somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... যে কারনে বড় লেখক হতে পারলাম না লিখতে পারছি না কারন এই ঘটনায় আমি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ । এক শুক্রবারে আড্ডা মেরে পরের শুক্রবারে যখন মামুনের লাশের অপেক্ষায় পিলখানার সামনে দাড়িয়ে থাকতে হয় , তখন যে মানসিক চাপ যায় , সেটা এমনিতে বুঝা যায় না ।
যখন ছাত্ররাজনীতি করতাম , তখন সহযোদ্ধার গুলি খাওয়া লাশ কবরে নামিয়েছি , আহত সহযোদ্ধাদের নিয়ে হাসপাতালে গেছি , রাত জেগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার নীলনকশা করেছি ; কিন্তু কখনোই অস্থির হইনি ।

কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে অস্থিরতায় ভুগছি , চাপা ক্ষোভ আর রাগের প্রকাশ ঘটছে যেখানে ঘটার কথা না সেখানেও । অফিসে জুনিয়ারদের কয়েকজনকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বকাবকি করেছি , ব্লগের কমেন্ট দিতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় তীর্যক কথা লিখেছি ...এসব অনেক অনেক কিছু ।

বড় শোকের সামনে দাড়িয়ে একসময় নির্বিকার থাকতে পারতাম , আর তখনই আমার লেখক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ।

এখন বড় শোকের সামনে দাড়িয়ে এলোমেলো হয়ে যাই । নিজেকে সামলে রেখে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতে পারি না ।

বয়েস হচ্ছে ।
বয়েস আমাকে সাধারন এলেবেলে মানুষ বানিয়ে দিচ্ছে ।
আমি ক্রমেই লেখক হওয়ার সম্ভাবনাকে দূরে রেখে গৃহস্ত মানুষের সম্ভাবনাকেই বাড়িয়ে যাচ্ছি ।
আহ্ !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28919017 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28919017 2009-03-02 14:39:55
অন্যায়ের কাছে কভু নত নাহি শির /ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ , লড়ে যায় বীর ভুমিকাটা হচ্ছে ভেলরি টেইলর নিয়ে যখন আমরা একটা আন্দোলন করি , তখন শত সহস্র ইমেইলের মাধ্যমে এই সাইটটির কথা অনেক অজানা জায়গায় ছড়িয়ে যায় । -

ঠিক এই মুহুর্তে মনে পড়ছে এরকম একগাঁদা নাম আমি বলতে পারব , যে ব্লগাররা সামহোয়্যারের নাম কোনদিনই জানতেন না , হয়তো কোনদিনই তারা ব্লগিং করতে আসতেন না , কিন্তু ভেলরি টেইলর বিষয়ক মেইলে লিংক পেয়ে তাঁরা এই ব্লগের খবর পান ।
এই ধারা অব্যাহত আছে । শওকত হোসেন মাসুম আর রাশেদের মতো জনপ্রিয় ব্লগার যেরকম আমরা এই প্রচারনায় পেয়েছি , ঠিক একই ভাবে লীনা দিলরূবার মতো আরো নতুন নতুন ব্লগার এখনও সেই মেইলের ফরোয়ার্ডিং পেয়ে সামহোয়্যারে ভিড় করছেন ।

এই লোকরা ব্লগিংয়ে উৎসাহিত হয়েছিলেন কারন তারা মনে করেছিলেন ব্লগ একটা প্রতিবাদের জায়গা , ব্লগ একটা সত্য উচ্চারনের মাধ্যম ।

এই সত্য উচ্চারনের প্লাটফরমকে রক্ষা করার একটা নৈতিক দায় তাই আমাদের বাকী সবার ।

আমার একটা পোস্ট এই মাত্র সরানো হয়েছে , এবং হয়তো এই পোস্টের জন্য আমাকে ব্যানও করা হতে পারে ।

কিন্তু , আমরা নিরূপায় ।
শত শত ব্লগার প্রয়োজনে ব্যান খেতে পারে ,
কিন্তু ঘাস খাওয়া আর সব্জি খাওয়া যে এক নয় , সেটা তো কাউকে না কাউকে বলে যেতেই হবে ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28914782 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28914782 2009-02-22 17:32:52
একমাসের মাথায় গাজীপুরের ভোটচিত্র থেকে আওয়ামীলীগের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন সেই আওয়ামী ঘাটিতে উপজেলা নির্বাচনে ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পাশ করেছে বিএনপির প্রার্থী !!
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একমাসের মাথায় কী এমন ঘটনা ঘটলো সেটার খোঁজ নেয়াটা আওয়ামীলীগের অস্তিত্বের জন্যই প্রয়োজন ।

দৈনিক আমাদের সময় জানাচ্ছে , নির্বাচনের পরে পরেই দলবেধে আওয়ামীলীগ নেতারা সেখানে গার্মেন্টগুলোতে যে ঝুট ব্যবসার দখলদারিত্ব নিয়ে লন্কাকান্ড করছেন , তার ফলেই গার্মেন্টস শিল্প অধ্যুষিত এই অঞ্চলে হাতে হাতে ফল পেতে একমাসও অপেক্ষা করতে হয়নি ।

সারা দেশে নীরব সন্ত্রাস শুরু হয়েছে , সেটি ব্যবসা বানিজ্যের সাথে জড়িত সবাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন । এই প্রবনতায় রাস্তায় নতুন একটা গ্রুপ এসেছে যারা নিজেদের পরিবহন নেতা দাবী করে রাতারাতি সমিতি বানিয়ে ফেলেছে এবং নারায়নগঞ্জে চলাচলকারী সবগুলো বাসে ৫০ টাকা করে চাঁদা বসিয়ে ফেলেছে !
এধরনের পরিবর্তন প্রায় সবগুলো সেক্টরেই দেখা যাচ্ছে ।

এই সময়ে আওয়ামীলীগের উচিত সাবধান হওয়া ।
সাবধান না হলে কী হয় , সেটা পূর্বসুরিদের দেখেই শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28901912 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28901912 2009-01-24 21:06:31
মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাসের পদত্যাগ জরুরী
ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি সৎ মন্ত্রীসভা মানেই দক্ষ মন্ত্রীসভা এমনটা ভাবার কোন কারন নেই , একই ভাবে গরীব মন্ত্রীসভা মানেই ভালো মন্ত্রীসভা এমনটা মানতেও আমি রাজী নই । এই সমস্যাসংকুল দেশে আমরা চমক নয় , কাজ দেখতে চাই । আর কাজের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপকের , তার আর্থিক অবস্থান কখনোই বিবেচ্য হতে পারে না ।

শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভায় তারাই শুধু স্থান পেয়েছেন যারা কোন অবস্থাতেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে কোনদিনই চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না বা চ্যালেঞ্জ করতে যাবেন না বলেই পরীক্ষিত । এতে কোন সমস্যা নেই , আমরা সবাই আমাদের পাশে বশংবদ মানুষ দেখতে পছন্দ করি । কিন্তু শুধুমাত্র আনুগত্যের উপর ভিত্তি করে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে কি না সেটা আগামীতে দেখার বিষয় ।


মন্ত্রীসভার সদস্যদের উপরে আশাবাদী থাকতে হবে আমাদেরকে , কারন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে এই মন্ত্রীসভা গঠিত ।
কিন্তু এই জনসমর্থন আসলে কিছু বেসিক পয়েন্টের উপর নির্ধারিত ।
মানুষ চায় রাষ্ট্র সত্যিকার রাষ্ট্র হিসেবেই আচরন করবে , আমাদের গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের কর্মকর্তারা দেশপ্রেম নিয়ে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়ে কাজ করবেন ।

মন্ত্রীসভার অন্তত একটি নিয়োগ আমাকে বিরক্ত করেছে , সেটা হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এডভোকেট সাহারা খাতুন । নির্বাচনোত্তর সারা দেশের সন্ত্রাস সম্পর্কে তিনি যে মন্তব্য করেছেন , সেটি নিন্দা কুড়িয়েছে । উত্তরার সামান্য চক্ষুশিবির উদ্বোধন করার জন্য তিনি এবং তার চ্যালাচামুন্ডারা যখন উত্তরার সবগুলো স্কুল ছুটি দিয়ে বাচ্চাদের ধরে এনে সভা বড় করেন , তখন তার মাঝে আমি এরশাদ সরকারের মন্ত্রীদের প্রেতাত্মা দেখতে পাই । মন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন আগেও তিনি টেলিভিশনে মন্তব্য করেছেন যে জয়নাল হাজারী আসলে সন্ত্রাসী নয় , তার এলাকায় সে পীরের মতো সম্মানিত ।
এমন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দিয়ে এই দেশ আগামীতে কতোদূর যেতে পারবে সেটা দেখার বিষয় ।


এই সব ভুলত্রুটি নিয়েই একটা মন্ত্রীসভা এবং তাকে বিচার করার চূড়ান্ত সময় এখনও আসেনি । এখনও এই মন্ত্রীসভা একমাস পূর্ণ করেনি , তাই যদিও মর্ণিং শোজ দ্য ডে বলে একটা প্রবাদ আছে , তবু আমরা আশাবাদী থাকতে চাই ।

তবে , সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস যে কাজ করেছেন সেটি শুধু নিন্দার যোগ্য নয় , এর বিধান প্রয়োজন ।
তিনি প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ উপেক্ষা করে নির্বাচনী আচরনবিধি ভেঙ্গে উপজেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন ।
তার বউ এবং মেয়ে সেখানে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পিটিয়ে দাত ভেঙ্গে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছেন !


এই প্রেক্ষিতে আবদুল লতিফ বিশ্বাসকে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানোর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানাই ।

কারন আবদুল লতিফ বিশ্বাস একটি গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্ঠি করেছেন , রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন , তার পরিবার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছে ।
গনতন্ত্রের অভিযাত্রায় যে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে জনগন আওয়ামীলীগের জোটকে ভোট দিয়েছে , লতিফ বিশ্বাস সেই প্রত্যাশার স্পিরিটটি বুঝতে অক্ষম হয়েছেন ।
এমন মানুষ সরকারে থাকলে শেষ বিচারে সরকারের জন্য দায় হিসেবেই থাকবেন ।

এই ধরনের মানুষ দিয়ে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যাবে না । এই ধরনের একজন মানুষের কারনেই একটা দল পাঁচ বছর পরে সরকার থেকে ছিটকে পড়তে পারে , অতীতে এমন ভুরি ভুরি উদাহরন আমাদের আছে ।

এই ধরনের জঞ্জাল যতো আগে ছুড়ে ফেলা যাবে , ঘর ততোই দূর্গন্ধমুক্ত থাকবে ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28901332 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28901332 2009-01-23 13:04:55
ধন্যবাদ মি: ফখরুদ্দিন ও মি: মঈন উ আহমেদ
গত দুইবছর গনতন্ত্রহীন ছিলাম ।
ছিলাম মৌলিক অধিকার বিহীন ।

তবু একটা ভালো ইলেকশন আপনারা করে দিয়ে গেছেন ,নির্বাচন কমিশনকে অনেক গুছিয়েও এনেছেন । আপনাদেরকে ধন্যবাদ ।

ব্যবসা চালাতে গিয়ে চাঁদা দিতে হয়নি , (গত ২ বছরের মধ্যে চাঁদার স্লিপ এসেছে ১লা জানুয়ারি <img src=" style="border:0;" />
চট্টগ্রাম বন্দরকে সুশৃংখল করে ১০ দিনের কাজ ২ দিনে করায় আমার গার্মেন্টসে উৎপাদন বেড়েছিল ১২% ,
বিআরটিএতে গতবছর কাজ হয়েছে এক দুপুরে ঘুষহীনভাবেই ( গতকাল গাড়ির ফিটনেস করাতে গিয়ে ৬০০ টাকার ট্যাক্স দিতে ৮০০ টাকা ঘুষ দিয়েছি )
বনানী ১১ নম্বর রোডের মাথায় একটা ব্রীজ করায় এখন অফিসে যেতে আধা ঘন্টা সময় বাঁচে প্রতিদিন ,

আরো কতশত টুকিটাকি নিয়ে বেশ সন্তুষ্টই ছিলাম ।

আহা , যদি আরো কয়েকটা বছর থাকতে পারতেন , তাহলে নির্ঘাত আমিও টকশোতে চান্স পেয়ে যেতাম , কতো অগাবগাই না টকশো স্টার হলেন এই কতোদিনে ,

যাক, সব চাওয়া কি আর পূরন হয় ।

তবু শেষ বিচারে আপনাদেরকে পাসমার্ক দিয়েই বিদায় দিচ্ছি ।
ভালো থাকুন । <img src=" style="border:0;" />



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28893592 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28893592 2009-01-06 10:33:24
আপনি তবে জাহান্নামেই যান এবারের নির্বাচনে জনগন ভোট দেয় নাই , ভোট দিয়াছে ভুতে ।
সুতরাং আমরা আগামীতে বেশ করে ঝাড়ফুঁক করে দেশের ভুত তাড়াব ।
অসুবিধা হওয়ার কথা নয় , মাওলানা (!)নিজামীরও তো কিছু কাজকর্ম দরকার । বেচারা আর কতো বই লিখে লিখে পেট চালাবে ।

শুধু একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেষ করি ।

এই দেশে মুসলিমলীগ ছিল সংখ্যাগরিষ্টের দল- তাঁরা আজ নেই ।
এই দেশে কৃষকপ্রজা পার্টি ছিল সংখ্যাগরিষ্টের দল- তাঁরা আজ নেই ।
এই দেশে ন্যাপভাসানী ছিল বিশাল একটা দল- তাঁরা নেই ।
এই দেশে জাসদ ছিল বিশাল একটা দল- তাঁরা আজ নৌকাতে লীন ।

ভালো লোকদের তাড়িয়ে দিয়ে লালু ফালু পিন্টু সান্টুদের নিয়ে আর জামাতিদের মাথা ভাড়া করে তাদের পদান্ক অনুসরনে আপনারও দেরী হবে না ।

চোরদের ছাড়াই আমাদের বেশ চলে যাবে ।
যান তবে , জাহান্নামেই যান ।
জাজাকাল্লাহু খায়রান ।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28890693 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28890693 2008-12-31 00:47:05
না ভোট দিলে সমস্যা কী ?
আরেকদল লোক আছেন , যারা " না " ভোটের কথা শুনলে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন । " না " ভোট নাকি রাজনীতিবিদদের অপমান করা , " না" ভোট দিলে জামাতিরা ক্ষমতায় বসে যাবে ইত্যাদি অস্ত্র ছুড়ে মারছেন ।

