somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ভারতবর্ষে স্বাধীনতার বীজ 'ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা' ভারতবর্ষে স্বাধীনতার বীজ 'ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা'
৩০ জুন, সান্তাল হুলের দিবস। সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে অধিক পরিচিত। আজ থেকে ১৫৪ বছর আগে সাঁওতালরা সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিল তাদের অধিকার আদায়ের জন্য। তারা এ যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ইংরেজদের শাসন-শোষণ, সুদখোর, মহাজন ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ভারতে সান্তাল হুলের ১৫৫ তম বার্ষির্কী রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হয়েছে। এ বিদ্রোহের মহানায়ক চার ভাই সিদ-কানহু-চান্দ ও ভাইরোকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠন ও আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ৩০ জুন থেকে শুরু করবে কয়েকদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী।
'হুল' আদিবাসী সান্তাল ভাষার শব্দ। এর বাংলা আভিধানিক অর্থ হলো বিদ্রোহ বা সংগ্রাম বা যুদ্ধ। আজ থেকে ১৫৪ বছর পূর্বে ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন তারিখে সান্তাল সমপ্রদায়ের চার ভাই সিদ-কানহু-চান্দ ও ভাইরোর নেতৃত্বে আদিবাসীরা সর্বাত্বক যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল বৃটিশ সৈন্য ও তাদের দোসর অসৎ ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর ও মহাজনদের অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।
সান্তাল হুলের ইতিহাস হতে জানা যায় দামিন-ই কোহ ছিল সাঁওতালদের নিজস্ব গ্রাম, নিজস্ব দেশ। বহু কষ্ট করে জঙ্গল কেটে বন সাফ করে তারা তাদের জনপদ গড়ে তুলেছিল। অতীতে যে মাটিতে কোন মানুষের পা পড়েনি, সে মাটিকে তারা বাসযোগ্য করে গড়ে তুলেছিল আর সে মাটিতে ফলিয়েছিল ধান, ভুট্টা, নানা ধরণের সব্জি আর সোনালী ফসল। সুখে ছিল তারা দামিন-ই কোহতে। নিজেদের আলাদা একটি জগত তৈরী করেছিল তারা। সে জগতে কোন মহাজন, দালাল, জমিদার ছিলনা। কেউ ঋণী ছিলনা তখন। কিন্তু ব্যবসায়ী ও মহাজন শ্রেণী দলে দলে আসতে শুরু করল সাঁওতাল পরগনায়। মহাজন ও ব্যবসায়ী শ্রেণী সাঁওতাল পরগনায় ঢুকে বিপুল পরিমাণ ধান, সরিষা ও অন্যান্য তৈলবীজ গরুর গাড়ী বোঝাই করে নিয়ে যেত। বিনিময়ে সাঁওতালদের দেওয়া হতো সামান্য লবণ, টাকা-পয়সা, তামাক অথবা কাপড়। এখানে বিনিময়ের সময় চরমভাবে ঠকানো হতো সাঁওতালদের। কিছু অর্থ, কিছু চাল বা অন্য কোন দ্রব্য ঋণ দিয়ে সমস্ত জীবণের জন্য সাঁওতালদের ভাগ্য বিধাতা ও দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসত মহাজনরা। ফসল কাটার মৌসুম এলে মহাজন শ্রেণী গরুর গাড়ী ও ঘোড়া নিয়ে সাঁওতাল পরগনায় আসত। বার্ষিক আদায়ে আসার সময় মহাজনরা একটি পাথরে সিদুর মাখিয়ে নিয়ে আসত এবং সাঁওতালদের বলত যে, এ পাথরের ওজন নির্ভূল। এ পাথরের সাহায্যে ওজন করে মহাজনরা সাঁওতালদের সমস্ত ফসল তুলে নিয়ে যেত। কিন্তু তারপরও আদিবাসীদের ঋণের বোঝা সামান্য হ্রাস পেত না। মহাজনদের ঋণের সুদের হার ছিল অতি উচ্চ। একজন সাঁওতালকে তার ঋণের জন্য তার জমির ফসল, লাঙ্গলের বলদ এমনকি নিজেকেও বলি দিতে হতো তার পরিবারের কাছ থেকে। আর সেই ঋণের দশগুণ পরিশোধ করলেও পূর্বে যেরুপ ছিল পরেও সেইরুপ ঋণ অবশিষ্ট থাকত।
মহাজন, দালাল, জমিদার কর্ত্তৃক নিরীহ ও সরল আদিবাসীদের শোষণ ও নির্যাতনে পরোক্ষ মদদ দিতো বৃটিশ সৈন্য বাহিনী। এ কারণে আদিবাসীরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন যুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে তা শেষ হয়। সাওতাঁলরা তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলেও ইংরেজ বাহিনীর হাতে ছিলো বন্দুক ও কামান। তারা ঘোড়া ও হাতি যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। এ যুদ্ধে ইংরেজ সৈন্যসহ প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা শাহাদত বরণ করেন। সাঁওতাল বিদ্রোহের লেলিহান শিখা বৃটিশ সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধে সিদ-কানহু-চান্দ ও ভাইরব পর্যায়ক্রমে নিহত হলে ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে যুদ্ধ শেষ হয় ও বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে।
সাঁওতাল জাতির ইতিহাসে সিধো-কানুর নেতৃত্বে সাঁওতাল যুদ্ধই ছিলো সর্বাধিক বৃহত্তম এবং গৌরবের বিষয়। তাদের এই বিদ্রোহই ভারতবর্ষে স্বাধীনতার বীজ বপন করে গিয়েছিল। এই যুদ্ধের ফলাফল হলো এই যে, ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তের ব্যবস্থা করলেন। ম্যাজিট্রেট এডন সাহেব সাঁওতালদের আবেদন শুনলেন। যুদ্ধের পরে সাঁওতালদের সমস্যা বিবেচনা করে আদিবাসী সাঁওতালদের জন্য একটি জেলা বরাদ্দ করা হলো। এই জেলার নাম হলো ডুমকা। এটাই সাঁওতাল পরগনা নামে পরিচিত। এখানে সাঁওতাল মানঝি্, পরানিক, পরগনা জেলার শাসন পরিচালনার জন্য দারোগা, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারী কমকর্তা-কর্মচারী ক্ষমতা প্রাপ্ত হলো। সাঁওতালদের বিচার সালিশ তাদের আইনে করার জন্য সরকার ক্ষমতা প্রদান করলেন। খাজনা, কর প্রভৃতি তাদের হাতে অর্পণ করা হলো। তারা জেলা প্রশাসক বা ডিসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতে থাকলো। ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল টেনান্সি এ্যাক্ট অনুযায়ী আদিবাসীরা তাদের জমি সরকারী অনুমতি ছাড়া বিক্রি করতে পারতো না। এই আইন এখন পর্যন্ত কার্যকর আছে। ভারত সরকারও ঝাড়খন্ড নামে আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
সান্তাল হুলের মাধ্যমে ভারতের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণ স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২৫ লক্ষাধিক আদিবাসী তাদের নাগরিক অধিকারের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। আজ থেকে ১৫৪ বছর আগে যে কারণে সিদ-কানহুকে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে হয়েছিল। সেই একই কারণে আজো বাংলাদেশের আদিবাসীদের রাস্তায় নামতে হয় না সত্য। তবে কিছু কিছু ঘটনা সচেতন মহলকে ভাবিত করে। যার বাস্তব উদাহারণ হলো গত ১২ জুন নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের খাতিরপুর (সোনাডাঙ্গা) গ্রামে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় স্থানীয় ভূমি সন্ত্রাসী নূর হোসেন মাষ্টারের সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক আদিবাসী পল্লীতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনা। নিজের জমিতে ঘর তোলার অপরাধে আদিবাসীদের ৭৩টি (১৮টি বাঙ্গালীসহ) বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। এ সময় আদিবাসীদের ঘরের ঢেউটিন ও অন্যান্য সম্পদ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হলেও ঘটনার ১৫ দিনপরও আসামীদের গ্রেফতার না করে বরং আসামীর সাথে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বৈঠক করেছেন বলে আদিবাসিদের অভিযোগ।
বালাদেশের বর্তমান তদবিরবাজি সমাজ ব্যবস্থার সাথে খাপ খেয়ে চলতে না পারায় সকল ক্ষেত্রে আদিবাসীরা পিছিয়ে পড়ছে। আদিবাসীরা বিভিন্ন সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সচেতনতার অভাবে। ভাষাগত সমস্যার কারণে আদিবাসী শিশুরা বিদ্যালয়মুখী হতে পারছে না। হাসপাতালে আদিবাসীদের চিকিৎসা সহায়তা অপ্রতুল। এখনও আদিবাসীদের ভূমি ও কবরস্থান থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের বোঝায় আদিবাসীরা সর্বশান্ত। তাদের জন্য সহজ ঋণ প্রাপ্তি ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে কর্মহীন সময় তথা বৈশাখ-জৈষ্ঠ ও ভাদ্র-আশ্বিন মাসে আদিবাসী পল্লীতে সুদখোর ও দাদন ব্যসায়ীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। অনেকেই জীবিকা নির্বাহের তাগিদে পানির দামে আগাম শ্রম বিক্রয় করতে বাধ্য হয়। এ কারণে আদিবাসীদের অভাব কখনও দূর হয়না।
আদিবাসীরা সহজ সরল জাতি। তারা দিনে আনে দিনে খায়। ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে সময় ব্যয় করার সময় মোটেও তাদের নেই। তাই সাস্তাল হুলের মর্মকথা আজও তারা জানে না। বাংলাদেশে ২০০৫ সাল থেকে উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে সান্তাল হুলের অনুষ্ঠান উদযাপন করা হচ্ছে। প্রতি বছর হুলের অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের সমাগম ঘটে। সিদ-কানহুর সংগ্রামী জীবণ কাহিনী শুনে তারা ফিরে যায়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। সাঁওতালরা লড়াকু জাতি। জীবণ সংগ্রামই তাদের চলার পথের পাথেয়। তাই আর থেমে থাকা নয়। সান্তাল হুলের ১৫৫ তম বার্ষিকী হতে শিক্ষা নিয়ে সিদ-কানহুর জীবণ আদর্শকে ধারণ করে জনগণের অধিকার আদায়ের পথে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করণের পাশাপাশি তাদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। তবেই বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যথায় নয়।
(সম্পাদিত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29188840 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29188840 2010-06-30 20:43:51
৬০ হাজার গার্মেন্টস কর্মীর নামে মামলা গার্মেন্টস কর্মীর নামে মামলা করা কোনো অবস্থাতেই ঠিক হয় নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বেছে বেছে গার্মেন্টস কর্মীদের এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
শ্রমিকদেরকে পথে ঘাটে পুলিশী হয়রানী বন্ধ করুন।
মালিকপক্ষকে বলছি, শ্রমিকদের প্রতি আর অন্যায় করবেন না। আপনারা আবারও যে ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন, এর পরিণতি খুব ভালো হবে না।
রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29184803 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29184803 2010-06-25 15:18:06
শ্রীমঙ্গলে ইভ-টিজিং বিরোধী বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে ইভ-টিজিং বিরোধী ব্যানারে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানসহ অদ্য বেলা ১১ টা-১২টা পর্যন্ত ১ ঘন্টার বিশাল এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্যাশন ডিজাইনার ’কৃষ্ণকলি’র সহায়তায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনাতে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেছে দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজ, শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা পৌর শাখা, সচেতন নাগরিক কমিটি টিআইবি, ’কৃষ্ণকলি’, টিআইবি ইয়েস গ্র“পসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবাধিকার, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29184238 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29184238 2010-06-24 19:02:45
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান এ কাজগুলো তেমন ব্যয়বহুলও নয়। এগুলোর জন্য প্রয়োজন শুধু সরকারের সদিচ্ছা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। বিদেশি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার অপতৎপরতা থেকে সরে এসে অবিলম্বে উপরোক্ত উদ্যোগগুলো গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার পিএসসি ২০০৮ ও ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প বাতিল করে জ্বালানি সম্পদের ওপর শতভাগ মালিকানা বজায় রাখবে, খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধ করে আইন পাস করবে এবং জাতীয় সক্ষমতা বিকাশকে কেন্দ্রে রেখে সমন্বিত জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে মানুষের জীবন-জীবিকা পরিবেশের বিরাট সর্বনাশ হবে, শুধু তাই নয়, কয়লা রফতানি বাধ্যতামূলক হবে, আবার উৎপাদিত কয়লার পরিমাণে বাংলাদেশের হিস্যা সুড়ঙ্গ পদ্ধতির উৎপাদনের পরিমাণের তুলনায়ও অর্ধেক হবে। বহুজাতিক কোম্পানির এজেন্ডা বাস্তবায়নে জনগণকে জিম্মি করার তৎপরতা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29183501 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29183501 2010-06-23 17:32:05
সম্পূরক চুক্তি বাতিল এবং মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আইনী ব্যবস্থা সম্পূরক চুক্তি বাতিল এবং মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আইনী ব্যবস্থা :
মাগুরছড়া ব্লো-আউটে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপরণ আদায়ের প্রতিবন্ধক অবৈধ 'সম্পূরক চুক্তি' বাতিলের জন্য সরকারকে আইনী লড়াই করতে হবে। সেইক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশনে প্রফেসর এম শামসুল আলমের রিট আবেদনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমলে নিতে হবে।
২০০৩ সালের ১১ মে ইউনোকলের ওপর রুলনিশি জারি করেছে হাইকোর্ট। কেন সম্পূরক চুক্তি বাতিল করা হবে না এবং মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের আগে গ্যাস-তেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে কেন ইউনোকলকে নির্দেশ দেয়া হবে না- এ মর্মে ২ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। একই সাথে সরকার ও পেট্রো বাংলাকেও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মোঃ আব্দুর রশীদ ও বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। চট্টগ্রামের বিআইটির ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের প্রধান প্রফেসর এম শামসুল আলমের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুলনিশি জারি হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের সাথে মার্কিন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি অক্সিডেন্টালের চুক্তি হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মাগুরছড়া গ্যাস ক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল অংকের ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। রিপোর্টে বলা হয় ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জন্যে কোম্পানি দায়ী। ওদিকে ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর ক্ষতিপূরণের কোন শর্ত না রেখেই ২য় দফায় সম্পূরক চুক্তি হয়। এ কারণে ওই চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দাখিল করা হয়। শুনানীতে আইনজীবীরা বলেছেন, অক্সিডেন্টাল দেশের প্রচলিত পেট্রোলিয়াম ও পরিবেশ আইন না মেনে কাজ শুরু করে। এছাড়া, তারা কোম্পানির সকল দায়-দায়িত্ব ইউনোকলকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে ইউনোকলের প্রতি রুলনিশি জারির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের রুলনিশির কোনো সন্তোষজনক জবাব ইউনোকল দেয়নি। সরকার কর্তৃক আইসিসি কোর্টে মামলা করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া ২০০৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদে গোলাম হাবিবের এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ডে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিপূরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করবে বলে জানায়। ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোনো সুরাহা এখনো পর্যন্ত হয়নি। মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়সহ ৫ দফা দাবিতে ঢাকার পল্টন ময়দান থেকে বৃহত্তর সিলেটের বিবিয়ানা, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-খুলনা-মংলা অভিমুখে লংমার্চ করা হয়েছে। এতো আন্দোলনের পরও জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, মার্কিন বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানী ইউনোকল মাগুরছড়া গ্যাসকূপ ব্লো-আউটের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই বিস্ফোরিত গ্যাসকূপের কাছাকাছি ১৪ নং ব্লকের এমবি-৪ ও এমবি-৫ নামে ২টি কূপ খনন কিভাবে সম্পন্ন হলো এবং কিভাবে এই ২টির গ্যাস কালাপুরে স্থাপিত প্রসেসিং প্লান্টে সঞ্চালনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের লাল তালিকাভূক্ত লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক-রিজার্ভ ফরেষ্টের ভেতর দিয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিনাশী গ্যাস গ্যাদারিং পাইপ লাইন নির্মাণ সম্পন্ন করে।
ইধহমষধফবংয ঊহারৎড়হসবহঃধষ খধুিবৎং অংংড়পরধঃরড়হ-ইঊখঅ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ৬১০৫/১৯৯৭ নং রীট আবেদন দাখিল করে। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে মাননীয় হাইকোর্ট মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড ব্লো-আউটের জন্য অক্সিডেন্টাল অব বাংলাদেশ লিমিটেড’কে কেন দায়ী করা হবে না মর্মে ২৮/০৮/১৯৯৭ইং তারিখে রুলনিশি ইস্যু করেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29180880 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29180880 2010-06-20 10:17:38
অক্সিডেন্টালের উপর বাধ্যতামূলক করণীয় মূলচুক্তি’ ৯৪-এর আর্টিক্যাল ১০-এর গুরুত্বপূর্ণ উপাংশে অক্সিডেন্টালের উপর আরোপিত বাধ্যতামূলক করণীয় নিম্নরূপ। খনিজের সম্পদ দক্ষ ও নিরাপদে উত্তোলন ও আহরণে খনি খনন পরিচালিত হতে হবে প্রযোজ্য আইন, সম্পাদিত চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা, বিবেক-বুদ্ধি প্রসূত এবং সুদক্ষ কারিগরী কায়দায়। সেক্ষেত্রে-যেকোন খনিজের সম্পদ, জলাদার এবং আর সব প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি প্রতিরোধে সকলপ্রকার যুক্তিযুক্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29180302 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29180302 2010-06-19 11:43:12
পিএসসি চুক্তি '৯৪ ও মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ পিএসসি চুক্তি '৯৪ ও মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ:
সরকারের সঙ্গে ১৯৯৫ সনের ১১ জানুয়ারী সম্পাদিত উৎপাদন অংশীদারী চুক্তি ১৯৯৪ (Production Sharing Contract) - এর আওতায় অক্সিডেন্টাল কোম্পানী বাংলাদেশের তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য মৌলভীবাজার এলাকার ১৪ ও ১৩ নং ব্লক দু’টি ইজারা নেয়।
সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে সাত বৎসর পর্যন্ত অনুসন্ধান কাজ চালাতে পারতো। অবশ্য এই সাত বৎসর সময় ৩+২+২ এই তিনভাগে বিভক্ত। তিন বছর অনুসন্ধান কার্যক্রম সফল হলে চুক্তি মেয়াদ প্রথমবারের মতো দু’বছর বৃদ্ধি, পরবর্তীতে পুনঃ দু’বছর বৃদ্ধির সুযোগ থাকে। অবশ্যই গ্যাস উত্তোলন/আবিষ্কারে ব্যর্থ হলে সমস্ত এলাকা ছেড়ে দিতে হয়। তবে অনুসন্ধান কাজে যেকোন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির দায়দায়িত্ব অক্সিডেন্টাল বহন করতে হবে।
সুতরাং মূল চুক্তি পিএসসি '৯৪ অনুযায়ী শেভরন মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29179957 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29179957 2010-06-18 22:57:47
সম্পুরক চুক্তি ’৯৮ বাতিল করা ছাড়া মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে না সম্পুরক চুক্তি ’৯৮:
১৯৯৮ সালের ১০ জানুয়ারী অক্সিডেন্টালের সাথে চুক্তির মেয়াদ সাফল্যের সাথে শেষ না হলেও কুপ খনন চলাকালে মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডের ব্লো-আউট হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর Supplemental Agreement (ইষড়পশ-১৩ ্ ১৪) সম্পাদিত ও স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি পায়।
সম্পুরক চুক্তির উদ্দেশ্য:
নির্ধারিত প্রাথমিক সময়সীমার মধ্যে পিএসসি-৯৪ অনুযায়ী অক্সিডেন্টাল তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়নি বিধায় মূল চুক্তির (পিএসসি ’৯৪) সুনির্দিষ্ট কিছু বিধানে পরিবর্তন এনে অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়ার জন্য আইনগত দিক দিয়ে অক্সিডেন্টালকে উক্ত কাজের যোগ্য ও উপযুক্ত করার অভিপ্রায়ে এ সম্পুরক চুক্তি।
সাপ্লিমেন্টাল এগ্রিমেন্টের ৩.৩ অনুচ্ছেদ:
বিরূপ প্রচার হতে পারে বিধায় অক্সিডেন্টাল ব্যতীত এ চুক্তির কোন কিছু কেউই কোনক্রমেই জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারবে না। যদি প্রকাশ পায়, তাহলে বিরূপ প্রচার মোকাবেলার জন্য সরকার অক্সিডেন্টালকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29178929 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29178929 2010-06-17 16:28:00
পিএসসি আর্টিক্যাল-২৮ পিএসসি আর্টিক্যাল-২৮:
এ চুক্তির বৈধ্যতা, ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হতে হবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী।
সম্পুরক চুক্তি ’৯৮: ১৯৯৮ সালের ১০ জানুয়ারী অক্সিডেন্টালের সাথে চুক্তির মেয়াদ সাফল্যের সাথে শেষ না হলেও কুপ খনন চলাকালে মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডের ব্লো-আউট হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর Supplemental Agreement (ইষড়পশ-১৩ ্ ১৪) সম্পাদিত ও স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি পায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29178712 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29178712 2010-06-17 11:12:53
মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ ও একটি বিশ্লেষণ মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ ও একটি বিশ্লেষণ :
১. সম্পুরক চুক্তি’ ৯৮ অনুযায়ী অক্সিডেন্টাল বীমা কোম্পানীর নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ একশত মিলিয়ন ডলার পায়। গ্যাসকুপ বিস্ফোরণের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিপরীতে ব্যয় দেখিয়ে অক্সিডেন্টাল ১টি হিসাব পেট্রোবাংলায় দাখিল করে এবং সে হিসাব অনুমোদিত হয়। ২. কিন্তু সম্পুরক চুক্তির উদ্দেশ্য সফল করতে মৌলভীবাজার গ্যাস ফিল্ডের ১৩ ও ১৪নং ব্লকের গ্যাস উত্তোলনে পুনঃ নিয়োজিত না হয়ে ১৯৯৯ সালের কোন এক সময় বাংলাদেশে তার সমস্ত সম্পদ ও কার্যক্রম ইউনোকলের নিকট বিক্রয় বা বিনিময়ের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়ে সবার অগোচরে চলে যায়। সে সূত্রে ইউনোকল অক্সিডেন্টালের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং পিএসসি চুক্তি ’৯৪ ও সম্পুরক চুক্তি ’৯৮-এ অক্সিডেন্টাল ইউনোকলের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। অক্সিডেন্টালের সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ইউনোকলের উপরে অর্পিত হয়। পরবর্তীতে শেভরনের উপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়। ৩. অতঃপর ২০০২ সালের ২ জুলাই পেট্রোবাংলা আনুষ্ঠানিকভাবে পুরে যাওয়া গ্যাসের ক্ষতিপূরণ দাবী করে। সম্পুরক চুক্তি ’৯৮-এর আওতায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ঐ সম্পুরক চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৫% অতিরিক্ত গ্যাস দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইউনোকল ক্ষতিপূরণের দাবী নাকচ করে দেয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29178292 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29178292 2010-06-16 18:31:03
মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় :
ক) অক্সিডেন্টাল পিএসসি ’৯৪ আর্টিকেল-১০ লঙ্ঘন করেছে। গ্যাস উত্তোলন পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল। কুপ খননে নিষ্ঠা, বুদ্ধি বিবেচনা ও কারিগরী দক্ষতার পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় নি। যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়েছে তা অবহেলা ও অদক্ষতার প্রমাণ হিসাবে বিবেচ্য। অক্সিডেন্টালের অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, কারিগরী ও আইনগত দিক দিয়ে অক্সিডেন্টালকে অভিযুক্ত করা যায়।
খ) সম্পাদিত চুক্তি ’৯৪-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে অক্সিডেন্টাল সম্পূরক চুক্তি ’৯৮-এর আওতায় সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। পিএসসি ’৯৪ এর আর্টিকেল-১০ লঙ্ঘন করে অক্সিডেন্টাল তেল গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধান কাজের অযোগ্য ও অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ এবং বেলা কর্তৃক হাইকোর্টের দায়েরকৃত ৬১০৫/১৯৯৭ নং রীট আবেদনে আনীত অভিযোগ সমূহ নিষ্পত্তি ব্যতীত সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ সম্পাদিত হওয়ায় আইনী বৈধতার প্রশ্নে এই চুক্তি এখন বিতর্কিত।
গ) ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন ব্লো-আউটের পর থেকেই মাগুরছড়া বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা ছিল। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। সরকারের যেসব নির্বাহী কর্মকর্তারা যেসব অর্থ ও স্বার্থে অক্সিডেন্টালের সাথে সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ সম্পাদন করেছেন এবং পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী কোন কাজ না করে নির্বিবাদে অক্সিডেন্টালকে এ দেশ ত্যাগ করার সুযোগ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিয়মান। নিজেরা লাভবান হয়েছেন ও অক্সিডেন্টালকে লাভবান করেছেন। দেশের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি করেছে। এ সত্য এখন সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত।
ঘ) সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে একমাত্র আইনগত বাঁধা। সেক্ষেত্রে চুক্তি বাতিল হওয়া জরুরী।
ঙ) ভূপাল দূর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আদায়ে ভারতের অভিজ্ঞতা মাগুরছড়া ব্লো-আউটে গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায়ে মাইল ফলক হিসেবে গণ্য হবে।
চ) মাগুরছড়া ব্লো-আউট সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ’৯৫ লঙ্ঘনে জড়িত অক্সিডেন্টাল ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ও ফৌজদারী অভিযোগ আনা যাবে।








