ডিসক্লেইমার: মন্তব্য করুন নিজের মতই, কিন্তু তাতে আমার হৃদয়ের কাছাকাছি খুব প্রিয় মানুষদের কষ্ট পাওয়ার সম্ভবনা থাকলে সাথে সাথে ডিলিট হবে।

আমি নারী, আমাকে বলতে দিন!!!
০৭ ই জুন, ২০০৬ রাত ১:২২
নারী কাজ করবে কি করবে না, খাবে কি খাবে না, পাবে কি পাবে না এগুলো নিয়ে পুরুষদের বাকবিতান্ড যে হাস্যকর, এটা কি কেউ বুঝতে পারেন? নারীকে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখুন না নারী কি চায়, নারী তো শিশু না। নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আর 'ক্ষমতা' তার আছে! এই যে ভাইসাহেব আর আঙ্কেলগণ, আপনারা একটু সরেন, 'আমাকে' বলতে দিন।
ত্রিভুজের যেই পোস্ট নিয়ে এত কান্ড, সেখানে একটা মন্তব্য আমি করেছিলাম, সেটারই এক রকম সমপ্রসারণ করছি এখানে। কালপুরুষের পোস্টটা ভাল লেগেছে।
নিজেস্ব পরিমন্ডলে নারী পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আর ব্যবহার দেখে বড় হয় মানুষ, পরবতর্ী জীবনে এই নিজেস্ব পরিমন্ডল থেকে হাতে কলমে শিখা জিনিসগুলোই মূল্যবোধ হিসেবে কাজ করে।
ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা মা দু'জনের মধ্যে দেখেছি সহযোগিতা, পরম নির্ভরতা, ঘনিষ্ট সম্পর্ক, চেতনায় মিল আর সুন্দর একটা পরিবার গড়ে তোলার ব্যপারে দু'জনে যৌথ প্রচেষ্টা, সহযোগিতা। আসলে সুস্থ সামাজিক আর পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে নারী পুরুষকে কতর্ৃত্ব খাটানোর প্রতিযোগিতার উধের্্ব উঠতে হবে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি। বাবা মা দু'জনেই চাকুরিজীবি, জন্মের পর থেকেই তাই দেখে আসছি। বাবা ঢাবির অধ্যাপনা। মা একটা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষকতা করেন। আর ফুল টাইম মাতৃত্ব।
মা, উনিশ বছর বয়সে বিবাহিতা, বিয়ের এক বছরের মাথায় এক পুত্রের মা। মা আমার সুপার উইম্যান। সত্যিকার অর্থে। একই সাথে পড়াশোনা করেছেন, ক্যারিয়ারে যেই ডিগ্রী দরকার করে ফেলেছেন দ্বিধাহীন ভাবে, সন্তান বড় করেছেন এবং বিশ বছর থেকেই শিক্ষকতা করছেন। সব এক সাথে।
এখন মাকে দেখি আর মুগ্ধ হই। একজন মানুষ এত জীবনী শক্তি পায় কোথথেকে? সকাল নয়টা থেকে পাঁচটা স্কুল (হুম, অস্ট্রেলিয়াতে টিচিঙের জন্য প্রয়োজনীয় স্কীল আপগ্রেইডিঙের করে ফেলেছেন ঝটপট), তারপরেও বাসায় আনা স্কুলের কাজ, এরপরে রান্না বান্না, পরের দিন সবার লাঞ্চ রেডি করা, ঘর গোছানো, সামাজিকতা, বাগানের কাজ সব করে যান ঝট পট, ক্লান্তিহীনভাবে। বাবা মাকে ডাকে 'ম্যানেজার এন্ড এমপ্লয়ী'। একই সাথে দু'টোই। একটা কোম্পানীর ম্যানেজার কাজ করা ছাড়াই হাইলি পেইড হয় শুধু চিন্তা ধার দেয়ার জন্য। মা আমার বাথরুমের কল নষ্ট হলেও সেটা ঠিক করার ম্যানেজারি করে, আর ক্রমাগত শারিরীক শ্রম তো দেয়ই ক্লান্তিহীন ভাবে। একটা কিচ্ছু এদিক সেদিক হয় না। যে কোন দিন, যখনই মেহমান আসুক মাকে কখনও অপ্রস্তুত হতে দেখিনি। ঝটপট কিছু একটা রেঁধে ফেলেন। হঠাৎ এক সকালে উঠে লাউ পাতার ভর্তা জাউ খেতে ইচ্ছা করলেও তার উপায় হয়ে যায়। একবার বাবার সাথে অসহযোগিতা আন্দোলন করায় তো আমাদের অবস্থা সকরুণ। বাবা সকাল বিকাল রাত আমাদের ডাল আর আলু ভর্তা খাইয়ে প্রায় মেরে ফেলে আর কি... সামাজিকতাতেও বাবা গোল্লা পাবে।
বাবা মাকে সহযোগিতার সব রকম চেষ্টা করে। কিন্তু কর্মক্ষমতায় সত্যিই পেরে উঠে না। রান্নার সময় কিচেন হ্যান্ড হয়ে সব সময় পিঁয়াজ কাটা থেকে অন্যান্য কাজে সাহায্য করে, কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হয় না, দ্যা রিয়েল ম্যানেজার ইজ মা।
বাবা মা দু'জনেই কাজ করলে সন্তানদের প্রতি মনযোগ দিতে পারেন কম, এটা সত্য হত যদি মায়ের এত অফুরন্ত জীবনী শক্তি না থাকত। বাসায় কতগুলো বাধা নিয়ম আছে, যার জন্য হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের বাঁধন ঢিলা হয় না, একাকিত্ব কুঁড়ে খায় না যেমন:
1. বাসায় থাকলে, বিশেষত ডিনার আর উইকেন্ডে একসাথে খাওয়া দাওয়া, খাবার টেবিলে (অন্যথা হলে অবস্থা বারোটা বেজে যায়)।
2. সপ্তাহে একদিন, এক ঘন্টার জন্য নিয়ম বেঁধে বাসার সবার 'মিটিঙে' বসা 
3. সুযোগেই এদিক সেদিক বেড়িয়ে পড়া, একসাথে ঘুরতে যাওয়া।
এর প্রতিটাই নিয়ম করে হয় সেটা মা-ই দেখেন। এ গ্রেইট ম্যানেজার শি ইজ!
