চাঁদপুরে ৩টি পুকুরে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ সফল হয়েছে। খুব শিগগিরই ব্যক্তি পর্যায়ে পুকুরে ইলিশ চাষ শুরুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান। গত মে মাসের শেষদিকে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের ৩টি পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশ চাষ শুরু করে। তিন মাস শেষে পুকুরে চাষকৃত ইলিশ নিয়ে সম্ভাবনার কথা জানালেন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পুকুরে ইলিশ চাষ সফল হয়েছে। তিন মাস আগে পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে যেসব ইলিশের পোনা ছাড়া হয়েছিল তার সবগুলো পোনা জীবিত অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত পুকুরে ছাড়া ইলিশের কোনো পোনার মৃত্যু হয়নি বা মৃত অবস্থায় ভেসে উঠেনি। চলতি মাসের শেষদিকে পুকুরে চাষকৃত ইলিশ পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝা যাবে এক্ষেত্রে কতটুকু সফলতা পাওয়া যাবে।
গত ১ জুন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাস চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশ চাষ পরিদর্শন করেন।
ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, যে ৩টি পুকুরে ইলিশ ছাড়া হয়েছে সেগুলোতে পানির গুণাগুণ ভাল এবং ঠিকমতো খাবার দেয়া হচ্ছে। এসব পোনা ধীরে ধীরে আকৃতিতে কিছুটা বড় হয়েছে। এই ৩টি পুকুরে মোট ২ হাজার ইলিশ পোনা ছাড়া হয়েছে।
এর আগে ইনস্টিটিউটের ২টি পুকুরে ১৯৮৮ সালের মার্চ থেকে ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১২ মাসব্যাপী পুকুরে ইলিশ মাছের চাষ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা/পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে আনিছুর রহমান জানান, ইলিশ পোনা ছাড়ার সময় এদের গড় দৈর্ঘ্য ও ওজন ছিল যথাক্রমে ৫.৩১ সে.মি ও ১.২৫ গ্রাম। ১২ মাস লালন-পালনের পর ১নং পুকুরে সর্বোচ্চ গড় দৈর্ঘ্য হয়েছিল ২২.৫৬ সে.মি. এবং সর্বোচ্চ গড় ওজন হয়েছিল ১১৯.২৮ গ্রাম এবং ২নং পুকুরে সর্বোচ্চ গড় দৈর্ঘ্য ও ওজন হয়েছিল যথাক্রমে ২৮.৯১ সে.মি. ও ২৬৭.৩৩ গ্রাম।
দুটি পুকুরে ইলিশের মাসিক গড় বৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১.৪৪ সে.মি. ও ১.৯৭ সে.মি. এবং মাসিক গড় ওজন বৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৯.৮৩ গ্রাম ও ২২.১৭ গ্রাম। পুকুরে কোন সম্পূরক খাবার প্রয়োগ করা হয়নি শুধুমাত্র প্রতি মাসে ১নং পুকুরে গোবর ও ২নং পুকুরে টিএসপি সার পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়েছিল। টিএসপি প্রয়োগকৃত ২নং পুকুরের ইলিশের বৃদ্ধির ফলাফল ছিল ১নং পুকুরের চেয়ে সন্তোষজনক। পুকুরে ইলিশের বাঁচার হার ছিল প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ।
ইলিশ মাছ নদী, মোহনা ও সাগরে যে গুণাগুণ সম্পন্ন পানিতে বসবাসে অভ্যস্ত, অনুরূপ গুণাগুণ পুকুরে না থাকায় ও সঠিক খাবারের অভাবে নদীর তুলনায় পুকুরে ইলিশের বৃদ্ধি ২৪% কম হয়েছে। তবে পুকুরে ইলিশের খাবার ও ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণ নদী মোহনার পানির কাছাকাছি বজায় রেখে ইলিশ মাছ চাষ করলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। এজন্যে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। (শীর্ষ নিউজ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



