somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এখন, আস্তমেয়ে = সন্ধ্যাবাতি
এখন থেকে আস্তমেয়ে 'সন্ধ্যাবাতি' নামে লিখবে।

কোন নিগূঢ় কারণ নেই, নেহায়তই খেয়ালী মনের বেখেয়ালী সিদ্ধান্ত


(এর পরে করা দু'টো আজাইরা পোস্ট ডিলিট করা হলো। কারও নিতান্তই পড়তে ইচ্ছা করলে আমার কাছে ইমেইল করতে পারেন। মন্তব্যগুলো সহ পোস্টের কপি সংরক্ষিত আছে।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28704837 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28704837 2007-04-03 23:14:32
এক বছরে দুইশ পোস্ট (আস্তমেয়ে)
হু, দুইশ পোস্ট করেছি। এক বছর থেকেছি। তো কি হয়েছে? এমন করে ঘোষণা দিয়ে বক্তৃতা ছাড়ার কি আছে? আমি জানি, নো বডি কেয়ারস। কিন্তু, আমার কাছে এই দুইশটা পোস্ট আর একটা বছরের মূল্য যে অনেক বেশি! লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না একদম!

ব্লগে আর কারও এমন হয়েছে কি না জানি না, আমি কিন্তু যেদিন ব্লগ খুঁজে পেয়েছি তার পরের দিন থেকেই ধুমায়ে ব্লগ করা শুরু করেছি। একটুও অপেক্ষা করি নি, এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখি নি ঘটনা কি, লোকে কি বলে, কি শুনতে চায়। লেখার শুরুটা হয়েছিল একান্তই নিজের জন্য। বাংলাকে একটু কাছে পাওয়ার জন্য।

আমি দেশ ছেড়েছি পনের বছর বয়সে। হাতে গোণা অল্প কিছু বাংলা বই ছিল সাথে। ওগুলো এত পড়েছি যে ওগুলোর কোন পাতায় কি আছে, সব বলে দিতে পারব। কয়েকটা চিঠি লিখেছি বন্ধুদের। পাঁচটা সিডিতে পাঁচশর মত গান এনেছিলাম বাংলা। আমার বাংলা চর্চা বলতে তো এতটুকুই!

প্রবাসীরা বাংলা চর্চা যেভাবে করে, সেই পথগুলোতে আমি যাই নি। আমি খবরের কাগজ পড়ি না। খবরের কাগজ পড়লে আমাকে বিষণ্নতা আর হতাশায় পেয়ে বসে তাই। লোকে দেশের বাইরে গেলে খুঁজে খুঁজে ইন্টারনেটে বাঙালীদের ফোরাম বের করে, সেখানে আশ মিটিয়ে বাংলা চালায়। প্রথম প্রথম খুঁজেছি বাঙালী ফোরাম, গিয়ে হতাশ হয়েছি... যেগুলো পেয়েছিলাম সেগুলোতে টাঙ্কি মারা ছাড়া আর কিছু হয় না। মানুষগুলোর স্বপ্ন নেই, কেবল হতাশা। মানুষগুলোর জীবনের কোন দর্শন নেই, শুধু ভেসে চলা।

চলে আসলাম। প্রবাসী বাঙালীদের স্ট্রেস রিলিফের আরেকটা উপায় হল--সাপ্তাহিক বাঙালী আড্ডায় বাংলাদেশ এবং বাংলা চর্চা করা। এই ব্যাপারটা থেকেও আমি বঞ্চিত ছিলাম, কারণ আমার ওঠা বসা 'এদেশে' বড় হওয়া বাংলাদেশীদের সাথে, বাংলাদেশকে দেখার চোখ ওদের বড় বেশি 'আন্তর্জাতিক'। আমার আটপৌরে মা, যার ছায়ায় ঘরে ফেরার শান্তি পাই, সেই বাংলাকে খুঁজে পাই না।

ব্লগ খুঁজে পাওয়ার এক মাস আগে মোটে আমি বাংলাদেশ থেকে দ্্বিতীয়বার আসলাম। আমার প্রবাস জীবন শুরুর পরে প্রথম বাংলাদেশ ভ্রমন। খুবই নস্টালজিক। ব্লগ পেয়ে আমি মুক্তি পেয়ে গেলাম। আর কোন কারণ দেখাতে হবে, ব্লগ খুঁজে পেয়ে কেন বিপুল আনন্দিত হয়েছি?

অনেক তো পেলাম। খুঁজে খুঁজে বলতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে। আসলে গত এক বছর আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বছর ছিল। উহু, ব্লগিঙের জন্য না। গত বছরটা আমার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য খুব খারাপ একটা মার্কা মারা বছর ছিল। অনেক শিখার বছর। বড় হওয়ার বছর। দু' দু'টো বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার বছর, যেই দু'টো বড় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেকগুলো রাত নির্ঘুম কেটেছে। আমার স্বপ্নগুলো মাঝ পথে হুট করে হারিয়ে গিয়েছিল। রং হারিয়ে সাদা কালো হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়েই ব্লগ এল।

ব্লগে একটা বড় সময় কাটা ছাড়াও, অনেক ঘুরেছি। অনেক কিসিমের মানুষের সাথে মিশেছি। প্রচুর বই পড়েছি। আমার প্রথম পাঁচটা ব্লগ, মাঝের পাঁচটা ব্লগ আর শেষ পাঁচটা ব্লগ পড়ে বুঝতে বাধ্য হবেন, মেয়ে পরিবর্তিত, অভিযোজিত হয়েছে। ব্লগের বাইরের আর ভিতরের চাপে পড়ে।

মাঝে কয়েকদিনের যেই প্রচন্ড অর্থহীন, আনফেয়ার, জঘন্য রকমের কান্ড ঘটেছে আমাকে ঘিরে, শুধু ওই সময়টার ক্ষত এখনও শুঁকায় নি, শুঁকাতে সময় লাগবে। মানুষ কতটা বোধহীন হয়, আমার ছোট্ট জীবনে এত ভাল করে আগে বুঝি নি। ওই সময়ে কে কোথায় কি বলেছে তার প্রতিটা গাঢ় হয়ে বসে গিয়েছে মনে, ওসবের হিসাব আমার মিলে নি।

এছাড়া আর প্রতিটা মুহূর্ত আমার কাছে মহামূল্যবান।

ব্লগে সবচেয়ে বেশি যেটা উপভোগ করেছি, নি:সন্দেহে, বিনা হিসেবে বলে দিচ্ছি--এতগুলো মানুষের জীবন ছোঁয়া। একটা বড় সময় তর্ক করে, গালি খেয়ে, অভিমান করে, কম্পিউটার দুম করে বন্ধ করে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলে তারপরে চোখ মুছে একটা ঝগড়াটে উত্তর লিখে, ভাল লাগার ঢেউয়ে দুলতে দুলতে, খুব খুশিতে আত্মহারা হয়ে... সময়গুলো কেটেছে ব্লগারদের সাথেই। তাঁদের জানা মতে, কিংবা অজানায়। বেশ কয়েকজন ব্লগারের সাথে সম্পর্কটা ব্লগের পরিধি টপকে জিমেইল/এমএসএন/ইয়াহু, এসএমএস এমনকি ফোনে কথা বলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। আই লাভড ইট। মানুষগুলোর জীবন ছোঁয়া আমার জীবনের খুব বড় প্রাপ্তিগুলোর একটা। এভাবে না হলে কখনই, কোন হিসেবেই এই মানুষগুলোর সাথে আমার কথা হওয়ার কথা না। দিনে একবার কথা না হলে রাতে ঘুম হবে না, ওমন হওয়ার কথা না। ব্লগের জন্য হিসাব মিলে গেল।

এখানে মজার ব্যাপার হল, আমার ব্লগের চরিত্র তথাকথিত 'বিতর্কিত' বলে, ব্লগের বাইরের পিঠ চাপড়া চাপড়ি ব্লগে এসে পেঁৗছায় নি। একজনের নিজ মুখের ঘোষণা, 'আস্তমেয়ে'কে সে অপছন্দ করে, আসল আমিকে পছন্দ করে। ঝামেলা! এইটা শোনার পরে সত্যিই চিন্তায় পড়ে গেলাম, আমি তো কখনও অভিনয় করি নি, তবু আমার ভার্চুয়াল চরিত্র কেন অন্যরকম হবে?

[গাঢ়]ভেবে যা বের করলাম তা ব্লগিং শুরু করার একদম শুরুতেই জানলে আমার পুরো ব্লগিংটাই হয়তো অন্যরকম হতো।[/গাঢ়]

আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন, আমাদের যেই চেহারা ভার্চুয়াল জীবনে ফুটে উঠবে, সেটা কখনই পূর্ণ চেহারা না। আমাদের আসল 'আমিত্বের' খুবই অল্প একটা অংশ। সমস্যা হল, আমাদের সামনে ব্লগারদের বিচার করার মানদন্ড ওই একটায়, বিভিন্ন সময়ে তার বলা নানা কথাগুলো। নিশ্চিত হন আপনারা, ব্লগারদের পিছনের এক একজন মানুষ আসল জীবনে এর চেয়েও অনেক বড় (কিংবা ছোট!)। এই আমি, প্রথম দিকে পুরাটা সময় চেষ্টা করে গিয়েছি মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে। বোকা আমি বুঝি নি, মানুষগুলোর মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বিশ বছর ধরে। আমার বিশ মিনিটের উত্তরে তার কিচ্ছু বদলে যাবে না। এই আমির বেলাতেও তা সত্যি।

আরেকটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম। সাইকোলজিতে ইনডিভিজুয়াল সাইকোলজি আর গ্রুপ সাইকোলজি আলাদা করে গবেষণা করা হয়। এর পিছনের কারণ হলো, আমরা মানুষের সামনে বদলে যাই। অল্প মানুষের সামনে আমাদের চরিত্র এক রকম। বেশি মানুষের সামনে আরেক রকম। পরিচিত মানুষের সামনে একরকম, অপরিচিতের সামনে আরেক রকম। সামাজিক আমরা খুব অন্যরকম। ইন্টারেক্টিভ ব্লগ বলে ব্লগটাও আস্তে আস্তে সমাজ হয়ে গিয়েছে।

একই মানুষকে ব্লগীয় পরিসরে চিনে, আস্তে আস্তে ফোন পর্যন্ত আবিষ্কারের ব্যাপারটা সত্যিই অনন্য। ওই যে, বড়ত্বটা বড় করে ধরা পড়ে চোখে, তাই। আমার দুর্ভাগ্য, সবার থেকে খুব দূরে থাকি। না হলে মানুষগুলোর সাথে সময় কাটাতাম কিছু। আরেকটু ছুঁয়ে দিতাম।

আমার খুব মানুষ দেখার শখ। উত্তর বঙ্গে খালি পায়ে ঠেলা গাড়িতে চলার পাশাপাশি ইউরোপের আল্পস মুগ্ধ চোখে দেখতে চাই। চীনের কোন গ্রামে বসে পূর্বপুরুষের বন্দনা করতে চাই। আফ্রিকার সুন্দর মানুষগুলোর সাথে আগুন ঘিরে বসে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে চাই। সাউথ আমেরিকার খোলা মনের মানুষগুলোর সাথে গলা মিলিয়ে হাসতে চাই, গান গাইতে চাই। মধ্যপ্রাচ্যের মাথা গরম মানুষগুলোর পাশে কালো বোরখায় নাক ঢেকে 'কেউ একজন' হয়ে যেতে চাই। মেয়ে আমি। আস্তমেয়ে। মেয়েদের অনেক বাঁধা, নিজের তৈরি, সমাজের তৈরি, ভালবাসার তৈরি। কতদূর পায়ের চিহ্ন ফেলতে পারব জানি না। কিন্তু এই একটা বছর আপনাদের সাথে থাকলাম, অনেকগুলো 'মানুষ' দেখলাম... আমার খুব বেশি ভাল লেগেছে। খুব।

কখনও 'হুমকি' দেই নি, ব্লগ ছেড়ে ভাগব। দিবও না। এত পেয়ে নিমক হারাম হই ক্যামনে? তবে আপাতত এখানে দুইশ পোস্টই থাকুক। লিখব mܨvevwZ হয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28703099 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28703099 2007-03-22 06:20:12
বাংলাদেশ! আমার বাংলাদেশ!
ক্রিকেটারদের নাম সহ পুরা প্রোফাইল ঠোঁটস্থ ছিল তখন। এখানে আসার পরে ক্রিকেটের আনন্দ, দু:খ ভাগা ভাগি করার মত কেউ নেই বলেই উৎসাহ মরে গেল। এখানে সেখানে বাংলাদেশের বিজয়ের খবর ঠিকই চলে আসে মুখে মুখে, তখন উল্লসিত হই। গর্ব হয়। নস্টালজিয়া হয়। এই তো।

কালকের খেলা দেখি নি। কিন্তু রাত থেকে খেলার খবর ফলো করছিলাম। ব্লগে সবার চাপা উত্তেজনা আমাকে অনেক দিন আগের ওই সময়টায় নিয়ে গেল, পাকিস্তানের সাথে খেলার সেই তীব্র উত্তেজনামূলক সময়ে। এই অনুভূতিটা কি যে চমৎকার একটা অনুভূতি, কায়োমনো বাক্যের একান্ত প্রার্থনা, রক্তে রগবগে উত্তেজনা। বাংলাদেশের বিজয়ের পরে নিজেকে বড় বিচ্ছিন্ন দ্্বীপের মত মনে হল। কোথায় গেল সেই রক্তে ক্রিকেট ধারণ করার দিনগুলো? হৃদযন্ত্র ঠিকই জায়গা বদল করছে, বড্ড বেয়ারা হয়ে লাফালাফি করছে। বাংলাদেশ টীম জিতে নি তো রে, আমি জিতেছি, আমি! নইলে এত আনন্দ হবে কেন?

আমার বাংলা মায়ের মুখের হাসিটা এত সুন্দর কেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702661 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702661 2007-03-18 07:55:10
কম্পিউটিঙের জাহান্নাম ছেড়ে...
মাথায় কি ক্যারা ঢুকেছিল জানি না, এইচ এস সির পরে যখন আমি সাবজেক্ট চয়েস নিয়ে খুব কনফিউজড, তখন 'বায়োইনফরমেটিকসের' নাম শুনেই নিয়ে নিলাম। আসলে ইউনিভার্সিটি ওপেন ডে তে ওদের কথা শুনেই গলে গেলাম, আমাকে ঘোল খাওয়ানো সহজ--'বায়োলজিক্যাল রিসার্চ আর কম্পিউটিঙের অপূর্ব মিলন', 'খুবই এমারজিং ফিলড', মাত্র চার বছরের কোর্স, গ্র্যাজুয়েশনের পরেই চাকরি নিশ্চিত। মিনিমাম বেতন বছরে পঞ্চাশ হাজার। আহ, আহ! আমি ছাতা প্রোগ্রামিঙ নিয়ে কখনই ফ্যাসিনেটেড ছিলাম না। যেটা ছিলাম সেটা হলো ক্যারিয়ার নিয়ে মারাত্মক কনফিউজড।

ছোটবেলা থেকে কতবার যে ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা চিন্তা বদলালো। শেষ মেষ অনেক চিন্তা ভাবনা শেষে, চিন্তাভাবনাহীন বেকুবের মত ঢুকে গেলাম পুরাপুরি নতুন ফিলডে--বায়োইনফরমেটিক্স। বেশ অনেকগুলো এলাকা নিয়ে এক সাথে কাজ বায়োইনফরমিটিশিয়ানদের... বায়োলজি, কেমিস্ট্রি, ম্যাথস, কম্পিউটিং।

কম্পিউটিং ল্যাবে প্রথম দিন ঢুকেই যথেষ্ট কনফিউশন সৃষ্টি করল লিনাক্স বস্তুটা। তার চেয়ে বেশি কনফিউজড হলাম মেয়ের সংখ্যা দেখে। অস্ট্রেলিয়ার মত একটা উন্নত দেশেও কম্পিউটিং ক্লাসে ছেলে আর মেয়ের অনুপাত 20:1... কে বিশ্বাস করবে? আমার ছেলেদের সাথে পড়াশোনা করতে সমস্যা নেই, কিন্তু পুরা ক্লাসে 20 জন ছেলে আর আমি একা মেয়ে? (আম্মাআআ) তাও যদি স্বাভাবিক ছেলেরা হতো। প্রথম দিন তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করে সবগুলা জোট বেঁধে দেখি কম্পিউটার গেইমস খেলে! আরে জ্বালা! আমি আমার জীবনে কম্পিউটার গেমস খুব কম খেলেছি। স্ক্রীনের ভিতর কল্পিত ঘুষি দেয়ার চেয়ে বাস্তব জীবনে পাশের মানুষটাকে ঘুষি দিয়ে আরাম পাই বেশি। কম্পিউটারের প্রতি আমার যা ভালবাসা আছে তার কারণ এটা 'অন্য মানুষের' প্রতি জানালা খুলে দেয়। যারা অন্য মানুষদের থেকে দূরে থাকতে কম্পিউটারের কাছে থাকে তাদের সাথে আমার মিলবে ক্যামনে বলুন?

প্রোগ্রামিং পুরা ব্যাপারটাকেও ভালবাসতে পারলাম না একদম। কম্পিউটারের আসলে এক ফোঁটা বুদ্ধি নাই, একটা কমা বা সেমিকোলন কম দেয়ায় সারা রাত নষ্ট করে দিতে পারে। পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিতে পারে... নির্দয়! ওই বাগ খুঁজে বের করার যেই অন্ত:হীন ফ্রাস্টেশন... উফ, কখখনও ভুলব না! আমি পারলে কাঁদতে বসি আর কি। পুরা ব্যাপারটাই কেমন যেন, বড় বেশি 'অবাস্তব'। আমার মেট্রিক্স মুভ্যিটা ভাল লাগে নি, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো লেগেছে 'পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস', যেটা দেখে চরিত্রের সাথে কাঁদতে পেরেছি। আমি মানুষের অনুভূতি প্যাঁচ বুঝি, বা বুঝার চেষ্টা করতে পারি, কম্পিউটারের শুকনা তারের প্যাঁচ বুঝা আমার কম্ম না। হয়তো পার পেয়ে যেতাম, যদি তেমন মানুষদের পেতাম যাদের সাথে থাকলে মন ভরে। সিএসইর ছেলেদের কেন এত বদনাম হাড়ে হাড়ে টের পেলাম!