মাকে এত উদ্যোমে সব করতে দেখে আমার কিন্তু ভয় লাগে, মনে হয়, উহু আমি কখনও এত গুলো ফুল টাইম কাজ এক সাথে করতে পারব না, পারব না! এজন্যই দাবী জানাই, কতগুলো। একজন নারী হিসেবে, যেই নারীর হয়ে সমাজ সব সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে দেয় আর নারীর সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় যে কোন কাজে:
1. লেট মি ডিসাইট হোয়াট টু ডু! নারী অবলা এই চিন্তা আউট করেন, আমি চাইলে আমি বাইরে কাজ করব, চাইলে চাকরি ছেড়ে দিব। এই স্বাধীনতাটুকু চাই!!!
2. আমার বায়োলজিক্যাল নিডকে সামনে রাখবে এমন একটা সুস্থ সুন্দর কর্মক্ষেত্র। এখানেই মায়ের স্কুলে এক গর্ভবতী মহিলা খুব অসুস্থ থাকায় প্রায়েই ছুটি নিচ্ছেন বলে তাকে স্কুল বেতনহীন ছুটি নিতে বাধ্য করছেন। যেই পরিবারে নারীই প্রধান আয় করেন, সেই পরিবারের নারীর প্রতি কত বড় অবিচার হবে এই অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়া! বাংলাদেশে, আমার ছোট বোন হওয়ার সময় ছুটি না পাওয়ায় মা চাকরিই ছেড়ে দিয়েছিল মনে আছে।
3. চাকরীক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মান! যারা পাশ্চাত্যের মোহে ছুটেন, তাদের বলি, পাশ্চাত্যে চাকরী ক্ষেত্রে 'গ্লাস সিলিং' বলে একটা টার্ম প্রচলিত আছে। একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের পরে মেয়েরা আর উপরে উঠতে পারে না। একটা অদৃশ্য কাচের সিলিং তাদের গতিরোধ করে। পাশেই পুুরুষ সহকমর্ীরা তরতরিয়ে উপরে উঠে যায়, মুক্ত আকাশে। এমনকি, অনেক চাকরিতে একই কাজ করার পরেও নারীদের বেতন পুরুষদের চেয়ে কম। হুম, এটা সত্যি।
4. যৌথ পরিবারের প্রত্যাবর্তন!
ইংল্যান্ডে চাকরীর সময় মা নিজের চাকরী ক্ষেত্রের চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে আমাদের রাখতেন, তাই অত অযত্ন হয় নি। বাংলাদেশে আমাদের ফুপাত বোন বা খালা সাথে থাকত, এবং আমি মনে করি পরিবারের মানুষের স্নেহ ছায়ায় বড় হওয়ার বিকল্প কিছুই নেই। এখন থেকে লাইন দিয়ে রেখেছি, আমার লাইফ পার্টনারের মা বা আমার মা একজনকে আমার সাথে থাকতেই হবে
। আসলে যৌথ পরিবারের উষ্ণতা আমি পাই নি, যেটা থেকে কারও বঞ্চিত থাকা উচিৎ না।
পরিবার সমাজের ক্ষুদ্রতম কিন্তু সবচেয়ে পাওয়ারফুল ইউনিট। এই পরিবারের প্রয়োজনে নারী পুুরুষকে সহযোগিতা করতে হবে পরস্পরের সাথে। পরিবারের প্রয়োজনকে সামনে রেখে ইনডিভিজুয়্যাল নারী পুরুষকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন কি করবে!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০০৬ রাত ১:২৭
অতিথি বলেছেন:
আর সন্তানদের বঞ্চিত হওয়া একটা বাস্তব সমস্যা, পশ্চিমও এই সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না। সেজন্য যৌথ পরিবার আমার ভাল লাগে, নারীকে বেশি স্বাধীনতার সুযোগ করে দেয়, আমার মনে হয়।
অতিথি বলেছেন:
হা হা হা। আরে আপনার বাসায় আমার একটা দাওয়াত ডিউ তারপরেই না
।অস্ট্রেলিয়ায় আসেন, দশ আইটেমের কম হবে না
মদন বলেছেন:
ধমর্ীয় সীমা রেখা অতিক্রম না করে যে কোন হালাল কাজে নারীর বাধা আছে বলে মনে হয়না। তবে অবশ্যই সংসারের দাযীত্ব সুচারু রূপে পালন করেই।
অতিথি বলেছেন:
পোস্টটা 'আল্লাহ বাঁচাও' টাইপ বড় হয়ে গেছে। তাই একটা অংশ কাটিং করে মন্তব্য হিসেবে পেস্টিং করছি:আর একটা কথা, বিভিন্ন ব্যপারে আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকতেই পারে। এই যেমন আমার পুরুষদের সেলাই করতে দেখলে, বা খুব নিপুণতার সাথে কিছু করতে দেখলে বিচ্ছিরি লাগে। আমি জানি, সেক্সিসট অ্যাটিচুড, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত খারাপ লাগাটা অস্বীকার করতে পারি না। নারী বাইরে কাজ করুক আপনি ব্যক্তিগতভাবে চান না, দ্যাটস ফাইন। আপনার নিজের খারাপ লাগে, দ্যাটস ফাইন টু। কিন্তু এটাকে ইসলামের নামে চালায় দিতে গেলে আপনার সাথে আমার লাগবে। রাসুলের (সা) নিজের স্ত্রী খাদিজা (রা) নিজের ব্যবসা চালাতেন। আয়েশা (রা) শিক্ষকতা করতেন, বিভিন্ন বড় বড় সাহাবীরা তাঁর কাছে এসে পরামর্শ চাইত। তখনকার যুদ্ধাহতদের নার্সিং করত নারীরাই। সমাজের বিভিন্ন এসপেক্টে নারীর যেই অংশগ্রহণ, শুধু নিজের পরিবারেই না, সেটা আমাদের এখনকার সমাজে দেখা যায় না। যদি ইসলামকে সত্যিই ভালবেসে থাকেন, তাহলে এই যে নারীর বৃহত্তম ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি, এটা করতে আপনারও চেষ্টা করতে হবে। সমাজের অর্ধেকই নারী। এই অর্ধেককে অধিকার না দিয়ে, সমাজকে অর্ধেকের যা দেয়ার আছে তা না নিয়ে, অন্ধকারে ফেলে রেখে বেশি দূর আগানো যাবে না।
আর যারা ইসলামের দোহাই দিয়ে বলেন, ইসলামে শুধু নারীরই দায়িত্ব ঘরের কাজ করা, তাদের শুনিয়ে দিব ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমার (রা) এর ঘটনা, যাঁর ভয়ে তখন আবিষকৃত অর্ধেক পৃথিবী কাঁপত, সেই তিনি মাথা নিচু করে বউয়ের ঝাড়ি খেতেন চুপচাপ। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছেন, তাঁর স্ত্রী তাঁর ব্যস্ততাজনিত অনুপস্থিতিতে ঘরের অনেক কাজ করেন, যেগুলো করতে তিনি সত্যিই বাধ্য নন। তারপরেও যখন করেন, তখন বকা খাওয়ার মত ত্যাগটুকু স্বীকার করতে পারবেন না?
