somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি - অফুরান মনোভ্রমণের টিকিট

২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি - অফুরান মনোভ্রমণের টিকিট _____________________________________

আন্দালীব

বলছিনা মুক্তি মন্ডলের কাব্যগ্রন্থটি পাঠের পরে জরাগ্রস্তেরা সব উঠে দাঁড়াবেন, বা কয়েদীদের ভেতরে জেলপালানোর হার বেড়ে যাবে, কিম্বা নির্লিপ্ত মানুষেরা একেবারে আবেগের রোলারকোস্টারে চেপে বসবেন। তবে এটা নিশ্চয়ই ধারনা করা যায়, অনুভূতিশীল পাঠকের স্নায়ুর তন্ত্রীতে নিগুঢ় এক সুর কেবলি অনুরণিত হতে থাকবে- এমন একটি কাব্যগ্রন্থ পাঠের পর। ফলে কে আসলে কী করবেন সেটা তাদের নিজস্ব নির্ধারণেরই বিষয় হওয়া ভালো। আমরা বরং গ্রন্থটির দিকে ফিরে তাকাই।

'পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি' পাঠের পরে আমার মনে হয়েছে পাঠক হিসেবে আমি যেন এক বিবিধচারী, বিচিত্রচারী কোন পরিব্রাজকের জুতোজোড়া পায়ে গলিয়ে হেটে বেড়িয়েছি এখান-ওখান। এই যে ভ্রমণ; তার যেন এক জীবনব্যপী টিকিট কাটা হয়েছে এই গ্রন্থটি পাঠের ছুঁতোয়। বিরামহীন এক পর্যটন সহজেই চিহ্নিত করা যায় পংক্তি থেকে পংক্তি, ব্যবহৃত শব্দগুলোয়, কবির বীক্ষণপ্রক্রিয়ায়। আমাদের নিজস্বতার শেকড়কে অনেক গভীরে প্রোথিত দেখি আমি মুক্তি মন্ডলের কবিতায়। তার এই কবিতাগ্রন্থটিতে তিনি যেন নির্মাণ করেছেন ব্যক্তিগত এক 'অর্ধ-নগর; অর্ধ-গ্রাম'। যেসব মানুষেরা এলাকা ছেড়ে কোথাও যায়নি তাদেরকে সাথে নিয়েই শুরু করেছেন তিনি তার এই পরিক্রমা, মোহন পরিব্রাজন। আর লিখেছেন -

"যে সব মানুষেরা এলাকা ছেড়ে কোথাও যায় নি
তারা যৎসামান্য আনন্দলোক দেখে জীবনের ক্ষুদ্র ভাঁড়ারে
অপ্রকাশিতই রয়ে যায় দেহখড়ের নিমগ্ন বেড়াঘর
চৌকির পাশে অবহেলায় পড়ে থাকে তাদের পানের বাটা" (কবিতা- সহজ মানুষের হাটে)


মুক্তি মন্ডল তার এই গ্রন্থে, তার সামগ্রিক কবিতাচর্চায়ও বোধ করি; এইসব মানুষকে সাথে নিয়েই তার ভ্রমণকে অব্যাহত রাখেন। তাদের কথা তিনি কিছুতেই ভুলে যান না। নয়তো কী করে লেখেন-
"সে পথে যারা হেঁটে যায়, তাদের উন্মুক্ত দৃষ্টির
দিকে তাকালে - মনে হয় সুবৃহৎ আকাশের তলে
তুমিও বালুভূমি, কাঁকড়াদের বন।"(কবিতা-কাঁকড়াদের বন)