]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29177444 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29177444 2010-06-15 18:07:09
শ্রীমঙ্গলে মাগুরছড়া গ্যাসসম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় দিবস পালিত শ্রীমঙ্গলে মাগুরছড়া গ্যাসসম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় দিবস পালিত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গতকাল সোমবার মাগুরছড়া গ্যাসসম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় দিবস পালিত হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারো স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে ১৩তম মাগুরছড়া দিবসে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ১৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দাবিতে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্বরে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টার এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে এতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কয়েকশ মানুষ অংশ নেয়।
মাগুরছড়ার গ্যাসসম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর, আওয়ামী লীগ নেতা আবু কাওসার লাভলু, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন শাহীন, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব বাদশা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদ, ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদস্য ফরিদ মিয়াসহ স্থানীয় সংগঠন আলোকিত শ্রীমঙ্গল, ডিফেন্ডার উন্নয়ন সংস্থা, এমসিডা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা শ্রীমঙ্গল পৌর শাখা।
মানববন্ধন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুল আনাম চেমনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মাগুরছড়ার গ্যাসসম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সম্পাদক সৈয়দ আমিরুজ্জামান, শ্রীমঙ্গল পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অর্ধেন্দু কুমার দেব বেভুল, ডিফেন্ডার উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোমিনুল ইসলাম সোহেল, এমসিডার প্রধান নির্বাহী তহিরুল ইসলাম মিলন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, এনাম হোসেন চৌধুরী মামুন, তাপস কুমার ঘোষ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ১৪ হাজার কোটি টাকা বহুজাতিক কোম্পানি শেভরনের কাছ থেকে আদায়ের নিমিত্তে হাইকোর্টে দায়েরকৃত অধ্যাপক শামসুল আলমের মামলাটি রাষ্ট্র কর্তৃক আমলে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29177214 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29177214 2010-06-15 11:29:23
মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা সম্পূরক চুক্তি মাগুরছড়া ব্লো-আউট :ক্ষতিপূরণ আদায়ে কী করা যাবে?
ভূমিকা: বাংলাদেশের প্রধান এবং প্রায় একক জ্বালানী উৎস গ্যাস সম্পদ সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীর নগ্ন থাবার কবলে। গ্যাস সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ এক মহা সংকটের সম্মুখীন। উৎপাদন অংশীদারী চুক্তি’র নামে সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো দেশীয় কমিশনভোগীদের সাহায্যে তেল-গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের নামে অধিক মুনাফা লুন্ঠনের উন্ম্ত্ততা চলছে। রপ্তানী আপাতত স্থগিত হলেও প্রতিটি কূপ থেকে তাদের ভাগের ৭৯ ভাগ গ্যাসক্রয় বাবদ শত শত কোটি টাকা ভর্তুকী দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ, দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক শক্তি এইসব হাস্যকর পদক্ষেপ ও প্রতারণামূলক যুক্তির আসল চেহারা উন্মোচন করে দিলেও বিগত সরকারসমূহ বেপরোয়াভাবে সাম্রাজ্যবাদী লুন্ঠনের খেদমতে নিযুক্ত ছিলেন। জনগণ এক্ষেত্রে অবশ্য বর্তমান সরকারকেও ব্যতিক্রম হিসেবে দেখতে পাচ্ছে না।
অক্সিডেন্টাল, ইউনোকল, নাইকো, শেভরণ, কেয়ার্ন, টাল্লো ইত্যাদি বহুজাতিক কোম্পানী সারা দুনিয়ার তেল-গ্যাস সম্পদ লুন্ঠনের এক উন্মত্ত খেলায় নিযুক্ত। পৃথিবীর অন্যতম তেল সমৃদ্ধ দেশ নাইজেরিয়াকে ডলার ও সমৃদ্ধির লোভ দেখিয়ে ভিখিরি বানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়াকে সর্বশান্ত করেছে। দেশ সর্বশান্ত হলেও লুটের ভাগ পেয়ে স্থানীয় শাসকরা ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা দেশে দেশে এই লুটপাট নিশ্চিত করার জন্য সামরিক শাসন অথবা বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্যাতনমূলক আইন করে, সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে লুটের বিরুদ্ধে যে কোন প্রতিরোধকে দমন করেছে। বাংলাদেশ এই লুন্ঠন প্রক্রিয়ারই শিকার। গ্যাসের মজুদ যা দেশের জন্যই অতি সামান্য, সেটাও এরা লুটে নিতে চায়। বাংলাদেশের বিগত শাসকরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ার জন্য এই লুন্ঠনের প্রত্যক্ষ সহযোগী।
মাগুরছড়া ব্লো-আউটের তের বছর, জনমনে হাজারো প্রশ্ন :
১৪ই জুন মাগুরছড়া দিবস। ১৯৯৭ সালের এইদিনে মাগুরছড়ায় দায়িত্বহীনতার কারণে যে ব্লো-আউট ঘটেছে এবং গ্যাস সম্পদ, পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এবার মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের মাগুরছড়া ব্লো-আউটের ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে। এতদিন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টাল-ইউনোকল-শেভরনের কাছ থেকে আদায় করা যায় নি। বিগত সরকারসমূহও এর দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টাল-ইউনোকল-শেভরনের কাছ থেকে আদায়ে বর্তমান সরকার বিশেষভাবে তৎপর হতে পারেন বলে আমরা মনে করি।
বিদেশী একটি কোম্পানী আমাদের দেশের গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করলো, তাও তাদের অবহেলা-ত্রুটির কারণে, তাতে আমাদের সরকার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না। সম্পদ ধ্বংসের জবাবদিহিতা চাওয়া যাবে না- পাওয়া যাবে না। তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ নিয়ে চিনিমিনি খেলা মেনে নেওয়া যায় কী? ক্ষতিপূরণ আদায়ে বর্তমান সরকারকে সফল হতেই হবে। আমাদের একটাই কথা তা হলো, আমাদের দেশের তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদের এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ ও লুণ্ঠন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মাগুরছড়া ব্লো-আউট, গ্যাস সম্পদ, তদন্ত রিপোর্ট ও আমাদের পরিবেশ :
মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের মাগুরছড়া ১৪ নং গ্যাস ব্লকের অন্তর্গত একটি সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র, এদেশের খনিজ সম্পদের মানচিত্রে পূর্ণিমার চাঁদের মতো রৌশন ছড়িয়ে জনগণের স্বার্থে স্বাবলম্বী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ঘটাতে পারতো। বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর বিনিয়োগের জন্য আগত বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীদারেরা ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন দিবাগত রাতে মাগুরছড়া ১নং অনুসন্ধান কূপে খনন চলাকালে বিস্ফোরণ ঘটায়। মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের পরপরই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এক মাসের মধ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ১৯৯৭ সালের ৩০শে জুলাই মন্ত্রণালয়ের সে সময়ের সচিব ড.তৌফিক-ই-এলাহি চৌধুরীর কাছে দু’টি ভলিউমে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টটি জমা দেয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, ক্ষতিপূরণ পাওয়া ও বিতরণের বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলামকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য দু’জন সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের এমপি ইমরান আহমেদ ও জাতীয় পার্টির এমপি মুকিত খান। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য সাব-কমিটিকে জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অক্সিডেন্টালের ব্যর্থতার জন্যই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কমিটির তদন্তে অক্সিডেন্টালের কাজে ১৫/১৬টি ত্রুটি ধরা পড়ে। অক্সিডেন্টালের কর্মকর্তা ২/৩টি ত্রুটির ব্যাপারে আপত্তি জানালেও বাকিগুলো স্বীকার করে নিয়ে তদন্ত রিপোর্টে স্বাক্ষর করে। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের খামখেয়ালিপনার কারণেই ঘটে যাওয়া এ বিস্ফোরণে চা বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, রেলপথ, গ্যাসপাইপলাইন, গ্যাসকূপ, মৌলভীবাজারস্ট্রাক্চার, গ্যাস রিজার্ভ, পরিবেশ, প্রতিবেশ, ভূমিস্থ পানি সম্পদ, রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ছোট বড় ৩৯টি চা বাগানের ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৩০ টাকা। বনাঞ্চলের ৬৯.৫ হেক্টর এলাকার ২৫ হাজার ৬৫০টি পূর্ণ বয়স্ক গাছ আগুনে পুড়ে গেছে বলে হিসাব করা হয়, যার ক্ষয়ক্ষতি ধরা হয় প্রায় ৩৩.৬১ কোটি টাকা। একটি বনের স্বাভাবিক উচ্চতার গাছ বাড়তে প্রয়োজন হয় ৫০ থেকে ৬০ বছর। এ বনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে কমপক্ষে ১১০ বছর সময় লাগবে। প্রতি বছর ৮০.৩০ কোটি টাকা হিসাবে ১১০ বছরে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দেখানো হয় ৮,৮৩৯ কোটি টাকা। বনাঞ্চলের আংশিক ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে ৮,১০০ গাছ এবং ২২.৫০ হেক্টর ভূমি; উক্ত ক্ষতি থেকে উদ্ধার পেতে সময় লাগবে ২০ বছর; উক্ত ক্ষতি বাবদ ধরা হয়েছে ৫০৭.১২ কোটি টাকা। এছাড়া বনাঞ্চলের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ধরা হয়েছে ৪০ হেক্টর ভূমি এবং ১৫,৪৫০ গাছ; উক্ত ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার পেতে সময় লাগবে ১০ বছর এবং ক্ষতি বাবদ ধরা হয়েছে ৪৮৪.৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ বনাঞ্চলের মোট ক্ষতি ধরা হয়েছে ৯,৮৫৮ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা। বিস্ফোরণের ফলে ২ হাজার ফিট রেলওয়ে ট্র্যাক ধ্বংস হয়েছে, এতে ক্ষতি দেখানো হয়েছে ৮১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৯৫ টাকা (রাজস্ব ব্যতীত)। সড়ক পথ (রাজস্ব ব্যতীত) বাবদ ক্ষতি ২১ কোটি টাকা। গ্যাস পাইপ লাইন (রাজস্ব) বাবদ ক্ষতি ১৩ লক্ষ টাকা। বিদ্যুৎ লাইন (রাজস্ব ব্যতীত) বাবদ ক্ষতি ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৯১৮৬ টাকা। খাসিয়া পানপুঞ্জির অধিবাসীদের পানের বরজ সমূহ (রাজস্ব ব্যতীত) বাবদ ক্ষতি ধরা হয়েছে ১৮ লক্ষ টাকা। বাস মালিকদের রাজস্ব ক্ষতি ধরা হয়েছে প্রতিদিন ৪৭,৭৫০ টাকা হারে মোট ১২ লক্ষ টাকা। (তথ্যসূত্র: তদন্ত রিপোর্ট, ৩০শে জুলাই, ১৯৯৭ইং) তদন্ত রিপোর্টে মাগুরছড়া বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ভূ-গর্ভস্থ গ্যাসের পরিমাণ ৪৮৫.৮৬ বিসিএফ এবং এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ২৪৫.৮৬ বিসিএফ উল্লেখ করা হলেও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ সিএফ গ্যাস ২.৬ মার্কিন ডলার হিসাবে বাংলাদেশী টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী মাগুরছড়া বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ভূ-গর্ভস্থ উত্তোলনযোগ্য ২৪৫.৮৬ বিসিএফ গ্যাসের দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩৮৩৪.৪৮ কোটি টাকা। তদন্ত রিপোর্টের ৮.৪.৬ ও ৮.৬ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণ দে’য়া হয়েছে, কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়-ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নিরূপণের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী মাগুরছড়ার মোট ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে ১৩ হাজার কোটি টাকার উপরে।
মাগুরছড়া গ্যাসকূপ এলাকায় দুর্ঘটনার সময় ৬ জন শ্রমিক, ৫ জন সিকিউরিটি ও ১ জন রিগম্যান কর্মরত ছিলেন। রাত প্রায় একটার দিকে গ্যাসকূপে প্রথম মৃদু ভূকম্পন, তারপর বিদঘুটে আওয়াজ শুরু হলে রিগম্যান দ্রুত রিগ থেকে নেমে পড়েন। কূপ খননের জন্যে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানী অক্সিডেন্টাল যে উপ-ঠিকাদার নিয়োগ করে গ্যাসকূপ খননে তাদের অভিজ্ঞতা ছিল আনকোরা। খননকাজে জার্মান ডয়টেগ-এর অভিজ্ঞ লোকবলের যেমন অভাব ছিল তেমনি পূর্ব কোন সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ছিলো না। ছিলনা কার্যোপযোগী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। কূপ খনন কাজে ডয়টেগের যন্ত্রপাতি ছিল পুরানো ও ত্রুটিযুক্ত। এর মান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ছিল না। দায়িত্বরত রিগম্যানও ছিল সহকারী পর্যায়ের। উৎপাদন বণ্টন চুক্তির শর্তানুসারে কূপ খননের প্রকল্প এলাকায় অক্সিডেন্টাল থেকে একজন, পেট্রোবাংলা থেকে একজন খননবিদ সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থাকার কথা। অক্সিডেন্টাল চুক্তির এ শর্তকে তেমন কোনো গুরুত্ব প্রদান করেনি। বিস্ফোরণকালে কূপ এলাকায় কোনো খননবিদ উপস্থিত ছিল না।
দুর্ঘটনা এড়ানো ও খনন কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে কূপ খননের সময় যে কেসিং প্রতিরক্ষা বহিরাবরণ তৈরি করা হয় তার নকশায় ছিল মারাত্মক ধরনের ত্রুটি। অক্সিডেন্টাল ও ডয়টেগের আনাড়ি প্রযুক্তিবিদরা এ নকশা তৈরি করে। অক্সিডেন্টালের খনন কাজে আনাড়িপনা, অনভিজ্ঞতা, দায়িত্বে অবহেলা, উদাসিনতা, ত্রুটি, অযোগ্যতা দুর্ঘটনাকে অনিবার্য করে তোলে। দায়িত্ব পালনে অক্সিডেন্টালের অযোগ্যতা ও খনন কাজের নিম্নমান হওয়ার প্রধান কারণ হলো টাকা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সস্তায় লোকবল নিয়োগ করা। উন্নয়ন অংশীদার আমেরিকার কোম্পানি অক্সিডেন্টাল এদেশের গ্যাসক্ষেত্র লুণ্ঠনে অত্যন্ত দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে বিনিয়োগ তত্ত্ব প্রয়োগ করেছে বৈকি। এ তত্ত্বকে কার্যকর করার জন্যে অক্সিডেন্টাল কোম্পানী সব সময় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে পেট্রোবাংলার কাছে তথ্য গোপন করে যায়। চুক্তির শর্তানুসারে গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে তাদের গৃহীত যাবতীয় কর্মসূচি, পদক্ষেপ ও অত্যাবশ্যকীয় টেকনিক্যাল বিষয়ে জানাতে হলে অক্সিডেন্টাল তা পেট্রোবাংলাকে জানায় একেবারে শেষ মুহূর্তে অথবা কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর।
নির্দিষ্ট তথ্যটি অবগত হওয়া ছাড়া পেট্রোবাংলার তখন আর কিছুই করার থাকে না। গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে অক্সিডেন্টালের তথ্য গোপন করার অভিযোগে অক্সিডেন্টালকে ইতিপূর্বে নাইজেরিয়া থেকে পাততাড়ি গুটাতে হয়েছে। লিবিয়া থেকেও তাড়া খেয়ে ফিরে যায়। তাদের অপকর্মে নাইজেরিয়ার গ্যাস-তেল সম্পদ নিঃশেষীকরণ, পরিবেশ ও উর্বর বন ভূমি ধ্বংস হয়েছে। মানুষ রোগে ভূগছে। পরিবেশ বিষাক্ত আকার ধারণ করেছে। অনুসন্ধান কূপ খনন করার সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে হয়। এ কাজে সাধারণত ডিনামাইট জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অক্সিডেন্টাল চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে মাগুরছড়ার গ্যাস কূপ খনন কাজে বিস্ফোরক হিসেবে প্রাণঘাতী ও পরিবেশ বিনাশী তেজস্ক্রিয়যুক্ত ‘রেডিও একটিভ সোর্স’ ব্যবহার করে। পেট্রোবাংলা এ সংবাদ জানতে পারে গ্যাস কূপ বিস্ফোরণের কয়েক মাস পর। পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য খনন কাজ স্বল্পতম সময়ে সম্পন্নকরণ। যত কম সময়ে কাজ সম্পন্ন করা যায় তত বেশী মুনাফা লাভ করা যায়। জনগণের স্বাস্থ্য, জীবন ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে আমেরিকার কোম্পানী অক্সিডেন্টালের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসেনি। বহুজাতিক পুঁজির আগমন ঘটেছে বহুজাতিক তান্ডব ও লুণ্ঠনের আদর্শ নিয়ে আমাদের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে নয়।
মাগুরছড়া ব্লো-আউট, বিশেষজ্ঞদের প্রথম দিকের প্রাথমিক ধারণা :
মূল গ্যাস জোনের আয়তন ছিল দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার এলাকা। এ কূপে এক ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও অধিক গ্যাস মজুদ ছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মূল্য ছিল ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫৮ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা। টাকার বারবার অবমূল্যায়নের কারণে এ মূল্য বর্তমানে আরো অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জীব বৈচিত্রে সমৃদ্ধ এ সংরক্ষিত প্রাচীন অরণ্য ভূমির পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে তার অর্থনৈতিক মূল্যও হবে সমপরিমাণ। যদি প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করা হয় তা হলেও ১৯৯৭ সালের ১৪ জুনের পূর্বেকার পরিবেশগত অবস্থা ফিরিয়ে আনতে লাগবে একশত বছরের অধিক কাল। গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ও বন সম্পদের যৌথ ক্ষতির পরিমাণ ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৮শ’ কোটির টাকারও বেশি। বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জাপানের ঋণ এবং এক দশকেরও অধিককাল ধরে জনগণের পকেট থেকে সংগৃহীত যমুনা সারচার্জের টাকায় নির্মিত যমুনা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা দিয়ে একচেটিয়া ঋণমুক্ত স্বাধীন অর্থনীতির নীতিমালায় ৩২টি যমুনা সেতুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেত। মাগুরছড়ার ভূমিতে ও আকাশে বিলীন হয়ে যাওয়া সম্পদের বিনিময়ে ৪টি স্বাধীন জাতীয় বাজেট দেয়া যেত। এরফলে আমরা হয়তো চিরদিনের জন্যে অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন-স্বয়ম্ভর হতে পারতাম। গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের কারণে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিপরীতে ব্যয় দেখিয়ে অক্সিডেন্টাল ৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের একটি হিসেব পেট্রোবাংলায় দাখিল করে। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা দাঁড়ায়। গ্যাসকূপ খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে পেট্রোবাংলার অঙ্গ সংস্থা বাপেক্স। এ সংস্থার কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতি ইত্যাদি যুক্ত পেট মোটা করে হজম সম্পন্ন করার পরও সার্থকভাবে একটি কূপ খননে সর্বোচ্চ ব্যয় হয় ৪০ কোটি টাকা। ১২ বছর পূর্ণ হলেও অক্সিডেন্টাল বা অক্সির উত্তরসুরী ইউনোকল পরবর্তীতে শেভরনের কাছ থেকে মাগুরছড়া বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়নি। মাগুরছড়া গ্যাসকূপ এলাকা পরিত্যাগকালে অক্সিডেন্টাল প্রচারণার সর্বোচ্চ মারণাস্ত্র প্রয়োগ করে। আড়াইশত বছরেরও অধিককাল ধরে ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রণ ও বহুজাতিক একচেটিয়া পুঁজির অধীনে শেকল টানা এ বিধ্বস্ত জনগোষ্ঠীর মুখে লেপন করে দেয়া হয় লুটেরা ও সন্ত্রাসীর কালিমা। অক্সিডেন্টালের প্রচারণা বাস্তবতার সাথে যে সংগতিপূর্ণ নয় এ সত্যটি জনগণের কাছে অনেক আগেই পরিস্কার হয়ে যায়। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ লক্ষণ দেখে বাস্তবতা উপলব্ধির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কোন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বা বিচারকের রায়ের ওপর নির্ভর না করেই ঘটনা জাত সম্পর্ক, পরিবেশ ও লক্ষণসমূহ বিশ্লেষণ করে সঠিক অনুমানে পৌঁছে যেতে পারে মানুষ। অক্সিডেন্টালের প্রচারণা সত্ত্বেও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এলাকার জনগণসহ বৃহত্তর সিলেটবাসী অক্সিডেন্টালের বিরুদ্ধে আক্রোশে-আন্দোলনে মাগুরছড়া গ্যাস কূপের আগুনের মত জ্বলে উঠতে থাকে। ছয় মাসেরও অধিককাল ধরে আগুনের গ্যাস উদগীরনকারী গ্যাস কূপের উৎস মুখ সিল করার কাজ সম্পন্ন হয় ৯ জানুয়ারি ১৯৯৮। তারও আগে ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭ থেকে অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া থেকে রাতের আঁধারে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র আস্তে আস্তে সরাতে আরম্ভ করে। চোরের মতো অবস্থান পরিবর্তন করতে দেখে জনগণের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ১০ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে কমলগঞ্জের রাস্তায় বড় বড় গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বামগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, ন্যাপ, জাসদ, বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সিপিবি-এর উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সমগ্র সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু জনগণের আন্দোলনেও জনগণের সম্পদ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব হয়নি।
পিএসসি চুক্তি: সরকারের সঙ্গে ১৯৯৫ সনের ১১ জানুয়ারী সম্পাদিত উৎপাদন অংশীদারী চুক্তি ১৯৯৪ (চৎড়ফঁপঃরড়হ ঝযধৎরহম ঈড়হঃৎধপঃ) - এর আওতায় অক্সিডেন্টাল কোম্পানী বাংলাদেশের তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য মৌলভীবাজার এলাকার ১৪ ও ১৩ নং ব্লক দু’টি ইজারা নেয়।
সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে সাত বৎসর পর্যন্ত অনুসন্ধান কাজ চালাতে পারতো। অবশ্য এই সাত বৎসর সময় ৩+২+২ এই তিনভাগে বিভক্ত। তিন বছর অনুসন্ধান কার্যক্রম সফল হলে চুক্তি মেয়াদ প্রথমবারের মতো দু’বছর বৃদ্ধি, পরবর্তীতে পুনঃ দু’বছর বৃদ্ধির সুযোগ থাকে। অবশ্যই গ্যাস উত্তোলন/আবিষ্কারে ব্যর্থ হলে সমস্ত এলাকা ছেড়ে দিতে হয়। তবে অনুসন্ধান কাজে যেকোন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির দায়দায়িত্ব অক্সিডেন্টাল বহন করতে হবে।
অক্সিডেন্টালের উপর বাধ্যতামূলক করণীয় :
মূলচুক্তি’ ৯৪-এর আর্টিক্যাল ১০-এর গুরুত্বপূর্ণ উপাংশে অক্সিডেন্টালের উপর আরোপিত বাধ্যতামূলক করণীয় নিম্নরূপ। খনিজের সম্পদ দক্ষ ও নিরাপদে উত্তোলন ও আহরণে খনি খনন পরিচালিত হতে হবে প্রযোজ্য আইন, সম্পাদিত চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা, বিবেক-বুদ্ধি প্রসূত এবং সুদক্ষ কারিগরী কায়দায়। সেক্ষেত্রে-যেকোন খনিজের সম্পদ, জলাদার এবং আর সব প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি প্রতিরোধে সকলপ্রকার যুক্তিযুক্ত সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়।
পিএসসি আর্টিক্যাল-২৮: এ চুক্তির বৈধ্যতা, ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হতে হবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী।
সম্পুরক চুক্তি ’৯৮: ১৯৯৮ সালের ১০ জানুয়ারী অক্সিডেন্টালের সাথে চুক্তির মেয়াদ সাফল্যের সাথে শেষ না হলেও কুপ খনন চলাকালে মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডের ব্লো-আউট হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর ঝঁঢ়ঢ়ষবসবহঃধষ অমৎববসবহঃ (ইষড়পশ-১৩ ্ ১৪) সম্পাদিত ও স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি পায়।
সম্পুরক চুক্তির উদ্দেশ্য: নির্ধারিত প্রাথমিক সময়সীমার মধ্যে পিএসসি-৯৪ অনুযায়ী অক্সিডেন্টাল তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়নি বিধায় মূল চুক্তির (পিএসসি ’৯৪) সুনির্দিষ্ট কিছু বিধানে পরিবর্তন এনে অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়ার জন্য আইনগত দিক দিয়ে অক্সিডেন্টালকে উক্ত কাজের যোগ্য ও উপযুক্ত করার অভিপ্রায়ে এ সম্পুরক চুক্তি।
সাপ্লিমেন্টাল এগ্রিমেন্টের ৩.৩ অনুচ্ছেদ: বিরূপ প্রচার হতে পারে বিধায় অক্সিডেন্টাল ব্যতীত এ চুক্তির কোন কিছু কেউই কোনক্রমেই জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারবে না। যদি প্রকাশ পায়, তাহলে বিরূপ প্রচার মোকাবেলার জন্য সরকার অক্সিডেন্টালকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেবে।
ভূপাল দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের দৃষ্টান্ত: ১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারতের ভূপালে ইউনিয়ন কার্বাইড লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত কীটনাশক কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। ১৯৮৫ সালে ভারত সরকার ইউনিয়ন কার্বাইডের বিরুদ্ধে ভূপাল দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে নিউইয়র্কে দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। আমেরিকার বিজ্ঞ আদালত প্রমাণ করেন যে, ভূপাল দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ মামলার আইনী নিষ্পত্তি ভারতীয় আদালতেই হওয়া আইনগত দিক দিয়ে যুক্তিযুক্ত। তারপর ভারত সরকার ইউনিয়ন কার্বাইডের বিরুদ্ধে তিন ভিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণের মামলা ভারতে দায়ের করে। ১৯৮৯ সালে ৪ মে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় আইনে এ ক্ষতিপূরণের মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ভূপাল দুর্ঘটনার কারণে ইউনিয়ন কার্বাইডের নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ভারত সরকার কর্তৃক আনীত ফৌজদারী অভিযোগও ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট নিষ্পত্তি করেন। তারপরও ইউনিয়ন কার্বাইড লিমিটেড ক্ষতিপূরণ প্রদানে এগিয়ে আসেনি। ২০০১ সালে ডো ক্যামিকেল নামের অপর এক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন কার্বাইডের সাথে একীভূত হলে নতুন প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিপূরণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে রশিদা বী এবং চম্পা দেবী শুক্লা’র নেতৃত্বে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আন্দোলন শুরু হয়। তারা এ দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবীতে আন্তর্জাতিক প্রচারনা চাঙ্গা করে গড়ে তুলেন। তারা তাদের মতো নিম্ন আয়ের এবং অশিক্ষিত মহিলাদের এ আন্দোলনে যুক্ত করেন। ২০০২ সালে দিল্লিতে ১৯ দিনের অনশন ধর্মঘট করে তারা তাদের এ দাবী আদায়ে সোচ্চার হন। বিশ্বের ১০টি দেশ থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষ মাসব্যাপী এই র‌্যালী ও অনশন ধর্মঘটে এসে যোগ দেয়। ভূপালের ক্ষতিগ্রস্থদের সমর্থনে এটাই ছিল সর্বপ্রথম বিশ্ব অনশন ধর্মঘট। ২০০৩ সালে তারা ডো ক্যামিকেলের বোম্বাই ও হল্যান্ড অফিসে হাজির হয়ে দুর্ঘটনার বিষাক্ত বর্জ্য সরবরাহ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি শহরে তাদের সমর্থনে আন্দোলনের কর্মসূচী পালন করেন। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ষ্ট্রিটের সামনে ১২ দিনের অনশন পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন শহরের হাজার হাজার মানুষ আন্দোলনে শরীক হন। তারা যুক্তরাজ্য, চীন, স্পেন, থাইল্যান্ড ও কানাডায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড আপীল কোর্ট রশিদা বী এবং চম্পা দেবী শুক্লা’র পক্ষে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন এবং ডো ক্যামিকেলকে ক্ষতিপূরণের সমুদয় অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দেন। আন্দোলনে নেমে দাবী আদায়ের যে দৃষ্টান্ত রশিদা বী এবং চম্পা দেবী শুক্লা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা অনেক দিক দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৪ সালে রশিদা বী এবং চম্পা দেবী শুক্লাকে ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বিশ্লেষণ : ১. সম্পুরক চুক্তি’ ৯৮ অনুযায়ী অক্সিডেন্টাল বীমা কোম্পানীর নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ একশত মিলিয়ন ডলার পায়। গ্যাসকুপ বিস্ফোরণের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিপরীতে ব্যয় দেখিয়ে অক্সিডেন্টাল ১টি হিসাব পেট্রোবাংলায় দাখিল করে এবং সে হিসাব অনুমোদিত হয়। ২. কিন্তু সম্পুরক চুক্তির উদ্দেশ্য সফল করতে মৌলভীবাজার গ্যাস ফিল্ডের ১৩ ও ১৪নং ব্লকের গ্যাস উত্তোলনে পুনঃ নিয়োজিত না হয়ে ১৯৯৯ সালের কোন এক সময় বাংলাদেশে তার সমস্ত সম্পদ ও কার্যক্রম ইউনোকলের নিকট বিক্রয় বা বিনিময়ের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়ে সবার অগোচরে চলে যায়। সে সূত্রে ইউনোকল অক্সিডেন্টালের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং পিএসসি চুক্তি ’৯৪ ও সম্পুরক চুক্তি ’৯৮-এ অক্সিডেন্টাল ইউনোকলের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। অক্সিডেন্টালের সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ইউনোকলের উপরে অর্পিত হয়। পরবর্তীতে শেভরনের উপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়। ৩. অতঃপর ২০০২ সালের ২ জুলাই পেট্রোবাংলা আনুষ্ঠানিকভাবে পুরে যাওয়া গ্যাসের ক্ষতিপূরণ দাবী করে। সম্পুরক চুক্তি ’৯৮-এর আওতায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ঐ সম্পুরক চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৫% অতিরিক্ত গ্যাস দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইউনোকল ক্ষতিপূরণের দাবী নাকচ করে দেয়।
আমাদের করণীয় :
ক) অক্সিডেন্টাল পিএসসি ’৯৪ আর্টিকেল-১০ লঙ্ঘন করেছে। গ্যাস উত্তোলন পরিকল্পনায় ত্র“টি ছিল। কুপ খননে নিষ্ঠা, বুদ্ধি বিবেচনা ও কারিগরী দক্ষতার পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় নি। যেসব ত্র“টি-বিচ্যুতি ধরা পড়েছে তা অবহেলা ও দক্ষতার প্রমাণ হিসাবে বিবেচ্য। অক্সিডেন্টালের অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, কারিগরী ও আইনগত দিক দিয়ে অক্সিডেন্টালকে অভিযুক্ত করা যায়।
খ) সম্পাদিত চুক্তি ’৯৪-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে অক্সিডেন্টাল সম্পূরক চুক্তি ’৯৮-এর আওতায় সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। পিএসসি ’৯৪ এর আর্টিকেল-১০ লঙ্ঘন করে অক্সিডেন্টাল তেল গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধান কাজের অযোগ্য ও অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ এবং বেলা কর্তৃক হাইকোর্টের দায়েরকৃত ৬১০৫/১৯৯৭ নং রীট আবেদনে আনীত অভিযোগ সমূহ নিষ্পত্তি ব্যতীত সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ সম্পাদিত হওয়ায় আইনী বৈধতার প্রশ্নে এক চুক্তি এখন বিতর্কিত।
গ) ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন ব্লো-আউটের পর থেকেই মাগুরছড়া বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা ছিল। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। সরকারের যেসব নির্বাহী কর্মকর্তারা যেসব অর্থ ও স্বার্থে অক্সিডেন্টালের সাথে সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ সম্পাদন করেছেন এবং পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী কোন কাজ না করে নির্বিবাদে অক্সিডেন্টালকে এ দেশ ত্যাগ করার সুযোগ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিয়মান। নিজেরা লাভবান হয়েছেন ও অক্সিডেন্টালকে লাভবান করেছেন। দেশের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি করেছে। এ সত্য এখন সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত।
ঘ) সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে একমাত্র আইনগত বাঁধা। সেক্ষেত্রে চুক্তি বাতিল হওয়া জরুরী।
ঙ) ভূপাল দূর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ আদায়ে ভারতের অভিজ্ঞতা মাগুরছড়া ব্লো-আউটে গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায়ে মাইল ফলক হিসেবে গণ্য হবে।
চ) মাগুরছড়া ব্লো-আউট সম্পূরক চুক্তি ’৯৮ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ’৯৫ লঙ্ঘনে জড়িত অক্সিডেন্টাল ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ও ফৌজদারী অভিযোগ আনা যাবে।
ব্লো-আউটের কারণ :
মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ড ব্লো-আউট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য চিহ্নিত কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
১. ৫২৭ - ৭৯৫ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খননকৃত কুপের অভ্যান্তরীন গাত্রে কোন পধংরহম-এর পরিকল্পনা ছিলনা। সুতরাং কুপের এ অংশে কোন পধংরহম ছিলনা এবং কুপের অভ্যান্তরীন গাত্রের ঐ অংশটি অনাবৃত ছিল। যদি তা থাকত তাহলে বিস্ফোরণ প্রশমিত হতে পারত।
২. গ্যাসন্তরের অস্তিত্ব জানা থাকা সত্বেও কুপের ফবারধঃরড়হ ঢ়ড়রহঃ গ্যাসস্তরের অভ্যন্তরে নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি গ্যাসস্তরের উপরে কিংবা নীচে এ ফবারধঃরড়হ ঢ়রহঃ নির্ধারণ করা হ’ত, তাহলে এ বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তাছাড়াও পধংরহম এবং পাইপ-এ পবসবহঃধঃরড়হ সন্তোষজনক ছিলনা এবং তা ছিল নিম্নমানের।
৩. খননকালে কুপের অভ্যন্তরে সঁফ পরৎপঁষধঃরড়হ এর সাহায্যে উর্দ্ধমুখী গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। সঁফ ইঞ্জিনিয়ার কুপের সঁফ ঢ়ধৎধসবঃবৎং-এর অবস্থা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না এবং তা সড়হরঃড়ৎরহমও করেন নি। বরং তিনি সংকটকালীন সময়ে সঁফ ঢ়ধৎধসবঃবৎং সড়হরঃড়ৎরহম এবং কূপ খননে জড়িতদের সংগে যোগাযোগ রক্ষা না করে গবেষণাগারে প্রায় দু’ঘন্টাকাল অতিবাহিত করেন। যদি যথাসময়ে সঁফ পরৎপঁষধঃরড়হ-এর মাধ্যমে সঁফ ঢ়ধৎধসবঃবৎং নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত, তাহলে গ্যাস প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হ’ত এবং বিস্ফোরণ এড়ানো হয়ত সম্ভব হ’ত।
৪. কূপের সংকটাপন্ন অবস্থা অনুধাবন করা সত্ত্বেও কূপ খনন থামানো হয় নি।
৫. ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন রাতে ড্রিলিং সুপারভাইজার, মাড ইঞ্জিনিয়ার, মাড লগার, ড্রিলিং কারিগর- এদের মধ্যে তত্ত্বাবধান, সমন্বয় ও যোগাযোগের অপ্রতুলতা কূপের সংকটকালীন অবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
৬. খনন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ অক্সিডেন্টালের অনুমোদিত কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাপ্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেন নি।
৭. গ্রহণযোগ্য মানের কোন অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা মান সম্মত ছিল না।
৮. মাগুরছড়ায় কুপ খননের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক এমনকি সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য কোন মান/নীতি অনুসরণ করা হয়নি।
৯. অতঃপর খননকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলা ও সম্মিলিত ত্র“টি-বিচ্যুতিই বিস্ফোরণকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলে।
ব্লো-আউটের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ: ১৯৯৭ সালের ৩০শে জুলাই প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ সম্পদ যথা- গ্যাস ও পানি সম্পদ এবং পরিবেশ সহ ভূ-উপরিস্থ সম্পদ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকালীন বিভিন্ন সংস্থা/কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ক্ষতি বা ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্পদের বিবরণ পাওয়া যায়। ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণ ও পরিমাণ নিম্নরূপ:
নং ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ (কোটি টাকা)
১. অক্সিডেন্টালের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ ১৭৬.৮২
২. চা বাগান সমূহ (৩৯টি) ৪৬.০৭
৩. সিলেট বিভাগ বন বিভাগ কর্তৃক্ষ নির্ধারিত ক্ষয়-ক্ষতি:
ক. গাছ-পালা
খ. বিভিন্নভাবে পরিবেশ আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতি:
গ. পরিবেশের আংশিক ক্ষতি
ঘ. পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতি

৩৩.৬১

৮৮৩৯.০০
৫০৭.১২
৪৮৪.৫৮
৪. গ্যাস পাইপ লাইন (রাজস্ব) ০.১৩
৫. বৈদ্যুতিক লাইন (রাজস্ব ব্যতীত) ১.৩৫
৬. রেলপথ (রাজস্ব ব্যতীত) ০.৮১
৭. সড়ক পথ (রাজস্ব ব্যতীত) ২১.০০
৮. বাস মালিক (রাজস্ব) ০.১২
৯. পানের বরজ সমূহ (রাজস্ব ব্যতীত) ০.১৮
১০. ভূ-গর্ভস্থ গ্যাস ২৪৫.৮ বিসিএফ ৩৮৩৪.৪৮*
১১. ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করা হয়নি
১২. স্থানীয় অধিবাসী ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করা হয়নি
ক্রমিক নং ২ থেকে ১১ পর্যন্ত মোট ১৩৭৬৮.৪৫

তদন্ত রির্পোটে ব্লো-আউটে পুড়ে যাওয়া গ্যাসের পরিমাণ উল্লেখ করা হলেও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন করা হয়নি। এক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ ঘনফুট গ্যাস ২.৬ মার্কিন ডলার হিসাবে বাংলাদেশী টাকায় (১ ডলার = ৬০ টাকা) ৩৮৩৪.৪৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্সিডেন্টালের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এ হিসাবে ধরা হয়নি। তদন্ত রির্পোটের ৮.৪.৬ ও ৮.৬ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দেয়া হয়েছে। আর্থিক পরিমাণ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নিরূপনের সুপারিশ করা হয়েছে। রির্পোটে স্থানীয় অধিবাসীদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্পষ্ট নয়। তবে ইঊখঅ’র তদন্ত রির্পোটে দেখা যায় ৪০টি খাসিয়া পরিবার গৃহহীন হয়। তাদের ঘরবাড়ীসহ উপার্জনের একমাত্র পথ পানের বরজও ধ্বংস হয়।
শেভরনের জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ প্রসঙ্গে: মাগুরছড়া মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি জায়গার নাম। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে স্থানটি রাতারাতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়। এখনো প্রতি বছর ‘মাগুরছড়া দিবস’- ছাড়াও মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনামে মাগুরছড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জনগণের সামনে আবির্ভূত হয়। বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর সাথে হিসেব-নিকেশ শেষে পিএসসি চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ পাচ্ছে তেল-গ্যাস সম্পদের ২১ ভাগ, আর বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানী লুটে নিয়ে যাবে গ্যাস-তেল সম্পদের ৭৯ ভাগ। আর বাপেক্স উত্তোলন করলে পুরোটার মালিক হতো দেশ। বিদেশী কোম্পানী গ্যাস অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে তারা আবার বড় বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে, যা ইতিমধ্যেই মাগুরছড়া ও টেংরাটিলা (ছাতক) গ্যাসকূপ সমূহের দুর্ঘটনায় প্রমাণিত। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, বিদেশী কোম্পানীর কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে ডলারে। সরকার ভর্তুকী দিয়ে কেনার ফলে শত শত কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে এবং এরই বিষময় ফল হচ্ছে জনগণকে বেশী দামে গ্যাস ও বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশের মাটির তলার সেই গ্যাস শেভরন কোম্পানীর কাছ থেকে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস ৩ ডলার দরে কিনতে হচ্ছে। এতে দেশ অচিরেই বিরাট বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বাংলাদেশকে শেভরন কোম্পানীর স্বার্থে মুনাফা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29176928 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29176928 2010-06-14 19:58:18
ইভটিজিং ও আমাদের করণীয় ইভটিজিং ও আমাদের করণীয়
প্রতিদিনের যে চিত্রটির কথা উল্লেখ করতে চাই। তা স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। অস্বাভাবিক ঘটনাগুলোই যেন এখন স্বাভাবিক। জটিলতা-দ্বন্দ্ব-সংঘাত এড়াতে গিয়েই হয়তো এমনটি হয়েছে। হয়তো দেখা যায়, রাস্তা বা রাস্তার মোড়ে ক'জন যুবক দাঁড়িয়ে আছে, সামনে দিয়ে ক’জন ছাত্রী যাচ্ছে হঠাৎ যুবকদের মধ্যে কেউ একজন অশ্লীল বা বাজে কোন মন্তব্য করে বসল। মেয়েদের তখন যে পরিস্থিতির বা কষ্টদায়ক অনুভুতির স্বীকার হতে হয় তা অবর্ণনীয়। এই রকম অপমান কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে ইলোরা সিমিদের মত অনেকে। এরা সকলে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা ‘ইভটিজিং’ এর স্বীকার। যা বর্তমানে ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। যা ব্যাধির মত ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।
বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্র জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ হলেও দৈনন্দিন জীবনের কিছু কিছু বিষয় আমাদের মানবিকতা সভ্যতাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে। সমাজের কিছু লোক এখনও নারীর স্বাধীনভাবে চলাচল সমর্থন করেনা। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর কারনে কিছু ব্যক্তির যাতাকলে নারীরা প্রতিনিয়ত পিষ্ট হয়ে সহ্য করতে না পেরে কখনওবা আত্মহত্যা করে বসে। নারীদের উপর এই নির্যাতনের মাত্রা অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছে। বর্তমানে ইভটিজিং এর মাত্রা এত বেশি বাড়ছে যে, এটা সামাজিক ও জাতীয় সমস্যারুপে চিহ্নিত। খোদ রাজধানী ঢাকাতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ইভটিজিংয়ের ফলে দিন দিন মেয়েরা আরও বেশি হতাশাগ্রস্ত ও ভীত হয়ে পড়ছে আর যুবকেরা হচ্ছে বিপথগামী। ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে দেশের সর্বত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠছে।
নারীর উপর অত্যাচার ও আক্রমন এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে প্রায়শই কাগজে থাকছে যে হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে নারী। নিপীড়নের মধ্যে গুরুতর হচ্ছে যৌন নিপীড়ন। এ সবের কারণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন- উত্যক্তকরণ, যৌন আক্রমন, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, নারীর সামাজিক অসহায়ত্ব, মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণীর নারী এইসব নিপীড়নে বিপর্যস্ত। আজকাল বাড়ীর বাইরে রাস্তায় বা যেকোন পাবলিক স্পেসে, যানবাহনে যেকোন বয়স ও পেশার নারীকে উত্যক্তকরণ বা ইভটিজিং প্রায় প্রত্যেক নারীর প্রতিদিনের জীবনের নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিপীড়নের একটি ধরন হিসেবে ইভটিজিং ব্যাপকভাবে জারি আছে যা দেখতে আর পুঁজিবাদী শোষণ এতটাই তীব্র এবং ‘কমনসেন্স’ পরিণত যে নিপীড়নের নিদারুন শিকার নারীর আর্তনাদ স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়ে গেছে। এতদসত্ত্বেও নারীর প্রতিদিনের লড়াই ঘরে বাইরে যৌন নিপীড়নের প্রতিরোধ সংগ্রাম চলছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের সংবাদ সমাজ, রাষ্ট্র কাঠামো এবং প্রশাসন যন্ত্রের দুর্বলতা বা অকার্যকারিতার দিকগুলি তুলে ধরেছে। গত চার মাসে চৌদ্দজন ইভটিজিং এ আক্রান্ত নারী পরিবার ও সমাজে বেঁচে থাকার কোন পথ দেখতে না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। একটি পরিসংখ্যানে জানা যায় যে ২০০৮ সালে জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ১৩ হাজার নারী ইভটিজিং এর শিকার হয়েছেন বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। অনুমান করা কঠিন নয় যে আরও অনেকে ভয়ে, সম্মান হানির আশংকায় কিংবা সমাজের মানুষজনের গালগপ্পের বিষয়ে পরিণত হতে চান না বলে তাদের প্রতি সংঘটিত উত্যক্তকরণের অভিযোগ উত্থাপন করেননি। ২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ধর্ষণের কেস রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই হাজার জন কিশোরী যাদেরকে ইভটিজিং এ সাড়া না দেবার শাস্তি হিসেবে ধর্ষণ করা হয়। আবার এদের মধ্যে ৬২৫ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ৬৯ জন আত্মহত্যা করেছে। সমাজের মানুষজন যৌ হয়রানির অপরাধ বিষয়ে সচেতন হলে অপমৃত্যুর হাত থেকে কতজন নারীকে বাঁচানো সম্ভব হতো? এখানেই শেষ নয়। দেখা যাচ্ছে যে উত্যক্তকারীর কবল থেকে রা করার জন্য আতংকগ্রস্ত বাবা মা কিশোরীদেরকে স্কুলের পড়া বন্ধ করে বাড়ীতে থাকতে বাধ্য করছেন। এমনকি অপ্রাপ্ত বয়সে তাদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। জানা যায় যে দেশের প্রায় অর্ধেক কিশোরীদের বিয়ে হয়ে যায় তাদের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগেই। টিন এজার থাকতে থাকতেই তারা প্রথম সন্তানের মা হয়ে যান। ১৫-১৯ বছর বয়সী মায়েদের মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর ঝুকি ২০-২৪ বছর বয়সীদের তুলনায় ২০-২০০% বেশি। এভাবে উত্যক্তকরণের ফলাফল নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে আর নারীর জন্য আন্তঃপুরের অবস্থান নির্দিষ্ট করে দেয়।
যৌন হয়রানির অপরাধ দমনের জন্য কার্যকর আইন প্রণয়ন করে প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন একেবারে অসম্ভব নয়। কিন্তু রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠানগুলি নারীর নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ নিজেরাও নির্যাতনকারীর ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। পুরুষাধিপত্বের সুবাদে ও নানা পৃষ্ঠপোষকতায় নির্যাতনকারীরা আইনের সহায়তা লাভ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। কখনো ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত করে অপরাধীদের বেকসুর খালাস দেয়া হচ্ছে। অথবা ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে অত্যাচারীকে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতে আর নির্যাতিত নারীকে অপবাদের দায়ভার বহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার নারীকে ‘মন্দনারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে অপপ্রচার চালায়। ফলে অধিকাংশ নারী ‘ভালোনারী’র মডেলভুক্ত হয়ে নিপীড়ন, নির্যাতন মেনে নিয়ে নিশ্চুপ থাকছে। নারীর সীমিত মতা এবং দুর্বলতাই তার অধিকার বঞ্চনার জন্য দায়ী।
ইভটিজিং সঠিক নামকরণ নয়:
ইভটিজিং শব্দটি যৌন হয়রানির অমার্জিত ভাষা যা বাইবেলে বর্ণিত প্রথম নারী চরিত্রকে নির্দেশ করে। এখানে ইভের রমনীয় প্রকৃতিকে মুখ্য করে তোলা হয়। ইভকে প্রলুব্ধ করার গুন সম্পন্ন বলে ধরা হয় এবং অন্যদিকে তাকে উত্যক্ত করার জন্য তাকেই দায়ী করা হয়। নারী একাধারে ভিকটিম এবং ভিকটিম হওয়ার কারণ। আর নারীর প্রতি পুরুষের আক্রমনাত্মক প্রতিক্রিয়া অপরাধ না হয়ে স্বাভাবিক বলে গণ্য হয়। ভিকটিম হওয়ার ফলে নারী হয়ে যায় অচ্ছুতের ন্যায়। কারণ তার প্রতি সংঘটিত পাপের জন্য সেই হয় পাপী।
আবার অনেকে মনে করেন ইভটিজিং শব্দটি পাবলিক স্পেসে নারীর প্রতি যৌন হয়রানির শ্র“তিমধুর অভিব্যক্তি। আসলে একে ‘ক্ষতিকারক পরিহাস’ বলে এর আড়ালে পুরুষের যৌন অত্যাচারকে আড়াল করা হয়। যেমন এসিড ছুড়ে নারীর মুখ ঝলসে দেয়ার মত ঘটনার কারণ হিসেবে বলা হয় ‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজী হয় নাই’। যৌন নির্যাতন করার কারণ হিসেবে বলা হয় ‘মেয়েটি রাতের বেলা একা একা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল’। আরও বলা হয় ‘মেয়েটি বেশি অহংকারী’, ‘ছেলেটি একটু রাগী’, ‘মেয়েটি সিনেমা হলের ভীড়ের মধ্যে গিয়েছিল’। কিংবা বলা হয় ‘আজকাল ডিস দেখে দেখে ছেলেমেয়েদের মেজাজ বদল হয়ে যাচ্ছে’ অথবা ‘আজকাল আইন শৃঙ্খলা নাই’। ইভটিজিং বলে যেমন নারীকে দায়ী করা হচ্ছে তেমনি ধর্ষণ শব্দটি না বলে ‘সম্ভ্রমহানি’, ইজ্জতহানি’, ‘শ্লীলতাহানি’, ‘লাঞ্ছিত’ এ সকল শব্দ ব্যবহার করে পুরুষের অপরাধের জন্য নারীকে দোষী করা হচ্ছে। কারণ নারী সম্ভ্রম ও ইজ্জত হারিয়ে অপরাধী হয়ে যান। এভাবে ভিন্ন শব্দের ব্যবহার নিপীড়নকেই প্রশ্রয় দেয় এবং নারীর নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তোলে।
যে সব অপরাধমূলক কাজ ইভটিজিং এর অন্তর্ভুক্ত তা হলো- লম্পট চাহনি, টিটকারী, ব্যঙ্গবিদ্রুপ, ধূর্ততার সঙ্গে নারীর প্রতি অঙ্গভঙ্গী করা, শিষ বাজানো, উস্কানিমূলক তালি বাজানো, গায়ে ধাক্কা দেয়া, সম্মতির বিরুদ্ধে নারীর অঙ্গ স্পর্শ করা বা আঘাত করা, উদ্দেশ্যমূলকভাবে যৌন আবেদনময়ী গাণ গাওয়া, অশ্লীল মন্তব্য করা, হুমকি প্রদান, যৌন অর্থবাহী ছবি অথবা বিডিও দেখানো, নাম ধরে ডাকা, মুঠোফোনে বার বার মিসকল দেয়া, প্রেম ও যৌন সম্পর্ক স্থাপনে চাপ প্রয়োগ করা, প্রতারণা, ভয় প্রদর্শন করে কোন কিছু করতে বাধ্য করা, শিক্ষা, কর্মজীবন ব্যহত করা, অশ্লীল মেসেজ পাঠানো ইত্যাদি। দেখা যায় যে নারীদের দলবেধে পুরুষরা তাদের প্রতি কুৎসিত আচরণ করে, হাসাহাসি, ঠাট্টা মশকরা করে, ধাক্কা দেয়, চিমটি কাটে, জাপটে ধরে কিংবা কাপড় ধরে টানে। আসা যাওয়ার পথে উপর্যপুরি এসব শারিরীক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একটি গবেষণায় জানা যায় যে বাংলাদেশে ১০-১৮ বছর বয়সী নারীদের ৯০% নিয়মিত ইভটিজিং এর শিকার হন। আক্রমনকারী ধনী, দরিদ্র, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, রিক্সাচালক, অফিসের কর্তাব্যক্তি সহকর্মী যে কেউ হতে পারেন। গবেষণায় জানা যায় যে আক্রমনকারীদের ৩২% ছাত্র, ৩৫% অসামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও ২৭% মধ্যসয়সী পুরুষ।
ইভটিজিংকে হালকা করে দেখার জন্য বলা হয় যে ‘এসব বখাটে ছেলেদের কাণ্ড’। আরও বলা হয় যে ‘ছেলেরা এসব করে মেয়েদের আকর্ষণ করার জন্য’, ‘মেয়েদের সাজসজ্জা পোশাক উগ্র হওয়ায় ছেলেরা উত্তেজিত হয়’। যাহোক ইভটিজিং পুরুষের জন্য তামাশা হলেও নারীর জন্য যন্ত্রণার কারণ। বলা হয় পুরুষরা নানাবিধ হতাশা থেকে আক্রমনাত্মক হয়ে উঠেন এবং নারীকে উপলে পরিণত করেন। অনেকে এটিকে পুরুষের জীবন চক্রের অংশ বলে মনে করেন- পৌরুষ অর্জনের মাধ্যম।
অন্যদিকে ইভটিজিং এর ফলে আক্রান্ত নারীর উপর জীবন ও কর্ম বিনাশী প্রতিক্রিয়া পড়ে বলে জানা যায়। তা হচ্ছে-
১. কর্মের পরিধি কমে যাওয়া, স্কুলে ফলাফল খারাপ করা, অনুপস্থিত থাকা;
২. চাকরী হারানো, আয় রোজগার কমে যাওয়া;
৩. স্কুলে ছেড়ে চলে যাওয়া, শিা পরিকল্পনা পরিবর্তন করা;
৪. নারীর ব্যক্তিগত জীবন অন্যদের নজরদারির বিষয়ে পরিণত হয়- যখন মানুষজন নারীর পোশাক, সাজ সজ্জা, জীবন যাপন সব কিছু পরীক্ষা করে;
৫. মানুষজনের গালগপ্পের বিষয়ে পরিণত হয়ে আপমানিত হওয়া;
৬. নারীর যৌন অস্তিত্ব মুখ্য হয়ে উঠে- অন্যান্য গুন গৌণ হয়ে যায়;
৭. চরিত্রহনন হয় এবং সম্মান ও মর্যাদা হারায়;
৮. যে পরিবেশে ইভটিজিং এর হয়রানি ঘটে, সে পরিবেশের উপর নারীর আস্থা হারায় এবং ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে;
৯. মানুষের উপর বিশ্বাস হারায়;
১০. ব্যক্তিগত সম্পর্কের সৃষ্টি হয়- এতে বিবাহ বিচ্ছেদ, বন্ধুত্বে ফাটল ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়;
১১. অন্যরা যেমন ভিকটিমের কাছ থেকে দূরে চলে যায় তেমনি ভিকটিমও নিজেকে গুটিয়ে নেয় একাকীত্বের মাঝে;
১২. স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়, যেমন- হতাশা, দুশ্চিন্তা, আকারণে ভয় পাওয়া, ঘুম না হওয়া;
১৩. দুঃস্বপ্ন দেখা, লজ্জা পাওয়া, ও অপরাধী ভাবা, মনোযোগ কমে যাওয়া, নেশা করার প্রবণতা, উচ্চ রক্তচাপ, খাদ্যাভাস বদল, ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, আত্মহত্যার প্রবণতা ইত্যাদি।
আমাদের করণীয় :
১. প্রথমে স্বীকার করতে হবে যে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নারীর মন ও শরীরের উপর কুৎসিত বিভৎস ও বর্বর আক্রমন। এটি মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ। যৌন নিপীড়নকে আড়াল করে নির্যাতিত নারীকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
২. নারী নির্যাতনের কারণ যে সমাজ কাঠামোতে নিহিত তা বুঝতে হবে। সমাজে নারীর চলাফেরা, স্বাধীনতা, কর্মকাণ্ড সবকিছু পুরুষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত গওয়া সঠিক বলে ধরে নেয়া হয়। পুরুষাধিপত্যের কারণে পুরুষরা নারীদের বশ্যতা স্বীকার করার জন্য হুমকি দেন এবং বল প্রয়োগ করেন। কখন অধীনস্ত হিসেবে নারী লাঞ্ছিত হয়? যখন পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিরাজ করে অসম মতা সম্পর্ক। নারীদের প্রান্তিকতা দূর করতে হবে।
৩. সমাজে যৌনতা লজ্জাকর বিবেচিত হওয়ায় আক্রান্ত নারীকেই সকলে দোষারোপ করে। ফলে নারী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উত্থাপন করা থেকে বিরত থাকে। যে কথাটি বলতে মানা যে অপরাধের কথাটি নারীকে বলতে শিখতে হবে।
৪. ইভটিজিং এর মত যৌন হয়রানি করা যত সহজ, তা কোর্টে প্রমাণ করা ততটাই কঠিন। নিপীড়কগণ অনেক নিপুনতার সঙ্গে এই অপরাধ সংঘটিত করে যাতে একে অপরাধ বলে ভ্রম হয়। তবুও নারীবাদী গবেষকগণ একে ‘ষরঃঃষব ৎধঢ়ব’ বা প্রায় ধর্ষণ বলে মনে করেন। এ ধরনের অপরাধের বিচার করার জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করা জরুরী।
৫. বাংলাদেশে ইভটিজিং এর মত অপবাদের জন্য উপযুক্ত আইন নেই। নতুন আইনী কাঠামোও বিধান কার্যকর করা আবশ্যক। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অডিন্যান্স ১৯৭৬ এর ৭৬ নং অধ্যাদেশ এবং পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৫০৯ অধ্যাদেশে মর্যাদাহানি করার জন্য সংঘটিত যে কোন কাজ, আচরণ অথবা মৌখিক উচ্চারণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পূর্বের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ এর ১০(২) অধ্যাদেশে এ ধরনের অপরাধের বিচারের বিষয় ছিল। কিন্তু ২০০৩ সালে এটি বাতিল করা হয় এই মর্মে যে আইনটির অপপ্রয়োগের আশংকা আছে। নতুন আইনের ৯ নং অধ্যাদেশে বলা হয়েছে যে যদি কারো ইচ্ছাকৃত অসম্মানজনক কাজ, যৌন হয়রানি, কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে কোন নারী আত্মহত্যা করেন তাহলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বৎসর ও সর্বনিম্ন ৫ বৎসর কারাদণ্ড প্রদান করা হবে। কিন্তু ইভটিজিংকে এই ধরনের অপরাধ ভুক্ত করা হবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে। যদিও এই আইনে অপরাধীকে শাস্তি দেবার বিধান আছে তথাপি উল্লেখ্য যে তা কেবল নারী আত্মহত্যা করলেই সম্ভব। মৃত্যুবরণ না করলে একজন ভিকটিম আইনের আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যেহেতু অপরাধী আইনের ফাঁক গলিয়ে বের হয়ে যায় এবং ইইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই সে কারণে নির্যাতিত নারী অভিযোগ করার ব্যাপারে উৎসাহ হারান।
৬ . শিক্ষাঙ্গনে ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যে হাইকোর্ট যে প্রতিমালা প্রণয়ণ করেছে তাতে অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপনের বিধান আছে। এই কেন্দ্রের সদস্যদের অভিজ্ঞ, আইন সম্পর্কে ধারণা সম্পন্ন ও নারীর প্রশ্নে সংবেদনশীল হওয়া আবশ্যক। কেন্দ্রটিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর ক্রিয়াশীল মতার রাজনীতির উর্ধ্বে স্থাপন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনী সংস্কার করা জরুরী।
৭. লক্ষ্যনীয় যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যৌন হয়রানি ও অপরাধ বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান সম্পন্ন না হওয়ায় তারা প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হন। অনেক সময় পুলিশও নারী নির্যাতন করেন। জেণ্ডার ট্রেনিং এর মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন। অপরাধের অভিযোগ জানানোর জন্য পুলিশ কেন্দ্রে হট লাইন থাকতে পারে। সিভিলিয়ান পোশাকে বিভিন্ন স্থানে নারী ও পুরুষ পুলিশ মোতায়েন করে ইভটিজিং বন্ধের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
৮. পুরুষাধিপত্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারী প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হন। নারীর প্রতিরোধের ধরন তাদের প্রতিদিনের লড়াই। যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা আবশ্যক। এবং তা এখনই শুরু করতে হবে। এখনই আওয়াজ তুলতে হবে। নারীর জন্য রুখে দাড়ানো ব্যতীত বিকল্প কিছু নেই।
ইভটিজিং সমস্যাকে যেকোন ভাবে দমন করতে হবে। এর কারণে একটি মেয়ে মানসিক ও শারীরিক ভাবে তির স্বীকার হবার পাশাপাশি তার পরিবারকেও এ নিয়ে বিপদে পড়তে হয়। ইভটিজিং বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এটা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
ইভটিজিং কে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করে আসলে এই বিষয়টাকে নৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটা মূলত এক রাষ্ট্রীয় অপরাধ। আপনি যদি রাষ্ট্রে বিশ্বাস করেন তবে ইভটিজিংকে রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে এর প্রতিবিধান নিশ্চিত করতে হবে। ইভটিজিং রোধে তাই সরকার এগিয়ে এসেছে। সুনির্দিষ্ট আইন প্রনয়ণ করতে হবে। পুলিশ সহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করতে হবে। একই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নারী ও পুরুষের সহজাত যে অধিকার তা নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যে প্রকট দিক তা থেকে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। পোশাক কিংবা সংস্কৃতি এগুলো কোন বিষয় নয়। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মেয়েরা যে কোন পোশাক পড়তেই পারে এতে ছেলেদের সমস্যা কোথায়? তবে কেউ যদি অশালীন বা উত্তেজক পোষাক পরে সে দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আমার আপনার নয়। পোশাকের কারণে মেয়েদেরকে টিজিং করা হয় এ যুক্তি ভুল। কোন ছেলে যদি রাস্তায় হাফ প্যান্ট পড়ে ঘুরে আমরা তাকে কেন টিজ করিনা।
মেয়েদের প্রতি এই যে নির্যাতন তাকে ইভটিজিং হিসেবে নামকরণ করা উচিত নয় । যৌন হয়রানি বা ইভটিজিং শিকার মেয়েরা অনেকেই বলতে লজ্জা পায়, কিসের লজ্জা? এই না বলতে পারাটাই একটা সমস্যা। এতে করে প্রকৃত সমস্যার চিত্র ধরা পড়েনা। আর পোশাকের কথা যদি বলতে হয় তবে আমি বলব বাংলাদেশের মেয়েরাই পৃথিবীর সবচেয়ে শালীন পোশাক পড়ে। এটা আমাদের গর্ব। পৃথিবীর নানা নৃ-গোষ্ঠীর মেয়েরাও তো খুব স্বল্প পোশাক পড়ে, অথচ তাদের সমাজে তো মেয়েদের মর্যাদা অনেক বেশি। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বদল করতে হবে। অবদমন করতে হবে। আমাদের সমাজে নারী লাঞ্ছিত হলে তাকে অমর্যাদা করা হয় কেন তা খুঁজে বের করতে হবে। নারীর সমমর্যাদা দিতে হবে।
ইভটিজিং নানা কারনে ঘটে । মেয়েরা তাদের প্রতি বিদ্রুপের কথা বলেনা, যদি তারা পরিবার বা বন্ধুদেরকে বলে তবে এই সমস্যাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাছাড়া কোনটা যৌন হয়রানি কোনটা ইভটিজিং যৌন উত্তেজনার সীমারেখাই বা কি এসবের স্পস্ট সংজ্ঞা থাকা দরকার। আমরা যদি মেয়েদের সৌন্দর্য্য স্বীকার না করি কিংবা তাদেরকে সুন্দরী না বলি তবে তার সাথে সম্পর্ক টিকে থাকেনা। তবে এটাকে কি বলা হবে? ইভটিজিং বিষয়ে সচেতনতা জাগাতে ৫ম শ্রেণীর পাঠ্যবই থেকেই এ বিষয়ে অধ্যায় সংযোজন করা উচিত। গনমাধ্যমে যে বিদেশী সংস্কৃতিকে দায়ী করা হয় আমি তা মনে করিনা কেননা ওদের ভাল দিকগুলো আমরা নিচ্ছিনা কেন? ইভটিজিং বন্ধে আইন প্রনয়ণ এবং তা যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।
ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে মূলত মেয়েদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ইভটিজিংয়ের কারনে বাধ্য হয়ে অনেক মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। টিজিং তো মজা করার কোন বিষয় নয় । ছেলেদেরকে নৈতিক দিক দিয়ে শুদ্ধ হতে হবে।
মেয়েরা পুরুষ শাসিত সমাজের দ্বারা প্রাচীনকাল থেকেই নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আসছে। আমাদের ধর্মে লোভ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। নারীদের প্রতি পুরুষের সবরকম লোভ ত্যাগ করতে হবে। নারীদের সমান স্বাধীনতার কারণে তারা যে কোন পোশাক পড়তে পারে। তবে অশালীন বা দৃষ্টিকটু পোশাক বন্ধ করতে হলে পরিবার থেকে উদ্দ্যোগ নিতে হবে।
ইভটিজিংয়ে পোশাক কে দায়ী করা হচ্ছে, তবে সৌদি আরবে কি ইভটিজিং নেই? ৫ম শ্যেণী থেকে পাঠ্য বইতে এসব দিয়ে আসলে কি কাজ হবে আমরা তো ১ম শ্রেণী থেকেই নৈতিকতা শিখে আসছি! ইভটিজিং অবশ্যই একটা নেতিকতা সম্পর্কিত বিষয়। কেবল নৈতিকতা বিচ্যুত হলেই তা অপরাধ হয়। গনমাধ্যমও ইভটিজিংয়ের বিস্তারে দায়ী। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে হবে, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
ইভটিজিং একটা অপরাধ একে তাই গন্য করতে হবে। আমাদের মনোভাবের পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যে পুজিবাদী সমাজে বাস করছি তারাই পরোক্ষভাবে তাদের কালচার পোশাক দিয়ে ইভটিজিংকে উস্কে দিচ্ছে। পুজিবাদী সমাজ আমাদের কে একাকিত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর পোশাক তো ছেলেদের ও হচ্ছে কই তাতে কি সমস্যা হচ্ছে? রাস্তা দিয়ে ছোট পোশাক পড়ে একটা সুন্দরী মেয়ে হেটে গেলেই মাথা নষ্ট হয়ে যাবে তা কেন? ছেলেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। বাবা-মা কে সন্তানের নিয়ন্ত্রণ শেখাতে হবে। ইভটিজিং আসলে যতটা না পোশাক সৌন্দর্য্য বা অঙ্গ-ভঙ্গীর তার চেয়ে বেশি মনের। এর থেকে বেড়িয়ে এসে আমাদেরকে ইভটিজিং মুক্ত সমাজ গঠনে নারী পুরুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29175473 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29175473 2010-06-12 17:44:07
শেভরন হেরেছে কিন্তু মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণের কী হবে? শেভরন বাংলাদেশের বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে সরকারের কাছে বিক্রি করে। চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস বাজারজাত করতে সরকারের পাইপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের জন্য সরকারকে তাদের ৪ শতাংশ হুইলিং চার্জ দেওয়ার কথা থাকলেও শেভরন তা অস্বীকার করে ২০০৬ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক আদালতে পেট্রোবাংলার বিরুদ্ধে মামলা করে। এই মামলা মোকাবিলায় পেট্রোবাংলার খরচ হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। অবশেষে মামলাটি আদালত খারিজ করে শেভরনকে কমপক্ষে সাত হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশকে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি শুধু স্বস্তির বিষয়ই নয়, আনন্দেরও বটে। আনন্দের বলছি এ জন্য যে বিদেশি কোম্পানিগুলো গ্যাস উত্তোলনে বাংলাদেশকে ঠকিয়ে থাকে। তারা অতিরিক্ত মুনাফাসহ কস্ট রিকভারির নামে লুটের নানা কৌশলে বাংলাদেশকে চরম ক্ষতিগ্রস্তও করছে বটে। শেভরনের দায়ের করা মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আশাবাদি হতে উৎসাহিত করছে। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মাগুরছড়া ব্লো-আউটে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে অক্সিডেন্টাল কোম্পানির অবহেলা-অদক্ষতা-অব্যবস্থাপনা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। ১৩ বছর পূর্ণ হলেও অক্সিডেন্টালের উত্তরসুরি শেভরন এখনো মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। আমার সত্যিই আশ্চর্য লাগে, ক্ষতিপূরণ না দিয়ে শেভরন বাংলাদেশে টিকে আছে কীভাবে? হয়তো তারা তাদের সঙ্গে পেয়েছে এ দেশের কতিপয় অসাধু, দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাবানকে।
শেভরনের দায়ের করা মামলাটি চলে চার বছর এবং তিন দফা শুনানি শেষে ১৮ মে ২০১০ ওই আদালত পেট্রোবাংলার পক্ষে রায় দেন। এর সঙ্গে সঙ্গে বিবিয়ানা ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের হুইলিং চার্জ সংক্রান্ত জটিলতা দূর হয়ে গেল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পেট্রোবাংলা ও শেভরনের মধ্যে সম্পাদিত উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তির (পিএসসি) আলোকেই আন্তর্জাতিক আদালত রায়টি দিয়েছেন, তা খুব সহজেই বোধগম্য। আমরা অবশ্যই মনে করতে পারি, এ রায় কেবল বাংলাদেশের স্বার্থই সুরক্ষিত করেনি, সার্বিক জ্বালানি খাতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবও ফেলবে। এর মধ্য দিয়ে মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ আদায় করাসহ বিরোধপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে হয়ে উঠবে আত্মবিশ্বাসী। তবে মূল দলিলপত্রে ত্রুটি থাকলে শুধু আত্মবিশ্বাস কোনো কাজে আসবে না। তেল-গ্যাস উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা চাই।
শেভরনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি রয়েছে, এ চুক্তির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে। এই চুক্তিটি বাতিলের জন্য জনগণের জোরালো দাবি রয়েছে। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন অক্সিডেন্টালের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মৌলভীবাজারের গ্যাসক্ষেত্র মাগুরছড়ায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতি হয় বিপুল। তদন্তে ওই বিস্ফোরণের জন্য অক্সিডেন্টালের অবহেলা ও অদক্ষতাকে সরাসরি দায়ী করা হলেও বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ম. তামিম মজুদকৃত গ্যাসের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারেননি। ওই বিস্ফোরণে পুরো গ্যাসফিল্ড বিনষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা কেন করা হলো না, এ রহস্য উন্মোচনে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়াসহ অবশ্যই রাষ্ট্রবাদী মামলা করা দরকার।