শুনিয়ে দিব মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে আয়েশা (রা) এর মন্তব্য, রাসুল (সা) ঘরের কাজে কি করে আয়েশা (রা) কে সাহায্য করতেন।
অতিথি বলেছেন:
আপনাকে দিয়ে হবে - তবে একটা সম্ভাবনা আছে - উগ্রবাদী মোল্লারা আপনাকে দলে ভেড়াতে চাইবে! একটু সাবধানে থাকবেন। আপনার এই টাইপের লেখাগুলো চমৎকার ! তবে আরো লিখুন!
অতিথি বলেছেন:
ধানসিঁড়ি, যোগ্যতা প্রমানের জন্য চাকরি, এটা আমি অপছন্দ করি। যেন নিজেকে সেরা প্রমান করতেই হবে।
কৌশিকদা, আমার বয়স কিছুদিনের মধ্যেই 20 হচ্ছে, কুড়িতে বাঙালি নারী বুড়ি হয় কিনা, আমার এখন মধ্য বয়স চলছে
অপ বাক বলেছেন:
সমস্যা যদি ত্রিভূজের পোষ্টে বা মন্তব্যে এমনটাই থাকতো তবে ভালো হতো, ত্রিভূজের পোষ্ট এবং যেই পোষ্টের সুত্র ধরে এই পোষ্টের অবতারনা সেই পোষ্টে করা ত্রিভূজের মন্তব্য 2টা যাচাই করে দেখো।নারী স্বাধীনতা নিয়ে কারও কোনো সমস্যা নেই। স্বাধীনতা মানে নিজের মতো বাছাই করে নেওয়ার অধিকার। নিজের যোগ্যতা অনুযায়ি সম্মান পাওয়ার অধিকার। ত্রিভূজ এই একটা জায়গা মানতে চাইছে না। বরং মেয়েদের কাজ বলে একটা নির্দিষ্ট অলীক কিছু তুলে আনতে চাচ্ছে, এবং এটাকে সমর্থন জানানোর কোনো অর্থ নেই, যা তুমি করেছো ঐ পোষ্টে।
অতিথি বলেছেন:
আস্ত আপনার বয়স কত একটু বলেনতো সত্যি করে? লেখার বয়স তো অনেক বেশী!
ধানসিঁড়ি বলেছেন:
যৌথ পরিবারে হয়তো একটু আধটু ঝগড়া-ঝাটির আশংকা থাকে তবে তারপরও আমি যৌথ পরিবারের কট্টর সমর্থক।
অতিথি বলেছেন:
অপ বাক, আমি ওটাকে সমর্থন করি নি। আপনি পড়ে দেখুন, আমার শেষ কয়েকটা বাক্য, আমি বলেছি, নারী কাজ করবে কি করবে না এই সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা নারীর উপর ছেড়ে দেয়া হোক, সেই দাবীই আমার করলাম।
নাসিমা বলেছেন:
জ্বী অব বাক, আপনি ঠিক ধরেছেন ত্রীভুজের লেখার আস্তর ষ্পস্ট সমর্থন বিদ্যমান। আপনাকে ধন্যবাদ বুঝে শুনে মন্তব্য করায়।
ধানসিঁড়ি ভাইয়া,
সন্তানকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলার জন্য নারী-পুরুষ দুজনেরই সমান দায়িত্ব থাকা উচিৎ। আপনার "............. যা পুরুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়" বাক্যটা 100% যুক্তিহীন ।
আস্তর "যোগ্যতা প্রমানের..................................................সেরা প্রমান করতেই হবে।" ভালো লাগলো। তবে সেরাটেরা বুঝি না ওর(পুরুষ) সমকক্ষ হওয়ার ইচ্ছা থাকা ভালো।
কালপুরুষ বলেছেন:
আস্তরে,ভাল লাগলো পড়ে। এখন থেকে এত বেশী সংসার নিয়ে চিন্তা করলে তোর জামাই কী করবে? আমারতো মনে হয় তোকে কাজে কর্মে সুপার উইমেন বানিয়ে সে নিজে সুপারম্যান হয়ে আকাশে ভেসে বেড়াবে।
ধানসিঁড়ি বলেছেন:
ধন্যবাদ নাসিমা:কিন্তু আপনি আমাদের এ সমাজ থেকে একটা উদাহরণ দেখান তো যেখানে পুরুষ সন্তানকে মানুষ করতে পেরেছে। নারী একজন পুরুষ ছাড়াই তা পারে, পুরুষ হাজারো চেষ্টা করলেও পারে না।
শাওন বলেছেন:
আপি , নাইস লেখা । আমি উপর থেকে 2 নম্বর কথাটা দেখে হেসে উঠেছি । 2/ সপ্তাহে একবার বাসার সবাই মিটিঙে বসা ।
যাকগা , মনে হয় কর্মি হয়ে গেছ / 4টার একটা জানলাম । এবার হচ্ছে রিপোর্ট রাখতেছো কিনা ?? টাকা-পয়সা খরচ করো কিনা ? দাওয়াত খাচ্ছ নাকি অন্যকে দিচ্ছ ??
