মানুষ একবার ভুল করে , নাবুঝে দুই বার করে, ৩য় বার নিজকে সুধরে নেয়। কিন্তু আমি একই ভুল ৩ বার করলাম। আর শেষ বার যখন করলাম তা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আর তার ফল আমি এখন ও ভোগ করছি, কথা শুনছি প্রতিনিয়ত। ধীরে ধীরে সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে ইচ্ছা করা শুরু হয়েছে নিজের মাঝে। কিন্তু কাউকে কিছুই বলতে পারিনা । কেউ সাহায্যও করে না, অথচ কথা শুনানোর সময় কিছু কথা ধার করে হলেও শুনাতে ছাড়ে না। রাগ হলেও কিছুই বলার নেই। কারন এখন যে তাদের সময়, আর আমার সময় শুনার।
যখন বিবিএ পড়ছি আশা ছিল বিবিএ করেই একটা জবে ঢুকে যাব।এমবি এ পরে করব। কিন্তু আমি নিজে তা কেন করিনি বুঝতে পারিনি।
বিবিএ শেষ করলাম ২০০৯ এর মাঝামাঝিতে, ব্রাক ব্যাংক এ সেলস্ এ জব অফার করল, মনে মনে ভাবলাম মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে কার্ড সেল করব ??? কোন দরকার নাই। মাত্র তো শেষ হোল, এখনও সাটিফিকেট হাতে পাই নি। আরো ভাল চাকরি অবশ্যই পাব। বিবিএ তে রেজাল্ট ভাল, চিন্তার কিছু নাই।
হল ও তাই। এক মাসের মাথায় নিটল মটরস্ এ মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ এর জব। পোস্টিং চট্রগ্রাম। রাজিও ছিলাম, যেদিন জয়েন করতে গেলাম সেখানে গটল বিপত্তি। ওরা যত টাকা সেলারি দিবে বলছিল জয়েন করতে গিয়ে দেখি তার চেয়ে কম লিখতেছে । কারন জানতে চাইলাম বলল যে আপনাকে তত টাকাই দেওয়া হবে যত বলা হয়েছিল, আর এই এমাউন্টটা হল আপনার বেসিক।আমি রাজি হলাম না, বললাম আমার বেসিক পুরটাই রাখতে হবে, যতটা আমাকে বলেছিলেন।শেষ পর্যন্ত ঐখানেও আর করা হল না।
ভাবলাম এমবিএ টা করে ফেলি, যদি জব হয়ে যায় ভাল, সময় তো নষ্ট হবে না। তাই এম বি এ তে ভর্তি হয়ে গেলাম। জব এর প্রতি আগ্রহটা কমে গিয়েছিল, পড়ালিখার প্রতি মনোযোগ দিলাম, বাবা বলে দিয়েছে টাকা পয়সা আর দিবে না,শুধু টিউশনফি দিবে। এই দিকে নতুন নতুন প্রেমে পড়। মথায় তো মনে হয় বাজ পড়ল। কি করি কি করি ?
বের করলাম ভাল রেজাল্ট করে স্কলারশিপ নেওয়া যেতে পারে। এতে করে লিখাপড়া টা ও ভাল হবে, সময়ও পাওয়া যাবে ভার্সিটিতে বেশী থাকার মত আর টাকাও পাওয়া যাবে। যেমন চিন্তা তেমন কর্ম। এই ভাবেই এম বি এ শেষ করলাম। মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম , কিন্তু পছন্দ মত না হওয়াতে নিজেই যায়নি। কারন তো একটাই প্রেম করছি যে।
এমবিএ শেষ করলাম। যথারিতি রেজাল্ট ভাল।এক বন্ধুর পরামর্শে সিএমএ তে ভর্তি হতে। বাবা বলল হলে হতে পার, আমি টাকা পয়সা দিব না । আর বাবাকে বিরক্ত করিনি। একজনের সাথে যৌথ ভাবে শেয়ার বিজনেস শুরু করলাম। চলছিল ভালই। বিও একাউন্টএর পেছনেই খরচ করলাম ২ লাখ টাকা। এখানে আমার তেমন কোন টাকা ছিল না। ব্যাবসার মোট টাকার আমি যোগান দিয়েছি মাত্র ৫০ হাজার। আর পুরো টাকাটাই আমার পাটনার দিয়েছে। সর্ত ছিল তার ৬৫% আর আমার ৩৫ % । উনি শুধু টাকাই দিবে আর কিছু করবে না। যদি লস হয় তাও আমাকে বহন করতে হবে।
