somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আহা!!! চরিত্র সহজে বদলায় না... সোনার বাংলাদেশ ব্লগ নামক একটা সাইট। নিজের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে তাড়াতাড়ি রেজিঃ টা করলাম। ভাগ্যিস, কেউই আমার নিকটি সেখানে বুকিং করেনি...। আজ একটু সময় সেই ব্লগে ব্যয় করে দেখতে পেলাম একজন আরেকজনের নামে নিক খুলে বাদশাহ্। শুধু এতেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রোফাইল পিক সহ প্রোফাইল বৃত্তান্তও হুবহু কপি করা। আর এই ফাঁকে চলছে ধুমসে গালাগালি। এতোদিন দোষ ছিলো শুধু আমার ব্লগের, এখন সোনার বাংলা দেখলে বুঝা যাবে যে, সোনার বাংলা সোনা হতে বেশী সময় লাগবে না। যে যেভাবে পারে ল্যাদানি শুরু করছে...। ছাগু বিরোধী পোস্ট যতগুলি দেখলাম মাইনাসের পরিমাণ বেশী!!! এই হলো সোনার বাংলাদেশ ব্লগ-এর সোনার মন্তব্য...



এখানে ক্লিক করুন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29214594 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29214594 2010-08-04 00:11:34
যেইসব কুকুরেরা শেয়ালের বেশে ঘন জঙ্গলে সবুজ পাতার আড়ালেও কুকুর-
জাতিসংঘে কুকুর, ইউনেস্কোতে কুকুর
বিশ্ব ব্যাংকে কুকুর, সার্কে কুকুর
পার্লামেন্টে কুকুর, সচিবালয়ে কুকুর
জেলা অফিসে কুকুর, উপজেলা অফিসে কুকুর
থানায় কুকুর, ইউনিয়ন পরিষদে কুকুর, ভূমি অফিসে কুকুর
স্থানীয় ব্যাংকে কুকুর, বাসস্ট্যান্ডে কুকুর
মন্দিরে, মসজিদে, গীর্জায়, প্যাগোডায় কুকুর
কোথায় নেই কুকুরেরা? অর্থাৎ-
চারপাশে শুধু বাহারি রঙের
হরেক কুকুর আর কুকুর।
যেন এক কুকুর সাম্রাজ্য-
নির্বিঘ্নে প্রবল বেগে সবখানে চলে কুকুরেরা
আর প্রচণ্ড প্রতাপে করে যায় শাসন;
কুকুরের চিৎকারে আজ অতিষ্ট মানুষ।
দিন চলে যায়, ঋতু চলে যায়, বছর চলে যায়
কিন্তু বর্ণিল রঙের কুকুরেরা রয়ে যায় সবখানে।
তারা জন্ম দেয় কুকুরছানা
হিংস্রতায় বড় করে তোলে কুকুরছানা।
তাদের মৃত্যুতেও অপূর্ণ থাকে না তাদের স্থান,
দৌড়ে এসে প্রতিস্থাপিত হয় অন্য কুকুরেরা।
তারা মাঝে মাঝে সাময়িক সময়ের জন্য স্থানচ্যুত হয়ে যায়
তবুও তারা রয়ে যায় অপরিবর্তিত।
তারা লোম পাল্টায়, শেয়ালের বেশ ধারণ করে
কিন্তু তাদের-ই অজান্তে তারা কুকুর-ই থেকে যায়,
আর যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে
শেয়ালের বেশে, শেয়ালের বেশে...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29213886 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29213886 2010-08-03 00:08:42
সমাবেশ সমাবেশে আসবে অনেক খ্যাতিমান রাজনীতিক।
তাই আকাশে প্রজ্বলিত সূর্যের উত্তাপ উপেক্ষা করে
দুপুর থেকেই জড়ো হচ্ছে জনতা।
হাতে তাঁদের শত শত প্ল্যাকার্ড, পোস্টার ও ব্যানার
ধরে এগুচ্ছে ছাত্র, কৃষক ও মজুরেরা।
তাঁদের সবুজ ব্যানারে শোভা পাচ্ছে রক্তরঙ,
হলুদ ব্যানারে শোভা পাচ্ছে অন্ধকার,
আর আকণ্ঠ উচ্চারিত বলিষ্ঠ স্লোগান দিয়ে
অসংযত পায়ে ধেয়ে যাচ্ছে মঞ্চের দিকে।
লবনকণায় টুইটুম্বুর তাঁদের আপাদমস্তক,
তবুও দৃঢ় প্রত্যয়ে সবাই অপেক্ষমাণ।
ছায়া যখন দীর্ঘতর হলো-
তখন মঞ্চে উপবিষ্ট হলেন রাজনীতিকরা।
তাঁরা একে একে দিয়ে চললেন তাঁদের নিজ বক্তব্য;
আর আমি অনেক দূরে দাঁড়িয়ে শুনছি
তাঁদের দায়িত্ববোধ হতে নিঃসৃত কথামালা।
কিন্তু কেন আমার হাতে কোনো প্ল্যাকার্ড কিংবা পোস্টার নেই
কেন আমি অনেক দূরে শুধু দাঁড়িয়ে আছি
এই সমাবেশে হাজার হাজার জনতার মধ্যেও
কারও কোনো সন্দিগ্ধ চোখ আমাকে দেখল না!
তাঁরা কেবল দৃঢ়চিত্তে শুনেই যাচ্ছে
অভ্যাগতদের বক্তৃতা:
দেশে ফসলের ন্যায্য মূল নেই
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, বখাটেদের উৎপাতে
অকালে নষ্ট হচ্ছে অনেক ছাত্রীর জীবন।
অথচ, এত এত বক্তার কণ্ঠস্বরের ভীড়ে
আলোচিত সমস্যাবলী সমাধানের উপায় নিয়ে
কোনো বক্তার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম না!
এই অজস্র জনতা সর্বদাই
কাজ ফেলে রেখে ছুটে আসে সকল সমাবেশে
কিন্তু তাঁরা জানে না যে-
রাজনীতিতে কোনো আগামীকাল নেই
যা আছে তার সবই গতকাল...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29205494 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29205494 2010-07-23 00:37:46
হয়তো হয়ে গেছি কচুরিপানা যে কচুরিপানারা ভেসে আসে সুনিপুণ বন্যায়।
ভয়ঙ্কর ছোঁবলের সাক্ষী হয় যে কচুরিপানা
চঞ্চল শিশু কেটে টুকরো টুকরো করে যে কচুরিপানা
অজান্তেই ছোট্ট জলাশয়ে আবদ্ধ হয় যে কচুরিপানা
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
গলিত আবর্জনার স্তুপ এসে ভীড় জমায়
প্রতিক্ষণ, প্রতিদিন, প্রতি মাস...
আবদ্ধ জলাশয়েই স্থায়ী হয় জীবনচক্র;
যৌবন আসে, পুষ্প ফোঁটে, প্রজাপতি আসে
ইচ্ছেমতো সৌন্দর্য অবলোকন করে, চুমো খায়
আর নির্জীব হলেই চলে যায়...
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
যে কচুরিপানারা প্রতিক্ষায় থাকে-
মেঘে অন্ধকারময় বিস্তৃত আকাশের
ধেয়ে আসা মাতাল পবনের
অঝর ধারায় ঝড়ে পড়া বৃষ্টির
একটি শুভ্র বর্ষার...
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29132846 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29132846 2010-04-11 14:10:10
নারীবাদীগণ এই জীর্ণ পৃথিবীর কোনে কোনে,
আলোড়িত করেছিলে চারপাশ
অন্ধকারকে তাড়িয়েছিলে দিগ্বিদিক।
তোমাদের হাতের প্রজ্বলিত শিখায় স্পর্শ করে
তারাও হয়েছিল আঁধার কাঁপানের প্রতীক।
কিন্তু আজ এই সময়ে এসে চরম উৎকর্ষতার বদলে
ক্ষীণ হয়ে যায় তোমাদের স্ফুলিঙ্গ।
আজ তোমাদের উত্তরসূরিরা প্রদর্শিত হচ্ছে-
পণ্যের বিজ্ঞাপন হতে পতিতালয়ে,
ফিনফিনে ছোট্ট পোশাকে, অর্ধ নগ্ন শরীরে
আজ তারা ধারণ করে আধুনিকতা।
তোমাদেরকে তোমাদের উত্তরসূরিরা অনুকরণের বদলে
দূরে, ক্রমশই দূরে...
আর তোমরা পরে আছ পুস্তকের ভাঁজে;
তোমাদের রেখে যাওয়া আদর্শ
আজও ভূলণ্ঠিত হয়।
তোমাদের দেখানো পথ
আজও ধূলোয় ধূসরিত হয়।
কে জানে, সেই পথ ধূসরিত হবে
আর কতকাল...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29112548 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29112548 2010-03-08 18:12:27
ঘৃণা ও ভালোবাসা সুতীব্র ভালোবাসা হতেও জন্ম নেয় ঘৃণা।
ভালোবাসার রঙ কালো
আবার ঘৃণার রঙও কালো;
দু’টোই জন্মান্ধের চোখের দৃষ্টি
কেবল ভিন্ন অনুভব।
কালো রঙের ঘৃণা শুভ্রতার দিকে
শুভ্র রঙের ভালোবাসাও কালো ঘৃণার দিকে,
শুধু দ্রুত বেড়ে উঠা, ক্ষয় হয়ে যাওয়া
স্থির দৃষ্টি, অপসৃয়মান দৃশ্য
ফেলে আসা অতীত, প্রবাহমান বর্তমান...
চিন্তার চাদরে মোড়ানো ভবিষ্যৎ।
যোগ হতে বিয়োগ, সমান, অতঃপর...
বহিত জীবন হরেক রাস্তার বাঁকে
পূর্ণতার আকুতি, সুখ ও বেদনায় মিশ্রিত হাসি।
ঘৃণা হতে ‘কালো’, ভালোবাসা হতে ‘আলো’
অভিকর্ষজ টানে ছিঁড়ে এসে
আবার পাশাপাশি...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29111160 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29111160 2010-03-06 16:18:23
আপনি কী করতে পারেন? (শততম পোস্ট) তার মানে এই নয় যে আপনি ভালো-মন্দ জানেন।
কী জানেন আপনি?
কী জানেন?
ভাবছেন সবই...
না, জানেন না।
জানেন শুধু স্ত্রীর উরুর উপর আরোহন করতে
গোলাপী ঠোঁটে চুম্বন করতে
কোমল স্তনকে খাঁমছে ধরতে
সমতল জরায়ুকে কিছু সময়ের জন্য ফুলিয়ে দিতে
এর বেশী আর কী জানেন আপনি?
আপনি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী?
আপনার অনেক টাকা হয়েছে?
তাই বলে ভাববেন না যে আপনি সমাজসেবা করতে পারবেন।
আপনি কী করতে পারবেন?
ভাবছেন সবই...
না, পারবেন না।
পারবেন শুধু বস্তিতে গিয়ে
অনাহারী কয়েক শিশু-কিশেরারকে
আপনার অবৈধ টাকায় কয়েকটা জামা
আর একবেলা খাবার দিতে
পারবেন কয়েকটা ছবি তুলতে।
এর বেশী আপনি আর কিছুই পারবেন না।
বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনি যে-
আগামীকাল থেকে বন্ধ করে দেব...?
আপনি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন? ভালো কথা-
আপনি কি এই অশিক্ষিত জনতার
হেঁ হেঁ, এই নিকৃষ্ট জনতার
দ্বারে দ্বারে ঘুরেন নি?
কাদা, দুর্গন্ধময় হাতে কি আপনার হাতের স্পর্শ লাগেনি?
কী হলো?
এই অল্প সময়েই ভুলে গেছেন?
এই অল্পতেই ভুলে যান বলেই তো আপনাকে
হ্যাঁ, আপনাকে-
প্রতি পাঁচ বছর শেষে
মানব সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে
অনর্গল মিথ্যে কথা আর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়।
আপনি মসজিদের ইমাম কিংবা
মন্দিরের পুরোহিত সেজে গেছেন?
তাই বলে ভাববেন না যে
আপনি ধর্মের রক্ষক।
আপনি কী?
আপনি কে ফতোয়া দেবার?
আপনার কি বিবেক বলে কিছু আছে?
আপনি যতটুকু বলেন ততটুকু কি আপনি
হেঁ হেঁ, আপনি পালন করেন?
কী, আপনার ধর্মানুভূতিতে টান লেগে গেলো?
এতো সামান্যেই আপনার টান লাগে বলেই তো
ঘটে যায় বিপত্তি।
আপনি মুক্তমনের অধিকারী,
প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাস নেই আপনার?
তাই বলে ভাববেন না যে আপনি প্রগতিশীল।
আপনি কি আসলেই মুক্তমনের অধিকারী
না ছদ্মবেশে মুক্তমনের ধ্বজাধারী?
কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিশ্বাসগুলিই কি আপনার কাছে
হেঁ, আপনার কাছে মুক্তমনের মাপকাঠি?
আপনি নিজেকে এতো জ্ঞানী ভাবেন বলেই তো
সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা।
আপনি শ্রমিক-
আপনি যে কারখানায় কাজ করেন
যে চাকাগুলো আপনি সচল রাখেন
তার মানে জানেন তো?
আর আপনি-
হেঁ, আপনি
কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে
কাঁধে লাঙল নিয়ে গিয়ে যে জমি চষে এসেছেন
আপনি কি নিশ্চিত যে-
সঠিক সময়ে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পাবেন?
মুখ কালো করবেন না।
মাত্র তো শুরু করলেন
ফসল তোলার মৌসুম আসুক, তারপর...
প্রখর রৌদ্রকে যে আপনি জোছনা ভেবে
ঘামকে বরফের কনা ভেবে কাজ করবেন
আপনি কি ফসলের নায্য মূল্য পাবেন?
আপনার পরিবারের ভরণপোষণ ঠিকঠাক মতো চলবে তো?
আহা, কাঁদবেন না।
আপনি কাঁদলে ওদের গগনচুম্বী অট্টালিকা একের পর এক
নির্মাণ হবে কিভাবে।
কাঁদবেন না, আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করুন,
এবার চোখ মুছে ঘরে ফিরে যান।
ভাবছেন ভুল করেছেন?
না, ভুল করেন নি-
যখন কোন রাজনীতিকের তীব্র কণ্ঠস্বর মাইকে শুনতে পাবেন
তখন তো সব ভুলে কাজ ফেলে রেখে ঠিকই
দৌড়ে হাজির হবেন;
হুড়োহুড়ি করবেন সামনে বসার জন্য
কি, করবেন না?
তার চেয়ে বরং নিঃশব্দে ঘরে ফিরে যান।
এটুকু যে পেয়েছেন এটাই বা কম কিসে!
এর বেশী আমরা আর কি-ই বা পেতে পারি...
এই নষ্ট দেশে প্রতিদিনই জন্মে হাজারো শিশু
তারা বেড়ে উঠে এবং বেড়ে উঠে
তাদের সামনে উন্মোচিত হয় অপেক্ষার অপার দিগন্ত
সেই পরিধি অবারিত হয় আরও, আরও, আরও...
এই দেশের মানুষগুলো আর কিছু না পারুক
যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা-ই করতে পারে শুধু।