আমি " না " ভোটের সাপোর্টার ।
যখন " না " ভোট ছিল না তখনও নিজামী মুজাহিদদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ধর্ষিত হওয়া বন্ধ করা যায়নি , সুতরাং সব দোষ " না" ভোটের উপরে ঠেলে দেয়ার যুক্তি নেই ।

সময় এসেছে রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার কাজে অবদান রাখার । যেখানে প্রার্থী পছন্দ নয় , সেখানে কোন দল যাবে কি যাবে না সেটা দেখার ঠেকা তো আমার নয় ।
আমাদের ভোট খুব মূল্যবান । তারা সন্ত্রাসী , ধান্দাবাজ , ঘুষখোর দাড় করাবে আর আমাদের বড় ঠেকা পড়েছে দলবেঁধে গিয়ে তাদের ভোট দিতে হবে এমনটা বিশ্বাস করি না ।


যেখানে যোগ্য প্রার্থী দিতে দলগুলো ব্যর্থ হয়েছে , সেখানেই " না" ভোট দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে কষে থাপ্পড় মারা উচিত ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28889723 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28889723 2008-12-29 13:42:47
ভোট দেব- 'না' সেবার ভোটটা নষ্ট করে চলে এলাম ।

এবার ভেবেছিলাম আওয়ামীলীগকে ভোট দেব । কিন্তু আমার আসনে মহাজোটের প্রার্থী এরশাদ। সেই এরশাদ যার বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে কৈশোর কাটিয়েছি।

কাকে ভোট দেব তাহলে ?
অবশ্যই " না " ভোট দেব । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28877370 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28877370 2008-12-02 20:22:04
রাজউক জটিলতা ,
সম্প্রতি রাজউক পূর্বাচল ও উত্তরা প্রজেক্টে প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করেছে । সেই আবেদনের যাবতীয় তথ্য দেয়া আছে তাদের ওয়েবসাইটে , কিন্তু তারা প্রথমেই জানালেন যে আবেদনপত্রটি ওয়েব থেকে ডাউনলোড করলে হবে না , সেটা ব্যাংক থেকে একহাজার টাকা দিয়ে কিনে নির্ধারিত ফি সহ আবার জমা দিতে হবে ।

ফরমের দাম ১ হাজার টাকা ।
প্রথমদিন সকালে আমার পরিচিত একজন লাইনে দাড়িয়েছে সেই লোক বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকের কাউন্টারে পৌছাতে পারেনি ।
এভাবে দুইদিন শত শত লোককে কষ্ট আর ভিড় ঠেলাঠেলির একদিন পরে রাজউক জানিয়েছে যে ওয়েব থেকে ফরম ডাউনলোড করে নিলেই চলবে , শুধু জমা দেয়ার সময় একহাজার টাকা বেশি দিলেই ডাউনলোড করা ফরমটি গ্রহনযোগ্য হবে । সমাধানটি সুন্দর , কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন জাগে , এই সুন্দর সমাধানটি তাদের মাথায় কেন আগে আসেনি । সর্বস্তরে আইটি ব্যবহারের মাধ্যমে যে অনেক জটিলতা এড়ানো যায় , সেটা আমাদের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যতো আগে বুঝতে পারবে ততোই সবার জন্য মঙ্গল ।

একটি বড় জটিলতা তৈরী হয়েছে প্রবাসীদের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে । প্রবাসীদের জন্য তারা শুধু মাত্র ডলারে পেমেন্ট নেয়ার ব্যবস্থা রেখেছে , অথচ আমাদের প্রবাসীদের বড় অংশ কাজ করেন ইংল্যান্ডে । ইউকে প্রবাসী বেশ কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানতে চাইলেন যে তারা পাউন্ড স্টার্লিংয়ে জামানতের টাকা জমা দিতে পারবেন কি না । বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য ডলারের পাশাপাশি পাউন্ড গ্রহন করায় প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ হয় এই খাতে । বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে হলে রাজউকেরও উচিত ডলারের পাশাপাশি পাউন্ডের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া , নইলে বড় সংখ্যক প্রবাসীই তাদের টাকা জমা দিতে পারবেন না ।

এখানে আরেকটি জটিলতা তৈরী হয়েছে যে প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোন ব্যাখ্যা রাজউক থেকে দেয়া হয়নি । বাংলাদেশের প্রবাসীদের প্রায় সবাইই বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছেন , অথচ তাদের পাসপোর্টে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিল দেয়া আছে যে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের কোন ভিসা লাগবে না । কারন বাস্তবতা হচ্ছে তারা বাংলাদেশী মানুষ , কিন্তু পরবর্তীতে বিদেশে থাকার প্রয়োজনেই বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছেন ।

রাজউক যদি তাদের আবেদন গ্রহন না করে , তাহলে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সরাসরি বঞ্চিত হবেন ।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে সরকারী প্রতিষ্ঠান হয়েও রাজউক "জাতীয় পরিচয়পত্রে"র তথ্যকে সঠিক মনে করেনা পুরোটা । এতো কোটী কোটী টাকা খরচ করে যে পরিচয়পত্র তৈরী করা হলো , জাতীয়তার প্রমানপত্র হিসেবে সেটার সত্যায়িত ফটোকপি তারা গ্রহন করতে রাজী হয়েছে , কিন্তু সেই কার্ডে লেখা জন্মের তারিখ তারা বিশ্বাস করে না । জন্মের তারিখের জন্য আপনাকে এসএসসি সার্টিফিকেট অথবা ওয়ার্ড কমিশনারের সার্টিফিকেট জোগাড় করতে হবে ।
জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মের তারিখ থাকা সত্বেও অন্য দলিল দিয়ে জন্ম তারিখ প্রতিষ্ঠিত করার শর্ত প্রদান করা জাতীয় পরিচয়পত্রকে অবজ্ঞা করার সামিল । রাজউকের মতো জাতীয় একটি প্রতিষ্ঠান সেটি কিভাবে করতে পারে আমার বুদ্ধিতে আসে না ।

রাজউক ফরম ছেড়েছে ৩০ নভেম্বর , আর নানা শর্ত পূরন করে , জামানতের টাকা ব্যাংক ড্রাফট করে , ইনকাম ট্যাক্সের হালনাগাদ কাগজ জোগাড় করে ( চলতি বছরের ইনকাম ট্যাক্সের সনদ ইস্যু করা এখনও শুরু হয়নি , এটা সংশ্লিষ্ঠ সবাই জানলেও রাজউক জানে না ) সেই ফরম জমা দিতে হবে ১৮ ডিসেম্বরের মাঝে । ৫ দিন পরেই ঈদের ছুটি শুরু হবে , ছুটি শেষ হতে না হতেই বিজয় দিবসের ছুটি , মাঝখানে সাপ্তাহিক বন্ধতো থাকছেই । ৫ তারিখ শুক্রবার থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ শনিবার পর্যন্ত কার্যত বাংলাদেশ বন্ধই থাকবে , তারপর আছে বিজয় দিবসের ছুটি । কাজ করার জন্য হাতে মাত্র কয়েকটা দিন ।

সুতরাং যারা প্লট কিনতে আগ্রহী তারা এখন আছেন দৌড়ের উপর ।
সেই দৌড়টা হুদা দৌড় , আমাদের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হুদাই পাবলিকরে দৌড়ের উপর রাখতে ভালোবাসে ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28877184 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28877184 2008-12-02 13:13:17
নির্বাচন কমিশনে গেলে সবাই কেমন যেন


১.
এত্তো বড় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেল , ওবামার বউয়ের চাচাতো ভাইয়ের খালা শ্বাশুড়ির পাশের বাড়ির প্রতিবেশীর মন্তব্য পর্যন্ত মিডিয়াতে দেখলাম । সারাহ প‌্যালিনের পোশাকের দাম সহ কতো হাবিজাবি তথ্য যে দেখলাম তার ইয়ত্তা নেই ।
কিন্তু আমেরিকার নির্বাচন কমিশনের কোন খবর পেলাম না । এই কমিশনের প্রধান , উপপ্রধান এদের কোন সাক্ষাতকার কোথাও দেখলাম না । ( আদৌ এমন পদ তাদের আছে কি না ,সেটাও জানি না । )

আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশনারদেরকে প্রতিদিন মিডিয়াতে হাজির হতে হয় । বলিহারি দেই আমাদের সাংবাদিকদেরও , কাজে অকাজে একটা করে ক্যামেরা নিয়ে শেরেবাংলা নগরের নির্বাচন কমিশনে বসে থাকে সারাদিন ।



২.
সিলেটে আওয়ামীলীগ আর বিএনপির কোন অফিস নেই । কোন সদূর অতীতকালে থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু গত ১৫ বছরের মাঝে তাদের কোন অফিস ছিল বলে মনে করতে পারছি না ।
তাই বলে কি কোন দোষ হয়েছে ? নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সময় জেলা উপজেলায় রাজনৈতিক দলের অফিস খুঁজে বেড়াচ্ছে । আর ভূইফোঁড় রাজনৈতিক দলগুলোও ফাজিল আছে , এর ড্রইংরুম আর ওর বাথরুমকে অফিস বানিয়ে বসে আছে ।


৩.
জামাতকে নিবন্ধন দিতে আপত্তি জানিয়েছিল কয়েকটি সংগঠন , নির্বাচন কমিশন শুনানীর জন্য জামাতকে নোটিশ দিয়েছিল , কিন্তু জামাত হাজির হয়নি । তারপরও একতরফা ভাবে তাদের নিবন্ধন হয়ে গেছে ,যারা আপত্তি করেছিল তাদের আপত্তি সুরাহা করার কোন খবর পাবলিক পাইল না ।
আর সাইফুর -হাফিজ গং যে আসল বিএনপি না , সেটা সারা দুনিয়ার মানুষ বুঝতে পারলেও এই কমিশন সেটা বুঝে না । কী আর বলব ।


৪.
পিডিপির চেয়ারম্যান কোরেশী নাকি বলেছিলেন , সচিবালয়ের আমলা যদি নির্বাচন কমিশনে যায় , তাহলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। সবকিছুকেই আমলাতান্ত্রিকতায় মোড়ে ফেলেছে ।

নির্বাচনী তথ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে দেখছি কথাটা উনি মন্দ বলেন নাই ।

একটা উদাহরন দেই ।
উপজেলা নির্বাচনে " মহিলা সদস্য পদে"র মনোনয়নের একটি ফরম আছে । অনেক বড় ফরম , বেশ ঝামেলাপূর্ণ । তবে ঠিকই আছে , সব তথ্যই নির্বাচন কমিশনের কাজে লাগবে হয়ত বা ।

উপরের স্কৃনশটটি দেখুন । এটি হচ্ছে মহিলা সদস্যদের জন্য মনোনয়ন পত্রের একটি নমুনা । ফরম-ক-৩ ।

এখানে জানতে চাওয়া হয়েছে ( ১১ নং প্রশ্ন ) যে মহিলা সদস্যপদের প্রার্থীর লিঙ্গ কী ?
আবার জানতে চাওয়া হয়েছে যে প্রার্থী কি বিপত্নীক কি না ( ১২ নং ) ।



লে হালুয়া ।
মহিলা সদস্য পদের প্রার্থী যে লিঙ্গ হিসেবে মহিলাই হবেন , আর উনার যে বউই থাকবে না যে বিপত্নীক হবেন , সেটা এখন নির্বাচন কমিশনরে কেমনে বুঝাবেন ! <img src=" style="border:0;" />








]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28871785 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28871785 2008-11-20 18:47:24
মুজিব যে কারনে ছাত্রলীগ ছাড়লেন দুই পর্বের সিরিজ করেছেন । বলার কিছু নেই , ইতিহাস এমন একটা বিষয় যে যার মতো ব্যাখ্যা করতে পারেন ।


আমি শুধু একটা গল্প এড করি ।
১৯৮৪ সালে এরশাদের ক্ষমতা দখলের পরে যে তীব্র ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে দানা বাঁধতে থাকে , সিলেটের মুজিবুল হক সেই আন্দোলনের একজন ছিলেন । তিনি ছিলেন এম.সি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক । আওয়ামী ছাত্রলীগের অন্যতম লড়াকু নেতা , এবং একই সাথে ধীরস্থির মাথার একজন মানুষ ।
আরেকটা দিকে তার খুব দক্ষতা ছিল , হাতের লেখা ছিল খুব সুন্দর ।
"চিকা মারা"র যে শৈল্পিক ক্ষমতা কিছু মানুষের মাঝে আছে , মুজিব তাদের একজন ।

১৯৮৬ সালের গল্প বলছি । এরশাদের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে সারাদেশ । হাসিনা খালেদা ১৫০টি করে আসনে লড়বেন শুনে এরশাদ এক রাতের মাঝেই সিদ্ধান্ত দিল যে কোন প্রার্থীই ৫ আসনের বেশি নির্বাচন করতে পারবেন না । এই সিদ্ধান্তের পরে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনাটিও তিরোহিত হয়ে গেল ।

আম্বরখানা গার্লস স্কুলের দেয়ালে মুজিব এক রাতে বড় করে লিখলেন - "ভোটের বাক্সে লাথি মারো , গনতন্ত্র কায়েম কর । ছাত্রলীগ "
তার পরের সপ্তাহেই হঠাৎ করে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । সবাই হতাশ ।সবাই মুষড়ে পড়ে ।
সিলেট-১ এ নির্বাচনে দাড়ান সামাদ আজাদ ।
গার্লস স্কুলের সেই দেয়ালে আগের কথাটিই চুনকাম করে মাত্র একটি শব্দ বদলে দেয়া হলো । লাথির জায়গায় চলে এলো নৌকা ।
লেখা হল-"- "ভোটের বাক্সে নৌকা মারো , গনতন্ত্র কায়েম কর । ছাত্রলীগ "


মুজিব সেই দেয়াল লিখনটি দেখলেন । সেখানে দাড়িয়ে বুঝি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন একটা । তারপর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি নিলেন । অনেক অনুরোধের পরেও কেউ আর তাকে দিয়ে ছাত্রলীগ করাতে পারেনি । পরবর্তীতে তিনি হুট করে একদিন কানাডা চলে যান ।
-------------

এই গল্পটি এখানেই শেষ ।
ইতিহাস লেখা হবে । সেই ইতিহাসে কেউ বলবে হাসিনা ঠিক ছিলেন , কেউ বলবে খালেদা ঠিক ছিলেন ।