বিরাজমান ও প্রচল যে কাব্যভাষা তাকে ঠিক পরিহার করে নয়, বরং তার সমান্তরালেই যেন তিনি গড়ে তুলেছেন তার একান্তনিজস্ব এক ভাষিক আচরণ। সহজ, সাবলীল শব্দের ব্যবহারে নির্মিত হয়েছে এই গ্রন্থের কবিতাগুলো। কিন্তু তেমন তো ইতোপূর্বে অনেক কবিই লিখেছেন এবং এখনো অনেকে লিখছেন। তবু মুক্তি মন্ডলের লেখনীর স্বাতন্ত্রকে কেন খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়? কেননা, অহেতুক কঠিন শব্দের ব্যবহারে জটিলতার বিভ্রমজাল তৈরী করেননি তিনি। পাশাপাশি দৃশ্যনির্মাণেও খুব জটিল করে তোলেননি পরিস্থিতি, অথচ সেই সব ব্যপারগুলো পাঠককে তাদের চিন্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা দিতে অনায়াসেই সক্ষম। এটিও তার সফলতার অন্যতম একটি চিহ্ন যে- তার কবিতাগুলো পাঠ করার পর চিন্তায় আমাদের পূর্বজদের কারো মুখ ভেসে ওঠেনা, বরং পাঠকমানসে কবির নিজের অবয়বটিই শুধু প্রতিভাত হয়।

ছোট-ছোট অনুকারিতার চেয়ে বরং তিনি মন দিয়েছেন ছোট-ছোট আবিষ্কারে। ধরাই যাক না এমন কিছু পংক্তি...!

"আমি তাঁকে দেখি নাই, তাঁর উপস্থিতি টের পাই
সে যখন আমার পিছনে এসে একাকী দাঁড়ায়
আমার সামনে সারি সারি ফুলতে ভরে ওঠে
আমি ফুলেেত দেখি যোগিনীরা চুল খু’লে দিয়ে
ফুল তোলে, পাখিদের টহলে ভ’রে যায় আকাশ"(কবিতা- পিছন দিকের আলো, অংশ১)


‘পাখিদের টহল’ -এমন প্রকাশ খুব বেশীজনের কলমে উঠে আসে না।

'মধু ও বিষে' কবিতায় উঠে এসেছে গেরুয়া-স্বভাবের মানুষের কথা, যারা নিয়ত পরিব্রাজনকেই বেছে নিয়েছেন তাদের আত্ম-আবিস্কারের পন্থা হিসেবে। এখানেও প্রশ্ন থাকে- এ’সব মানুষের কথা লিখেছেন এমন কবি তো মুক্তি মন্ডলই প্রথম নন। তবু কেন এই কবিতাটির জন্য আলাদা জায়গা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত হয়েছে স্নায়ুকোষ? কেননা এইসব মানুষের জীবনাচরণকে শুধুমাত্র উপরিতল থেকেই দেখবার চেষ্টা করেননি তিনি। বরং তাদের একান্ত অনুভূতিটিকেও সযতনে উঠিয়ে এনেছেন মুক্তি, তার লেখায়, দেখায়...। ফলে লিখেছেন-

"দয়াদাক্ষিণ্যে আস্থা রেখে পথে-পথে ঘুরে বেড়ানো
এইসব মানুষেরা কাঁদে একলা একলা, গোপনেই চোখ মুছে
নেয় লাল গামছায়, আবারও ওই কী রকম এক
তাড়নার ফাঁদে পড়ে -
শিরদাঁড়া খাড়া করে দাঁড়ায়, আবার হাঁটে।" (কবিতা- মধু ও বিষে)


দৃশ্যকল্পে মুন্সিয়ানা চোখে পড়বার মতো। সমঝদারদের জন্য দু’একটাই যথেষ্ট হবে-
"অস্পষ্ট তিলের দিকে যতবার গেছি
আকাশের দিকে উড়ে গেছে ডানা মেলে পাখিদের ঝাঁক" (কবিতা- ভ্রমণ)

কিংবা
"কেউ জানে না কাল আমার পা খু’লে নিয়ে গেছে
ডাকিনীপাড়ার মেয়েরা" (কবিতা-তুমি রুমালের হলুদ আকাশ)