উৎসর্গ: আমার কিছু প্রিয় মানুষকে, তারা *** হাসান মাহবুব, অমিত চক্রবর্তী, রাজসোহান, ফাহাদ চৌধুরী, শিরীষ ও পাপী ০০৭ কে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29109529 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29109529 2010-03-04 00:03:07
আমার রক্ত আমাকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেয় ক্রমশই উত্তপ্ত হতে থাকে
উত্তপ্ত হয় আরও, আরও, আরও...
আমি দমিয়ে রাখার চেষ্টাও করতে পারি না।
আমার ওষ্ঠে উচ্চারিত হয় তথাকথিত বুদ্ধিজীবী
গাড়ল রাজনীতিবিদ, সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক
কিস্তি টুপিওয়ালা, মন্দিরের পুরোহিত ও
সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের ভণ্ডামির কথা;
উচ্চারিত হয় যাবতীয় অনাচারের কথা
অনায়াসেই, বীরদর্পে, স্ব-গৌরবে...।
অতঃপর দেখতে পাই আমি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি
দেখতে পাই কেউ কেউ আমাকে ফেরাতে চাচ্ছে
তাদের শত প্রচেষ্টারা আমার দিকে ধেয়ে আসছে
কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখি আমার রক্ত কণিকারা আমাকে...
হ্যাঁ, আমাকে পরিচালিত করছে।
দেখতে পাই শুভ্র রাস্তায় মূহুর্তের মধ্যে
উত্তপ্ত বালি কণা, কাঁটা, ছিন্ন মাথার খুলি
গলিত চোখ, ছোপ ছোপ রক্তের ছাপ।
এমন সময় হৃদপিণ্ডে হাত দিয়ে নিজের অজান্তেই চমকে উঠি!
এ কি? ঠিক আগের মতোই কম্পমান আমার হৃদপিণ্ড;
শত চেষ্টা করেও কোন তারতম্য অনুভব করতে পারি না।
আমি হাঁটতে থাকি, হাঁটতে থাকি
আকাশ হতে বজ্রের স্ফুলিঙ্গ এসে পরে
গাছপালায়, তৃণভূমে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে,
পুড়ে পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
আমি হাঁটতে থাকি এবং হাঁটতে থাকি...
আমার রক্ত আমাকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেয়
এগিয়ে দেয়, এগিয়ে দেয়...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29108127 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29108127 2010-03-01 22:18:29
হে জাতীয় ফল গাছের পাতা

