একবিংশ শতকের শুরুতে মাত্র দুই বছরের ব্যাবধানে পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে- আফগানিস্তান এ আমেরিকা এবং ইরাকের নিরীহ জনগনের উপর আমেরিকা-বৃটেনের সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসের ঘৃন্যতম আগ্রাসন। এর মাধ্যমে ইতিহাসের এ পর্যায়ের সবচেয়ে ঘৃন্যতম অপরাধের গৌরব অর্জন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সেই পুরোনো লুন্ঠনকারী বৃটেন। আমেরিকার এই আগ্রাসী ভুমিকার জন্য প্রধানত দায়ী তার নিরাপত্তাহীনতা। মার্কিনীদের নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান শর্ত পারমানু জ্বালানী সহ এশিয়ার বিপুল পরিমান তেল ও গ্যাসের নিয়ন্ত্রন। তেল-গ্যাসের নিশ্চয়তা ছাড়া আমেরিকার পক্ষে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যুদ্ধের হুমকি ঠেকানো সম্ভব নয়। সম্ভব নয় ক্রমবর্ধমান শিল্প উৎপাদন, বাজার নিয়ন্ত্রন এবং অর্থনৈতিক আধিপত্য টিকিয়ে রাখা। দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর তেল-গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে; এসব দেশের শ্রমমুল্য কম হওয়ায় তাদের উৎপাদিত পণ্য ইউরোপ আমেরিকার বাজারে কম মুল্যে বিক্রি হচ্ছে ফলে আমেরিকাসহ উন্নত দেশ নিজেদের উৎপাদিত পন্যের বাজার হারাচ্ছে। আর সবোর্চ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আমেরিকার ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয় অর্থনৈতিক এবং সামরিক, কারণ আমেরিকার সামরিক সক্ষমতার সামনে চীন একমাত্র দেশ যাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এবং সামরিক শক্তি পরিকল্পিত পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাদের গায়ে সমাজতন্ত্রের গন্ধ রয়েছে। ইদানিং বলা হচ্ছে, আমেরিকান ডলারের বাজারে ধ্বস নামিয়ে মার্কিন অর্থনীতিকে বিপাকে ফেলে দিতে পারে চীনের বিপুল ডলারের রিজার্ভ। সঙ্গত কারনেই আমেরিকার সামনে সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি চীন। এ অবস্থায় আমেরিকার অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার একমাত্র উপায় এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ সম্পদের- তেল-গ্যাস এবং পারমানবিক জ্বালানীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন। আমেরিকা চায় মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার তেল গ্যাস সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রন, তাহলে চীন এবং অন্যান্য বিরোধী শক্তি তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানী তেলের প্রয়োজনে আমেরিকার উপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হবে। তাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানীর নিরাপত্তার জন্যও জ্বালানীবাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রন দরকার এবং এ কৌশলই আমেরিকার সামরিক ও অর্থনৈতিক কতৃত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ উপায়। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে আমেরিকার যুদ্ধ নির্ভর অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। আমেরিকার বিরোধী রাষ্ট্রসমুহ জ্বালানী ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পুর্ণ হলে তাদের দিক থেকে হুমকি বাড়বে। অসম্ভব হয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপি সামরিক ঘাঁটির কার্যকারীতা রক্ষা করা ফলে আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষুন্ন হবে, দেখা দেবে নিরাপত্তার সংকট। এ ভবিষ্যত চিন্তাই আমেরিকার আগ্রাসী ভুমিকার জন্য দায়ী। বিশ্ব অর্থনীতিতে সাম্প্রতিককালে সৃষ্ট হওয়া প্রতিকুল পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য সহ সারা বিশ্বে আমেরিকান দখলদারীত্ব, জুলুম নির্যাতনের কারণে বিশ্বব্যাপি মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভরে কারনে আমেরিকা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আফগানিস্তান এ তালেবান দোহাই, গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে ইরাক আক্রমনের পর ইরানের পারমানবিক কর্মসুচির ন্যায্য দাবীর বিপক্ষে অব্যাহত হুমকি সবই আমেরিকার ভীতু এবং আগ্রাসী নীতির বহিঃপ্রকাশ। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বমানবতার সামনে সবচেয়ে বড় হুমকি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসী খেতাব দিয়ে সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কায় ভীত না হয়ে পারছে না খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অন্যান্য দেশগুলোও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাসের ঘৃন্যতম আগ্রাসন। অস্তিত্বের সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ন জনগনের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে হত্যা-নির্যাতন-দখলদারীত্ব। পরিকল্পনা করছে ইরানে পারমানবিক বোমা হামলার, কুটনৈতিক সমাধানের নামে কুটচাল; শুরু হয়েছে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ, প্রপাগান্ডা যুদ্ধের নামে তথ্যবিভ্রম। কিছুদিন আগে চীনের সাথে রাশিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া, ইরান ইস্যুতে আর্ন্তজাতিক স¤প্রদায়ের বিভাজন, নতুন করে যেন স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ যুদ্ধ দিনে দিনে বাড়িয়ে তুলছে পারমানবিক যুদ্ধের ঝুকি। আমেরিকা সেই ক্ষেপাটে রাষ্ট্র, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সর্বপ্রথম যারা হিরোসিমা নাগাসাকীতে আনবিক বোমা হামলা চালিয়েছিল। দিনে দিনে পৃথিবী নামক গ্রহে মানব প্রজাতীর টিকে থাকা মারাত্বক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
(অনেক দিন আগে লেখা। প্রায় ১ বছর। প্রায় ৪০০০ শব্দের। আশা করছি সবটা প্রকাশ করবো ধাপে ধাপে।)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৫৮