আমার প্রিয় পোস্ট

ডিসক্লেইমার: মন্তব্য করুন নিজের মতই, কিন্তু তাতে আমার হৃদয়ের কাছাকাছি খুব প্রিয় মানুষদের কষ্ট পাওয়ার সম্ভবনা থাকলে সাথে সাথে ডিলিট হবে।

দিবসের টুকরো ভাবনা: 14 মার্চ

১৪ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৮:৪৮

শেয়ারঃ
0 0 0

সাইনসের ল্যাব পার্টনাররা ছেলে হলে বেশ সুবিধা হয়। একটু স্টেরিওটাইপ করা হয়ে গেলেও, সাধারন সত্য হিসেবে যা দেখেছি তাই বলছি--ছেলেরা যান্ত্রিক নৈপূণতার সাথে কাজ করতে পারে মেয়েদের চেয়ে ভাল। বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাবে মাইক্রোএরের ছোট ছোট ঘরগুলোতে কেসিন সল্যুশন ভরাট করতে গিয়ে নতুন করে টের পেলাম। আমার করা ঘরগুলো ভুলে ভরা। ভুল করে কম দিয়ে ফেলেছি, ভিতরে বাতাস ছিল খেয়াল করি নি। কিংবা একই ঘরে দুইবার বিশুদ্ধ পানি ঢেলেছি। ডেভিডের ঘরগুলো অদ্ভূত নিপূণ।

আমার বায়োকেমিস্ট্রির ল্যাব পার্টনার ডেভিড। বেছে নেয়ার স্বাধীনতা ছিল না, যার সাথে যাকে দেয়া হয়েছে। বেশ ভদ্র এবং চমৎকার ছেলে। পুরো সেমিস্টারে সপ্তাহে টানা তিন ঘন্টা এক সাথে কাজ করতে হবে, স্বস্তি পেলাম। সেটা শেষ মেষ। ওর সাথে পরিচয়ের শুরুতে হল অস্বস্তিকর কান্ডটা। 'আমি ডেভিড' বলে হাত বাড়িয়ে দিল। আমি অনাত্মীয় পুরুষদের সাথে হ্যান্ডশেইক করি না। এখানে গোঁড়া বলা হোক আর যাই বলা হোক, এটা আমার স্বনির্ধারিত সীমারেখা, যাকে আমি ধর্মীয় স্বাধীনতা হিসেবে দেখি। সমস্যা হলো, আমি খুব ভাল করেই জানি এই হ্যান্ডশেইকে কোন পাপচিন্তা নেই। নেহায়েত ভদ্রতা। আমি খুবই বিনয়ের সাথে 'না' করার চেষ্টা করি এবং পরে যতদূর সম্ভব চেষ্টা করি মনে যেন একটুও খারাপ লাগা না থাকে। কিন্তু, যেভাবেই 'না' করি না কেন, যাকে 'না' করা হবে, তাকে অপমানিত বোধ না করার জন্য খুবই ভাল হতে হবে, খুবই 'বুঝদার' হতে হয়। প্রতিবার 'না' বলি আর মনে মনে প্রার্থনা করি, আল্লাহ, ব্যাটা যেন আর যাই হোক, অপমানিত যেন না হয়, প্লীজ, প্লীজ, প্লীজ। ঔচিত্য অনৈচিত্যবোধ আর ভালো লাগা খারাপ লাগার প্রাত্যহিক গোলযোগের একটা সামান্য উদাহরণ মাত্র।

মনে পড়ে গেল হাইস্কুলের টিচার মিস্টার এন্ডিকটের কথা। আমার ম্যাথস স্যার ছিলেন। ম্যাথসে ফার্স্ট হওয়ায় আমার চেয়ে বেশি খুশি হলেন স্যার। ইয়া লম্বা লাল মুখো স্যার খুশিতে আরও লাল হয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন, 'কনগ্র্যাচুলেশনস ইয়াং লেডি'। 'না' করতে কষ্ট হল সত্যিই। কিন্তু করলাম। আমাকে খুবই স্বস্তি দিয়ে স্যার পুরা ব্যাপারটা মজা হিসেবে নিলেন। এরপরে, হাইস্কুলের পুরা দুই বছর আমাকে জ্বালিয়ে মারলেন। করিডোরে বা যেখানেই হোক, দেখা হলেই 'গুড মর্নিং' বলে হাত বাড়িয়ে দিতেন। তারপরে বিমর্ষ হওয়ার ভাব করে বলতেন, 'ওহ তুমি তো এখন আমাকে রিজেক্ট করবে।' বলেই আকাশ ফাটানো সে কি হাসি!