এমবিএ শেষ হল ২০১০এর মাঝামাঝিতে। গার্ল ফ্রেন্ড বলতে লাগল জব এর কথা। তাকে অনেক ভাবে বুঝালাম জব করে কি হবে,দেখ এখানে কত ভাল আছি, আমার সিএমএ পড়াটাও ভাল ভাবে করতে পারব। তার শেয়ার ব্যাবসা পছন্দ না।
২০১১ শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস। আমার পাটনার আমাকে ২০ % দিয়ে সরে পড়ছে । তাকে কিছু বলতে পারিনি, আত্মীয়র মধ্যে পড়ে তাই। আর বয়সেও বড়।মেনে নিলাম।
২০১১ এর এপ্রিল মাসে বুঝি আমার লাইফের সবচেয়ে বড় ভুলটি করলাম স্বজ্ঞনে তা তখন না বুঝলেও এক সাপ্তাহ পরেই বুঝেছিলাম। আর তার ক্ষত এখন ও বয়ে বেড়াচ্ছি।
রেজাল্ট ভাল হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন ইউনিভাসিটিতে এপ্লাই করার সুযোগ ছিল। একটা প্রাইভেট ইউনিভাসিটি থেকে আমাকে লেকচারার (Finance ) এর জন্য সিলেক্ট করেছিল। আর সে মুহুর্তে আমি যে ভুল করেছিলাম, আজ বুঝি সে ভুল এর জন্য নিজেকেও ক্ষমা করতে পারছি না।
তখন আমাকে একজন এ বলেছিল তোমার তো ব্যাংক এ হয়ে যাবে, এখানে জয়েন করার দরকার নাই । যে একজন বলেছিল তাকে আমি কখনও ই পছন্দ করতাম না। জানি সে সব সময় মিথ্যা কথা বলে।আবার যদিও আমার কাছের অনেক মানুষই তাকে এতটাই ভাল জানে যে তার কথায় সে সব কিছু দিয়ে দিতে পারবে। তাকে তারা আধ্ধাতিক লাইনের একজন বলে মনে করে। তখন সে আমাকে বলল দরকার নাই এখানে যাবার। ব্যাংক এই হয়ে যাবে। উনার কথা ধরে আমি আর যায়নি। ভাবলাম যেহেতু আমার পাশের মানুষগুলো এত বছর ধরে উনার সাথে আছে নিশ্চয় উনার মাঝে হয়ত আধ্ধাতিক কোন শক্তি থাকলেও থাকতে পারে। আর আমি যদি এখন এখানে জয়েন করি তাহলে ২ মাসের মধ্যেই আমার এ জব টা ছেড়ে দিতে হবে। কারন ব্যাংকে হয়ে যাবে। আর তখন আমার ছাত্ররা সমস্যার মধ্যে পড়বে, কর্তিপক্ষকে নতুন টিচার খুঁজতে হবে। তাই আর জয়েন করি নি। যদিও শেস পর্যন্ত ব্যাংকের জবটাও আমার আর হয়নি।আর এখন সে বলে চিন্তা করিস না হয়ে যাবে।
কিছুদিন পরে অন্য আরেকটা ব্যাংকে আমার ভাইভা ছিল। এমন ই পোড়া কপাল আমার সেটাও দিতে পারিনাই। একই দিনে আমার সিএমএ পরীক্ষা ছিল। চেষ্টা করেছিলাম ভাইভাটা পরে দেওয়ার জন্য , পারিনি। আর পরীক্ষাটা দেওয়ার সিদ্ধান্তটা আমার গার্ল ফ্রেন্ডের ছিল, আমি ও ওর সাথে এক মত ছিলাম কারন পরীক্ষাটা যদি পাস করা যায় তাহলে চাকরীর বাজারে আমার মূল্য বাড়বে।যদিও সবগুলো বিষয়ে পাস করতে পারিনি। ৪৯ পেয়ে এক নম্বর এর জন্য ফেল করেছিলাম এক বিষয়ে।
এরপর থেকে সিভি তে (সিএমএ স্টাডী - সিমা ইউকে) লিখা শুরু করলাম। কিন্তু দঃখের বিষয় এরপর থেকে কেউই আমাকে কল করেনি, যদিও অনেক জায়গাই এপ্লাই করেছি।
দুদিন পর আরো দুই বিষয়ের রেজাল্ট জানাযাবে। যদি পাস করি তাহলে একটা ডিগ্রি যোগ করতে পারব সিভি তে। তখন তো বলতে পারব যাক বৃথা তো আর সময়টা নষ্ট হয় নাই। যদি আবার ও ফেল করি তাহলে ২০১১ সালটা আমার কোন কাজেই আসল না বলতে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