গত বছর খুব সাহসী একটা কাজ করলাম। 'কি করতে চাই' প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে পার্ট টাইম ইউনিভার্সিটি করলাম (মায়ের সাথে দীর্ঘস্থায়ী বাকযুদ্ধ এবং গোস্বা পর্ব চলার পরে)। প্রতি সেমিস্টারে চারটার বদলে দুইটা সাবজেক্ট... নো কম্পিউটিং ! গত সেমিস্টারে সাইকোলজি করে যখন খুব খুব ভাল্লাগলো, তখনই নিউরোসাইনসের খোঁজ পেলাম। আমাদের মস্তিষ্কের 1000000 বিলিয়ন নিউরনের পাকনামিতে যত আচানক ব্যাপার হয়, সব কিছুর কারণ নির্ণয়ের চেষ্টায় থাকে এই নিউরোসাইন্টিস্টরা। অনেকটুকু সাইকোলজি, অনেকটুকু ফিজিওলজি, অনেকটুকু বায়োকেমিস্ট্রি, অনেকটুকু এনাটমি। যত দিন যাচ্ছে, ভালবেসে ফেলছি খুব। আমি মানুষের মত এত ইন্টারেস্টিং এবং অন্তহীন কিছুর খুব গভীরে ডুব দিয়ে কাটাবো একজীবন, ভাবতেই ভাল লাগছে খুব!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702294 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702294 2007-03-15 07:45:43
সংগ্রহের ছবি: আগের পোস্টের সাথে ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702267 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702267 2007-03-15 04:54:19 দিবসের টুকরো ভাবনা: 14 মার্চ
আমার বায়োকেমিস্ট্রির ল্যাব পার্টনার ডেভিড। বেছে নেয়ার স্বাধীনতা ছিল না, যার সাথে যাকে দেয়া হয়েছে। বেশ ভদ্র এবং চমৎকার ছেলে। পুরো সেমিস্টারে সপ্তাহে টানা তিন ঘন্টা এক সাথে কাজ করতে হবে, স্বস্তি পেলাম। সেটা শেষ মেষ। ওর সাথে পরিচয়ের শুরুতে হল অস্বস্তিকর কান্ডটা। 'আমি ডেভিড' বলে হাত বাড়িয়ে দিল। আমি অনাত্মীয় পুরুষদের সাথে হ্যান্ডশেইক করি না। এখানে গোঁড়া বলা হোক আর যাই বলা হোক, এটা আমার স্বনির্ধারিত সীমারেখা, যাকে আমি ধর্মীয় স্বাধীনতা হিসেবে দেখি। সমস্যা হলো, আমি খুব ভাল করেই জানি এই হ্যান্ডশেইকে কোন পাপচিন্তা নেই। নেহায়েত ভদ্রতা। আমি খুবই বিনয়ের সাথে 'না' করার চেষ্টা করি এবং পরে যতদূর সম্ভব চেষ্টা করি মনে যেন একটুও খারাপ লাগা না থাকে। কিন্তু, যেভাবেই 'না' করি না কেন, যাকে 'না' করা হবে, তাকে অপমানিত বোধ না করার জন্য খুবই ভাল হতে হবে, খুবই 'বুঝদার' হতে হয়। প্রতিবার 'না' বলি আর মনে মনে প্রার্থনা করি, আল্লাহ, ব্যাটা যেন আর যাই হোক, অপমানিত যেন না হয়, প্লীজ, প্লীজ, প্লীজ। ঔচিত্য অনৈচিত্যবোধ আর ভালো লাগা খারাপ লাগার প্রাত্যহিক গোলযোগের একটা সামান্য উদাহরণ মাত্র।

মনে পড়ে গেল হাইস্কুলের টিচার মিস্টার এন্ডিকটের কথা। আমার ম্যাথস স্যার ছিলেন। ম্যাথসে ফার্স্ট হওয়ায় আমার চেয়ে বেশি খুশি হলেন স্যার। ইয়া লম্বা লাল মুখো স্যার খুশিতে আরও লাল হয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন, 'কনগ্র্যাচুলেশনস ইয়াং লেডি'। 'না' করতে কষ্ট হল সত্যিই। কিন্তু করলাম। আমাকে খুবই স্বস্তি দিয়ে স্যার পুরা ব্যাপারটা মজা হিসেবে নিলেন। এরপরে, হাইস্কুলের পুরা দুই বছর আমাকে জ্বালিয়ে মারলেন। করিডোরে বা যেখানেই হোক, দেখা হলেই 'গুড মর্নিং' বলে হাত বাড়িয়ে দিতেন। তারপরে বিমর্ষ হওয়ার ভাব করে বলতেন, 'ওহ তুমি তো এখন আমাকে রিজেক্ট করবে।' বলেই আকাশ ফাটানো সে কি হাসি!

দিনগুলো এখন বেশ যাচ্ছে। আজ বাসা থেকে বের হলাম সেই সকাল আটটায়। বাসায় ফিরলাম রাত নয়টায়। সারাদিনে মাঝে এক ঘন্টার ব্রেইক ছিল কেবল। বাকি সময় ক্লাস আর ক্লাস। আমার একটা মজার ব্যাপার হলো, আমি খুব 'শান্তি' এবং 'স্বস্তিতে' থাকি, যদি ফাঁকিবাজি কম করি! যা 'করার কথা' তা ঠিক ঠাক মত মন লাগিয়ে করি। এখন সকাল ছয়টায় দিন শুরু হচ্ছে আর রাত বারোটায় রাত। অনেক দেঁৗড়, অনেক হাঁটা, কিছু বিশ্রাম, একটা এসএমএসের বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাওয়া, গভীর রাতে 'শ্রাবন মেঘের দিনে' পড়ে হাপুশ নয়নে কাঁদা... সব মিলিয়ে সত্যিই বেশ যাচ্ছে দিনগুলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702155 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28702155 2007-03-14 08:48:54
আজ (আধা) হিপনোটাইজড হলাম!
আজকে সাইকোলজি টিউটরিয়ালটা ছিল হিপনোটাইজ করা নিয়ে। প্রথমে পুরা ক্লাস ব্যাপী সবাইকে হিপনোটাইজ করার একটা চেষ্টা করা হল, তারপরে এই নিয়ে লেকচার। খুব মনযোগ দিয়ে, একান্ত মনে কোন কিছু ভাবলে, আমাদের মস্তিষ্ক সেটাকেই সত্যি ভাবা শুরু করে। সেটাই হিপনোটাইজড হওয়া। কেউ কেউ খুব সহজে হিপনোটাইজড হয়। তাদের মধ্যে খুব মনযোগ দিয়ে কাজ করার প্রবনতা থাকে, সহজে বিশ্বাস করার প্রবনতা থাকে, নতুন জিনিস পরীক্ষা করার ইচ্ছা থাকে, কল্পনা বিলাসী মন থাকে। এই গুণগুলো সবার সমান পরিমানে থাকে না, তাই সবাইকে হিপনোটাইজ করা একই রকম সহজ না। কাউকে খুব সহজে করা যায়, কাউকে কখনই করা যায় না।

আমাদের কাছে ভদ্রমহিলা প্রথমেই প্রতিজ্ঞা করে নিল উলটা পালটা কিছু করাবে না, তাই স্বস্তি পেলাম। তারপরে বলা হল পুরো গায়ের প্রতিটা পেশী নরম করে চেয়ারে গা এলিয়ে বসতে। আমি স্যান্ডেল খুলে বসলাম! কি হয় দেখি! তারপরে বলা হল হাতের তালুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে। আমার ডান হাতের তালুতে একটা তিল আছে। লোকে বলে, তালুতে তিল থাকলে নাকি মানুষ বিদেশে যায়। এটার স্ট্যাস্টিক্যাল বেইস জানতে ইচ্ছা করছে। ভাবতে ভাবতে সেদিকে তাকিয়ে থাকলাম। খুব চেষ্টা করছিলাম মনযোগ দিয়ে এক সুরে বলে যাওয়া কথাগুলো শুনে যেতে। পারছিলাম না। একটা গোস্বা এসএমএস পেয়েছিলাম ক্লাস শুরুর আগে। প্রিয় কেউ আমার উপর রাগ করলে আমার খুব অস্থির লাগে। তবু চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু জ্বালা হল, ভদ্রলোক বলছে, 'তোমার ঘুম আসছে, ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে, তুমি চোখ খোলা রাখতে পারছ না'... আমার ঘুম আসছিল না

খুব চেষ্টা করলাম বিশ্বাস করতে। অত:পর, যখন বলল, 'তোমার চোখ বন্ধ, একদম বন্ধ, কিচ্ছু দেখতে পারছো না। তুমি গভীর ঘুমে আপতিত।' আমি তখন চোখ বন্ধ করে ফেললাম। গভীর ঘুমে না হলেও একটু ঘুম আসছিল বইকি!

তারপরে একসুরে বলা কথাগুলো বাঁ হাত উপরে তুলতে বলল। সোজাসুজি উপরে তোলা অবস্থায় কল্পনা করতে বলল, হাতের সাথে ভারি কিছু বাঁধা। হাত ভার সহ্য করতে পারছে না। নেমে আসছে। একটু একটু করে হাত নেমে আসছে। কি আশ্চর্য! আমার হাতটাও নামা শুরু করল। আমার একটু ভয় লাগল, চেষ্টা করলাম হাতটাকে স্থির রাখতে... আমি কি সত্যিই হিপনোটাইজড? আশ্চর্য, পারলাম না হাতকে স্থির রাখতে, কেউ একজন খুব জোড়ের সাথে নিচের দিকে টানছে।

এর পরে বলল, দুই হাত শক্ত করে এক সাথে ধরে রাখতে। এর পরে ভাবতে, হাত আলাদা করা যাবে না। এরপরে টেনে আলাদা করতে। ঠিক তখনই ভাবা শুরু করেছিলাম, আমি হিপনোটাইজড। কিন্তু হাত সহজেই আলাদা করে ফেললাম।

এরপরে বলা হল, ভাবতে, চোখ খোলা যাবে না। এবং চোখ খোলার চেষ্টা করতে। সত্যিই, খুব খুব চেষ্টা করলাম চোখ খুলতে। দুই চোখের পাতা সুপার গ্লু দিয়ে এক সাথে লাগানো ছিল। একটুও আলো আসতে পারল না, অনেক যুদ্ধ করেও খুলতে পারলাম না চোখের পাতা। বলল, মাথা নাড়ানো যাবে না--এতে বিশ্বাস করতে। তারপরে মাথা নাড়ানোর চেষ্টা করতে। মাথায় যেন কেউ দশ টনী ওজনের পাথর বসিয়ে দিল। খুব জোড় করে ঘাড়টাকে একটু একটু এদিক সেদিক নিলাম। দুই হাত উপরে তুলে যখন ভাবতে বললো হাতগুলো একটা অদৃশ্য শক্তি বলে একটা অন্যকে টানছে, তখন সত্যিই তাই হলো।

যখন আশ্চর্য হয়ে ভাবছি, ইশ, আমাকে হিপনোটাইজ করে ফেলবে এত্ত সোজা? পরেরটা বিশ্বাসই করব না। বলা হলো ভাবতে, মাথার উপর দিয়ে মাছি উড়ছে। হুট করে মনে হলো, ধুর হঠাৎ করে মাছি কোথথেকে আসবে। ব্যাস, কিছুতেই মাছি টের পেলাম না!

ক্লাসের একটা মেয়ে পুরা হিপনোটাইজড হয়ে গিয়েছিল, ঠিক এই পর্যায়ে বুঝা গেল। ও হাত দিয়ে মাথার উপর থেকে মাছি তাড়াচ্ছিল বিরক্ত হয়ে!

আধা ঘন্টার প্রক্রিয়াটা শেষে চোখ খুললাম। তখন বুঝলাম, হয়েছিলাম বুঝি বা আধা আধি হিপনোটাইজড। পুরাপুরি হই নি! হলে মন্দ হতো না অবশ্য!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701980 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701980 2007-03-13 00:43:14
সময়ের ফিতা ধরে উলটা যেতে চাই
আমার খুব প্রিয় একটা বন্ধুকে ফিরে পেতে ইচ্ছা করছে। খুব খুব। রাজ্যের হাবিজাবি কথায় ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতে ইচ্ছা করছে। একদম আড়াল ছাড়া, জটিলতা ছাড়া আমার সেই আগের দোস্তটাকে ফিরে পেতে ভীষণ ইচ্ছা করছে, বকাবকি করতে ইচ্ছা করছে, জোড় খাটাতে ইচ্ছা করছে, বন্ধুত্বের যন্ত্রনা পেতে ইচ্ছা করছে। ভীষণ।

একজন আমার ব্যাপারে প্রায়েই এই মন্তব্যটা করে... জীবনকে আমি নাকি খুব সহজ ভাবে নেই। জীবনের অনেক রাস্তাই যে 'ওয়ান ওয়ে' সেটা আমার মাথায় খেলে না। মাঝ পথে রাস্তা পছন্দ না হলে উলটা হাঁটা দেই আর আশা করতে থাকি, আমি আবার মূল রাস্তায় ফিরে আসব, 'সব কিছু আগের মত হয়ে যাবে'। কেন যে হয় না! ধুর ছাই, বোকা আমি যে কেন বুঝি না!

আরও দু'টো মন্তব্য করেছিল একই মানুষটা... আমি নাছোড়বান্দা। আর আমি যার ব্যাপারে মোহগ্রস্ত তাকে মোহাবিষ্ট করার সবটুকু ক্ষমতা আমার আছে। বন্ধুত্বের মোহে আবিষ্ট করতে চাইছি নাছোড়বান্দা আমি, তবু পারছি না কেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701511 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701511 2007-03-09 06:15:14
একজন নারীর প্রতি সালাম
আমার জীবনে দেখা প্রথম নারী, আমার মা। আমি বরাবর মুগ্ধ হই মাকে দেখে। আরও হব।

মেয়েটার শৈশব কেটেছে গাছে গাছে। হাডুডু খেলে। নদীতে সাঁতার কেটে। 'গাইছ্যা বান্দর' উপাধি পেয়ে। এসএসসিতে পুরো জেলা হাইস্কুলের ছেলেমেয়ে সবার মধ্যে ফার্স্ট হয়েছে। অনার্সে উঠতেই বাবার সাথে বিয়ে। মায়ের মোটেও ইচ্ছা ছিল না বিয়ে করার, কিন্তু ফ্যামিলির সবার কথা ছিল, মেয়েরা অনার্স পাশ করে ফেললে লোকে ভাবে বেশি বয়স হয়ে গিয়েছে, তাই আর কেউ বিয়ে করতে চায় না! বেছে নেয়ার স্বাধীনতা ছিল না বলেই উনিশে বিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বেশির ভাগ মেয়ে কম বয়সে বিয়ের পরে বলে অতো কম বয়সে বিয়ে করা উচিত হয় নি। আমার মা বলে, উনিশে বিয়ে করেছি বলেই জীবনটাকে এত উপভোগ করতে পেরেছি, সবার উচিত উনিশে বিয়ে করা!

অথচ, প্রথম জীবন কষ্টে কেটেছে। মায়েদের বাড়িতে বড়লোকী না থাকলেও অন্তত: খাবার খাওয়া যেত পেট ভরে। ঢাকা ইউনির লেকচারার বাবার পকেটে তখন খুবই সীমিত আয়। দিনের পর দিন কেটে যায় এক রুমের ঘরে, শুধু ভাত আর আলু ভর্তা খেয়ে। মাসের শেষে তবু লোনের বোঝা। অসুস্থ দাদু গ্রাম থেকে এসে থাকে নব বিবাহিত বাবা মায়ের ওই এক রুমের ঘরে। ওই সময়টার কথা বলতে গিয়ে বাবার চোখে এখনও পানি টলটল করে। উনিশ বছরের কিশোরী মা প্রচন্ড ভালবাসায়, প্রচন্ড বুঝদার হয়ে সংসারের হাল না ধরলে আজ এখানে থাকতাম না হয়তো। সেদিন নানু শুনছিল সব, বাইশ বছর আগের কষ্টের কথাগুলো এত দিন কিচ্ছু জানত না, যা এখন অনেক দূরের অতীত। বিয়ের এক বছরের মাথায় ভাইয়া, আড়াই বছরের মাথায় আমি!

'নারী অধিকারের' ধূয়া তখন। মা 'না' হওয়ার অধিকার মায়েদের হাতে। কিন্তু এটাই যে অনেকের জন্য কাল হয়! হ্যা, অর্থনৈতিক ভাবে হয়তো ঠিক বুদ্ধিমতীর কাজ ছিল না, কিন্তু একটা বিশ বছরের মেয়ে মা হওয়ার পরে আত্মীয় স্বজন সবাই যেভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করছিল, 'এত তাড়াহুড়ার কি ছিল' বলে , মেয়েটার আনন্দে আনন্দিত না হয়ে, সাহস যা দরকার তার একটুও না দিয়ে, মমতার হাত না বাড়িয়ে, ব্যাপারটার কষ্টবোধ মাকে ছেড়ে এখনও যায় নি। তবু আমার সাহসী মা সেই সময়টাকে উপভোগ করেছে বুঝা যায়। ইংল্যান্ডে, স্বজনদের থেকে অনেক দূরে মা তখনও কাজ করে দু'টো বাড়তি পয়সার জন্য। কাঁধে আমাকে ঝুলিয়ে, প্র্যামে ভাইয়াকে ঠেলে। তবু, এখন অ্যালবাম ভর্তি সেই সময়ের ছবি। মা নাকি তখন পুতুল খেলার মজা পেত আমাদের পালতে। আমাদের প্রতিটা মুখভঙ্গি নাকি ভাল লাগত, ক্যামেরায় ধরে রাখতে ইচ্ছা করত। এখন যখন মা শুনে কেউ সন্তান নিতে দেরি করছে, তখন কষে ঝাড়ি লাগায়। 'এই সুন্দর সময়টা কি বসে থাকবে?'