দিনগুলো এখন বেশ যাচ্ছে। আজ বাসা থেকে বের হলাম সেই সকাল আটটায়। বাসায় ফিরলাম রাত নয়টায়। সারাদিনে মাঝে এক ঘন্টার ব্রেইক ছিল কেবল। বাকি সময় ক্লাস আর ক্লাস। আমার একটা মজার ব্যাপার হলো, আমি খুব 'শান্তি' এবং 'স্বস্তিতে' থাকি, যদি ফাঁকিবাজি কম করি! যা 'করার কথা' তা ঠিক ঠাক মত মন লাগিয়ে করি। এখন সকাল ছয়টায় দিন শুরু হচ্ছে আর রাত বারোটায় রাত। অনেক দেঁৗড়, অনেক হাঁটা, কিছু বিশ্রাম, একটা এসএমএসের বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাওয়া, গভীর রাতে 'শ্রাবন মেঘের দিনে' পড়ে হাপুশ নয়নে কাঁদা... সব মিলিয়ে সত্যিই বেশ যাচ্ছে দিনগুলো।

 

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ১৪ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:৩০
অতিথি বলেছেন: হা হা হা ... মিঃ এন্ডিকটের সীন কল্পনা করতে পারছি ...
৩. ১৪ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:৫৩
অতিথি বলেছেন: আমার মনে হয় এই অস্বস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করে হাতটি এগিয়ে দিতে পারলে আপনার নিজের কাছেই ভাল লাগতো।
৪. ১৫ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ২:২৪
অতিথি বলেছেন: ধন্যবাদ হযবরল, জি্বনের বাদশা।

তীরন্দাজ,
উহু, কাজটা করতে 'সংস্কার' বাধা দিচ্ছিল তা কিন্তু না। আমি কোএড স্কুলে পড়েছি অনেক দিন, আমার মামাতো খালাতো ভাইবোনদের সাথে প্রচন্ড ঘনিষ্ঠতা। নিজেকে আলাদা করতে নিজের যুদ্ধ করতে হয়, মিশতে কোন বাধা নেই। এখানে আমি 'প্রচলিত সংস্কার' এর উলটো দিকে যাচ্ছি, অস্বস্তির সূত্র সেটাই। যদি হাত বাড়াতাম, তাহলে হয়তো ভাল লাগতো একজনের মনে শুধু শুধু অপমান বোধ না ঢুকিয়ে কিন্তু নিজের কাছেই ছোট হয়ে যেতাম, আইডিওলজিতে কনফর্ম করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে! এটা ছোট্ট একটা উদাহরণ কেবল, এমন অনেক টানাপোড়নে পড়তে হয় প্রতিদিন।
৫. ১৫ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৯:২৭
তাহসিন সাঈদা মুন বলেছেন: আমিও খুব শান্তিতে ও স্বস্থিতে থাকি যদি ফাঁকিবাজি কম করি। (সহজহাসি)
তবে আমি মহা ফাঁকিবাজ।
ভালো থেকো সবসময়
৬. ১৫ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১:০৫
কনফুসিয়াস বলেছেন: ঠিক কি বলে মানা করেন জানতে ইচ্ছে করছে, ব্যাপারটা খুব সহজ হবার কথা না। :-0!!
৭. ১৭ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:৪১
অতিথি বলেছেন: কনফুসিয়াস,
ব্যাপারটা একেবারেই সহজ নয়। খুবই কঠিন! সাধারনত হাত জোড়ের মত একটা ভঙ্গি করে বলি, Sorry I don't shake hands for religious reasons. But I really don't mean to offend you. Please don't get offended!

এই টাইপের কিছু!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯১৫৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
হে প্রভু, তুমি আমাকে অকল্যাণ বয়ে আনা এবং অর্থহীন কথা ও কাজ থেকে রক্ষা করো!

[link|http://www.somewhereinblog.net/shondhabatiblog|Ges Avwg]
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