somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্যতম ইকোনোমিক জোন হতে পারে যশোর _স্থানীয় চাহিদার দ্বিগুণ উৎপাদন হয় খাদ্য

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবজি, ফুল, ধান ও মাছখ্যাত যশোর হতে পারে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক জোন। চাষের সঙ্গে জড়িতরা আধুনিক জ্ঞান, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ঋণ সহায়তা ও পরিকল্পিত বাজারজাতের সুযোগ পেলে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল করতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে যশোরকে একটি ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন।

যশোরের ২৪ লাখ জনগোষ্ঠীর ১০ লাখ সরাসরি কৃষি ও কৃষি পণ্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বেসরকারি হিসাবে এখানকার চাষিরা বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার খাদ্য শস্য ও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন করে। কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী জেলায় আবাদযোগ্য প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমি থেকে বছরে খাদ্য উৎপাদন হয় ৯ লাখ ৮৮ হাজার টন। শাক-সবজি চাষের জমির পরিমাণ ২৫ হাজার হেক্টর। শাক-সবজি উৎপাদিত হয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টন। এখানকার খাদ্য চাহিদা ৪ লাখ ৫৭ হাজার টন। বাকি খাদ্য থাকে উদ্বৃত্ত। একইভাবে মাছ চাষে দেশের ৭০ ভাগ রেণু উৎপাদিত হয় এ জেলায়। জেলা মৎসচাষি সমিতির হিসাবে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার পোনা লেনদেন হয়। এছাড়াও প্রায় ২০০ কোটি টাকার হিমায়িত মাছ বিদেশে রপ্তানি হয়। মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, জেলায় মাছের চাহিদা ৩৭ হাজার টন। উৎপাদিত হয় ৫৩ হাজার টন।

বর্তমানে চাষের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত ফুল। দেশে উৎপাদিত ফুলের ৮০ শতাংশ উৎপাদিত হয় এ জেলায়। ফুল চাষি সমিতির হিসাবে বছরে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে; কিন্তু এখনো পর্যন্ত ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি।

এক সময় যশোর পরিচিতি পেতো শিল্প শহর হিসাবে। '৮০'র দশকেও বইপত্রে পড়ানো হতো 'যশোর হাড়ের তৈরি চিরুনির জন্য বিখ্যাত'; কিন্তু এ অঞ্চলের অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবস্থা বেহাল। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে কতগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারি কোন সংস্থার কাছে নেই। তবে বিসিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলায় ১২ হাজার ২৮৯টি শিল্প কারখানা রয়েছে। ভারী শিল্প রয়েছে ৮টি। এরমধ্যে ৩টি রাষ্ট্রীয়। মাঝারি শিল্প কারখানা ৩০টি। তবে এই শিল্প কারখানাগুলোতে সবচেয়ে দুরবস্থা বিরাজ করছে। বিসিকের হিসাবে '৬০ ও '৮০'র দশকে গড়ে ওঠা ৩০টি সিমেন্ট ও টেক্সটাইল কারখানা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। '৯০'র দশকে স্থাপিত ১২টি সিমেন্ট কারখানার ১১টিই ক্লিংকার সংকটে এখন বন্ধ। জেলায় প্রায় ৫০০ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২৫টিতে সব ধরনের বাসের বডি তৈরি হয়। বাকিগুলোতে ধানকল, মিকচার মেশিন, খোয়াভাঙ্গা মেশিন ও কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে।

অতীতেও যশোরের ছিল অর্থনৈতিক খ্যাতি। সতীশ চন্দ্র মিত্রের যশোর-খুলনার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৮৯ সালে জেলায় প্রায় ২৪ হাজার মণ তুলা উৎপাদিত হত। ১৭৯১ সালে এখান থেকে ৯ লাখ মণ চাল রপ্তানি হত। ১৮৫০ সালে ১৭ হাজার মণ নীল উৎপাদিত হয়েছিল। ১৯০০ সালে ভারত বর্ষে ২১ লাখ মণ চিনি উৎপাদিত হয়েছিল। এরমধ্যে যশোরের কারখানাগুলো থেকে উৎপাদিত হয়েছিল ১৭ লাখ মণ।
(হাবিবুর রহমান রিপন)
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×