ধারাবাহিক-১
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29173860 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29173860 2010-06-10 00:45:05
প্রতিবন্ধী শিশু ও ভিক্ষা বৃত্তি প্রতিবন্ধী শিশু ও ভিক্ষা বৃত্তি
আজকাল ঢাকা শহরে অসংখ্য প্রতিবন্ধী শিশুরা ভিক্ষা করছে। অনেক গুরুতর প্রতিবন্ধী শিশুর ভিক্ষা করার দৃশ্য দেখে আমরা মর্মাহত হই।
আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। প্রতিবন্ধী শিশুরা এর ব্যতিক্রম নয়। তাই ওদের রয়েছে
দেশের নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকার পাওয়ার অধিকার।
আসুন, আমরা প্রতিবন্ধী শিশুদের ভিক্ষা বৃত্তি থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29172769 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29172769 2010-06-08 13:00:11
ফিলিস্তিনগামী ত্রাণবহরে ইজরাইলি গণহত্যা ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29167736 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29167736 2010-06-01 19:15:37 শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিক গণমূখী বাজেট চাই গণমূখী বাজেট এর প্রত্যাশায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রাক বাজেট আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় বাজেট প্রনয়নের আহ্বান জানানো হয়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29155590 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29155590 2010-05-15 20:22:22
শ্রীমঙ্গলে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪ জন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় গতকাল প্রকাশিত ফলাফলে শ্রীমঙ্গলে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪ জন। এদের মধ্যে ৮১ জন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে, ২জন বাণিজ্য বিভাগ থেকে এবং ১ জন মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শ্রীমঙ্গলের দি বাড্স রেসিডেনসিয়্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন। বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এদের সবাই বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। এদের মধ্যে ৭ জন বিজ্ঞান বিভাগ ও একজন বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র। শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ছয়জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরমধ্যে ৫ জন বিজ্ঞানের একজন মানবিক বিভাগের ছাত্রী। ভৈরবগঞ্জ বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন ছাত্র-ছাত্রী। এদের সবাই বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এদের ২জনই বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। এছাড়াও শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং র‌্যানার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29155434 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29155434 2010-05-15 15:07:14
'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী'র ঘোষণা ও কর্মসূচী 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী'র ঘোষণা ও কর্মসূচী
ভূমিকা: বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনে, শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রমে 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী' এদেশের ছাত্র সমাজের কাছে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন। মেহনতী জনতার সাথে একাত্ম হওয়ার রাজনৈতিক দিশা নিয়ে, মেহনতী মানুষের সন্তানদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাহসী ভূমিকার ইতিহাস রচনা করেছে 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী'। মহান ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ, সা¤প্রদায়িকতা বিরোধী প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন সংগঠিত করার আহবান নিয়ে ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল গড়ে উঠে তৎকালীন 'পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন'। তারই ধারাবাহিকতায় এবং উত্তরাধিকার 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী'। '৬০ দশকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা 'পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন' থমকে দাঁড়ায় কমিউনিষ্ট আন্দোলনের আন্তর্জাতিক মহাবির্তকে। বিভক্ত হয় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন। আপোষকামিতা ও সুবিধাবাদকে পরিহার করে সাম্রাজ্যবাদ, স্বৈরাচার এবং সা¤প্রদায়িকতা বিরোধী শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আপোষহীন ভাবে এগিয়ে নিয়েছেন 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী'র পূর্বসূরীরা। '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদ আমাদের গর্ব। '৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং স্বৈরশাসন উৎখাতে লাখো শহীদ আমাদের প্রেরণা। এদেশের প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ধারাবাহিক ভাঙ্গন আমাদের আন্দোলনের ঐতিহ্যকে নিঃশেষ করছিল। সাম্রাজ্যবাদ, স্বৈরাচার এবং সা¤প্রদায়িকতা বিরোধী প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের এ রকম ক্রান্তিকাল, ১৯৮০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান বুকে ধারণ করে তৎকালীন প্রগতিশীল চারটি ছাত্র সংগঠন 'জাতীয় ছাত্র আন্দোলন', 'জাতীয় ছাত্র দল দু'টি অংশ এবং 'বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন' ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী' গঠন করে প্রগতিশীল আন্দেলনের ধারাকে শক্তিশালী করে। অতীতের ভূল-ভ্রান্তিকে সচেতনতার সাথে এড়িয়ে ঐক্যের ধারাবাহিক সংগ্রমে ১৯৮১ সালে 'জাতীয় ছাত্র ইউনিয়নে'র একটি অংশ, ১৯৮৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর 'বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন' এর একটি অংশ, ১৯৮৮ সালের ৭ এপ্রিল 'বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন' এর আরেকটি অংশের ঐক্যের মধ্য দিয়ে গঠিত 'বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী' সুস্থ ধারা ছাত্র আন্দোলনে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ১৯৮৮ সালের ২১ নভেম্বর ঐক্যের মোহনায় মিলেছে 'জাতীয় ছাত্র সংসদ'। অপর দিকে ঐক্যের ধারায় বিকাশিত হয় 'গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়ন'। ১৯৮৬ সালের ফেব্র“য়ারীতে 'বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন' ও ' বাংলা ছাত্র ইউনিয়নে'র অংশ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঠন করে 'গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়ন'। ১৯৮৭ সালের আগস্টে 'গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়ন' ও 'ছাত্র ঐক্য ফোরাম' ঐক্যবদ্ধ হয় 'গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়নে। '৬০ দশকে থমকে পড়া 'পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে' সংগ্রামী ধারা 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী' এবং 'গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়ন' ঐক্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালের ২৩, ২৪ অক্টোবরে 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী' গঠন করে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে দিয়েছে নতুন প্রাণ। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শিক্ষার আন্দোলন এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতায় 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী' সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে চলেছে, বীরত্বের সাথে লড়ছে স্বৈরতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। এ লড়াই এখনও শেষ হয়নি। মেহনতী জনতার সাথে একাত্ম হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সমাজ বিপ্লবের সহযোগী শক্তি হিসেবে 'বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী'র কর্মীরা গড়ে তুলেছে নিজেদেরকে। জনমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করতে 'বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী' নিরলসভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের গৌরবদীপ্ত ইতিহাস
শিক্ষা একটি সার্বজনীন বিষয়। যা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। ব্যক্তির পরিপূর্ণ বিকাশ এবং সচেতন করার ক্ষেত্রে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা মানুষকে তার সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন করে। ফলে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সকল মানুষের শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়েই এ দেশের ছাত্র সমাজ। আমাদের সমাজে যেমন এক দিকে রয়েছে মুষ্টিমেয় ধনীক শ্রেণী। অপর দিকে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হচ্ছে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং গরীব শ্রেণী। এদেশের ছাত্র সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশই হচ্ছে গরীব শ্রেণীর পরিবার হতে আগত। বিভিন্ন শ্রেণীর পরিবার হতে আসলেও শিক্ষা এবং সমাজ চেতনা ছাত্র সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, প্রতিবাদী এবং সাহসী করে তোলে। বাংলাদেশের অনেক গৌরব-উজ্জ্বল ইতিহাস রচনার পেছনে রয়েছে এদেশের প্রতিবাদী ছাত্র সমাজ। ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রক্তদান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মায়ের ভাষা বাংলা কে রক্ষা করার জন্য ১৯৪৮ সালে এ দেশের ছাত্র সমাজ মহান ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে। ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে ছাত্রদের জীবন দানের মধ্য দিয়ে এ দেশের ছাত্র সমাজের গৌরবময় রক্তাক্ত ইতিহাস সৃষ্টি হয়। '৫২ এর ছাত্র আন্দোলন এদেশের বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের আকাঙ্খাকে জাগ্রত করে। ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্রদের সমস্যাভিত্তিক দাবী, সিয়াটো-সেন্টো পাকিস্তান-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিল এবং স্বাধীন জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির দাবিতে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার পিছনে নিরলসভাবে কাজ করেছে এদেশের ছাত্র সমাজ। প্রতিক্রিয়াশীল গণবিরোধী মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে '৫৪ সালে যুক্তফ্রণ্ট গঠনে ছাত্র আন্দোলন গ্রহণ করেছে বিশেষ ভূমিকা। '৫৮ সালে সামরিক একনায়ক আইয়ুবশাহীর ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে লাগাতার সংগ্রামের ধারায় '৬২ সালে গণবিরোধী শরীফ কমিশনের বিরুদ্ধে এবং '৬৪ সালে কুখ্যাত হামিদুর রহমানের শিক্ষানীতিকে প্রতিরোধ করেছে এ দেশের সাহসী ছাত্র সমাজ দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে। '৬৮-'৬৯ এর ১১ দফা আন্দোলন এবং '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে এদেশের ছাত্র সমাজের রয়েছে অবিস্মরণীয় ভূমিকা। অভ্যুত্থানের সিঁড়ি বেয়ে '৭১ এর স্বাধীনতাযুদ্ধের ভিত রচনা করে এদেশের সাহসী ছাত্র সমাজ। ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ। কিন্তু জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আজও হয়নি। সাম্রাজ্যবাদ তার এদেশের পাহারাদারদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের শোষণের যাতাকলে পিষ্ট করছে। সমাজ কাঠামো এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। শোষণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, প্রতিক্রিয়াশীলতার এই সমাজ কাঠামো কে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ শোষণ এবং প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে তার আপোষহীন লড়াই অব্যাহত রেখেছে। স্বাধীনতা লাভের পর একদলীয় বাকশালী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ রচনার মধ্য দিয়ে এদেশের ছাত্র সমাজ সাহসী যাত্রাকে অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে সামরিক জান্তা জিয়ার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অপোষহীন সংগ্রাম করেছে এদেশের ছাত্র সমাজ। সামরিক জান্তা বিরোধী ছাত্র সমাজের এই লাগাতার সংগ্রাম আরও দৃঢ় ও দৃঢ়তার জঙ্গীরুপ লাভ করে সামরিক একনায়ক এরশাদ আমলে। '৮২ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতায় চেপে বসা সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্র সমাজ স্পর্ধিত প্রতিবাদে ছিল সোচ্চার। '৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি রুখে দিয়েছে তারা সাহসী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ক্ষমতায় চেপে বসা সামরিকতন্ত্রের প্রতিভূ জনধিকৃত এরশাদ চক্রের বিরুদ্ধে শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য '৮২ সাল হতে '৯০ সাল পর্যন্ত অনেক বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম করেছে এদেশের ছাত্র সমাজ। '৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরশাসক এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা এদেশের ছাত্র সমাজের আপোষহীন সাহসী ভূমিকার কারণেই সম্ভব হয়েছে। '৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয় সামরিক সরকার একনায়ক এরশাদ। '৯১ এ ক্ষমতাসীন হয় নির্বাচিত সরকার। সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা থেকে সামরিকতন্ত্রের অবসান ঘটলেও রক্তে সিক্ত এদেশের ছাত্র সমাজের দশ দফা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অব্যাহত সন্ত্রাসে সাধারণ শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত। ছাত্র সমাজ সুস্থ ছাত্র আন্দোলনের ধারায় শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে অব্যাহত রেখেছে। এদেশের ছাত্র সমাজ শুধু নিজেদের স্বার্থে আন্দোলন করেনি, তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাতীয় মুক্তি আর স্বাধীনতার লড়াইয়ে মুক্তিকামী জনতার সাথেও একাত্মতা ঘোষণা করেছে, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ উন্মাদনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, শান্তিকামী মানুষের আন্দোলনে শরিক হয়েছে। আমাদের দেশের ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ঐতিহ্যের পাল্লাটা ভারী হলেও এখনও পর্যন্ত শিক্ষার অধিকার, মানুষ হয়ে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমাদের পূর্বসূরীরা জীবন ও রক্ত দিয়ে শিক্ষার অধিকার আদায় ও প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র কাঠামোর বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের যে ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছেন তাকে পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে হবে।
বিরাজমান শিক্ষাব্যবস্থার স্বরুপ
শিক্ষার অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। অথচ, আমরা দেখছি ব্যাপক সংখ্যক মানুষ শিক্ষার এ অধিকার থেকে বঞ্চিত। কারণ সাম্রাজ্যবাদ ও তার সহযোগী এখানকার ধনীক শ্রেণীর শোষণ-লুণ্ঠনমূলক সমাজ ব্যবস্থা। আমাদের দেশে যে ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তার প্রবর্তন করেছিল বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ। এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তক বৃটিশ রাজপ্রতিনিধি লর্ড মেকলে। বৃটিশ প্রবর্তিত এই শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল, ইংরেজি জানা কিছু লোক তৈরী করা। যাদের কাজ হবে বৃটিশ উপনিবেশকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করা। অর্থাৎ একদল কেরানি তৈরি করা হবে, যারা স্বার্থরক্ষা করবে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির, এদেশের সাধারণ মানুষের নয়। বৃটিশ চলে গেছে। পাকিস্তানী শাসকরাও চলে গেছে। কিন্তু শোষণ ভিত্তিক সমাজ পাল্টায়নি। নতুন কায়দায় সাম্রাজ্যবাদ এর উপর নির্ভরশীল ধনীক শ্রেণী একই শ্রেণী স্বার্থে এই শিক্ষা ব্যবস্থার কোন মৌলিক পরিবর্তন করেনি। ধনীক শ্রেণী একদিকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, দমন পীড়নের মাধ্যমে তার শাসন ও শোষণ অব্যাহত রাখে, তেমনি অপরদিকে তারা ভাবাদর্শগতভাবেও বিভ্রান্ত করে। সমাজে শোষক শ্রেণীর ভাবাদর্শের আধিপত্য রক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থা একটি বড় হাতিয়ার। আমাদের দেশেও আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে শোষক বুর্জোয়া শ্রেণীর চিন্তাচেতনার আধিপত্য রক্ষার অন্যতম ভাবাদর্শগত হাতিয়ার। মেকলের শিক্ষানীতি থেকে শুরু করে শরীফ, হামিদুর রহমান, কুদরত-ই-খুদা, মজিদ খান এবং মফিজ উদ্দিন কমিশন পর্যন্ত প্রবর্তিত সকল শিক্ষানীতির বৈশিষ্ট্য অভিন্ন, শিক্ষাকে শোষক শ্রেণীর স্বার্থে ব্যবহার করা। তাই আমরা যারা সাম্রাজ্যবাদের শোষণ উচ্ছেদ করে মানুষের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই তাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, এ শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কেমন করে শোষক শ্রেণী এ কাজটি সম্পন্ন করে চলেছে। এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কোন জায়গাটায় আমাদের আঘাত হানতে হবে। বিরাজমান শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকালে আমরা সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারি। শিক্ষার বিষয়বস্তু অবৈজ্ঞানিক, প্রতিক্রিয়াশীল ও শোষক শ্রেণীর স্বার্থে প্রণীত প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সমস্ত পাঠ্য তালিকা তৈরি হয় শোষক ধনীক শ্রেণীর প্রয়োজনে। এমনকি এদেশের চিকিৎসা শাস্ত্রের সিলেবাসের অনেক বিষয় নির্ধারিত হয় মুনাফাবাজ বহুজাতিক ঔষধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে। একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই অত্যন্ত সুকৌশলে শিশুদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় অবৈজ্ঞানিক প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা। আমাদের দেশে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যা শেখানো হয় তার অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয়। আমরা যা শিখি তার ব্যবহারিক বা প্রয়োগিক বাস্তবতাও খুবই কম। ছাত্রছাত্রীরা উপলব্ধির চাইতে কেবল তোতা পাখির মত মুখস্ত করেই পাশ করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত স্বাধীন, প্রজ্ঞাসম্পন্ন চিন্তাশীল ও সৃজনশীল মানুষ তৈরী করা। শিক্ষা এমন হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সব ধরণের শোষণ ও অত্যাচারকে ঘৃণা করতে শেখে। যাতে করে মেহনতী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগে। বিপ্লবী চেতনা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান যেন সমাজ ও গণমানুষের প্রকৃত কাজে লাগে সে জন্য শিক্ষার বিষয়, পদ্ধতি, পরীক্ষা-পদ্ধতি পরিবর্তন ও আধুনিকীকরণ করা অপরিহার্য। ব্যয়বহুল শিক্ষাঃ শিক্ষা সংকোচন নীতি শিক্ষা সংকোচন এ যাবৎ কালের সব সরকারেরই সাধারণ নীতি। উচ্চবিত্তের সন্তানরাই লেখাপড়া শিখবে, বাকি জনগণ মুর্খ থাকুক এটাই তারা চায়। এর কারণও খুবই স্পষ্ট। লেখাপড়া শিখলে সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে উঠবে এবং শিক্ষার সাথে সাথে তাদের অর্থনৈতিক চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। তাই স্বাভাবিক কারণে শোষক শ্রেণী সব সময় শিক্ষা সংকোচনের নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ পর্যন্ত সরকারী উদ্যোগে যতগুলি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে সকল কমিশনের মূল প্রস্তাব এবং নীতি হচ্ছে শিক্ষাকে ব্যয়বহুল করে সংকুচিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি, পাঠ্যপুস্তক, কাগজ-কলম, ছাত্রাবাসের ফি, পোশাক, খাওয়া-দাওয়া খরচের পরিমাণ হিসাব করলেই বুঝা যায় এই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কেন সাধারণ গরীব ঘরের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখা দুরুহ। আমাদের দেশে শোষক ধনীক শ্রেণী শিক্ষাকে ব্যয়বহুল করে একদিকে যেমন শিক্ষাকে ধনীক শ্রেণীর একচেটিয়া করতে চায়, সাধারণ মানুষকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়। তেমনি তারা শিক্ষাকে বেচাকেনার পণ্যে পরিণত করতে চায়। টাকা হলে যেমন বাজার থেকে পণ্য কেনা যায়, তেমনি টাকা থাকলে শিক্ষা ক্রয় করা যাবে। শিক্ষা কোন পণ্য নয়, প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। সকল মানুষের জন্মগত শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয়বহুলতার মাধ্যমে শিক্ষাকে সংকুচিত করার নীতির অবসান ঘটাতে হবে। ব্যয়বহুল শিক্ষা সাধারণ গরীব মানুষকে বঞ্চিত রেখে মুষ্টিমেয় ধনীক শ্রেণীর সন্তানদের শিক্ষার সুয়োগ করে দেয়। প্রয়োজন এই ব্যবস্থার উচ্ছেদ সাধন। বৈষম্যমূলক শিক্ষা আমাদের দেশে একদিকে ব্যাপক মানুষ যেখানে শিক্ষার অধিকার হতে বঞ্চিত, অপরদিকে সেখানে এক শ্রেণীর স্কুল কলেজে ধনীক শ্রেণীর সন্তানদের লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে বিশাল অংকের টাকা। সাধারণ শিক্ষা যেখানে বিপর্যস্ত, সেখানে তারই পাশাপাশি রয়েছে কিণ্ডার গার্টেন, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল, টিউটরিয়াল হোমাস, ক্যাডেট কলেজ, প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধনীক শ্রেণীর সন্তানদের জন্য সাধারণ শিক্ষা থেকে ভিন্নতর কলাকৌশলে প্রতিক্রিয়াশীল বিষয়বস্তু অভিজাত পরিমণ্ডলে পরিবেশন করা হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা সাধারণ মানুষকে ঘৃণা করতে শেখে। বিদেশী কায়দা, ইংরেজী প্রীতি এবং বাঙালী জাতিসত্তা বোধ বাঙালী সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি চরম অবজ্ঞা এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। অথচ সাধারণ স্কুল কলেজের তুলনায় এই সামান্য সংখ্যক তথাকথিত ক্যাডেট কলেজের ছাত্রের পিছনে বছরে সরকারী ব্যয়, সাধারণ স্কুলের একজন ছাত্রের বছরে সরকারী ব্যয় অপেক্ষা ২০ গুণ বেশী। এর থেকেই বৈষম্য চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠে। তাই সৌভাগ্যবান কিছু লোকের সন্তানরা যারা অভিজাত স্কুল কলেজে পড়ার সুয়োগ পায়, তারা যে পরীক্ষায় গ্রাম বা শহরের সাধারণ স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায় ভাল ফলাফলা করবে এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে গণতান্ত্রিক। এজন্য, বৈষম্যমূলক শিক্ষার বিপরীতে সকলের জন্যে একই নীতিমালার ভিত্তিতে শিক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা আমাদের দেশে জনসংখ্যা অনুপাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। নতুন নতুন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হল-হোস্টেল, ল্যাবরেটরী গড়ে তোলা হচ্ছে না। অথচ জাতীয় আয়ের সিংহভাগ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। ইউনেস্কো (ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক এণ্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলির জন্য জাতীয় আয়ের ন্যূনতম ৮% শিক্ষাখাতে বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করেছে। কিন্তু আমাদের বরাদ্দের পরিমাণ ১.