কিন্তু সেই গল্পে এসব মুজিবের হতাশা আর ক্ষোভের কথা কেউ কোনদিন জানবে না ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28870676 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28870676 2008-11-18 14:42:56
ফূর্তিতে জবাই হতে যাচ্ছি ১২টা থেকে ২টা
যাই হোক শেষ পর্যন্ত সেই যৌথ আলোচনাটি হচ্ছে না আপাতত হচ্ছে না বলেই শুনলাম । তবে স্লট তো খালি যেতে পারে না , তাই বোধহয় আমাকেই এককভাবে বলি দিতে যাচ্ছেন উনারা ।
রেডিও ফূর্তিতে আজ দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সাক্ষাতকারের জন্য ডেকেছেন এই অধমকে ।

আগ্রহী বন্ধুদেরকে শোনার আমন্ত্রন ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28866248 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28866248 2008-11-08 11:20:38
ভাষ্কর্য সংক্রান্ত কর্মসূচীর আপডেট ইচ্ছে হচ্ছে নির্বাক দাড়িয়ে থাকব কিছুক্ষন সেই বেদিতে যেখান থেকে বাউল ভাষ্কর্যটি টেনে হিচড়ে নামিয়ে ফেলা হয়েছে কয়েকদিন আগে ।

সেই কর্মসূচীতে হাতে হাত রেখে দাড়াবে বন্ধুস্বজনরা ।
আপডেট দিচ্ছি :

১. জমায়েতের স্থান : বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড এর সামনে
( বনানী থেকে উত্তরা যাওয়ার পথে হাতের বামে বিমানবন্দরের বাসস্ট্যান্ড । যেখানে হোটেল হলিডে ইনন তৈরী করা হচ্ছে , সেখানে ।)
২. জমায়েতের সময় : বিকেল ৩টা ।






৩. কর্মসূচী শুরু : বিকেল ৩.৩০ মিনিট ।
৪. তারিখ : ২৫ অক্টোবর ,শনিবার ।


সবাইকে আমন্ত্রন জানাই । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28858771 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28858771 2008-10-23 21:50:54
এয়ারপোর্টের সামনে একদিন আমিও চড়ুই হতে চাই এক,
হোক তবে এক চৈনিক রূপকথা ।
এক পথিক যাচ্ছিলেন পথ দিয়ে , আর পথের পাশে এক চড়ুই পাখি পা দুটো উঁচু করে শুয়েছিল।
পথিক বললেন - কী করো চড়ুই ?
চড়ুই জবাব দেয় - শুনেছি আজ আঁকাশ ভেঙ্গে পড়বে পৃথিবীর বুকে । আমি তাই দুই পা উঁচু করে আছি , আঁকাশ আটকাব ।
পথিক হাসে । বোকা চড়ুই , তুমি কি এই ছোট্ট দুই পায়ে আঁকাশকে বাধা দিতে পারবে ?
চড়ুইয়ের অন্তর্গত আত্মবিশ্বাস ধ্বনিত হয় - হয়তো পারব , হয়তো না । তবু এই শান্তনা নিয়ে যেতে চাই - আমি চেষ্টা করেছিলাম কিছু একটা করতে ।

গল্প শেষ ।


দুই.

শরীরটা বেশ ফুলে ওঠছে চর্ব্য চোষ্য পেয়তে । রক্তের মাঝে আর প্রতিরোধ ডাক দেয় না , বরং কোলেস্টরেলের মাপজোক নিয়ে নিয়ত ব্যস্ত থাকি ।
আমরা বই পড়ছি , পত্রিকা পড়ছি , টিভি দেখছি আর হাহুতাশ করছি ।
গুটাতে গুটাতে সাবেক তারুন্য আশ্রয় নিয়েছে ড্রইংরুমে , আর ভার্সিটির তারুণ্য এখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিজের আস্তানায় । প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ তাই শাহবাগ আর জাবির প্রান্তিক চত্ত্বরে । আর ধীরে ধীরে মানচিত্রের বাকী সব গ্রাস করে নিচ্ছে অশুভ হায়েনারা ।
আমরা পিছু হটছি আর সান্তনা খুঁজছি কেউ একজন এসে সব কিছু ঠিক করে দেবে কোনকালে । কোন এক নূরুলদিন এসে জাগবার ডাক দেবে এই আশায় আমরা আজ খালি ঘুমচোখে ঝিমাই ।

আমাদের কষ্ট , আমাদের বেদনা , আমাদের পরাজয় হৃদপিন্ডে বহন করে তারপর খাই দাই , মধ্যবিত্ত জীবন যাপন করি , চাকুরিতে বসকে তোয়াজ করি , বেনিয়াবৃত্তি করি, ঈদ সংখ্যা পড়ি , কম্পিউটারের মনিটরে এসে ক্ষোভ উগলাই ।


তিন.

এই সময়ে মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় নিজেকে আয়নায় দেখি । আসলেই যা বিশ্বাস করি তার সাথে দাড়ানোর সাহস কি এখনও আছে ? এখনও কি আমরা না জাগলে সকাল হবে না এই দূ:খী দেশে ?

হয়তো হ্যা , হয়তো না ।
তবু সেই বোকা চড়ুই হতে ইচ্ছে করে ।

আমরা কয়েকজন বন্ধু ভাবছি , মানব ভাষ্কর্য হয়ে একদিন দাড়িয়ে পড়ব এয়ারপোর্টের সেই উলঙ্গ চত্ত্বরে ।
হয়তো কিছু হবে ।হয়তো কিছুই হবে না ।
তবু হোক একবেলার প্রতিবাদ ।

তবু সান্তনা নিয়ে যাই , এই প্রিয় জন্মভূমিকে হায়েনার থাবা থেকে বাঁচাতে আমিও ক্ষুদ্র এক চড়ুই ছিলাম ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28856681 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28856681 2008-10-19 01:55:28
মডারেট মুসলিমের সন্ধান করি
কিন্তু একটু চিন্তা করলেই আর তল পাই না । মডারেট মুসলিম বলে কি আদৌ কোন বস্তু থাকা সম্ভব ?


একজন মুসলিম বাই ডিফল্ট নিজে মডারেট , সেখানে শ্রেনীবিভাজন থাকতে পারে না । ইসলামের আবির্ভাব হিসেবে বলা হয়েছে , এটি পূর্বতন সব ধর্মগুলোকে খারিজ করে , সৃষ্ঠিকর্তার পক্ষ থেকে সবচাইতে আধুনিক হিসেবে নাজেল হয়েছে । অর্থাৎ এর পরে আর ধর্মের মডিফাই সম্ভব না , আল্লাহ নিজেই সেই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন , কারন তিনি জানিয়েছেন আর কোন নবী রাসুলকে প্রেরন করা হবে না । যদি আর কোন নবী রাসুল না আসেন , তাহলে ধর্মের আর কোন মডিফিকেশন সম্ভব নয় , সেক্ষেত্রে কোরআন , যেটি সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে সেটিকেই সর্বাধুনিক ধরে নিয়ে আগাতে হবে মুসলমানদের ।
তাহলে কোরআন নাজেল সম্পন্ন হওয়ার পরে এবং রাসুল ( সা : ) এর মৃত্যুর পরে পরেই যে ইসলাম রয়ে গেল , সেটাই মডারেট ইসলাম । তারপরের সবগুলোই আসলে মডারেশন নয় , বিচ্যুতি ।

এখন চৌদ্দশ বছর পরে , আমাদের চিন্তা চেতনায় কিছু পরিবর্তন এসেছে । বাংলাদেশে একাধিক বিয়ে করতে হলে পূর্ববর্তী বউয়ের লিখিত অনুমতি লাগে , ইসলাম ধর্ম সেটা সমর্থন করে না । অন্তত আমি এমন কোথাও পাইনি ।

এখানে চুরি করলে হাত কাটা হয় না , এখানে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কের কারনে কাউকে মাটিতে পুতে পাথর মেরে হত্যা করা হয় না , এখানে আপামর জনগনের ভোটাধিকারের মাধ্যমে অমুসলিমেরও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে কোন বাধা নেই , এখানে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুদ চালু আছে , এরকম হাজারটা উদারহন দেয়া যায় ।

এগুলো কি ইসলামের আধুনিকীকরন নাকি বিকৃতিকরন ?

মডারেট মুসলিম নামের এইসব ইসলাম ত্যাগী মুসলিমদের শাস্তির বিধান কী ইসলামে ? সেটা চিন্তা করে মাঝে মাঝে ভয়ে ঘুম ভেঙ্গে যায় মাঝরাতে ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28856017 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28856017 2008-10-17 18:00:30
মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন : আল্লাহ এই দেশকে রক্ষা করুন



ছবি সৌজন্যে : তানভীর তাজিব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28854662 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28854662 2008-10-14 18:51:44
ম্যাডাম এবং আপা , একটু ধীরে যান
তবে এরই মাঝে বুলু আর মিলনকে কিলিয়ে কাঠাল পাকা করা হয়েছে , রাজপথে মারা গেছে জাহাঙ্গীর নামের এক নিরপরাধ ।

আব্দুল জলিল নামের ট্রামকার্ড বিশারদ জামিন পাওয়ার পরে দম ফেলার সুযোগ নেন নি , নিজের দলের লোকজনের কাছে গিয়ে বসার আগেই চিৎকার করে বলেছেন -আমি সাধারন সম্পাদক । তারপর অবশ্য অজ্ঞাত(!) কারনে আপাতত তিনি সেই দায়িত্ব নিতে অপারগ হয়েছেন । আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে খালেদা বড় চোর । হাসিনার কানটা ঠিক হয়ে দেশে ফিরলেই আমাদের কানের পোকাটা নড়ে উঠবে , এমন আশা করে বসে আছি ।


তবে কথা হচ্ছে ম্যাডাম এবং আপা ,
আপনাদের হাতে অফুরান সময় । আপনারা আজীবনের জন্য নেতা হয়ে বসে আছেন , আমরা জিন্দাবাদ দেই ।
কিন্তু একটু ধীরে যান । মানুষ যদি খুব বেশি বিরক্ত হয়ে পড়ে দ্রুত , মানুষ যদি আবার সেই সংঘাতের জন্য আঁতকে ওঠে , তাহলে হয়তো আর মিষ্টি মিষ্টি কথা বিশারদরা আর ক্ষমতা দখল করবে না । তখন হয়তো সরাসরি মাঠে নেমে পড়বে হাটু বাহিনী ।

দিন আছে । ইলেকশনটা করে ফেলুন নমো: নমো: করে । তারপর তো মাঠ ঘাট ময়দান সবই আপনাদের , বেশ করে লাঠিখেলা করা যাবে ।

তবু ধীরে যান মাননীয়ারা ।
হাটু বাহিনী আসার সুযোগটা দিয়েন না দয়া করে ।
আমরা অধম জনগন তো বুটের লাথি চিনি ।
উহ্ , সে বড় কষ্টের ।
অন্তত সেই লাথিটা থেকে বাঁচিয়ে আপনাদের নরম নরম গোদা পায়েই লাথি মারুন । লাথি যখন নিয়তি , সেটা খাবোই , তবে একটু আস্তে খাওয়ার আবেদন জানাই ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28844166 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28844166 2008-09-17 00:15:14
জীবন এক অন্তহীন সম্ভাবনা , এসএসসি পাশ ছেলেমেয়েদের জন্যও সেই সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকুক এক.
আমি এসএসসি'র আগে টেস্ট পরীক্ষায় পেয়েছিলাম মাত্র ২৬৫ !!
২৬৫ নিশ্চয়ই ভয়াবহ নম্বর , কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম যে এই নম্বরই বা আমি কিভাবে পেলাম ।
ক্লাস নাইনে থাকতেই আমার বিগড়ানোর চূড়ান্ত হয়েছিল , সেই তুলনায় ২৬৫ নম্বর পাওয়ার মতো লেখাও পরীক্ষার খাতায় লেখার কথা ছিল না আমার ।
আমাদের স্কুল ছিল তখনকার চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা দশটি স্কুলের একটি , সেই স্কুলের কোন ছাত্র যদি পাশ নম্বর ৩৩০ই তুলতে না পারে , তাহলে তাকে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে দেয়ার কোন মানে হয় না ।
তৃতীয় বিভাগ বা পাশ মার্ক তুলতে না পারা সেধরনের ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৯ জন । সেই ৯ জন ছাত্রকে ফরম ফিলাপ করতে দিলেন না ক্লাস টিচার , আমরা গিয়ে হেডস্যারকে ধরলাম ।
স্কাউট বিএনসিসি আর ক্লাস ক্যাপ্টেন হওয়ার সুবাদে , আমাদের হেডস্যার দরছ আলী আমাকে আলাদা ভাবে স্নেহ করতেন ।

তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন - তোরা কি পাশ করতে পারবি ? পরীক্ষার আর মাত্র ৩ মাস বাকী । পড়াশোনা করবি তো ?
আমি গভীর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছি - পারব স্যার ।
স্যার আমাদেরকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিলেন ।

আমরা স্যারের সেই বিশ্বাসের সম্মান রেখেছিলাম ।
আমি নিজে নিজে তখন বীজগনিতের সূত্র শিখেছি , রাতের পর রাত টেস্ট পেপারের প্রশ্নের পর প্রশ্ন সমাধান করেছি , বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নোট এনেছি , নিজে নোট তৈরী করেছি , রুটিন তৈরী করে সেই মতো পড়েছি ।

রেজাল্ট বের হওয়ার পরে দেখা গেল আমরা সেই ৯জনই প্রথম বিভাগে পাশ করেছি , দুইজন স্টার মার্কস পেয়েছে ( সেকালে স্টার পাওয়াটা এক বিশাল ব্যাপার ছিল )


বাকীদের মাঝে আমাদের কয়েকজনের স্টার মার্কস সামান্যের জন্য মিস হয়েছে , মোটের উপর অনেক ভালো রেজাল্ট বলা যেতে পারে ।

সেই ৯ জনের মাঝে ৭ জন পরবর্তী জীবনেও লেখাপড়া করেছি ,একজন ডাক্তার হয়েছে , বাকীরাও জীবনে সফলই বলা যেতে পারে । সেদিন একজনের সাথে বার্মিংহামে দেখা হল , লয়েডস ব্যাংকে দাপটের সাথে চাকুরি করছে , তার কাছেই আরেকজনের খবর পেলাম যে নাকি ঢাকাতে একটা বিদেশী সাহায্য সংস্থায় বাড়ীগাড়ীঅলা কর্মকর্তা , বেতন লাখের ঘর পেরিয়ে গেছে ।