হে জাতীয় ফল গাছের পাতা
তোমাকে নিয়ে আমি বহু গবেষণা করেছি
অকৃত্রিম পুষ্টিগুণে তুমি আসলেই ভরপুর
ভাটামিন - এর চাইতেও বেশী কিছু নিহিত তোমার মাঝে;
তোমার গাঢ়, কচি সবুজ পাতা
টুইটুম্বুর থাকে সর্বদাই ভিটামিনে।
তোমাকে হরেক প্রজাতির ছাগল খেয়ে
লকলক করে বেড়ে উঠে, তাজা হয়
গর্ভে ধারণ করে শুক্রাণু, জন্ম দেয়
একের পর এক, একের পর এক...
লাল- কালো- সাদা রঙে মিশ্রিত ছানা।
জন্মের পরেই তারা তোমার পাতা'কে চিবিয়ে খায়
আস্তে আস্তে বেড়ে উঠে
তোমার সদ্যজাত গজানো চারায় তরা
দলবলে হামলা চালায়।
একের পর এক ভাঙতে থাকে তোমার কাণ্ড,
শক্ত দাঁতের সুনিপুণ কৌশলে তোমার ছালবাকল ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়
চকচকে লোম হয় অধিকতর উজ্জ্বল
সূর্যালোকে ঝিলিক মারে...
অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে কিছু ছাগলপ্রেমী এগিয়ে আসে
কোলে নেয়, চুমো খায়।
হে জাতীয় ফল গাছের পাতা
তুমি দ্রুত থেকে দ্রুততর জগাতে থাক।
আসন্ন বর্ষায় তোমার ভয়ানক চাহিদা হবে
এখন চলছে ছাগলের প্রজনন মৌসুম,
তাই সেই ভয়ানক সময় আসার আগেই
গজিয়ে উঠ হে জাতীয় ফল গাছের পাতা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29105381 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29105381 2010-02-25 17:08:49
একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে সারাবছরের যাবতীয় কুকর্ম হতে
আমি মুক্তির পথ পেয়ে যাই;
আমার যাবতীয় দূর্নীতি আমাকে দগ্ধ করে
আর আমি পুড়ে পুড়ে হয়ে যাই বিদগ্ধ।
কালো ব্যাজ ধারণ করে আর
কণ্ঠনালীতে উচ্চারণ করে-
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি”
লজ্জাহীন নগ্ন পায়ের ছাপ
আমি হেঁটে হেঁটে এঁকে দিতে যাই
শহীদ মিনারের ফুলে শোভিত বেদিতে।
একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে
আমার পাঁজরে ঘুমন্ত পশুটা ডুকরে কেঁদে উঠে
অবিরাম নিসৃত হয় বিষাক্ত লালা,
যেন একুশটি তীর হৃদয়ে গেঁথে গেলো
ফালি ফালি করে দিল হৃদপিণ্ড
মুখ দিয়ে বমি করে দেয় হৃদপিণ্ড;
হাতে উত্তেজিত মাইক্রোফোন কেঁপে উঠে
শাণিত ধ্বণিতে চারপাশ বিস্ফারিত হয়
কারণ, একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29102327 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29102327 2010-02-21 11:46:14
আই লাভ ইউ মাই মাদার
প্রত্যেকদিন মায়ের এই কথাগুলি শুনতে হতো। বিরক্তিও লাগতো। কিন্তু আমার কোন পরিবর্তন হতো না। আমার প্রাত্যহিক রুটিন সেই আগের মতোই। সকালের খাবার খেয়ে ঘুরতে বেরিয়ে যেতাম। এখানে-সেখানে আড্ডা মেরে দুপুর দুইটায় ঘরে ফিরতাম। ঘরে ফিরেই লুঙ্গি আর গামছাটা নিয়ে চলে যেতাম নদীতে। সেখানেও আবার দুই ঘন্টা আড্ডা! সেই আড্ডার মধ্যমণি ছিলাম আমি। অবশেষে গোসল করে বাড়ি ফিরতে চারটা তিরিশ মিনিট বেঁজে যেতো। এই একটু পরেই আবারো মা’র বকুনি খেতে হতো। “সবাইকে খাইয়ে আমি বসে থাকি কিন্তু তোর জন্য আমাকে খাবার নিয়ে বসে থাকতে হয়। তুই যদি একটু আগে এসে খেয়ে নিস তাহলে তো আমি একটু বিশ্রাম পাই। সারাদিনের মাঝে বিকেলে একটু বিছানায় শুতেও পারি না শুধু এই জন্য।” খাবারের পাত্রে বসেই মা’য়ের এই কথাগুলি শুনতে হতো। খাবার শেষ হলেই বলতো- “ যা এখন বইটা নিয়ে একটু বস। বেড়োবে সন্ধ্যায়।” কার কি, আমি একটু সুযোগ পেলেই...

মাঠে ফুটবল খেলে আরো ঘন্টাকয়েক আড্ডা। অতঃপর গান। রাত প্রায় আট টা বাঁজতো ঘরে ফিরতে। ঘরে ফিরেই ভাত চাইতাম। মা বলতো- “ না, এখন ভাত খেতে পারবি না; খেলেই তো ঘুমিয়ে পরিস। ভাত খাবি রাত দশ টায়। আগে পড়াটা শেষ করে নে।”

কিন্তু আমি একটু পরেই এসে খেয়ে নিতাম। রাত নয়টা হলে আম্মা রেডিওটা আমার কাছে নিয়ে আসতো রেডিও ম্যাগাজিন উত্তরণ শোনার জন্য। বলতো- “ নে, এখন উত্তরণ’টা শুনে নে।” আমি শুয়ে উত্তরণ শুনতাম। যখন শেষ হতো আমি তখন পূর্ণ ঘুমে আচ্ছন্ন। রাতের অন্ধকারে তখন নিঃস্তব্ধ জনপদ। রাত্রি শেষে কমলা রঙের সূর্যটা যখন পুব আকাশে ভেসে আসতো তখন মানুষের কোলাহলে ঘুম ভেঙে যেত। কিন্তু আমি তারপরেও শুয়ে থাকতাম।

আজ আমি তোমার সেই ভালোবাসা মিশ্রিত বকুনি, স্পর্শ হতে দূরে...। ইচ্ছে হলেই কাছে যেতে পারি না। তোমাকে আলিঙ্গন করার মতো প্রশান্তি আর কিছুতেই নেই। তোমার সাথে উন্মুক্ত আলাপন আর হয় না। সারাদিন না খেয়ে থাকলেও কারো কিছুই আসে যায় না। এখানে সবাই চলছে আপন গতিতে। কারো কোন কিছুতেই যেন খোঁজ নেবার সময় নেই। সবাই এখানে আপন রাস্তার খোঁজে পথ চলে...। তবুও অনুভূতির কারো কোন কমতি হয় না; তা কেবলই নিজ পরিমণ্ডলে।

