somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্র নেতার ছাত্রজীবন

০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভার্সিটি জীবনে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা নেতা এবং পাতি নেতাগণের নানান সার্কাস আর বান্দর খেলা দেখার সৌভাগ্য কমবেশি সবারই হয়।

কিন্তু অধ্যয়ন নিয়ে তাদের ব্যাতি ব্যস্ত হতে দেখা আর ডুমুরের ফুল দেখা একই কথা। আমার কিছু দেখার এবং কিছু শোনার সৌভাগ্য হয়ে ছিল।

আমাদের কম্পিউটার প্রোকৌশলের এমনই এক ছাত্রনেতার গল্প বলছি। ধরে নেই তার নাম করিম।

আচারে ব্যবহারে করিম ভাই একেবারে মাটির মানুষ, মুখে বিগলিত হাসি লেগে থাকে সবসময়।ফিল্ড একশনে আর্মস বা রড হাতে তাকে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবেনা ভদ্রলোক কত্তোবড় ক্যাডার।

গল্প-১

আমাদের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা। করিম ভাইকে সহাস্য মুখে পরিক্ষার হলে ঢুকতে দেখা গেলো। ড্রপকোর্সের পরিক্ষা দিবেন করিম ভাই। এসে বসলেন আমার ঠিক পেছনে এবং আমাদের এক কাবিল ব্যাচমেটের ঠিক সামনে। এসেই জানান দিলেন, দুই পার্ট খাতার এক পার্ট খাতা যেনো ২০ মিনিটের মধ্যে তাকে সাপ্লাই দেয়া হয়।

আমি তো পড়লাম শালার বিশাল বিপদে।আমি আমতা আমতা করতে করতে বললাম,"বস। বিশ্বাস করেন, আমি কিছুই পারিনা"

করিম ভাই: "ঐ বেটা, তইলে আমি পাশ করমু ক্যামনে?"

আমি ফিসফিস করে কইলাম,"বস। আপনার পেছনে যেইটা বইছে, ঐটা বিশাল কাবিল।সব পারে।ওরে সেট করেন, শিওর এ প্লাস পাইবেন।"

করিম ভাই আমারে মুক্তি দিয়া পেছনেরটারে ধরলেন । প্লান করলেন ১ম পার্ট খাতা উনি পকেটের নকল দিয়া উতরাবেন। তারপর ২য় পার্ট খাতা উক্ত কাবিলের সাথে অদল বদল করে লিখবেন। আমার কাবিল বন্ধুটি দ্বিমত করার সাহস পাইলো না।

পরিক্ষা শুরু হওয়ার পরপরই উনি প্যান্টের পকেট থেকে নকল বের করে ইনডেক্সিং বা ম্যাপিং শুরু করলেন, কোন প্রশ্নের নকল কোনটা। কিন্তু কোনো ভাবেই উনি মিলাতে পারতেছেন্ না। খালি আমারে কিছুক্ষণ পরপর কয়, "ঐ রেদু। খুইজা পাইনা তো কিছু। "

আমি উপায় না দেখে রিস্ক নিয়া তার হাত থাইকা নকল নিয়া দেখি শালায় আগামী পরিক্ষার নকল আনছে। তারে সুখবর জানাইলাম ,"মিঞা, কি করছেন এইডা। আনছেন তো অন্য সাবজেক্টের নকল।"

করিম ভাই বিকারহীন ভাবে কয়, "টেনশন করিস না, দাড়া বাইক দিয়া টান মাইরা আসলটা আনতাছি।"

টয়লেটে যাবার নাম করে হল থেকে বের হলেন এবং মিনিট বিশেক পরে সহাস্য বদনে হাজির হলেন।

পরিক্ষার গার্ড জিজ্ঞাসা করলেন, "কি ব্যাপার। এতোক্ষণ কই ছিলা? "

করিম ভাই বিগলিত হাসি দিয়া কয়, "স্যার। আমার আবার একটু হজমের সমস্যা আছে তো......।"

যাই হোক করিম ভাই তুমুল আনন্দে শুরু করলেন নকল করা।আমারে খানিক পরপর কয়, "ওই রেদু, কোশ্চেন তো সহজ রে.....বেটা পারস না ক্যান?? টুকলি লাগলে কইস।"

আমি তো টেনশনে অস্হির। শালায় না আবার কি গ্যান্জাম বাধায়। আমারে সুদ্ধা না আবার এক্সফেল হয়।

তিন ঘন্টা পরিক্ষার ২য় ঘন্টা শেষ। করিম ভাই এইবার খাতা বদলানোর ধান্ধা শুরু করলেন। আমার কাবিল ব্যাচমেট এর তুমুল আপত্তি সত্ত্বেও বলতে গেলে জোর কইরা খাতা বদলাইলেন।

করিম ভাইয়ের কাছে দুইটা বি পার্টের খাতা। কাবিলের কাছে দুইটা এ পার্টের খাতা।

করিম ভাই শুধু খাতা নিয়াই ক্ষান্ত দিলেন না। এ পাশে ও পাশে সবার সাথে কনসাল্ট করা শুরু করলেন। তার এই মুভমেন্ট হলের গার্ডের চক্ষে পড়ল।স্যার করিম ভাইকে খাতা নিয়া জমা দিতে বললেন।

আমি দেখতেছি আর কোনো উপায় নাই। করিম ভাই কনফার্ম এক্সফেল হইতেছে।সাথে আমার ব্যাচমেট টাও কনফার্ম এক্সফেল; কারণ দুই পার্ট খাতার একপার্ট তার নিজের, আরেক পার্ট করিমের। করিমের খাতার দুই পার্টের এক পার্ট শুধু তার নিজের, আরেকটা আমার ব্যাচমেটের।

সূতরাং দুইজনেই ধরা খাইতেছে।

করিম ভাই নির্ভয়ে দাড়াইলেন। স্যারের দিকে তাকায়ে একটা হাসি দিলেন। স্যার কিছু বোঝার আগেই পিছনে ঘুরে আমার ব্যাচমেটের খাতা দুইটা ছো মাইরা নিয়া নিজের দুইটার সাথে এক করে ফেললেন। এবং স্যারকে শোনায়ে শোনায়ে আমার ব্যাচমেটকে বলতে লাগলেন, "ঐ মেলা লিখছোস। চল একলগে বাইর হইয়া ক্যন্টিনে চা খাই।"

স্যার পুরা ব্যাপারটা বুঝে ওঠার আগেই করিম ভাই খাতা জমা দিয়া আমার বন্ধুটিকে নিয়া ততক্ষণে হলের বাইরে।

(চলবে।)


১৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×