দুই.
এই গল্পটি উল্লেখ করার কারন , সেই দিন থেকেই আমি জানি এবং বিশ্বাস করি যে জীবনের কোন পর্যায়েই শেষ বলে কিছু নেই । প্রত্যেককেই বার বার সুযোগ দেয়া উচিত , প্রত্যেকেরই অধিকার আছে বারংবার সুযোগ পাওয়ার ।
দরছ আলী স্যার আমাদেরকে সেই সুযোগ দিয়েছিলেন ।


তিন.
এবছর ভুরি ভুরি ছেলেমেয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে । কাগজপত্রের হিসেব অনুযায়ী এদের প্রত্যেকের মেধার মান সমান ।
এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে এদের কলেজ ভর্তি নিয়ে ।
সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ( এটা মনে হয় গতবছরের সিদ্ধান্ত ) যে মার্কশীটের নাম্বার অনুযায়ী এদেরকে ভর্তি করা হবে ।
শুধু তাই নয় , গতবছর একটা হাস্যকর নিয়ম শুনেছিলাম যে যাদের বয়েস বেশী তারা ভালো কলেজে ভর্তিতে প্রায়োরিটি পাবে । আল্লাহ মাবুদ বলতে পারবেন এই সব বদ্ধ উন্মাদীয় সিদ্ধান্ত যারা দেয় , তারা পরবর্তী জীবনে পাগলামি বাড়লে মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি হয় কি না )


চার.
আমি মনে করি কলেজে ভর্তির ব্যাপারে একটা ভর্তি পরীক্ষা নেয়া উচিত । যারা হয়তো সামান্যের জন্য নম্বর একটু কম পেয়েছে , তাদেরকে আবার সুযোগ দেয়া উচিত নিজেদেরকে প্রমান করার জন্য ।
আমি নিশ্চিত সেই সুযোগ পেলে তাদের অনেকেই এবার ভালো করবে ।

ভালো কলেজ কখনোই তার ইট সিমেন্ট ডেস্ক বেঞ্চির জন্য ভালো হয় না , সেই কলেজকে ভালো বলা হয় তার শিক্ষাপদ্ধতির জন্য ।
সরকার যেহেতু সব কলেজে সমান পদ্ধতি চালু করতে পারে নি , সব কলেজে একই মাপের শিক্ষক দিতে পারেনি , তাই তাদের উচিত হবে না কাউকে ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত করা ।


আমাদের সকলেরই মনে রাখা উচিত , জীবন এক অন্তহীন সম্ভাবনার নাম । সেই সম্ভাবনার দ্বার সকলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত রাখার কোন বিকল্প নেই ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28814397 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28814397 2008-06-27 23:52:30
৭১ এর শহীদদের সংখ্যা : বৃটিশ মেডিকেল জার্নালের রিপোর্ট যে কারনে প্রত্যাখ্যান করছি /আরিফ জেবতিক বৃটিশ মেডিকেল জার্নাল বেশ করে গুনে গুনে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটা সংখ্যা প্রকাশ করেছেন । সেই সংখ্যাটা আবার এমনভাবে তৈরী যাতে করে আমাদের দেশের দুপেয়ে প্রানী (যাদেরকে রাজাকার বলা হয় , )তাদের খুব পছন্দ হবে ।
আমি নিশ্চিত যে তারা বিভিন্ন রেফারেন্সে এখন থেকে এই বিষয়টিকে টানবেন ।

বিষয়টি প্রথম দেখতে পাই দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার রিপোর্টে ।
কয়েকটা বিষয় লক্ষ করলাম ।


১.
আমাদের সময় পত্রিকার রিপোর্টের একটা লাইন আমার কাছে খুব মজা লেগেছে । সেখানে জানা যায় যে পূর্ব জরিপ আর বর্তমান জরিপের মাঝে নাকি বেশ পার্থক্য পেয়েছেন আমাদের বৃটিশ মেডিকেল জার্নাল ।

আগের জরিপে উনারা পেয়েছিলেন ৭১ সালে আমাদের শহীদদের সংখ্যা ৫৮ হাজার , আর বর্তমানে পেয়েছেন ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ।
এই হল আমাদের জরিপকারী জার্নালঅলাদের কারবার !
তারা বোধহয় হাতের আঙুলে গুনছিলেন , গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বা এরকম কিছু একটা হবে , নইলে তাদের এক জরিপে ৫৮ হাজার আর আরেক জরিপে তার ৪ গুন বেশী পাওয়ার কথা না ।
একেকবার জরিপে যদি ৪ গুন করে বাড়তে থাকে , তাহলে আরো কয়েক জরিপ পরে তারা সংখ্যাকে আবার না কোটীর ঘরে নিয়ে তুলেন ।

যাদের নিজেদের জরিপের এই অবস্থা , দুইবারে আকাশ পাতাল তফাৎ আসছে , তাদের জরিপের উপর আর কারো আস্থা থাকলেও আমার আস্থা দুর্বল ।

২.
বিষয়টিকে জরিপ আখ্যা দিয়ে একধরনের ধূয়াশা তৈরী করা হচ্ছে আমাদের পত্রিকাগুলোতে । জরিপ আর ধারনা , এই শব্দদুটোর মাঝে পার্থক্য আছে । জরিপ মানে হচ্ছে আমি গুনে গুনে বললাম , আর ধারনা মানে হচ্ছে আমি একটা পরিসংখ্যান নিয়ে বললাম ।

প্রচলিত একটা কথা আছে , মিথ্যা তিন প্রকার । মিথ্যা ,ডাহা মিথ্যা আর পরিসংখ্যান ।
বৃটিশ মেডিকেল জার্নালের এটি কোন জরিপ নয় , এটি বিভিন্ন উপাত্তকে বিশ্লেষন করে একধরনের ধারনায় পৌছানো ।
কয়েকটি স্যাম্পল পরিবারের সাথে কথা বলে ( কতোগুলো পরিবারের সাথে কথা বলা হয়েছে সে সংক্রান্ত তথ্য আমার চোখে পড়ে নি ।) সেটা থেকে হিসেব নিকেশ করে আর যাই করা যাক , ৭১ সালের ভয়াবহতাকে আঁচ করা যাবে না ।
তাছাড়া যুদ্ধের শহীদদের ব্যাপারে তথ্য যাচাই করার জন্য কোন জরিপ হয নি ,জরিপ হয়েছিল ২০০২ সালের দিকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটা জরিপ । ( এটা কে করেছে , সেটাও বুঝতে পারিনি )

আরেকটা মজা আছে ।
ধরা যাক , কোন এক জরিপ কর্তৃপক্ষ মগবাজারে প্রথমে গেলেন গোলাম আযমের বাসায় , তারপর তার পাশে গেলেন নিজামীর বাসায় , তারপর তার পাশের আরো দুই একটা ষন্ডা রাজাকারের বাসায় ।
এখন এই পাঁচটি পরিবারের পরিসংখ্যান নিয়ে যদি সিদ্ধান্ত আসে , তাহলে তো বৃটিশ মেডিকেল জার্নাল বলতে বাধ্য হবেন যে - বাংলাদেশে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধই হয় নি !

৩.
যুদ্ধকালীন পত্রিকার রিপোর্টও দেখলাম গবেষনায় বিবেচিত হয়েছে । কে জানে , গবেষকবৃন্দ বোধহয় ৭১ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর ( তখন তো সংগ্রাম হিট পত্রিকা ) নিউজ দেখে দেখেছেন যে এখানে কোন মানুষ মরে নি , শুধু ভারত থেকে আসা বেইমান দুই একটা গুপ্তচর মরেছে ) ।

৪.
বৃটিশ মেডিকেল জার্নাল - প্রথমে এই নাম শুনে ভেবেছিলাম এটা বোধহয় বৃটিশ সরকারের কোন একটা প্রতিষ্ঠান ।
আদতে তা নয় ।
এটি একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান । বিএমজি গ্রুপ নামে এরা বিভিন্ন জার্নাল প্রকাশ করে থাকে এবং আরো এ ধরনের নানা কাজে তারা ব্যস্ত ।
তারা নিজে কোন জরিপ বা গবেষনা কাজ করে না , বিষয়টি বোধহয় পরিষ্কার করা ভালো ।

আমি নিশ্চিত , বৃটিশ মেডিকেল জার্নাল এ প্রকাশিত নিবন্ধটি পড়লে আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে , আবার আরো নতুন নতুন প্রশ্নেরও সৃষ্ঠি হবে ।
আমি আপাতত সেই কষ্ট করতে রাজী নই ।
প্রয়োজনে আর ঘাটাঘাটি করা যাবে , কিন্তু এখন পর্যন্ত যা দেখছি ,তাতে করেই এই রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা আমার কাছে তলানিতে এসে ঠেকল ।
যাদের আগ্রহ , তারা এই লিংকে পুরোটাই পাবেন


আমার দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে অগ্রহনযোগ্য পদ্ধতিতে তৈরী নিবন্ধটি আমি ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছি ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28811899 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28811899 2008-06-21 06:52:49
ফুলবাড়ী থেকে নন্দীগ্রাম : শিল্পবিকাশ, কৃষকের উচ্ছেদ এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা
মানববন্ধন বা অনশন জাতীয় ভদ্রস্থ আন্দোলনের উপর আমার কোন আস্থা নেই, এই কর্মসূচীগুলো হয়তো আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঠিক আছে, কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে হলে সহিংস পন্থা ছাড়া কোন বিকল্প আমি জীবদ্দশায় দেখি নি। তবু মানববন্ধনের বিষয়ে আগ্রহী হলাম। যা জানতে পারলাম, সেটা বিশ্বাস করলাম না। বাংলাদেশে দিনাজপুরের অনেকগুলো গ্রাম নাকি ধ্বংস করে দিয়ে সেখান থেকে কয়লা উত্তোলন করতে আসছে এক বিদেশী কোম্পানি।

বিষয়টি আমার কাছে সত্যি সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হলো। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এরকম বর্বর এবং অমানবিক কোন কাজ যে করা যায়, সেটা আমার বিশ্বাসের বাইরে। কিন্তু বক্তার উপর আস্থা থাকার কারনে পুরো বিষয়টিকে উড়িয়ে দেয়া গেল না। খোঁজ খবর নিয়ে কয়েকদিনের মাঝেই বুঝতে পারলাম, যা বলা হয়েছিলো, তা পুরোপুরি সত্যি।

তারপরের ইতিহাস পাঠকদের জানা। অনেকগুলো প্রাণ বলি দিয়ে একটি সাময়িক বিজয় অর্জন করা গেছে বলে মনে হয়। ‘মনে হয়’ এই কারনে বলছি, এশিয়া এনার্জী এবং সরকারের মাঝে আদতে কী চুক্তি হয়েছে, সেটা সাধারন নাগরিকদের কাছে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। এখনও এশিয়া এনার্জী ফুলবাড়িতে তাদের অফিস গুটিয়ে নেয়নি, সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি’র নাম করে সেখান থেকে টেলিভিশন-ক্যারেমবোর্ড-ফুটবল-চালের টিন এসব বিতরণ চলছে, আর সেই চর্ব চোষ্য লেহ্য পেয়-তে অনেক দালাল আর বিশ্বাসঘাতক তৈরী হচ্ছে সেই অভাবী জনপদে। আশংকা করছি, এই খেলা এতো সহজে শেষ হবে না।

এবার আসা যাক পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম প্রসংগে। নতুন করে কিছু বলার নেই। এখানেও সেই একই গল্প। শিল্পায়নের নাম করে বহুজাতিক কোম্পানির হাতে অগনিত কৃষকের শেষ সম্বলটুকু তুলে দেওয়ার চেষ্টা। সেই চেষ্টায় বহুজাতিক কোম্পানির বড়ো আশ্রয় আর মদতদাতা সেই সরকারই। এখানেও অনেকগুলো প্রাণের অপচয়, অনেকগুলো গুলির শব্দ, অনেকগুলো পরিবারের জন্য চিরন্তন দীর্ঘশ্বাস। আমি বুঝতে পারি না কেন একটা সরকার, যে সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত সেই সরকার জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে উভয় ক্ষেত্রেই জনকল্যানকামী ‘সরকার’ বাহাদুর উচ্চকন্ঠে বলছেন, বিনিয়োগ না এলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সেই বিনিয়োগ মানে শিল্পায়নের বিনিয়োগ, কৃষি কিংবা সেবাখাতের বিনিয়োগ নয়। সেই বিনিয়োগ লব্ধ যে উন্নয়ন আর অগ্রগতি, সেই উন্নয়ন আর অগ্রগতি আমার মতো সমাজের উচুঁ স্তরের মানুষের জন্য, সাধারন মানুষের জন্য নয়।

এই দুটো আন্দোলনের যে উল্লেখযোগ্য অর্জন আমি লক্ষ্য করি, সেটা হচ্ছে তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব উঠে আসা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আন্দোলন সংগঠিত করছেন মূলত : বামপন্থীরা, আর পশ্চিমবঙ্গের বেলায় আন্দোলনের প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বামপন্থীরা (মানচিত্রের এপারে ওপারে কী ট্রাজেডি!) কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই একেবারে পাড়ার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এদের মাঝ থেকে একটি বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠছে। রাজনীতিকে এইভাবে জনমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বোধহয় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো ধন্যবাদ পেতে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যে প্রতিরোধ একেবারেই শেকড় থেকে উঠে এসেছে এবং আসছে, এই প্রতিরোধ কি দমন করা সম্ভব? সভ্যতার ইতিহাস বলে, সেটা সম্ভব নয়। মানুষ যখন তার নিজের অস্তিত্বের জন্য লড়ে, তখন সে সর্বহারা হয়েই লড়ে, তাকে আর কিছু হারানোর ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না।

তাহলে কি শিল্পবিকাশ হবে না? এপারে বাংলাদেশী বাঙালি আর ওপারে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা কি শিল্পবিমূখ হয়ে বসে থাকবে, আর বাদ বাকী জাতিগুলো খুব দ্রুতই তাদেরকে কাঁচকলা দেখিয়ে এগিয়ে যাবে? এই ঘনবসতিপূর্ণ বাংলায় তো অগনিত উন্মুক্ত জমি পাওয়া যাবে না, এখানে তো কৃষক শ্রমিকের জমি জমা, গ্রাম গঞ্জ দখল করেই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে।

এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আর এখানেই আমার প্রস্তাবটি হচ্ছে যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে শিল্পবিকাশের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা। তবে এশিয়া এনার্জীর ওপেনমাইন পদ্ধতিতে কয়লা আহরণ জাতীয় বর্বর ও পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী শিল্প নয়, উৎপাদনমূখী কারখানা বিকাশের যে শিল্প, সেই শিল্পের বিকাশে ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা। এই সম্পৃক্ততা নিয়েও অনেকগুলো হাস্যকর কথা শোনা যায় ইদানিং। বলা হয়ে থাকে, শিল্পের প্রসার ঘটলে কৃষক পরিবার সেখানে কাজ পাবে, এই কর্মসংস্থান একটি বিশাল সম্পৃক্তকরণ।
এ কথাটি আসলেই হাস্যকর। কৃষককে তার জমি থেকে উচ্ছেদ করে দিয়ে তাকে শ্রমিক করে ফেলা আদতে তার জীবনযাত্রার কোন উত্তরণ নয়, বরং তার জীবনযাত্রাকে ধ্বংস করে ফেলারই নামান্তর।

যেটা প্রয়োজন, এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেরকে সরাসরি কারখানার অংশীদারিত্ব বা মালিকানায় সম্পৃক্ত করা। তবে মেনে নেওয়া যেতে পারে একজন কৃষককে যদি তার জমির মূল্যের সমপরিমাণ টাকার শেয়ার সেই কোম্পানিতে দেওয়া হয়, তাহলে কৃষক একটা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা পায়। এক্ষেত্রে কৃষক, নতুন শিল্পকারখানাকে তার নিজের প্রতিষ্ঠান ভাবতে পারে, কিন্তু বদলি শ্রমিক, অস্থায়ী শ্রমিক এসব লেবেল লাগিয়ে তাকে উৎপাদনের ঘানি ঘুরানোর বলদ বানিয়ে ফেললে এই ‘নিজের প্রতিষ্ঠান’ ভাবার বোধটুকু কোনভাবেই জন্মাবে না।

কৃষকের তো একটা গতি হলো, কিন্তু যাদের জমি নেই সেই অগুনতি বর্গাচাষীদের কী হবে? তাদের কথাটাও ভাবতে হবে। সেই ভাবনার কারনেই তাদেরকেও মালিকানায় অংশ দিতে হবে। সেই অংশগ্রহণ হবে তার শ্রমের বিনিময়ে। অর্থাৎ তাদেরকে কর্মসংস্থান দিতে হবে কমপক্ষে সেই পরিমান আয়ে, যা তারা এর আগে রোজগার করতেন। পাশাপাশি যাবতীয় মানবাধিকার এবং চাকুরির নিশ্চয়তা তো দিতে হবেই। এই সব ক্ষতিগ্রস্থের জন্য যোগ্য বিকল্প বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পবিকাশে ব্যস্ত লোকজন যখন গলা ফাটিয়ে উন্নয়ন উন্নয়ন করে চেঁচাতে থাকেন, তখন তারা বোধহয় শুধু নিজেদের উন্নয়নের কথাই ভাবেন, হাজার হাজার সাধারন মানুষের কথা ভাবেন না।

নিজেদের স্বার্থেই এখন এই সব বঞ্চিত মানুষের কথা তাদের ভাবতে হবে। নইলে অসংখ্য ফুলবাড়ী আর নন্দীগ্রামের উপাখ্যান লেখা হবে এই জনপদে, অসংখ্য মান্নান মিয়া আর মলয় পাল মারা যাবে ফসলের জমিতে, কিন্তু রক্তের দাগ দেওয়া মাটিতে কখনোই বেনিয়াদের সাধের শিল্প বিকাশ হবে না।

===============================
অনেক অনেককাল আগে ওয়েবপত্রিকা বীক্ষন থেকে একটা লেখা চাওয়া হয়েছিল ।
লেখা দেয়ার বহুদিন পরেও বীক্ষন আপলোড হয় নি ।
ব্যাপারটা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম ।
আজ আরেকজনের একটা কথার সূত্র ধরে বীক্ষন খুলে দেখলাম এপ্রিলে পত্রিকাটি আপলোড হয়েছে এবং সেখানে আমার লেখাটিও রয়েছে ।

লেখাটি নিজের ব্লগে তুলে রাখলাম ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28810665 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28810665 2008-06-17 20:24:48
গ্রামীন ফোনের সিএসআর এবং আমাদের তিরিশজন মেয়ে গিনিপিগ ? এক.
গ্রামীন ফোন তাদের কর্পোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটির ( CSR )র অংশ হিসেবে আমাদের দেশে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে আয়োজিত পাইলট টিকাদান কর্মসূচীতে অর্থায়ন করছে ।
কথাটা শুনতে খুবই সুন্দর । কিন্তু হঠাৎ করেই মনে প্রশ্ন জাগে , টিকাদান কর্মসূচীটা আবার পাইলট প্রকল্প হয় কেন ? টিকাদান তো সার্বজনীন কর্মসূচী হওয়ার কথা । পাইলট প্রকল্প মানে হচ্ছে একটা ছোট্ট প্রকল্প করে এর ভুলত্রুটিগুলো দেখা । এই যেমন ধরা যাক ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা দেশব্যাপী শুরু করার আগে গাজীপুরে একটা পাইলট প্রকল্প করা হয়েছে ।
গ্রামীনের এই টিকাদান কর্মসূচীটা পাইলট প্রকল্প , এর মানে কি এই টিকাদান কর্মসূচীর মাঝেও কোন ভুলত্রুটি আছে ?



দুই .
এই ধরনের চিন্তা আসার পরেই আবার বিষয়টি নতুন করে দেখলাম । গ্রামীন অর্থায়ন করছে সাভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে ।

সার্ভিক্যাল ক্যান্সার টার্মটা আমার কাছে নতুন । বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের কথা আগে শুনেছি , কিন্তু কারো কখনো সার্ভিক্যাল ক্যান্সার হয়েছে বলে আমার স্মরণ শক্তিতে মনে করতে পারলাম না । বিষয়টি নিয়ে একটু পড়াশোনা করে যেটা বুঝলাম , সেটা হচ্ছে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার অনেকটাই সংক্রামক জাতীয় ক্যান্সার ,যেটি সাধারনত কমবয়সী তরুণীদের মাঝেই হয়ে থাকে । উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে ,"Human papillomavirus (HPV) infection is a necessary factor in the development of nearly all cases of cervical cancer."


বিষয়টি আবার পড়লাম এবং বুঝতে পারলাম যে এই ক্যান্সারের প্রকোপটা বেশির ভার ক্ষেত্রেই আসলে যৌন সম্পর্কের সাথে সম্পর্কযুক্ত । এইচআইভি সংক্রমন নিয়ে আমাদের দেশের মিডিয়া আর এনজিও গলা ফাটাচ্ছিল অনেক দিন ধরেই , এখন এইচআইভি'র পাশাপাশি এই এইচপিভি আমাদের উপর আছর করতে যাচ্ছে ।

সামাজিক এবং ধর্মীয় কারনে আমাদের দেশে অবারিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক কম । সেকারনেই সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের যৌন সম্পর্কের উপর অধিকাংশে সংক্রমন নির্ভরশীল এই নামটা মার্কিনিদের কাছে যতো পরিচিত আমাদের কাছে ততো পরিচিত নয় । সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধের তুলনায় ডায়রিয়া প্রতিরোধ আর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন আমাদের জন্য অনেক বেশি প্রায়োরিটি ।

তবু ঠিকাছে , আমাদেরকে যদি বিনামূল্যে টিকা দিতে চায় , আমরা সেই টিকাটা হাত পেতে নিয়েই ফেলি । রোগ আজ হয় নি তো কাল হতেও তো পারে ।


তিন .
কিন্তু সমস্যা বেধেছে অন্য জায়গায় ।
জানা গেল গ্রামীন ফোনের স্পনসরে ৩০ জন তরুণীকে এই টিকা দেয়া হবে আমাদের দেশে । তারপর হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এই পাইলট কর্মসূচীর প্রভাব নিয়ে গবেষনা করবে !!!
এই গবেষনা কথাটা শুনেই আমার ভুরু কুচকে যাচ্ছে খানিকটা ।

খাদ্যের বিনিময়ে , সামান্য অর্থের বিনিময়ে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের উপর অনেক ধরনের ঔষধের গবেষনা করেছে বিদেশী ঔষধ কোম্পানীগুলো । তাদের সেই দুর্দশা নিয়ে কিছু চলচিত্র , কিছু বইপত্রে যে ছবি ফুটে উঠছে সেটা মর্মান্তিক ।

আমাদের তিরিশজন তরুণী কি এবার সেই একই অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন ?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯/২০ টি রাজ্য এখন পর্যন্ত এই টিকাদানকে তাদের কর্মসূচীতে সংযুক্ত করার ব্যাপারে ' পেন্ডিং' অথবা কমিটি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত/বাতিল/স্থগিত অবস্থায় রেখেছে , সেই সময়ে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের তরুণীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গ্রামীন ফোন ও হার্ভার্ড স্কুল অব মেডিসিন এর এই গবেষনা আগ্রহকে নিয়ে দ্বিতীয়বার খোঁজখবর করার প্রয়োজন অবশ্যই অনেক অনেক জরুরী।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28792544 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28792544 2008-04-29 15:51:22
শতবর্ষে পা দেয়া জব্বারের বলী খেলা আর তাৎক্ষনিক কিছু ভাবনা
বলী খেলাকে আমরা কুস্তি হিসেবেই চিনে থাকি । সেই কুস্তি নিয়ে কতো আয়োজন দুনিয়া জুড়ে, ডব্লিউডব্লিউএফ এর পাহাড়সম কুস্তিগীরদের কুস্তি দেখার জন্য দুনিয়ার ঘরে ঘরে টিভির রিমোট চেপে কতোজন বসে থাকে বছরব্যাপী ।

সেই তুলনায় আমাদের জব্বারের বলী খেলার আয়োজন বড়ো দীণ, বড়ো ম্লান । মাটির মাঝে চারিদিকে দড়ি দিয়ে সীমানা নির্ধারন করে তার মাঝেই বলী বা কুস্তিগীররা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়তে থাকেন ।
এই কুস্তিগীররা কেউই প্রফেশনাল কুস্তিগীর নন , তাদের কেউ কারখানার শ্রমিক , কেউ কৃষক , কেউ ক্ষুদ্র দোকানদার আর কেউ বা দীনমজুর নয়তো বেকার ।
তবু এই প্রানের মেলা শতবর্ষ ধরে চট্টগ্রাম সহ পুরো বাংলাদেশের গৌরব হয়ে আছে।
আহা , আমাদের স্পনসররা কতো অগাবগা বেসুরো ব্যন্ডের কনসার্টে লাখলাখ টাকা খরচ করে থাকেন ।
আমাদের স্যাটেলাইট টিভিরা কতো আমলার বউয়ের হাচ্চো দেয়াটাকে সরাসরি সম্প্রচার করে থাকেন ।
আমাদের বাফুফে আর অলিম্পিক এসোসিয়েশনের নির্বাচনে কতো লক্ষ কোটী টাকার শ্রাদ্ধ হয়ে থাকে ।

কিন্তু জব্বারের বলী খেলার বলীদের ভাগ্যে তার কিছুই জুটে না ।
তারা ধুলির মাঠে গড়াগড়ি খান । তারা চ্যাম্পিয়ানশীপের জন্য মাত্র ১০ হাজার টাকা পুরষ্কার পান ।( গ্রামীন ফোন দয়াকরে গতবছর থেকে একটা দায়সারা গোছের স্পনসর করে থাকেন বলে শুনেছি, পুরষ্কারের অর্থমূল্য থেকে তাদের স্পনসরের ভার বুঝা যায় ।)

তবু এই সব এসোসিয়েশন , ফেডারেশন , কর্পোরেট স্পনসর , ভেকধারী টিভি চ্যানেল এদের সবার মুঝে ঝাটা মেরে জব্বারের বলী খেলা টিকে আছে , টিকে থাকবে আরো শতবছর ।

কিন্তু মিডিয়া আর স্পনসরের ঝাকানাকা উপস্থাপনায় স্টার হওয়া বহু "গুনী"র বহু আয়োজন হয়তো মাস ফুরোবার আগেই মুছে যাবে আমাদের মন থেকে ।

সাধারন মানুষের এই আয়োজন , এই প্রানের উত্তাপের জয় হোক ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28791032 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28791032 2008-04-25 10:48:06
দানবের জঙ্গলে কাউন্টার একটিভ থাকাটাই আমাদের একমাত্র উপায় আমার বন্ধু হাসান মোরশেদ এবার একটা উপন্যাস লেখার সিদ্ধান্ত নিল । সেই উপন্যাস লেখা হল , প্রকাশকের কাছে গেল , প্রুফ দেখা হল , কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উপন্যাসটি আর প্রকাশিত হলো না ।
কারন কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী জানালেন এই উপন্যাসটি " বর্তমান সময়ে "প্রকাশ করাটা ঝুকিপূর্ণ । উপন্যাসে কী ছিল , সেটা হয়তো একদিন সময়ে প্রকাশিত হবে , কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে সেই উপন্যাস প্রকাশের পরে দেশে থেকে যাওয়া হাসান মোরশেদের নির্দোষ পরিবার যে কোন গঞ্জনার মুখোমুখি হবেন না , বহু জনের সাথে বহু আলোচনা করেও এর কোন সিদ্ধান্ত নেয়া গেল না ।

২.
আমার একটা মোটরসাইকেল আছে । যারা আমাকে ঢাকা শহরে অনেক আগে থেকেই জানেন , তারা জানেন যে সেই ছোট্ট মোটরসাইকেল দাপিয়ে আমি তুরাগ থেকে শীতলক্ষা আর বুড়িগঙ্গার মাঝ খানের পুরো ঢাকা শহরে আড্ডা মেরে বেড়াতাম ।
একদিন বনানীর রাস্তায় দেখলাম হেলমেট না পরার কারনে এক বয়স্ক ভদ্রলোককে কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে যৌথবাহিনী ।
সেই দিনের পরে আমি আর মোটরসাইকেল ব্যবহার করিনি ।
আমি হেলমেট পরি , কিন্তু কে জানে কী পরি না । হয়তো দেখা যাবে আমি বামহাতে ঘড়ি পরি না এই অপরাধেই আমাকে কান ধরে উঠবস করানো হবে রাস্তার মাঝখানে ।
এই ভীতি নিয়ে আমি ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াতে অক্ষম

৩.
তাসনিম খলিল আমাদের ডিপার্টমেন্টের ছাত্র হিসেবে ছাত্র জীবন থেকেই পরিচিত । সেই নিরীহ পড়ুয়া ধরনের ছাত্রটি চাকুরি করছিল ডেইলিস্টার-এ । একই সাথে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছিল অনেকগুলো । আদিবাসী নেতা চলেশ রিছিল হত্যার অন্ধকার কাহিনী নিয়ে সে গবেষনা করছিল আর সেই তথ্য উপাত্তগুলো প্রকাশ করছিল নিজের ব্লগ সহ দেশী বিদেশী অনেকগুলো মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের কাছে
এক অন্ধকার রাতে তাসনিম খলিলকে তুলে নেয়া হল তার বাড়ি থেকে । নেয়া হলো ডিজিএফআই'র সদরদপ্তরে ।

তাসনিমের উপর নির্যাতনের সেই চিত্র ইন্টারনেটের কল্যানে অনেকেই দেখেছেন । ছাড়া পাওয়ার পর প্রানভয়ে তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল ছোট্ট শিশু আর স্ত্রীকে নিয়ে । আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরে সুইডেন তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে । তাসনিম খলিলের সেই অত্যাচারের দাগ হয়তো তার শরীর থেকে মুছে যাবে কোন একদিন , কিন্তু আমরা যারা তার ছবি দেখেছি , তাদের মন থেকে এই দাগ কি কোনদিন মুছে যাবে ?