এই অস্বস্তিকর, দূষণময় শহরেও মা তোমাকে মনে পড়ে, তোমার স্পর্শ পেতে প্রতিক্ষীত হয়ে থাকে এই দেহমূর্তি। জীবন ঘষে প্রদীপ জ্বালাতে আমি আজ তোমার কাছ থেকে দূরে...। ইচ্ছে করলেই তোমার কোলে শুতে পারি না। জেনো, দীর্ঘ দিনের সম্পর্কহীনতা শোকের তীব্রতাকে ভোঁতা করে দিলেও তোমার প্রতি অনুভূতিগুলি কেবলই সজীব হয়ে উঠে; গাঢ় হয়... অধিকতর গাঢ়। ইট পাথরের জঙ্গল হতে তোমাকে জানাই অনেক ভালোবাসা, যে ভালোবাসা কখনো ফুরিয়ে যায় না। তোমাকে ভালোবাসি সেই শৈশবের মতোই। শুধু আজই নয়, আট হাজার সাতশত ছত্রিশ ঘন্টাই তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ মাই মাদার, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29097622 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29097622 2010-02-14 15:06:58
অবৈধ সঙ্গমে জন্ম বিষাক্ত থাবায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি মানচিত্র;
আমি প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে দিতে পারি লাশ।
কারণ, অবৈধ সঙ্গমে জন্ম যাদের কেবল
তাদের সাথেই আমরা সহবাস।
মানবতা নামক শব্দ আমার অভিধানে অনুপস্থিত।
কারণ, আমি মুছে ফেলেছি যাবতীয় সভ্য শব্দমালা
আর প্রতিস্থাপন করেছি খুন, ধর্ষণ, দেশদ্রোহ নামক শব্দ,
যে শব্দগুলি সভ্য মানুষের দ্বারা ঘৃণায় নিমজ্জিত হচ্ছে বহুকাল।
আমি বস্তি থেকে ডেকে এনে কিশোরের কোমল হাতে
ধরিয়ে দিতে পারি অস্ত্র।
আমার রক্তের ভেতরেও আজ খেলা করে দ্রোহ,
যে দ্রোহ পুড়িয়ে দিতে চায় সকল দেশপ্রেমিককে
আর সাজাতে চায় তার ইচ্ছেমতো স্বদেশ।
যে দেশে থাকবে না 'স্বাধীনতা' নামক কোন উজ্জ্বল হীরে;
সংবিধানে থাকবে না কোন মৌলিক অধিকার।
আমি নির্লজ্জভাবে প্রোথিত করে দিতে পারব ভ্রুণ
বিবাহিতা, অবিবাহিতা, বৃদ্ধা নির্বিশেষে সকলের জরায়ুতে।
সে দেশে জন্মগ্রহণ করবে হাজারো শিশু
বড় হবে ভোরের সৌন্দর্য অবলোকনের বদলে অবৈধ সঙ্গমের দৃশ্যে,
আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখবে...
অবৈধ সঙ্গমের ফসল হিসেবে বেরিয়ে আসা ধুঁকধুঁকে মাংসপিণ্ড।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29096803 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29096803 2010-02-13 16:38:25
অন্নের সন্ধানে আস্তে আস্তে অন্ধকার পালাতে থাকে।
তখন পাখিটির নিজস্ব সময়ের সাথে
আমারও সময় ঠিক করে নিই,
আমিও বেড়িয়ে পরি তার সাথে।
কিন্তু তফাৎ আমার সঙ্গে এই শুধু
সে ভাসতে পারে হাওয়ার ভেলায়,
অন্তত দিক-দিগন্তে পৌঁছার সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত।
তবে, সবচেয়ে যেখানে আমাদের বড্ড বেশী মিল
তা হচ্ছে, উভয়েরই অন্নের অভাব।
সে উড়ে যায় আর আমি হেঁটে যাই
একই লক্ষ্যে, শুধু ভিন্ন গন্তব্যে...
উভয়কেই ক্লান্তি গ্রাস করে
কিন্তু কাউকেই দমাতে পারে না।
আমাদের উভয়েরই জীবন বাধা পাকস্থলিতে
আমরা এটা ওটা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করি
ফসকে যায়, আবার চেষ্টা করি...
একসময় দেখি অন্ধকার আমাকে ঘিরে ধরেছে
এখন আর কারো খোঁজ নেয়ার সময় নেই
এবার আমাকে বাঁচতে হবে...। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29095360 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29095360 2010-02-11 14:55:03
লুলের আওয়াজ শোনা যায় (লুবিতা-৪) যখন কোন আনন্দে কিংবা বেদনায়
নির্জন পায়ে চলে আসি আগের স্থানে
অবাক হয়ে দেখি, কি আশ্চর্য!
এখনো লুলের আওয়াজ শোনা যায়।
কখনো গভীর রাতে তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেলে
জেগে উঠে দেখি নিস্তব্ধতার চাদরে মোড়া জনপদ।
এমন সময় অদূরে একটু শব্দ পেলে...
দৃপ্ত পয়ে এগিয়ে যাই।
একটু কান পেতে থাকি, আশ্চর্য!
এখনো লুলের আওয়াজ শোনা যায়।
যখন এই জনপদে নতুন কোন তরুণীর আগমন ঘটে
সেই তরুণী বলে ফেলে তার একান্ত কিছু কথা।
তরুণীর একান্ত কথামালায় মুগ্ধ হয়ে যখন
ভালোলাগাটুকু ব্যক্ত করতে যাই
আবারো অবাক হই, কি আশ্চর্য!
এখনো লুলের আওয়াজ শোনা যায়...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29093899 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29093899 2010-02-09 11:17:20
আমি, তুমি ও সে তুমি বললে, হ্যাঁ, দূরে থাকা যায় কিন্তু ভুলে থাকা সহজ নয়।।
সে বললে, “সহজ-কঠিন” আমরা মিশাই তারপর খুঁজি জীবন দিশা।
অতঃপর আমি বললাম, কেউ দেখে ঘুটঘুটে কালো কাছে কিংবা দূরে।
তুমি বললে, কেউ কেউ কালোতেই খুঁজে পায় আলো কিংবা আলোতেই কালো।
সে বললে, কেউ আবার “আলো-কালো” প্রতিস্থাপন করে এগিয়ে যায় দৃষ্টি পাড়ে।
আবার আমি বললাম, মুক্তি কিসে, বেঁচে থাকায় না মৃত্যুতে?
তুমি বললে, থেমে যাওয়াই মৃত্যু; আবার থেমে যাওয়াই বিশ্রাম।
সে বললে, কখনো মুক্তি মৃত্যু, কখনো মুক্তি বেঁচে থাকা;
দুটোই সাময়িক আবার অসাময়িক।
তারপর তুমি বললে, যথার্থ মুক্তি আত্মদৃষ্টিকোণে।
এবার আমি বললাম, গ্রহণেও সুখ, গ্রহণেও দুঃখ
আমরা জানি, আমারা জানি না
জীবন সহজ, মরণ সহজ হবে কি না...? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29091488 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29091488 2010-02-05 00:24:42
অবিনশ্বর চেতনা হ্যাঁ, সেই তুমি এখনো...?
হ্যাঁ, সেই আমি এখনো
তখনো ছিলাম এই আমি-ই
কেবল আমাদের আমিত্বকে কেন্দ্র করে।
ঘটঘুটে কালো রাত্রির মধ্যেও
আজও হাতড়ে হাতড়ে খুঁজে ফিরছি
আমাদের হারানো সেই আলোকবর্তিকা।
যে আলোকবর্তিকা তোমারা ছিনিয়ে নিয়েছিলে আর
আমাদের বুকে গেঁথে দিয়েছিলে অজস্র গ্রেনেড।
ভেবেছিলে তোমারা সারা জীবন সুখেই থাকবে;
কিন্তু না, আজ আমি কেবল তোমাকে জানাতে এসেছি
তোমাদের সেই পথ রুদ্ধ হয়ে আসছে।
ভালো করেই জেনে রাখো-
আমরা ক্রমশই জেগে উঠছি
আমারা ফিরিয়ে নিতে আসছি আমাদের আলোকবর্তিকা।
আরও জেনে রাখো-
আমারা কখনো মরি না, মরতে পারি না;
কেবলমাত্র কিছু সময়ের জন্য আমাদের আড়াল করা যায়।
আমরা প্রতি রাতেই জন্ম নিই
অসহায় দম্পতির সঙ্গমের ভিতর দিয়ে,
শীৎকার, চিৎকারের মধ্যে দিয়েই আমরা বেড়ে উঠি
ভূমিষ্ঠ হই, জ্বলে উঠি
জ্বেলে দিতে কালো রাত্রির বুকে
সত্য ও সুন্দরের আশ্চর্য প্রদীপ...। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29090708 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29090708 2010-02-03 16:19:29
গল্পঃ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এক কিশোরের যত্রা

এভাবেই দিন কাটতে থাকে। একসময় শুধু বুকের দুধে বাচ্চার চাহিদা মেটে না। দিনমজুর সগীর আলী’র মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। স্বল্প আয়ে এমনিতেই সংসার চলে না। তার উপরে যোগ হলো গুড়ো দুধ কেনার তাণ্ডব। ফলে আয়ের চাপ আরো বেড়ে যায়। দিগ্বিদিক ছুটতে হয়। কিন্তু না, বরাবরের পারিশ্রমিকের বেশী কোথাও কাজ পায় না! ফলে বাধ্য হয়েই মানুষের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিতে হলো। একপর্যায়ে আরো কিছু মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিতে লাগলো। কিন্তু এই ঋণ শোধ করার কেন উপায়ই সগীর আলী খুঁজে পেল না। আর ঐদিকে সুদের হার ঠিকই বেড়ে চলেছে। একপর্যায়ে নতুন করে কোন লোকই আর তাকে ঋণ দিতে চায় না। ঋণদাতা সবাই ঋণ পরিশোধ করার জন্য চাপ দিতে লাগলো। ফলে ঋণ শোধ করার জন্য আদরের সন্তানকে রেখে বাধ্য হয়েই যেতে হলো অন্যত্র কাজ করার জন্য। সগীর আলী চলে যায় সিলেট। সেখানে দিনরাত অকান্ত পরিশ্যম করে পাথর ভাঙে। বাড়ির তুলনায় আয়ও হয় বেশ ভালো। একপর্যায়ে ৫ মাস পর বাড়ি ফেরে সকলের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দেয়।


এবার নিজ গ্রামেই একটি দোকানে ভালো অংকের উপার্জনের কাজ পেয়ে যায়। কিছুদিন পর আস্তে আস্তে পরিবারের চেহারাটাও পাল্টাতে থাকে। একদিন সগীর আলী নিজে গিয়েই বড় মেয়েটিকে স্কুলে ভর্তি করায়। ফলে যোগ হয় বাড়তি খরচের পালা। যে টাকা উপার্জিত হয় তা দিয়ে কোনভাবে চলে যায় সংসারের খরচ। এভাবেই চলে যায় কয়েক বছর। পরে ছোট মেয়েকেও স্কুলে ভর্তি করে দেয়। দেখতে দেখতে ছোট্ট ছেলেটিও বড় হয়ে যায়। এবার তাকেও স্কুলে ভর্তি করে দেয়। অপরদিকে বড় মেয়েটি প্রাইমারী পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। আর ছোট মেয়েটি তৃতীয় শ্রেণীতে উঠে। এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। সুখ-দুঃখে মিশ্রিত সময় বয়ে যায় তাদের জীবনে। পার হয়ে যায় জীবন থেকে আরো কয়েকটি বছর।


একদিন কর্মস্থলের সামনে সগীর আলী দূর থেকে একটু ভিন্ন রূপ দেখল। কাছে গিয়ে দেখল কিছু মানুষের ভীড়। একজন অন্যজনের সাথে গুঞ্জন করে কথা বলছে। শুনল দোকান থেকে নাকি অনেক টাকা ও মালামাল চুরি হয়েছে। অবশ্য মাঝে মাঝে প্রয়োজনে সগীর আলীকে রাতে দোকানে থাকতে হতো। গতকাল রাতে সগীর আলী দোকানে ছিল। কিন্তু একজন লোক এসে বড় ছেলেটার অসুখের খবর শোনালে মধ্য রাতেই তিনি বাড়ি চলে যান। এই অবস্থায় একটু পরে মালিক এসে পৌঁছল। মালিক এই টাকা ও মালামাল চুরির জন্য সগীর আলীকে দায়ি করলো। ফলে পুলিশ সগীর আলীকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে আদালতের রায় অনুযায়ী নিরপরাধ সগীর আলীর ৫ বছরের জেল হয়। ফলশ্রুতিতে তার পরিবারের উপর নেমে আসে দুঃসহ বেদনার ছায়া। ক্রমান্বয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে থাকে তার পরিবার। তিন বেলা খাবারের নিশ্চয়তা ফুরিয়ে দু’বেলা ও পরে এক বেলাতে এসে দাঁড়ায়। তীব্র অভাবের দরুণ ছেলেমেয়েগুলোর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের অন্নসংস্থানের জন্য সগীর আলী’র আদরের ছেলেকেই বাধ্য হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করতে হয়। দিন শেষে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনরকমে সংসার চলে।


