somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন এক অন্তহীন সম্ভাবনা , এসএসসি পাশ ছেলেমেয়েদের জন্যও সেই সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকুক

২৭ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক.
আমি এসএসসি'র আগে টেস্ট পরীক্ষায় পেয়েছিলাম মাত্র ২৬৫ !!
২৬৫ নিশ্চয়ই ভয়াবহ নম্বর , কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম যে এই নম্বরই বা আমি কিভাবে পেলাম ।
ক্লাস নাইনে থাকতেই আমার বিগড়ানোর চূড়ান্ত হয়েছিল , সেই তুলনায় ২৬৫ নম্বর পাওয়ার মতো লেখাও পরীক্ষার খাতায় লেখার কথা ছিল না আমার ।
আমাদের স্কুল ছিল তখনকার চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা দশটি স্কুলের একটি , সেই স্কুলের কোন ছাত্র যদি পাশ নম্বর ৩৩০ই তুলতে না পারে , তাহলে তাকে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে দেয়ার কোন মানে হয় না ।
তৃতীয় বিভাগ বা পাশ মার্ক তুলতে না পারা সেধরনের ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৯ জন । সেই ৯ জন ছাত্রকে ফরম ফিলাপ করতে দিলেন না ক্লাস টিচার , আমরা গিয়ে হেডস্যারকে ধরলাম ।
স্কাউট বিএনসিসি আর ক্লাস ক্যাপ্টেন হওয়ার সুবাদে , আমাদের হেডস্যার দরছ আলী আমাকে আলাদা ভাবে স্নেহ করতেন ।

তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন - তোরা কি পাশ করতে পারবি ? পরীক্ষার আর মাত্র ৩ মাস বাকী । পড়াশোনা করবি তো ?
আমি গভীর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছি - পারব স্যার ।
স্যার আমাদেরকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিলেন ।

আমরা স্যারের সেই বিশ্বাসের সম্মান রেখেছিলাম ।
আমি নিজে নিজে তখন বীজগনিতের সূত্র শিখেছি , রাতের পর রাত টেস্ট পেপারের প্রশ্নের পর প্রশ্ন সমাধান করেছি , বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নোট এনেছি , নিজে নোট তৈরী করেছি , রুটিন তৈরী করে সেই মতো পড়েছি ।

রেজাল্ট বের হওয়ার পরে দেখা গেল আমরা সেই ৯জনই প্রথম বিভাগে পাশ করেছি , দুইজন স্টার মার্কস পেয়েছে ( সেকালে স্টার পাওয়াটা এক বিশাল ব্যাপার ছিল )


বাকীদের মাঝে আমাদের কয়েকজনের স্টার মার্কস সামান্যের জন্য মিস হয়েছে , মোটের উপর অনেক ভালো রেজাল্ট বলা যেতে পারে ।

সেই ৯ জনের মাঝে ৭ জন পরবর্তী জীবনেও লেখাপড়া করেছি ,একজন ডাক্তার হয়েছে , বাকীরাও জীবনে সফলই বলা যেতে পারে । সেদিন একজনের সাথে বার্মিংহামে দেখা হল , লয়েডস ব্যাংকে দাপটের সাথে চাকুরি করছে , তার কাছেই আরেকজনের খবর পেলাম যে নাকি ঢাকাতে একটা বিদেশী সাহায্য সংস্থায় বাড়ীগাড়ীঅলা কর্মকর্তা , বেতন লাখের ঘর পেরিয়ে গেছে ।

দুই.
এই গল্পটি উল্লেখ করার কারন , সেই দিন থেকেই আমি জানি এবং বিশ্বাস করি যে জীবনের কোন পর্যায়েই শেষ বলে কিছু নেই । প্রত্যেককেই বার বার সুযোগ দেয়া উচিত , প্রত্যেকেরই অধিকার আছে বারংবার সুযোগ পাওয়ার ।
দরছ আলী স্যার আমাদেরকে সেই সুযোগ দিয়েছিলেন ।


তিন.
এবছর ভুরি ভুরি ছেলেমেয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে । কাগজপত্রের হিসেব অনুযায়ী এদের প্রত্যেকের মেধার মান সমান ।
এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে এদের কলেজ ভর্তি নিয়ে ।
সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ( এটা মনে হয় গতবছরের সিদ্ধান্ত ) যে মার্কশীটের নাম্বার অনুযায়ী এদেরকে ভর্তি করা হবে ।
শুধু তাই নয় , গতবছর একটা হাস্যকর নিয়ম শুনেছিলাম যে যাদের বয়েস বেশী তারা ভালো কলেজে ভর্তিতে প্রায়োরিটি পাবে । আল্লাহ মাবুদ বলতে পারবেন এই সব বদ্ধ উন্মাদীয় সিদ্ধান্ত যারা দেয় , তারা পরবর্তী জীবনে পাগলামি বাড়লে মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি হয় কি না )


চার.
আমি মনে করি কলেজে ভর্তির ব্যাপারে একটা ভর্তি পরীক্ষা নেয়া উচিত । যারা হয়তো সামান্যের জন্য নম্বর একটু কম পেয়েছে , তাদেরকে আবার সুযোগ দেয়া উচিত নিজেদেরকে প্রমান করার জন্য ।
আমি নিশ্চিত সেই সুযোগ পেলে তাদের অনেকেই এবার ভালো করবে ।

ভালো কলেজ কখনোই তার ইট সিমেন্ট ডেস্ক বেঞ্চির জন্য ভালো হয় না , সেই কলেজকে ভালো বলা হয় তার শিক্ষাপদ্ধতির জন্য ।
সরকার যেহেতু সব কলেজে সমান পদ্ধতি চালু করতে পারে নি , সব কলেজে একই মাপের শিক্ষক দিতে পারেনি , তাই তাদের উচিত হবে না কাউকে ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত করা ।


আমাদের সকলেরই মনে রাখা উচিত , জীবন এক অন্তহীন সম্ভাবনার নাম । সেই সম্ভাবনার দ্বার সকলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত রাখার কোন বিকল্প নেই ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৫২
১৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×