৪.
ব্যরিস্টার রেজওয়ান বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তার নিকাটাত্মীয়কে সি-অফ করতে ।
(পৃথিবীর এমন কোন বিমানবন্দর আমি দেখিনি যেখানে অনায়াসে এয়ারলাইনের কাউন্টার পর্যন্ত যাওয়া যায় না । ব্যতিক্রম আমাদের বাংলাদেশ । এখানে আপনি যদি ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে যান , তাহলে আপনাকে ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে পায়ে হেটে উপরে উঠতে বাধ্য করা হবে , ঠিক উপনিবেশ যুগের গোলামদের মতো । তবে দামী গাড়িতে গেলে কোন অসুবিধা নেই ।)
ধরে নিলাম যে উনি সেখানে খুব উদ্ধত আচরন করেছেন এবং আইন ভেঙ্গেছেন , তারপরও তার উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে সেটা অমানবিক । ( এই নির্যাতনের কিছু ছবি আমি ইতিমধ্যেই দেখেছি , দেখলে গা গুলিয়ে ওঠে ।)

====================================

১/১১ এর তথাকথিত বিপ্লবের নামে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পোষা সেনাবাহিনী আমাদের উপর নিয়ন্ত্রন নেয়ার জন্য দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে । সেই নিয়ন্ত্রন নেয়ার প্রক্রিয়াটি খুবই ভয়ংকর । তাদের আচার আচরন দেখে মনে হচ্ছে এটা উনাদের দেশ এবং আমরা এই দেশে তাদেরকে জিজিয়া ট্যাক্স দিয়ে বেঁচে থাকা দ্বিতীয় সারির নাগরিক ।

যখন যাকে ইচ্ছা যেখানে ইচ্ছা পেটানোর লাইসেন্স যে তাদের হাতে দেয়া হয় নি , এই বিষয়টি সম্ভবত: তাদেরকে কেউ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে না ।
অবশ্য স্মরণ করিয়ে দেয়ার সবচাইতে ভালো যে উপায় সেটি হচ্ছে মিডিয়া , কিন্তু মিডিয়া এখানে নিশ্চুপ ।

আগামীকালের ইতিহাসবিদরা নিশ্চয়ই গবেষনায় এটা উল্লেখ করবেন যে , বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চাইতে মেরুদন্ডহীন , এর চইতে ভন্ড আর সুবিধাবাদী কাপুরুষ মিডিয়া অতীতে কখনোই দেখা যায় নি । চিহ্নিত ধান্দাবাজদের মাঝে বেছে বেছে ধাগিগুলো এখন সবকটি সংবাদপত্রের সম্পাদক হয়ে বসে আছে ।

এই অসহনীয় পরিস্থিতে নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের উচিত কাউন্টার একটিভ থাকা । প্রত্যেকটি নির্যাতনের ঘটনাকে প্রকাশের জন্য কাজ করে যাওয়া , প্রত্যেকটি নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে নিজ নিজ সাধ্যানুযায়ী কাজ করা ।

আরেকটা উপায় হচ্ছে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিন চত্ত্বর দখলে নিয়ে জায়নামাজ পোড়ানো ।
সেটা যেহেতু বিবেক সম্পন্ন মানুষদের পক্ষে সম্ভব নয় , তাই আপাতত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়াটাই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অগ্রাধিকার পাওয়া দরকার ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28790168 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28790168 2008-04-22 15:17:49
বাংলাদেশের কুষ্ঠরোগীরা নাকি ট্রেনে চড়িয়া কলিকাতা যাইতেছে... এই দুই নগরের মাঝে এখন যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন ডাইমেনশন পেয়েছে ।
তবু মানুষের সাথে মানুষের , গ্রামের সাথে গ্রামের ,নগরের সাথে নগরের ,দেশের সাথে দেশের যোগাযোগ যতো বেশি মাত্রায় প্রতিষ্ঠিত করা যায় ততোই ভালো । আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাই চাই ।

একবার ট্রেনে চড়ে লন্ডন থেকে প‌্যারিস গিয়েছিলাম । চমৎকার ব্যবস্থা । লন্ডনে ওয়াটারলু স্টেশনে লন্ডন আর ফ্রান্সের দুই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বসে আছেন, দুই দেশের ইমিগ্রেশন একই সাথে শেষ করে ফেললাম । এমনকি আমার সবুজ রঙের একটা অচ্ছুৎ পাসপোর্ট সত্ত্বেও মোটে সময় লাগল ৫/৭ মিনিট । সেই সময় আমি মনে মনে আফসোস করেছিলাম , ইশ আমাদের দেশেও যদি এরকম ব্যবস্থা চালু হতো । ট্রেনে চেপে কলিকাতা হয়ে দিল্লী , তারপর আগ্রাতে গিয়ে তাজমহলটা দেখে আসা যেত । আবার চাইলেই মায়ানমার হয়ে মালয়েশিয়াতে গিয়ে একটা উইকএন্ড উপভোগ করে আসতাম ।

আমার সেই স্বপ্নে দেখা ট্রেন অবশেষে চালু হয়েছে । কলিকাতা আর ঢাকার মাঝে ট্রেন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পরশুদিন, ১লা বৈশাখে ।

কিন্তু এই ট্রেন আমাকে আশাবাদী করে নি , বরং আশাভঙ্গ করেছে ।
ট্রেন চালুর ব্যাপারে আমাদের বন্ধু (!) দেশ ভারতের অসহযোগিতা বড়ো প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে ।

অনেক দিন ধরেই ট্রেন আর স্টেশন রেডি করে বাংলাদেশ বসে ছিল । ভারতীয়রা নানা গাইঁগুই করে এই ট্রেন সার্ভিস চালু করতে দেয় নি ।
বাংলাদেশ চেয়েছিল ঢাকা'তে ইমিগ্রেশন করতে , ভারত বলেছে সীমান্তে করতে হবে , বাংলাদেশ মেনে নিয়েছে ।
বাংলাদেশ চেয়েছিল কলিকাতার অভ্যন্তরে কোন স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চালু করতে , ভারত একটা দূরবর্তী স্টেশন নাকি সিলেক্ট করেছে , বাংলাদেশ সেটাও মেনে নিয়েছে ।

এতো সব মানামানির শেষে যে ট্রেন চালু হয়েছে , সেটা নিয়েও ভারতীয় পক্ষের চরম উন্নাসিকতা দেখা যাচ্ছে

আজকের ইত্তেফাক এর খবরটি পড়া যাক ।
সেখানে দেখবেন কিভাবে পদে পদে নানা ভোগান্তি তারা রেখেছে আমাদের জন্য ।
আমি বেশ কয়েকটি পত্রিকা পড়ে যা জানতে পারলাম তা নিচে একসাথে লিখছি :

১. তাদের ইমিগ্রেশনে সময় লাগে আড়াই ঘন্টা ! ইত্তেফাক জানাচ্ছে , ইমিগ্রেশনের পরেও যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ নেই । গেদে স্টেশন এমনভাবে তৈরী করা যাতে করে যাত্রীরা কোনভাবেই বের হতে না পারে !!!

২. গেদে স্টেশনের ওয়েটিং রুমটা তালাবদ্ধ থাকে । যাত্রীরা এই আড়াই ঘন্টা কি তবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ব্যায়াম করবেন ?

৩. যাত্রীদেরকে খুবই কড়া মনিটরিংয়ের মাঝে রাখা হয় । এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক ভারতীয় পাচঁশ রুপির নোট না চিনে উনার সাথে দেড়শ টাকা আছে বলায় তাকে আগপাশ তলা তল্লাশি করা হয় । এরকম বিড়ন্বনায় পড়েন আরো অনেকেই ।

৪. ভিসা থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রীকে কলিকাতা থেকে বাংলাদেশগামী ট্রেনে চড়তে দেয়া হয় নি , তাদের ভিসাতে স্টেশনের নাম ভুল থাকায় ।

৫. সীমান্তের ১৫০ গজ পর্যণ্ত ভারতীয় অংশে ১৫ ফুট উচুঁ তারের বেড়া নির্মান করছে ভারত ।

এতো নিরাপত্তার নকশা করা সত্ত্বেও , উনাদের সাধের নিরাপত্তা কিন্তু বাংলাদেশের ট্রেনে চেপে যাওয়া সন্ত্রাসী (!)রা ব্যহত করে নি , একটি আন্তর্জাতিক ট্রেনের উদ্বোধনী দিনে সেটাকে ব্যারিকেড দিয়েছে উনাদেরই গুন্ডারা ।

শেষ কথা :
এককালে কুষ্টরোগীদেরকে দীপান্তর করা হতো ।
ভারতীয়দের আচরন দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ থেকেও বুঝি একদল ছোঁয়াচে কুষ্টরোগীকে ট্রেনে করে কলিকাতা পাঠানো হয়েছে । এদেরকে আলাদা রাখতে হবে , নইলে কুষ্টরোগ ছড়িয়ে পড়বে কলিকাতায় ।

আদতে তা নয় ।

বাংলাদেশের যে জনস্রোত কলিকাতায় যায় , তারা সাথে নিয়ে যায় কড়কড়ে ডলার । ছোটখাটো ডাক্তার পর্যন্ত সেটার ভাগ পায় । আমাদের নব্যধনী কুৎসতি উচ্চবিত্ত আর উচ্চমধ্যবিত্তদের মোটা চিকন বউ ঝি রা সেখানে গিয়ে বস্তা ভরে ভরে জামাকাপড় কিনে আনে , সেটাও ঐ ডলার দিয়েই ।

কলিকাতার সাথে ট্রেন যোগাযোগে বাংলাদেশের লাভের ( আদৌ যদি কিছু থেকে থাকে )চেয়ে অনেকগুন বেশি লাভ ঐ ভারতীয়দেরই ।

ট্রেনে চড়া বাংলাদেশীরা যদি জামাই আদরের পরিবর্তে কুষ্টরোগী ট্রিটমেন্ট পান , ভারতীয়দের কাছ থেকে , তাহলে এই সাধের ট্রেন চালু রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে দ্বিতীয় বার চিন্তা করার দাবী জানাই ।
বাংলাদেশ সরকারকে মনে রাখতে হবে , অবমাননার মাধ্যমে আর যাই হোক , উভয় পক্ষে "মৈত্রী" হয় না ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28788412 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28788412 2008-04-16 17:16:32
পহেলা বৈশাখের লাল সাদা রং আমাকে আশাবাদী করে তুলে


একসময় নাকি বাঙালির বারো মাসে তের পার্বন ছিল । আজকে সেই পার্বনগুলো আর সেভাবে নেই ।

তবু পহেলা বৈশাখ যেভাবে আজকে জনমানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা দেখে অবাক হতে হয় । যদি স্মরণ শক্তি প্রতারনা না করে থাকে , তাহলে বলতে হয় আজ থেকে ১০ বছর আগেও পহেলা বৈশাখ মূলত: মধ্যবিত্তের একটা অংশের কাছে ছিল সাংস্কৃতিক উৎসব আর ব্যবসায়ীদের কাছে ছিল হালখাতা উৎসব ।

বাঙালির নববর্ষ বরণের উৎসব এই গত কয়েক বছরে যে ব্যাপক জোয়ার পেয়েছে , তা যারা গত কয় বছর ধরে দেশে নেই তারা কল্পনাও করতে পারবেন না ।

গত প্রায় একমাস ধরে আমি ঢাকা শহরের কোন পোষাকের দোকানে লাল সাদা পোষাক ছাড়া আর কিছু বিক্রী হতে দেখিনি । প্রতিটি দর্জি দোকানে ছিল ঈদের আগের রাতের ব্যস্ততা । না , শুধু মধ্যবিত্তের জন্য এ আয়োজন নয় । ৪০ টাকা চালের কেজি খেয়েও নিম্নবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্ত এই উৎসবে গা ভাসিয়েছে । ফুটপাতে লাল সাদা টিশার্ট বিক্রী হয়েছে ২০/৩০ টাকায় । খুব সস্তা দামের শাড়ি , সেলোয়ার কামিজও বিক্রী হয়েছে প্রচুর ।


আজ ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে মেলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখলাম । সবখানেই ঠাই নেই ঠাই নেই ভাব । যেকোন উৎসব মানেই টিএসসি চত্ত্বর , এই ধারনাকে বদলে ফেলেছে নববর্ষের উৎসব । আমাদের মহাখালী ডিওএইচএস এ আজ দিনব্যাপী উৎসব আর মেলা ছিল । সেখানে খুব নিবিঢ় ভাবে আমি পর্যবেক্ষন করলাম । মুটে মজুর , শ্রমিক , মধ্যবিত্ত , উচ্চবিত্ত সবাই সেখানে ভিড় করেছে । তারপর ঢাকার আরো অনেক জায়গায় গিয়েছি , তীব্র ভীড়ের কারনে অনেক জায়গায় যেতেই পারিনি । কাকফাটা রোদের গরম মানুষকে উৎসব থেকে সরিয়ে রাখতে পারে নি ।


নববর্ষ বরণের এই তুমুল উৎসব আমাকে আশাবাদী করে তুলে ।

বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার এই সুন্দর উচ্ছ্বাস আমাকে জানিয়ে দেয়- যতোই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিন চত্ত্বরে শুক্রবার দুপুরে তান্ডব ঘটানো হোক , যতোই আরব পাকিস্তানের পেট্রোডলার-দিনারের ঝড় বইয়ে দেয়া হোক , যতোই " বাংলা হবে আফগান " বলে স্লোগান দেয়া হোক , যতোই বোমা আর গ্রেনেড মেরে মানুষকে ঘরে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করা হোক ,

অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সরিয়ে কোন অন্ধকারের প্রানী ধর্মব্যবসায়ীরা এই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতাকে সবসময়ের জন্য কুক্ষিগত করতে পারবে না ।কখনোই না ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28787853 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28787853 2008-04-14 22:28:48
বইনরে ঠকাইয়া আর কতো খাবি ? এক.
প্রস্তাবিত নারী নীতিমালায় নাকি শরীয়তের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে । এই চিন্তায় আমাদের তালিবানী মোল্লা দলের মাথা গরম । গরম তো গরম , এমন গরম যে তারা জাতীয় মসজিদের জায়নামাজ পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ।( নাউজুবিল্লাহ । আল্লাহ তাদের উপযুক্ত বিচার করুন ।)

সম্পত্তির বন্ঠন নিয়ে এই দুপেয়ে মূর্খদের যে পরিমান উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে , তার একটা ক্ষুদ্র অংশ যদি বর্তমান দ্রব্যমূল্যের আর অন্যান্য কারনে প্রান অষ্টাগত মানুষদের জন্য থাকত , তাহলে আমি খুব আনন্দিত হতাম ।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে কয়েকহাত বদল হয়ে একদিনের মাঝেই যখন তেলের দাম ৯০ টাকা থেকে ১২০ টাকা লিটার হয়ে যায় , তখন যদি হজরতে আলা আমিনী সেখানে গিয়ে লোকজন নিয়ে কিছু চালের খালি বস্তাতে আগুন লাগাতেন , তাহলে আমি তাদেরকে শ্রদ্ধা করতাম । তারা যদি বিদ্যুতের দাবীতে মিছিল করতেন , সার আর সেচের পানির জন্য মিছিল করতেন , ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক দেয়ার দাবীতে মিছিল করতেন , তাহলে বুঝতে পারতাম যে আল্লাহর বান্দারা খুব ভালো একটা কাজের কাজ করছেন ।

তারা সেসব করেন না । কারন তাদের এসবের দরকার নেই । তারা সেচ দেন না , সার দেন না , উৎপাদনশীল খাতে তাদের অবদান শূন্য ; এই বিশাল জনগোষ্ঠী লিল্লাহ সদকা জাতীয় দানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পাজেরো গাড়ি চড়ে দাপটের সাথে চলতে পারেন । তাদের মূল উদ্দেশ্য বেহেশতে যাওয়া , দুনিয়াদারী নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই ।


মজার ব্যাপার হল, সম্পদের সমবন্ঠন একটা দুনিয়াদারী প্রসেস , কিন্তু সেটাতে উনাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে । বাংলাদেশে কোরআন সুন্নাহর আইন প্রচলিত নয় । এখানে চুরি করলে হাত কাটা হয় না , ধর্ষন করলে পাথর ছুড়ে মারা হয় না , এখানে বৈধ অবৈধ শত শত ব্রথেল এ কেউ জেনার অপরাধে গর্ত খুলে মানুষকে হত্যা করবে এমন আইন নেই ।

বরং ডাক্তার আঈজুদ্দিন দেখিয়েছেন যে আমাদের অনেক আইনই কোরআন সুন্নাহর বিরোধী । যুগ যুগ ধরে এই আইনগুলো প্রচলিত আছে , সেগুলো নিয়ে কোন আন্দোলন করতে কাউকে দেখিনি ।

অথচ সম্পদের সমবন্ঠনের কথাটিতে তারা আপত্তি জানালেন । এমন জঘন্য পদ্ধতিতে আপত্তি জানালেন যেটি কোন অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয় ।

দুই .
নারীনীতির প্রস্তাবে অবশ্য এরকম কোন প্রস্তাব করা হয়েছে বলে আমার চোখে পড়ে নি । আসলে এইসব করার মতো মেরুদন্ড অলা শাষক এখন আমাদের দেশে জন্মায় না , এসব বলার মতো বুদ্ধিজীবি আমাদের দেশের মায়েদের গর্ভে তৈরী হয় না ।

শত শত সরিশৃপ এখন আমাদের নেতা , আমাদের বুদ্ধিজীবি , আমাদের সুশীল সমাজ , আমাদের সৈনিক ।
এরা ভোটের জন্য উন্মাদের সাথে জোট বাধে , এরা খতিবের কাছে দল বেধে গিয়ে নাখে খত দেয় , এরা নিজের জান বাচিঁয়ে স্বার্থমতো মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ।

বর্তমান আন্দোলনের পুরো বিষয়টির সাথে ইসলাম প্রেমের কোন সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না । পুরো বিষয়টিই পুরুষতান্ত্রিক ইতরামির একটা নমুনা ।
বিয়ের মোহরানা পরিশোধ করেছে এমন মানুষ আমি প্রতি একশজনেও একজন দেখি না । কিন্তু তখন ইসলাম বিপন্ন হয় বলে শোর উঠে না । সেটা নিয়ে মোল্লাদের কোন হল্লা হতে শুনিনি ।

অর্থাৎ , পাওয়ার সময় মোল্লারা সব আমোদে আহ্লাদিত , দেবার সময় তাদের আতেঁ ঘা লাগে । সেই ঘা এমনই তীব্র যে জাতীয় মসজিদের জায়নামাজ পুড়িয়ে সেটাতে মলম লাগাতে হয় ।

ইসলাম এখানে গৌন , ইসলাম প্রেম এখানে কাজে লাগছে ব্যক্তি স্বার্থের প্রয়োজনে । আর আমাদের শাষক গোষ্ঠী , আমাদের রাজনীতিবিদেরা , আমাদের সুশীল আর বুদ্ধিজীবিরা নিজস্ব মেরুদন্ডহীনতার কারনে এর বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছে না । এতে করে এই স্বার্থবাদী মহল আরো উগ্র ,আরো ইতর হয়ে উঠছে দিনে দিনে ।


এই জাতিকে এগুতে হলে এই সব ইতরামির বিরুদ্ধে সবারই সাধ্যমতো রুখে দাড়ানো দরকার ।

এখন সময় এসেছে , ব্লগার মাথামোটার মতো সবাই মিলে এই সব মোল্লাদেরকে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া- বইনরে ঠকাইয়া আর কতো খাবি ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28787111 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28787111 2008-04-12 14:59:17
বসে আছি বেদনায়,অক্ষমতায়...( আরিফ জেবতিকের ছোট্ট পোস্ট ,বিশাল হতাশা ) আমরা জ্ঞান হারাই । ছোট্ট ব্যথাতে আমরা চিৎকার করে কাঁদি , হইচই করে লোক জড়ো করি , কিন্তু খুব তীব্র ব্যথায় আমার কাদঁতে পারি না । আমাদের নার্ভ সেই কষ্ট সহ্য করতে করতে পারে না , আমাদেরকে অজ্ঞান করে দেয় । আমি বোধহয় সেই অজ্ঞানতায় পড়ে গেছি । আমার বোধগুলো নির্জিব হয়ে গেছে ।

আজ শনিবারে অফিসে কাজকর্ম নেই । সকাল থেকেই অভ্যাস মতো ব্লগগুলো খুলে বসেছি , কিন্তু কিছুই লিখতে পারছি না ।
সেই সকাল থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা আমি কম্পিউটারের সামনে চুপ করে বসে আছি ।

খুব তীব্র ব্যথাকে বর্ণনা করা যায় না , খুব কঠিন অপমানকে বর্ণনা করা যায় না । আমি সেই তীব্র ব্যথায় শুধু চুপচাপ বসে থাকি ।

কুখ্যাত রাজাকার কামরুজ্জামানের পুত্র ওয়ামি প্রকাশ্যে একটা বাংলা ফোরামে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে কুকুর বলে অভিহিত করেছে । আমাদের বাংলাদেশে , আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে সেই কাজটি করে সে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছে । সেটার বিরুদ্ধে অসংখ্য ব্লগার তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন , দলে দলে মেইল করছেন মডারেটরদের কাছে । কিন্তু কিছুই হচ্ছে না এখন পর্যন্ত ।

ব্লগার মুকুল খুব সুন্দর দাবী তুলেছেন ,

গ্রামে গঞ্জে নিহত অগনিত মুক্তিযোদ্ধা, শত্রু শিবিরে পানি পানি করে চিৎকার করা অগনিত মুক্তিযোদ্ধা, মায়ের কোলে ফিরে না আসা শত সহস্ত্র আমাদের মতো কিশোর তরুন মুক্তিযোদ্ধা, অত্যাচারে অত্যাচারে জ্ঞান হারানো আমার কিশোরী বীরাঙ্গনা বোন মুক্তিযোদ্ধা, রাতের আধাঁরে চোখ বেধে নিয়ে যাওয়া পিতা পিতামহ মুক্তিযোদ্ধা, এদের সকলের রক্তের কসম কেটে প্রতিজ্ঞা করুন, সামহোয়্যারকে সুন্দর ও জনপ্রিয়ভাবে চালাতে হলে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে কুকুর বলে গালি দেয়া, কুখ্যাত রাজাকার কামরুজ্জামানের পুত্র ওয়ামিকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ব্যান করতে হবে এবং সেই ব্যানের নোটিশ প্রথম পাতায় স্টিকি করে রাখতে হবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

শুধু এই দাবীর প্রতি সহমত জ্ঞাপন করা ছাড়া কী করতে পারি এই ভার্চুয়াল জগতে ?


প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়ে ব্যন করে সেটাকে স্টিকি করে রাখাটা একটা মন্দের ভালো সমাধান । আমার সামনে কেউ যদি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করতো, তাহলে আমি তাকে কষে একটা চড় বসিয়ে দিতাম । আমি এমন জোরে চড় বসাতাম যাতে করে ২৬ মার্চ পর্যন্ত তার গালে আমার আঙুলের দাগগুলো জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকে ।

হায় , ইন্টারনেটে চড় কষবার কৌশল এখনও আবিষ্কার হয় নি ।
ধিক , প্রযুক্তির এই সীমাবদ্ধতাকে ধিক !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28779376 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28779376 2008-03-15 16:33:03
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নামের ফাজলামো নাকি আমাদের মহান শহীদ দিবস ?
সেই ২১ ফেব্রুয়ারিকে ছিনতাই করলেন আমাদের " ভাষাকন্যা (!) " শেখ হাসিনা । সেটাকে বানিয়ে ফেললেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । উহু , উনি বানান নি , বানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো অথবা জাতিসংঘ , কিন্তু সে সময় চামচা মিডিয়াদের শোরগোল শুনে মনে হচ্ছিল শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে বুঝি মাথা নত করেছে পৃথিবীর সবগুলো দেশ ।

পৃথিবীতে এই সব দিবস টিবসের কোন লেখাজোখা নেই । ( একবার গিয়াস ভাই ভোরের কাগজে একটা কার্টুন ছেপেছিলেন যেখানে এক লোক ক্যালেন্ডার খুঁজে দেখছে বছরের কোন দিন খালি আছে কি না , সেই দিনে সে একটি দিবসবিহীন দিবস বানাতে চায় । ) মাতৃ দিবস , মাতৃদুগ্ধ দিবস , এইডস দিবস , নারী দিবস , ডায়বেটিক দিবস ...হরেক রকম দিবসের ছড়াছড়ি ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তেমনই একটি দিবস মাত্র । তার সাথে একুশের চেতনার কোন সম্পর্ক নেই । মাতৃভাষা দিবস মানে হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে ছোট ছোট উপভাষাগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে , সেগুলো সংরক্ষনে সবাইকে সচেতন করা । আমাদের দেশেই বেশ কিছু পাহাড়ী ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে , এরকম হাজার হাজার ভাষা বিভিন্ন দেশে বিলুপ্তির মুখে চলে যাচ্ছে ।

ভাষার উদ্ভব , ভাষার বিকাশ , ভাষার বিলুপ্তি ..সব কিছুই সময়ের দাবী । যে ভাষা বাইরে ব্যবহার করা যায় না , সেই ভাষা ধীরে ধীরে তার শক্তি হারাবে এটাই স্বাভাবিক । সেই বিপন্ন ভাষাগুলোর জন্য মমতা প্রকাশ করা যায় , ভাষা বিজ্ঞানীরা সেগুলোকে নিয়ে গবেষনা আর সংরক্ষন করতে পারেন , কিন্তু সেগুলোর সাথে বাংলা ভাষা বা একুশের কোন সম্পর্ক নেই ।

স্মরণাতীত কাল থেকেই একুশ আমাদের মানে এই জনপদের বাঙালিদের দ্রোহ ও ক্ষোভের উৎস । একুশ মানেই পাড়ায় পাড়ায় ফুলচুরি , কাকভোরে প্রভাতফেরি , পাচঁ দশটাকা দামের সংকলন , পাড়ার মোড়ে মাইক ঝুলিয়ে অনুষ্ঠান ...পুরো বিষয়টির মাঝেই বাঙালির সংগ্রামের একটা প্রতিফলন ।

সেই একুশকে মুছে দেয়ার চেষ্টা চলেছে সেই পাকিস্তান আমল থেকেই । একুশকে মুছে ফেলা মানে আমাদের চেতনাকে স্থবির করে দেয়া , আমাদের লড়াইয়ের স্পৃহাকে মুছে ফেলা । পাকিস্তানের পরে এদেশের সবগুলো স্বৈরশাসকই একুশকে ভয় করে চলেছে , কিন্তু মুছে ফেলতে পারেনি ।

জেনেই হোক আর না জেনেই হোক , সেই কাজটি করে ফেলেছেন শেখ হাসিনা ।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনার জন্য একটা দিন খোঁজা হচ্ছিল , তখন দুই বাঙালি একুশে ফেব্রুয়ারির ভাবগাম্ভীর্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এধরনের একটা প্রস্তাব পেশ করেন ইউনিসেফে , যেটি নানা কাঠখড় পুড়িয়ে এবং বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনে উত্থাপিত হয় । স্বাভাবিক ভাবেই যেখানে একটা দিন হলেই হয় , সেখানে একুশে ফেব্রুয়ারি তার ইতিহাসের কারনেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় ।

কিন্তু বাংলাদেশের সাধারন মানুষ আর মূর্খ মিডিয়ার কর্মকান্ড দেখে মনে হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষনা করা মানে হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাসকে পৃথিবীর সব জাতি বুঝতে পেরেছে । এখন দুনিয়ার সব দেশে শহীদ মিনার বানিয়ে প্রভাত ফেরি হচ্ছে । কী অদ্ভুত মিডিয়া প্রচারনা ।

একুশ ফিরে আসুক তার চেতনা নিয়ে ।
একুশ ফিরে আসুক পথের মোড়ের সংকলনে, রাতের ফুল চুরিতে , ভোরের প্রভাত ফেরিতে ।