হিহি
অতিথি বলেছেন:
নাসিমা, সমকক্ষ? আহা, তার মানে ধরে নিচ্ছেন,
নারী পুরুষের চেয়ে হীন? আচ্ছা... আর সমান পরিমানে টাকা উপার্জন করতে না পারলে অবলা নারী অবলাই থেকে যাবে? 'সমান' হতে পারবে না?
কি জানি ভাই, ওর (পুরুষের) থেকে কোন অংশে কম এটা কখনও আমার মাথায়েও আসে নি। কারণ তুলনা করার প্রশ্ন আসে না। মানুষ হিসেবে দু'জনের মর্যাদা সমান, এতটুকু জানি। অন্য দিকে তুলনা করা যায় না, তুলনা করতে হলে বলতাম, ও কখনও আমার সমকক্ষ হতে পারবে না। সেদিন একজন বলছিল, তার স্বামী তার প্রথম সন্তান হওয়ার সময় ডেলিভারী রুমে ছিলেন, শুধু ঘটনা দেখেই ফেইন্ট হয়ে গেছেন। আর নারীরা এটা সহ্য করেন, একাধিক বার। এই যে তীব্র এনডুয়ারেনস, এটা পুরুষরা চাইলেও অর্জন করতে পারবে না, কখনও 'সমকক্ষ' হতে পারবে না।
প্যাচাল লাগবে যদি আপনি অর্থউপার্জনের মত একটা ব্যপার দিয়ে সমান অসমান যাচাই করতে চান। নারী পুরুষ পুরো আলাদা। যদি একজন আরেকজনের পরিপূরক হতই, তাহলে দুইটা ভিন্ন ধারার প্রয়োজন হত না। প্রতিযোগিতা না, বরং সহযোগিতা হচ্ছে আমার দাবী।
ত্রিভুজের পোস্টের কিছু অংশের প্রতি আমার সমর্থন ছিল, তবে পুরোটা নয়। আমার এই পোস্ট পড়েছেন কি না সেটা হল কথা। পড়ে থাকলে বুঝার কথা আমার আপত্তি কোথায় ছিল।
অতিথি বলেছেন:
আস্ত.. অনেক দিন পর একটি সুন্দর পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ....বেশীরভাগ মানুষই আমার পোষ্টে বক্তব্য বুঝতে পারেনি... হা হা হা... তুমিও পারো নাই... এটা আমার ব্যার্থতা... তোমার মত সুন্দর করে লিখতে পারি না...
আমি কোথাও বলিনি নারীদের সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার বা সুযোগ নেই... আমার বক্তব্যের মাঝে আসলে এড বিশাল কোন ম্যাসেজ ছিল না... ওখানে শুধু কয়েকটি ইসু্যতে নারীদের একার সিদ্ধান্তের ফলাফল কি হতে পারে তা বলচে চেয়েছিলাম।
অন্যরা কেন বুঝে নাই তা জানি.. ওখানে এন্টি ত্রিভুজ ফ্যাক্টর ছিল... ত্রিভুজ যা বলবে তার বিরোধীতা করতে হবে এরকম একটা ইনটেনশন কাজ করছিল সবার মাঝে.. কিন্তু তোমার বুঝার কথা... যাই হোক..
তোমার বক্তব্যে যে চমৎকার মহিলার বর্ননা দিয়েছ (তোমার মা) উনি একজন exception ... আর exception যে উদাহরন হতে পারে না তা তুমি জান।
আমার বেশ কিছু বন্ধুর লাইফ ষ্টাইলে এই বাবা মা'র চাকরী করার ফলাফল আমি বাস্তব জীবনে দেখেছি। তাই ব্যাপারটি আমার কাছে এরকম...
ধানসিঁড়ি এখানে যে কমেন্টটি করেছে আমি তার সাথে পুরোপুরি একমত পোষন করছি।
আস্ত... এত দেরীতে দেরীতে পোষ্ট করলে চলবে কিভাবে। এখানে এত ফালতু সব মত ও পথ প্রদর্শন করা হয়... ওগুলোর বিরুদ্ধে তোমার লেখা খুজি সবসময়।
ভাল থেকো।
অতিথি বলেছেন:
কৌশিক, আমার দৃষ্টিভঙ্গি একটু গোত্রছাড়া টাইপেরই। সবকিছুতেই ডিফারেন্ট ওয়েভলেংথে চিন্তা করি, অসুবিধা নাই, দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেও বেশি দিন টিকব না

কালপুরুষ,
আর লজ্জা দেন কেন?

শাওন,
হা হা হা। আয়, কবে খাবি বল দাওয়াত খাওয়াব। কফি চলবে?

নাসিমা,
একটা শিশু জন্মের আগে নয় মাস মায়ের গর্ভে থাকে, জন্মের পরেও কিন্তু মায়ের মাধ্যমে সারভাইভেল শেষ হয়ে যায় না, পুরো দুই দুইটা বছর মায়ের কাছেই তার জীবনী শক্তি, তার খাবার লুকানো থাকে। আর একজন পুরুষ? শুধু একটা কোষ ডোনেট করা ছাড়া আপাত দৃষ্টিতে কোন কাজ করে? তাই সন্তানের উপর একজন মায়ের অধিকার অনেক বেশি, তেমনি কর্তব্যও অনেক বেশি। আলেকজান্ডারের মত আমিও বিশ্বাস করি, একটা ভাল মা হলেই একটা ভাল জাতি পাওয়া সম্ভব। তবে, তবে, আমি এই বলে পুরুষদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিচ্ছি না, বাবাদেরও দায়িত্ব আছে, তবে মায়ের বেশি। আর অবশ্যই দুই জনের সহযোগিতার মাধ্যমেই সুসন্তান হতে পারে। আর... কোন ধরণের মা, কোন ধরণের বাবা, বাচ্চাকে দেখা আমার দায়িত্ব না তোমার দায়িত্ব এই বলে ঝগড়া করবে? লাভিং বাবা মা মাত্রই তো যতক্ষণ সম্ভব সন্তানের সাহচর্যে কাটাতে চাইবেন!