তো, উনিশে বিয়ে, বাইশে দুই সন্তানের মায়ের ভাগ্যে আর কি থাকতে পারত? সারাজীবন রান্নাঘরে হাঁড়ি ঠেলা, স্বামীর পদসেবা, সন্তান প্রতিপালন আর বিনোদন হিসেবে পরচর্চা করা ছাড়া?

মা তিন সন্তানের মা হয়েও থেমে থাকে নি। মনে আছে, মীরা যখন একদম পিচ্চি, তখন মা ইকোনমিক্সে অনার্স পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা আরেকটু বড় হওয়ার পরে, একটা ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে ফুল টাইম চাকরীর পাশাপাশি আমাদের সামনেই মা একে একে বিএড, এমএড করলো। অথচ অবহেলিত হই নি একদম। আমাদের জীবনে বাবার চেয়েও বেশি করে পেয়েছি মাকে। সেই সময়টায়, যদি বাবাকে পাশে না পেত, তাহলে মায়ের পক্ষে কখনই পড়াশোনা করা সম্ভব হতো না। চাকরীর চাপে পড়াশোনা ঠিক মত করতে না পেরে পরীক্ষার আগের দিন যখন মা খুব নার্ভাস, তখন বাবা পাশে বসে সাহস দিত। পড়া বুঝিয়ে দিত। রাগ জাগত মায়ের সাথে। কাজের মেয়ের লবন বেশি দেয়া পুঁড়ে ফেলা ভর্তা ভাজি খেয়ে ফেলত সোনা মুখ করে। সবাইকে অবাক করে আমার সুপার উইমেন মা বিএড এমএড দুইটাতেই ফার্স্ট ক্লাস পেল! অস্ট্রেলিয়ায় এসেও অবলীলায় পড়াশোনা করে স্কুল টিচার হয়ে গেল। সেই কঠিন সময়ও বাবা থেকেছে একদম পাশে।

বাবার দিকের সংসারের অনেকটুকু অর্থনৈতিক দায়িত্ব বাবার। সীমিত আয়ে বরাবর টানাটানিতে বড় হয়েছি। ছোট বেলা বুঝতাম না, এখন বুঝি: প্রতি মাসের শেষেই ঋন বোঝা হয়ে থাকত। ক্লাসের সবাই দেখতাম পকেট মানি পায়, পাঁচ টাকা দশ টাকা যাই হোক। আমি লাঞ্চে আটা রুটিও নিয়ে গিয়েছি অনেক, তবু কখনও পকেট মানি পাই নি! তখন বুঝি নি, এখন বুঝি, কি শক্তভাবে সংসারের হাল ধরে ছিল মা বরাবর, এখনও আছে।

শুনেছি যেই নারীরা ক্যারিয়ার সচেতন হয়, তারা রাঁধতে জানে না, সন্তানদের সময় দিতে জানে না, ভালবাসতে জানে না, 'নারী' হতে জানে না। ক্যামনে বিশ্বাস করি বলুন, মাকে দেখেছি যে! এই বিদেশ বিভঁূইয়ের যান্ত্রিক জীবনেও প্রান আছে মায়ের জন্যই... মায়ের বদৌলতে এখনও প্রতিদিন শাক খাই, শিম-লাউ-বেগুন খাই। মায়ের হাতের রান্না যে একবার খেয়েছে, সে বার বার খেতে চাইবে!

সকাল আটটায় বের হয়ে গিয়ে, সারাদিন বাচ্চাদের আর স্কুলের কলিগদের সাথে চিল্লাচিলি্লর পরেও কি করে মা বাসায় এসে রান্না করে আমার জানা নেই। বাবা একেবারেই রাঁধতে জানে না, কিন্তু সাহায্য করে পুরাদমে। মাছ কুটে দেয়া, বা পেঁয়াজ কেটে দেয়া। দুই বুড়াবুড়ি টুকটুক গল্প করতে করতে রান্না ঘরে কাজ করে, ভালোই লাগে দেখতে! বা সব শেষে হাড়িকুড়ি মেজে ফেলে বাবা! অনেক বাবাদের দেখেছি আলাদা বাটিতে আলাদা তরকারি পেলে বর্তে যাই। বাবাকে রাগ করতে দেখেছি 'আলাদা' কিছু দিলে!

আমাদের পরিবারের কাছাকাছি এসেই মানুষ হিংসায় জ্বলে পুড়ে। কারণ এখনও আমরা সবাই বাসায় একসাথে থাকলে খাবার টেবিলে বসে একসাথে খাই। একদম ছোটবেলা থেকে এই নিয়মের ব্যাতিক্রম দেখি নি। খেতে খেতে হাত শুকিয়ে গেলে তবে উঠি। যখনই সময় পেতাম, ঢাকায় আমরা সন্ধ্যার পরে বের হতাম ফুলার রোডে ফুচকা খেতে। এখানে উইকেন্ডগুলো প্রায়শ:ই বাইরে যাই এক সাথে। পুরো ব্যাপারটার অরগেনাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান মা।

প্রতিদিন সকালে সবার লাঞ্চ রেডি করা থেকে ঝাড়ি দিয়ে নাস্তা করানো, বাইরে বের হওয়ার সময় তালা দিয়ে যাওয়ার কথা দশবার মনে করিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে খাটের মাথায় কাপড়ের স্তুপ ঠিক করে রাখার জন্য ঝাড়া ঝাড়ি... সব ওই মহিলার কাজ।

প্রচন্ড 'সামাজিক' মহিলা। দেশ থেকে আসার সময়ও দেখেছি কত মানুষ মায়ের হাত ধরে কাঁদছে। আত্মীয়তার কিচ্ছু নেই অমন মানুষগুলো। ঢাকায় ফিরে গিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকতো মা। বহু আগের কোন এক ছাত্রের মা যখন শুনে মা দেশে ফিরেছে, তখন ছুটে এসে দেখা করে। এখানেও কি করে সবাইকে হিপনোটাইজড করে ফেলেছে, 'ভাবী' বলতে অজ্ঞান। যেখানে যে অসুস্থ আছে বা বাসা বদলাচ্ছে, তার জন্যই মা হাজির টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি ভাত তরকারি নিয়ে। দাদুবাড়ি নানুবাড়ি দুই গ্রামেরই সব সমস্যাগ্রস্ত মানুষেরা মাকে চিনে। এখনও চিঠি লিখে পাঠিয়ে দেয় সিডনীর নাম করে, কারণ জানে, এই এক মহিলা কখনও ফিরিয়ে দিবে না।

মিনা কার্টুনের রেলেভেনস বুঝতাম না ছোট বেলায়, কারণ, আলহামদুলিল্লাহ, আমার মা বাবার মধ্যে একজনের জন্য আরেকজনের শ্রদ্ধাবোধের কমতি দেখি নি কখনও। ভাইয়া আর আমার পড়াশোনার মধ্যে যে কোন তফাৎ আছে, তাও মনে হয় নি কখনও।

বাবা বলে, বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আমার মা।

সব পুরুষেরা আমার বাবার মত না, আমি জানি। সব নারীরা আমার মায়ের মত না, আমি জানি। বড় ভাগ্যবতী আমি, আমার বাবার মত পুরুষের ঔরসে হয়ে, মায়ের মত নারীর গর্ভে জন্মে। ওঁদের মহত্বের একটু খানি পেলেই আমি বর্তে যাই। নারী দিবসে একজন প্রকৃত পুরুষ--আমার বাবার প্রতি সালাম। একজন প্রকৃত নারী--আমার মায়ের প্রতি সালাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701467 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701467 2007-03-08 17:06:03
প্রেমে পড়ার ওষুধ খেলাম?
সাইকোলজি ফ্যাকালটিতে সারা বছরই বিভিন্ন সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ওগুলোতে সাবজেক্ট হিসেবে অংশগ্রহন করলে কখনও টাকা পাওয়া যায়, কখনও পরীক্ষায় বোনাস নম্বর পাওয়া যায়, কখনও স্রেফ রিসার্চের পদ্ধতি সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়। পরীক্ষায় বোনাস নম্বরের লোভে সাইকোলজির এক্সপেরিমেন্টগুলোর উপর চোখ বুলাচ্ছিলাম, তখনই দেখলাম বিজ্ঞাপনগুলো। ওরা দাবী করছে, 'লাভ পোশন' বা প্রেমে পড়ার ওষুধ খাওয়াবে সাবজেক্টদের, তারপরে তাদের পরিবর্তন নিয়ে নীরিক্ষা চালাবে!

আমি তো পুরা পাংখা! লাভ পোশন হিসেবে যাকে দাবী করেছে তা নিয়ে একটু রিসার্চ করলাম। 'অক্সিটসিন' নামের হরমোনটা মেয়েদের শরীরে পাওয়া যায় মার্তৃত্বের সময়। সে এক জাদুকরী ব্যাপার! একটু ভাবলে বুঝা যায় মাতর্ৃত্বের মত একটা দীর্ঘস্থায়ী শারিরীক (অন্তত: তিন বছরের মামলা) এবং মানসিক কষ্টকর ব্যাপারের মধ্য দিয়ে একবার যাওয়ার পরে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আর যেতে চাওয়ার কথা না। এই অভিজ্ঞতার কথা জানার পরে মা হতে চাওয়ার কথা না। অথচ প্রতিটা মেয়ে, সব জেনে শুনেও মা হতে চায়। একবারেই ক্ষান্ত থাকে না, বার বার হতে চায়। মার্তৃত্বের অনুভূতিটা ঘৃণা করে না, বরং ভালবাসে। এর জন্য অনেকাংশে দায়ী এই অক্সিটসিন। অক্সিটসিন, যাকে বলে 'মায়াভাব' জাগিয়ে দেয়, খারাপ আর কষ্টকর স্মৃতি ভুলিয়ে দেয় (এই জন্যই কি মেয়েরা প্রেমের ছ্যাঁকা ছেলেদের চেয়ে ভালো হজম করে? জানি না।), ভালবাসিয়ে দেয় আশে পাশের মানুষদের।

অক্সিটসিন একটা বড় ফ্যাক্টর, কেন পিতর্ৃত্বের ভাব ঠিক মার্তৃত্বের ভাবের মত প্রগাঢ় না। আয়েশা আপু মেডিসিনে পড়ছে, ও বলছিল কিছু পরিসংখ্যানের কথা। অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান জন্মানোর সময় প্রচুর সন্তানের বাবা নিজের ভালোবাসার মানুষটার হাত ধরে থাকতে চায়, কষ্ট যা করার দু'জন এক সাথেই করব এই বাসনায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ছেলেগুলোর অর্ধেকেরও বেশি কিছুক্ষনের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যায়, ভালোবাসার মানুষটাকে তড়পাতে দেখা সহ্য করতে পারে না বলে। ছেলেরা একই কষ্ট চোখের দেখাও সহ্য করতে পারে না, অথচ মায়েরা, কি আশ্চর্য প্রক্রিয়ায় পুরো কষ্টটা নিজেরা সহ্য করে তারপরে বেমালুম ভুলে বসে থাকে। আগ্রহ ভরে আরও একবার একই কষ্ট চায় নিজের করে। তারপরে আরও একবার! কোন এক ভয়াবহ শারিরীক ত্রুটির জন্য যদি মায়ের শরীরে অক্সিটসিন তৈরি না হয়, তাহলে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় না ওভাবে। অনেক মা তার যাবতীয় দুর্ভোগের জন্য সন্তানকে দাবী করে এক সময় সন্তানকে ঘৃণা করা শুরু করে। এরকম খবরে আসে, মায়েরা নবজাতককে নিজ হাতে হত্যা করেছে। অনেক সময় এই শারিরীক ত্রুটির জন্যই। সব জেনে অনেক বার আলহামদুলিল্লাহ বলতে ইচ্ছা হয়!

আমার ধারণা বাঙালী মেয়েদের মধ্যে আল্লাহ বাড়াবাড়ি রকমের অক্সিটসিন ঢেলে দিয়েছে!

যাই হোক, মহা আগ্রহ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টে নাম লিখালাম। তবে এক্সপেরিমেন্ট প্রসিজার শুনে একটু দমে গেলাম। প্রথমে আসল 'প্রেমে পড়ার ওষুধ' [গাঢ়]বা[/গাঢ়] একটা ভেজাইল্যা ওষুধ খাওয়ানো হবে। তারপরে ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হবে। ওই শক খাইতে খাইতে কম্পিউটারে কতগুলা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে । আমি কই, যাহ আমার লাগবো না প্রেমে পড়ার ওষুধ। ন্যাচারালি যা প্রডিউসড হচ্ছে তাই সই। কিন্তু আমাকে ভুজং ভাজং দিয়ে কি করে যেন রাজি করে ফেলল । তারপরের ঘটনা অতি করুণ, আমাকে কি একটা খাওয়াইলো বটে, তারপরে চেয়ারের সাথে বেঁধে ইলেক্ট্রিক শকও দিল (আম্মাআআ)। আসলে বান্ধে নাই, শকটা খুব অল্প পরিমানের ছিল, কেবল শকের ভয়ে হার্টবিট বেড়ে যাওয়াটা দেখতে চাইছিল ওরা। আল্লাহ জানে কেন?

সেটা কথা না। কথা হচ্ছে গিয়ে, আমি বুঝতে পারছি না আমাকে কোনটা খাইয়েছে। মীরার ধারণা আমাকে উলটাটা খাইয়েছে। কারণ বাসায় ফিরে ওকে বকা ঝকা করেছি, বুকে জড়িয়ে ধরি নি । আমারও সন্দেহ হচ্ছে আমাকে ভেজালটা খাইয়েছে, এখনও কারও দ্্বারা 'বশীভূত' হই নি ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701417 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701417 2007-03-08 06:42:18
কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না
রাস্তার বৃষ্টির পানি সরে গিয়ে রাস্তার দু'পাশে শুধু মাত্র বৃষ্টির পানির উদ্দেশ্যে করা ড্রেইনে গিয়ে জমছে। অন্য সময় তথাকথিত ড্রেইনগুলো শুকনো খটখটে থাকে। এখন সেখানে টলটলে বৃষ্টির পানি।

ওখানেই, এক চাংকু মহিলা তার দুই/তিন বছরের পিচকুর প্যান্ট খুলিয়ে হিশু করাচ্ছে!!!

হায়রে পাবলিক, পাশেই মিলিয়ন ডলারের শপিং সেন্টার, তার বাঁকে বাঁকে টাইলস বসানো ঝকঝকে টয়লেট! তবু ড্রেইনের পানিতে হালকা হওয়ার শখ গেল না!

সাধে কি আর বলি... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701103 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701103 2007-03-06 05:40:23
'পড়ো, তোমার প্রভুর নামে' - 1
ইউনি, হলিডে, জবস, হোমবুশের মেয়েদের খবরাখবর নেয়ার ফাঁকে হঠাৎই বলল, 'জানো আপু, এই হলিডেতে আমি কুরআন পড়ছি।' আমি জানি, সেই মুহূর্তে আমাকে দেখে যে কেউ ভাবতো আমি আকাশের চাঁদটা দুই হাতের মুঠোয় পেয়ে গেছি। খুব ভালো লাগায় ডুবছি, ভাসছি। 'সত্যি?' মাথায় দ্রুত মিলিয়ে নিলাম স্বাধীনচেতা মেয়েটা আর কুরআন পড়ার সম্ভবনা... ওর ট্যাটু করার তীব্র বাসনা, ঘরের চারিদিকে সাড়ি সাড়ি টানানো হলিউড বলিউডের হট নায়কদের পোস্টার, কজমো ম্যাগাজিনের নেশা... এসবের চেয়ে বেশি করে দেখেছি খুব নরম মনটা। অনেকটা আমার মত ও, যা মন থেকে মানতে পারবে না, তা কখনই করতে পারে না। আর মন থেকে কিছু করতে চাইলে ভয়ংকর গোঁয়ার। কেন যেন মনে হতো, ও পড়বে। কখনও জোড় করে বলি নি, মনে হতো, ও নিজেই পড়বে।
'তারপরে, কেমন লাগল বলো তো?'
'সত্যি বলব? খুবই অন্যরকম। বেশ ভালো লাগছে।'
'মমম... বুঝিয়ে বলো, কেমন অন্যরকম?'
'এই যে, আমাদের চারপাশে আমরা সব সময় যেমন ইসলাম দেখি, তার থেকে অন্যরকম। তুমি একবার বলছিলে, আমাদের মুসলিম সমাজে প্রথম সিঁড়িটা বাদ দিয়েই পরের সিঁড়িগুলোতে উঠানোর চেষ্টা করা হয় তেমন। প্রথম সিঁড়িটাই তো হলো লেখক আল্লাহকে চেনা, তাঁর প্রতি বিশ্বাস, আস্থা। সত্যি বলতে কি, বিশ্বাস ব্যাপারটা যে কেমন হওয়া উচিত, কিসে হওয়া উচিত, সেটাও ভালো করে বুঝি নি কুরআন নিজে পড়া শুরু করার আগে।'
'রিমি, আমার কিন্তু ঠিক সেরকম মনে হচ্ছিল প্রথম কুরআন পড়ার পরে। আমিও মোটামোটি প্রথম নিজের ইচ্ছায়, আগ্রহ নিয়ে, বুঝে পড়া শুরু করেছি সতের বছর বয়সে। আমার যা বদলে যাওয়া, সেটা সেই বয়সেই।'
'আচ্ছা!'
'হ্যা তো। দেখো, ছোট বেলা থেকে আমাদের বলা হয় ভালো কাজগুলো করতে হবে দোযখের আগুনের ভয়ে। ভাত নষ্ট করলে একশ' শাপ এসে কুটুস করে কামড় দিবে। কি তুমি শুনো নি এই গল্প?'
'হা হা হা। হ্যা শুনেছি।'
'তারপরে, পর্দা না করলে গায়ের ওই অংশগুলো আগুনে পুড়বে। মিথ্যা বললে আল্লাহ জিভ কেটে দিবে। ফর গডস সেইক, কুরআন আমাদের যেভাবে কনভিনস করার চেষ্টা করেছে, সেই ভাবে কনভিনস করো না বাবা!'
'সেটাই। কুরআনে কিন্তু ভালো কাজ করার জন্য প্রাইমারিলি দোযখের আগুনের ভয় দেখানো হয় নি।'
'হ্যা, মনযোগ দিয়ে কুরআন পড়লে বুঝা যায়, আল্লাহ সব কাজ করতে বলছেন কেবল তাঁর জন্য। তাঁর প্রতি ভালোবাসা থেকে। কারণটাও খুব স্পষ্ট করে বলে দেয়া... কারণ আমরা আল্লাহর। আমাদের মায়েরা, বাবারা আমাদের ভালোবাসেন, আমাদের অনেক দেন বলেই আমরা তাদের ভালোবাসতে পারি। কৃতজ্ঞতায় ডুবে থাকতে পারি। কুরআনের পুরোটা জুড়ে আল্লাহ এই কৃতজ্ঞতা বোধটাই উসকে দিতে চেয়েছেন, সত্যটাকে চিনিয়ে দিতে চেয়েছেন, তাই না? বেহেস্ত দোযখটা কেবল আল্লাহ এই ভালোবাসা ফিরিয়ে না দিয়ে প্রচন্ড অকৃতজ্ঞ হলে, তার শাস্তি বা পুরষ্কার। আর কুরআনে কিন্তু বলা হয়েছে, আমাদের ভালো কাজ করার প্রবনতা খারাপ কাজ করার প্রবনতার চেয়ে বেশি। নিজেদের প্রকৃতিকে অস্বীকার করার শাস্তি দোযখ!'
'একজাক্টলি! আমার খুব ভালো লাগছিল জানো, মনে হচ্ছিল, আল্লাহ আমার সাথে কথা বলছেন!'
'ও মাই গড রিমি মনি, তুমি আমাকে তিন চার বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে দিচ্ছো। আল্লাহকে ঠিক মতো চিনতে পারলে আসলে নিজেকে ভালোবাসার সুতোয় বাঁধা অনেকটুকু সহজ, তখন কাজগুলো করার মটিভেশন থাকে।'
'একদম ঠিক কথা!'
'আমাকে বহুত বলে কয়েও নামাযে রেগুলার করতে পারে নি আগে। তারপরে, যখন নিজে পড়লাম, বুঝলাম, ভাল্লাগলো, তখন নামায না পড়লে মনে হয় খুব প্রিয় কাউকে হতাশ করছি। খুব প্রিয় কারো সাথে দেখা হওয়াটা মিস হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা কাজের বেলাতেই তাই।'
'আই এম গেটিং দেয়ার আপু!'
'নো ওয়ারিস ডিয়ার, টেইক য়ুর টাইম!'