অসাধু রাজনীতিবিদদের নোংরা হাতের স্পর্শ এড়িয়ে , মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর রঙিন বিজ্ঞাপনের ছোবল বাচিঁয়ে , মূর্খ মিডিয়ার দুই কলাম হেডিং সরিয়ে ,

আমাদের মহান একুশ চির জাগ্রত থাক শহীদ দিবস হিসেবে ; আর আমাদেরকে শানিত করুক বারবার ..সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28772677 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28772677 2008-02-21 11:09:21
সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা..
তারুণ্যে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এই দেশ ঘুরে গিয়েছিলেন ৬৯ সনে।তারপর বোকা মহিলাটি আবার এদেশে ফিরে এসেছিলেন ৭২ সালে।রক্তাক্ত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের ফিজিওথেরাপি দিতে ।কেউ তাকে ডেকে আনেনি।তবু তিনি চলে এসেছিলেন।পাগলী আর ফিরে যাননি।

৭৯ সনে অনেক চেয়ে চিন্তে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিত্যক্ত গুদাম ঘরখানি পেলেন।ঝেড়েমুছে শুরু করলেন একটা ছোট,খুবই ছোট ফিজিওথেরাপির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।সি.আর.পি।

তারপর সেই বোকা মেয়েটি তার সীমিত সাধ্যে একখান সাইকেল চেপে ঘুরতে লাগলেন দুয়ারে দুয়ারে।মাথা নিচু করলেন,হাত পাতলেন,অপমানিত হলেন,গঞ্জনা সইলেন,হতাশ হলেন তবু হাল ছাড়লেন না।নিজের জন্য নয়,সেই বোকা মানুষটি সব করলেন আমাদের জন্য।মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ে থাকা কিশোরী,বাবার কাধে ভর করে চলা চলৎ শক্তিহীন তরুন,বাড়ি ফেরার পথে দূর্ঘটনায় পড়ে পঙ্গু হওয়া পরিবারের একমাত্র লোকটা...তাদের জন্য কেঁেদ ফিরতে লাগলেন ...।তারপর এখানে সেখানে ভাড়া বাড়ি খুজে খুজে হয়রান হলেন,তবু তার মানব সেবা শেষ হলো না।

এভাবেই একদিন মহীরুহ হলো তার সংগঠনটি।সি.আর.পি পরিনত হলো দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠানে যেখানে ঠাই হলো মেরুদন্ড ভাঙা অসহায় মানুষের,ক্রাচে ভর করে চলা,বুকে হেটে চলা,উবু হয়ে চলা,গড়িয়ে চলা অজস্র মানুষের।আমার দেশের মানুষের।

চলার পথে পিছু ফিরে একদিন সেই পাগলী দেখলেন পাগলী মেয়ে থেকে তিনি পাগলী প্রৌড়াতে রূপান্তরিত হয়েছেন,কিন্তু জীবনের পথে হয়নি সংসার...।

দুইটি মেয়েকে দত্তক নিলেন তিনি,পঙ্গুমেয়ে,পক্ষাঘাতগ্রস্ত মেয়ে।আর সবার মতোই তাদেরকে কাজ শেখালেন তিনি,তারপর চাকরি দিলেন সি.আর.পিতে।

এদেশে এন.জি.ও বলুন, কনসালটেন্সী ফার্ম বলুন আর যাই বলুন,সংগঠনের বড়ো কর্তার কিন্তু বেতনটা হয় ডলারে।টাকার অংকে সেই বেতন শুনে আমরা সাধারন মানুষ ভিমরি খাই।আমাদের কল্পনাতেও কোনদিন এতোটাকা ধরা দেয় না।

এই বিদেশীনি পাগলি কতো বেতন নেন জানেন?সাড়ে সাত হাজার ! না ডলার নয়,টাকা!! মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকায় চলে তার সংসার।বনানী গুলশানের যেকোন সাহেবের ড্রাইভারের বেতন থেকে দেড় হাজার টাকা কম!
সেই পাগলী মহিলার নাম ভেলরি এ.টেইলর।

অন্যছবি:

আমাদের এক সাবেক সচিব নামের আমলা আছেন।তিনি তার অভিজ্ঞতা দেবার নাম করে ঢুকে গেলেন সি.আর.পিতে।বিদেশী দাতাদের সাথে তার আলাদা খাতির।হবেই না বা কেন,তিনি আমলা ছিলেন বটে।সেই দাতাদের কাছে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি বিছিয়ে দিলেন তিনি।সি.আর.পিকে তিনি এবার নাকি গুছিয়ে দেবেন। শুধুই সমাজ সেবা,আর কিছু নয়।তাই তিনি নাম কা ওয়াস্তে একটা বেতন নিবেন সাব্যস্ত করলেন।কতো জানেন? মাসে আড়াই লক্ষটাকা!!

প্রতিবাদ করলেন ভেলরি।
মানব সেবার সংগঠনে যদি একজনই আড়াইলক্ষ টাকা বেতন নেন,তাহলে প্রতিষ্ঠান চলবে কেমনে?(আর এখানেই কি তিনি ভুলটা করলেন।)

টাকা রোজগারের ব্যবস্থাও করে ফেললেন মান্যবর আমলা।রোগীরা টাকা দেবে।যে সংগঠনটি ২৫ বছর ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে,সেই সংগঠনে এখন উচ্চ মূল্যে চিকিৎসা বিক্রী হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে,এপোলো আর বামরুনগ্রাদের শাখা খুলে দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছে সবাই,আমলা সাহেব করলে দোষ?
দেশের পক্ষাঘাতগ্রস্থ গরীব মানুষের শেষ আশ্রয় স্থল,এশিয়ার সাড়া জাগানো একটি প্রতিষ্ঠান ক্রমেই পরিনত হচ্ছে বড়োলোকের ক্লিনিকে।


সবকিছু বদলাচ্ছে,দ্রুত বদলাচ্ছে:

ঘটনা ঘঠছে খুব দ্রুত।
ইতিমধ্যেই সমন্বয়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ভেলরিকে।তিনি এখন আয়ব্যয়ের হিসাব দেখতে পারবেন না।
এক অকস্মাত চিঠি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের চেকবুক থেকে স্বাক্ষরের ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে ভেলরির।
ইয়ার বুকে রাজ্যের যতো হোমড়া চোমড়া আর আমলাদের বাণী ছাপা হয়েছে,ছবি ছাপা হয়েছে,কিন্তু ভেলরির নামগন্ধও নেই সেখানে।
একের পর এক দ্রুত বিভিন্ন সেকশনে বদলি করে হয়রানি করা হচ্ছে ভেলরির পালিতা পক্ষাঘাতগ্রস্থ অসহায় মেয়েটিকে।ভেলরিকে করা হয়েছে কর্মহীন, ক্ষমতা হীন।নিজের প্রতিষ্ঠানে আজ তিনি নিজেই শোপিস।

তিনি নাকি দূর্ণীতি করেছেন? কিন্তু তন্ন তন্ন করেও একটা দূর্ণীতির প্রমান বের করতে পারছেন না আমলা মহাশয়।

তিনি নাকি ম্যনেজমেন্ট বুঝেন না। পরিত্যক্ত গুদাম থেকে ৪০০ বেডের হাসপাতাল একাই গড়ে তুললেন যে নারী,তাকে এখন শিখতে হবে ম্যানেজমেন্ট?
হাহ্!

এই আমলা মহোদয়ের নামের আগে আমি শুওরের বাচ্চা শব্দটি যোগ করে শুওরের অপমান করতে চাই না।
আমি শুধু তার নামটি বলে দিতে চাই।তার নাম শফি সামি।


আমরা যারা দুই পয়সার মানুষ:

জনাব শফি সামি,জানি না এই লেখাটি আপনার চোখে পড়বে কি না।তবু আমি আপনাকেই বলছি।

আমি খুব সাধারন একজন মানুষ,খুবই সাধারন।আমার সাধ্যের বড়ো অভাব।তবু আমি আমার সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে আপনাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করব।আমার জীবদ্দশায় এতোবড়ো একটা অন্যায় আমি মুখ বুজে মেনে নেব না।

আমি আপাতত:পাগলের মতো ইমেইল করে যাবো সবগুলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে।আমি তাদেরকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব,এতো বড়ো একটা অন্যায়ের প্রতিকারে তারা যেন এগিয়ে আসেন। এই কলংকে বোঝা যেন আমাদের ঘাড়ে না চাপে।

আমি এই মূহুর্তে ইমেইল করব সেনা প্রধানের কাছে,ইমেইল করব তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের কাছে,ইমেইল করব বৃটিশ আর আমেরিকান রাষ্ট্রদূতদের কাছে,ইমেইল করব এমনেস্টির কাছে,টি.আই.বির কাছে,ইমেইল করব সি.আর.পির যে অগনিত দাতা আছেন দেশের বাইরে সেই সব দাতাদের সংগঠন গুলোর কাছে।বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মূল দাতা প্রতিষ্ঠান আর জার্মানির দাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে।ইংল্যান্ড আর জার্মানির এই দুইটি প্রতিষ্ঠানকে আমি ফোন করেও অনুরোধ করবো,সত্য জিনিষটা বুঝতে।

আমি এই আবেদন ছড়িয়ে দেব আমার বন্ধুদের মাঝে,তারা ছড়িয়ে দেবে তাদের গ্র“প মেইলে।এভাবেই চলতে থাকবে।এক থেকে দুই,শত থেকে সহস্র,লক্ষ থেকে নিযুত ই-মেইল,ফ্যাক্স আর ফোনে আমি কাউকে শান্ত থাকতে দেব না।
অগনিত মানুষ ফোন করবে লন্ডনের আর জার্মানির সেই প্রতিষ্ঠান দুটিতে।ভেলরি আমাদেরকে দিয়েছেন তার জীবনের ৩৬টা বছর।এখন আমাদের দেবার পালা।দিনে আমি কমপক্ষে ৩৬ মিনিট সময় দেব এই কাজে..সেটাই একসময় বিশাল হয়ে উঠবে।

আমি হয়তো আরো অনেক কিছুই করব,অথবা করতে ব্যর্থ হবো।
তবু সফি সামি আপনি জেনে নিন,আমার মতো দুই পয়সার মানুষের হয়তো একা কিছু করার ক্ষমতা নেই,কিন্তু দুই পয়সা দুই পয়সা যূথবদ্ধ হয়েই আমি থেকে আমরা হবো,আর আপনার আড়াই লক্ষটাকার ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবো।আপনি সেটা দেখে যাবেন ইনশাআল্লাহ!


(কেউ যদি এই প্রচেষ্ঠায় শরিক হতে চান,তাহলে সি.আর.পির সবথেকে বড়ো দুইটি দাতা প্রতিষ্ঠানের নামঠিকানা নিচে দিলাম।বাকি মেইল ঠিকানাগুলোও আমি জানিয়ে দেব।)

ইংল্যান্ডে :


Gillian Phillips, FCRP Administrator,
Tel. no. 0118 940 1294

জার্মানিতে:
Elke Sandmann
Präsidentin
Freundeskreis des CRP, Bangladesch
E-Mail:
Tel: 089/6709060]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28712437 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28712437 2007-05-25 02:14:35
পিচঢালা রাজপথ নিশিডাক দেয়,যুদ্ধে যাবার তবে শ্রেষ্ঠ সময় আরেকবার?(তাসনিম খলিলের জন্য।)
আবার রাজপথ আমাকে ডাক দিয়ে যায়,আমার কোন গত্যন্তর নেই।

আমাদের নামতে হবে রাজপথে,খালেদা বা হাসিনার জন্য নয়;নামতে হবে একজন আহমেদ নূর আর একজন তাসনিম খলিলের জন্য।কাফকার সেই বিষন্ন শহর এখন আমাদের জনপদ।

মাঝরাতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে সন্তানের কোল ঘেষে শুয়ে থাকা পিতা,পড়ায় মগ্ন অবোধ তরুন ভাই,দরজায় সেই একই বুটের লাথি ;৭১ থেকে ৮২,৮২ থেকে ৯০,আর এখন এই দুইহাজার সাতে।আমাকে ঘর ছেড়ে বের হতে হবে কারন ঘর আর আমার জন্য নিরাপদ নয়,আমার জন্য নিরাপদ নয় প্রেমিকার হাত,কপাট বদ্ধ শান্তি,ঘরের নিরাপত্তা অর্জন করতে আমাকে আবার রাজপথেই তবে ফিরে যেতে হয়।

আবার সেই প্রখর রোদের রাজপথ,ঘামে ভেজা শরীর,পায়ে সেই জীর্ণ ক্যাডস,দুম করে ফুটে যাওয়া ককটেলের বারুদ গন্ধ,ঝাঝালো টিয়ার গ্যাসে দম আটকে আসা,আবার সহযোদ্ধার শিওরে বসে কাটিয়ে দেয়া একেকটা হাসপাতাল রজনি,আবার সেই গুনতি-চালান-আমদানির লালদালান,আবার বিকেল ৪টার সেল বন্ধ নি:সঙ্গতা,আবার টিফিন ক্যারিয়ার ভরা আলুভাজি-পটলভাজি ,অথবা সন্ধ্যারাতে মাফলারে মুখ ঢেকে চকিত পথচলা।

আমাদের পুনরায় লড়তে হবে ,একজন আহমেদ নূর,একজন তাসনিম খলিল একজন আরিফ জেবতিক এবং এরকম শতো শতো মানুষের জন্য।

আমি জানি আবার আমরা বিজয়ী হবো কোন এক ফাল্গুন বিকেলে,আবার জনতার হাতে আসবে বিজয়ের নিশান,আবার সেই নিশান লুট করে নিয়ে যাবে মুজিব আর জিয়ার পরিবার,আবার নিজামীর গাড়িতে পতাকা,ফালুর দাত বের করা হাসি...


তবু,আমার গত্যন্তর নেই।নিজের জন্য লড়াই আমাকে করে যেতেই হবে।
খুব শিগগীর আবার ডাক উঠবে।আর সেই ডাক শুনে আমি আবার রাজপথে ফিরে যাবো।আমার প্রস্তুতি নেয়া শেষ।

ভবিতব্য যদি তাই হয়,হোক।
পূর্বপুরুষের রক্ত যদি বয়ে যায় হৃদপিন্ড জুড়ে,কসম দিয়ে বলে যাচ্ছি,আমরা তবে লড়িয়ে জাতি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28710135 http://www.somewhereinblog.net/blog/Arif-Jebtikblog/28710135 2007-05-11 16:19:29