ত্রিভুজ,
সবাই একসেপশনাল না জানি, তাই তো দাবীগুলো জানিয়েছি
আপনার যুক্তি আমি বুঝেছি ভাই, কিন্তু মেয়ে বলেই হয়ত, এই নারী টাইপের ব্যপারগুলোতে আমি একটু বেশি সেনসিটিভ। একটু অন্যরকম ভাব থাকলেই আমার ঘাড় তেড়ে উঠে। আমার ভাইয়া আমাকে তাই ফেমিনিস্ট ডাকে
। আর পছন্দের মানুষকে বিয়ে করা নিয়ে আপনি একটু সরলীকরণ করে মন্তব্য করে ফেলেছেন, এই ব্যপারে কালপুরুষ সুন্দর বলেছেন। আর আপনি শুধু মেয়ের উদাহরণ দিলেন কেন? আমার তাতে মেজাজ খারাপ হয়েছিল ওহ, এই মন্তব্যেও আমার মন্তব্যটা পড়েছেন তো?
মদন,
উপরের মন্তব্যটা পড়েন। বাধার প্রশ্ন আসছে কেন, নারীর অবদান ছাড়া সমাজের অনেক দিক যে অচল সেটা স্বীকার করে সেই দিকে নারীকে আন্তরিক ভাবে চান না রে ভাই!
অতিথি বলেছেন:
ধন্যবাদ আস্ত.... হা হা... মেয়েদের বেলায় বলেছি যেহেতু তর্কটা মেয়েদের অধিকার নিয়ে উঠেছিল... একই বিষয় ছেলেদের বেলাতেও.... তুমি মনে হয় লক্ষ করোনি আমি "একটি ছেলে অথবা মেয়ে" কথাটি ব্যাবহার করেছি। শুধু মেয়েদের বলে থাকলে বা কোন মেয়ে তা বুঝে থাকলে ফট করে রেগে যাওয়াটাই স্বাভাবিক এটা ভেবে যে, মেয়েরা নিজেদের ইচ্চেমত বিয়ে করতে পারবে না.. কিন্তু ছেলেরা পারবে এটা কেমন কথা ভেবে..আমি ছেলে এবং মেয়েদের আলাদা চোখে দেখি না... আসলে মেয়েরাই নিজেদের সবসময় আলাদা কিছু প্রমাণের চেষ্টায় রত....
তোমার এযুক্তিটি ঠিক আছে... নার্সর্িং এর বেলায় আমার সেই প্রশ্নটি আবারো এসে যাচ্ছে.... আমার বেশীর ভাগ ক্লায়েন্ট হলো বড় বড় হসপিটাল। ওখানে নার্সদের ডিউটি রোষ্টার দেখে আমার খালি মনে হতো এদের বাসা আছে কি না! 18ঘন্টা কাজ করেন এম নার্সও দেখেছি। বিদেশে অবশ্য ভিন্ন ব্যাপার... সাইন্টেফিক রিসার্চে সময় ওরা ওদের দেশের তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে কাজ করেছে। তাই ঐ ফলাফল আমাদের দেশে মনে হয় সেরকম খাটে না...
টিচিং পেশাটা মেয়েদের জন্য সুইটেবল.... এই পেশাটির কথা আমার মনে ছিল না.. আমার এক আন্তি একটি কিন্টারগার্ডেনের টিচার... দুপুরের ভেতরই উনি বাসায় ফিরে আসেন... উনার বাচ্চারা কিন্তু তখন বাসায় ফিরে নি... সুতরাং এই ক্ষেত্রে কোন সমস্যা দেখি না...
আমার কথা হলো যদি সমস্যা না থাকে তাহলে জব করতে কোন সমস্যা বা বাধা নেই আমার তরফ থেকে।
আর আমি যেসব ফ্যামিলি দেখেছি তাদের মা কিন্তু স্কুল চিটার নয়... সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিস করেন... সন্ধ্যার পর আবার ক্লাবে যান... দেন রাতে আসেন. বাসায়.... আমার এক বন্ধু আমাকে একবার বলেছিল "জানিস একই বাসায় থেকেও মম ও ড্যাডের সাথে মাঝে মাঝে সাপ্তাহে একদিন দেখা হয়"... এটি বলার সময় আমি তার চোখে গভীর বিষাদ দেখেছিলাম।
রাগ ইমন... অনেকগুলো পরিবার দেখার মনে হয় প্রয়োজন নেই... আমি যে কয়টি দেখেছি সেরকম যদি বেশীর ভাগ ফ্যামিলিতে হয় তাহলেই এতে আমার সমর্থন নেই.. আমার পোষ্টটি পড়ে দেখুন...
আস্ত.... চমৎকার কিছু ইসলামিক কমিউনিটির সন্ধান পেয়েছি... তোমার জিমেইল আইটি টা আমাকে মেইল করে দাও... এ...
অতিথি বলেছেন:
এখানে আপনার সাথেও আমার মতামতের তেমন পার্থক্য নেই। সেকারনেই যে পোষ্ট নিয়ে আমার আপত্তি, সেখানে আপনার মতেপার্থক আরেকটু স্পষ্ট আশা করেছিলাম। পাশ্চত্যেও নারীরা পুরোপুরি সমান অধিকার পায় না, কথাটি সত্যি। তবে ভাল কিছু প্রতিষ্ঠার জন্যে আমরা ভাল উদাহরণই সমানে তুলে ধরব, সত্যি নয় কি ?
আরেকটা কথা, আমরা যা ভাল মনে করি, যা আমাদের কাছে ভাল বলে অনুভুত হয়, তার সবই কি অন্যদের জন্যেও ভালো ? আমরা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ পাল্টে দেখি সবসময় ? আমরা তা সবসময় করি না, কারণ তাতে আমাদের সুবিধাবাদী চরিত্রে আঘাত আসতে পারে।
অতিথি বলেছেন:
ভাল লাগলো পোস্টটা পড়ে..........সন্তানকে সুসন্তান করা নারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজ । কৌশিক দার এই মন্তব্যের সাথে আমিও আছি।
তবে হ্যা কোন নারী যদি সংসারের কাজের সাথে অন্য কোন কাজ করতে চায় তাতে আমার সমর্থন রয়েছে ।আর তাদের সিন্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারেও কোন দ্্বিমত নেই...