২% (প্রায়)। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অপর্যাপ্ত পরিমাণে ছাত্রাবাস থাকার কারণে বহু ছাত্র-ছাত্রী উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অধিকাংশ কলেজেই ছাত্রাবাস নেই। থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী খুবই কম। ফলে দুররে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা বিশেষ করে মেয়েরা লেখাপড়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বেশির ভাগ স্কুলে ভালো ক্লাসরুম নেই। ক্লাশরুশ থাকলেও বেঞ্চ নেই। আর ল্যাবরেটরী, খেলার মাঠ ইত্যাদি নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় গরীব ও মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব নয়। শিক্ষক সমস্যা অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র অনুপাতে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। শিক্ষকতার মত মর্যাদা সম্পন্ন পেশার মর্যাদা ও বেতন খুবই কম। শিক্ষকের লেখাপড়া, গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ খুবই সীমিত। এসব কারণে শিক্ষকদের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রদানে অমনোযোগিতা, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গী, প্রজেক্ট ব্যবসা ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে শিক্ষা সমস্যার সাথে শিক্ষকের সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে শিক্ষক সমস্যার যথাযথা সমাধান করতে হবে। নিরক্ষরতা আমাদের শিক্ষার বড় সমস্যা হচ্ছে, এদেশের অধিকাংশ মানুষের একেবারেই অক্ষরজ্ঞান নেই। সরকারী হিসাব মতে দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ ভাগের একভাগ মাত্র অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। প্রকৃত শিক্ষিতের সংখ্যা আরও কম। যা হাতে গোনা যায়। এদেশের কোটি কোটি গরীব খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানেরা লেখাপড়ার কথা চিন্তাও করতে পারে না। তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠালেও আর্থিক সংকট ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের কারণে তাদেরকে দ্রুত স্কুল থেকে বাধ্য হয়ে বিদায় নিতে হয়। প্রতি বছর এমনি নিরক্ষরের সংখ্যা বাড়ছেই। সরকার নিরক্ষরতা মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও তা কার্যকারী করার জন্য প্রয়োজনীয় কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না। কারণ শোষণমূলক রাষ্ট্র এবং সমাজকে টিকিয়ে রাখতে হলে এদেশের মানুষকে শিক্ষার আলো থেকে দূরে রাখতে হবে। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হলে শিক্ষা অপরিহার্য। তাই প্রতিটি শিশু-কিশোরকে শিক্ষার সুযোগ দিতেই হবে। আর এজন্যই প্রয়োজন সকলের জন্য শিক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করা। নারী শিক্ষা ও নারী মুক্তি
আমাদের সমাজে অর্ধেক নারী। অর্ধেক জনসমষ্টিকে শিক্ষার আলো থেকে দূরে রেখে সমাজের মুক্তি ঘটাতে পারে না। অথচ আমাদের সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের, বিধি-নিষেধের কারণে নারীর শিক্ষার অধিকার ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ হল-হোস্টেল না থাকার কারণেও ছাত্রীদের লেখাপড়ায় প্রতিবন্ধকতা তৈরী হচ্ছে। নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা পশ্চাৎপদ ও নানা ধরণের সামাজিক শোষণ নির্যাতনের শিকার। নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সমমর্যাদা এখানে অনুপস্থিত। নারী মুক্তির বিষয়টি সামাজিক প্রগতির সাথে জড়িত। প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী সম্পন্ন আলোকপ্রাপ্ত ছাত্র সমাজকে শিক্ষা সমস্যার সাথে সাথে নারী মুক্তির প্রশ্নেও সামাজিক সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করে নারী মুক্তির পথ প্রশস্ত করতে হবে। গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের সাথে নারী মুক্তির বিষয়টিও যুক্ত করে দেখতে হবে।
শিক্ষাঙ্গনের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ
শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি, সন্ত্রাস এখন একটা সাধারণ ব্যাপার। দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এমন পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে যে, স্কুলের পাঠ্যপুস্তকও অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পর্যন্ত পৌঁছায় না। পৌঁছালেও প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং তাও আবার বৎসরের মাঝামাঝি সময়ে। বে-সরকারী স্কুল কলেজে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রেও বাঁধা । বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরম্ভ করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারী হস্তক্ষেপ শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে। সরকার তার স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, বদলীসহ অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করে শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রসীদের হাতে জিন্মি। অনেক মেধাবী ছাত্রকে সন্ত্রাসীদের হাতে জীবন দিতে হচ্ছে। সরকার স্বীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং ছাত্র আন্দোলনের সুষম বিকাশকে নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিত উপায়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লালন করে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাত্ররা শিক্ষাকোর্স শেষ করতে পারছে না। এতে গরীর ছাত্রদের উপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ পড়ে। ফলে বহু ছাত্র শিক্ষা জীবন অর্ধ সমাপ্ত রেখেই জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। ব্যাপক দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের ফলে শিক্ষার কাঠামোই আজ একেবারে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষার সাথে সাথে সংস্কৃতির বিষয়টিও স্বাভাবিক ভাবে আসে। শাসকগোষ্ঠী তার শ্রেণী শোষণ বজায় রাখার জন্য জনগণের মধ্যে তাদের প্রতিক্রিয়াশীল ভাবার্দশ প্রচার করে এবং সে অনুযায়ী গড়ে তোলে সেই ধরণের সংস্কৃতি। শিক্ষা ব্যবস্থা হল তার একটি বাহন, শোষক ও শাসকগোষ্ঠী এই শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ ও ইতিহাস সম্পর্কে মিথ্যা ধারণার সৃষ্টি করে এবং প্রগতি বিরোধী মনমানসিকতা গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। আমাদের শিক্ষার বিষয়বস্তুতে যে কারণে শ্রেণী সংগ্রামের কথা থাকে না বরং শ্রেণী চেতনাকে ভোতা করে দেয়া হয়। সা¤প্রদায়িক ভাবধারার শিক্ষাকে উৎসাহিত করা হয়। শিক্ষাঙ্গনের বাইরেও পত্র-পত্রিকা, সিনেমা, গান, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদিতেও প্রতিক্রিয়াশীল ভাবধারা ছাড়ানো হচ্ছে। এই প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতির মধ্যে দু’ধরণের বিষয় দেখা যায়। একদিকে রয়েছে ধর্মাদ্ধতা, পশ্চাৎপদতা, কুসংস্কার ইত্যাদি যা সামন্ত সংস্কৃতির পরিচায়ক। অন্যদিকে রয়েছে অশ্লীলতা, তথাকথিত আধুনিকতা ইত্যাদি যা আজকে পাশ্চাত্যের বিকৃত পুঁজিবাদী সংস্কৃতির পরিচায়ক। সমাজে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান অংশ হিসেবে ছাত্র সমাজকে বিকৃত বুর্জোয়া সংস্কৃতি ও পশ্চাৎপদ সামন্ত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা বিশ্লেষণ করে যে বৈশিষ্ট্য পাই সংক্ষিপ্ত আকারে তা হলো- ড় এ শিক্ষা ব্যবস্থায় সকল মানুষ সমান অধিকার নিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পায় না। ড় এ শিক্ষা ব্যবস্থায় নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা কেবল বেড়েই চলে। ড় এ শিক্ষা ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক ধনীক শ্রেণীর জন্য অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর গরীব-সাধারণের জন্য বিপর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এ শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যয় বহুল। যে কারণে গরীব-সাধারণের ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার অধিকার হতে বঞ্চিত।
এ শিক্ষা ব্যবস্থা মেহনতী জনগণের শ্রমশক্তি, সম্পদ লুট করার কৌশল শেখায়।
এ শিক্ষা ব্যবস্থা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বা বস্তুবাদী চিন্তা করতে শেখায় না।
এ শিক্ষা ব্যবস্থা ধনীক শ্রেণীর স্বার্থকে রক্ষা করে যা শোষণমূলক বর্তমান রাষ্ট্র ও সমাজকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার চরিত্র এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সম্পর্ক
বিশ্ব পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার অর্ন্তভূক্ত আমাদের দেশ বাংলাদেশ। পুঁজিবাদী বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে কয়েকটি শোষক সাম্রাজ্যবাদী দেশ। আর প্রান্ত সীমানা ছড়িয়ে আছে তৃতীয় বিশ্বের শোষিত দেশসমূহ। অশিক্ষা, ক্ষধা, দারিদ্র আর মৃত্যু তাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সেই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিরই দারিদ্রতম একটি। আমাদের দারিদ্রের মূল কারণ সাম্রাজ্যবাদী শোষণ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদই পুঁজিবাদী বিশ্বের প্রধান হোতা। বহুজাতিক কর্পোরেশন, তথাকথিত সাহায্য সংস্থা ও ঋণ, অসম বাণিজ্য, প্রাকৃতিক সম্পদের উপর কর্তৃত্ব ইত্যাদিও মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ আমাদের শোষণ এবং লুণ্ঠন করছে। আমাদে দেশে শিল্পের বিকাশ হচ্ছে না। আমাদের দেশ বিদেশী পণ্যের বাজারে পরিণত হয়েছে। সামন্ত ব্যবস্থার অবশেষ কৃষির বিকাশ করছে রুদ্ধ। আমাদের সকল ক্ষেত্রে পরনির্ভর থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনইভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের নয়া উপনিবেশিক শাসন-শোষণে প্রতিনিয়ত আমরা পিষ্ট হচ্ছি। সাম্রাজ্যবাদের সহযোগী আমাদের দেশের এক শ্রেণীর দালাল ধনীক গোষ্ঠী সাম্রাজ্যবাদের উচ্ছিষ্ট ভোগ করে রাতারাতি ফেঁপে উঠছে। এরাই আমাদের দেশের শোষক এবং শাসকবর্গ। বহুজাতিক কোম্পানীর ক্ষুদে অংশীদার হয়ে, বিদেশী কোম্পানিসমূহের এজেন্ট হয়ে অথবা আমদানী-রপ্তানী, চোরাকারবারী-কালোবাজারীতে লিপ্ত থেকে এরা জনগণকে বেপরোয়া শোষণ ও লুণ্ঠন করে দেশকে দারিদ্রের সর্বনিম্ন অবস্থায় রেখে নিজেদের জন্য সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছে। এই সম্পাদ তারা উৎপাদনের কাজে বিনিয়োগ করে না। বেশির ভাগই বিদেশে পাচার করে ও চরম বিলাসিতার কাজে অপব্যয় করে। এই দালাল ধনীক গোষ্ঠী কখনই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন চায় না। এরা সাম্রাজ্যবাদী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্থানীয় এজেন্ট হিসাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ব্যবহার করে। শিল্পায়নের নামে রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক থেকে ঋণ সংগ্রহ করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে না। ঋণের টাকা আত্মসাৎ করে। সাম্রাজ্যবাদী লগ্নী পুঁজির অধীনে ব্যবসায়িক পুঁজি দেশের প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না। ফলে সমাজে দেখা দেয় বেকারত্ব, ঘুষ, দুর্নীতি, অপরাধ প্রবণতা, কালোবাজারী, দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতি, গণতন্ত্রহীনতা, স্বৈরাচারী মানসিকতা, সা¤প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা প্রভৃতি। সাম্রাজ্যবাদ তার লগ্নী পুঁজি রক্ষা করার জন্য দালাল-ধনীক শ্রেণীকে রাষ্ট্র ক্ষমতার পাহারাদার হিসাবে সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে। আর এদেরকে সহযোগিতা করে সামরিক এবং বেসামরিক আমলা। এই চক্রগুলির হাতেই সকল ক্ষমতা। তারাই প্রণয়ন করে দেশের আইন। নিয়ন্ত্রণ করে দেশের সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এরা তাদের স্বার্থকে বিবেচনায় রেখে প্রণয়ন করে শিক্ষানীতি। শোষণ-লুণ্ঠনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা কখনই গণতান্ত্রিক শিক্ষানীতিকে গ্রহণ করতে পারে না। রাষ্ট্র ব্যবস্থার চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে। শিক্ষা ব্যবস্থা রাষ্ট্রের উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা ও উৎপাদন সম্পর্কের পরিপূর্ণ উচ্ছেদ ছাড়া গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সে কারণে সংগ্রাম করতে হবে একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা অর্থাৎ জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং ছাত্র সমাজ জনগণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অপরিহার্যভাবে প্রয়োজন জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। তাই নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছাত্র সমাজের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করার ক্ষেত্রে একাকার হয়ে আছে। আমাদের দেশ আজ দুই শিবিরে বিভক্ত। একদিকে রয়েছে কোটি কোটি মানুষ, যারা অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিক্ষার অধিকারহীন। অপরদিকে রয়েছে কিছু হাতে গোনা ধনী লোক যারা ভোগ বিলাসে ডুবে রয়েছে। ব্যাংকের মালিক, বড় বড় ব্যবসার মালিক, বড় বড় শিল্পের মালিক, গ্রামাঞ্চলের জোতদার ও মহাজন, এদের অনেকেই বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের সাথে স¤পৃক্ত। এরাই হচ্ছে উপরতলার শোষক শ্রেণী। অন্যদিকে শোষিত জনতার মধ্যে রয়েছে শিল্প শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, বিভিন্ন স্তরের কৃষক, গ্রাম-শহর নানা ধরণের শ্রমজীবি মানুষ, মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবি। দেশকে বাঁচাতে হলে সমগ্র শোষিত শ্রেণীগুলিকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে উপর তলার শোষকের বিরুদ্ধে। সামাজ্যবাদের সহযোগী ধনীক শ্রেণী রাষ্ট্র ক্ষমতা করায়াত্ব করে আছে। দেশের কোটি কোটি মানুষের উন্নতি করতে হলে বিদ্যমান উৎপাদন সম্পর্কে পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য এই ধনীক শ্রেণীকে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। শোষক বুর্জোয়া শ্রেণীর স্বার্থে গঠিত এই রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। মেহনতী মানুষের স্বার্থে নতুন ধরণের বিপ্লবী রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। কেবল মাত্র এই নতুন রাষ্ট্রই জনগণের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং শিক্ষার মত মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। দেশের দারিদ্র দূর করা, বেকারত্বকে অপসারিত করা, শিল্প ও কৃষির উন্নতি সাধন, জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করার প্রয়োজনে বিপ্লব আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিপ্লব ছাড়া আমাদের মুক্তি নেই। এই বিপ্লব হবে সব কয়টি শোষিত ও নির্যাতিত শ্রেণীর মিলিত বিপ্লব। তার নেতৃত্বে থাকবে এ যুগের সবচেয়ে অগ্রসরমান শ্রেণী শ্রমিক শ্রেণী। ছাত্র সমাজকেও সমাজের সচেতন ও সংবেদনশীল অংশ হিসাবে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে এই বিপ্লবে অংশ গ্রহণ করতে হবে। ‘বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী’ সেই লক্ষ্যে ছাত্র সমাজকে শিক্ষিত, উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করবে। গণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি Ñজনগণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির বিকাশের প্রয়োজনে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করবে। সকল ধরণের প্রতিক্রিয়াশীল, পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণা এবং মূল্যবোধকে ধ্বংস করবে। বৈজ্ঞানিক চিন্তার বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। বর্তমানে উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ এক নতুন চরিত্র সম্পন্ন হবে। কৃষি এবং শিল্পের বিকাশ সাধনে সহায়ক হবে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা। সৃজনশীল গবেষণার মাধ্যমে বাস্তবক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়াবার জন্য বই, গবেষণাগার, কারখানা, কৃষিক্ষেত্রে একই সাথে যুক্ত হবে এবং এভাবেই এ ব্যবস্থার ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে সুষম সমন্বয়ের দ্বারা সকল বেকারত্বের অভিশাপ থেকে জাতি মুক্ত হবে। শ্রম শক্তির ঘটবে না কোন অপচয়। শিক্ষা হবে ধর্ম নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী সম্পন্ন। সাম্রাজ্যবাদী, লুণ্ঠনকারী দেশীয় শাসকগোষ্ঠীর রাহুমুক্ত হবে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। সমাজের বিকাশ ও পরিবর্তন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার প্রসার, দেশ-প্রেম, শ্রম ও সৃজনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হবে জাগ্রত। হতাশা, নির্জীবতা, অপরাধ প্রবণতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা সমাজের এই সব নেতিবাচক উপসর্গকে স্বমূলে উৎপাটিত করে জনগণের প্রতি সেবা, কর্ম, মমত্ববোধ ও সৃজনশীলতায় উদ্দীপ্ত জীবনবাদী শিক্ষার প্রসার ঘটবে এবং ব্যক্তি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার শিক্ষাকে নস্যাৎ করবে। এই ভাবে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা একদিকে যেমন নিশ্চিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29130585 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29130585 2010-04-07 14:55:54
"এসটিডি এবং এইচআইভি / এইডস" শীষêক ওরিয়েন্টেশন শ্রীমঙ্গল দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজে "এসটিডি এবং এইচআইভি / এইডস" শীষêক ওরিয়েন্টেশনঃ
শ্রীমঙ্গল দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজে আরডিআরএস-এর উদ্যোগে সামাজিক স্বাস্থ্য কমêসূচীর আওতায় ”এসটিডি এবং এইচআইভি / এইডস” শীষêক এক ওরিয়েন্টেশন কোসê অনুষ্ঠিত হয়। ২০ মাচê শনিবার বেলা ১১ টায় শ্রীমঙ্গল দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজের হল রুমে আয়োজিত ওরিয়েন্টেনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সুচিত্রা ধর। উদ্বোধন করেন এসটিডি এবং এইচআইভি / এইডস বিষয়ক কনসালটেন্ট ডা· শফিউল আলম। বত্ত্নব্য রাখেন এসটিডি এবং এইচআইভি / এইডস বিষয়ক প্রোগ্রাম ইনচাজê মিজানুর রহমান, রিপোটêাসê ইউনিয়নের সভাপতি বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান, মানবাধিকার কমীê সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক রজত শুভ্র চত্র্নবতêী, প্রভাষক চৈতন্য প্রসাদ রায় ও একাদশ মানবিক বিভাগের ছাত্রী রূপা রানী দাস প্রমূখ।
এসটিডি এবং এইচআইভি / এইডস” শীষêক এক ওরিয়েন্টেশনে বত্ত্নারা বলেন, বাংলাদেশে এইডস আত্র্নান্তের সংখ্যা ত্র্নমশ বাড়ছে। একই সিরিঞ্জের বহু ব্যবহার ও অরক্ষিত সংসগেêর কারণে দেশে এইডস ঝুঁকি ত্র্নমে বেড়েই চলেছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও যাতায়াত বৃদ্ধির কারণে দেশে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে।
গত বিশ বছরে মাদকাসত্ত্নদের মধ্যেই এইচআইভি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। এছাড়াও বিদেশ থেকে আসা শ্রমিক, সীমান্ত এলাকার ক্ষেত্রে এই হার আশংকাজনক পযাêয়ে রয়েছে। ঝুঁকিবহুল ক্ষেত্রগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও পযêবেক্ষণে আনা না হলে অবস্থা আরো মারাত্মক হতে পারে।
এইডসের ভয়াবহ দিকটি উপলদ্ধি করতে পেরে এদেশে সরকারি ও বেসরকারি পযাêয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকি্ৗ২৫১০;সা সেবারও অনেক উন্নতি হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিকেও ইতিবাচক বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশে প্রথম এইডস রোগী শনাত্ত্ন হয় ১৯৮৯ সালে। পরবতীê সময় থেকেই সরকারি ও বেসরকারি পযêায়ে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় এইচআইভির বিস্তার তেমন ঘটেনি বলে বত্ত্নারা অভিমত ব্যত্ত্ন করেন।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29120491 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29120491 2010-03-21 01:10:24
কাইলিন পানপুঞ্জিতে শত শত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে কাইলিন পানপুঞ্জিতে শত শত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছেঃ
শ্রীমঙ্গলে নাহার চা বাগান সংলগ্ন কাইলিনপুঞ্জিতে পানের জন্য সংরক্ষিত দুটি পরিবেষ্টনীর ৪ হাজার গাছ কেটে ফেলার হাইকার্টের অনুমতি পেয়ে গত শনিবার থেকে গাছ কাটা শুরু করেছে মহালদার সেলিম উদ্দিন। এতে ৪০টি খাসিয়া পানচাষী পরিবার উচ্ছেদ আতংকে দিনাতিপাত করছেন।