মন ভরে গিয়েছিল একদম। সেদিন আরেকজন, আমার এক ব্লগার ছোট ভাই, প্রচন্ড রকমের ব্রিলিয়ান্ট, স্বপ্নবাজ, মটিভেটেড ছেলেটা বলছিল সূরা বাক্বারায় পড়া একটা প্রিয় আয়াতের কথা। তখনও ঠিক একই রকম অনুভূতি হচ্ছিল। আমার বড় হতাশ হয় যখন দেখি সবচেয়ে অবুঝেরাই কুরআনের রেফারেন্স টানে সবচেয়ে বেশি বার। বুঝদাররা তাই তিক্ত। যখন দেখি কোন বুঝদার সবচেয়ে বেশি বুঝার প্রয়োজন আছে যা, তাই হাতে তুলে নিয়েছে, তখন বড় আনন্দ হয়। বড় আনন্দ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701045 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28701045 2007-03-05 15:43:06
আকাশটা আজ শূন্য বড়
সকালে উঠেই ধুপ ধাপ রেডি হয়ে ইউনি। ট্রেইন দেরি হলো আধা ঘন্টা। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ক্লাসে ঢুকলাম দেরি করে। মহিলা একটা ভদ্র লেকচার দিল দেরি করা নিয়ে, বকাবকি করার চেয়ে অনেক গুণে খারাপ। খারাপ লাগাটা কাটতে সময় লাগে নি অবশ্য। অ্যামিগডালার স্বেচ্ছাচারিতায় ডুবে গেলাম দ্রুত। এরপরে দৌঁড়ে ফিজিওলজি লেকচার। জারা, বাতুল, মেহরীন, লীনার সাথে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পরে দেখা হওয়া বন্ধুর মতো কোলাকোলি। গালে গাল ঠেকানো। লেকচারারকে আমার প্রথম দিন পছন্দ হয় নি। এখন সহনীয়। তারপরে আবার দেঁৗড়ে সাইকোলজি লেকচার। আজকে গেস্ট স্পীকার বার্ট এন্ডারসন। গত সেমিস্টারে আমার খুবই ভালো লেগেছে ভদ্রলোকের লেকচার। আমেরিকান ভদ্রলোক, প্রচন্ড হাসাতে পারে। ছেলেদের সেকজুয়াল বিহেভিয়ার নিয়ে একটা স্টাডি কেন্দ্রিক হাসাহাসি করালেন আজ। বলছেন, আমার এক মেয়ে কলিগ এই স্টাডি দেখে আমাদের বলেন, 'তোমাদের ছেলেদের সমস্যা কি?' আমি প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিতে নিয়ে ভাবলাম, 'ওয়েইট আ মিনিট, আসলেই তো, আমাদের ছেলেদের সমস্যা কি?' আমিও তাই ভাবলাম ! ক্লাস থেকে বের হয়ে একটু ছুটাছুটি। তারপরে গেলাম আমার অক্সিজেনের নি:শর্ত সরবরাহকে বিদায় দিতে। বেশ সুন্দর সময় কাটলো। একটু শূন্য লাগছিল কি?

হয়তো!

তারপরে, যখন সেন্ট্রাল স্টেশনে প্লাটফর্মে যাচ্ছি তখন হঠাৎ দেখা এডি এভিনিউয়ের ফুলের দোকানের মালিকের সাথে। ষাট সত্তরের বুড়া। আমার মুখ চেনা হয়ে গিয়েছে, দেখা হলেই গজ দাঁত দেখিয়ে একটা বিস্তৃত হাসি দেই। আজ আমাকে অনেক দিন পরে দেখে হাত বাড়িয়ে এসেছে হ্যান্ড শেইক করার জন্য। তারপরে বলছে, 'ডার্লিং, আসো আমার সাথে এক কাপ কফি খাও'! একবার মায়ের মুখটা ভাবলাম। মহিলা যদি জানে এই ঘটনা, টেনশনে পরের দিন আমাকে ইউনিতে দিয়ে আসবে। তাড়াতাড়ি ট্রেইনের সময় দেখিয়ে মেঘলা আকাশে আসন্ন ঝড়ের দিকে ইঙ্গিত করে বললাম, 'মা খুব চিন্তা করবে যে আমার দেরি দেখে'! বুড়া তবু ছাড়ে না, 'আসো না, মাত্র দশ মিনিট'। এর আগে এক কফিওয়ালা আমাকে জোর করে ফ্রি কফি খাইয়েছে, আরেকজন ফ্রি হট চিপস। আরেকজন... ঘটনাগুলো শুনে মায়ের টেনশনে রাতে ঘুম হয়নি। এবার একটা ফুলের দোকানওয়ালা বুড়ো লোকের কফির দাওয়াত কবুল করলাম শুনলে কি করবে ভেবেই ফসকে চলে আসলাম! আহারে, বুড়ো লোকটা সঙ্গ দেয়ার মায়াময় সঙ্গী খুঁজে পাক!

বাসায় ফিরে কনফুসিয়াসের ব্লগে দেয়া টুটুলের দিন যায় একাকী ছেড়ে বসলাম। ওনাকে ধন্যবাদ দেয়া হয় নি, আসলেই অসাধারন গান। তখন ছবির ফাইল ঘাটছিলাম। এই ছবিটা পেয়ে গেলাম। বাংলাদেশে যাওয়ার সময় প্লেইন্লে তোলা। দুম করে মাথায় টাইটেলটা চলে আসল। কিন্তু আসলে আকাশটা শূন্য হওয়ার কোন কারণ নেই। দু'শ করতে হবে আর পাঁচ দিনে, এখনও এগারোটা বাকি। অথচ লেখার কিচ্ছু পাচ্ছি না। না সাবজেক্ট। না সময়। না ইচ্ছা। হেনস এই আবোল তাবোল আলাপে সংখ্যা বাড়ানো!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28700969 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28700969 2007-03-05 04:30:03
নির্দোষ রোজনামচা টাইপের বিশুদ্ধ ওয়েব লগ (ফেব্রুয়ারীর শেষ দিন)
সকালটা শুরু হয়েছে বিচ্ছিরি ভাবে। মেজাজ খারাপ হলে আমি চিল্লাচিলি্ল করি না। হয়, যার উপর মেজাজ খারাপ তাকে কঠিন কঠিন কথা বার্তা এক নি:শ্বাসে শুনিয়ে রাগ ঝেড়ে ফেলি। পরে যদি মনে হয় খুব অনুচিত কিছু বলেছি, তাইলে স্যরি হওয়া যায়, কিন্তু সেটা তো পরের ব্যাপার। আর না হয় একদম চুপ মেরে যাই। নিজের ঘর অন্ধকার করে শুয়ে থাকি। ট্রেনে উঠে শেষ স্টেশন পর্যন্ত বসে থাকি চুপচাপ। মানুষ দেখি, ফুল দেখি, পাখি দেখি, মনে মনে গুণ গুণ গান গাই। আমার জীবন থেকে হুট করে বের হয়ে যাই স্কেজু্যল টেজু্যল সব পানিতে ফেলে। যত গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস, কাজই থাকুক না কেন, ক্ষনস্থায়ী উলটা দৌড় দেই। অনেক ঝামেলায় পড়েছি এর জন্য কিন্তু চরম মন খারাপের সময় আমার আসলেই মাথা ঠিক থাকে না।

আজ মনে হল সারাদিন ঘরে বসে গান শুনি। তারপরেই মনে হলো, ধুর, আমাকে সারা জীবনই একা থাকতে হবে। কেউ বুঝবে না। এক্সপেক্টশন কমাতে হবে, নিজেতে, নিজের প্রিয় মানুষদের উপর বিশ্বাস, নির্ভরতা কমাতে হবে, কমাতে হবে। স্কেজু্যল ঠিক রাখতে হবে... সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম।

সিদ্ধান্ত নেয়ার ছয় মিনিটের মাথায় রেডি হয়ে আমি রাস্তায়। ঘন্টা দু'য়েক পরে ইউনি পেঁৗছে লজে। জাকারিয়া ম্যাথুজ, আমার প্রিয় মুখটা তখন কথা শুরু করে দিয়েছে। আমার আট মিনিট দেরি হয়েছে।

আমি জাকারিয়া ম্যাথুজের চরম ভক্ত। সাউথ আফ্রিকান পাবলিক। দেখতে সাদা, চুল বাদামী। কিন্তু সাউথ আফ্রিকায় নাকি এই মানুষগুলোকেও 'কালারড' বলা হতো, গায়ে ইন্দোনেশিয়ান রক্ত আছে বলে। 'কালারড' বলে ইউনিতে ঢুকতে সংগ্রাম করতে হয়েছে, প্রচন্ড ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র থাকা সত্ত্বেও। সমাজের প্রকাশ্য রেসিজমের মুখে সংগ্রাম করে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠেছেন একে একে। ফার্মেসী পড়ে আমেরিকায় স্কলারশিপ নিয়ে গিয়ে পিএইচডি করলেন। ফায়জা ম্যাথুজ, জাকারিয়া ম্যাথুজের স্ত্রীকেও প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি আমি। তাঁর জীবনের ঘটনাগুলোও একই ধরণের। ইউনিভার্সিটির মেডেল জেতা ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী।

জাকারিয়া ম্যাথুজ এসেছেন এবারের মুসলিম ছাত্র ছাত্রীদের ইউনি শুরু করার সাথে সাথে কিছু কথা বলতে। নিজে অবাঞ্চিত থেকে, সবগুলো স্পটলাইট গায়ে নিয়ে উঠে এসেছেন, তাই জানেন আমাদের সময়টা কত কঠিন।

মুগ্ধ হয়ে শুনলাম এক ঘন্টার সাউথ আফ্রিকান মিষ্টি একসেন্টের সুন্দর কথাগুলো। চরম ভালো লাগা কথাগুলো সবই আমার নিজের কথাগুলো গুছিয়ে বলা। এই বিনয়ী মানুষটার মুখ থেকে শুনতে যত ভালো লাগছিল, আমি নিশ্চিত আমার মুখ থেকে শুনতে তত ভালো লাগবে না। পড়াশোনা ঠিক রাখার জন্য অরগ্যানাইজড থাকা, রুটিন মত চলা, শারিরীক পরিশ্রম করা, ইত্যাদি ইত্যাদি বলার পাশাপাশি বলে দিলেন নিজেদের সাথে কিছু মৌলিক বোঝাপড়া করার কথা, কারণ সত্যিই হাই স্কুল থেকে অনেক ভিন্ন তো ইউনি লাইফ এভাবেই--সিদ্ধান্তগুলো নিজের নিতে হয়। নিজেকে চিনা তাই খুবই জরুরি।

নিজের পরিচয়ের সবটুকুই আমরা বংশ সূত্রে নিয়ে আসি না। মুসলিম হওয়া তার একটা। জাকারিয়া ম্যাথুজের বলেন, তুমি যদি মুসলিম পরিবারের জন্মে থাকো, কখনও ভেবে না থাকো, তুমি কেন মুসলিম, তাহলে ভাবো। নিজের সাথে একান্তে বসে ভাবো। নিজেকে জিজ্ঞাসা করো, তুমি নিজেকে কেন মুসলিম ডাকো? পৃথিবীতে এত কিছু হয়ে যাচ্ছে, এই মুসলিমদের ঘিরেই... এত ঝামেলার মুখে পড়েও তুমি নিজেকে কেন মুসলিম ডাকো? তুমি নিশ্চিত তুমি মুসলিম থাকতে চাও? তুমি যা চাও ইসলাম তোমাকে তা দিবে? হ্যা বা না খুঁজে বের করো, শক্ত সিদ্ধান্ত নাও, ব্যাস। Find out you identity. Figure out what you want to be and be comfortable with it. Because you are going to be exposed and challenged.

ঠিক এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করেছি আগে। অনেকবার। নিজের পরিচয় নিয়ে আমি স্বস্তি পাই, আমি জানি আমি কি হতে চাই। ভালো লাগল, কারণ এই কথাগুলো এতটা শক্ত করে আমাকে কেউ বলে নি। মুসলিম হওয়া যে আসলে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপার, আমাদের মুসলিম সমাজে বড় হয়ে ঠিক এই ভাবে ভাবা যায় না। সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগটা কেউ দেয় না।

আর একটা কথা বলেছিলেন, যেটা আমার একদম দিলকে বাত! অমুসলিমদের সাথে কথা বলার সময়, কখনই, কখনই ওদের ধর্মের যেই দিকগুলো আমাদের খারাপ লাগে, সেগুলো নিয়ে কথা না বলা। আমার ধর্ম যদি শ্রেষ্ঠ ধর্ম হয়, তাহলে এমন অনেক সুন্দর জিনিস থাকার কথা, যেগুলো নিয়ে কথা বলে কূল পাওয়া যাবে না। অন্যের ধর্ম নিয়ে টানাটানির সময় পাওয়া যাবে কই? বাইবেলের কতটুকু অংশ বানানো, অসম্ভব অর্থহীন আলোচনার একটা, যেটা প্রচুর মুসলিমকে আমিও করতে দেখি। দু:খজনক, ব্লগেও দেখি, কিছু মানুষ পড়েই থাকে অন্য মতালম্বীর খারাপ জিনিসগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে সেগুলো প্রচারের জন্য। করুণা হয়, বলার মত নিজের কিছু নাই?

এত ভাল ছাত্র ছিলেন জাকারিয়া ম্যাথুজ, শরমই লাগে। লোভ হয় গোপনে, এত বিনয়ী হওয়ার লোভ। গুছানো ভাবনার লোভ।

ভারি কথাগুলোর পরে পিজ্জা ভক্ষন। বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি। ওজু করতে গিয়ে মিভেতের সোনালী চুল দেখে আমি মুগ্ধ। ওর সবুজ চোখ আর সোনালী চুলের প্রশংসা করতেই ও ঠোঁট উলটে বলে, দেখো না, কালারড পিগমেন্টের অভাবে আমার চোখ আর চুলের রং ওমন। আমাকে তো আল্লাহ কম কম দিছে, তোমাকে তো মেলোনিন সহ সব বেশি বেশি দিছে, বেশি পেয়ে আবার এত দু:খ করার কি আছে? কথা ঠিক!

মাসাল্লায় ফিরে দেখি দোহার চারপাশে আসর বসেছে। এই মেয়েটা একটা ওয়ান পিস আইটেম। লেবানিজ। সারাক্ষণ ছুটাছুটি লাফালাফি করছে আর অনবরত মুখ ছুটছে। ওর কান্ড কারখানা কথা বার্তা হা করে দেখার মত। কাজ করে ধুপ ধাপ দ্রুততার সাথে। ইউনিতে আসার এক বছরের মাথায় ইউনিরই একটা লেবানিজ ছেলেকে বিয়ে করেছে। তিন বছরের মাথায় এক সন্তানের জননী! ও যখন সাত আট মাসের প্রেগন্যান্ট, তখনও দেখি ওর লাফালাফি একটুও কমে নি, মুখও বন্ধ হয় না একটুও। আমি ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম--এই বুঝি কিছু হয়ে যায়! ও মুখ বিমর্ষ করে বলে, মুহাম্মদ (ওর বর) খালি মোটা হচ্ছে। পরক্ষণই মুখে হাসি... এতে অবশ্য ওকে টেডি বিয়ার টেডি বিয়ার লাগে! আসর জমিয়ে বলছে ওর বরের সাথে প্রথম পরিচয়ের ঘটনা। মুহাম্মদ কাঁপতে কাঁপতে যেভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে সেই ঘটনা শুনে সবাই হাসতে হাসতে শেষ।

রিমা লেবানন থেকে এসেছে মাত্র। ফ্যাটমির ভ্রু নাচানো প্রশ্ন: কি বিয়ে করোনি যে? (লেবানীজ মেয়েগুলো বিবাহযোগ্য বয়সে দেশে গেলেই বিয়ে করে আসে।) রিমার গোমরা মুখো উত্তর--আরে নাহ। ওখানে ছেলেরা সব মেয়েদের জুতা পড়ে আর ইয়া বড় গোঁফ রাখে। আর.. সবার আগে জিজ্ঞাসা করে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক কি না!