তবে হ্যা তাদেরকে ক্ষেত্রগুলো বুঝতে হবে।আস্ত যেসব কর্মক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করলে তারমধ্যে শিক্ষিকা পেশাটা সবচেয়ে উত্তম বলে মনে করি।
রাগ ইমন বলেছেন:
বাবারা কি ভাবে মানুষ করতে পারে সেটা দেখার সাধ হলে চলে আসুন আমার কাছে তিন ভুজ যে বারে বারে নিজের দেখা পরিবারের কাহিনী শুনিয়ে চলেছেন , কটা পরিবার দেখে এই মহান সিদধানতে পৌছালেন ভাই? ঘরে পালিত মা বাবার ছেলে মেয়েরাআপনার চোখ এড়িয়ে গেল কিভাবে? আমি তো আমার জীবন কাটিয়ে দিতেছি এহেন নিখুত সংসারের খুত আলা সনতানদের সারাতে সারাতে।
মানুষের সমভাবনা অসীম। তা সে মেয়েই হোক আর ছেলেই হোক। কে কি পারবে তা নিরভর করে একজন ব্যকতির ুউপর।তার লিঙগের উপর নয়।
যারা শরীর নিয়ে বানী দিলেন, তাদের জন্য তথ্য হল, জগতের সবচেয়ে বেশী বয়সী চরম শকতিশালী বডি বিলডার ব্যকতিটি নারী , তার বয়স 60 বা 70, মনে পড়ছে না, এবং তিনি 28 থেকে 30 বয়সী বডি বিলডারদের হারিয়ে দিয়েছেন।
কোটি কোটি একলা বাবা ( সিংগেল ফাদার) দের অপমান না করে একটু জগত সংসারের ইতিহাসটা পড়ে দেখেন।
পরিশেষে বানানের বিরকতিকর অসহনীয় রূপের জন্য দু:খিত। আমি বিজয় ফোনেটিকে এখন ও অভ্যসথ না।
খোদা মাফ করে দিও
অতিথি বলেছেন:
এখানে টাইপ করতে গেলে দশ লাইনে বিশটা ভুল হয়ে যায় বানান.... সাবমিট করে দেবার পর খেয়াল হয় সেগুলে.... কিন্তু কমেন্ট এডিটের কোন ব্যাবসস্থা নেই.... এটি যোগ করা হোক... :/
অতিথি বলেছেন:
ধন্যবাদ আবু সালেহ।রাগ ইমন,
আপনি একজনের উদাহরণ দিয়ে সব নারীকে এক গোত্রে ফেলতে পারেন না। আমি নিজে 47 কেজির শুকনা পাতলা ফু দিলে উড়ে যাই টাইপের মানুষ, আমি তো সেটা বলবই না

ত্রিভুজ,
আপনি যার কথা বলছেন, তার সমস্যা অন্য জায়গায়, সেই পরিবারের খুব সম্ভবত স্বামী স্ত্রীর মধ্যেই সুষ্ঠু সম্পর্ক নেই, নেই পরিবার সম্পর্কে ভাল ধারণা। এর সাথে নারীর বাইরে কাজ করা প্যাচ খাওয়ানো উচিৎ হয় নি
তীরন্দাজ,
ত্রিভুজের চিন্তা ভাবনার প্রকাশ অনেক সময়ই আমার সাথে মিলে না। তবু অল্প কথায় কাজ সারি, ছোট খাট মন্তব্য করি কারণ, একটা ব্যপার বুঝেছি, ত্রিভুজ মিয়ার মাথাটা একটু গরম। ত্রিভুজকে নিয়ে সবাই একটু অহেতুক গুতাগুতি করে, সেই নোংরামিতে যেতে ইচ্ছা করে না।
সাইমুম বলেছেন:
লেখাটা ভালো লাগলো।নারী পুরুষকে নারীর চোখ দিয়ে আর পুরুষ নারীকে পুরুষের চোখ (উপলব্ধি) দিয়ে দেখে বলেই হিসাবটা মেলে না। নারী পুরুষকে পুরুষের চোখ দিয়ে এবং পুরুষ নারীকে নারীর চোখ দিয়ে ভাবতে পারলে অনেক ফ্যাসাদ মাইনাস করা যায়।
উক্তিটা একজন দার্শনিকের। আগে ফালতু মনে হতো। এখন মনে হয় না।
অতিথি বলেছেন:
1. 2. একমত। প্যাটারনাল লিভের আইডিয়াটা আমার দারুণ লাগে।
3. পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি কথাটা আমি বিশ্বাস করি না। এটা কোরআনে কোথাও নেই। একমাত্র হাদীস যেখানে আছে, সেখানে রাসুল (সা) তাঁর সাহাবীদের বলছিলেন, নারী পাজরের হাড়ের মত বাঁকা, তাদের সোজা করার চেষ্টা করলে ভেঙে যাবে, তাই সেই চেষ্টা কোরো না। লেট দেম বী, আর ট্রীট দেম উইথ কাইন্ডনেস। আমার কাছে হাদীসটা সুইট মনে হয়েছে, ম্যান আর ফ্রম মার্স এন্ড উইম্যান আর ফ্রম ভিনাস এই কথাটার ইসলামিক ভার্শন মনে হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ পরিষ্কার বলেছেন, নারী পুরুষ দু'জনের কাজই তাঁর কাছে সমান গ্রহনযোগ্য। অন্য ধর্মের কথা জানি না, কিন্তু আমার ধর্ম আমাকে এত উপরে উঠিয়েছে যে অভিযোগের চানস নেই। না হলে কি মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত হয়? না হলে কি বাবার প্রতি দায়িত্বের চেয়ে মায়ের প্রতি দায়িত্ব তিনগুণ বেশি হয়?
আরও আছে, ইসলামে নারীর উপার্জন পুরোটাই নারীর। নারী পরিবারে খরচ করতে বাধ্য না, যেখানে পুরুষ বাধ্য, আইনত। না খরচ করলে তার গুণাহ হবে। এই সব দিক বিচার করলে মনে হয় পুরুষের আন্দোলন করা উচিৎ অধিকারের জন্য! নারীর তো কতই আছে! অধিকার, সম্মান, শ্রদ্ধা!
গ্লাস সিলিং স্রষ্টা সৃষ্টি করে দেন নি আমি নিশ্চিত, এটা সমাজের, কালের আর মানুষের সৃষ্টি। তাই ভাঙা অসম্ভব কিছু না। পাশ্চাত্যে নারী এই সুখে সেই সুখে এটা যারা বিশ্বাস করে তাদের বলেছি। আমাদের সমাজ পাশ্চাত্য সমাজের ডুপ্লিকেইট হতে হবে কেন, পাশ্চাত্য আমাদের মডেল না। আরও সুন্দর মডেলের দিকে আগাতে হবে... এই আমার দাবী!