পানচাষী দিবারমিন পাতান বলেন, খাসিয়াদের প্রধান অবলম্বন পান। বাগান কর্তৃপক্ষ পুঞ্জির পানবরজসংলগ্ন বড় গাছগুলো অবাধে কেটে চলেছে। ফলে এর ডালপালা অন্য পানবরজগুলোর ক্ষতি করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পানচাষিরা। রবিন ঙেকার বলেন, আমাদের ঝুম এলাকায় যা গাছ কাটা হচ্ছে, আমাদের পান বাগান সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্রেনলি সুমং বলেন, গাছ কাটার ফলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন কী করবো? ভবিষ্যতে আমাদের কিছু থাকবে না।

নাহারপুঞ্জির অধিবাসী মার্গারেট সুচিয়াং বলেন, 'ছয়টা গ্রুপে ভাগ হয়ে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। আমাদের প্রধান আয়ের উৎস পানের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নাহারপুঞ্জির কিন তংপেয়ার বলেন, গাছগুলো আমাদের সন্তানের মতো। গাছগুলো ঘিরেই আমাদের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। এগুলো কেটে ফেললে পুঞ্জির আদিবাসীরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? গাছকাটার দায়িত্বপ্রাপ্ত মহালদার সেলিম উদ্দিন বলেন, ২০০৮ সালের ৩০ জুন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে নাহার চা বাগান চার হাজার গাছ কাটার অনুমতি পায়। পরে আদিবাসীসহ পরিবেশবাদীরা সংশি−ষ্ট মহলে আবেদন করলে গাছ কাটা স্থগিত রাখা হয়। এ বিষয়ে শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট আমাকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি গাছ কাটার পক্ষে আদেশ দেন। এর বলে বর্তমানে গাছ কাটা হচ্ছে। নাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেন, আমরা হাইকোর্টসহ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়ে গাছ কাটা আরম্ভ করেছি। যে গাছ কাটা হচ্ছে, সবই পূর্ণবয়স্ক। প্রতিটি কাটা গাছের পরিবর্তে একাধিক চারা লাগানো হবে। স্থানীয় বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে নাহার চা বাগানের পূর্ণবয়স্ক গাছ কর্তনের বিষয়ে বন বিভাগ অনাপত্তি দিয়েছিল। পরে খাসিয়া ও পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল এলাকা পরিদর্শন করে যেসব গাছ মার্ক করেন সেগুলোই কাটা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০০৮ সালে সেখানে ১২০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। ২০০৮ সালের ৩০ জুন রহস্যজনকভাবে সরকারের পরিবেশ ও বন বিভাগ মৌলভীবাজারের এই নাহার চা বাগানকে ৪ হাজার গাছ কেটে ফেলার জন্য একটি পারমিট দিয়েছিল। এজন্য তাদের বলা হয়েছিল সরকারি কোষাগারে ৪৭.৫১ লাখ টাকা জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু এর আগেই কোনো সরকারি অনুমতির জন্য আবেদন না করে এবং তার জন্য অপেক্ষা না করে ২০০৬ সালের অক্টোবরে নাহার চা বাগান সেলিম টিম্বার অ্যান্ড ট্রেডার্সের সঙ্গে ৪ হাজার গাছ বিক্রির একটি চুক্তি করে। এটি ছিল দেড় কোটি টাকার চুক্তি। এর বিরুদ্ধে খাসিয়া সম্প্রদায় ও পরিবেশবাদীরা প্রতিবাদ করায় বন মন্ত্রণালয় ২০০৮ সালের অক্টোবরে এই পারমিট স্থগিত করে। কিন্তু তার আগেই ঠিকাদাররা ১২০০ গাছ কেটে সেগুলো হাতির পিঠে করে সরিয়ে নিয়ে যায়। এভাবে ইতিপূর্বে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এর কোনো উলে−খ আদালতের ২২ ফেব্রুয়ারির নির্দেশের মধ্যে নেই।

পূর্বের স্থগিত আদেশ সত্ত্বেও সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন গত ২ ফেব্রুয়ারি চা বাগান মালিককে ২ হাজার ৩৫০টি গাছ কাটার জন্য একটি নতুন পারমিট ইস্যু করেন। এই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন যাতে খাসিয়াপুঞ্জির ৪৫০টি গাছ না কাটা হয়। কাঠ ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন মহালদার ও নাহার চা বাগানের ম্যানেজার এরপর একটি রিট পিটিশন করায় ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, যাতে তারা পূর্ববর্তী অনুমতি অনুযায়ী গাছ কাটতে পারে।

সিলেট বিভাগীয় বন বিভাগের পারমিটে বাগান মালিককে বলা হয় বনজসম্পদের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ১.১৯ কোটি টাকা রয়্যালটি বাবদ জমা দিতে। এখানে উল্লেখ করা দরকার, ২২ ফেব্রুয়ারির হাইকোর্ট রুলিংয়ে সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারিসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে এই বর্ধিত মূল্য দাবি এবং ৪৫০টি গাছকে ছাড় দেওয়ার কারণ দেখাতে বলা হয়। হাইকোর্টের এই নির্দেশের ঠিক পরই কাঠ ব্যবসায়ী ওইদিনই দুপুরের দিকে কয়েকশ' মাস্তান সঙ্গে নিয়ে গিয়ে গাছ কাটতে শুরু করে বলে স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা ফাদার জোসেফ উলে−খ করেন।

অনেকে বলছেন, পেছনে আদালতের জোর থাকায় প্রতিবাদ করে গাছ কাটা বন্ধের কোনো উপায় নেই। পানচাষীদের অভিযোগে জানা যায়, যে গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা হচ্ছে এ গুলোর মধ্যে আছে চাম, গজারী, গর্জন, জাম, কড়ই, রঙ্গী, শিমুল, খাসি ইত্যাদি। সব গাছই বড় ও মূল্যবান। এছাড়া এভাবে যে গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে সেগুলো অন্যদিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোতে খাসিয়ারা পানচাষ করে, যা হলো তাদের প্রধান জীবিকা। এ গাছগুলোকে জড়িয়ে ধরেই পান গাছের লতা ওপর দিকে ওঠে। এগুলো কেটে ফেললে খাসিয়াদের জীবিকার মূল অবলম্বনই ধ্বংস করা হয়। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাসকারী খাসিয়াদের উচ্ছেদের ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।

নাহার চা কোম্পানিকে ৮৬৪ একর জমি লিজ দেওয়া হলেও তারা মোট ১২০০ একর জমির ওপর দখল রেখেছে। এর মধ্যে খাসিয়াদের জমি হলো ২০০ একর। কিন্তু জমি খাসিয়াদের হলেও এই বাগানের মালিকরা ১৯৮৪ সাল হতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বেআইনিভাবে দুই কোটি টাকা ভূমিকর আদায় করেছে।

পরিবেশবাদীরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যাতে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল আবেদন করেন। তারা এ প্রসঙ্গে আরও দাবি করেন, যাতে অবাধে এভাবে গাছ কাটা এবং জমি দখল বন্ধ করা হয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29119457 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29119457 2010-03-19 10:58:22
ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক কে জি মুস্তাফা আর নেই ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক কে জি মুস্তাফা আর নেইঃ
ভাষাসৈনিক, বর্ষিয়ান সাংবাদিক কে জি মুস্তাফা আর নেই। শনিবার ভোরে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রয়াতের স্বজনরা জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৬ বছর।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি কে জি মুস্তাফাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন।
কে জি মুস্তাফার ছেলে সাবির মুস্তাফা বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। রোববার তিনি দেশে না ফেরা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ হাসপাতালেই থাকবে বলে জানা গেছে ।
তথ্যসূত্রঃ dhakanews24.com
ঢাকা নিউজ 24 ডট কম/আরআইপি

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29115651 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29115651 2010-03-13 19:27:57
কেজি মুস্তাফা আর নেই সাংবাদিক কেজি মুস্তাফা আর নেইঃ
প্রখ্যাত বামপন্থী নেতা বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কেজি মুস্তাফা আজ ভোরে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29115336 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29115336 2010-03-13 08:13:37
কৃষকনেতা সাইফুল্লাহ লস্কর হত্যার বিচার হবেই : রাশেদ খান মেনন কৃষকনেতা সাইফুল্লাহ লস্কর হত্যার বিচার হবেই : রাশেদ খান মেনন
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান এমপি বলেছেন, কৃষকনেতা সাইফুল্লাহকে পুলিশ ও ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারি ভূমিদস্যুদের প্রশাসন প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি টিএসআই নজরুল এবং এএসপি (সার্কেল) শামছুল আলমকে গ্রেফতার করে জয়েন্ট ইন্ট্রারোগ্রশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়ে বলেন, লস্কর হত্যার বিচার বাস্তবায়ন হবেই।

তিনি গত ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাইফুল্লাহ লস্কর হত্যার বিচার বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, সাতক্ষীরার মতো সারাদেশের ভূমিহীনরা সরকারি খাস জমি পাচ্ছে না। ভূমিহীনদের মধ্যে খাস জমি বিতরণ করে তাদের আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, লস্কর হত্যাকান্ড এবং ভূমিহীনদের সমস্যা জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

সাইফুল্লাহ লস্কর হত্যার বিচার বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক এড. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এড. এনামুল হক, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, খুলনার সিপিবি নেতা এড. ফিরোজ আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু, জেলা জেএসপির সভাপতি কুদরত-ই-খোদা, পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ, জেলা বাসদের সমন্বয়ক এড. আজাদ হোসেন বেলাল, জেলা ন্যাপের সেক্রেটারী কাজী সাঈদ, জেলা সিপিবির সেক্রেটারি আবুল হোসেন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুস সুলতান বাবলু, জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের সরদার, সাধারণ সম্পাদক আলী নূর খান বাবুল, জেলা ভূমিহীন উন্নয়ন সমিতির সেক্রেটারী আব্দুস সামাদ, ভূমিহীন নেতা আব্দুল ওহাব সরদার, প্রাণবল্লভ, আশরাফ মীর, মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

এ সময় নিহত কৃষক নেতা সাইফুল্লাহ লস্করের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন, সাইফুল্লাহ লস্কর হত্যার বিচার বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। সমাবেশ থেকে আগামী ১২ এপ্রিল জেলা কালেক্টরেট চত্ত্বরে অবস্থান ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা নিউজ 24ডট কম/প্রতিনিধি/বিজিকে.

