কথাসাহিত্যে স্বাগত মাসুম রেজাঃ
ছাত্র জীবনেই মাসুম রেজা মহাশ্বেতা দেবীর বিখ্যাত উপন্যাস 'অরণ্যের অধিকার সামনে রেখে 'বীরসা কাব্য' নামে একটি মঞ্চোপযোগী নাটক লিখে আর সেটাকে নতুনরীতির অভিনয় কলায় মঞ্চস্থ করে আমাদের বিস্ময়বিমুগ্ধ' করে ফেলেছিলেন। তারপর অনেকটা সময় গেছে। প্রায় নিজের মধ্যে নিজে প্রচন্ড একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আজ বেরিয়ে এসেছে এসময়ের এক অবশ্য উল্লেখ্য নাট্যকার। তবে শেষ পর্যন্ত মঞ্চেই আটকে থাকেননি মাসুম, মঞ্চ কখনোই ছাড়েননি যদিও অসাধারণ বেশ কয়েকটি নাটক রচনা করেছেন, মঞ্চে তাদের স্থাপনও করেছেন, সেই সঙ্গে দখল নিয়েছেন ভিন্ন মাধ্যমগুলিরও খানিকটা করে জমি।
আজ অনেক পরিণত বয়সে পৌঁছে মাসুম রেজা তাঁর কৃতির মাত্রা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে লিখেছেন একটি উপন্যাস, মীনকন্যাদ্বয়। কাহিনী এই নষ্ট হয়ে যাওয়া, নষ্ট-করে ফেলা, হতচ্ছাড়া সোনার বাংলাদেশের ও সমাজের। আমরা তো কিছুই করব না, করতে হয়তো চাই-ও না, পারিও না- আমরা শুধুই করুণ কাহিনী শুনতে চাই, পাঁচালি রচনা করতে চাই দুর্দশার, নির্যাতনের, সন্ত্রাসের। তা, মাসুমও শুনিয়েছেন আবার একটি হৃদয়বিদারক কাহিনী- দুটি প্রায় অস্ফুটযৌবনা কুমারীকন্যার হাঙরের-কুমিরের চোয়ালে আটকে পড়ার গল্প। তাতেই উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
মাসুম লিখেছেন উপন্যাস-কিন্তু দেখিয়েছেন দৃশ্যের পর দৃশ্য। যেমন মঞ্চে দেখা যায়। তাতে আঘাত আসে সরাসরি, ভাবনা-চিন্তা করার, আত্মরক্ষার সময় পাওয়া যায় না। যা দেখবার প্রত্যক্ষ দেখো, ভেবো পরে। এ একরকম পরীক্ষাই বটে-এক আকারকে গলিয়ে অন্য আকার বের করে আনা। প্রায় প্রতিটি দৃশ্যই পরিকল্পিত, সংলাপবহুল। এই পরীক্ষায় মাসুম উৎরে গেছেন- উপন্যাস লেখার অজস্র^ ঢং-এর মধ্যে নতুন একটা ঢং দেখতে পাচ্ছি। মাসুমের দৃষ্টি স্বচ্ছ, ভাষা যথাযথ আর বলিষ্ঠ। এরপর থেকে তিনি অনুসৃত হবেন বলেই মনে করি। কথাসাহিত্যে তাঁকে স্বাগত জানাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