'আয়নাসুন্দর ও নীলছুরি' কবিতাটি গ্রন্থের সবচে' দীর্ঘ কবিতা, এবং একভাবে বললে গ্রন্থের সবচে' আকর্ষনীয় লেখাও বটে। তবে এটা প্রকৃতই সত্য যে - মূলত এই কবিতায় এসেই মুক্তি মন্ডলের লেখনীর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বা সমস্যাও মূর্ত হয়ে উঠেছে পাঠক আমার সামনে। তার এই কবিতায় ব্যবহৃত উপাদানগুলো যেন ঘুরে ফিরে তার নিজেরই অন্যান্য কবিতা থেকেই তুলে আনা বা ধার করা। ফলে কখনো কখনো মনে হয়েছে যে- এইরকম কয়েনেজ, দৃশ্য এই গ্রন্থেরই অন্য কোন কবিতায় ব্যবহৃত হতে আমি দেখেছি।

প্রাসঙ্গিক হতে পারে ভেবে আরো একটি পর্যবেক্ষণ যোগ করতে চাই- পৌনপুণিকতার এই সমস্যাটি কেবল তার কোন নির্দিষ্ট কবিতাকেন্দ্রিক নয়। বরং মুক্তি মন্ডলের কবিতা পড়তে গিয়ে আমার এটা মনে হয়েছে যে- তার 'পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি' গ্রন্থের অনেক কবিতাই এই সংক্রমণের শিকার। মুক্তি'র রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট শব্দ, নির্দিষ্ট কিছু লোকজ টার্মের প্রতি অগাধ প্রশ্রয়, আনুকূল্য। ঘুরেফিরে সেগুলোকে কবিতায় ব্যবহার করবার একটা প্রবণতা তার লেখায় চিহ্নিত করা যায়। ফলে কখনো তার কবিতা হয়ে উঠেছে একঘেয়ে ও বৈচিত্রহীন। অনেকটা গল্পের সেই কুমীরছানার পৌনপুণিক প্রদর্শণের মতো। এই গন্ডিটি ভেঙ্গে তিনি যতো দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবেন, ততো দ্রুতই তিনি স্বস্তি দেবেন তার কবিতার বৈচিত্রপ্রেমী পাঠককূলকে।

ফের 'আয়নাসুন্দর ও নীলছুরি' বিষয়ক আলোচনায় ফেরা যাক। এই কবিতাটি একটি সিরিজ কবিতা এবং সুদীর্ঘও বটে। তবে সেই সুদীর্ঘতাকে ক্লান্তিকর না হয়ে উঠতে দেয়ার চেষ্টা রয়েছে কবিতাটির ভেতরেই। নয়টি অংশে একে উঠিয়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে সেই চেষ্টাটিই সফল করে তুলেছেন কবি। এই সিরিজের কবিতাগুলো যেন একইসাথে পরষ্পর-সম্পৃক্ত, কিম্বা প্রতিটিই পৃথক। আস্বাদনের দুইরকম উপায়ই খোলা রেখেছেন কবি। অনেক বাঁকমোচড় পেরিয়ে উঠে এসেছে তার 'আয়নাসুন্দর ও নীলছুরি'। লেখাটির কিছু অংশের দিকে নজর ফেরানো যাক-

"একলা হলেই তুমি, যে আকাশে ওড়ে নৈশলিপি,
তার জ্বরতপ্ত দেহে একা খোঁজ শাদা মেঘমালা,
আমি খুঁজি ফুলগন্ধ, দিগন্তের নীলাভ সুন্দরী।
ঘাড়ের ওপোর চাঁদ নেমে আসে, জানালার কাচে
বসে থাকে ঘুমহীন মুখেদের বিষাদের ছবি
ক্যামেরা তাদের মুখ দেখে তুলে রাখে দেওয়ালে।"
(অংশ-৩)
বা
"আমি তোমার আজ্ঞার পাত্র
দেওয়ালে সেঁটে রাখো, আলনায়ও, রাখো ঝুলিয়ে
পেটিকোটে, ব্লাউজের হুকে, রান্নাঘরে, বিছানায়।
আমি থাকি নির্জনতা ছুঁয়ে তোমারই অঙ্গে-অঙ্গে
বাহানার খিড়কিতে।" (অংশ-৫)


