যকর।
১৭ বছরের কম বয়সীদের থিয়েটারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মা-বাবা অথবা বয়স্ক অভিভাবকের প্রয়োজন পড়বে।
যেহেতু বাংলাদেশে থিয়েটারের ঝামেলা নেই, সেহেতু রেটেড আর এর সংজ্ঞা অন্যভাবে দেয়া যেতে পারে। একভাবে বলা যেতে পারে, এই রেটিং-এর ছবিগুলো দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Perfume: The Story of a Murderer মুভিটি রেস্ট্রিক্টেড রেটিং দেয়া হয়েছে Nudity-এর জন্য। আবার, Wrong Turn (I) মুভিটিও একই রেটিং দেয়া হয়েছে স্ট্রং ভায়োলেন্সের জন্য (কোনো নগ্নতা না থাকা সত্ত্বেও)।
![]()
No Children 17 or under admitted
১৯৯৬ থেকে এখনও কার্যকর।
১৮ বছর বয়সী না হলে এই মুভি দেখাই উচিৎ না।
বলা বাহুল্য, আরেকটি রেটিং হচ্ছে UR যা দিয়ে আনরেটেড বোঝানো হয়। আনরেটেড মুভি দেখার ব্যাপারে সাবধান। কেননা, আপনি জানতে পারছেন না মুভির রেটিং কী। তবে একটি উপায় আছে মুভির কন্টেন্ট সম্বন্ধে ধারণা পাওয়ার, তা হলো IMDb.
ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে সার্চ করে সংশ্লিষ্ট মুভির টাইটেলে যান। স্ক্রল ডাউন করে Motion Picture Rating (MPAA) প্যারায় যান। সেখানে সংক্ষেপে রেটিং ও তার কারণ লেখা থাকে। নিচে View content advisory লিংকে ক্লিক করলে অধিকাংশ ছবির ক্ষেত্রেই ছবিতে কতটি কী জাতীয় দৃশ্য রয়েছে তার বর্ণনা পেয়ে যাবেন। এখান থেকেও একটু সময় নিয়ে ও ইন্টারনেট সংযোগের সদ্ব্যবহার করে সহজেই জেনে নিতে পারবেন পছন্দের মুভিটি দেখতে হলে কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার।
আশা করছি অনেকেরই পোস্টটি কাজে আসবে। ভালো লাগলে অবশ্যই মন্তব্য রেখে যাবেন, ফেসবুক/টুইটারে শেয়ার করবেন এবং পরিচিত মানুষদের মধ্যে যাদের কাজে লাগবে মনে করেন তাদেরকে লিংকটা কষ্ট করে পাঠিয়ে দেবেন। আর ভুলত্রুটি চোখে পড়লে অবশ্যই রিপ্লাইয়ে জানাবেন। যতদ্রুত সম্ভব ঠিক করে দিতে চেষ্টা করবো।
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেস (আইএমডিবি)।
অনেকে হয়তো বলবেন উইকিতে গেলেই তো এসব জানা যায়, এখানে পড়ে লাভ কী? অনেক কষ্ট করেও তাদের জন্য সন্তোষজনক উত্তর বের করতে পারলাম না।
প্রথম প্রকাশঃ ওয়ার্ডপ্রেস বাংলা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