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29115216 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29115216 2010-03-13 00:41:33
মেহনতী মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : রাশেদ খান মেনন শহীদ সানি মঞ্চে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, 'ছাত্র নেতাদের সম্মিলিত চেষ্টায় অতীতের সোনালি সময় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।'
ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রমৈত্রীর সাবেক নেতা ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায়, সহসভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, সহসভাপতি কায়সার আলম, মতিউর রহমান মতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তানভীর রুসমত প্রমুখ।
জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে বেলা ১২টায় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি রাজু স্মারক ভাস্কর্যের পাদদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১১ মার্চ ছাত্রমৈত্রীর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29113711 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29113711 2010-03-10 16:07:13
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও নারী অধিকার প্রসঙ্গে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে নারী দিবস। ৮ই মার্চ দিনব্যাপী বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নারী সংগঠনগুলো বর্ণাঢ্য র‌্যালী, সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করবে। সম অধিকার ও মর্যাদার প্রত্রিষ্ঠার প্রশ্নে রেওয়াজে পরিণত হওয়া অনুষ্ঠানের মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে প্রত্যাশা এমনটই । দিবসটির তাৎপর্য এথনো কার্যকর।
১৮৫৭ সালের ৮ই মার্চ আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের একটি সূঁচ কারখানায় নারী শ্রমিকগণ বেতনবৃদ্ধি, কাজের সময় কমানোর দাবিতে আন্দোলন করার সময়ে পুলিশী বর্বরতার শিকার হয় তারা। পরবর্তীতে নারী শ্রমিকরা অধিকার আদায়ে ১৮৬০ সালের ৮ই মার্চ ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’ গঠনের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যায়। ১৯১০ সালের ৮ই মার্চ কোপেন হেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মান নারী নেত্রী কমরেড কারা সেৎকিন দিনটিকে আন্তর্র্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে নারী দিবস পালিত হয়ে আসছে। ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। একই কারণে আমাদের দেশেও দিবসটি উদযাপিত হয় অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। প্রকৃতভাবে নারী মুক্তি, নারীর সম অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নারী উন্নয়নে যতটুকু অর্জন, এই দিবসটি প্রতি বছর পালনের মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে বলে মনে হয়। বিগত শতকের গোড়ার দিকে নারী শিা ও জাগরণের আলো জ্বেলেছিলেন বেগম রোকেয়া। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্কুল। সেই থেকে নারী সমাজ ক্রমাগত শিায় শিতি হয়ে দেশ জাতি ও জাগরনের জন্য রাখছে ভূমিকা। নারী আন্দোলনকে আজ পর্যন্ত বেগমান করে তুলছে তারা। এ দেশে নারী উন্নয়নে সরকার ও বিরোধী দলের পাশাপাশি কাজ করছে অসংখ্য এনজিও। তবুও বাংলাদেশের নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছনে। এখনো এ দেশের নারীদের উপর এসিড নিেেপর মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে। নারীরা যৌতুকের শিকার, কর্মজীবি-শ্রমজীবি নারীদের উপর মানসিক নির্যাতন, বেতন বৈষম্যসহ হাজারো সমস্যা একজন নারীকে এখনো ভয় ও আতংকগ্রস্ত করে।
বর্তমান মহাজোট সরকার নারী উন্নয়নে পদপে গ্রহণ করে করলেও প্রকৃতপে নারীরা রয়ে গেছে পর্দার অন্তরালে। আমাদের দেশের সংবিধানে নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও নারীরা শোষণ-বঞ্চনা,অবহেলা-অনুন্নয়নের শিকার। সংবিধানের ২৭নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সম আশ্রয় লাভের অধিকারী। সংবিধানের ২৮নং অনুচ্ছেদে আছে, রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। সংবিধানের ২৯নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের েেত্র নাগরিকের জন্য সমতা থাকবে। কিন্তু সংবিধানের উল্লেখিত উক্তিটিকে উপো করেই যেন নারীদের অবদমিতভাবে সমাজে জায়গা করে দেয়া হচ্ছে। যেন অনেকটা সুযোগ আর কি। সামাজিক, র্অথনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনগত েেত্র বৈষম্য ও শোষণের শিকার হয়েই দেশের নারীরা সমাজে জায়গা করে নিচ্ছে। অথচ সকল পুরুষেরা নারীদের সমস্যা নিয়ে আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করার সময় এখনই। প্রায় এক শত তিপ্পান্ন বছর আগে নিউইয়র্ক শহরে নারীরা কাজের পরিবেশ ও বেতন বৈষ্যম্য নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিল। অথচ আমাদের দেশের গার্মেন্টস শিল্পে নারী শ্রমিকদের উপর শোষণের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। এখনো এদেশে কর্মেেত্র নারীদের বেতন বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলের কাজ-কর্মে নিয়োজিত পুরুষের তুলনায় কম।
নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে পণ্য হিসাবে। বিভিন্ন অঙ্গনে নারীদেও ব্যবহার করে মুৎসুদ্দী পুঁজিপতিরা কোটি কোটি টাকা আয় করছে। পত্রিকার পাতা খুললেই আজও চোখে পড়ে গ্রাম ও শহরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণ, অমর্যাদাকর হিল্লা বিবাহ, বাল্য বিবাহ, স্ত্রী নির্যাতন, তালাক প্রভৃতির মাধ্যমে নারী নির্যাতনের অগনিত চিত্র। নারী সমাজের একটি কাহিনী ধরে টান দিলে মহাপুরাণ আর মহাকাব্য হয়ে যায়। পুরুষতান্ত্রিক বর্তমান আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার শিকার যে অগনিত নারী তার উজ্জল দৃষ্টান্ত পঁচাগলা এ সমাজের ধর্ষিতা ফাহিমা, ইন্দ্রানি, ইয়াসমীন সীমা, নূরজাহান, শবমেহের, স্বপ্নাহার, মহিমা, মিমিরা।
কিছু কিছু সরকারী উদ্যোগে নারীর উন্নয়ন প্রশংসার দাবি রাখে সত্য। যেমন একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বিধবা ভাতা ইত্যাদি বিগত সরকারগুলোর আমলেও এমন কিছু কর্মসূচি ছিল। যেমন কর্মসংস্থান, পারিবারিক আদালত গঠন, যৌতুক প্রথা বিরোধী আইন, সংসদে-স্থানীয় সরকারে ও প্রশাসনের বিভিন্নপদে নারী প্রতিনিধি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধি নির্বাচন এ দেশের নারী অধিকার ও নারী উন্নয়নে প্রশংসার দাবী রাখে। তবে এসব প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে যথাযোগ্য কাজের সুযোগ দানের সুব্যবস্থা না করে নারী প্রতিনিধিদের পুতুল বানিয়ে রাখার ব্যাপার যাতে না হয়।
এদেশের শিতি নারীদর নীতি নির্ধারণী ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বে আসীন করে তাদের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হবে। সম আন্তরিকতায় নারী উন্নয়নে ভূমিকা রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে। শিতি নারীদের অনেকেই সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত। তাদেরকেও নিগৃহীত নারীদের প নিতে হবে। কেরানি, অফিসার, উকিল, ডাক্তার, নার্স, প্রকৌশলী, অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, কলামিষ্ট ও সাংবাদিকতা পেশায় যে সকল নারীরা জড়িত তাদের এগিয়ে আসতে হবে পুরুষতন্ত্র ও অনিয়ম-দুর্নীতি-শোষণ-বঞ্চনা-অনুন্নয়নের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশের তৈরি পোষাক শিল্প মূলত এদেশের নারী শ্রমিকদের উপর ভিত্তি করেই গঠিত। এদেশের পুঁজিতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতিতে নারীরা এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এক হিসাবে দেখা যায়, নারী শ্রমশক্তির ৮৩ শতাংশ হচ্ছে অবৈতনিক গৃহস্থালী শ্রমিক, ১০ শতাংশ আত্ম কর্মসংস্থান, ৪ শতাংশ বেতনভোগী শ্রমিক এবং ৪ শতাংশ দিনমজুর। শহরাঞ্চলে ম্যানুফ্যাকচারিং কৃষি উৎপাদক খাতে বেশিরভাগ নারীরা কর্মরত। মাত্র ১.৭ শতাংশ নারী কারিগরি ও পেশাদারি খাতে নিয়োজিত। কর্মেেত্র বা অন্যত্র নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি আজ সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে।
সরকারী সুযোগ সুবিধা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিণের বিষয়েও নারীদের দাবী বাড়ছে। ধীরে ধীরে শিা গ্রহণের ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশায় নারীদের মধ্যে বিপুল সাড়া জেগেছে। গ্রামাঞ্চলেও নারী শিার মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার আগ্রহ বেড়েছে। তাই নারী দিবসের ভাবনা হচ্ছে, সমন্বিত উদ্যোগে নারী পুরুষের সম মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কার্যকর সংগ্রাম জোরদার করা। নারীর সামাজিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতায়ন নিশ্চিত করে নারী মুক্তির মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করাই হচ্ছে নারী দিবস পালনের মূল তাৎপর্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29112507 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29112507 2010-03-08 16:54:37
কমিউনিস্ট ঐক্যের আহবান কমিউনিস্ট ঐক্যের আহবানঃ
ঢাকা নিউজ 24 ডট কম, ঢাকা( ৬ মার্চ ২০১০)
কমিউনিস্টদের ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে পালিত হল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ৬২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আজ ৬ মার্চ কমিউনিস্ট পার্টির ৬২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিউট মিলনায়তে 'প্রকৃতি ও মানব মুক্তির সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হোন' স্লোগানে কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের মিলন মেলায় বক্তারা কমিউনিস্টদের ঐক্যের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মিলনমেলা শুরু হয় আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। গান, আবৃত্তি, আর স্মৃতিচারণের ফাকে বর্তমান রাজনীতির করনীয় আর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বক্তারা। সিপিবির সভাপতি মনজুরুল আহসান খানের সভাপতিত্বে শুরুতে বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড হায়দার আকবর খান রনো। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিচারপতি গোলাম রাব্বানী, ড. আশরাফুজ্জামান সেলিম, ড. শামসুল আরেফিন, মতলুব আলী, জয়নুল আবেদিন, কমান্ডার আব্দুর রউফ, পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আওয়ামীলীগ নেতা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস, বাসদের আহবায়ক খালেকুজ্জামান, আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ, আজিজুল ইসলাম খান, আমেনা আহমেদ, রীনা ফরহাদ মালেকা বানু, মাহবুব জামান প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলিপ বড়ুয়া।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, অতীতের উপর দাড়িয়ে আমাদের বর্তমান রাজনীতিকে বিচার করতে হবে। নতুন শক্তিতে উজ্জিবিত হয়ে কেবল কমিউনিস্টদের আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ক্ষেত্র তৈরী করতে হবে। আর এজন্য কমিউনিস্টদের ঐক্যের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আমার দেখি সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু জনগণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যে সাম্প্রদায়িকতা, রাজনৈতিক দূবৃত্তায়ন সমাজের মধ্যে বিরাজমান তা মুক্তি পেতে হলে কমিউনিস্টদের দায়িত্ব নিতে হবে সংগ্রামের।
বিচারপতি গোলাম রাব্বানী বলেন, আমার চাই সংসদে দুইটি দল থাকবে যারা অসামপ্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু আমাদের সংসদে যারা আছে তারা রাজনৈতিক দূবৃত্তায়ন সৃষ্টি করছে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশের যে ইতিহাস রচিত হয়েছে তার পেছনে কমিউনিস্ট পার্টির অবদান সবচেয়ে বেশী। যদিও কমিউনিস্টরা কখনো ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তবে তাদের অবদান আমাদের জাতির জন্য সবচেয়ে বেশী।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস বলেন, বহু ভুল ভ্রান্তির কারনে কমিউনিস্ট পার্টি আলাদা হয়েছে। তবে এখন সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিউনিস্টদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
এদেশের কামিউনিস্ট আন্দোলনে শ্রমজীবী, মেহনতি সকল মানুষের আরো বেশী মাত্রায় যুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, লুটেরা ধনতন্ত্র আর সাম্প্রদায়িকতা দেশের প্রধান শত্রু। এর জন্য দেশ আজ বিপর্যস্ত। দ্বি-দলীয় ধারাই এই শত্রুদের আশ্রয় দাতা। দ্বি-দলীয় এই ধারাকে ভাঙ্গতে হবে মানব মুক্তির জন্যে।
সভায় এই ভুখণ্ডের ৬২ বছরের কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্য উৎসর্গীকৃত হাজারো সংগ্রামী-প্রাণের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
বক্তব্যের ফাকে গান পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, বিপুল ভট্টাচার্য, বুলবুল মহলনাবিশ, কাবিতা আবৃত্তি করেন সালমা ইয়াসমিন।

তথ্যসূত্রঃ ঢাকা নিউজ 24 ডট কম/এআর/আরআইপি.


