somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেমিনার- একটি ছোট্ট বিনিয়োগ পরিকল্পনা

০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের মূল সমস্যাটা কোথায়-



কেউ বলবেন জনসংখ্যা সমস্যা


কেউ বলবেন দারিদ্রের সমস্যা।

আসুন আমরা প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করার চেষ্টা করি-
বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে কিন্তু সেই অনুপাতে সম্পদ বাড়ছে না। ফলে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। এতে করে দারিদ্র বাড়ছে। দারিদ্র ডেকে আনছে নানান নেতিবাচক উপসর্গ। যেমন- শিক্ষাহীনতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি। ফলে সামাজিক বিশৃংঙ্খলা দেখা দিচ্ছে।


এই সমস্যা সমাধানের উপায় কি!
জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সমস্যা হিসেবে না দেখে সম্ভাবনার দৃষ্টিতে দেখলেই সমাধানের উপায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশের কমবেশি প্রায় ১৪ কোটি মানুষের মধ্যে ৮ কোটিরও বেশি যাদের বয়স ১৫ বছরের উপর। এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর খুব কম অংশই যে কাজ করে উপার্জন করে তা পরিসংখ্যান না দেখেও বলা যায়।
সরকারি ভাবে আমাদের কাজের ক্ষেত্র সীমিত। বেসরকারি ভাবেও পুরো জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে সৃজনশীল কোন কর্মক্ষেত্র আমরা সৃষ্টি করতে পারছি না।


আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেমন আয় করেন।


তেমনি একজন রিক্সাওয়ালাও আয় করেন।


একজন শিক্ষক যেমন তাঁর ও পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য উপার্জন করেন।


একজন ভিক্ষুকও তেমনি ভিক্ষাবৃত্তি করেই তার ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের উপায় খুঁজে নেয়।


একজন কর্মহীন ব্যক্তি কোনভাবেই তার উপার্জনের উপায় খুঁজে বের করতে না পারলে সে অন্যায় উপার্জনের পথ ধরবে। চাঁদাবাজি, টেন্ডার, অপহরণ এই শব্দ ক�টির সাথে আমরা সবাই পরিচিত।


একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার প্রয়োজন অনুযায়ী উপার্জন করতে না পারলে সেও বিকল্প বা অন্যায় উপার্জনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে। ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, ব্যবসায়ে অসাধুতা ইত্যাদি শব্দগুলোর সাথেও আমরা খুবই পরিচিত।


এই সমস্যা সমাধানের উপায় হচ্ছে কর্মহীন জনগোষ্ঠী এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী উভয়েরই উপার্জন তথা আয়-বৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া।
কীভাবে সম্ভব?
সুশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থাই হতে পারে এই উপার্জনের একটি অন্যতম উপায়। পদ্ধতিটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাজমান। শুধু দরকার এর যথাযথ প্রয়োগ।
বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটা বৃহৎ অংশ শিক্ষার সাথে জড়িত। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা মিলিয়ে কয়েক কোটি শিক্ষার্থী প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করে চলেছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সাথে শিক্ষক-অভিভাবক, স্থানীয় প্রতিনিধি সবাই যুক্ত। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক কোন পরিবর্তন না এনেই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার আয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়।
শিক্ষারত অবস্থা থেকেই একজন শিক্ষার্থীকে অর্থ উপার্জনের আওতায় নিয়ে আসা যায়। কৃষি শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা, গার্হস্থ্যশিক্ষা এগুলোর ব্যবহারিক অংশটুকু সত্যিকারার্থে বাস্তবায়নের জন্য একটি পদ্ধতি উন্নয়নের মাধ্যমেই তা সম্ভব। শিক্ষার্থীরা পাঠের অংশ হিসেবে পণ্য কিংবা সেবা উৎপাদন করবে এবং উৎপাদিত পণ্যের মূল্য অনুযায়ী তারা মূল্যায়িত হবে। 'এডুকেশন বেজড প্রডাকশন অ্যান্ড মার্কেটিং' পদ্ধতি উন্নয়নের মাধ্যমে স্কুলে স্কুলে পণ্য উৎপাদন এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সংগঠিত উপায় কি হতে পারে-
একটি শিক্ষা ফান্ড গঠনের মাধ্যমে সবাইকে সংগঠিত করা যেতে পারে। ধরা যাক এর নাম 'এডু কেশন ফান্ড লিমিটেড' বা ইএফএলবিডি'


একটি মজার ধাঁ ধাঁ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পপুলেশন প্রজেকশন অনুযায়ী ২০৩৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ বা ১৯৬ মিলিয়ন। মাথাপিছু ১/- টাকা বরাদ্দ ধরে যদি একটি প্রকল্প এখনই শুরু করা হয় তাহলে পুঁজি দরকার ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।
শিক্ষার উন্নয়নে আজ ১/- টাকা বিনিয়োগ করে ২৫ বছর পরে এই এক টাকার বর্তমান মূল্য কত দাঁড়াবে বলে আপনার অনুমান?
১০ টাকা, ২০ টাকা............৫০ টাকা......১০০ টাকা.....তদুর্দ্ধে...।

বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন-www.eflbd.org
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×