আনিসাকে কিছুক্ষণ খোঁচানো হলো কারণ ও সোমালিয়া থেকে, অথচ সোমালিয়ান ভাষায় 'ম' নেই। রংপুরের লোকজন যেমন অংপুর বলে, সোমালিয়ানরা নিজেদের তেমন সোয়ালিয়ান ডাকে। ও কিন্তু আমার চেয়ে ভালো হিন্দী জানে!!!

ঘন্টা দু'য়েক আড্ডা শেষে যখন ইউনিভার্সিটি ওয়াক দিয়ে হেঁটে লাইব্রেরিতে যাচ্ছি, তখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে। ছাতা নেই। মাথা উঁচু করে বৃষ্টিতে সমর্পন... নো পলায়ন মনোবৃত্তি। মন বেশ ভালো।

দিনটা শেষ হলো বায়োকেমিস্ট্রি লেকচার দিয়ে। সেমিস্টার শুরুর প্রথম দিন একটা সার্ভেতে অংশগ্রহন করতে হয়েছে। প্রশ্নগুলো এমন-- বায়োকেমিস্ট্রির পাশাপাশি কি কি সাবজেক্ট করা হচ্ছে, বায়োকেমিস্ট্রি বলতে কি বুঝায় ইত্যাদি ইত্যাদি। কি ধরণের ছাত্র ছাত্রী আছে তার ব্যাপারে হালকা ধারণা নেয়ার জন্য। একটা প্রশ্ন ছিল, বায়োকেমিস্ট্রি কোর্স থেকে কি পেতে চাও? আমার সোজা সাপ্টা সৎ উত্তর ছিল: 'ডিস্টিংশন'। অতি বোদ্ধারা আতেলীয় উত্তর দিয়েছে-- 'বায়োকেমিস্ট্রির জ্ঞান'।

ড: ব্রাউন একটা উত্তরই ঘটা করে পড়ে শুনালেন--'চিকস। মাইয়্যা মানুষ।' ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28700412 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28700412 2007-02-28 06:18:05
জীবনটা তো আমার নয়
ভিলেইন হয়ে দৃশ্যপটে মায়ের আবির্ভাব। দু'টো থেকে চারটা বিছানায় চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকতেই হবে, কোন মাফ নেই। কি যে ছটফট লাগত ভিতরে ভিতরে! একটু করে চোখ খুলে দেয়ালের কালো কাটার সাদা ঘড়িটা দেখতাম। ইচ্ছা হতো নিজে গিয়ে ঘড়ির কাটা এগিয়ে দিয়ে আসি।

তখন মনে হত, উফফ, আমি যদি বড় হতাম! কত্ত কিছু করতে পারতাম!

বালিকা আমি ভেবেছিলাম, বড় হলে মানুষের স্বাধীনতা বাড়ে। কি বড় ভুল!

বড় হওয়ার সাথে সাথে স্বাধীনতা একটু একটু করে কমছে। আমার আমিটা আর আমার নই। একটু একটু বড় হচ্ছি আর আমার আমির মালিকানা চলে যাচ্ছে অনেক শরীকের হাতে। ভালবাসার বিনিময়ে 'আমি'র বন্টন সম্পন্ন হচ্ছে দিন দিন, নিখুঁত ভাবে।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাওনাদারের পাওনা মিটিয়ে যাই। মা-বাবা-ভাই-বোন-খুব কাছের বন্ধু-মোটামোটি বন্ধু-একটু দূরের বন্ধু-সহপাঠি-টিচার-ছাত্রী... এমনকি ওই আল্লাহটাও... একটা বিশাল বৃত্তের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আমি। কেন্দ্রের চারিদিকে দাঁড়িয়ে পাওয়ানাদার। যত বড় শরীক, তত কাছে দাঁড়িয়ে। আমি বিলিয়ে যাই নিজেকে।

আমার আমি তো আমার নই, নিজেই নি:স্ব আমি। বারো শরীকের সাক্ষর জোগারের ক্ষমতা আমার নেই। খুব বেশি চাওয়া প্রার্থীকে ফিরিয়ে দিব না তো কি করব? নি:স্বের উপর রাগতে নেই... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699708 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699708 2007-02-22 04:19:48
বাংলায় ভালবাসি
তবু, দু'টো ঠিক এক না। আমার মাথার ভিতরের 'ভাষা-বৃক্ষে'র বিস্তৃত মূল, সবল কান্ড.. সব বাংলার তৈরি। এই বাংলা-বৃক্ষে ভর করে ইংরেজি ডালা পালা বের হয়েছে। ভাষার ভিত্তি প্রস্তর বাংলায়, ইংরেজি শিখতে সেই তো বাংলার সরনাপন্ন হতে হয়েছিল। বাংলা বড় আপন, বড় নিজের। একদম আটপৌরে। বাংলার মুখোমুখি হতে কোন প্রস্তুতির দরকার হয় না। বাংলায় ভাবতে, স্বপ্ন দেখতে, কথা বলতে, গান গাইতে, রাগ করতে, হাসতে, ভালবাসতে, ঝগড়া করতে যতটা আরাম পাই, ইংরেজিতে তার ছিটে ফোঁটাও যে নেই!

আজ ইউনি থেকে আসার সময় ট্রেইনে ঘুমে চোখ ভেঙে আসছে। হাতের উপর হেলান দিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে চোখ বুজে আসার পরেও হঠাৎ চোখ খুলে গেল সটান হয়ে। কারন খুঁজতে গিয়ে টের পেলাম, দুই সিট পিছনে এক ভদ্রলোক ফোনে বাংলায় কথা বলছে। অস্তিত্বের অংশ হয়ে গিয়েছে যে বাংলা, নিজের হাত পা যেমন আলাদা করে চিনতে হয় না, তেমনই। অবচেতন মনেও চেনা শব্দেরা খুব আপন হয়ে ধরা দেয়। হঠাৎ ঝি ঝি ধরে পা অবশ হয়ে গেলে ভীষণ রকমের প্রয়োজনীয় মনে হয় পায়ের সচল হয়ে ওঠাকে। সিডনী আসার পরে যখন পুরা-ইংরেজি পরিবেশে আমাকে হাত পা বেঁধে ছুঁড়ে ফেলা হলো, তখন তেমন লাগছিল। দিন রাত শুনতাম... 'আমি বাংলার গান গাই'... গানটা শুনলে এখনও সেই তীব্র আকুতি আমাকে পেয়ে বসে, বাংলায় গান গাওয়ার, বাংলায় চিৎকার করার, বাংলার পথ ধরে বহুদূর হেঁটে যাওয়ার।

অস্তিত্বের অংশ যে বাংলা, নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে কে বসে থাকে? তাই তো অধর্্ব শতাব্দী আগে ঠিক এই দিনে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা বসে থাকে নি। থাকলে, আজ এতকাল পরে সামহোয়ার ইনে বসে বাংলা ভাবনাগুলো এত উলটে পালটে দেখতে পারতাম বুঝি?

শান্তি পাক সেই মহান আত্মারা। আমাদের অসি্তত্বের অংশ হয়ে বাংলায় ভালবাসতে দিক আরও হাজার হাজার বছর। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699578 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699578 2007-02-21 04:36:40
বিতর্কে সাহায্য: সরকার ও ভাইরাস সংগ্রহশালা
আমি বলতেছি, উহা হওয়া উচিত নহে। আমার সবচেয়ে শক্তিশালী পয়েন্ট হলো, সংগ্রহশালা গুলো সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকলে সরকার প্রয়োজনে ভাইরাসকে রাজনৈতিক অস্ত্র: বায়োলজিক্যাল উইপেন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

সকল ভাইরাসের সংগ্রহশালা কেন সরকারের দায়িত্বে থাকা উচিত না, এই ব্যাপারে আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও সহৃদয় কামনা করছি! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699570 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699570 2007-02-21 03:38:06
আজ ছুটির শেষ দিন <img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_15.gif' />
স্রেফ ছুটি, ঝামেলা মুক্ত আস্ত ছুটি।

কাল থেকে আবার ইউনি শুরু হচ্ছে। পড়াশোনা শুরু হচ্ছে। গতকাল করলাম নতুন বছরের টিউশনির প্রথম দিন। আবার ঢুকতে যাচ্ছি গতানুগতিক বাসা-ইউনি-টিউশনি-বাসা জীবনে। আজকে বসে বসে হিসাব করছিলাম ছুটিতে কি কি অপকর্ম করলাম সেগুলোর।

সবচেয়ে বড় অর্জন মনে হয় ব্লগের ঝুড়িতে প্রায় সত্তরটা পোস্ট! তিন মাসে সত্তরটা পোস্ট, মানে দেড় দিনে একটা। খারাপ না!

মাঝে পুরা একমাস মা বাবা ছিল দেশের বাইরে। বাসায় শুধু আমি, ভাইয়া আর মীরা। এই প্রথম এরকম একা! রান্না বান্না, খাবারের ব্যবস্থা করা সহ অনেকগুলো ডিপার্টমেন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রন এবং দায়িত্ব ছিল আমার ঘাড়ে। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা শেষে বুঝলাম--আমার সংসারিক বুদ্ধি আসলেই কম! রান্না বান্নার ট্রেনিং কম হয় নি। ডাল, শাক, মাছ, মাংস, ভর্তা, সব রেঁধেছি!

ছুটির আগে কাজ করে, খরচ করে ব্যাংকে দু'শ ডলার জমিয়েছিলাম। এখন ব্যাংকের ক্রেডিট সাত ডলার সাতান্ন সেন্টস।

বই পড়ার প্ল্যান ছিল বিশাল। লিস্ট দেখেই মাথা ঘুরে গেল--এত পড়লে তো বিশাল পন্ডিত হয়ে যাব! ছুটি শেষে পড়া বইয়ের ঝুড়িতে জমেছে--মানব জমিন, কাছের মানুষ (দু'টোই পাঁচ বছর পর রিভিশন), অটোবায়োগ্রাফী অফ ম্যালকম এক্স, ক্রিটিক্যাল লাইভস: মুহাম্মদ, ক্যাটস আই (মার্গারেট অ্যাটউড), হুমায়ুন আহমেদের বেশ কিছু খুটি নাটি বই, জহির রায়হানের উপন্যাস সমগ্র (রিভিশন), বিটউইন এক্সট্রিমিজম এন্ড রিজেকশনিজম (একটু)... এই তো মনে হয়! 'না পড়া' বইয়ের লিস্ট বি-শা-ল!

একটা অনলাইন কোর্স শেষ করলাম উসুল ফিকহ, শরীয়াহ এর উপর প্রাথমিক, একেবারেই নার্সারী লেভেলের জ্ঞান বিষয়ক। এটা পড়ে বিশাল যা লাভ হয়েছে তা হলো, অনেক বারের মত বুঝতে পারলাম--অন্ধ ভক্তি আর অর্থহীন অশ্রদ্ধা, [গাঢ়]দু'টোর জন্যই দায়ী স্বল্প জ্ঞান[/গাঢ়]। কোন কিছুকে যতটুকু শ্রদ্ধা/অশ্রদ্ধা করা দরকার, ততটুকু করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমানের জ্ঞান লাগে, তার একটুও আমাদের বোদ্ধাদের বেশির ভাগেরই নেই।

ফোন-এমএসএন-ইয়াহু-জিমেইল বেহিসেবী চলেছে। আড্ডাবাজী, এখানে সেখানে হুট হাট চলে যাওয়াও কম হয় নি। সব মিলিয়ে পাবলিক রিলেশনস ডিপার্টমেন্টটাই বোধ হয় সবচেয়ে সুষ্ঠু ভাবে চললো!

টিভি দেখেছি প্রচুর। এখন আমি পুরা আপ টু ডেইট। হোম এন্ড এওয়ে, ডেসপারেইট হাউজওয়াইভস, নেইবার, সুপার ন্যাচারাল... যা আছে সবগুলার উপর টেস্ট নিয়ে দেখতে পারেন, পাশ করব ডিস্টিংশন সহ!

সাগরের সাথে অন্য রকম গাঢ়ত্ব তৈরি হয়েছে। সাউথ ওয়েস্ট রকসের সাগর, মারুবরা রকসের সাগর, উলঙগঙের সাগর... সবগুলো সাগরের জল গায়ে মেখেছি এই ছুটিতে। তিন জায়গার সাগর তিন রকম।

আরও কত আকাম!

এই রকম ছুটি আর আসবে বুঝি? কখখনও না! পরের ডিসেম্বরের ছুটিতে থাকবে আমার চাকরীর চিন্তা, তারপরে প্রতিটা ছুটিতেই তাই । আর সেমিস্টারের মাঝখানে? সপ্তাহের পাঁচ দিনে মোট চবি্বশ ঘন্টা ক্লাস। সপ্তাহে তিনদিন সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাতটায় শেষ হবে ইউনি।

পড়াশোনা শুরু করার সময় এলো বলে। নো মোর ফাঁকিবাজি, আস্তমেয়ে। এই ছুটিতে আমার সঙ্গ দেয়ার জন্য আর আমার যাবতীয় প্রলাপ সহ্য করার জন্য ধন্যবাদ হে ব্লগারগণ। আপনারা অত্যন্ত মহান!

এখন আমার জন্য একটু দোআ টোআ কইরেন আর কি... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699251 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28699251 2007-02-18 05:53:59
ভালবাসায় ভরা ভালবাসা দিবস
যাচ্ছিলাম ন্যান্ডোজে। খাব দুপুরে। আগের বার খেয়ে আমার শিক্ষা হয়েছে, খাবার শেষ করতে খুব কষ্ট হয়েছে, শেষ মেষ পারিই নি। এবার তাই শুধু বার্গার অর্ডার দিলাম। কিন্তু ন্যাডুর অর্ডার আসার পরে আমাদের চক্ষু চড়ক গাছ, বার্গার, সাথে এক গাদা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আর ইয়া বড় বাটি ভর্তি লতা পাতা মেশানো সালাদ এবং আরও মুর্গি। টেবিলে জায়গায় হয় না আর। ইশি বলেই ফেলল, 'য়ু গট অল দ্যাট?' ন্যাডু ভীষণ রাগ, কারণ অর্ডার নিয়ে আসা কিউট ছেলেটা সেটা শুনে হাসি চাপতে চাপতে গেল। ও একটু পর পর ঘাড় ঘুরিয়ে বলছে, 'আরে, কি কিউট একটা ছেলে, মেরে দিলি তো মান ইজ্জ্বত সব কিছু। এমনও হতে পারত, আমাকে আস্ক করতে পারতো, উইল য়ু বি মাই ভ্যালেন্টাইন?'
- ছেলেটা কিউট কোথথেকে রে? ঘাড় পর্যন্ত সিল্কি চুল মেয়েদের মত!
- চুপ, ওরে নিয়ে একটা কথাও বলবি না!

প্রথমে একটু মন খারাপ হয়েছিল, মানুষ বেশি। কিন্তু ইমু মনে করিয়ে দিল, কেউ বেশিক্ষণ থাকবে না, আমাদের চিৎকার চেঁচামেঁচিতে পারবে না। আসলেই চলে গেল পিছনের মেয়েগুলো। কিন্তু ও পাশে এক ভদ্রলোক নিতান্তই ভদ্রভাবে নিজ মনে খেয়ে যাচ্ছে টুক টুক। আমি তো বাবা চেষ্টা করছিলাম তাও ভদ্র ভাবে খেতে, পেটের ক্ষুধার আগুন তবুও। কিন্তু ন্যাডু? সালাদের বাটির উপর হামলে পড়লো, 'এই আমি পাতা খামু, ইমু ছবি তোল'! কাঁটা চামচে এক লেটুস পাতা, বাসিল ফাসিল তুলে নিবিষ্ট মনে খেতে লাগত কচ কচ। সাথে সালাদ ড্রেসিং প্যাকেট দেখে বলে, 'দোস্ত, তোদের এই সস দেয় নাই না? দেখছস, আমি বেশি দামী অর্ডার দিছি দেখে খালি আমারে দিছে।' বেশি হাসি পাওয়ার কারণ হল, ওর কথা গুলো ভাড়ামি না, বেচারী সত্যিই যা ভাবে তাই বলে।

বার্গারের জন্য যথেষ্ট বড় হা করতে কষ্ট হচ্ছিল আমারও। ন্যাডুর রাগ গিয়ে পড়ল পিছনের ওই ভদ্রলোকের উপর, এত ভদ্রতা করে খাওয়ার কি আছে? আচ্ছা, আমিও ভদ্র হয়ে যাবো--দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ন্যাডু ছুরি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ছোট ছোট টুকরা করে কাটা চামচ দিয়ে আস্তে আস্তে মুখে ঢুকাতে লাগল। ইশি কি বলতেই নাহিদ গালি দিয়ে উঠল, 'এটা কি বলিস কুত্তা!' সাথে সাথে ইশির অভিমান ভরা প্রতিবাদ, 'এই তোরে না বলছি আমাকে মানুষের সামনে কুত্তা বলবি না, শয়তান?'

ইশি একটা ফাস্ট ফুড শপে কাজ করছে যেখানে বেশির ভাগ কর্মচারীই বাঙালী ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট। বাংলার বেশ ভালোই উন্নতি হয়েছে দেখলাম। 'র' কে 'ড়' বলছে না আর। কাজের কথা বলছিল তখন বুঝলাম আমার আর এই মেয়েটার কত্ত মিল। কাজে নাকি ম্যানেজার বাঙালী ভাইয়াটা (যার মডারেট সাইজের ভুড়ি আছে তাই ন্যাডু ডাকে পেট্টু) ওকে প্রায়েই ঠাট্টার ভাব করে নানা কথা বলে আর ও ক্ষেপে টেপে লেকচার শুরু করে দেয়। একবার হালাল খাবার নিয়ে কি বলতে ও তিন পেইজ প্রিন্ট আউট নিয়ে গেছে ভদ্রলোককে শিক্ষিত করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞায়। ইশি হাসতে হাসতে বলছে, সবচেয়ে মেজাজ খারাপ হয় যখন বুঝি আমাকে ক্ষেপায় ওই ব্যাটা খুব মজা পায়! আমি হেসে ফেললাম, তোর দু:খ আমি বুঝি!