এভাবে কিছুদিন নিজ গ্রামে বিক্রি করার পর একটু বাড়তি আয়ের আশায় চলে আসে শহরে। সেখানে এক বস্তিতে ছোট্ট একটি ঘরে গাদাগাদি করে ৬ জন সমবয়সীর সাথে রাত্রিযাপন করে। একদিন বিকেলে সহ-হকারদের সাথে বাজারে গিয়ে কিছু বাদাম কিনে আনে। রাত পোহাবার আগেই ঘুম থেকে উঠে বাদাম ভেজে দু’মুঠো অন্নজল খাবার পরেই বিক্রির উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। একটু হাঁটতে হাঁটতে স্কুলের গেইটের সামনে যেতেই দেখে ওর চেয়ে বয়সে অনেক বড় বড় কিছু হকার বাদাম বিক্রি করছে। ও সেখানে বসতে চাইলে তারা তাড়িয়ে দেয়। অন্যত্র গেলেও ঠিক একই অবস্থা। ফলে বাধ্য হয়েই রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে হয়। দুপুরে কিছু খাবার পর আবার হাঁটতে থাকে বিভিন্ন স্থানে একটু ভালো বিক্রির জন্য। দিনের শেষে যান্ত্রিক শহরের জোনাকগুলো যখন জ্বলে উঠে তখন ল্যাম্পপোস্টের নীচে এসে বসে বিক্রির জন্য। রাত দশ টা অবধি বিক্রির পর আবার বস্তির নোংরা ছোট্ট ঘরটিতে ফিরে আসে। এভাবে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে নিজে কোনভাবে চলার পর বাকি টাকাগুলো বাড়িতে পাঠায়।


এভাবেই ছেলেটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়। আর ভাবে, কতো রকমের মানুষ চারপাশে বাস করে। ভাবে, জন্ম ও মৃত্যুর মাঝের সময়টুকুতে জীবন ধারণের তাগিদে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, রাহাজানি, ছিনতাই, ব্যবসা, চাকুরী, মুচি, কুলি কতো ধরনের কাজই না করতে হয়। আর সবকিছু ছাপিয়ে জীবন তার আপন গতিতেই এগিয়ে যায়। কখনো থমকে দাঁড়ায় না; কখনো থমকে দাঁড়ায় না ....। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29089430 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29089430 2010-02-01 12:42:10
তোমার চলে যাওয়াটা উচিৎ হয়নি আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই
তোমার রিষ্টপুষ্ট, সুঠাম দেহটা
ভূমিকম্পে ধ্বসে যাওয়া কোন ইমারতের মতো
লুটিয়ে পড়ল শক্ত মৃত্তিকার বুকে।
তারপর আমারা তোমার, শুধু তোমার
লুঠিয়ে পড়া নিষ্প্রভ দেহকে স্পর্শ করলাম,
হৃদপিণ্ডের কম্পন অনুভব করতে চাইলাম;
অতঃপর আমরা বুঝতে পারলাম
তুমি অভিমানে, নিভৃতে চলে গেলে।
আর সহসা আমাদের চোখের সামনে ফিরে আসতে লাগলো-
তোমার প্রণবন্ত কৌতুকালাপ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
বয়সের তারতম্য ভুলে গিয়ে কিভাবে তুমি মেতে উঠতে
আমাদের সাথে হরেক খেলায়।
কিন্তু আজ তোমার সেই নিথর দেহটা আমাদেরই চোখের সামনে।
এভাবে তোমার চলে যাওয়াটা উচিৎ হয় নি...
একটা কচ্চপের আয়ুর তুলনায়
তুমিতো আরো কিছুদিন বাঁচতে পারতে?
না, আমরা তোমার এই চলে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারছি না
তুমি তো কোন তস্কর, মাতাল কিংবা জুয়ারী ছিলে না,
তবে তুমি কেন এতো শীঘ্রই চলে গেলে?
তুমি জানতে বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোড় এক বছর।
কিন্তু তুমি এও জেনে রাখো-
তুমি বেঁচে থাকবে আমাদের স্মৃতিতে
অন্তত আট হাজার সাতশত ষাট ঘন্টার চেয়ে বেশী।
আমারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না, পারছি না;
তোমার এভাবে চলে যাওয়াটা উচিৎ হয়নি, উচিৎ হয়নি, উচিৎ হয়নি....।

উৎসর্গঃ তাকে, যাকে আজ রাতে আমরা অনন্তের পথে চলে যেতে দেখলাম। কেবলই একা, শুধুই একা...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29087202 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29087202 2010-01-28 12:18:34
অর্জনকে কেন তোমরা বল বর্জন? ঘুমিয়ে থাকার সময় আজ আর নেই,
আসুন সবাই দলে দলে
নতুন পতাকা তলে নিয়ে নিই ঠাঁই;
তাতে আসে যায় না কিছু পাই বা না-ই পাই।
তোমরা বরাবরই মুখে খৈ ফুটাও
উচ্চবাচ্য করাই তোমাদের কাজ,
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেবে তোমরা
এখনো রয়ে গেছ অজ্ঞ;
তাইতো তোমরা চালাতে চাও দেশে
নতুন কোন হত্যাযজ্ঞ।
আমাদের চুক্তিতে তোমরা সম্মতি দাও
দূরে সরে থেকো না,
এই বলে সেই বলে
জনতাকে দলেদলে
রাজ পথে ছেড়ো না।
প্রেমের মহিমা এখনো তোমারা শেখনি
"ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ"
এই বাণী তোমরা তো আজ অবধি পড়নি।
এই দেশ এভাবেই
চলবে আরো কিছু কাল,
সময় এখনি আজ
কে ধরবে হাল?

পোস্টটি ব্লগার ইউনুস খান-এর আহবানে লেখা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29080378 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29080378 2010-01-17 16:46:48
শীতের রাতে নিঃশব্দে কালো রাত চলে আসে,
মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গেলে
অন্ধকার কক্ষেই তাকিয়ে থাকি;
কোন অস্বস্তি কিংবা শীতলতা বোধ করি না।
হঠাৎ বিছানার পার্শ্বে হাত দিয়ে চমকে উঠি!
মনে হয় শুভ্র পেঁজা বরফ বিছানো....
ঠিক তখনই অবচেতন মনের মাঝে হারিয়ে যাই,
মনে পড়ে, আমার কাঁধে অর্পিত দায়িত্বের কথা।
অথচ, আমি রঙিন কম্বলের আচ্ছাদনে আবিষ্ট
উষ্ণ পানির ছোঁয়ায় আমার গা ভিজে প্রতিদিন।
ঠিক আমার বিপরীতে কতো শীতার্ত খোলা আকাশের নীচে
কেবল ঠান্ডা কুয়াশার চাদর গায়ে নিয়ে শুয়ে আছে;
নেই তাদের কোন রঙিন কম্বল কিংবা
গায়ে উষ্ণ পানির ছোঁয়া!
কিন্তু আমার চারপাশে তো সবই বিদ্যমান....?
তবুও নিজের প্রতি কোন ক্রোধ কিংবা ঘৃণা জন্মায় না।
এমন সময় আমি আমার সচেতন মনের মাঝে ফিরে আসি,
ঠোঁটে মুচকি হাসি খেলে যায়।
মানবপ্রেমের দ্বার চোখের সামনে উন্মোচিত হয়....
এইতো, আর একটু পরেই অন্ধকার কেটে যাবে,
সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল চলে আসবে।
ঠিক তখনই শীতার্ত মানুষের সম্মুখে তাদেরকেই কেন্দ্র করে
উষ্ঠ ও জ্বিহ্বার সমন্বয়ে উচ্চারণ করব দরদমাখা কিছু কথা,
আর পৌঁছে যাব শীতার্তদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার স্রোতে।
তাদের কিছু হোক আর না-ই হোক, তাতে কী?
আমি তো ঠিকই নির্লজ্জভাবে উপলব্দি করছি
আমার কাঁধে দায়িত্ব নেই, দায়িত্ব নেই
আমি মুক্ত, মুক্ত এবং মুক্ত...। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29079550 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29079550 2010-01-16 15:13:51
মাত্র বলয় গ্রাস সূর্য গ্রহণ দেখে ছাদ থেকে নীচে নামলাম

কি মজা...........<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29078950 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29078950 2010-01-15 14:52:24
সাদা-কালো দিনগুলি (আমার বর্ষ পূর্তি) www.somewhereinblog.net। সেটা সম্ভবত ২০০৮ সালের ২৬ কি ২৮ ই আগস্ট প্রথম আলো পত্রিকায়। এই সাইটে ঢুকে আমি তো অবাক!!! কতো জন ছদ্মনামে, কতো জন মূল নামে লিখছে, মন্তব্য করছে। এসব দেখে এই ব্লগের প্রতি একটা আসক্তি তৈরী হয়ে গেল। প্রত্যেক দিনই কিছু সময় এই ব্লগে দিতে লাগলাম। দেখলাম অসম্ভব উত্তপ্ত সময়ে আমি এই ব্লগে পদার্পণ করেছি। চারদিক ব্যান নামক শব্দে মুখর। আজ ও তো কাল আরেকজন। তখন নিরাপদ একটা শব্দ ছিল “উঁ”। আজও অনেকের সম্ভবত এই কথা মনে পড়ে। তো এই হলো আমার ব্লগে আসার পূর্বসূত্র।