অবশ্য কাব্যের অন্যতম প্রধান যে দাবী- পাঠের আনন্দ, সেটা মুক্তি মন্ডল বেশ ভালোভাবেই মিটিয়েছেন তার এই সিরিজ কবিতাটিতে। পাঠক নিজেও মিলিয়ে দেখতে পারেন সেটা। দেখতে পারেন, আয়নার গায়ে কেমন ঝিকিয়ে উঠছে কবিতার রোদলাগা ছুরি, আর কী করেইবা আমূল বিদ্ধ হচ্ছে এসে তা পাঠকের স্নায়ুতে!

কাব্যরস এর কোন অভাব না থাকলেও কম্প্যাক্টনেস এর যথেষ্ট অভাব দেখা গেলো গোটা 'পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি' জুড়েই। এই গ্রন্থের কবিতানির্মাণে বেশীরভাগ সময়েই টানটান ধণুক-ছিলার বৈশিষ্ট্যের চেয়ে তিনি যেন পছন্দ করেছেন খানিক এলিয়ে পড়া শব্দাবলী, কখনো শৈথিল্যও। ফলে গ্রন্থের অধিকাংশ লেখাই গড়ে উঠেছে খানিকটা স্পেস নিয়ে। সেইসাথে প্রশ্নও জাগে- এই শিথিলতার কারনেই কি অনেক উপাদান, অনেক অনুষঙ্গের সমাহার দেখি আমরা মুক্তি মন্ডলের লেখায়? কিংবা ভাবনা আসে- এ’কারনেই কি তার কোন কোন কবিতা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ বলে মনে হয়েছে পাঠের সময়?

প্রয়োগের সাহসিকতা, লিখবার সাহসিকতা- এইসবি রয়েছে ‘পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি’তে, আর সেইসাথে রয়েছে সময়সচেতনতাও। কবিতাগুলোর রচনাকাল জানুয়ারি ২০০৮ থেকে জানুযারি ২০০৯। সচেতনদের মনে পড়বে কী এক অস্থির রাজনৈতিক-সময়-টানেল অতিক্রমণের সময়েই লেখা হয়েছে -
"বাস, ট্রাক, সেনাবাহিনীর গাড়ি এরা সব একে একে
ঢুকে পড়ে ড্রেনে, আমি দেখি, আর একা হাসি
আমার হাসির বস্তিতে রাজা সাজে আমার হাত।" (কবিতা- পিছন দিকের আলো)

কিংবা
"আমরা কফি খাই, সিগারেট টানি, ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে দেখি রাস্তার পাশে ট্রাক;
সামরিক কামান তার উপরে ফিট করা, আমরা দেখতে থাকি তার দেহ,
নির্লিপ্ত চোখের তারা।" (কবিতা- এই দেহ ওই ঘড়িবাজ)


এই হাওয়ার যুগেও আশার কথা, তিনি হাওয়াপন্থি হননি। যুগের বিচারে ব্রাত্য হয়ে পড়ছেন কিনা নিজস্ব প্রকাশের ক্ষেত্রে সেই চিন্তাকেও আমলে আনেননি। ফলে সৎভাবে মুদ্রণ করতে পেরেছেন এমন কথা-

"এই ডিজিটাল যুগে, পণ্য ও বেসাতির কালে
ঘুম থেকে জেগে উঠে যেই মাহেন্দ্রণে, এই সিন্দুকের
কথা ভাবি, মনের গহীনে খচখচ করে ওঠে..." (কবিতা- সিন্দুক)