হঠাৎ ন্যাডুর চোখ বড় বড়, বলে, দোস্ত, আমার টয়লেটে যাওয়া দরকার। কিন্তু ওখানে টয়লেটের দেখি একটাই দরজা। এখানে [ইটালিক]ফিমেইল[/ইটালিক] আর [ইটালিক]ওমেনদের[/ইটালিক] আলাদা টয়লেট নাই?

বাসায় ফেরার পথে আশে পাশের জনগণের হাতে ফুল গুণতে গুণতে যাচ্ছিলাম। কার হাতের ফুল কত বেশি সুন্দর? ফুল গ্রহীতার হাতে ফুল মানাচ্ছে তো? এই থেকে কখন বিয়েতে চলে গেল কথা বার্তা! ন্যাডুর মজা হল, ও এমনি ফাইজলামি করলেও বিয়ের কথায় নিদারুণ লজ্জা পায়! আমরা যতই চেপে ধরি ও ততই কান চেপে চিৎকার, 'আস্তাগফিরুল্লাহ, ছিহ, আমি বিয়ে করব না।' আমরা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাই। ওর জামাইটা খুব ভাগ্যবান হবে, একটু ধৈর্য্যশীল হলেই হবে, কখখনও বোরড হবে না, টিভি টুভির দরকার নাই!

বাসে খুব ভিড়। দাঁড়িয়ে আছি সবাই, এক একবার বাস থামে সবাই হুড়মুড় করে সামনের দিকে পড়ি। একজন উঠে যেতেই আমার কাছের খালি সিটটায় আমি বসে পড়লাম। সাথে সাথে নাহিদ চিৎকার, ওই কই বসলি? এদিকে আয়, এদিকে আয় বলতেছি। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দেখলাম দুই পাশে দুই ভারতীয় চেহারার যুবক। আরে বাবা, আমি কি অত দেখেছি? উঠে আসতেই ন্যাডুর মন্তব্য, 'তোর শেষ মেষ পছন্দ হইল ওই বুড়া ব্যাটা কে?' আমি বিব্রত, বাঙালী হলে কি হবে?!! হালকা স্বরে বললাম, 'আরে গাধা, পছন্দ হইলেই তো কাঁপাকাঁপির চোটে ওখানে বসতেই পারতাম না!'

সেন্ট্রালে গিয়েই সিদ্ধান্ত নিল ন্যাডু, আমাদের সবাইকে ফুল কিনে দিবে। 'আরে দোস্ত, আর কেউ ফুল দিচ্ছে না সো হোয়াট, আমি আছি না?' ফুলের দোকানে তো রমরমা অবস্থা। এডি এভিনিউয়ের দোকানে মানুষ উপচে পড়ছে। এক পাশে দেখলাম একটা মরিচ গাছে অনেক গুলো ঝুলন্ত মরিচ, সেটা সুন্দর রঙিন কাগজে মোড়ানো, দাম ঝুলানো পঁচিশ ডলার। বুঝলাম না, মরিচ গাছ মানুষ ডালিংকে গি্লফট করবে ক্যান? জিজ্ঞাসা করলাম ওদের, 'এর মানে কি? য়ু আর এজ হট এজ রেড চিলি?' ব্যাখ্যাটা সবার মন:পূত হলো!

দাম দেখে শিউরে উঠলাম, গলা কাটা দাম ফুলগুলোর! কিন্তু ন্যাডু ছাড়বে না, ফুল দিয়েই ছাড়বে। অগত্যা অনেক বেছে চমৎকার একটা হলুদ গোলাপ নিলাম। হলুদ গোলাপ নাকি বন্ধুত্বের প্রতীক। এমনিই হলুদ গোলাপ আমার অসাধারণ লাগে, তাছাড়া মনে ভয়--'পাছে লোকে কিছু বলে'! ইশি হলুদ, ন্যাডু গোলাপী আর ইমু লাল টকটকে গোলাপ নিল। দোকানওয়ালা অ্যাসিস্টেন্টকে বলছে, 'এই চারটা গোলাপ সুন্দর করে র্যাপ করে দাও এই ইয়াং লেডিগুলোর জন্য। প্রাপক চারজন গর্জিয়াস ছেলে।' আমরা হেসে ফেললাম। আমাদের কথা বার্তা শুনে সবাই বুঝেছে আমরা নিজেদের জন্যই ফুল কিনছি তাই আশে পাশের মানুষেরাও মুখ টিপে টিপে হাসতে লাগল।

সবার থেকে বিদায় নিয়ে, ক্লান্ত আমি ট্রেইনে এক ঘন্টার লম্বা ঘুম দিয়ে বাসার কাছাকাছি এসে স্টেশন থেকে নামলাম। বিকেলের সোনা রোদে হাতের গোলাপটা দুলিয়ে দুলিয়ে হাঁটছি আমি, মন ফুরফুরে। নির্জন কার পার্ক। হঠাৎ কোথুকে এক দঙ্গল টিনেজ পোলা আসল। আমার উলটা দিক থেকে আসতে আসতে গান ধরল, 'টেল মি বেইবী...'। বেইবী তে সে কি টান!

গম্ভীর মুখ করে ছেলেগুলোকে পার হতেই ফিক করে হেসে ফেললাম।রাত বারোটা একে দিনটা শুরু হয়েছিল বিশ্ব ভালবাসা মাখা এসএমএসে:
"তুমি তোমার মনের মত একজন অসাধারন মানুষের সম্পূর্ণ ভালবাসায় সারা জীবন সিক্ত হও এই কামনা করি"।
ম্যাসেজ দাতার আন্তরিকতার জন্যই চোখে জল এসেছিল। সুন্দর দিনটা শেষ করলাম আমার সব প্রিয় মানুষদের জন্য এই কামনা করে।

'সম্পূর্ণ ভালবাসা', একটুও কমে হবে না যে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28698343 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28698343 2007-02-14 06:37:14
ভালবাসা দিবসের প্ল্যান - একটু ইউনিতে যাব ভাবতেছি।
- কি?? কালকের দিন ইউনি? তোর মতি গতি তো সুবিধার না!
- আচ্ছা বাবা যা, যাবো না। তুই যেখানে নিয়ে যাবি যাব।

অত:পর ঠিক হলো ন্যাড আসবে, ইশি আসবে, তাসিন আসবে, ইমু আসবে, আমি যাব। ন্যান্ডোজে দুপুরের খাবার ভক্ষন করিব। আমি একটু ভয়ে আছি, ফকিরের নিজের খাবারের পয়সা দিতেও আধুলীতে টান পড়ে, আমার ওরকম অবস্থা। বন্ধুরা দয়াবান না হলে সমস্যা হবে।

কালকে শুভেচ্ছা পাব অনেক। এই এরা, বাংলাদেশের বন্ধুরা দিবে শুভেচ্ছা। আর গ্রুপ ইমেইল হিসেবে আসবে আরও অনেকের মেইল।

তবে 'ভ্যালেন্টাইন' ডেকে কেউ হাতে ফুল ধরিয়ে দিবে না, চিঠি লিখবে না, ফোনের প্রতীক্ষায় থাকবে না, রাত বারোটায় এসএমএস করে ঘুম ভাঙিয়ে দিবে না। * **** *** এর রহস্যভেদ করতে চাপাচাপি করবে না।

সবাইকে দেখছি এই নিয়ে হা হুতাশ করছে। আমার যে অদ্ভূত রকমের স্বস্তি লাগছে! বুক ভরে নি:শ্বাস নিচ্ছি মুক্ত বাতাসে।

একটু দূর থেকে মিটিমিটি হেসে কপোত কপোতীদের প্রেম দেখব কাল। আর সারা বিশ্বকে ভালবাসব।

বুকের এক পাশের ছোট্ট রক্ত পাম্পিং মেশিনটাকে নিয়ে বড় ঝামেলায় আছি। ভাবতে ভাল লাগছে, কালকে ওটা নিরাপদেই থাকবে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28698181 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28698181 2007-02-13 07:25:43
পাখা কাটার ছুরি, কাঁচি
সাত নম্বর ট্র্যাকের সাঁওতালী গানটাই নাকি চমৎকার। আগ্রহ নিয়ে শুনতে গিয়েই ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ। নষ্ট সিডি। বিরক্তিকর।

আঙ্গুরগুলো বড্ড ছোট। ডালের সাথে সংযুক্তি শক্ত। খুলে পড়ে না কিছুতেই আবার একটা একটা করে ছিঁড়ে খাওয়াটাও কষ্টসাধ্য। বিরক্তিকর।

ফুলদানীতে নষ্ট গোলাপ। তুলে ফেলতেই গন্ধ-কণাদের জ্বালায় নাক কুঁচকাতে হলো। সাদা ফুলদানীর ভিতরে পঁচা পানির হালকা বাদামী দাগ। বিরক্তিকর।

ইনবক্স খুলতেই ঘোষনা: উনপঞ্চাশটা না পড়া ইমেইল। মোবাইলে একের পর এক ওভারডিউ রিমাইন্ডার: ইমেইলিং মিনিটস- টু উইকস ওভার ডিউ। ইমেইলিং ইয়ারলি প্ল্যানস- ওভারডিউ। ইমেইলিং রিমাইন্ডার - ওভারডিউ। ইমেইলিং সিস্টার ফেরা - আরজেন্ট এন্ড ওভারডিউ। সাইন আউট।

শ্যাম্পু করা চুলগুলো সর সর সরে যায়। বেনীরা আলগা হয়। অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম এসে ভর করে কোমর ছাড়ানো কৃষ্ণতায়। হাত দিলে রেশমী কোমলতাটাও ঠেকে- বিরক্তিকর।

মার্গারেট এটউডিও নৈরাশ্য। রুপার্ডের ভাষায়, এত পন্ডিত লোকের এত কথা সবই লিপিবদ্ধ হয়ে আছে লাইব্রেরিগুলোতে। এখন যা বলছে, তা কেবল একটা ব্যাড কপি। নাথিং মোর। অমুসলিম-কাদিয়ানী-শিয়া-ইউনুস-বিরক্তিকর।

ছুঁতে ইচ্ছা করে। করে না। নিজেকে না অন্যকে, কাকে কষ্ট দেয়া বেশি অনুচিৎ, বুঝি না। বিরক্তিকর।

নিজের অনুভূতি নিয়ে কনফিউজড আমিটাই বিরক্তিকর। একটা কাঁচি দরকার, স্বপ্নের পাখা কাটার কাঁচি। একটা ছুরি দরকার। অনুভূতিদের স্পষ্ট সংজ্ঞা দিয়ে আলাদা করে দেয়ার ছুরি। একটু আগুন দরকার। ফিনফিনে ইচ্ছাঘুড়ি পুড়িয়ে দেয়ার আগুন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28697882 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28697882 2007-02-11 07:45:43
বুনো ফুল
সব কিছুর সামনে ব্লগের ফালতু টপিকের রাজাউজির মারা পোস্টাপোস্টির অর্থহীন চর্বিতচর্বন বড় বিরক্তিকর লাগছে যে!

গুড মর্নিং সান শাইন, দ্যা আর্থ সেইজ হ্যালো।

পৃথিবী সুখে থাক। সব্বাই সুখে থাক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28697444 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28697444 2007-02-08 06:04:18
আকাশের আয়না সাগরের স্পর্শ - 3
সকালের নাস্তা খেয়ে কাপড় বদলে চলে আসলাম সাগরের সাথে বোঝাপড়ার জন্য। বাচ্চাবুড়োযুবকযুবতী অনেকেই ততক্ষনে সাগরে নেমেছে। আমরা মানুষগুলো থেকে একটু দূরে গিয়ে নামার প্রস্তুতি নিলাম। মুখে এক গাদা সানস্ক্রিন লাগালাম। এমনিই কালো মেয়ে, এর উপর সূর্যের আশীর্বাদে ট্যান লাগলেই হয়েছে, আমাকে আর দেখা যাবে না। তারপরে এক পা এক পা করে এগুলাম, বিশালত্বের দিকে।

হালকা গরম বালু পায়ের তলে আদরের সুঁড়সুঁড়ি দেয়। একটু এগিয়ে ভেজা বালিতে দাঁড়াতেই একটা স্তিমিত ঢেউ এসে পায়ের পাতা ভিজিয়ে দিয়ে গেল। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, ঢেউ সরতেই সর সর করে বালি সরে গেল পায়ের তলা থেকে। এই অনুভূতির কোন তুলনা হয় না।

হঠাৎ মনে পড়লো আমার কৈশোরের প্রেম ধ্রুবর কথা। দূরবীনের ধ্রুব, রেমি পুরীতে সাগরে নামে ধ্রুবর সাথে, ধ্রুবর সাথে অভিমান করেও নামে একবার ঝড়ের সাগরে। শীর্ষেন্দুর বর্ণিল শব্দগুলো পড়ে খুব নামতে ইচ্ছা করছিল সাগরে, সেবারের পরে সুযোগ আসল এই প্রথম।

কিছুক্ষণ ঢেউ দেখলাম মুগ্ধ হয়ে। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে তীব্র বাতাসে আলোড়িত নদী দেখলে মনে হয় ক্র্যাপ্টের সিলকের কাপড়। যেন কেউ দুই ধারে ধরে আন্দোলিত করছে বিশাল সিল্কটাকে। সাগরের ঢেউগুলো এমনই, উঁচু নিচু আন্দোলন, বাতাসের সাথে পানির ঠুকাঠুকি। তীরের কাছে এসে ঢেউগুলো ভেঙে যায়, ক্ষ্রীপ্ত ঢেউ সাদা ফেনা নিয়ে ছুঁটে আসে তীব্র বেগে। কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে কয়েকটা ঢেউয়ের ধাক্কা খেলাম। পা একটু টাল মাটাল হলো। আমার খুব মজা লাগছিল। সাগরের মত এত বিশ্লাল কিছুর সাথে টেক্কা দিচ্ছি মনে হল। সাগর যেন আমাকে একটু একটু টোকা দিয়ে খেলিয়ে নিতে চাইছে। প্রতিটা ঢেউ আসে আর আমি তৈরি হই বিধ্বংশী আদরের জন্য। ঢেউ ভাঙতেই, ঢেউয়ের সে কি গর্জন! মনে হলে চ্যালেঞ্জ করছে আমাকে, আমরা পাঁচজন এক সাথে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের সাথে টেক্কা দিচ্ছি। একটু মজা পেয়ে চিৎকার করলাম: কাম অন ম্যান! ব্রিং ইট অন! কাম অন!

সাগর যেন সাড়া দিল, বিশাল এক ঢেউ এলো এবার। আমি উলটা ঘুরে দেঁৗড়। ধাওয়া পালটা ধাওয়া খেললাম কিছুক্ষন এভাবে।

তারপরে আরেকটু এগুলাম। এবার বুক অব্দি পানি। হঠাৎ বড় একটা ঢেউ এসে আমাকে মাটি থেকে উঠিয়ে নিল। কিছু বুঝার আগেই দেখি প্রবল গর্জনে ঢেউ আমার উপর সওয়ার হয়েছে। চোখ খুলতেই পানির বুদবুদ, চারিদিকে সবুজ পানি। চোখে লবন পানির জ্বালা। মুখে লবন পানি। গড়গড়া করার সময় পানিতে বেশি লবণ পড়ে গেলে যেমন, তেমন। পায়ের তলায় মাটিও নেই, কিছু বুঝার আগেই আমি অক্সিজেনের জন্য ছটফট করতে করতে শ্বাস টেনে ফেললাম লবন পানিতে। আর যাই কোথায়, নাকে মুখে তীব্র জ্বালা! কোন মতে উঠে দাঁড়াতেই টের পেলাম ঢেউটা তখন ফিরতি যাত্রায়। গ্রীষ্মের ভাটার সময়ের ঢেউ, তীরের সব কিছু টেনে নিয়ে যেতে চায়। দিল পা ধরে হেঁচকা টান। আবার লবন পানিতে হাবুডুবু খাওয়া!

আরেকটা ঢেউ আসার আগেই চট জলদি উঠে তীরের দিকে দেঁৗড় লাগালাম। ভাগ্যিস পানির বোতল এনেছিলাম, তাই দিয়ে চোখ মুখ ধুলাম, পানি খেলাম। আবার মুখে ভালো করে সানস্ক্রীন লাগিয়ে পায়ে পায়ে এগুলাম সাগরের দিকে। ব্রিং ইট অন বলতেই আমাকে এভাবে ডুবালেন বুঝি বাবু? আচ্ছা! এবার তাহলে শান্তি। আত্মসমর্পন। ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। ভেজা বালুতে পা ছড়িয়ে বসে গেলাম। আমার কোমর পর্যন্ত ঢেউ এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে একটু পর পর। মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম চারিদিকে মানুষের ঢেউকে জয় করার প্রচেষ্টা। হঠাৎ মনে হল, সাগরের সত্যিই প্রান আছে, সব টের পেয়েই দুষ্টামি করছে!

