সেই শিশুকাল থেকেই শুনে আসছি বানরের হাতে কলা ধরিয়ে দিলে নাকি বানর তাই নিয়ে খেলা করতে থাকে। অন্যদিকে নজর দেয়ার সময় পায় না। আমাদের দেশের সাম্প্রতিক অবস্থার দিকে নজর দিলে ওই কথাই বারংবার মনে হয়েছে। আমরা তরুণ সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে যারা ব্লগ দুনিয়ায় বিচরণ করি তাদের গেল মাসে বেস ব্যস্ত একটি সেশন পার করতে হয়েছে পর পর দুই অমানুষ আর জন্তু সাইদ পরিমলের চিতায় আগুন দিতে। কিন্তু জাকির হোসেনের বইয়ের শিরোনাম অন্ধকারের বস্ত্রহরণের মতো এই ফাকে দেশের কতোবড় সর্বনাশ হতে যাচ্ছে তার খবর কি কেউ রেখেছেন ??? মনে হয় না ।
আমি বলতে চাইছি ফারাক্কার পর সবথেকে আশংকার জন্ম দেয়া টিপাইমুখ ড্যাম এর কথা। ফারাক্কা নিয়ে হাহুতাশ করতে করতে আমরা যে মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকাবেলায় শুয়ে আছি ঠিক সেখানেই বুকের উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসতে যাচ্ছে টিপাইমুখ।
সবাইকে হাসিয়ে গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল যখন টিপাইমুখ বাঁধ দেখতে গিয়েছিল তখন আশঅর বাণী শুনানো হয়েছিল ভারত এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। বাংলাদেশের সব মানুষকে হাসিয়ে অনেকটা সাবান চুরির সময় কাকের চোখ বন্ধ রাখার মতো খোড়া যুক্তি দেয়া হয় মিডিয়াতে আমাদের সম্মানিত প্রতিনিধি দলটি নাকি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ২৯ জুলাই (২০১০) টিপাইমুখ বাঁধের নির্মাণাধীন এলাকায় যেতেই পারেনি। আসলে তারা যেতে পারেননি না ইচ্ছে করেই তাদের প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করে পাঁচতারা হোটেলের ঠাণ্ডা ঘরে মুরগীর ঠ্যাং চিবিয়ে জাতিকে সম্ভাব্য বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন কিনা আল্লাহ মালুম। তারা যখন বাংলাদেশে ফিরে এসে বলেছিলেন ভারত টিপাইমুখে কোনো বাঁধ নির্মাণ করছে না দেশের শতকরা নব্বইভাগ মানুষই তাদের এই মিথ্যাচার বিশ্বাস করেনি। যার সাক্ষ্য আমরা পেলাম ভারতের নর্থ-ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রেমাচান্দ পংকজ এর ভাষ্যে । তিনি গত ১১ জুলাই স্থানীয় একটি সংবাদ সংস্থার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, টিপাইমুখে বরাক নদীতে প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবেই। তিনি জানান, প্রস্তাবিত ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম টিপাইমুখ প্রকল্পের কাজ যথারীতি এগিয়ে নেয়া হবে (আমার দেশ, ১২ জুলাই, ২০১১)।
পদলেহী প্রথম আলো বরাবরের মতো দেশের সর্বনাশের সময় চুপ থাকার ঐতিহ্য বেশ যত্নের সাথে লালন করে আসলেও এই দু:সংবাদ দেশের প্রায় প্রতিটি দৈনিকে প্রেমাচান্দের এই বক্তব্য ছাপা হয়েছে। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল ভারতের মনিপুর রাজ্যের চোরা-চাঁদপুর জেলার তুইভাই ও বরাক নদীর সঙ্গমস্থলে টিপাইমুখ বাঁধটির নির্মাণ কাজ আগামী ২০১২ সালের মধ্যে শেষ হবার কথা। শুধু বাংলাদেশেই নয়। খোদ আসাম ও মনিপুরের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এই বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করছে। তারা মনে করছেন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ফলস্বরূপ অর্থনৈতিকভাবেও বিপন্ন হয় পড়বে এলাকার বাসিন্দারা। ভারতের পরিবেশবাদীরা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করলেও, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গটস বলেছেন বৃহৎ নদী বাঁধ যেকোনো মূল্যে হচ্ছেই। কেউ বাঁধের কাজ আটকাতে পারবে না। এখন মুখ্যমন্ত্রী গটস কিংবা প্রেমাচান্দের বক্তব্যের পর এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, টিপাইমুখ বাঁধ হচ্ছেই।
বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাংলাদেশ যে বড় ধরনের একটি পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে, তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যে বলা হচ্ছে, ৯৩০ মিটার দীর্ঘ ও ৯৬৯ মিটার উঁচু এই বাঁধটি চালু হলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রাকোনা ও নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এলাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গ্রীষ্মকালে ৯৪৬ কিমি. এলাকা মরুভূমির ন্যায় শুকনো থাকবে এবং বর্ষাকালে হঠাৎ পানি ছাড়লে ব্যাপক বন্যা হবে। প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রভাবিত হবে এর কারণে। ভূমিকম্পের আশংকা বাড়বে। খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে এবং বেশ কিছু শাখা নদী মরে যাবে। বলা বাহুল্য, এই বাঁধটিতে প্রায় ১৬ বিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি আটকে রাখা হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য।
আমাদের বর্তমান পানিসম্পদ মন্ত্রী তাঁর স্বল্পজ্ঞানে এই বাঁধটির ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত না হলেও, টিপাইমুখ সফররত সংসদের পানিসম্পদ মন্ত্রাণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়রম্যান আবদুর রাজ্জাক পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছিলেন এই ক্ষয়ক্ষতির কথা।
২০১০ সালের ২৮ জুলাই বিবিসির বাংলা বিভাগ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন পরিবেশন করে। আমাদের সংসদ
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



