somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাটহাজারীর বৈশাখ

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেউ বলে মদিনা সনদে দেশ চলবে। কিছু লোক নারীদের লোক-সম্মুখে উপস্থিত হওয়াকে আইনগত ভাবে বাতিল করতে চেয়ে হেফাজতের আন-লাকি ১৩ দফার রফা চায়। কিছু লোক নারীদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে খবরের কাগজে অশ্লীল গল্প ফাঁদে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে হেফাজতের চকিত প্রাদুর্ভাব ও ১৩ দফার গ্রহণযোগ্যতা চমকপ্রদ।
কিন্তু কি অবাক করা!
কাল বৈশাখে যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলাম এবং ফিরছিলাম, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম রাস্তার আশেপাশের লোকজনের উদ্দীপ্ত সমাগম। হেফাজতের ডেরা হাট-হাজারীর নরনারীর বাঁধ ভাঙা বৈশাখী অংশগ্রহণ! অদক্ষ হাতে মেয়েরা পরেছিল সাদা-লালের শাড়ী। শান্তিনিকেতনী অলঙ্কারে অলঙ্কৃত ছিল তাদের রোদে পোড়া ত্বক। মুখে ছিল নিঃসংকোচ তারুণ্যের দীপ্তি। ফলস চুলে করা বেণী দুলিয়ে, অনভ্যস্ত হাই হিলে চড়ে গর্বিত মোরগের মত মাথা উঁচু করে চলছিল তারা রাস্তায়। এবড়ো-থেবড়ো রাস্তার ভাঙাচোরা গাড়িঘোড়া, তাদের চাকা ঘুরে ঘূর্ণায়মান ধুলা, এলোমেলো লোকজনদের বড়ই বেমানান লাগছিল চারদিক আলো করা এই নারীদের উপস্থিতিতে।

হাট-হাজারীর আশেপাশের গ্রামের ছেলেরা ট্রাক ভাড়া করে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে মাইকে বাদ্য বাজিয়ে দলবেঁধে উদ্যম নাচ নেচেছে কাল। ঘুরেছে এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে।
যদি ঠিক এই ছেলেমেয়েগুলোর সাক্ষাৎকার নেওয়া যেত, নিশ্চিতভাবে আমরা শুনতে পেতাম, তারা হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন করে। মেয়েদের ভাইদের কেউ কেউ দ্যাখা যাবে হেফাজতের সরাসরি কর্মী। এরা আসলে জানে না ১৩ দফার বাস্তবায়ন তাদের ভাগ্যে কি বয়ে আনতে পারে। তারা জানে না দাবিগুলো আসলে কি।

মনে মনে ভাবি, বাংলাদেশের মত একটি মুক্ত, অস্বীকৃত স্যাকুলার দেশে, হেফাজতের দাবী কি শুধু মধ্যযুগীয় নাকি হাস্যকর?

যদি এই অঞ্চলে ঘোষণা দেওয়া হয়, হেফাজতের ১৩ দফার সবকয়টি মেনে নিয়েছে সরকার; তৎক্ষণাৎ ছেলেমেয়ে, নারীপুরুষ আনন্দ মিছিলে বের হবে পথে। নরনারীর অবাধ অংশগ্রহণে সেই মিছিলে ১৩ দফার স্বীকৃতি বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে নাচে, গানে, আনন্দে, একসাথে।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমা করো মোরে

লিখেছেন অতৃপ্তচোখ, ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩১


কোথায় না খুঁজেছি...
আকাশের চন্দ্র তারায়- মেঘের আঁড়ালে।
দিনের আলোতে, পূর্ণিমায়- রাতের আঁধারে।।

কেমনে বুঝাব ভালোবাসি,
আমার সকল বিশ্বাস, সত্ত্বায়- আমার অস্তিত্বে।
তুমি ধ্যান, ভক্তি, উদারতায়- সর্বত্র মর্মে মর্মে।।

আকাশ পাতাল ঘুরেছি,
স্বর্গ, নরক, দুঃসহ যন্ত্রণায়-... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের সর্বোচ্চ জ্ঞান পৃথিবীকে মুছে ফেলার জন্য?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:০৬



এটোমিক ফিশান ও কম্প্যুটিং হচ্ছে, এই মহুর্তে মানুষের সর্বোচ্চ জ্ঞান, যা মানব সভ্যতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, এনেছে সুদিন; কম্প্যুটিং এমন ধরণের জ্ঞানী আবিস্কার, যা মানুষের জ্ঞানকে রিফাইন করতে সাহায্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অণু কবিতাঃ কবি ও কবিতা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:০৮

সে বলেছিল, সে কবি হতে চায়।
তুমি বলেছিলে, অন্তরে তুমি চাও
তার কবিতা হতে, চরণে চরণে।
সে কবি হয়েছিলো তোমার কারণে।

ঢাকা
১৪ জানুয়ারী ২০১৭... ...বাকিটুকু পড়ুন

মনের আগুন নিভিয়ে ফেলুন, এখনই.....

লিখেছেন এক বিন্দু জল, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৫:৫২

রাগলে মানুষের চেহারা প্রচন্ড রকম কুতসিৎ হয়, তবে এটা আমরা খুব সহজেই খালি চোখে দেখতে পাই।

কিন্তু রাগ সময় আমাদের ভেতরটা আরো অনেক বেশী কদাকার হয়, সুখের কথা এটা কেউ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকাব্যঃ

লিখেছেন মোহাম্মদ বাসার, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৫৮



ওসমান

ওসমান না আসমান কে কত বড়?
এই হিসেব নিয়ে ভীত ছিল বেগম খাদিজা,
টাইন্যা নামাইয়া দেখ জাইঙ্গা ওসমানের
ওখানে একফোঁটা বৃষ্টির জল তৈরীরও
নেই কোন মোজেজা!

১৬ই জানুয়ারী ২০১৭
যুক্তরাজ্য।

...বাকিটুকু পড়ুন

×