ভাইয়া বললো, আয় ঢেউয়ে ভাসি। ওর হাত ধরে গেলাম গলা ডুবানো পানিতে। একটু গভীরে, সেখানে দাঁড়ালে বুঝা যায়, সমুদ্র ফুলে ফেঁপে উঠছে। যেন শান্ত, জীবন্ত সাগর নি:শ্বাস নিচ্ছে বলে এমন ফুলে ফুলে উঠে বুক। এক এক বার ফুলে উঠা নিজের দিকে আগাতেই, ঢেউটা ভাঙার আগেই নিজেকে ছেড়ে দিতে হয় ঢেউয়ের গায়ে। ঢেউ আলতো আদরে একটু উপরে উঠিয়ে নেয়। তারপরে আবার ঠিক তেমনই সন্তপর্নে ছেড়ে দেয় সাগরেরই বুকে। তখন মনে হল এত বিশাল বুকে নির্ভয়ে নিজেকে ছেড়ে দেয়া যায়! আবার কখনও সখনও ঠিক ঢেউ ভেঙে যায়। তখন নাক কান চোখ বন্ধ করে পানির নিচে ডুব। একটু পরে মাথার উপরে তীব্র গর্জন শোনা যায়, তারপরে মাথা তুললেই দেখা যায় সাদা ফেনাগুলো মাথার উপর থেকে সরে গিয়েছে।

এমনি করে মোটেমাটে তিন ঘন্টা কাটালাম প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে। ঝগড়া করে, ভাব ভালবাসার বিনিময় করে। মোটেই যেতে ইচ্ছা করছিল না, কিন্তু চোখ টকটকে লাল। সানস্ক্রীনেও বেশি কাজ হচ্ছিল না, মুখ হাত কালো হয়ে শেষ। হাত পা ভেঙে আসছিল ক্লান্তিতে, সাথে তীব্র ক্ষুধা। অতএব, সাগরকে বিদায় জানাতে হলো তখনের মত।

[ইটালিক]এখনও চলছে...[/ইটালিক]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28696767 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28696767 2007-02-05 06:54:12
আস্ত ব্লগীয় আড্ডার আহবান । আমার বাংলাদেশ!

আমার প্রথম আড্ডা-আহবানী পোস্ট: সব্বাই নিমন্ত্রিত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28696149 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28696149 2007-02-04 03:51:20
আজ তোমার বাইশ হলো, ভাইয়্যূন
সব বাবুদের আনা হলো না বটে, কিন্তু যেই বাবুকে আনা হলো, তাকে নিয়েই সে অস্থির। মামনি বলেছে ও এখন থেকে 'ভাইয়্যুন'। দায়িত্ববান বড় ভাই ও, আপুনিকে না পারতেও জোড় করে কোলে নিবে, সারাদিন আপুর পাশে বসে থাকবে। 'আমাল আপু'। এই আপুটাই আমি।

মা তো পুরা অবাক। এই পিচ্চি ছেলে, মাত্র দু'এক দিনের মধ্যে কথা বলতে না পারা, দেখতে না পারা পোটলাটাকে কি সত্যিই ভালবেসে ফেলল নাকি? একদিন ভালবাসার অগি্ন পরীক্ষা নেয়ার জন্য পোটলা আমিকে লুকিয়ে রাখা হল।

ভাইয়া ঘুম থেকে উঠেই নিয়ম মাফিক ছোট্ট আপুর কটের কাছে আসল। কিন্তু আপু তো নেই! এ ঘর সে ঘর করে কোথাও আপুকে খুঁজে পাওয়া গেল না। একটু পরে মা দেখে ও চোখ মুছছে, 'মামনি, আমি আপুকে পাই না'!

মা তখন বিদেশ বিভঁূইয়ে, পরিবারের সবার থেকে অনেক দূরে। দুই বছরের ভাইয়া যখন দেখল মামনি ওকে প্র্যামে বসিয়ে, আপুকে কোলে নিয়ে একা একা মাইলের পর মাইল হেঁটে ক্লাস করে, তখন সে আপুকে প্র্যাম ছেড়ে দিয়ে গম্ভীর মুখে হাঁটে মায়ের হাত ধরে টু শব্দটা না করে। এক একবার নাকি খুব ক্লান্তিতে প্র্যামের গায়ে হেলান দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ঘুমিয়ে পড়ত।

এই 'বড় বড়' ভাব নিয়ে ছোটবেলা থেকে আগলে রাখত আমাকে। আমি বরাবরই সহজ সরল বোকাসোকা মেয়ে, কিছু হলে ঝগড়া না করে সরে এসে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ কাঁদতাম। নার্সারীতে একবার ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলেটা টিফিন টাইমে আমার অজান্তে আমার ব্যাগ থেকে চকচকে 'সোনামনিরা লেখা শেখো' বইটা পালটে ওর পুরানো দাগওয়ালা বইটা ঢুকিয়ে দিয়েছিল। পরের দিন ক্লাসে ঢুকে ভাইয়া সেটা উদ্ধার করে দিল। আমার বুক দশ হাত ফুলে গেল।

ক্লাস টু'তে সে একই সাথে ক্লাসের থার্ড বয় আর পুরা মাস্তান। টিফিন টাইমে কাঠের স্কেলটা বের করে মারামারি করে। মেলা থেকে বাবা কাঠের তলোয়ার কিনে দিল, সেটা শার্টের তলে লুকিয়ে ক্লাসে নিয়ে যায়। একদিন ধরা পড়লো ক্লাস টেস্টের খাতা জমা না দিয়ে। ছুটির পরেও টিচার ধরে রেখেছে, কিছু একটা হবে আর কি। আমি তো বরাবরের মত ভয়ে অস্থির, 'ভাইয়্যুন, কি হবে এখন?' টিচার অন্য দিক ফিরতেই ও আমার হাত ধরে দিল দেঁৗড়। দেঁৗড়াতে দেঁৗড়াতে একদম স্কুলের বাইরে। আমার জীবনের অন্যতম থ্রিলিং ঘটনা!

তখন থেকেই বহু অন্যায়ের সাক্ষী আমরা একে অপরের। বইয়ের নিচে লুকিয়ে চাচা চৌধুরী, টিনটিন থেকে শুরু করে সমরেশ সুনীল পড়ার দিনগুলোতে একজন আরেকজনের পিঠ বাঁচিয়ে গেলাম। ড্রাইভিং শুরু করার পরে, লাইসেনস পাওয়ার আগেই ও যখন লুকিয়ে চুরিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হতো, আমার মুখে তখন স্কচটেইপ।

এত সব বান্দ্রামি করেও ওর নাম বরাবর ভালো ছেলেদের খাতায় লেখা ছিল। কি অন্যায়! আত্মীয় স্বজন থেকে সবাই ওর নাম বলতে অজ্ঞান। এখনও! ক্লাস এইটে রীতিমত টিভিতে বিতর্ক আর কুইজ অনুষ্ঠানে যায় ও। মানে 'পপুলার' ছেলে। টিফিন টাইমগুলা ওখানেই কাটতো, আড্ডাবাজি কম করেছে ও। তো ক্লাস টেনে সবাই বিদায় নিচ্ছে। ডায়রীতে প্রিয় রং, প্রিয় বই, প্রিয় গানের পাশাপাশি প্রিয় (মেয়ে) বন্ধুর নাম লেখার সময় আসল। ও আমার নাম লিখে দিয়ে আসল। সব মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে পড়লো, অহংকারী 'পপুলার' ছেলেটার থেকে এতদিনে একটা বিশেষ এবং সুনির্দিষ্ট মেয়ের নাম বের হলো তবে! আসল ঘটনা জানার পরে সবাই চুপসে গেল!

ক্লাস এইটে বৃত্তি পরীক্ষার সপ্তাহ খানেক আগে জ্যামিতি পরীক্ষায় 27 এ 3 পেলাম। বাসায় এসে মা বাবাকে লুকিয়ে হাপুশ কান্না। 'ভাইয়্যুন' সব জেনে প্রথম যা করল সেটা হলো, খাতাটা ছিঁড়ে জানালা দিয়ে ফেলে দিল। তারপরে দশ মিনিটের একটা লেকচার দিল। আমি নিশ্চিত, সেদিন সেভাবে টেনে না তুললে আমি আজকে এখানে থাকতাম না।

পনের বছরের জন্মদিনে মনে আছে, বাসায় জন্মদিন নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। আমি সারাদিন মুখ শুকনা করে ঘুরে বেড়ালাম। সন্ধ্যার সময় ভাইয়ুু্যন ঘরে ফিরল পনেরটা লাল গোলাপ নিয়ে। আমার জীবনের প্রথম গোলাপ। গোলাপগুলোর শুকনো পাঁপড়ি সাত সমুদ্দর তের নদী পার হয়ে আজও আমার দ্্বিতীয় ড্রয়ারে সংরক্ষিত। এরপরে আরও অনেক গোলাপ পেয়েছি, কিন্তু সেদিনের মত খুশি করতে পারে নি একটাও। তাই বোধ হয় আর একটাও রাখা হয় নি।

বরাবর বলে এসেছি আমার ছন্দজ্ঞান খুব কম। খুবই। নেগেটিভের কাছাকাছি। ভাইয়ার সতেরতম জন্মদিনে, মাত্র সিডনী এসে আমি পুরা ফতুর। মরিয়া হয়ে খাতা কলম নিয়ে বসে গেলাম আর 9 প্যারার একটা রম্য ছড়া লিখে ফেললাম। আমার প্রথম ও শেষ ছড়ার প্রথম প্যারা:
ঢ্যাঙা এক ছোঁড়া আছে,
ছোট তার মুখ,
সারা মুখে ছড়িয়ে থাকে,
ভাব সুখ সুখ।

দেড় বছর বয়সের বড় ভাই বড় ভাই ভাবটা কবে কমে গেছে জানি না। এখন পুরা দোস্তি। তুই তোকারি। মারামারি। এক একটা দিন আসে যখন গভীর রাত পর্যন্ত টুক টুক গল্প চলে। ফাইজলামি থেকে সিরিয়াস গল্প। পৃথিবীর যাবতীয় সমস্যার মূল নির্ণয় এবং উৎপাটন হয়ে যায় তর্কে তর্কে। ইউনিভার্সিটিতে এক সাথে যাওয়া আসার ট্রেইন ভ্রমনটুকু কচিত যখন এক সাথে হয়, ব্যাপারটা খুবই উপভোগ করি। বাংলাদেশে কোচিং থেকে ফেরার পথে রাতের বেলা এক সাথে রিকশায় কত গল্প হতো, মনে পড়ে যায়। এখনও মাঝে মাঝে 'ছোট বোন' ফলিয়ে কফি কিংবা লাঞ্চের পয়সা খসাই, আমার খুব প্রিয় কাজগুলোর একটা।

একটাই খারাপ দিক, আবেগী হয়ে ভাইয়ার সাথে কথা বলা যায় না। ক্ষেপিয়ে টেপিয়ে জ্বালিয়ে মারে। আজকে, ওর বাইশতম জন্মদিনে শহরের বাইরে ও। তবু ছোট্ট একটা ম্যাসেজে কাজ সারতে হলো ব্যাটার এই স্বভাবটার জন্য। ব্লগ করে না, কিন্তু আমার ব্লগ পড়ে নিয়মিত। এই পোস্ট পড়ে জ্বালাবে খুব, আমি নিশ্চিত।

আমি টের পাই, ভাইয়্যুন এখনও আমাকে সেই প্রথম দিনের মতই আগলে রাখতে চায় সব কিছু থেকে। বাইশ বছর হয়ে যাওয়া ভাইটার জন্য আজকে অনেক মায়া লাগছে হঠাৎ! এত অসাধারন একটা ছেলেকে ভাই হিসেবে পাওয়ার জন্য নিজেকে মহা ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। অনেক দূর যাবে ভাইয়্যুন, আমি নিশ্চিত জানি। দোআ করি, অনেক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28696031 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28696031 2007-02-02 23:47:10
জীবাণুদের সাথে যুদ্ধরত - এনাটমি, ফিজিওলি, বায়োকেমিস্ট্রি আর সাইকোলজি।
- আচ্ছা! ফিজিওলি কঠিন হবে। সাইকোলজি তো তুমি পছন্দ করবা। কিন্তু আমি সবচেয়ে পছন্দ করছিলাম এনাটমি। প্র্যাকটিকেলগুলা মজা ছিল। শুধু যাওয়ার আগে কিছু খেও না।
- কেন?
- বডি পার্টসগুলা কেমিকেলে ডুবানো থাকে, বিচ্ছিরি গন্ধ হয়ে যায়...
- বডি পার্টস???!!! রিয়েল, হিউম্যান বডি পার্টস?
- ইয়াপ।
- (আম্মাআআ)

*************

- আমার বোরহানী এত মজা হয় না ক্যান আন্টি? কি কি দ্যান?
- কোন দই দাও?
- আলদির দই।
- হ্যা, ওইটা আমিও দেই। গোল মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, কাচা মরিচ আর ধইন্যা পাতা বাটা, সরিষা বাটা...
- আচ্ছা! সরিষা বাটা দেই নি কখনও। ইহাই তীব্র স্বাদটার রহস্য! আমি তো রাঁধুনীর প্যাকেট মসলা ঢেলে দিয়েছিলাম।
- ওইটা দিলে তো কটা হয়ে যায়।
- হ্যা হয় তো! এইবার পুরা আন্টীয় রেসিপিতে কাজ চলবে!

*************

- আরে শোনই না, ও তো নাম বদলে ফেলেছে গত হপ্তায়। পুরা একশ সাতাশ ডলার দিয়ে। হি হি হি।
- কেন কেন?
- ওর পুরা নাম ছিল জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরি। জান্নাতুল অজি উচ্চারণে হয়ে যায় জেনেটল... হি হি হি।
- (তাহরিমার টারিমা, সাদিকার স্যাডিকা, আসাদের অ্যাজাড...)

*************

- ওই কিউট পিচ্চিটা নাকি উইল স্মিথের নিজের ছেলে?
- হ্যা! দেখতেই হবে পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস। কবে?
- পিচ্চিরা স্কুলে যাবা, আমরা যাবো মঙ্গলবার।
- উহু, আমরা ক্লাস ফাঁকি দিতো পারবো, নো প্রবস। ওরা যখন বাথরুমে রাত কাটায়, উইল স্মিথ হঠাৎ ছেলের দিকে তাকায় কাঁদে তখন তুমি তো কাঁদবা ফর শোর...
- হ্যা, কান্দা তো আমার খান্দানি রোগ!
- হি হি হি।

*******************
- একটু আগে কনফার্মেশন ইমেইল পেলাম। হয়ে গেছে।
- (ওহ আল্লাহ, শব্দরা সব কই?) হয়ে গেল? খুব লাফাচ্ছেন না? আমি তো দোআ করতেছিলাম আরেকটু পরে হয় যেন।
- আয় হায় বলে কি?! পিচ্চি, এখন থেকে উল্টা দোআ করবি, তাইলে লেগে যাবে। কিন্তু ক্যান?
- আমারে এক টাকা ষাট পয়সার গোলাব জাম খাওয়াবেটা কে শুনি?
- হা হা হা।
- (আর তীব্র বাতাসে স্পীড বোটে ছিটে আসা সামুদ্রিক লবণ পানি খাওয়ার সাথীটা হবে কে? দু'মাইল হেঁটে সাগর দর্শন আর টানা সাত ঘন্টা পানির দিকে তাকিয়ে রেকর্ড করার সঙ্গী হবে কে? যখন তখন গা ছেড়ে দিয়ে পড়ে গেলে ধরে উঠিয়ে দিবেটা কে শুনি?)

*************
- গলা ব্যাথা খুব। ঢোক গিলতে পারছি না। চোখ উঠেছে। সকালে চোখ খুলতে পারি নি। পেট ব্যাথা করছে।
- ইয়াক, তফাৎ যা, তফাৎ যা।

