একজন সাবেক শিবিরের আত্মকাহিনী - ১২ (সুগন্ধি নোট - ২)

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

কেবল ইন্টারমিডিয়েটে ওঠা মফঃস্বলের একটা ছেলে, মেয়েদের দিকে যে চোখ তুলে পর্যন্ত চায় না, তাকে সেন্ট মাখানো নোট দিলো শহরের সব থেকে আলোচিত মেয়েটি। স্বাভাবিকভাবেই আমার মনে তখন তোলপাড়। বিষয়টি আমি কারো সাথে শেয়ারও করতে পারছি না। খুব অস্থির লেগেছে, তবে ভালোও লেগেছে।

বিষয়টাকে আমি হজম করে ফেলেছিলাম। কয়েকদিনের মধ্যে তার সাথে সম্পর্কটা সহজ হয়ে গেলো। এর একটা কারণ ছিল। আমি এক স্যারের কাছে ব্যাচে অংক পড়তাম। সেও আমাদের ব্যাচে যোগ দিলো। কলেজে ছাড়াও সেখানে দেখা হতো, কথা হতো। তার দিকে না তাকিয়ে মাথা নীচু করে থাকাটা আর সম্ভব হলো না। আমাদের মধ্যে এর বেশী কিছু ছিল না।

তবে তার সেই সুগন্ধি নোট, মাঝে মাঝে দেখা - এসব আমার জীবনে নতুন আবেশ এনে দিলো। যা দেখি, যা শুনি সবকিছুই ভালো লাগে। এতোদিনের পুরোনো চেনা পৃথিবী হঠাৎ করেই নতুন, রঙ্গীন ও স্বপ্নময় হয়ে উঠলো। আমার জানালার সামনে একটা তরুন দেবদারু গাছ ছিল, বাতাশে তার হলদে পাতা ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে এসে পড়তো, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। বাতাবী লেবুর ফুল ফুটতো সম্ভবতঃ বসন্তের শেষ দিকে। তার তীব্র মিষ্টি গন্ধে চারিদিক যেন মাতাল করে তুলতো। আমাদের বাসার দক্ষিণ দিকটাতে বেশ খানিকটা খোলা যায়গা ছিল। বাড়ীন সীমানা দিয়ে নারকেল গাছ লাগানো ছিল। চাদের আলো নারকেলের পাতার উপর পড়ে ঝিকমিক করতো, আমার মনে হতো, আমি যেন কোন রূপকথার রাজ্যে চলে গেছি।

আমাদের মধ্যে কিছু না থাকলেও বন্ধুদের মধ্যে বিষয়টি আরও রঙ্গিন হয়ে ছড়িয়ে গেলো। জানি না কিভাবে। শিবিরের ভায়েরা অবশ্য এনিয়ে কিছু বলেনি। তবে বিপদে পড়লাম অন্য যায়গায়।

আমাদের এক বন্ধু ছিল ওহীদ, ছাত্র মৈত্রীর নেতা। তার পুরো বংশ ছিল আন্ডারগ্রাউন্ডের সাথে জড়িত। মেয়েটাকে সে উত্যক্ত করা শুরু করলো। আমাকে সে কিছু বলেনি। কিন্তু, বন্ধুদের কয়েকজনের মাধ্যমে হুমকী দিয়েছে।

ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটলো। ওহীদ দলবল নিয়ে মেয়েটাকে তার বাসা থেকে তুলে আনতে গিয়েছিল।

চলবে ..

[লেখার একটা নেশা পেয়ে বসেছে। নিজের কথা লিখতে কার না ভালো লাগে। বিশেষ করে তা যদি পড়ন্ত বয়সে হয়। আমার একজন সহকর্মী ছিলেন। সরকারের একজন সাবেক অর্থসচিব। রিটায়ার করে আমাদের সাথে কাজ করতেন। তিনি বলতেন, বয়স যে বাড়ঝে তা বোঝার দুটো উপায় - বলার কথা থাকবে প্রচুর, শোনার লোক থাকবে কম এবং ড্রেসিং টেবিলে সাজ সজ্জার জিনিসের থেকে ওষুধের ডিব্বা বেড়ে যাবে। শতাধিক ব্লগার আমার কাহিনী পড়ছেন, অনেকে আবার সময় করে মন্তব্যও করছেন। তাতে আমার লেখার আগ্রহটা বেড়ে যাচ্ছে।]

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): শিবির ;

 

  • ১২ টি মন্তব্য
  • ১৯১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ৮ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩
comment by: জাহান৮২ বলেছেন: লিখে যান...
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২
comment by: আহসান মোহাম্মদ ক বলেছেন: খুব সুন্দর বর্ণনা। ভালো লাগছে।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: কি যে বলেন, মনের আবেগে লিখেছি। ধন্যবাদ।

৩. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৫
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: আপনার এই লেখাটি বেশ আগ্রহোদ্দীপক ।
শিবিরের অন্ধকার দিকগুলোকে আড়াল করে এরকম স্মৃতিকথা লিখতে পারা অবশ্যই মুন্সিয়ানার পরিচয় ।

পুরোটা শেষ হোক , তারপর ফাইনাল মন্তব্য করা যাবে ।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৫
comment by: না বলা কথা বলেছেন: এতোদিনের পুরোনো চেনা পৃথিবী হঠাৎ করেই নতুন, রঙ্গীন ও স্বপ্নময় হয়ে উঠলো। আমার জানালার সামনে একটা তরুন দেবদারু গাছ ছিল, বাতাশে তার হলদে পাতা ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে এসে পড়তো, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। বাতাবী লেবুর ফুল ফুটতো সম্ভবতঃ বসন্তের শেষ দিকে। তার তীব্র মিষ্টি গন্ধে চারিদিক যেন মাতাল করে তুলতো। আমাদের বাসার দক্ষিণ দিকটাতে বেশ খানিকটা খোলা যায়গা ছিল। বাড়ীন সীমানা দিয়ে নারকেল গাছ লাগানো ছিল। চাদের আলো নারকেলের পাতার উপর পড়ে ঝিকমিক করতো, আমার মনে হতো, আমি যেন কোন রূপকথার রাজ্যে চলে গেছি। -
এইবার ঠিক আছে।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৩
comment by: বর্ণ. বলেছেন: চলুক। সবাই পড়ছে।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৪
comment by: কলাবাগান বলেছেন: আরিফ জেবতিক বলেছেন: "আপনার এই লেখাটি বেশ আগ্রহোদ্দীপক ।
শিবিরের অন্ধকার দিকগুলোকে আড়াল করে এরকম স্মৃতিকথা লিখতে পারা অবশ্যই মুন্সিয়ানার পরিচয়।

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!!!!

শিবিরের অন্ধকার দিকগুলোর কথা বলেন।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৫

লেখক বলেছেন: ঘটনাগুলো ঘটার সময়ানুসারে লিখছি। এ জাতীয় ঘটনা যে সময় ঘটেছে, বলতে বলতে সে সময় আসলে জানাবো।

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৪৪৫০