শিবিরে যোগ দেয়া নিয়ে প্রথমে কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলেও আস্তে আস্তে কখন যে পুরোপুরি তাদের একজন হয়ে গেলাম বুঝতে পারিনি। বাসা থেকে সম্ভবতঃ বিষয়টা বুঝতে পারি নি। কেননা, বাবার প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে অনেক দিন পর।
এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে গেলাম, ক্লাস নাইনে উঠলাম সব সেকশনে ফার্স্ট হয়ে। জেলা স্কুলের ফার্স্টবয়, সকলেই বেশ সমীহ করতো।
শিবির করার ফলে বেশ কিছু পরিবর্তন আসলো জীবনে। অনেক গোছালো হয়ে গেলাম। প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট রাখতে হতো। কত ঘন্টা পড়াশোনা করেছি, নামাজ কত ওয়াক্ত জামাতে পড়ছি, ব্যয়াম করেছি কিনা, রাতে ঘুমাবার আগে আত্মসমালোচনা করেছি কিনা, কোরান-হাদীস কতটুকু পড়েছি, অন্যান্য বই কতটুকু পড়েছি - এসব রিপোর্ট প্রতিদিন রাখতে হতো এবং তা কর্মী বৈঠকে আলোচনা হতো। আমাদের যিনি প্রধান ছিলেন, তাকে দায়িত্বশীল বলা হতো। সেই ভাইটি আমাকে পড়াশোনার ব্যাপারে খুবই উৎসাহ দিতেন।
শিবিরের আরেকটি সিস্টেম আমার জীবনে খুব ভালো প্রভাব ফেলেছিল। প্রতি মাসের শুরুতে পুরো মাসের একটা প্লান করতে হতো। এই অভ্যাসটা এখনও আছে। অফিসে তার অনেক সুফল পাচ্ছি।
শিবিরের সাথে যুক্ত হবার ফলে কিছুদিনের মধ্যেই খুব ভালো বক্তাও হয়ে উঠলাম।
তবে শিবির যে আরও কত প্রভাব আমার উপরে ফেলেছিল, তা বুঝেছি আরও কিছুদিন পর। বাবা প্রায়ই এসে বলতেন, তার পরিচিতজনেরা তার কাছে আমার খুব প্রশংসা করেছেন। এক্ষেত্রে আমার শিক্ষকগণ বেশ ভূমিকা রেখেছিলেন। মোটকথা অল্পদিনের মধ্যে ছোট জেলা শহরটিতে আমার খুব সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। শিবির অবশ্য তার সদ্ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন ঘরোয়া ছাত্র সমাবেশে আমাকে বক্তৃতা করতে হতো। আমাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্কুলগুলো প্রথম সারির ছাত্রদের একটি বিরাট অংশ শিবিরে যোগ দিয়েছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