4. হা হা হা। একমত
পড়ার আর মূল্য বান মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
হযবরল বলেছেন:
যদি পাঁজরের হাড় না হয় তবে খুব আনন্দের কথা। ভূল জানতাম এতদিন। থ্যাংকস ।
হযবরল বলেছেন:
আপনার লিখাটা দ্্বিতীয় বার পড়লাম। ভালো লিখেছেন। সহযোগীতা এবং সহর্মমিতার মধ্য দিয়েই সত্যিকারের ভালবাসার সমর্্পক হয়। 1। লেটা ওয়ান ডিসাইড হোয়াট শী/হি ওয়ান্টস টু ডু। নারী ওয়াস নেভার বিন অবলা।
2। ছুটি থাকতে হবে । এমনকী প্যাটারনাল লিভ ও দিতে হবে। দুটো মানুষকেই দরকার এই সময়ে। একজন কেরি করে, একজন সাহস দেয়।
3। পাশ্চাত্যের মোহ বলে কিছু নেই, মোহ হচ্ছে জীবনের মান উন্নত করা। জীবনে সেরা সুযোগটা নেওয়া । আপনি গিয়েছেন কোথায় অতি প্রাচ্যে, একই কারনে। গ্লাস সিলিং, সমগ্র পৃথিবী জুড়ে আছে। মাইনরিটি হলেই এই সিলিং এ মাথা ঠুকে যাবে। পুরুষ শাসিত সমাজে নারী মাইনরিটি, তাই সিলিং এ ঠেকে যায় কেরিয়ার। বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক দায়িত্বপর্ূ ণ পোস্টে নারীরা সুযোগ পেয়েছে। হিলারী আগামীবার নমিনেশন পাওয়ার সম্ভাবান 80 ভাগ ডেমোক্র্যাট দল থেকে। লিখে রাখুন জিতবে না। আমেরিকা অত উন্নত হয়নি । এই জায়গায় বাংলাদেশ বেটার। মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে অমুসলিম হলে মাথা ঠেকে যাবে সিলিং এ। আমেরিকায় ব্লাক হলে ঠেকে যাবে মাথা, ব্রাউন হলে ঠেকে যাবে আরো আগে, মুসলিম হলে ঠেকে যাবে আরো আগে। পৃথিবীর সৃষ্টির সময় তৈরি হয়েছে গ্লাস সিলিং , না হলে খোদা পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে নারীকে কেন বানাবেন? আলাদা সত্তা হিসেবে বানিয়ে নারীকে পুরুষে র রাহু মুক্ত নিশ্চয়ই করতেন।
4। ভাল জিনিস, কিন্তু মানুষ নিজের ভাল কখনোই বোঝে না।
এই ভাল লিখার জন্য আবারও ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
ধানসিঁড়ি, তাওরাত কিন্তু শুধু বানী ইসরাইলীদের জন্য এসেছিল, সমগ্র মানব জাতির জন্য না। সেই হিসেবে আমি বলেছি যুগের অনুপযোগি। তবে হ্যা, রাবীদের করা বিকৃতি থেকে রক্ষা পায় নি এটা তো কোরআনেই এসেছে।
অতিথি বলেছেন:
বাইবেল সংকলনের ইতিহাস পড়ে নিয়েন। বাইবেলের বিভিন্ন ভারশন আছে, এক এক জনের ভাষ্য, যেগুলো গসপেল। ব্যসিক্যালি এর একটা একটা হল যীশুর শীষ্যদের লেখা যীশুর জীবনী। মাঝে যীশু বলেছেন বলে কোটেশন মার্কের ভিতরে মন্তব্য। ঈসা (আ) এর জীবন কালে বাইবেল কোথাও লিখা হয় নি। মজার ব্যপার হল, প্রথম বাইবেল লেখা হয় ঈসা (আ) এর অন্তর্ধানের কমপক্ষে 70 বছর পরে! হুম, অতদিন কে একজাক্ট কোট মনে রাখবে! তাছাড়া পল গ্রীক সমাজে বাইবেলের উপযোগিতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর অদল বদল করেছেন, এগুলো ইতিহাস ইনজিল আল্লাহ পাঠিয়েছেন, বাইবেলের যেই রূপ এখন আছে সেটা না। তাই এই বাইবেলের প্রতিটা স্টেইটমেন্টে বিশ্বাস করতে একজন মুসলিম বাধ্য না।
আর বড় ভাই ছোট ভাই নেই এখানে, এটা এক এক টা ভার্শনের মত। তাওরাত যখন যুগের অনুপোযগী হয়ে গেছে তখন এসেছে ইনজিল। ইনজিলের পরে এসেছে কোরআন।
অতিথি বলেছেন:
বাইবেলে আছে হাওয়া আদমের পাজরের হাড় থেকে সৃষ্ট। কোরআনে না।
হযবরল বলেছেন:
ঈসার জন্মের 70 বছর পর লিখা হয়েছে এটা এখনো ডিসপিউটেড প্রমানিত না। প্রতিবার ভর্াশন বদলের সাথে সাথে কি আদম-হাওয়ার জন্ম রহস্য পালটায়।
যাই হোক এগুলি নিয়ে কথা বাড়াব না। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।
হযবরল বলেছেন:
বাইবেল কিন্তু আল্লাহ পাঠাইছেন, কোরানের বড় ভাই।
অতিথি বলেছেন:
আহা! আস্তমেয়ের এই লেখাটা যদি আমাদের দেশের নারীনেত্রীরা পড়তেন এবং তার মায়ের মতো সব মায়ের জীবন হতো- তবে আমাদের দেশটা অনেকদূর এগিয়ে যেতো।আমাদের দেশের নারীনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন বা সংসারের খবর কী?
ধানসিঁড়ি বলেছেন:
সংশোধনী:তাওরাত যুগের অনুপযোগি হয়েছে বলাটা মনে হয় ঠিক না, আসলে তাওরাত বিকৃতির হাত থেকে রেহাই পায়নি এটা বলা যেতে পারে।
এই আমি মীরা বলেছেন:
আপুনি!!! তুমি এখন অনলাইনে???