*************

প্রিয় আল্লাহ,
তোমাকে তো আঙ্গুল উঁচিয়ে দোষারোপ করা ছেড়ে দিয়েছি সেই কবে। দিতাম যখন, সেই সময়গুলোকে কি বোকা বোকা মনে হয়! কারণ জানি, ওদের হাতে আমাকে তুমি ছাড়তে না, যদি না আমাকে উঠে আসার ক্ষমতা দিতে। উঠে আসার কষ্টটুকু সহ্য করতে না পেরে কত কিই না বলেছি সেই পিচ্চি বয়সে! এখন তো জানি, সত্যিই জানি, তুমি জানো আমি জানি-- সব নি:স্ব হওয়ার পরেও তুমি, আগেও তুমি, আমাকে তীব্র ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকো। স্তম্ভিত করে দিয়ে ধারালো কেঁচি দিয়ে কেঁটে আলাদা করে যেই শূণ্যতা তৈরি করে দাও, তখনও তুমি থাকো... সুঁই সূতা আর তালির কাপড় হাতে। নি:শর্ত, নির্ভাবনার অক্সিজেনের সাপ্লাইওয়ালা জানালা বন্ধের প্রসপেক্টে হঠাৎ কষ্ট হচ্ছে, খুব! আমাকে অক্সিজেন দাও, প্লীজ!
তোমার একনিষ্ঠ ভক্ত,
আস্তমেয়ে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695418 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695418 2007-01-27 07:35:46
এলোমেলো কথন - পাইছি। মুড ছিল না কথা বলার। গান শুনি।
- কি গান?
- তেরে বিন।
- আচ্ছা! বিরহ বিরহ ভাব যায় নাই! মন খুব বেশি খারাপ?
- হু।
- চশমা খুলে দিব?
- দ্যান।
- ভূতে বিশ্বাস করো?
- নাহ।
- ধরো তুমি বিশ্বাস করো। এখন আমাকে বলো, একবার স্বপ্নে ভূত দেখে ভয় পেলা আর একবার সামনা সামনি ভূত দেখলা। দুইটার ইম্প্যাক্ট কি এক হবে?
- না।
- ঠিক তাই। স্বপ্নে ভূত দেখে ভয় পাবা। প্রচন্ড ভয়ে অস্থির হয়ে মাকে গিয়ে বলবা আজকে রাতে একা শুতে পারবা না। হয়তো কয়েক রাত একা ঘুমাতে পারবা না কিছুতেই। কিন্তু আস্তে আস্তে ভয়টা কেটে যাবে। আবার একা ঘুমাতে পারবা। কিন্তু যদি রিয়েল লাইফে ভূত দেখো, তাইলে ভুলাটা এত সোজা না। কারণ সেটা তখন বাস্তব এবং স্মৃতি। স্বপ্নের মাধ্যমে কখনও স্মৃতি তৈরি হয় না। এখন ব্যাপারটা এরকমই। ভার্চুয়াল লাইফে কখনও স্মৃতি তৈরি হয় না। হলেও সেটার ইম্প্যাক্ট রিয়েল লাইফের মত না।
- কিন্তু ঠিক ভার্চুয়ালও না।
- যেটুকু রিয়েল, সেই তিন দিন এক ঘন্টার জন্য দেখা হওয়া, এক সাথে ফুচকা কফি আইসক্রীম খাওয়া? সেটুকু সবার সাথে হয়। এতটুকুতে কারো সাথে পুরা জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না।
- কিন্তু... ফিলিংসটা তো সত্যি। তাছাড়া, আনটাচড মনে প্রথম স্পর্শ... আমার মধ্যে এর তীব্র ইম্প্যাক্ট দেখেও বুঝেন নাই?
- অফকোর্স। কিন্তু এত টুকুই। ফিলিংসটা সত্য। কারণটা পাকনা বুঝে গেছে--আনটাচড মনে প্রথম স্পর্শ। ক্লাস ফোরে থাকতে একটা মেয়েকে দেখে আমি পাগল হয়ে গেছিলাম। ওই ভালো লাগাটা ওই বয়সের জন্য ঠিক ছিল। কিন্তু তাই বলে এখন ওইটাকে বিয়ের কথা চিন্তা করি না।
- হা হা হা। ওকে.. কিন্তু...
- শোন পাকনা, ডোন্ট বি সো অবসেসড এবাউট গেটিং ইট রাইট দ্যা ফার্স্ট টাইম। তুমি বেশি চিন্তিত আসলে কোনটা ঠিক কোনটা ভুল তাই নিয়ে। তাই তুমি নিজের মন, এমনকি সত্যিকার অর্থে ঠিক সিদ্ধান্তটাকেও কম্প্রমাইজ করবা। বেশি ট্যালেন্টেড, আজাইরা বসে বসে বেশি চিন্তা করে নিজেকে হুদা হুদিই কনফিউজ করে লট ঘট সিচুয়েশনে নিয়ে যাও। একজন মানুষের সাথে কনসিডারেবল এমাউন্ট অফ সময় রিয়েল লাইফে না কাটিয়ে তাকে বুঝা যায় না। দু'একবার দেখলে ভার্চুয়াল দেখাটাই হয়তো রিকনফার্মড হয়। কিন্তু আসল সময় কাটালে বুঝা যায়। এখন তোমাকে ভ্যারিয়েন্স ক্যালকুলেইট করতে হবে, টোটালে পজেটিভ না নিগেটিভ।
- ওয়েল...
- কোন ওয়েল টোয়েল নাই। একটা ভুলকে আরেকটা ভুল দিয়ে জাস্টিফাই করা যায় না।
- কিন্তু... ঠিক এভাবে তো চাই নি।
- লাইফকে এত প্ল্যান করে আগায় নিতে চাইলে তো সমস্যা। উই আর নট রোবটস। তবে আর যাই বলো, ভাল লাগার অনুভূতিটা দারুন! টু গুড!
- তা ঠিক.. কিন্তু, ধুত্তোরিকা, মানুষের মন এত কমপ্লিকেটেড ক্যান!!!
- এই খানেই তো কবি নিরব!
- ভালো কথা, খবিতার খিতা খবর?
- পঁচানো হচ্ছে না? আমারও দিন আসবে!
- কি যে বলেন, আপনারে পঁচামু? এত সাহস আছে?
- আইচ্ছা! একটা কথা বলি শোনেন বুদ্ধিজীবি। জীবন খুব বেশি দেখো নাই, য়ু আর টু ইনোসেন্ট। তাই একে এত বিগ ডিল মনে হচ্ছে। আসলে, নিজের দেখার দরকার নেই তো, য়ু ডোন্ট হ্যাভ টু টেইক লেসন ফ্রম য়ুর ওউন লাইফ। তোমার আশে পাশে যথেষ্ট উদাহরণ আছে। দেখো। শিখো। পিসলা খেয়ে মাজা ভেঙে শিখার দরকার নাই। আগেও বলছি এখনও বলি।
- বুঝলাম বুঝলাম। এবার চুপ করেন।
- আরে... কি দশা! ভালো কথা কইতে গেলেও প্রবলেম। এই বাইল্যা মাইয়ার সাথে ক্যান যে এত সিরিকাস কথা কই!
- কি বললেন, বাইল্যা মাইয়্যা!!!
- তো কি? এই যে, মন খারাপ আপুটাকে দেখতে ইচ্ছা করছে। চলে আসেন।
- এহ, চলে আসেন!
- আরে আসেন!
- কই আসবো? কখন আসবো?
- এখন। কফি খেতে। দোকান তোমার চয়েস।
- আচ্ছা! এত দূর যাবো আমি খালি কফি খেতে?
- তাইলে মায়ায় আসো।
- ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে ভাত তরকারি খেয়ে কি লাভ?
- আরে, ওইটা পয়েন্ট না। মায়াবতীর মায়া ইদানিং কমতির দিকে। মুখ দিয়ে ঠাশ ঠাশ কথা বাইর হয়। মায়া খাওয়ায় কিছু চাষ শুরু করবো আরি।
- হা হা হা। লাভ হবে না। মায়া অপাত্রে ব্যায়িত হয় না ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695193 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695193 2007-01-25 06:45:49
আকাশের আয়না সাগরের স্পর্শ - 2
পাহাড়ের দুই পাশে দুইটা সৈকত। পাথুরে গা বেয়ে তর তর করে নেমে গেলাম এক দিকের বীচে। একটু দ্বিধা করে দামি স্যান্ডেলটা খুলে হাতে নিলাম। সাদা স্কার্টে বালু লাগবে মন মানতে চাইছিল না। তাই বাতাসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে বালু ধরে একটু হাঁটলাম। প্রথমে শুকনো বালি, তারপরে ভেজা... তারপরে, হঠাৎই একটা দুষ্টু ঢেউ এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেল আমার বেশ খানিকটা। ব্যাস, আড় ভেঙে গেছে! এই বিকেলে হাঁটুর বেশি ভিজানো সম্ভব না বলে ওতটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।

একটু পরে, কনে দেখা আলোতে তীব্র বাতাসের ডাকাতির সাথে পাল্লা দিয়ে ওড়না সামলে দেখছিলাম সাগর। আমি বিমুগ্ধ। কয়েক ঘন্টায় চেহারা পাল্টে গেল যে! কনে দেখা আলোতে প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে সাগরকেও এত সুন্দর দেখায়! নীল সাগরটার উপরে কেউ সোনালী জরির গুড়ো ছিটিয়ে দিয়েছে... ঢেউয়ের তালে তালে সেগুলো নাচছে...

প্রথমে ঢেউ ঘেষে মীরার হাত জড়িয়ে অনেকদূর হাঁটতে হাঁটতে চললো গানের পালা।
"আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ... " গানটার সুর সহ সব যেন এই মুহূর্তের জন্যই লিখা।
তারপরে, কাঠের বেঞ্চিগুলোতে বসে চললো প্রিয় মানুষদের ডাকার পালা, মনে মনে, মুঠো ফোনে।

এত ঠান্ডার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সন্ধ্যার আগে সবার যখন জমে যাওয়ার উপক্রম, তখন বাসায় ফিরলাম। উদ্দেশ্য, রাতে খেয়ে দেয়ে আবার আসবো বীচে। সেটা হলো না। মাহমুদ আঙ্কেল ভয় ধরিয়ে দিল, কিছুদিন আগে নাকি ওখানে খুন হয়েছে। ততক্ষনে রাত দশটা বাজে। খুন হওয়ার আদর্শ সময়।

রাতের না পাওয়াটা মিটাতেই পরের দিন সাগর দর্শনে গেলাম ফজর পড়ে সাথে সাথেই। সে এক অন্য রকম পরাবাস্তবতা। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সাগর অনেক শান্ত। বীচের মসৃণ বালু দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে দক্ষ কারিগরের হাতে সিমেন্টের ঢালাই করা প্রান্তর... একটুও ভাঁজ নেই, পদচিহ্ন নেই, পুরোপুরি ভার্জিন। কারো স্পর্শ পড়ে নি যে! পূব দিক থেকে একটু একটু সূর্য উঠে সাগরের রং বদলে দিচ্ছিল প্রতি মুহূর্তে। তেরছা আলোয় বিকেলের কনে দেখা আলোর সাগরের চেয়ে একদম অন্য রকম দেখাচ্ছিল সাগরটাকে।

হাঁটতে হাঁটতে এক পাশের পাথরে উঠলাম, জোয়ার উঠলেই যেগুলোতে যাওয়ার উপায় থাকে না। উঠেই চমক। সাগরের দুর্দান্ত ঢেউগুলো পাথরে এসে আছড়ে পড়ছে সাদা ফেনা তুলে। প্রান্তে দাঁড়ালেই সারা গা ভিজে যায় এক ঝলক পানিতে। সুখের শিহরনে গায়ে কাঁটা দেয়। সাথে সাগরের গান, পুরো ব্যাপারটাকে পূর্ণতা দেয়। ছবিগুলো দেখে কান্না পাচ্ছিলো... আসল ঘটনার সিকি ভাগও আসে নি। ভাষাকেও কেমন দুর্বল মনে হচ্ছে। পুরো কনটেক্সটা যদি কোন ভাবে প্যাকেট করে আনা যেত, তাহলে তাই যে এনে ব্লগে ভুস করে ছেড়ে দিতাম! এত সুন্দরকে একা একা দেখা যায়? না উপভোগ করা যায়?

সারা গা ভিজে গিয়েছিল তখনই। তবু পেটে টান পড়তেই বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। একটু পরে এসে সাগরে আদরে ডুবাবো নিজেকে! সে গল্প হবে পরের পর্বে...

(ওহ, সৌন্দর্যে অবগাহনে এত ব্যস্ত ছিলাম, যে ক্যামেরা হাতে নিতে ইচ্ছাই করছিল না। বেশির ভাগ ছবি মীরা আর ভাইয়ার তোলা। তাই কোন ছবির কপি রাইট মামলায় হেরে গেলে নামিয়ে ফেলতেও হতে পারে। আগাম ক্ষমাপ্রার্থী।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695076 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695076 2007-01-24 02:34:55
আকাশের আয়না সাগরের স্পর্শ - 1
অথচ শেষ বার নদীতে আকণ্ঠ অবগাহন করেছি বোধ হয় নয় বছর বয়সে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সিডনীতে যতবার সাগরের কাছে গিয়েছি, ঢেউয়ের ঝাপটা খেয়েছি ফেরি থেকে, না হয় তীর ঘেষে হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ঢেউয়ের টোকা খেয়ে শিহরিত হয়েছি।

তাই রবিবারে সামনে যখন বিস্তৃত সমুদ্র সৈকত দেখলাম, তখন দিশেহারা হয়ে গেলাম।

প্ল্যানটা একেবারেই হুট করে হলো। শনিবার অলস দুপুরে এমএসএনে বসে চ্যাটাচ্ছিলাম, হঠাৎই তলব ড্রইং রুমে। দশ মিনিটের মাথায় সিদ্ধান্ত হয়ে গেল পরের দিন ফজরের পরেই আমরা রওনা দিবো সাউথ ওয়েস্ট রকস--নিউ সাউথ ওয়েলসের একদম উত্তরে একটা সামুদ্রিক এলাকার উদ্দেশ্যে। বাসা থেকে প্রায়ে সাত ঘন্টার ড্রাইভ। থাকা হবে মাহমুদ আঙ্কেলের বাসায়। আঙ্কেল ওখানে একা থাকেন, পরিবারের অন্যান্যেরা সিডনী। বহুদিন ধরেই যেতে বলছিলেন। যাওয়া হচ্ছিলো না। এবার হুট করেই!

তারপরে হুট হাট তৈরি হওয়া। রান্না করে প্যাকেট করা। কম্বল, বালিশ, কাপড় চোপড়ে গাড়ি বোঝাই করা। এবং অত:পর, পরের দিন সকালে পাঁচ জনের কাফেলা গাড়ি বোঝাই করে যাত্রা শুরু করা, গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি! সবার স্নায়ু তীব্র চাপে থাকে "নতুন-ড্রাইভিং-শিখতে-থাকা-আমি"-র হাতে ওদের জীবন ছেড়ে দিতে, তাই এক ঘণ্টার বেশি চান্স পেলাম না। আউশ মিটে নি, কিন্তু ৯০ কিমি/ঘন্টা গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি প্যাসেফিক হাইওয়েতে, এই বা কম কিসে!

মাহমুদ আঙ্কেলের ওখানে পৌছে, ব্যাগ রেখে, দুপুরের খাবার নাকে মুখে গুঁজে বেরিয়ে গেলাম সাগরের অমোঘ টানে।

সমুদ্র সৈকতের নাম 'ফ্রন্ট বীচ'। ছোট্ট ম্যাপটা দেখে চোখ বড় বড় হয়ে গেল... কি আশ্চর্য, এই জায়গায় সাগরের নাম 'প্রশান্ত মহাসাগর'ই, কোন উপসাগর টুপসাগর না!

প্রশান্ত মহাসাগরের স্পর্শ নিয়ে আসছি পরের পর্বে... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695000 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28695000 2007-01-23 04:24:56
সেই কিশোরীর স্বপ্ন ও আমার প্রার্থনা
কাবার পাশে মসজিদুল হারামে সেদিন মানুষ আর মানুষ। ভিড় ঠেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত এক বাঙালী মহিলা জায়গা খুঁজছিলেন বসার জন্য। পেয়ে গেলেন, ঝকমকা চেহারার একজন কিশোরীর পাশে একটু খানি ফাঁকা জায়গা। জায়গা প্রার্থনা করতেই স্বত:স্ফূর্ত কিশোরী একটু সরে জায়গা করে দিল। স্বাভাবিক ভদ্রতা থেকেই একটু পরের অবসরে আলাপে উদ্যোগী হলেন মহিলা।

'হুইচ কান্ট্রি আর য়ু ফ্রম?'
'বাংলাদেশ'।
'আরে বাংলাদেশ? আমিও তো বাংলাদেশ থেকে!'
উজ্জ্বল মুখে অসম বয়সী দু'জন বাঙালী, স্বদেশের মাটি থেকে অনেক দূরে, হাজার মানুষের ভিড়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে বাংলায় আলাপ জুড়ে দিলেন। তের বছরের মেয়েটা হজ্জ্বে এসেছে বৃদ্ধ নানা নানীর সাথে। বাবা মাসহ কুষ্টিয়া শহরে থাকে মেয়েটা।

অল্প কথাতেই বুঝা গেল মেয়েটা আর দশটা মেয়ের চেয়ে একটু বেশিই চটপটে, তীক্ষ্ম ধারালো বুদ্ধিমতী, স্মার্ট এবং সহজ। পট পটি মেয়েটা সাথে যখন মোটামোটি ভালই ভাব বিনিময় হয়ে গেল তখনই পিছনে বসা নানার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল মেয়েটা। মহিলা ঘুরে বসে বৃদ্ধের সাথে পরিচিত হয়ে একটু কথা বলার পরেই হঠাৎ বুড়োর চোখে পানি টলমল। বললেন হজ্জ্বে আসার বৃত্তান্ত।

পাশের চমৎকার, সুন্দর, সহজ মেয়েটা আসলে আর সবার মত সুস্থ, স্বাভাবিক না। এমনি দেখে বুঝার উপায় নেই, কিন্তু ডান পায়ের নার্ভে জন্মগত একটা সমস্যা থাকার জন্য উচ্ছ্বল মেয়েটা হাঁটতে পারে না আর সবার মত। ধরে উঠাতে হয়। অল্প কিছুক্ষন ধরে হাঁটিয়ে দিয়ে ধাতস্থ করলেই তবে ধীরে ধীরে হাঁটতে পারে সে। চাকুরিজীবি বাবা মা নিজেদের সবটুকু সম্বল দিয়ে উদ্ভ্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য মেয়েকে নিয়ে ছুটে গিয়েছেন ভারতে, ব্যাংককে, পৃথিবীর এ মাথা থেকে সে মাথা। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মানসিক ভাবে পরিপূর্ণ মেয়েটা ভয়ংকর শারিরীক ত্রুটি নিয়ে তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে চারিদিকের জীবন্ত, চলন্ত মানুষদের।

মাস খানেক আগে এক রাতে খুব অদ্ভূত স্বপ্ন দেখেছিল ও। ও কাবা শরীফের গেলাফ ধরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছে পা ভালো করে দিতে। আশ্চর্য, এরপরেই ও বন্ধুদের মত প্রানবন্ত হয়ে হাঁটছে, দৌড়াচ্ছে, চিৎকার করে বলছে, পৃথিবীটা আমার! আমার!!!

বাবা মাকে বলতেই বুক ফেঁটে গিয়েছে ওদের, কষ্টের টাকা জড়ো করে মেয়েকে হজ্জ্বে পাঠিয়েছেন নানা নানীর সাথে। কাবার গেলাফ ধরে একটু প্রার্থনা করার জন্য।

বলতে বলতে বৃদ্ধের গলা বুঁজে আসল। ডুকরে কেঁদে উঠে বুড়ো ক্ষনিকের পরিচয়ের মানুষটার হাত জড়িয়ে বলে, 'মা গো, ওকে আমি সাথে করে নিয়ে কাবার গেলাফ ছুঁইয়েছি। মা গো, ও ধরেছে, দোআ করেছে। সত্যিই করেছে মা।'


লোকে বলে ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়। স্বপ্ন সত্যি হলে কেমন লাগে আমি জানি না, কারণ আজ অব্দি আমার কোন স্বপ্ন সত্যি হয় নি। আমার ঘুমের স্বপ্নগুলো পরীক্ষার হলে পড়া ভুলে যাওয়া, পরিচিত মানুষদের সাথে টুকটাক কথোপকোথনে সীমাবদ্ধ। তাই এমন বিশ্বাস নিজের মধ্যে হওয়ার সুযোগ হয় নি, যে স্বপ্ন সত্যি হতে পারে। তবু, মায়ের থেকে ঘটনা শোনার পর খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে, স্বপ্নগুলো সত্যি হয়। আসলেই হয়। হর হামেশা হয়। এবারও যেন হয়, যেন হয়। আমার আন্তরিক প্রার্থনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28694595 http://www.somewhereinblog.net/blog/AstoMeyeblog/28694595 2007-01-19 03:41:58