মুক্তি মন্ডলের এইসব প্রয়োগের ভেতরে শুধু এ'রকম সাহসিকতাই নয়, তার সাথে দক্ষ কবির বৈশিষ্ট্যে তার নিজস্ব উপলব্ধির বিষয়াষয়ও নিহিত আছে। সেইসব উপলব্ধিকে কাব্যিকভাবে প্রকাশের চেষ্টাও আছে। "মৃত্যু দৃশ্যের চেয়ে তোমার হাতের আঙুল অনেক বেশি রোদ ঘুঙুর" (কবিতা- দ্বিধা)। তাছাড়া সর্বাঙ্গসুন্দর কিছু লেখাও রয়েছে এখানে- 'রান্নার প্রস্তুতি' বা 'আলো-সম্ভাবনা' সেরকমেরই কবিতা।

তবে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে মুগ্ধ হয়েছি 'শাপগ্রস্ত বেণীর আকাশে' কবিতাটি পড়ে। শব্দের যথার্থ ব্যবহার, কাব্যময়তা, চমৎকার দৃশ্যকল্পের সমাহার- কী নেই এতে!
"শাপগ্রস্ত বেণীর আকাশে কামাীর হলদে পাখিরা
বিষাদের গ্রন্থি থেকে উড়ে যাবে -
ফুলশয্যায় পড়ে থাকবে মেঘপুঞ্জ। চূর্ণ কাচে ভরে উঠবে শহর" (শাপগ্রস্ত বেণীর আকাশে)


প্রকাশের পূর্ণাঙ্গ মাধ্যম হিসেবে ভাষা আসলে কতোটা সফল? এরকম অপ্রথাগত চিন্তাও করেছেন মুক্তি মন্ডল। কিছু কি সত্যিই রয়ে যায় না ভাষার বাইরে? আমাদের সংকেত, ইশারা- সেও তো একভাবে ভাষারই অন্তর্গত। তবু ভাষার বাইরে কিছু যেন একটা খুঁজছেন কবি, যার শুরুটা এভাবে -
"ভাষার বাইরে কিছু নাই? তাকালেই তো বুঝি বৃষ্টির দিন
মেঘপুঞ্জ চোখের পাতায় সাজিয়ে তোলে হলুদ ফুল
তার গন্ধ
চিল ওড়ে" (কবিতা- ধূপ)


মুক্তির কবিতার গহিনপ্রদেশে ঢুকে পড়া গেলে অনুসন্ধিৎসু পাঠকেরা আবিষ্কার করবেন কবির নিজস্ব এথনিসিটির বোধটি তীব্র এবং টনটনে কতো। তিনি বারবারই খুব সচেতন হয়ে পেছন ফিরে দেখতে চেয়েছেন, দেখাতে চেয়েছেন তার নিজের পদচিহ্ন। ব্যক্তিক লেন্স ব্যবহারে তুলে আনতে চেয়েছেন সমষ্টির কথা, অভাজনের কথা, অসম্ভ্রান্তের কথা। মুক্তি কবিতা থেকে কবিতায় তাদের কথা বলে গেছেন, তবে তার মিনতিপূর্ণ কথাগুলো আসলে কি এবং সেইসব কতোটা আন্তরিক- তা জানতে তার কাব্যগ্রন্থটি নিবিড় পাঠের কোন বিকল্প নেই।

সবমিলে তিরিশটি কবিতা গ্রন্থভুক্ত হয়েছে ‘পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি’তে। ভিন্নতাপ্রত্যাশী একজন পাঠক হিসাবে গ্রন্থটির শিরোনামে সেইভাবে স্পর্শ করেনি আমাকে, যেভাবে সহজেই করতে পেরেছে এই গ্রন্থের কবিতাগুলো। তবে এই সত্য তো সকলেই জানেন - নামে কী’ইবা আসে যায়!


______________________
প্রান্তস্বর, জুলাই ২০০৯ সংখ্যা

গ্রন্থ - পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি ।। কবি - মুক্তি মন্ডল ।। প্রচ্ছদ - রাজিব রায় ।। জোনাকরোড - এর ব্যানারে ২০০৯-এর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত ।। মূল্য ৳ ৪০
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১৪
২৪টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×