যেভাবে লেখা শুরু- একদিন এ.এস.এম রাহাত খানের এই পোস্টে শ্রদ্ধেয় বিবর্তনবাদী’র মন্তব্য দেখে ওনাকে মেসেঞ্জারে এ্যাড করি। পরে প্রথম দিন ওনার সাথে চ্যাটের সময়ই একটা ছোটখাট বিতর্ক হয়ে যায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে। পরে তিনি আমাকে ব্লগে নিয়মিত লিখতে বলেন। আমি বললাম, আমি তো বাংলা লিখতে পারি না। তিনি বললেন বাংলা লেখাতো খুবই সহজ। পরে বললাম আমি তাহলে ব্লগে লেখার চেষ্টা করব। এর কয়েকদিন পরেই আমি ব্লগে রেজিঃ করি। তারপর লিখি।

প্রথম পোস্টের অভিজ্ঞতা- আমার প্রথম পোস্টটি ছিল খুবই কষ্টের। টাইপ করে বাংলা না লিখতে পারার কারণে মাউস দিয়ে ক্লিক করেই লিখেছিলাম প্রথম পোস্টটি। সময় লেগেছিল দুই ঘন্টা। পরে একটু পরেই দেখি আমার সম্পূর্ণ পোস্টটি উধাও!!! তারপর আবারো দুই ঘন্টা। লেখাটা যখন আমি পোস্ট করি তখন রাত চার টা। সেই পোস্টের কাহিনী আজও মনে পড়ে।

সর্বপ্রথম মন্তব্য প্রাপ্তি- লেখার কিছুদিন পর ভাবলাম আমি কোন মন্তব্য পাই না কেন? এর কয়েকদিন পরেই দেখি আমার পোস্টে একটি মন্তব্য। এবং এটি ছিল প্রথম পোস্টের প্রথম মন্তব্য। আর সেই মন্তব্যকারী ছিলেন মেঘাচ্ছন্ন। যাকে আজকাল ব্লগে দেখাই যায় না।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর- আমি যখন ব্লগে রেজিঃ করি তখন ছাগুদের ম্যাৎকার ছিল এখনের চেয়ে অনেক বেশী। রাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষরের পোস্টগুলোতে অনেক মাইনাস দেখতাম। একদিন বইমেলায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেরর দাবিতে গণস্বাক্ষর ফরমে স্বাক্ষর করে এলাম। এর কয়েকদিন পর চন্দ্রিমা উদ্যানে আমি, রোমাস ভাই ও দণ্ডিত পুরষ মিলে স্বাক্ষর নিতে শুরু করি। প্রচুর সাড়াও পাই। সবচেয়ে ভালো লেগেছিল এই ভেবে যে, এরকম একটা পবিত্র কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছিলাম।

সর্বপ্রথম বিরোধ- ব্লগে সর্বপ্রথম বিরোধ হয়েছিল নির্ঝর ভাইয়ের সাথে। এই বিরোধ হয়েছিল ওনার সাথে বিনা কারনেই। আমি ওনার সকল পোস্টেই মাইনাস দিতাম, বক্র মন্তব্য করতাম কিন্তু ওনি সকল পোস্টেই প্রেরণাদায়ী মন্তব্য করতেন। প্লাস দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বিরোধকে একমাত্র ভালোবাসা দিয়েই জয় করা যায়। একদিন ওনার এই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন ঘটল। আজ ওনি আমার একজন অতি প্রিয় ব্লগার।

যাদের খুব কাছ থেকে ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি- এই ব্লগে অনেকেরই ভালোবাসা পেয়েছি। পেয়েছি বিশুদ্ধ মনের অকৃত্রিম উদারতা। আজ যাদের নাম না বললেই নয়-

*নির্ঝর নৈঃশব্দ্য *বিবর্তনবাদী *আব্দুর রহমান (রোমাস) *মানুষ পাখি *সোনালীডানা *নিলআকাশেরদুঃখ *চিটি (হামিদা আখতার) *জটিল *ছন্নছাড়ার পেন্সিল *আকাশ_পাগলা *দুরন্ত স্বপ্নচারী *আমড়া কাঠের ঢেকি *তাজা কলম *হাসান মাহবুব

আরো অনেকেই। যাদের নাম এখন মনে পড়ছে না।

প্রিয় ব্লগার- এই ব্লগে অনেকেই আমার প্রিয় ব্লগার। কারণ তাদের দুর্দান্ত লেখায় আমি মুগ্ধ হয়েছি বরাবরই। তেমনি কয়েকজন---

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য- নির্ঝর ভাইয়ের গল্প ও কবিতা সবসময়ই আমি পড়ি। অসাধারণ ওনার লেখা। যারা এই ব্লগে নিয়মিত কবিতা লেখেন এবং সবচেয়ে বেশী কবিতা যাদের নিঃসন্দেহে তিনি অন্যতম।

ইমন জুবায়ের- ইমন জুবায়ের? হ্যাঁ তিনি আমার একজন অতি প্রিয় ব্লগার। প্রথমে ওনার পোস্টগুলো প্রিয়তে নিলেও পরে আর নিইনি। দেখলাম প্রিয়তে নিলে ওনার প্রায় সব পোস্টই প্রিয়তে নিতে হবে। বাদ দিলাম প্রিয়তে নেয়া। ওনাকেই রেখে দিলাম হৃদয়ের মণিকোঠায় সবার অজান্তে।

ম্যাভেরিক- এমনই আরেকজন প্রিয় ব্লগার হলেন ম্যাভেরিক ভাই। ওনার গণিতের সপ্তকৌতুক, শব্দরাজ্যে অভিযান এই পোস্টগুলি পড়লে বুঝা যায় যে ওনি কতো কিছু জানেন।

অমি রহমান পিয়াল- মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যেক বাংলাদেশী মানুষের জীবনে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পিয়াল ভাইয়ের পোস্ট পড়ে অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। আজ অতিক্রান্ত এক বছরে পিয়াল ভাইকে জানাই স্যালুট। সেইসাথে জুবায়ের ভাই, ম্যাভেরিক ভাই ও পিয়াল ভাইদের কাছ থেকে আরো জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্ট নিয়মিত আশা করি।

রাসেল (........)- রাসেল ভাইও আমার একজন প্রিয় ব্লগার। যদিও অনেকের কাছে ওনি বিতর্কিত। আমি মুগ্ধ ওনার ক্ষুরধার লেখা ও অনমনীয় মনোভাবের জন্য (সব ক্ষেত্রে নয়) । ওনি কাউকেই ছাড় দেন না। ওনাকে আমি ব্লগে দলাদলির জঘন্য মানসিকতায় সিক্ত ব্লগারদের কাতারে দেখি নি। যে বিষয়টা আমাকে বেশী আকৃষ্ট করে।

মাসুদুল হক- আস্তিক-নাস্তিক বিষয়ে ওনার পোস্টগুলি সত্যি আস্তিকদের প্রশংসার দাবি রাখে। যদিও ওনি বড্ড অনিয়মিত।

যেসব ঘটতে দেখেছি- ব্লগে অনেক ব্লগারকে ব্যক্তিবিশেষের চামচামি, দালালিতে নিমজ্জিত হতে দেখেছি। দেখেছি চামচাদের অদৃশ্য গ্রুপ দলবেঁধে প্লাস-মাইনাস ও মন্তব্যের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। অনেক জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্টকে নীরব পায়ে হেঁটে চলে যেতে দেখেছি। আবার অনেক অন্তঃসারশূণ্য পোস্টে মন্তব্যের হিড়িক পড়তেও দেখেছি। অনেক ব্লগারকে দেখেছি শুধু মন্তব্য পাবার জন্য মন্তব্য করতে, পোস্ট দিতে কিন্তু লেখার বিষয়বস্তু বিবেচনা না করেই। এরা ছিল, আছে এবং থাকবে।

অনেক মেধাবী ও জনপ্রিয় ব্লগারকে এই ব্লগ থেকে চলে যেতে দেখেছি। দেখেছি তাদের নির্মমভাবে ব্যান হওয়া। হাসিব ভাই যাদের মধ্যে অন্যতম। এই খেলায় রেসিডেন্টরা অগ্রগামী। দেখেছি লুলকে লুল বলায় ব্যান হতে। অনেক ব্লাগার গালি খেয়ে ব্যান হয়েছে; আবার অনেক ব্লগারকে গালি দিয়েও সেই ব্লগারকে বহাল তবিয়তে ব্লগিং করতে দেখেছি। দেখেছি এই ব্লগের সর্বশ্রেষ্ঠ হরিদাস পাল হলো মডারেশন। এই মডারেশনের পক্ষপাতিত্ত্ব বজায় ছিল, আছে এবং থাকবে। ব্যক্তিবিশেষের বেলায় মডারেশন হয়নি, আর হবেও না। এবং এও বুঝে গেছি যে, মডারেশনের স্বেচ্চাচারিতা মেনে নিয়েই এই ব্লগে ব্লগিং করতে হবে। অন্যথায় নয়!!!