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29111411 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29111411 2010-03-06 23:53:25
আগামীকাল উদীচী ট্র্যাজেডি দিবস আগামীকাল উদীচী ট্র্যাজেডি দিবসঃ
আগামীকাল শনিবার উদীচী ট্র্যাজেডির ১১তম বর্ষ। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ রাতে যশোর টাউন হল ময়দানে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভয়াবহ দু'টি বোমার বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও শতাধিক নারী পুরুষ আহত হন।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপর এ ধরণের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে যশোরের মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। ১৯৯৯ সালে উদীচী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর এব্যাপারে পৃথক দু'টি মামলা হয়। প্রথমে কোতয়ালি পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে তা সিআইডির উপর ন্যস্ত হয়।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ মামলা আদালতে গড়ানোর ৭ বছর পর ২০০৬ সালের ৩০ মে'র রায়ে সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
এদিকে, দেশের আলোচিত জঙ্গী নেতা মুফতি হান্নান আটক হওয়ার পর পুলিশের কাছে প্রদত্ত জবানবন্দিতে সে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার কথা স্বীকার করে।
এই জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে উদীচী হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়। ইতিমধ্যে মুফতি হান্নানকে যশোরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উদীচী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যশোরে দিবসটি পালনের জন্য উদীচী হত্যা মামলা পুনঃতদন্ত ও বিচার আন্দোলন কমিটি আগামীকাল শনিবার দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29110795 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29110795 2010-03-05 23:32:41
গত বছর ১২ অক্টোবরে প্রথম আলোতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন "বসুন্ধরাকে রক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্র মরিয়া" গত বছর ১২ অক্টোবরে প্রথম আলোতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন "বসুন্ধরাকে রক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্র মরিয়া"ঃ
এনবিআর তথ্য গোপন করে বসুন্ধরার মামলা প্রত্যাহারে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে রহস্যজনক মতামত সংগ্রহ করেছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, রায় ঘোষণার পর আপিল ছাড়া আপস করা বা মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই মিজানুর রহমান খান | তারিখ: ১২-১০-২০০৯
বসুন্ধরা গ্রুপের আয়কর ফঁাকির মামলা নিয়ে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অগ্রাহ্য এবং সব নিয়মনীতি তছনছ করে দিয়ে বসুন্ধরার প্রভাবশালী মালিকদের বঁাচাতে এখন মরিয়া গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র।
সর্বশেষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ১৬ আগস্ট তথ্য গোপন করে বসুন্ধরার মামলা প্রত্যাহারে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে একটি রহস্যজনক মতামত সংগ্রহ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বসুন্ধরার মালিকদের অবৈধ সুযোগ দেওয়া, যাতে তঁারা আপিল না করেও দণ্ড পাওয়া মামলা থেকে সরাসরি বেকসুর খালাস পেতে পারেন। কারণ, আপিল করতে হলে তঁাদের জেলে যেতে হবে। তাই এনবিআর আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে দৃশ্যত এ মর্মে একটি মতামত সংগ্রহ করে যে, আপিল না করেও এনবিআর দণ্ডিত পলাতক ব্যক্তিদের সঙ্গে আপসে যেতে পারে। তঁাদের মামলা তুলে নিতে পারে।
এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ তঁার মন্ত্রণালয়ের মতামত জেনে বিস্মিত হয়েছেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার পর আপিল ছাড়া আপস করা বা মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, Èএ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।'
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যায়, বসুন্ধরার অনুকূলে উচ্চ আদালতের অনুমোদন পেতে ওই বেআইনি মতামত সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এর চার দিন পর (২০ আগস্ট ২০০৯) বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বসুন্ধরার মামলাটি আর না শোনার চূড়ান্ত সদ্ধিান্ত নেন। তঁারা আদেশে উলে্লখ করেন, Èপ্রধান বিচারপতি আমাদের শুনানি ও মামলা নিষ্পত্তি করতে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু উভয় পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে আগ্রহী না হয়ে বরং প্রথম আলোর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পীড়াপীড়ি করেন।'
ফিরে দেখা
বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম, তঁার স্ত্রী ও তঁাদের দুই ছেলে ২০০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আয়কর ফঁাকির মামলায় পলাতক অবস্থায় দণ্ডিত হন। বসুন্ধরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবং অপর দুই কর্মকর্তা ছাড়া অন্য পঁাচ আসামিই একই পরিবারের। এর মধ্যে বসুন্ধরার কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান কারাগারে থেকে রায় ঘোষণার আগেই একটি রিটে খালাস পান। শাহ আলম ও তঁার স্ত্রী পৃথকভাবে দুদকের জ্যেষ্ঠ কঁেৌসুলি আনিসুল হকের মাধ্যমে ২০০৮ সালে দুটি রিট দায়ের করেন। ৭২০৬/২০০৮ নং রিট করেন শাহ আলমের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও তঁার তিন ছেলে। ৭২০৭/২০০৮ নং রিট করেন একা শাহ আলম। আদালতের নথি থেকে দেখা যায়, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আনিসুল হকের দরখাস্ত তাত্ক্ষণিক নাকচ না করে প্রথম দুটি পৃথক রুল জারি করেন। ২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এর শুরু। সেই থেকে ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত শাহ আলম পরিবারকে অসুস্থতা ও মানবিক কারণে এবং অন্যদের অসুস্থ স্বামী ও অসুস্থ বাবার সঙ্গে বিদেশে থাকার কারণ দেখিয়ে নির্দষ্টিভাবে জামিন না দিয়েও গ্রপ্তোর এড়ানোর সুবিধা করে দেওয়া হয়। শাহ আলমের স্বাস্থ্যগত সমস্যার সপক্ষে এর আগে তঁার রিটের নথিতে চিকিত্সা সনদ দেখা যায়নি। এখন তা দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া একজনের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তঁার দণ্ডিত স্ত্রী ও তিন ছেলের বিচার কার্যক্রম থেকে পলাতক থাকার সুবিধা ভোগ করার এক অবিশ্বাস্য নজির সৃষ্টি হয় এই রিট মামলায়।
তবে বিচারিক আদালতের রায়ের ওপর ১০ মাসের স্থগিতাদেশের মেয়াদ ৮ জুলাই ২০০৯ শেষ হলে তা আর বাড়ানো হয়নি। এখন শুধু রুল জারি রয়েছে। তঁারা এখন নম্নি আদালতে গেলে প্রচলিত আইনের কাছে প্রকৃত আত্মসমর্পণ বলে গণ্য হবে। এর আগে তঁারা নম্নি আদালতে গেলেও রায় স্থগিত থাকার কারণে আদালত ফেৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আত্মসমর্পণ গ্রহণ করে তঁাদের কারাগারে পাঠাতে পারেননি। এখন পুলিশ তঁাদের গ্রপ্তোর করতে পারে কি না, জানতে চাইলে আইনজীবীরা বলেন, সাধারণত রুল পেলে সরকারের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় না। তবে এ মামলার শুনানি কবে হতে পারে, তা একেবারেই ধারণা করা যায় না। প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে গত ৮ সেপ্টেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল নিশ্চিত করেছিলেন যে এ মামলাটি আউট অব লিস্ট হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখন তঁার দপ্তরের ভূমিকা কী হবে, জানতে চাইলে তিনি তাত্ক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেননি।
জালিয়াতি!
এনবিআর বসুন্ধরার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থায় দায়ের করা মামলাটি ২০০৯ সালে এসেও Èসঠিক ও আইনসংগত' হিসেবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্বীকার করেছে। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের বেঞ্চে দায়ের করা হলফনামায় কথাটি এসেছে এভাবে: È২০০৪-০৫ করবর্ষের আয় সম্পর্কে রিট আবেদনকারী (শাহ আলম) ভুয়া বিবৃতি দিয়ে আয়কর আইনে অপরাধ করেছেন এবং সেই অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এনবিআর তঁার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।' এজাহার থেকে দেখা যায়, বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেড একই করবর্ষের আয় সম্পর্কে Èদুই ধরনের নিরীক্ষিত হিসাব' তৈরি করেছিল। ওই প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক থেকে ৩৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়। তারা ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রায় ছয় কোটি টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রায় আট কোটি ও ২০০৬-০৭ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা আয় প্রদর্শন করে। সোনালী ব্যাংকের কাছে দেওয়া ওই একই সময়ের নিরীক্ষিত হিসাবে তারা ওই তথ্য প্রকাশ করে। কিন্তু রাজস্ব বিভাগের কাছে দেওয়া নিরীক্ষিত হিসাবে দেখানো হয়, ওই করবর্ষগুলোতে শূন্য টাকা আয় হয়েছে।
বসুন্ধরা নিয়োজিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট যে দুই ধরনের হিসাব তৈরি করেছিল, সে বিষয়টি বসুন্ধরা অস্বীকার করেনি। এ মামলার অন্যতম আসামি মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ থেকে তিনি নিজে একজন Èবেতনভুক কর্মচারী মাত্র' উলে্লখ করে রেহাই পান। আর বসুন্ধরার মালিক শাহ আলমের যুক্তি হলো, তিনি সরল বিশ্বাসে চার্টার্ড ফার্মের অনুমোদিত কাগজপত্রে সই করেছেন মাত্র। সুতরাং যে অভিযোগে বিশেষ আদালত প্রত্যেককে ১০ বছর করে জেল দিয়েছিলেন, তা এখন পর্যন্ত বানোয়াট বলে নাকচ করা হয়নি, বরং আওয়ামী লীগ সরকারও তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে কঁাধে তুলে নিয়েছে।
উলে্লখ্য, হাইকোর্ট বিভাগের ওই দ্বৈত বেঞ্চ শুধু গ্রপ্তোর এড়ানোর সুবিধাই দেয়নি, আইন ও সব নিয়মনীতি ভেঙে বসুন্ধরার মালিকদের দেওয়া শাসি্ত শুধু নয়, তাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়াকেও স্থগিত করে দিয়েছে। ওই বেঞ্চের অন্তর্বর্তী আদেশের চোখে বসুন্ধরা ছিল নির্দোষ।
আপস করে রায় প্রত্যাহারের আবেদন
২০০৯ সালের জুনে বসুন্ধরার মালিক শাহ আলম হঠাত্ করেই বিচারিক আদালতের রায় Èমীমাংসাপূর্বক প্রত্যাহারের' আবেদন করেন এবং এর পর পরই ২২ জুন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্ট বিভাগে আচমকা রুলের শুনানি করতে উদ্যোগী হন।
প্রচলিত ব্যবস্থায় অনেক সময় রুল হলো কঁাঠালের আঠা, লাগলে আর ছাড়ে না। বসুন্ধরার মামলাসংশি্লষ্ট এই রুলটি আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে হলেও এটি এখনো আঠার মতো লেগে আছে। দেখা যায়, আইনের একই নীতি আপিল বিভাগে একাধিকবার মীমাংসিত হলেও তার কোনো প্রভাব বিদ্যমান রুল বা বিচারাধীন মামলার ওপর সহজে পড়ে না। প্রত্যেকটি আবেদন বা মামলা আলাদাভাবে সুরাহার সুযোগ থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এর অপব্যবহার ঘটছে। তবে যঁারা এসব সুবিধা পান, তঁারা আমজনতা নন।
পালনের অযোগ্য আদেশ জারি
হাইকোর্ট বিভাগ সব সময় আদেশ দিয়ে আসছিলেন যে শাহ আলমকে নম্নি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ জন্য দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়। তবে আগাগোড়া এ ধরনের আদেশদাতা দ্বৈত বেঞ্চের নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা হোসেইন হায়দার। কিন্তু পালনের অযোগ্য আদেশ জারির পর তা অমান্য হওয়ার তথ্য জেনেও তিনি আবারও একই ধরনের আদেশ জারি করতে থাকেন।
অথচ তঁার আদেশ দেখে মনে হবে, বসুন্ধরার দণ্ডিত মালিকেরা যাতে নম্নি আদালতে Èআত্মসমর্পণ' করেন, এটাই ছিল তঁার একান্ত লক্ষ্য। আর এ জন্য দেশের অধস্তন ও হাইকোর্ট বিভাগের জন্য সংবিধান ও আপিল বিভাগের রায়সম্মত একমাত্র নির্দেশক হচ্ছে ১৮৯৮ সালের সিআরপিসির ৪২৬ ধারা। এই ধারার সার কথা হলো, দণ্ডিত পলাতক ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করতে হলে আপিল করতে হবে। তবে কারও দণ্ড এক বছরের বেশি না হলে ভিন্ন কথা। এমন হলে আপিল ছাড়া নম্নি আদালতের কাছে জামিন আশা করা চলে। আর বিচারিক আদালতও তঁাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সরাসরি জামিন দিতে পারেন। তবে তাও অবিলম্বে আপিল দায়েরের শর্তে।
বসুন্ধরার মামলায় বিচারিক কারসাজি কত প্রকার ও কী কী তার নমুনা নিচে দেওয়া হলো।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ আফরোজা বেগম ও তঁার তিন ছেলের ৭২০৬/২০০৮ নং রিট আবেদন এবং শাহ আলমের ৭২০৭/২০০৮ নং একক রিট আবেদনের দুটি আদেশ বিশে্লষণ করলে দেখা যায়, একটি মাত্র বাক্যের হেরফের। শাহ আলমসহ পরিবারের পঁাচজন দণ্ডিতের প্রত্যেককে Èমানবিক' কারণে ২১ মার্চ ২০০৯ পর্যন্ত সংশি্লষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। হেরফের হলো, শাহ আলমকে আমেরিকার হাসপাতালে দ্বিতীয় বাইপাস সার্জারি ও পরিবারের অন্য চারজনকে সেখানে তঁাকে দেখভালের জন্য ওই সময় মঞ্জুর করা হয়। তবে দুটি আদেশে আত্মসমর্পণ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত কথা ছিল। সেটি হচ্ছে, È২০০৯ সালের ২১ মার্চের মধ্যে প্রত্যেক আসামি সংশি্লষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে দণ্ড ও রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ আপনাআপনি বাতিল হবে।' আদালতের ওই আদেশের দুটো দিক ছিল। একটি রুল ও অন্যটি স্থগিতাদেশ। স্থগিতাদেশ নিয়ে ২৬ জানুয়ারি প্রথম এ ধরনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, Èপ্রতীয়মান হচ্ছে, এ পর্যন্ত তঁারা কোনো আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। সেই মতে সংশি্লষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য এই তারিখ থেকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হলো। এটা পালন করতে না পারলে স্থগিতাদেশ আপনাআপনি বাতিল হবে।'
ফাংটাস অফিসিওর পরে
আইনের একটি ল্যাটিন পরিভাষা হলো ফাংটাস অফিসিও। এর অর্থ আদালতের আদেশদানের ক্ষমতা রহিত হওয়া। উলি্লখিত ধরনের চূড়ান্ত আদেশের পর বসুন্ধরার মামলার রায়ের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান প্রশ্নে হাইকোর্ট বেঞ্চ ফাংটাস অফিসিও হয়ে পড়েছিল। কিন্তু অন্তত তিনবার এর ব্যত্যয় ঘটে। ২৬ জানুয়ারি ২০০৯ চার সপ্তাহ সময় বঁেধে দিয়ে বলা হলো, Èএর মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হলে স্থগিতাদেশ আপনাআপনি বাতিল হবে।' ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ওই সময় অতিক্রান্ত হয়। কিন্তু কেউ কোনো আদালতে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেননি। সে অনুযায়ী স্থগিতাদেশের বিষয়টি ২২ ফেব্রুয়ারিতে বাতিল হওয়ার বিষয়টি কারও অনুমতির অপেক্ষায় ছিল না। কিন্তু এর পরও আদালত নিজের রায় বিস্ময়করভাবে পুনরায় লেখেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ দ্বিতীয়বার একই ভাষায় Èসংশি্লষ্ট আদালতে' আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু তা দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যেকে অগ্রাহ্য করেন। ২১ মার্চ ২০০৯ স্থগিতাদেশ আপনাআপনি বাতিল হয়। এরপর যথাক্রমে ২৩ মার্চ ও ২৫ মার্চ হাইকোর্ট বেঞ্চ দুটি রিটের সময় বাড়ানোর দরখাস্ত সম্পর্কে সদ্ধিান্ত দেন। এতে শাহ আলমের ক্ষেত্রে তঁার Èঅবনতিশীল হূদযনে্ত্রর' চিকিত্সা ও তঁার এক ছেলের পক্ষে বাবাকে তদারকির দোহাই দেওয়া হয়। আর শাহ আলমের স্ত্রী ও দুই ছেলে এদিন প্রথমবারের মতো হাইকোর্ট বেঞ্চে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হন। এবারও দেখা যায়, তৃতীয়বারের মতো একই শর্তে তিন মাসের সময় বেড়েছে।
আত্মসমর্পণ নাটক
আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বৃহত্তর বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেন, আত্মসমর্পণ মানে যে আদালত দণ্ড দিয়েছেন, সেই আদালতের কাছে নিজকে সোপর্দ করা। দণ্ডিত আসামি আপিল ছাড়া কোনো কারণে উচ্চ আদালতে হাজিরা দিলে তঁাকে আত্মসমর্পণ বলা যাবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই নিয়মের কখনো কোনো বিচু্যতি ঘটেনি কিংবা ঘটলেও আপিল বিভাগ দ্বারা তা কখনো সমর্থিত হয়নি।
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ শাহ আলমের স্ত্রী আফরোজা বেগমের ৭২০৬/২০০৮ নং রিটের আদেশে লিখেছেন, Èআমাদের আদেশ অনুসারে তঁারা সংশি্লষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আত্মসমর্পণ গৃহীত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে এক, দুই ও চার নম্বর (আফরোজা ও দুই ছেলে) পিটিশনার এই আদালতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়েছেন।' আপিল বিভাগ যদিও সাফ বলেছেন, আইনের চোখে পলাতক ব্যক্তি উচ্চ আদালতের কোনো সহানুভূতি পেতে পারেন না। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগ ওই আদেশেই লিখেছেন, Èতঁারা এখানে হাজির হয়ে নিজেদের আদালতের অনুকম্পার ওপর সঁপে দিয়েছেন। তঁারা আমাদের আদেশ পালন করতে গিয়েও পুরোপুরি পালন করতে পারেননি।' এখানে সবচেয়ে পরিহাস হলো, নম্নি আদালতের অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও হাইকোর্ট বেঞ্চটি আগের মতোই অভিন্ন শর্তে তঁাদের ওই আদালতের কাছেই আত্মসমর্পণের জন্য সময় বাড়িয়ে দেন। নম্নি আদালতের বিচারক এ কে রায় ১৬ মার্চ ২০০৯ যথার্থই আত্মসমর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ নির্দষ্টি করেছিলেন যে বিশেষ আদালতের দণ্ডের রায় হাইকোর্ট বিভাগ কতর্ৃক স্থগিত থাকা অবস্থায় তঁারা আত্মসমর্পণের আবেদন বিবেচনায় নিতে পারেন না। ২৩ মার্চ ২০০৯ শাহ আলমকে অসুস্থতার কারণে তিন মাস ও দুই দিন পর ২৫ মার্চ ওই বেঞ্চ অন্য চারজনকে আগের মতোই রায় স্থগিত রেখে তথাকথিত আত্মসমর্পণের জন্য তিন মাস সময় বাড়িয়ে দেন। এভাবে হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল বিভাগকে উপেক্ষা করে একটি অভাবনীয় স্বেচ্ছাচারিতার নজির স্থাপন করেন। ২৫ মার্চ বেঞ্চটি তৃতীয়বারের মতো উলে্লখ করেন, Èতিন মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে স্থগিতাদেশ আপনাআপনি বাতিল হবে।' কিন্তু বাস্তবে তাও বাতিল হয়নি, বরং আত্মসমর্পণ নাটকের আরেকটি অঙ্ক মঞ্চস্থ হয় ২৫ মে। এদিন শাহ আলম ও তঁার পরিবারের দণ্ডিত সদস্যরা ঢাকার বিশেষ আদালত-৩-এ কথিতমতে আত্মসমর্পণ করতে যান। ওই আদালতের বিচারক মোজাম্মেল হোসেন প্রকারান্তরে হাইকোর্ট বিভাগ ও বসুন্ধরার আইনজীবীদের আকাঙ্ক্ষা আংশিক পূরণ করেন। সিআরপিসির ৪২৬ ধারামতে, তঁাদের আবেদন তঁার পূর্বসূরি বিচারক এ কে রায়ের মতোই তাত্ক্ষণিক নাকচ করার কথা। তিনি তা করেছেনও। কিন্তু তা করতে গিয়ে আদেশের মধ্যে লিখে দিয়েছেন, আসামিরা তঁার আদালতে Èআত্মসমর্পণ' করেছেন। কিন্তু আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী এটাকে আত্মসমর্পণ বলা যায় না। আসামিরা আইনের চোখে পলাতকই থেকে গেছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে এনবিআর ও আইন মন্ত্রণালয়ের কাণ্ডকীর্তির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। বলেন, তঁারা তাহলে এখনো আত্মসমর্পণ করেননি!
উলে্লখ্য, এ বছরের ২৫ মার্চ-পরবর্তী হাইকোর্ট বিভাগের আদেশগুলোতে আর আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গ উলি্লখিত হয়নি। হাইকোর্ট বিভাগের নথিতে ২৫ মের ওই উদ্ভট আদেশটি রয়েছে, কিন্তু সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।
দুটি আইনের দুটি ধারা
আয়কর আইনের আওতায় কোনো মামলা আপসে প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের ১৭০ ধারা ও ফেৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫(৫) ধারা একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৭০ ধারায় বলা আছে, Èএই অধ্যায়ের অধীন শাসি্তযোগ্য অপরাধের জন্য কোনো বিভাগীয় কার্যক্রম (প্রসিডিংস) শুরু বা মামলা দায়েরের (প্রসিকিউশন) আগে বা পরে রাজস্ব বোর্ড অনুরূপ অপরাধের মীমাংসা করতে পারবেন।' উপমহাদেশে ১৯২২ সালে প্রথম আয়কর আইন হয়। এতে কর ফঁাকি শাসি্তযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার আগের ৮৫ বছরে এই অপরাধে এই ভূখণ্ডে কোনো মামলা হয়েছে বলে জানা যায় না। সে কারণে কখনো কোনো আপসের ঘটনাও ঘটেনি। এনবিআর কর্মকর্তারা অবশ্য নিশ্চিত করেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোসাদ্দেক হোসেন ফালু একই ধরনের আয়কর ফঁাকির মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বোর্ড তা প্রত্যাখ্যান করে। জনাব ফালু তঁার মামলার রায় ঘোষণার আগেই ওই আবেদন করেছিলেন।
ফেৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫(৫) ধারায় বলা আছে, Èযখন আসামিকে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে অথবা যখন সে দণ্ডিত হয়েছে এবং তার আপিল নিষ্পন্নাধীন অর্থাত্ সুরাহার অপেক্ষায় আছে, তখন যে আদালতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছে বা ক্ষেত্রমতে যে আদালতে তার আপিল শুনানি হবে, সেই আদালতের অনুমতি ব্যতীত অপরাধের আপস মীমাংসার অনুমতি দেওয়া যাবে না।'
ইউএনবির খবর: ২৩ আগস্ট ২০০৯ বার্তা সংস্থা ইউএনবির বরাতে দৈনিক সমকাল-এ বিস্ময়কর খবর ছাপা হয় যে Èএনবিআরকে শাহ আলমের মামলা নিষ্পত্তির অনুমতি দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।' প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মামলায় আসামিদের সাজা হওয়া সত্ত্বেও এনবিআর সমঝোতার ভিত্তিতে মামলাটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ায় মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণে এখন আর কর কমিশনারের সামনে আইনগত বাধা থাকল না।' অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে ২ সেপ্টেম্বর জানতে চাইলে এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ তঁার দপ্তরে এই প্রতিবেদককে বলেন, Èআমরা বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।' এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে তিনি এনবিআরের সদস্য (আয়কর আপিল ও অব্যাহতি) আশরাফ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরদিন বিকেলে জনাব আশরাফ সাক্ষাত্ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই প্রতিবেদক ওই দিন পুনরায় এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তিনি জনাব আশরাফের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু জনাব আশরাফ তঁার দপ্তরে আলোচনাকালে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত, এ বিষয়ে বোর্ডের প্রস্তাব ইত্যাদি দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়েছে, Èযদি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে ১৭০ ধারা প্রযোজ্য হবে। অবশ্য আইনগত অনুমোদন লাগবে।' বারবার অনুরোধ ও বর্তমানে বলবত্ তথ্য অধিকার আইনের কথা তঁাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তিনি নথি না দেখে উলে্লখ করেন, Èএখানে আইনগত অনুমোদন বলতে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমোদন বুঝি এবং সে কারণে তঁার মতামত চেয়ে তঁাকে পত্র দিয়েছি। এখন আমরা তঁার জবাবের অপেক্ষায় আছি।' আশরাফ নিশ্চিত করেন, এনবিআরের সর্বসম্মত রেজু্যলেশনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল নীরব
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এনবিআর সুপরিকল্পিতভাবে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সঙ্গে আপস করতে ফেৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫(৫) এবং এই বিধান বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিতিষ্ঠিত ব্যাখ্যার হানি ঘটিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে বেআইনি ও বিকৃত ব্যাখ্যা জোগাড় করে তারা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সমর্থন আদায়ের চষ্টো করেন। জানা গেছে, তিনি এতে সায় দেননি। শাহ আলম পরিবারের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও অ্যাটর্নি জেনারেল এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শাহ আলমকে অবশ্যই কারাগারে যেতে হবে। ২৫ মে ২০০৯ নম্নি আদালত তঁাকে কারাগারে না পাঠানোয় তিনি আদালতের সমালোচনা করেছিলেন।
আইনজ্ঞরা মনে করেন, এনবিআরের রেজু্যলেশনটাই অবৈধ। নয় সদস্যের এনবিআরের প্রত্যেকের দুই থেকে আড়াই দশকের চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রায় ছয় মাস হলো চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অঙ্গ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব। তঁারা দৃশ্যত প্রত্যেকে প্রমাণ করেছেন, এই রাষ্ট্রে বীরদর্পে রেজু্যলেশন নিয়ে দণ্ডিত পলাতকের জন্য বেআইনি সদ্ধিান্ত নেওয়াও সম্ভব এবং সে কাজে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের বেআইনি অনুমোদন অর্জন করাও সম্ভব।
এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ও সদস্য আশরাফ উদ্দিন আহমেদ ৫ জুলাই ২০০৯ উপকরকমিশনার কবির উদ্দিন মোল্লাকে এনবিআরের পক্ষে বসুন্ধরার রিট আবেদনের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে হলফনামা দিতে ক্ষমতা অর্পণ করেন। কবীর উদ্দিন মোল্লাই ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।
হাইকোর্টে এনবিআরের ওই অবস্থান এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও স্ববিরোধী অবস্থান সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর এনবিআরের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। দুই পৃষ্ঠার এই চিঠির জবাব এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ১৪ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি ওই চিঠি চেয়ারম্যানের কাছে পঁেৌছে দিয়েছিলেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের কাণ্ড
আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্ভট মতামত হলো, শাহ আলম গং আপিল ছাড়াও Èঅন্য কোনোরূপ কার্যক্রম' অর্থাত্ রিট আবেদনের আওতায় মীমাংসার সুযোগ পাবেন। বসুন্ধরার আইনজীবীদের আবদার, আপিল না করেই তঁারা আপস করবেন।
অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, আইনসচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালের দপ্তর গত ৩ আগস্ট এনবিআরের চিঠি প্রথম গ্রহণ করে। এরপর এটি যায় মতামত-৩ শাখায়। মতামত প্রদানে নিয়োজিত তিনটি শাখার মধ্যে কোনটি কোন মতামত দেবে, তা ঠিক করে দেন সচিব। আইনসচিবের আদেশে শাখা-৩-এর উপসচিব হোসেন শহীদ আহমেদ আলোচ্য মতামতের খসড়া তৈরি করেন। উপসচিব এবং ওই শাখার যুগ্ম সচিব মো. মজনুল আহসান (উভয়ে জেলা জজ) মতামতে সই দেন ৯ আগস্ট। পরদিন সই দেন আইনসচিব। এরপর আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ ও প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সই দেন ১২ আগস্ট। মোট পঁাচজনের সই করা ওই মতামতে বিস্ময়করভাবে বলা হয়েছে, Èআপিল করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এনবিআরের নথিতে কিছু বলা হয়নি। তবে আলোচ্য মামলায় প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বা অন্য কোনোরূপ কার্যক্রম গৃহীত হয়ে থাকলে আয়কর অধ্যাদেশের ১৭০ ধারার আলোকে বিষয়টি মীমাংসা করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।'
৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী তঁার দপ্তরে বসে মতামতটি পাঠ করে প্রথম আলোকে বলেন, Èযখন কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো আইনগত বিষয়ে মতামত প্রার্থনা করে, তখন তাদের উচিত প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রকাশ করা।' তঁার কাছে প্রশ্ন ছিল, আপনি কি মনে করেন, সিআরপিসির ৩৪৫(৫) এড়িয়ে আপিল ছাড়া আদেৌ অন্য কোনো উপায়ে আপসের পথ খোলা আছে? জবাবে অভিজ্ঞ আইনজীবী শফিক আহমেদ তাত্ক্ষণিক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, Èনা। আপিলই একমাত্র বিকল্প।' কীভাবে ও কোন উদ্দেশে Èঅন্য কোনোরূপ কার্যক্রম' কথাটি জুড়ে দেওয়া হলো এবং কেন আইন মন্ত্রণালয় বোর্ডের কাছে দরকারি তথ্য জানতে চায়নি এবং এনবিআর কেন দরকারি তথ্য গোপন করল∏সে বিষয়টি আপনি খতিয়ে দেখবেন? আইনমন্ত্রীর জবাব, Èঅবশ্যই।' অবশ্য সংশি্লষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, উপসচিব ও যুগ্ম সচিব দুজনই আসলে একমত যে সিআরপিসির ৩৪৫(৫)-এর অধীনে আপিল ছাড়া মীমাংসার অন্য কোনো পথ খোলা নেই। গতরাতে যোগাযোগ করা হলে আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করতে পারেননি যে, আইনমন্ত্রী ওই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কি না। গত ৭ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ওই কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
কঠোর গোপনীয়তা
হাইকোর্টের রেওয়াজ অনুযায়ী কোনো বেঞ্চ যদি কোনো কারণে কোনো মামলা আউট অব লিস্ট বা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন, তাহলে সাধারণত ওই দিনই মামলার নথি সংশি্লষ্ট বিভাগে চলে আসে। কিন্তু এ মামলায় তার ব্যতিক্রম ঘটে। ২০ আগস্ট আউট অব লিস্ট করার পরদিন নথি দেখতে বেঞ্চ কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানালে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নথি খাস কামরায় আছে। প্রথম আলোর বিরুদ্ধে এর আগে ওই বেঞ্চে আনীত আদালত অবমাননার অভিযোগ এবং সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতির আদেশ পরিদর্শনে ২৫ আগস্ট এই প্রতিবেদক হাইকোর্ট রুলসের আওতায় প্রধান বিচারপতির কাছে একটি আবেদন করেন। এই রুলস Èআগন্তুক'কে নথি পরিদর্শনের অধিকার দিয়েছে। জানা যায়, এরপর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার সংশি্লষ্ট বেঞ্চকে তা অবহিত করেন। এভাবে Èআউট অব লিস্ট' করার ১৪ দিন পর ৩ সেপ্টেম্বর মামলার নথি ওই বেঞ্চ থেকে সংশি্লষ্ট শাখায় আসে। রিট শাখা থেকে ৫ জুলাই নথিটি তলব করেন সংশি্লষ্ট বেঞ্চ। এটি ফিরে আসে প্রায় দুই মাস পর ৩ সেপ্টেম্বর। এই দুই মাস ওই বেঞ্চ কর্মকর্তারা ওই নথি যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখেন।
পীড়াপীড়ি
প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন ১২ জুলাই হাতে লেখা যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার নিচেই বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিন আলোচ্য মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ বর্ণনা করেন।
আদেশে লেখা হয়েছে, È২০ আগস্ট ২০০৯ বসুন্ধরার আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান প্রথম আলোর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুনঃ পুনঃ পীড়াপীড়ি করেন। আমরা যদিও তঁাদের রুলের মেরিটে শুনানি করার জন্য বলেছিলাম, কিন্তু তঁারা কেবল প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েই বিশেষ আগ্রহ দেখান। প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য ৯ জুলাই ২০০৯ আমরা বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়েছিলাম। আমরা অবশ্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও রিট আবেদনকারীর বিজ্ঞ আইনজীবীর পীড়াপীড়ি সত্ত্বেও আমরা নিয়মের বাইরে যেতে পারি না। কারণ এ মামলাটি আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল শুনানি ও মামলা নিষ্পত্তির জন্য। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখেছি, বিষয়টি আমাদের শোনা উচিত হবে কি না। বিশেষ করে যেখানে এই বেঞ্চ কতর্ৃক সুরাহার জন্য স্বয়ং মাননীয় প্রধান বিচারপতি ফেরত পাঠিয়েছেন। তাই আমরা চিন্তা করেছি, এখন এটা আর না শোনাই হবে অধিকতর বিচক্ষণ কাজ।' আদালত সবশেষে বলেন, Èএটা রেকর্ডে রাখা দরকার যে অন্যান্য আংশিক শ্রুত মামলার সঙ্গে এই রিট পিটিশনটির শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য শুধু আজকের দিনের জন্য এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল। উপরিউক্ত পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই রিট পিটিশনটি আর আংশিক শ্রুত বলে গণ্য হবে না এবং তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো।'
বিচারিক Èনৈরাজ্য' যেভাবে
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মামনুন রহমান ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮ দুর্নীতির মামলায় ওরিয়ন গ্রুপের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ওবায়দুল করিমের রিট আবেদনের (নং ৭৩৯৩/২০০৮) পরিপ্রেক্ষিতে তঁাকে গ্রপ্তোর না করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তঁার মামলার রায়ের কার্যকারিতাও তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মামনুন রহমানের একই বেঞ্চ এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে বসুন্ধরার দায়ের করা দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক আদালতের রায় তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন।
অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ওই দুটি রিট মামলার যাত্রা অভিন্ন হলেও ইতিমধ্যে তা দুই ধরনের ফল বয়ে এনেছে। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মামনুন রহমানের বেঞ্চ ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু বসুন্ধরার মালিকদের মতো ওরিয়ন গ্রুপ আর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের কাছ থেকে এ ধরনের প্রতিকার পায়নি। ওরিয়নের দণ্ডিত পলাতক মালিক গ্রপ্তোর ও আত্মসমর্পণ এড়ানোর অন্যায্য প্রতিকার নেন বিচারপতি মীর হাশমত আলীর নেতৃত্বাধীন অন্য একটি বেঞ্চ থেকে।
বসুন্ধরার মামলায় বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার প্রথম আদেশ দেন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮। আর শেষ আদেশসংবলিত নথি তঁার হাত থেকেই শেষবারের মতো আসে ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯। মোট সময় ৩৫১ দিন। এর মধ্যে আমরা রাষ্ট্রপক্ষকে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু তারা আপিল বিভাগে যায়নি। ওরিয়নের ক্ষেত্রেও একইভাবে লুকোচুরি চলছে।
সাংসদ শেখ হেলাল উদ্দিন হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া Èপ্রশ্নবদ্ধি' জামিন ভোগ করে চলেছেন। শাহাজাহান ওমরের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ একই ধরনের জামিন নাকচ করেছিলেন। কিন্তু দণ্ডিত পলাতক হেলাল ও তঁার স্ত্রীর প্রশ্নবদ্ধি জামিনের বৈধতা আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহও দণ্ডিত পলাতক হিসেবে তথাকথিত জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আবার আইন লঙ্ঘন!
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারকে প্রধান বিচারপতি Èআইন' অনুযায়ী শুনানি ও তা নিষ্পত্তি করতে আদেশ দিয়েছিলেন। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ৬১ ডিএলআরএ বর্ণিত দুদক বনাম মাহমুদ হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের রায়টি নির্দষ্টিভাবে উলে্লখ করেন। এতে বলা আছে, দণ্ডিত পলাতক আসামি সরাসরি হাইকোর্টে আসতে পারবেন না। ৬ জুলাই ২০০৯ আদালতে হলফনামা দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, আপিল বিভাগের ওই রায়ের পর আর এই রিট চলতে পারে না। প্রধান বিচারপতি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির যে আদেশ দেন, তা শুধু আদালত নয়, সংশি্লষ্ট সব পক্ষের জন্য প্রযোজ্য ছিল। বসুন্ধরার আইনজীবীর সামনে একমাত্র বিকল্প ছিল তঁার মক্কেলকে নম্নি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়ের করতে পরামর্শ দেওয়া। রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের করণীয় ছিল বসুন্ধরার পক্ষে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়া। অন্যথায় অন্তত এটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে আপনি যে আইনি প্রশ্নে শুনানি করতে চাইছেন, তা নির্দষ্টিভাবে আপনারই দেওয়া আরেকটি অন্তর্বর্তী আদেশে আপিল বিভাগ চূড়ান্ত ফয়সালা করে দিয়েছে। সুতরাং রুলটি খারিজ করে দিন। কিন্তু উভয় পক্ষ তা না করে বরং প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই উচ্চকিত থাকেন। আর আদালতের যেখানে আপিল বিভাগের Èআইন'মতে উচিত ছিল, ১১ মাস আগে জারি করা রুলটি খারিজ করে আসামিদের নম্নি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া, সেখানে তঁারা রিট মামলাটি আউট অব লিস্ট করলেন। এর মানে হলো, ওই আদালত এখনো মনে করেন, রিট আবেদনটির শুনানি হাইকোর্ট বিভাগে হতেই হবে। অথচ আপিল বিভাগের আইন হলো, কোনো অবস্থায়ই তঁার কোনো প্রকারের আবেদনই শোনা যাবে না। কারণ যে লোক আইন থেকে পালিয়ে বেড়ান, আদালত তঁাকে প্রতিকার দিতে পারেন না।
বসুন্ধরা বলেই...
আইনজ্ঞরা বলেন, ৬ জুলাই ২০০৯ পর্যন্ত বেআইনিভাবে হলেও বসুন্ধরার সপক্ষে একটি স্থগিতাদেশ ছিল। এখন স্থগিতাদেশ না থাকায় জারি করা রুলের কার্যকরিতা কমেছে। রুল জারি করা হয়েছিল কেন, তঁার বিরুদ্ধে ঘোষিত দণ্ডের রায় বাতিল করা হবে না। পলাতক ব্যক্তির জন্য জারি করা রুল গুরুত্বহীন। তঁাদের গ্রপ্তোরে কোনো বাধা নেই। বসুন্ধরার পলাতক মালিকেরা কখনো হাইকোর্টে, কখনো বিচারিক আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগও বিস্ময়করভাবে কখনও ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29110528 http://www.somewhereinblog.net/blog/Author/29110528 2010-03-05 15:28:28