অতিথি বলেছেন:
এই শোন, আমার টাকায় একটু শর্ট পড়ছে, অপর্ততে খাব কি না, তোর টাকার ভান্ডার থেকে তিন ডলার সরাচ্ছি, ওকে? পরে রিপ্লেইস করে দিব, নো প্রবলেমো
অতিথি বলেছেন:
তুই এখানে কি করিস রে পাজী? আমি এখন যাচ্ছি ডা ভিঞ্চি কোড দেখতে

ফাঁকিবাজি বন্ধ কইরা পড়াশোনা কর, হাতি ঘোড়ায় চড়তে পাবি
কনফুসিয়াস বলেছেন:
আস্তমেয়ে ,পাঁজরের হাড়ের কথাটা বাইবেলে ছিল? কুরআনে না? এটা আপনি নিশ্চিত জানেন?
বাহ, খুব ভালো একটা তথ্য জানলাম। এতদিন আমি জানতাম এটা কুরআনেরই কথা। হুমম, এরকম কত কিছু যে ভুল জানি কে জানে!
আপনার এই লেখাটা ভালো হয়েছে।
অতিথি বলেছেন:
কনফুসিয়াস, আমি নিশ্চিত এটা কোরআনে কোথাও নেই, বাইবেলে আছে। আপনারা অন্যের কথায় এত নাচেন কেন? নিজে কোরআন পড়ে নিবেন তো! কোরআনে কোথাও নেই এটা আমার স্কুলের ক্যাথলিক টীচার পর্যন্ত জানতেন, আপনারা জানতেন না, এখন একটু লজ্জা পাওয়া উচিৎ বলে তো আমার মনে হচ্ছে

হযবরল,
যদি বাইবেলের এতটাই অদল বদল হয় যে যীশুর সৃষ্টি ইতিহাস বদলে যাবে, কুমারী মাতা থেকে জন্ম নেয়া যীশু হয়ে যাবে ঈশ্বরের পুত্র, তাহলে রোমান প্রভুদের খুশি করতে হাওয়াকে আদমের পাজরের হাড় থেকে বানাতে অসুবিধে কই? কোরআনে বলা হয় নি, তাই ওই অংশটুকুকে অথেনটিক মেনে না নেয়ার স্বাধীনতা আমার আছে, আমার অথেনটিক মনে হয় নি।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
জি্বনা, কখনো নাচিনি। কুরআন না, দুনিয়ার অনেক বস্তুর খবরই আমি শুনে শুনে জেনেছি, নিতান্ত সন্দেহ না হলে সব পড়ে কনফার্ম করি নি। আর, কেন জানি লজ্জা ভাবটা আসছে না, নিজের উপর একটু বিরক্ত হয়েছি, সেটা ঠিক।
ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
বিষয়টি নিয়ে অনেক পোষ্ট ও মন্তব্য হয়ে গেছে, তেমন জড়াতে পারিনি ইচ্ছে থাকলেও, ব্যস্ততার কারণে। আর অন্যান্য ব্যাপারের মত হুটহাট মন্তব্যও দেয়া যায় না, তাই লিখিনি।ইসলামের সঠিক ভাবধারার সাথে স্বল্প পরিচয়ে, অজ্ঞতায় কিংবা বিকৃত লোভের বশবর্তী হয়ে যারাই ইসলামে নারীর অধিকার প্রসঙ্গটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা একসময় খুব ফায়দা লুটতে পেরেছিল। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে, ইসলাম তার প্রাথমিক ও সঠিক অবস্থানের ফিরে যাচ্ছে, আর তাই বিংশ শতাব্দীকে বলা হতো ইসলামের রেনেসাঁর শতাব্দী। ইসলামের নামে এখন আর যে কেউ নিজের মনগড়া কথা চালিয়ে দিতে পারছে না। এখন বাংলাভাষায় পবিত্র কুরআনের, সহীহ হাদীসগ্রন্থগুলোর এবং মিথ্যা হাদীসগুলোরও বাংলা অনুবাদ রয়েছে পর্যাপ্ত। চর্চাও বৃদ্ধি পাচ্ছে উত্তরাত্তর।
ইসলামে পর্দার বিধান মেনে চলে নারীরা পুরুষদের মত সবকাজেই অংশগ্রহণ করতে পারবে; কোন বাধা নেই। কিন্তু সৃষ্টিগতভাবে পুরুষ-নারীতে যে বৈশিষ্ট্য তাকে কেউ গায়ের জোরে তো আর বদলে দিতে পারবে না। একজন বাবা কোনদিনও উপলব্ধি করতে পারবে না যেমনটি পারেন একজন মা তার নাড়ীকাটা সন্তানের প্রতি যত্ন-আদর-প্রতিপালনে। পৃথিবীতে সৃষ্টিগতভাবেই স্রষ্টা প্রত্যেকের জন্য কিছু না কিছু আলাদা যোগ্যতা দিয়েই আমাদেরকে সৃজন করেছেন, এর বাইরে যাবার কোনই সাধ্য নেই আমাদের। কেউ বিদ্রোহ করে ভিন্ন কিছু চাইলে তার পরিণামও হয় ভয়াবহ, কখনো তৎক্ষণাৎ, কখনো ধীরে ধীরে। সুতরাং প্রকৃতি বলেন আর স্রষ্টা বলেন, তাঁর প্রদত্ত নিয়ম মেনে চলার মধ্যেই আমাদের কল্যান, সন্দেহ নেই।
অতিথি বলেছেন:
কোনকিছু না পড়ে ওখানে এটা লিখা আছে এটা বলাটা উচিত নয়।
অতিথি বলেছেন:
অথচ, 4 নাম্বার নিয়ে কেউ একটা শব্দও উচ্চারন করলো না?!!! রোবোটিক জগতে বাস করছি আমরা। অধিকারের কথা বলি, অধিকার ভঙ্গ করে!


















আপনার মাকে সালাম। দেশে আসলে ঠিকানা দিয়েন, সামনা সামনি সালাম দেব আর খানাপিনা না হয় নাই করালেন (জানিতো করাবেন)