যা খুঁজে পাইনি- ব্লগে অনেক কিছু খুঁজে পেলেও কোন নাস্তিক খুঁজে পাইনি। পেয়েছি নাস্তিক শব্দের আড়ালে কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী আর কিছু উগ্র বিদ্বেষী। কিন্তু এ দু ধরনের লোকের কাজ এক এবং অভিন্ন। এই শ্রেণীর কোন বিদ্বেষীকে অন্য কোন ধর্মের সমালোচনা করতে অন্তত আমি দেখিনি কবেলমাত্র ইসলাম ধর্ম ছাড়া। নাস্তিকের প্রকৃত স্বরূপ দেখার অপোয় এখনো আছি। জানিনা প্রকৃত নাস্তিক ব্লগে ভবিষ্যতে দেখা যাবে কি না.......

নিয়মিত যাদের মন্তব্য পেয়েছি- অনেক ব্লগারই নিয়মিত আমার নগন্য পোস্টে মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী মন্তব্য পেয়েছি নির্ঝর ভাইয়ের। এর পরের নামটা নিঃসন্দেহে সোনালীডানা ভাই।

মডারেশনে কাছ হতে প্রাপ্ত পুরস্কার- ব্লগারদের কাছ থেকে ভালোবাসা যেমন পেয়েছি, তেমনি মডারেশনের ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছি। আমার ব্লগ আইডলের একটি প্রতিক্রিয়াশীল আচরণের প্রতিবাদ করে ২৮ দিনের গোয়েন্দা নজরদারি (ওয়াচ) ও ৩ বার জেনারেল নামক সম্মানে ভূষিত হয়েছি। ২২ দিন পর ভিত্তিহীনভাবে মডারেশনের চকচকে ধরালো কাঁচিতে একটি পোস্ট নিঃশ্বেষ হতে দেখেছি। এই হলো মডারেশনের কাছ হতে ১ বছরে প্রাপ্তি।

আমার সীমাবদ্ধতা- এই ব্লগে একটা বছরে আমার কিছু সীমাবদ্ধতা আবিষ্কার করেছি। জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্টে নিজের অজ্ঞতার কারণে মন্তব্য করতে পারি না। শুধুই নীরবে একটা প্লাস দেয়া ছাড়া।

*দালালি, দলাদলি, ব্যক্তিবিশেষের পোস্টে মন্তব্য এসব করতে পারি না।
*লুল হতে পারিনি।
*রেসিডেন্ট ভাঁড়ও হতে পারিনি।

এগুলি হলো আমার সীমাবদ্ধতা।

অতিক্রান্ত একবছরে উল্লেখিত ভালো গুণ গুলিতে আমি নিমজ্জিত হতে পারিনি। আগামী এক বছর বেঁচে থাকলে এইসব গুণের অধিকারী হতে পারব কি না সেটা অনাগত ভবিষ্যৎই বলে দেবে.......

অতিক্রান্ত এক বছরে এসে আজ এই কথাগুলো বেশী মনে পড়ে যায়-

“সময় চলে গেছে
সময় চলেছে
চলতি জীবনের
গল্প বলছে
পাল্টে গেলি তুই
আমিও পাল্টে
গিয়েছি মাঝপথে হাঁটতে হাঁটতে....”

(কবীর সুমন)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29076694 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29076694 2010-01-11 23:24:17
বাঙালি মেয়ে মিলা'র চর্চিত আধুনিকতা ও আমার কিছু কথা- মিলা। মাউথপিস হাতে যখন একটা সিটি বাঁজালেন, তখনই দোলা লেগে গেলো মাঠের চারদিকে। এই..সেই কথা বলে কণ্ঠে ধরলেন তার বিশুদ্ধ (?) কিছু গান। গাইতে লাগলেন গান; আর সেইসাথে শুরু করলেন তার বিশুদ্ধ (?) নৃত্য। তিনি কণ্ঠ শিল্পী, না ডান্স্যার আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম। আর দর্শক শ্রোতা গান শোনার চেয়ে গভীর আগ্রহে দেখতে লাগলো তার ফুলে উঠা স্তনের কম্পমান আহবান। অনেক তরুণের অস্থির হাত তাদের জিপারের ওপরে। আমার পেছনে দু' তিন জন তাদের কামার্ত হৃদয়ের বাসনা একে একে শশব্দে বলে চলছে। এ অবস্থা দেখে আমি বড় ভাইকে বললাম, চলেন এবার যাই। অনেক দেখলাম। আর না....।

কাকতালীয়ভাবে আজ দেখা হয়ে গেলো এক বাঙালি মেয়ের বাংলা সংস্কৃতি চর্চার বিশুদ্ধতা(?)। যে সংস্কৃতি একদিন আব্দুল আলীম, আব্বাসউদ্দীনদের স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে....।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29074194 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29074194 2010-01-08 01:17:40
দিয়ে দাও আমার প্রাপ্যটুকু একটু বেশী নয়; তার চেয়ে একটু কমও নয়
ঠিক যতটুকুতে আমার অধিকার।
কোন ত্রাস সৃষ্টি করে নয়,
কোন তস্কর, মহাজনের মতো অবিচার করেও নয়।
কোন রাজনীতিবিদের মতো দেশপ্রেমের
বাঁধ ভাঙা বক্তৃতা দিয়ে গলা ফাটিয়ে,
মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে জনতাকে
ধোঁকায় নিমজ্জিত করেও নয়।
কিংবা কোন সম্পাদক ও বেশ্যার দালাল সেজে;
কেবল সৎ ঘামে ভেজা শরীরের মূল্যটুকু দাও।
আমাকে বাধ্য করোনা হিংস্র হতে,
আমি হিংস্র হয়ে গেলে রক্তের নেশায় উন্মাদ হবো;
তাই সেই রক্তের স্রোত দেখার আগেই
এখনো সময় আছে, সঠিক সিদ্ধান্ত নাও।
এ আমার কোন অন্যায্য দাবি নয়,
শধুমাত্র চাইছি আমার প্রাপ্যটুকু.....।

(উৎসর্গঃ আমড়া কাঠের ঢেকি)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29066164 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29066164 2009-12-26 23:33:45
শৈশবের দুরন্তপনা আজ কোথায় হারিয়ে গেলো?

হারিয়ে যাওয়া শৈশব
স্মৃতির পাতায় কখনো জেগে উঠে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29058704 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29058704 2009-12-14 16:02:41
রাজনীতি আমি করছি পাহাড়াদারি
আমি করছি চুরি
তুমি করছ পাহাড়াদারি।
ভুলে গিয়ে দায়বোধ
করে যাচ্ছি শুধুই লুট।
ভালোভালো কথা বলে
জনমত আনতে নিজের দলে
উচ্চারণ করি আপন মনে;
বিরোধী দল করেছে এই, সেই
আমরা কোন অপকর্মে নেই।
মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে তলেতলে
করে থাকি ফন্দি,
কেউ যদি জেনে যায়
করি তাকে বন্দী।
নিজের দোষ ঢাকতে
প্রয়োগ করে শক্তি
অন্যের উপর চাপিয়ে তা
নিজে পেতে চাই মুক্তি।
আর নির্বাচনে যে যার মতো
করে থাকি পণ,
কিন্তু বাঁচার জন্য প্রত্যেকেরই
যুক্তি থাকে নিজের মতন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29057860 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29057860 2009-12-13 00:52:02
পাপ অগ্রভাগ নির্জনে হৃদয় বিদ্ব করে
ক্ষীণ ধারায় রক্ত ঝড়ায়।
শত ধ্যান নিভৃতে মাথা কুটে
দিগ্বিদিগ ঘুরে ফিরে আসে,
অতৃপ্ত আশার খাঁচায়।
উদভ্রান্ত গোবরে পোকার মতোই
সংবিৎ রুক্ষ একটুকরো ভূমিতে
হোঁছট খেয়ে পড়ে যায়।
চরম অপরাধবোধ কুঁড়ে কুঁড়ে খায় আর
টেনে-হিঁছড়ে নিয়ে যায় নির্জনতায়।
সীমাহীন অসমতল মৃত্তিকার উপর
গড়িয়ে যাওয়া কোন পাথরের মতো,
গুড়িয়ে যায় মন।
আর মুক্তির তীব্র বাসনা বারংবার
মুছে দিতে চায় অদৃশ্য কলুষিত ছাপ
পাপ, পাপ, পাপ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29054515 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29054515 2009-12-06 19:28:38
জ্বরাক্রান্ত এই আমার কিছু দুঃখময় প‌্রলাপ
বিছানায় শুয়ে থাকতে আমার আর ভাল্লাগছেনা। এভাবে শুয়ে থাকলে বেডসোর হতে কতক্ষণ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলে কিছুই খেতে পারিনা। ইচ্ছে হচ্ছে এক্ষুণি মা'র কাছে ছুটে যাই। কিন্তু এই অসুস্থ শরীর নিয়ে কি করে যাই। আমি জানি মায়ের ছোঁয়া পেলেই ভালো হয়ে যাব। শুধু একটু সুস্থতার অপেক্ষা।

সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সুস্থ হয়ে আপনাদের মাঝে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারি।

জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকে আপনাদেরকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

সবাই জন্য শুভ কামনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29036371 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29036371 2009-11-02 14:20:24
আমারব্লগ ও সামহ্যোয়ার ব্লগের দুই বন্ধুর মধ্যে কল্পিত সংলাপ-<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" />
সামু: ভালো আছি। এইতো একটু বাইরে ঘুরতে যাচ্ছি। তা তুই কেমন আছিস?
আমু: ভালো। খুবই ভালো আছি। আমিও কি তোর সঙ্গে ঘুরতে যেতে পারি?
সামু: অবশ্যই। আমারও একজন সঙ্গীর প্রয়োজন ছিল। যাই হোক। দু’জনে জম্পেশ আড্ডা দেয়া যাবে।

*** তারপর তারা দু বন্ধুই তাদের গন্তব্যস্থলের দিকে হাঁটা শুরু করলো। একটু পরেই তারা সেখানে গিয়ে পৌঁছল।

আমু: কিরে ব্লগে তোর লেখালেখির খবর কি? ব্লগে নিয়মিত লিখছিস তো?
সামু: হ্যাঁ, লিখছি। তবে নিয়মিত লিখতে মন চায় না। অবশ্য এর পেছনে কারণ ও আছে।
আমু: কেন মন চায় না? আর কি কারণ?
সামু: শোন। তুই আমার প্রিয় বন্ধু বলেই বলছি। আমি যে সামহ্যোয়ারে লিখি, এই ব্লগে খুবই রাজনীতি চলে। এর জন্যই মূলত লিখতে মন চায় না।
আমু: বলিস কি! কোন ধরনের রাজনীতি চলে? একটু খোলামেলাভাবে বল।
সামু: বলছি, রাজনীতি বলতে এখানে অনেক রকমের ব্লগার আছে। তারা লেখাগুলি একেক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। যেমন- “আমি বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের কিছু কর্মকাণ্ডের যৌক্তিক ত্রুটিগুলো নিয়ে লিখলাম। তখন দেখা যাবে কি, আমাকে কিছু লোক মিলে “ছাগু” বানানোর অপচেষ্টা করছে।

আবার, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নিপীড়নমূলক আচরণগুলো নিয়ে যদি লিখি তখনও কিছু ব্লগার বলবে আমার নাকি পাকিস্তান প্রীতি আছে। আমি নাকি জামায়াতের চেলা। রাজাকার।

অপরপক্ষে, বিএনপি’র কর্মকাণ্ডের যৌক্তিক ত্রুটিগুলো নিয়ে আমি লিখলাম। তখনও দেখা যাবে কিছু ব্লগার মিলে আমাকে “ভাকুর তথা ভাজাকার” বানানোর অপচেষ্টার করছে।

আবার, একাত্তরে পাকিস্তানীদের পৈশাচিকতা নিয়ে লিখলেও কিছু ব্লগারের অন্তরে আঘাত লাগে। তখন তারা বলবে, আমি নাকি ভারতের দালাল। তো এই হলো অবস্থা। আর ফ্যাশনেবল নাস্তিক-আস্তিকের দন্দ্ব তো লেগেই আছে। এই কারণেই লেখার ইচ্ছে হয় না।

আমু: বলিস কি! আমারব্লগে ও তো ঠিক একই অবস্থা। তবে আমারব্লগে এভাবে বলতে কিছুটা ভয় পায়। কারণ, আমারব্লগ মডারেশন বিহীন। এই কারণেই একটু স্বস্তি পাই। তবে প্রকৃত স্বস্তি পাই না। মডারেশন না থাকার ফলে কিছু সমস্যাও হয়। যেমন, অতিরিক্ত গালাগালি। তবে যেহেতু, মডারেশন নেই সেহেতু, যে গালাগালি করে তার ওপরও পাল্টা আক্রমণ চলে। তাই সহজে কেউ কাউকে গালাগালি করতে চায় না।

সামু: তাহলে এই তোর আমারব্লগের অবস্থা? যাক। মডারেশনের কথা যখন বলেছিসই তাহলে এ ব্যাপারে কিছু বলি।

সবকিছুরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। সো, মডারেশনেরও আছে। সামহ্যোয়ার ব্লগে সবচেয়ে বড় যদি কোন হরিদাস পাল থেকে থাকে তাহলে সেটা হলো মডারেশন। মডারেশনের দ্বৈত নীতির কারণে অনেক ব্লগারই সামহ্যোয়ার ছেড়ে চলে গেছে। মডারেশন মানেই একটি গ্রুপের পক্ষালম্বন করা। এটা সত্যি। এই মডারেশনের খড়গে অনেক নির্দোষ ব্লগারও বলী হয়, হয়েছে। দুর্বল মডারেশন থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। মডারেশনের সুবিধা-অসুবিধা তো আছেই। আবার আরেক বাড়তি সমস্যা হলো এই ব্লগের রেসিডেন্ট ভাঁড়। তাদের কারণেই মডারেশনের মর্যাদা অনেক ক্ষুন্ন হয়েছে। এই রেসিডেন্ট ভাঁড়গুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্লগার কিছু বললেই সেইসব ভাঁড়দের কথামতো তাদের যৌক্তিক বিরুদ্ধবাদীদের কুরবানী করে দেয়। এটা বড়ই অস্বস্তিকর। যাকে বলে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। তো এই হলো মডারেশন, আর এই হলো রেসিডেন্ট ভাঁড়।

আমু: যাক বাবা। আমারব্লগের আমরা তাহলে এই জ্বালা থেকে মুক্ত। শান্তিতে ব্লগিং করতে পারি কিছুটা। তো এই সমস্যা থেকে উত্তরণের কি কোন পথ নেই তোদের?
সামু: সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। কে প্রকৃত অপরাধী তাকে সনাক্ত করেই শাস্তি দিতে হবে। আর রেসিডেন্ট ভাঁড়গুলোকে কুরবানী করতে হবে। তাহলে যারা সামহ্যোয়ার ছেড়ে চলে গেছে তারাও ফিরে আসবে। সেইসাথে নতুন ব্লগারও বহুগুণে বাড়বে।

আমু: এতক্ষণ মডারেশন ও রেসিডেন্ট ভাঁড়দের কথা বললি। এবার বল, সামহ্যোয়ারে আবার লুল, চামচা নেই তো?
সামু: কি বলিস, নেই মানে। কিংবদন্তীপর্যায়ের লুল আছে। বিখ্যাত, বিখ্যাত চামচা আছে। নেই কি? সব আছে।
আমু: লুল, চামচা, আমারব্লগেও আছে। তবে এতো উচ্চপর্যায়ের না। খ্যাতির দিক দিয়ে তোদের চেয়ে অনেক কম। হা হা হা।
সামু: আমাদের সামহ্যোয়ারে প্রযুক্তিগত যেসব সুবিধা আছে তা তোদের আমারব্লগে নেই। আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাংলা ব্লগের খ্যাতিটাতো আমাদের ললাটেই।
আমু: এটা মানতেই হয়। তোদের সামহ্যোয়ার ব্লগ সর্ববৃহৎ বাংলাব্লগ। তবে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে কিছু ত্রুটি আমারব্লগে আছে, যা তোদের সামহ্যোয়ার ব্লগে নেই। আফটার অল, তোদের সামহ্যোয়ার ব্লগ সবদিক থেকে সেরা এটা মানতেই হবে।
সামু: না মেনে উপায় থাকলে তো! <img src=" style="border:0;" />

আমু: যাই হোক, আমি আমারব্লগের শণৈ শণৈ উন্নতি কামনা করি। তোকে আমারব্লগে রেজিঃ করে লেখার জন্য দাওয়াত রইলো।

সামু: আমিও মনেপ্রাণে সামহ্যোয়ার ব্লগের পূর্ণ সমৃদ্ধি কামনা করি। কামনা করি নতুন নতুন ব্লগার আসুক, লিখুক, জানুক। আর তোকেও সামহ্যোয়ারে রেজিঃ করে লেখার দওয়াত রইলো।

*** সামু: এবার উঠি রে। অনেক কথাই বললাম। অনেকটা সন্ধ্যে হয়ে গেছে। এবার বাড়ি ফিরতে হবে। আবার দেখা হবে। ভালো থাকিস।
আমু: তুইও ভালো থাকিস। আল্লাহ হাফেজ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29030654 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29030654 2009-10-23 17:50:59
কিছুই আসে যায় না জল বেষ্টিত মৃত্তিকাটুকু
ক্রমশই তলিয়ে যাচ্ছে।
ভেঙে পড়ছে মাটির স্তুপ;
হাওয়া ও ঢেউয়ের উল্টোদিকে
দাঁড়িয়ে আছে বৃদ্ধটি।
বোবা কান্নার শব্দ বাতাস
ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নিচ্ছে উর্ধজগতে।
কুণ্ডুলীপাকানো স্রোতের মাঝে
একে একে খসে পড়েছে গাছপালা,
ভেসে যাচ্ছে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল।
পাখিগুলি উড়ে যাচ্ছে
পাতার আদরের সন্ধানে।
ঝর্ণার মতো জলধারা বইছে
নির্বাক বৃদ্ধর চোখে।
আর সে ভেসে গেলেই বা কি?
তাতে কারও কিছু আসে-যায় না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29030373 http://www.somewhereinblog.net/blog/Ashu007/29030373 2009-10-23 01:53:38